📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 ডাই-য়িং হাউজের গবেষণার বিবরণ

📄 ডাই-য়িং হাউজের গবেষণার বিবরণ


ইসলামী শিল্পকারখানায় চামড়ার ব্যাপক ব্যবহার হয়। তাতে দু'টি বিষয় সংযোজিত হয়। এক চামড়া কাটা দুই চামড়ার উপর রং করার বিষয়ে কোন জাতি মুসমানদের উপর খ্যাতি লাভ করতে সক্ষম হয়নি। মামলুক ও তাবরীজ শাসনামলে চামড়া শিল্পে বৈপ্লবিক উন্নতি সাধিত হয়। আজ পর্যন্ত কোন মানুষ তাতে উন্নতি সাধন করতে সক্ষম হয়নি। মুসলমানদের চামড়া শিল্পের উন্নতি লাভের প্রভাব ইউরোপেও প্রতিফলিত হয়। এ সম্পর্কে এ.এইচ. পারসিটির অভিমত হল, মুসলমান শুধু কাগজ শিল্পে নয়, এর জন্য সমসাময়িক যুগের শাসকগন মুসলমানদের নিকট চির স্মরণীয় হয়ে আছে। হিজরী অষ্টম শতক বা খ্রিস্টীয় চতুর্দশ শতকে যখন অনিস আটে মুসলমানগণ বিভিন্ন পেশা অতি উৎসাহের সাথে শিখে, তা বিদেশে রপ্তানী করা শুরু করে। ইতালীতে প্রণীত কিতাব সমূহের জিলদ সম্পূর্ণরূপে প্রাচ্য দেশীয় রীতিনীতি গ্রহণ করে। তা স্বাবাবিকভাবে মুসলমানদের প্রণীত কিতাব সমূহে বিদ্যমান পাওয়া যেত, এটা হলো ভাষা বা জিহ্বা। এক অনন্য আবিষ্কার। যা মুসলমানদের কাজে প্রতিক্রিয়া গ্রহণ করেছে আর চামড়ার জিলদ সমূহকে সম্পূর্ণ রূপে সাজাতে শুরু করে।

মধ্যযুগে ইউরোপীয় অধিকাংশ চামড়ার জিলদ সমূহের উপর ধাতব পাতের ছাপ দিয়ে সুসজ্জিত করা হত। তাতে রং-তুলির সাহায্যে যে সকল নকশা করা হত, তার উপর কাজ হত। এমন কি প্রাচ্য দেশীয় শিল্পিগণ প্রোথিত অংশ সমূহে স্বর্ণালী তৈল ব্যবহার করতে শুরু করে। এই পদ্ধতি অনিসে বসবাসকারী মুসলমানদের জিলদ বাঁধাই ইউরোপকে আলোকিত করে দেয়। খ্রিস্টীয় পঞ্চদশ শতকে এ পদ্ধতির স্থান অন্য এক পদ্ধতি দখল করে নেয়। তাতে স্বর্ণালী পাত ব্যবহার করে তাতো তাপ দিয়ে বিভিন্ন উপকরণ দ্বারা পুনরায় ছাপ দেওয়া হত, প্রোথিত অংশে স্বর্ণালী রং মোটা করে লাগিয়ে দেওয়া হত। এটা দেখতে এমন হতো যে, এ নতুন পদ্ধতি প্রথমে কর্ডোভাতে উদ্ভাবিত হয়।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 গ্রন্থ ও গ্রন্থ প্রনয়নের আস্বাদন

📄 গ্রন্থ ও গ্রন্থ প্রনয়নের আস্বাদন


ইসলাম কিতাব রচনার পূর্বে আরববাসীগণ কিতাব বলতে কি বুঝত? কিতাব শব্দটি কুরআন মজীদে বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। কিন্তু এর বেশীর ভাগ ব্যবহারে কুরআন মজীদকে বুঝানো হয়েছে। প্রাচীন আরববাসীগণ প্রচলিত ভাষায় 'কিতাব' অর্থে শুধু লেখা বুঝত। কিতাব শব্দকে আসল কিতাবের অর্থে প্রাচীন কবিগণ তাঁদের কবিতায় উল্লেখ করেছে। ইসলামে সর্বপ্রথম কিতাব আকারে যা সুবিন্যস্ত হয়েছে, তা নিশ্চিত আল্লাহর কিতাব আল-কুরআন। এরপর কাসিদা ও আল হাদীসের গ্রন্থ সমূহ প্রণীত হয়। সুতরাং প্রাচ্য বিশেষজ্ঞ কারনিকোর অভিমত হল,
"আমি স্বীকার করছি যে, সর্বপ্রথম কুরআন মজীদ প্রন্থাকারে সংকলতি হয়। এর কিছুদিন পর কাসিদার গ্রন্থাবলী প্রণীত হয়। এর পূর্বে অন্যান্য গ্রন্থাবলী কাগজ বা চামড়ায় লিপিবদ্ধ করা হত। তবে একথা সঠিক যে, আরববা কোন ধরনের কিতাব সর্বপ্রথম প্রনয়ন করেছে।"

