📄 লড ব্যইর ও কথার পত্রিক্রয়া
প্রসিদ্ধ সাধক বিখ্যাত এক মনোস্তাত্ত্বিক স্বরচিত থ্যাংকস এন্ড রেজ গ্রন্থে বলেন, প্রত্যেকটি কথা ও বাক্য মূলতঃ একটি বিশেষ এ্যানার্জি বা প্রতিক্রিয়া শক্তি রাখে। এ এ্যানার্জি কখনও ইতিবাচক হয়, কখনও নেতিবাচকও হয়। সব সময় মানুষের মুখ থেকে যে কথা নিসৃত হয়, তার প্রতিক্রিয়া যদি ইতিবাচক হয়, তবে তা ইতিবাচক আলোকরশ্মি বিচ্ছুরিত করে আর যদি নেতিবাচক হয় তবে নেতিবাচক আলোকরশ্মি বিচ্ছুরিত করে।
কথার কার্যক্ষমতা এতই যে, গালি তো বাস্তবে একটি শব্দ মাত্র। কিন্তু তা কারও মুখ দিয়ে বের হওয়া মাত্রই অপরে বুকে অগ্নি প্রজ্জলিত করে দেয়। পক্ষান্তরে ভাল কথাও একটি শব্দ। তা কারও মুখ থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাতে বিদ্যমান ইতিবাচক আলোকরশ্মি বিচ্ছুরিত হওয়া কারণে অপরের বক্ষ অন্তর ঠাণ্ডা ও শীতল হয়ে যায়। অতএব কারণে যখন কোন কথা বলা হবে, তখন খুব চিন্তা ভাবনা করে কথা বলা চাই। কখনও যেন এমন কথা মুখ দিয়ে বের না হয় যা অর্থহীন অনর্থক। কেননা এর বিরূপ প্রতিক্রিয়ায় মানুষের মনে ঘৃণা জন্ম দেবে।
📄 অধিক প্রশ্ন করা নিষেধ
• রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, আল্লাহ তা'আলা অপছন্দ করেন কীল ও কাল (যখন তখন কী কেন) করা, অধিক প্রশ্ন করা এবং অর্থ-সম্পদ বিনষ্ট করা। (মেশকাত ও বুখারী, মুসলিম)
📄 ব্রেইন বুক অফ অক্সফোর্ট থেকে
যে সব লোক কোন বিষয়ে একটা প্রশ্ন করার পর, তার উপর আমল না করেই দ্বিতীয় আরেকটা প্রশ্ন করে, সে সারা জীবনেও জ্ঞান-বিজ্ঞান ও ইলমের গভীরতা স্পর্শও করতে পারে না। এমন ব্যক্তি নিজের গবেষণা কর্মে উন্নতি করাতে পারে না। কেননা সে নিজের মেধা ও শক্তিকে এতটুকু চিন্তা-ভাবনার সুযোগ দেয়নি। উন্নত জাতি কোন কথা শোনার পর তা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা ও গবেষণা করে। বিষয়টির এপিঠ-ওপিঠ লক্ষ্য করে উন্নতির পথে অগ্রসর হয়। কিন্তু যখন এরাই আবার কোন কথা শোনার পর একের পর এক প্রশ্ন করতে থাকে। নিজে কোন চিন্তা-ভাবনা ও গবেষণা করে না, সে জাতি কখনও সফলতার মুখ দেখে না।
📄 অনর্থক কাজকর্ম ও অহেতুক কথাবার্তার ক্ষতি
• হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত আছে, সাহাবায়ে কিরামের মধ্য হতে এক ব্যক্তি পরোলোক গমন করেন। তার সন্মন্ধে জনৈক ব্যক্তি বলে ফেললেন, তুমি জান্নাতে সুসংবাদ পেয়ে খুশি হয়ে যাও। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন- না, তুমি তার সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে একথা বলতে পার না। হতে পারে সে কোন অহেতুক কথা বলেছে কিংবা এমন জিনিস খরচ করতে কৃপনতা করেছে, যা করলে তার কোন ক্ষতি হত না; সংকট সৃষ্টি হত না।
• রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন- মানুষের ইসলামী সৌন্দর্য ও সৌকর্যের মাঝে এটিও একটি যে, সে ঐ সব জিনিস বর্জন করবে, যা তার কাজ নয় এবং প্রয়োজনও নেই।
-মেশকাত, তিরমিযী
ব্রেইন বুক অফ অক্সফোর্ট থেকে
প্রত্যেক মানুষ এমন কাজকর্ম ও গঠন প্রকৃতির প্রতি আকৃষ্ট থাকবে, যা মেধা শক্তিকে শাণিত করে, মন-মানসকে আলোকিত করে এবং শারীরিক চাহিদাও পূরণ করে। কিন্তু যেসব কাজকর্ম নিশ্চিতভাবে কল্যাণকর নয় বরং সার্বিক দিক থেকেই ক্ষতিকর, সে সব কাজ করা একেবারেই অহেতুক এবং সময় নষ্ট করার নামান্তর। মানুষের মেধাশক্তির একটি বৈশিষ্ট্য আছে। যার কারণে সে চঞ্চল ও সতেজ থাকে। যখন এ মেধা ইতিবাচক চিন্তা-ভাবনা ও গবেষণা করে, তখন তার কর্যক্ষমতা ও গতি সম্প্রসারিত হয়। এর প্রখরতা বৃদ্ধি পায়। কেননা মানুষ সব সময় ইতিবাচক পন্থায়ই উন্নতি লাভ করে। কখনও নেতিবাচক পন্থায় উন্নতি লাভ করে না। ডাক্তার জুঞ্জ তার বহু গবেষণার পর এ সিন্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, যখন তোমরা কারও ব্যক্তিত্ব ও কর্মকাণ্ড নিয়ে গবেষণা করবে, তখন প্রথমে তার কর্ম বিশ্লেষণ করে দেখবে যে, সে অহনির্শ কী কাজে ব্যস্ত থাকে? যদি তার কার্যসীমা ইতিবাচক এবং রহস্যময় হয়, তবে তার ব্যক্তি এরই মাঝে সীমাবদ্ধ।