📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 বিষয় ভিত্তিক প্রশ্নরচনা

📄 বিষয় ভিত্তিক প্রশ্নরচনা


বিদ্যা অর্জন প্রচার ও প্রসার মুসলমানদের জন্য ধর্মীয় অবশ্য কর্তব্য। জ্ঞানের প্রসার ও প্রচারের প্রকৃত মাধ্যম হল লেখনী। সুতরাং হুযুর (সাঃ) এর উপর অবতীর্ন সর্বপ্রথম ওহীতে আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন,
"পড়ুন। এবং আপনার প্রভূ সর্বাপেক্ষা বড় দাতা। যিনি কলম দ্বারা লেখা শিক্ষা দিয়েছেন।"

কিতাবের অস্তিত্ব বিদ্যমান না হলে জ্ঞানের বিস্তার লাভ কোন মতেই সম্ভব হতো না। কেবল মুসলমানগণই বিষয় ভিত্তিক মহামূল্যবান গ্রন্থাবলী রচনা করে, শুধু তাই নয় বরং অন্যান্য ভাষায় গ্রন্থাবলীও অনুবাদ করে তাদের জ্ঞান প্রচারের সূচনা করে। মূদ্রণযন্ত্র আবিষ্কারের পূর্বে বিষয় ভিত্তিকগ্রন্থসমূহ এভাবে বিদ্যমান রাখা হত যখনই কোন গ্রন্থ রচনা সমাপ্ত হত, তখন এর হাতে লেখা বিশুদ্ধ কপি অতি সযত্নে তৈরি করে বাজারে বিক্রয়ের ব্যবস্থা করা হত। গ্রন্থ প্রস্তুতির পদ্ধতিতে কাগজ প্রস্তুত, লিখন পদ্ধতি, রঙ্গীন সাজগোজ ও বাঁধাই করার বিষয় উদ্ভাবন করা হয়।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 কাগজ তৈরী

📄 কাগজ তৈরী


সাধারণতঃ মুসলমানগণ লেখার জন্য দু'ধরনের জিনিস ব্যবহার করত। এক কাগজ, দুই পাতা। এছাড়াও পরিষ্কার চামড়া ও লেখার কাজে ব্যবহার করা হত। তবে তুলনামূলক কম। কুরআন মজীদেও قرطاس বা কাগজ শব্দের (সূরা আনআম) উল্লেখ রয়েছে "এবং যদি আমি আপনার উপর কাগজের মধ্যে লিখিত কিছু অবতরণ করতাম অতঃপর তারা তা তাদের হাত দ্বারা স্পর্শ করত, তবুও কাফিররা বলত, এটা তো নিছক স্পষ্ট যাদু। "(সূরা আনআম-৭)

প্রাচীনকালে মিশরে শীতল চারাগাছের বাকল দ্বারা কাগজ তৈরী করা হত। আর তা বিদেশে প্রচুর পরিমানে রপ্তানী করা হত। গ্রীকগণ এটাকে পেপারস বলত। মুসলমানগণ সর্বপ্রথম এ সম্পর্কে অবগত হয়। আর দু' তিন শতাব্দি পর্যন্ত তা ব্যবহার করতে থাকে। প্রচলিত কাগজ দ্বিতীয় শতাব্দীতে চীনের জাইলুন আবিষ্কার করে। আর ৭৫১ খ্রিঃ জিয়াদ বিন সালেহ খাজারীর যুগে চীনা কয়েদীদের মাধ্যমে সমরকন্দে কাগজ তৈরীর কারখানা স্থাপন করা হয়। তা এতো প্রসিদ্ধি লাভ করে যে, সমরকান্দ বাসীর নাম সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। আব্বাসী শাসক হারুন রশীদের শাসনামলে ফজল বিন ইয়াহিয়া বারমাকী বাগদাদে কাগজ তৈরীর কারখানা স্থাপন করে। এটাকে কাগজ শিল্প বলা হয়। ধীরে ধীরে অন্যান্য মুসলিম দেশে কাগজ শিল্প দ্রুত বিস্তার লাভ করে। সুতরাং ইবনে নাদিম খোরাসানে কাগজ শিল্পের উল্লেখ করেছেন। যা স্থানীয় কাতান থেকে তৈরী করা হত। অনুরূপভাবে তিনি আরবের থামের কারখানারও উল্লেখ করেছেন। তাতে ঘাস লতা পাতা দিয়ে কাগজ তৈরী করা হত। নাসির খসরু তার ভ্রমণ কাহিনীতে তারা বলেসের কাগজের উল্লেখ করেছেন। তা সমরকন্দের কাগজ থেকে উন্নত ছিল। কাগজ শিল্প পাশ্চাত্যে বিস্তার লাভ করে অবশেষে স্পেনে পৌছে। ইউরোপের মধ্যে এক মাত্র স্পেনেই প্রথম শহর যেখানে ইসলামী যুগে এ শিল্প প্রসার লাভ করে। স্পেনের শাতাবা শহরে এ শিল্প বিশেষ খ্যাতি অর্জন করে। ইদ্রিসি (আল-আবরেবী) শাতাবা সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন।