সর্বসাধারনের ধারনা হল, হিজরী দ্বিতীয় শতকে হযরত সাঈদ বিন আবী আরুবা রাযি. (১৫২হিঃ) হযরত আনাস বিন মালিক রাযি. হাদীস গ্রন্থ প্রণয়ন করেন। তন্মধ্যে সবশেষে উল্লেখিত মোয়াত্তা এখন পর্যন্ত বিদ্যমান আছে। বাকী গ্রন্থ সমূহের নাম পর্যন্ত বিলুপ্ত হয়ে গেছে। কিন্তু এ অভিমত সঠিক নয়। কেননা গ্রন্থ প্রণয়ন ও প্রকাশনার সূচনা হয় হিজরী প্রথম শতকে। অনুরূপভাবে এ অভিমত ও সঠিক নয় যে, সর্বপ্রথম হাদীস গ্রন্থের প্রণেত হযরত ইমাম ইবনে শিহাব জহুরী রহ. বরং তাঁর অনেক পূর্বে হযরত আলী রাযি. 'কিতাবুল কুজাআ' ও হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. এর হাদীস সমূহ গ্রন্থাকারে প্রণয়ন করা হয়। কোন কোন সাহাবী হুযুর এর যুগে হাদীস সমূহ লিপিবদ্ধ করা শুরু করেন। সুতরাং হযরত আমর বিন আস রাযি. হুযুর থেকে যে হাদীস শুনতে তা লিপিবদ্ধ করে রাখতেন। হযরত আবু হুরাইরা রাযি. থেকে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, হুযুর এর সাহাবাগণের মধ্যে আমার চেয়ে বেশী হাদীস কারো নিকট জমা নেই। একমাত্র হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. ব্যতীত কেননা তিনি সব হাদীস লিপিবদ্ধ করে রাখতেন, তাঁর লিখিত হাদীসের সংখ্যা এক হাজার। তিনি তা আস-সাদিকা নামে অভিহিত করেন। এ ছাড়াও তিনি অন্যান্য সহাবায়ে কিরাম রাযি. থেকে ও হাদীস সংগ্রহ করেছেন। সুতরাং হযরত সাদ বিন উবাইদা, ইবনে আবি আত্তফা, ও হোমাম ইবনে মোনাবাহ রাযি. প্রমুখের সংকলিত হাদীস সমূহ হাদীস গ্রন্থাবলীতে বর্ণিত আছে। ৬০ হিজরীতে তাফসীর তাজবীদ, ও সীরাত গ্রন্থাবলী রচিত হয়। সুতরাং ইবনে নাদিম জায়িদ বিন কোদামাহ ৬০০ হিজরীতে রচিত গ্রন্থ সমূহে কিতাবুস সুনান, কিতাবুল কিরাত, কিতাবুত তাফসীর কিতাবুল যুহুদ, ও কিতাবুল মানাকিবের উল্লেখ করেছেন। অনুরূপভাবে হিজরী প্রথম শতকের শেষ ভাগের পূর্বে সম্মানিত খ্যাতনামা কবি লবীদের দাস্তান সমূহ লিখিত আকারে বিদ্যমান ছিল। কিন্তু বিষয় ভিত্তিক গ্রন্থ প্রণয়ন যথা "আখবার" ও "আসার" লেখার অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তা এর পূর্বে শুরু হয় বরং একদিক থেকে দেখলে প্রমাণ হয় যে, ইসলামের পূর্বেও যেসব অভিজাত শহর যেমন ইয়ামান, হীরাত ও হিজাজ অঞ্চলের কোন কোন শহরে এর প্রচলন দেখা যায়।

হিমাইরীয়গণ তাদের ইতিহাস ও ঘটনাবলী লিপিবদ্ধ করেছে। আর তা পাথরে খোদাই করে রাখা হত। যেমন প্রাচীন নিদর্শনাবলী থেকে এটা প্রকাশ পেয়েছে। অনুরূপভাবে হুযুর সুয়াইদ ইবনে সামাতের নিকট হযরত লোকমান আ. এর লিখিত গ্রন্থ বিদ্যমান দেখেছেন। যা "হুকমে লোকমান" নামেও খ্যাত ছিল। এই দিক থেকে দেখা যায়, গ্রন্থ প্রকাশনা অনেক আগেই শুরু হয়েছে। এটাকে গ্রন্থ প্রণয়ন ও প্রকাশনার প্রথম পদক্ষেপ বলা হয়। ঐ যুগে হাদীসগ্রন্থ প্রণয়নের সাথে সাথে সীরাত গ্রন্থাবলী রচনা শুরু হয়। সর্বপ্রথম মদীনার প্রসিদ্ধ ফকীহ ও মুহাদ্দিস হযরত উরওয়া ইবনে যুবাইর রাযি. মৃত্যু (৩৪হিঃ) সীরাতগ্রন্থ রচনা করেন। অনুরূপভাবে আবান ইবনে আফফান রাযি. (মৃত্যু-১০৫খ্রিঃ) এর শীষ্য হযরত আব্দুর রহমান ইবনে মুগীরা রাযি. (মৃত্যু-১২৫খ্রিঃ) তিনি এক সীরাতগ্রন্থ রচনা করেন। তারপর হযরত ওহাব ইবনে মুনাববাহ রাযি. (১১০-৩৪হিঃ) হযরত ইবনে শিহাব যুহরী রাযি. (১২৪-৫১হিঃ), আর হযরত ওব্বা ইবনে মূসা রাযি. (মৃত্যুঃ৪১হিঃ) "মাগাযী" অর্থাৎ- হুযুর যুদ্ধ সমূহের ঐতিহাসিক অবস্থা লিপিবদ্ধ করেন। তন্মধ্যে সর্বশেষে উল্লেখিত গ্রন্থের এক খণ্ড-১৯০৪ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়। ঐ যুগে (প্রথম শতকে) উবাইদা ইবনে শারীয়াহ যুরহামী তিনি হযরত মুয়াবিয়া রাযি. এর সমবয়সী ছিলেন। তিনি হুযুর এর যুগ পেয়েছেন। হযরত মুয়াবিয়া রাযি. এর আহবানে ইয়ামানের সানা থেকে আগমন করেন এবং আরব-অনারবের প্রাচীন রাজা-বাদশাহগণের অবস্থা ভাষার পরিবর্তন ও বিভিন্ন অঞ্চলে অধিবাসীদের সম্পর্কে হযরত মুয়াবিয়া রাযি. তাকে জিজ্ঞেস করেন। এর প্রতি উত্তরে উবাইদা যে জবাব দেন, তা লিপিবদ্ধ করা হয়। তার রচনা থেকে "কিতাবুল আমছাল" ওয়া আখবারিল মাজিয়ীয়া" নামে অভিহিত হয়। হযরত মুয়াবিয়া রাযি. এর যুগে সাহারাল আবদী নামে এক খারিজি ছিল। তিনি খ্যাতনামা বক্তা ও বংশধারা জ্ঞাত ছিল। তার থেকে হুযুর এর দু'তিনটি হাদীস বর্ণিত আছে। তার রচিত গ্রন্থ "কিতাবুল আমছাল"।

প্রথম যুগে প্রণীত ও প্রকাশিত কিতাবের প্রমাণ স্বরূপ বলা যায়, ইবনে নাদীম নতুন বাগদাদে মুহাম্মদ বিন হুসাইন বনাম ইবনে আবী বাআরাহের প্রসিদ্ধ অদ্বিতীয় গ্রন্থাগারে নাহু ও প্রাচীন আরবী সাহিত্যের কিতাব বিদ্যমান দেখেছেন। তাতে এক সিন্দুক ছিল। উক্ত সিন্দুকে প্রায় তিনশ রতল ওজনের কিতাব, ছাপার কাগজপত্র ও চামড়ায় লিখিত পৃষ্ঠা ছিল। তন্মধ্যে আরবদের শোকগাঁথার একক কবিতা ও বহু ঘটনাবলী ইতিহাস, নাম, বংশ ইত্যাদি সম্পর্কিত আরবদের ইতিহাস লিপিবদ্ধ ছিল। তার প্রতি পৃষ্ঠায় ওলামাদের চিঠির ঘটনাবলী লিখিত ছিল। হযরত আলী রাযি. এর ছাত্র হযরত খালিদ বিন বাবী আল হ্যায়জ রাযি. এর হাতে লেখা এক কপি কুরআন মজীদ পাওয়া যায়। উক্ত কুরআন মজীদে হযরত ইমাম হাসান ও হুসাইন রাযি. এর হাতের লেখাও পাওয়া যায়। হযরত আলী রাযি. ছাড়াও অন্যান্য সাহাবায়ে কিরাম রাযি. এর লিখিত পত্রাবলীতে আমানত ও প্রতিশ্রুতির দলীল দস্তাবেজ সংরক্ষিত ছিল। তাছাড়াও ওলামাদের লিখিত নাহু, অভিধান লিখিতাকারে পাওয়া যায়। যেমন, আবু আমর বিন আল-আলা, আবু আমর আশ-শায়বানী রাযি. প্রমুখ। তাদের মধ্যে ইবনে নাদিমের মতে, নাহু শাস্ত্রের জনক হলেন আবুল আসওয়াদ দুয়ালী রহ. বলে প্রমাণিত আছে। কেননা তা চীনের তৈরী চতুষ্কোন কাগজে লিপিবদ্ধ করা হয় ৬৯ হিজরীতে, তাতে কর্তা ও কর্মের উল্লেখ পাওয়া যায়