সেখানে যেসব কাগজ তৈরীর কারখানা ছিল, তাতে এত উন্নত মানের কাগজ প্রস্তুত হত, যার উপমা পৃথিবীর কোথাও পাওয়া যায়নি। আর তা প্রাচ্য ও প্রাশ্চাত্য জগতের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হত। স্পেনের শাতাবা শহর ছাড়াও বালনাসা তালীতার শহরেও কাগজ তৈরীর কারখানা ছিল。

ডক্টর গ্রাষ্টোলিবিয়ানের অভিমত হল যদি আবর বাসীরা না হত আর তারা কাগজ তৈরী না করত। তাহলে প্রাচীন যুগের অধিকাংশ জ্ঞান-বিজ্ঞান বিলুপ্ত হয়ে যেত। তারা এমন এক বস্তু আবিস্কার করে যা কাপড়ের পরিবর্তে কাজে আসে। আর মিশরে তৈরী কাগজের মত হয়। আরব বিশ্ব নানা জ্ঞান-বিজ্ঞানে যুগান্তকরী উন্নতি সাধন করে।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 হস্তলিপি

📄 হস্তলিপি


হস্তলিপিতে মুসলমান বিশেষ খ্যাতি অর্জন করে। আর তাকে এক উন্নত বিষয়ে উপনীত করে। ঐতিহাসিক আবুল ফজল বলেন, এটা এক ধরনের প্রতিচ্ছবি। এর আবিষ্কার এক যুগান্তকারী উদ্দীপনা উৎসাহ লাঘবের উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। এর চেয়ে আরও বিস্ময়কর কুরআন মজীদের বর্ণনা। যার অনেক উন্নত রীতিনীতি অবলম্বন করা হয়েছে। কুরআন মজীদ ছাড়াও এ বিষয়ে আবর কবি-সাহিত্যিক ও কিচ্ছা কাহিনী লিপিবদ্ধ করায় উল্লেখযোগ্য খ্যাতি অর্জন করেছে। ইসলামের সূচনা লগ্নে হীরা ও হাসীরাহ এলাকা হস্তলিপির ব্যাপারে উল্লেখযোগ্য স্থান ছিল। পরবর্তীকালে হীরা কুফা নামে ইতিহাসে প্রসিদ্ধ হয়।

ইসলামী যুগের প্রথম দিকে আরবী হস্তলিপিতে যে উন্নতি সাধন করা হয়, তা ছিল কুফার হস্তলিপি। হরব ইবনে উমাইয়া তা আরবে প্রসার করেন। কেননা হরব ইবনে উমাইয়া তা কুফা থেকে আরবে নিয়ে আসে। এ কারণে এ কুফী হস্তলিখন বলা হয়। উমাইয়াদের শাসনামলে উজির আব্দুল হামিদ দফতরিক কাজের সুবিদার্থে তাতে যৌক্তিক পরিবর্তন আনেন। আরববাসীদের শাসনামলে ইসহাক বিন হাম্মাদ একে ব্যাপকভাবে কাজে লাগানোর জন্য সহজীকরণের উদ্দেশ্যে এটার বিভিন্ন পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 বই প্রনয়ন

📄 বই প্রনয়ন


নামফলক মসজিদ ও ইমারতের সামনে লেখার জন্য। রেজিষ্ট্রী মোহর গুরুত্বপূর্ণ সরকারী দলীল দস্তাবেজ সংরক্ষণ করার জন্য। কর্তব্য কাজ সরকারী ঘোষণাপত্র জারী করার জন্য।