আবুল আসওয়াদ রহ. মুহাম্মদ ইয়াহিয়া বিন আমর আবুল আসওয়াদ, ওফাত লাভ করেন। এর দ্বারা স্পষ্টভাবে গ্রন্থ প্রণয়ন ও প্রকাশের সূচনা হয়। এর পরে ইসলাম যতই পৃথিবীতে বিস্তার লাভ করতে থাকে এবং বিভিন্ন অভিজাত জাতি সমূহ ইসলাম গ্রহণ করতে শুরু করে তখন দিনে দিনে সংস্কৃতিক ও আভিজাত্যের প্রয়োজনীয় উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। সুতরাং এর সাথে সাথে গ্রন্থ প্রণয়ন ও প্রকাশনার চাহিদাও বেড়ে যায়। ফলে গ্রন্থাবলীর আধিক্যের কারণে বিভিন্ন স্থানে বিরাট বিরাট গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠিত হয়। হিজরী প্রথম শতকের শেষ ভাগে ও দ্বিতীয় শতকের মধ্যবর্তী সময় গ্রন্থাবলীর এভাবে পরিসংখ্যান করা হয়। আবু আমর বিন আল-আলা (১৫-৫৭হিঃ) যিনি বিখ্যাত সাত কারীদের একজন। হযরত আলী রাযি. এর পরবর্তী চতুর্থ স্তরের নাহুর ইমাম ছিলেন। তাঁর সম্পর্কে ঐতিহাসিক ইবনে খালকানের অভিমত হল, তিনি আরব সাহিত্যে যেসব গ্রন্থ রচনা করেছেন, তার পরিমাণ এতো বেশী ছিল যে, তাতে তার গৃহের ছাদ পর্যন্ত স্তুপ হয়ে যায়। অনুরূপভাবে ইমাম ইবনে যুহরী রহ. ও (মৃত্যুঃ১৪০ হিঃ) অসংখ্য গ্রন্থরচনা করেছেন। এ সব উদাহরণ হল উমাইয়াদের যুগের। যদিও এ সব বিবরণে কিছু সন্দেহ হতে পারে, তথাপি এর দ্বারা নূন্যতম এটা প্রমাণ হয় যে, গ্রন্থ প্রণয়নের সূচনা আরববাসীদের যুগে শুরু হয়নি বরং তার অনেক পূর্বে গ্রন্থ প্রণয়নের সূচনা হয়েছে। অবশ্য ঐ সব গ্রন্থের কিছুমাত্র আমাদের হস্তগত হয়েছে। যা দ্বারা বাহ্যিক বর্ণনায় প্রমাণ হয়েছে। উমাইয়া যুগে প্রণীত কোন কোন গ্রন্থ আববাসীয় যুগে বিদ্যমান ছিল। যেমন ইবনে নাদিমের বর্ণনায় প্রমাণ হয়েছে। তিনি আবুল আসওয়াদ ও ওবাইদা বিন শারীয়ার গ্রন্থাবলী দেখেছেন। ঐতিহাসিক ইবনে খালকানের অভিমত হল, তিনি হযরত ওহাব ইবনে মুনাব্বিহ রহ. লিখিত ইতিহাস গ্রন্থ ইয়ামানে দেখেছেন।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 গ্রন্থ সংগ্রহের উৎসাহ

📄 গ্রন্থ সংগ্রহের উৎসাহ


গ্রন্থ প্রণয়ন ও প্রকাশের সাথে সাথে গ্রন্থ সংগ্রহের উৎসাহ ব্যাপক বৃদ্ধি লাভ করে। সুলতান, আমীর-উমরাহ থেকে শুরু করে সাধারণ শিক্ষার্থী পর্যন্ত উন্মাদের মত সংগ্রহের জন্য গ্রন্থ খুঁজতে শুরু করে। আর তারা এ কাজের পেছনে বিপুল পরিমাণ অর্থব্যয় করে। আবু হিকান বলেন, আমি হাফেয ফাতাহ ইবনে খালকান ও কাজী ইসমাঈল ইবনে ইসহাক থেকে গ্রন্থ প্রেমিক আর কাউকে দেখিনি। আবু নসর সাবুর ইবনে ইরদশির উজীর বাহাউদ্দৌলা বাগদাদের কারখ মহল্লা বাইনাস সাওরাইনে এক গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করে উৎসর্গ করে দেন। তাঁর সম্পর্কে ঐতিহাসিক ইয়াকুব হামাবী বলেন, পৃথিবীতে এর চেয়ে সুন্দর কোনো গ্রন্থাগার হতে পারে না। যার প্রতিটি গ্রন্থ নির্ভরযোগ্য ইমামগণ কর্তৃক প্রণীত। বর্ণনাকারী হামাত (শাম) খ্যাতনামা ঐতিহাসিক আবুল ফিদা (মৃত্যুঃ ৬১০ হিঃ) এর গ্রন্থাগারে জ্ঞান বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ের অসংখ্য গ্রন্থ বিদ্যমান ছিল। তাঁর নিকট প্রায় দুইশ' উলামা ফিকহাবিদ সাহিত্যিক ও নিয়মিত লেখকদের সমাবেশ হয়। সালাহউদ্দীন আইউবীর পুত্র মালাকুন নাসিবের (৬০৩-৬৫৩) গ্রন্থ সংগ্রহে ভীষণ উৎসাহ ছিল। তিনি অনেক মূল্যবান গ্রন্থাবলী সংগ্রহ করেন। আমীর আবুল ফোরাস আজদুদ্দীন ছিলেন সিরাজ বংশেদ্ভূত নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের একজন। তার সম্পর্কে ঐতিহাসিক ইয়াকুবী বলেন, তিনি বিপুল সংখ্যক গ্রন্থ সংগ্রহ কারী ছিলেন।

৬১২ হিজরীতে যখন ইয়াকুবী তার সাথে সাক্ষাত করেন। তখন তিনি কতিপয় গ্রন্থ খরিদ করেন। তিনি আরো বর্ণনা করেছেন, তাঁর নিকট কত গ্রন্থ আছে, তার সঠিক সংখ্যা আমার জানা নেই। তার বিপদের দিনে তিনি চার হাজার গ্রন্থ বিক্রয় করার পরও তার সংগৃহীত গ্রন্থের মধ্যে ঘাটতি দেখা যায়নি। মাশহুর ইবনে আল-কামী (মুয়ায়্যেদীন আবু তালেব মুহাম্মদ আহমদ (মৃত্যুঃ ৬৫৬ হিঃ)) বহু গ্রন্থ সংগ্রহ করেন। স্বয়ং তিনিও একজন জ্ঞানী ও খ্যাতনামা লেখক ছিলেন। তাঁর পুত্র আবুল কাশেম আলী বলেন। আমার পিতার গ্রন্থাগারে দশ হাজারের অধিক গ্রন্থ ছিল। তিনি ঐ ইবনে আলকামী তাঁর জন্য ইমাম আল্লামা সানায়ী "আল ইয়াব" অভিধান রচনা করেন। আর তার সৌজন্যে ইবনে আবি আল-হাদীদ বিশ খণ্ডে নাহজুল বালাগার ব্যাখ্যা রচনা করেন। তাঁকে এর উপযুক্ত পারিশ্রমিকও দেওয়া হয়। মিশরের গভর্নর আমীর আল ফযলের যুগে আবু কাসির ফারয়েম ইবনে আল তাকাত নামে এক প্রসিদ্ধ ইসরাঈলী চিকিৎক ছিলেন। তিনি শাসকবর্গের চিকিৎসা করতেন। তাই তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করেন। তাঁর ব্যক্তিগত বিরাট এক গ্রন্থাগার ছিল। জনৈক ব্যক্তি ইরাক থেকে গ্রন্থ ক্রয় করার উদ্দেশ্যে মিশরে আগমন করলে ফারায়েমের সাথে তার সাক্ষাত হয়। তিনি ফারায়েমের নিকট থেকে চার হাজার গ্রন্থ খরিদ করেন। আমীর এ কথা জানার পর গ্রন্থের মূল্য ফেরৎ দিয়ে উক্ত গ্রন্থ সমূহ স্বীয় গ্রন্থাগারে রেখে দেন এবং ঐ সব গ্রন্থের উপর নিজের নাম লিপিবদ্ধ করে দেয়। সেহেতু ইবনে আবি সাইবার চিকিৎসা শাস্ত্রের অধিকাংশ গ্রন্থে ফারায়েমের নামের সাথে আমীর আল ফযলের নামও লেখা দেখা যায়।

হিজরী সপ্তম শতকের মধ্যবর্তী সময় আমিনউদ্দৌলা আবুল হাসান ইবনে আল-গাজ্জালী যিনি বাহরাম শাহ ইবনে আজদুহীন সালজুকির উজীর ছিলেন, তার গ্রন্থ সংগ্রহের ভীষণ আগ্রহ ছিল। সুতরাং তিনি বিভিন্ন বিষয়ের অসংখ্য গ্রন্থ সংগ্রহ করেন। লেখক মহল সর্বদা তার জন্য গ্রন্থরচনা করতেন। ইয়ামানের শাসনকর্তা দাউদ ইবনে ইউসুফ আততুর্কীমানীর (মৃত্যুঃ ৭২১ হিঃ) গ্রন্থগারে একলক্ষ গ্রন্থ ছিল। আমীর মাহমদুদ্দৌলা আবুল ওফয়া আল মুব্বাশিরিন ফাতিক মিশরের আমীর ছিলেন। তিনিও বিপুল সংখ্যক গ্রন্থ সংগ্রহ করেন। তার সংগৃহীত গ্রন্থ সমূহের অধিকাংশই ইবনে আবু সাইযাবার যুগ পর্যন্ত বিদ্যমান ছিল। এতো হলো পূবাঞ্চলের অবস্থা। কিন্তু পাশ্চাত্যর আমীর কাজী আবু বকর মালেকি "মুখতাছার ইবনে আবদুল হাকীম" গ্রন্থের ব্যাখ্যা গ্রন্থ রচনা করে তার নিকট প্রেরণ করে স্পেনের গভর্নর মুজাফফর ইবনে আল আফতাস বড় জ্ঞানী ও খ্যাতনামা সাহিত্যক ছিলেন। তিনি জ্ঞানীদের খুবই সমাদর করতেন। তিনি অসংখ্য গ্রন্থাবলী সংগ্রহ করেন এবং বিখ্যাত গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করেন। অনুরূপভাবে মারীয়ার শাসনকর্তা আজহার আসছীলের উজির আবু জাফর আহমদ বিন আব্বাস একজন বিখ্যাত সাহিত্যিক ফকীহ, জ্ঞানী ও লেখক ছিলেন। তার সংগৃহীত গ্রন্থ সংখ্যা প্রায় চার লাখে উপনীত হয়েছে। তাছাড়া সাধারণ যেসব গ্রন্থাবলী তিনি সংগ্রহ করেছেন। তার সংখ্যা নির্ধারণ করা খুবই কঠিন ছিল।