কুফী পদ্ধতির লেখা সরল সোজা পদ্ধতিতে সমাধা করা হতো। এ কারণে সাধারণ প্রয়োজন পূরণ ও মানুষের স্বভাবের জন্য এ বাধ্যবাধকতা কঠোর ছিল। সুতরাং যেসব প্রয়োজন পূরনে মানুষ অক্ষম হত, তাতে পরিবর্তনের সূচনা দেখা দিয়েছে। কুফী হস্তলিপিকে বিভিন্ন উদ্দেশ্য সাধনে ২৭ ভাগে বিন্যাস করা হয়।

মুসলমানগণ গ্রন্থ রচনা ও প্রকাশনার রীতিনীতিতে বিপুল পরিমাণে উন্নতি সাধন করে। এ কারণে তারা সহজ পদ্ধতি উদ্ভাবনে লিপ্ত হন, কথিত আছে, যে, ইবনে মোকল্লাহ সহজ হস্তলিখন পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন। আর ঐ পদ্ধতিকে "মুহাকিক" নামকরণ করা হয়। তা থেকে এক তৃতীয়াংশ লেখা আবিষ্কৃত হয় বিশেষ পদ্ধতির লেখা প্রতিলিপির জনক ইবনে মোকাল্লাহ্। কথিত আছে, নসখ বা প্রতিলিপির এ কারণে এ নাম নির্ধারণ করা হয়। এটা নিয়মানুগ ও কার্যকরী লিখন পদ্ধতি ছিল। এর জন্য দ্বাদশ পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়। যাতে সব লিখন পদ্ধতি বিধিত করা হয়।

কুরআন মজীদ ও অন্যান্য লিখন পদ্ধতির মাঝে বিশেষ পার্থক্য নিরূপনের জন্য নসখে বা প্রতিলিপির এক শাখা দস্তখত নামে জারী হয়। প্রতিলিপির রীতি অনুযায়ী যে বিশেষ লিখন পদ্ধতিতে ঘোষণা পত্র লিপিবদ্ধ করা হত, তা বিশেষ পদ্ধতি নামে খ্যাত হয়। হস্তলিখন পদ্ধতির ইতিহাসে ইবনে বাওয়াবের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি প্রতিলিপির তৈরীর রীতিনীতিকে অতি সতর্কতার সাথে সংরক্ষণ করেন। এ হস্তলিখন পদ্ধতি কে সম্পাদিত করণ বলা হয়।

প্রতিলিপির বিভিন্ন শাখার মাধ্যমে আরো এক লিখন পদ্ধতির উদ্ভাবন হয়। এর নাম হলো সাদৃশ্যতা। এটাও প্রয়োজন সহজতর করার জন্য আবিষ্কৃত হয়। এটা এক মুক্তলিখন পদ্ধতি। এর বাহ্যিক মূলনীতি রহিত করা হয়। কিন্তু লিখনি স্বাধীন ভাবে এটাকে নিজের মূলনীতি বানিয়ে নেয়। কিন্তু এই রহিত করন প্রথমে উর্দু বর্ণলিপি থেকে বের হয়। তারপর ভংগ্ন আকৃতি ধারণ করে। উর্দু বর্ণলিপি এই রহিত করনকে দূর করে সৌন্দর্য্য বর্ধন করে আর ভগ্ন রূপ ধারন করে দ্রুততার সাথে অনিয়মিত ভাবে উপকৃত হয়। কিন্তু প্রচলিত হস্তলিখন পদ্ধতির রাস্তা পরিস্কার করে দেয়। প্রত্যেক লেখায় সাদৃশ্যতা এক বিশেষ আকৃতি লাভ করে। পাক-ভারত উপমহাদেশে এক বিশেষ সাদৃশ্যতা বিহার নামে খ্যাতি লাভ করে। আমীর তৈমুর গুরগানির যুগে খাজা আমীর আলী তাবরীজি নসখ ও উর্দু বর্ণলিপির সংমিশ্রণে নতুন এক লিখন পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন। তা প্রথম প্রতিলিপি সাদৃশ্য নামে প্রসিদ্ধ ছিল। কিন্তু পরবর্তি সময় সাদৃশ্যতা নামে পরিচিত হয়।

এ বিষয়ে খ্যাত ব্যক্তিদের মধ্যে সুলতান আলী মাশহাদী, মীর আলী আল কাতিব আলবেরুনী, মীর আহমাদ, আব্দুর রশিদ দাইলামী, আযহার জাফর তাবরিজি, মুহাম্মদ হুসাইন কাশ্মীরি, ইমাম দারওয়ারদী ও তাদের শীষ্যবর্গ বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00