কুফা নগরীর খ্যাতনামা নাহু ও অভিধানবিদ ইমাম আহম্মদ বিন ইয়াহীয়া শালবীর (২০০-২৯১ হিঃ)। সম্পর্কে ঐতিহাসিক যুবায়দী বলেছেন, তিনি পূর্ববর্তী লোকদে জন্য অনেক মূল্যবান গ্রন্থ রেখে যান। আহম্মদ বিন মুহাম্মদ আবু বকর ইবনুল জারাহ (মৃত্যুঃ ৩৮১ হিঃ) তিনি একজন খ্যাতনামা জ্ঞানী ও বাগ্মী লেখক সাহিত্যিক ছিলেন। তাঁর সম্পর্কে ঐতিহাসিক আবুল কাশেম তানুখী বলেন, তিনি দশ হাজার দিরহাম মূল্যের গ্রন্থ সংগ্রহ করেছেন। আবু জাকারিয়া ইয়াহীয়া বিন মুঈন (মৃত্যুঃ ২৩৪ হিঃ) তিনি মৃত্যুর সময় একশ' সিন্দুক এবং বিরাট বিরাট চারটি শারাবের পাত্র পূর্ণ কিতাব রেখে যান। আবু হাসান আযযিয়াদী (মৃত্যুঃ২৪২ হিঃ) তিনি বাগদাদ নগরীর কাজী ও ঐতিহাসিক ওয়াকেদীর খ্যাতনামা শীষ্য ছিলেন। তিনি জ্ঞানী সাহিত্যিক ও ঐতিহাসিক হিসেবে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন। তাঁর বিরাট এক গ্রন্থাগার ছিল। বিখ্যাত দার্শনিক ও ভূগোলবিদ নাসির উদ্দীন তুশি (৫৯৭-৬৭২ হিঃ) তিনি মারগায় বিরাট নভোথিয়েটার কেন্দ্র তৈরি করেন। তাতে এক বিরাট গ্রন্থাগারও প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি উক্ত গ্রন্থাগারে তাতারীদের হত্যাযজ্ঞ ও লুণ্ঠনের পর বাগদাদ-সিরিয়া ও আরব উপদ্বীপ থেকে লুণ্ঠিত মহামূল্যবান গ্রন্থাবলী সংগ্রহ করে অনুরূপভাবে তাঁর গ্রন্থাগারে সংগৃহীত গ্রন্থাবলীর সংখ্যা চার লাখে উপনীত হয়।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 গ্রন্থ উৎসর্গ করা

📄 গ্রন্থ উৎসর্গ করা


গ্রন্থ সংগ্রহের ধারাবাহিকতায় গ্রন্থ উৎসর্গ করার ব্যাপারেও মুসলমানগণ পৃথিবীর ইতিহাসে শীর্ষ স্থান দখল করেছে বললেও অত্যুক্তি হবে না। উন্নত দেশগুলোতে আজও গর্বের সাথে বলা হয় যে, অমুক শাসক বা অমুক জ্ঞানী তার গ্রন্থাগার জনসাধারণের জন্য উৎসর্গ করে দিয়েছেন, কিন্তু আমাদের পূর্বসূরীদের মধ্যে এরূপ অসংখ্য ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন প্রাণপুরুষ রয়েছেন। যারা নিজেদের রচিত গ্রন্থাবলী ও গ্রন্থাগার জনসাধারণের জন্য উৎসর্গ করে দিয়েছেন। খতিব আল বাগদাদী (মৃত্যুঃ ৪৬৩ হিঃ) তিনি তাঁর সব গ্রন্থ মুসলমানদের জন্য উৎসর্গ করে দেন। তাঁর ইহজগত ত্যাগের প্রাককালে তিনি আবুল ফযল বিন খাইরুনকে ডেকে এনে তার মাধ্যমে সব গ্রন্থ ওয়াক্ফ্ফ করে দেন। খ্যাতনামা লেখক আবু আলীম যিনি বিদ্যানুরাগী হিসেবে খ্যাত ছিলেন, তিনি বসরা নগরীতে বিরাট গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করেন। হিজরী ষষ্ঠ শতকের খ্যাতনামা সাহিত্যিক, নাহুবিদ লেখক আল্লামা রশিদুদ্দীন তাওতাবা গ্রন্থাবলী ঐতিহাসিক ইয়াকুত হামাবী তত্ত্বাবধান করত। তাতে লিখেদিল যে আল্লাহ তা'লা আমাকে হালাল জীবিকার সাথে এক হাজার মূল্যবান গ্রন্থ ও দফতর সম্পর্কিত মূল্যবান নথিপত্র দান করেন। তা আমি মুসলিম বিশ্বের জন্য ওয়াক্ত করে দিলাম। যাতে বিশ্ব মুসলিম উপকৃত হতে পারে। গ্রন্থাবলী ওয়াক্ত করার সাধারণ সভ্যতায় পরিণত হয়। যা থেকে আমীর, উমরা ধনীক শেণীও বাদ ছিল না। সুতরাং যখন মিশরের ফাতেমী শেষ খলীফা আল আবিদ ফাতেমী ইহজগত ত্যাগ করেন এবং সুলতান সালাউদ্দীন রাজ্যের শাসন ক্ষমতা দখল করেন। তখন তাঁর উজির কাজী আল ফযল শাহী মহলের সব গ্রন্থ ওয়াক্ফ করে দেন। কাজী শরফুদ্দীন আবুল কাসেম হাবতুল্লাহ বিন আবদুর রহীম হামাবী শাফী ছিলেন হোমাত নগরীর বিচারক। (মৃত্যুঃ ৭৩৮ হিঃ)। তিনি এক লাখ দিরহাম মূল্যের গ্রন্থাবলী ওয়াক্ফ করে দেন।

ঐ যুগে গ্রন্থাবলীর সীমাহীন প্রেম ও আকর্ষণ এ ভাবে পরিমাপ করা যায় যে, এমন কোন প্রতিষ্ঠান ছিল না, যেখানে গ্রন্থ সংগ্রহ করা হয়নি। এমনকি শিক্ষাঙ্গন, বিদ্যালয়, হাসপাতাল, মসজিদ, মুসাফিরখানা ও খানকাহ সমূহের জন্য গ্রন্থাবলী ওয়াক্‌ফ করা হত। এ আধুনিক উন্নতির যুগেও যার নযীর পাওয়া দুষ্কর। আবুল মায়ানী মাহমুদ বিন আর রশিদী একজন খ্যাতনামা সাহিত্যিক ছিলেন, তাঁর সম্পর্কে ঐতিহাসিক সামানী বর্ণনা করেছেন, তিনি দর্শন শাস্ত্রের গ্রন্থাবলী পাঠ করে পথভ্রষ্ট হয়ে যান। অবশেষে তিনি তার গ্রন্থাবলী মনিগী বিশ্ব-বিদ্যালয়কে উৎসর্গ করে দেন। তাতারীদের আক্রমণের সময় তা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেওয়া হয়। আবু নসর আহমদ বিন ইউসুফ আল-মানাযী (মৃত্যুঃ ৪৩৭ হিঃ) দামেস্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে এক একাডেমী প্রতিষ্ঠা করেন। আর তাতে নিজের সব গ্রন্থাবলী ওয়াক্ফ করে দেন। ঐতিহাসিক ইয়াকুত হামাবী (মৃত্যুঃ ৬২৬ হিঃ) তিনি ইহজগত ত্যাগের প্রাককালে তার সংগৃহীত সমস্ত গ্রন্থ বাগদাদের কাড় দিনারের জায়েদী মসজিদে ওয়াক্ফ করে দেন। আর তা খ্যাতনামা ঐতিহাসিক আবনাশিরের দায়িত্বে ন্যস্ত করেন। সুতরাং তিনি সমস্ত গ্রন্থ ওখানে স্থানান্তর করে দেন। সারা মুসলিম বিশ্বে যেখানে যখন খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হত তাও গ্রন্থাগার থেকে খালি হতো না। আর সব বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতাগণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সাথে সাথে গ্রন্থাগার ও ওয়াক্ফ করে দেন। সুতরাং মুনতাসিরিয়া নিযামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবরণী অধ্যায় এ সম্পর্কে আলোচনা করা হবে। মিশরের শাসনকর্তা মালাকুয্যাহির বায়রাসে ৬৬২ হিঃ যখন যাহিরিয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। তখন তাতে এক গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করে তা ওয়াক্ফ করে দেন।

এর দ্বারা প্রমাণ হয় যে, সাধারণ প্রতিষ্ঠান সমূহ যেখানে মানুষের সমাবেশ বেশী হত। ঐ সব প্রতিষ্ঠানে গ্রন্থাবলী রাখা সাধারণ নিয়মে পরিণত হয়। সুতরাং খলীফা আল মুসতাফি (মৃত্যুঃ ৬২৩ হিঃ) মুসাফির খানা, মসজিদ, মাদ্রাসা, হাজী ক্যাম্প ইত্যাদি প্রতিষ্ঠা করার পর লিখিত ঘোষণার মাধ্যমে ঐ সব প্রতিষ্ঠানে উন্নতমানের গ্রন্থাবলী রাখার নির্দেশ জারী করেন। অনুরূপভাবে ষষ্ঠ হিজরীতে খলীফা নাসির উদ্দীনিল্লাহ্ আল খাতুনী সালজুকী মুসাফির খানা ও নিযামীয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গ্রন্থ ওয়াকফ্ফ করেন। বর্তমানে হাসপাতাল সমূহে চিকিৎসা সংক্রান্ত গ্রন্থাবলী রাখা সাধারণ রীতিতে পরিণত হয়েছে। আর এটাকে পাশ্চাত্য সংস্কৃতির অবদান বলা হয়। পক্ষান্তরে ইসলামী রাজ্যগুলোতে শতাব্দীর সূচনালগ্ন থেকে এ রীতি প্রবর্তন করা হয়। ৫৭৭ হিজরীতে সুলতান সালাহ উদ্দীন আইয়ূবী কায়রোতে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন। ওটাকে "আল আতিক ব্যাধিস্থান" নামে অভিহিত করা হয়। উক্ত হাসপাতালে নানা বিষয়ের একলাখ গ্রন্থের সমাহার ছিল।

ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণ হয়েছে যে, প্রাচীন ইসলামী সাম্রাজ্যের যেখানে খানকাহ প্রতিষ্ঠা করা হত, ওখানে জ্ঞানী গুণীদের সমাবেশ হত। আমাদের যুগের খানকাহ সমূহের এর সাথে সম্পর্ক হয় না। তাতে সাধাণতঃ অসহায় অনাথ আশ্রয়হীন ফকির দরবেশদের সমাগম হয়। আর ওখানে জ্ঞান চর্চার স্থলে হাসি তামাশা ও অবৈধ কাজ চলতে দেখা যায়। বর্তমান যুগে কোন কোন জ্ঞানীগুণীজনকে তাদরে গ্রন্থাবলী খানকাহে ওয়াক্ফ করতে দেখা যায়। তাছাড়া অভিধানবিদ আবু সাঈদ আল হিন্দ শাফেঈ (মৃত্যুঃ ৫৮৪ হিঃ) তিনি খ্যাতনামা সাহিত্যিক ও মযহাবের ইমাম ছিলেন। আর তিনি সালাহ উদ্দীন আইয়ূবীর রাজ দরবারে বিশেষ সম্মানের অধিকারী ছিলেন। যার কারণে তিনি বিপুল অর্থ-সম্পদের অধিকারী হন। তাঁর সম্পর্কে ঐতিহাসিক ইয়াকুত হামাবী বলেন, আমি তাঁর মত গ্রন্থ সংগ্রহকারী আর কাউকে পাইনি। তিনি তাঁর সংগ্রহীত সব গ্রন্থ সামাইতা খানকাহর নামে ওয়াক্ফ করে দেন। অনুরূপভাবে মারও শাহজাহানের খানকাহে "আজ্জামী রিয়াহ" নামে এক গ্রন্থাগার ছিল। তা সর্ব সাধারণের জন্য সর্বদা উন্মুক্ত থাকত। সুতরাং ঐতিহাসিক ইয়াকুত হামাবী ওখানে আগমন করার পর উক্ত গ্রন্থাগার থেকে বিশেষভাবে উপকৃত হন। তিনি উক্ত গ্রন্থাগারের দু'শ গ্রন্থ একত্রে পাঠ করার জন্য ব্যবহার করেছেন। আর অধিকাংশ গ্রন্থ বিনা পয়সায় পাঠ করেন। এতে প্রমাণ হয় যে, গ্রন্থাবলী ভাড়ার বিনিময়ে পড়ার ব্যবস্থা প্রচলিত ছিল। ঐ ইয়াকুত হামাবী বলেন, আমি যখন মারও শাহজাহান থেকে বিদায় হয়ে আসি তখন ঐ স্থানে বিশ্বের অধীক ওয়াক্ফ গ্রন্থাগার ছিল। ঐ সব গ্রন্থাগারের অধিকাংশ গ্রন্থাবলী মহা মূল্যবান ছিল। পৃথিবীর কোথাও এর নযীর পাওয়া অসম্ভব। কোন কোন গ্রন্থের দ্বারা প্রমাণ হয়েছে যে, কোন কোন গ্রন্থাগারের (WAKFDEED) দলীল-দস্তাবিজের জন্য ওয়াক্ফ করা হত। সুতরাং দামেশকে আশরাফিয়া হাদীস গ্রন্থাগারের ওয়াক্ত দলীল ২৯ রমজান ৬৩২ হিজরীতে ইমাম সবকী নকল করেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00