📄 যথাযোগ্য অনুগ্রহকারী ব্যক্তি
কুরআনের নম্বর সংকলন ও প্রকাশে আমার সবচেয়ে মূখ্য উদ্দেশ্য হল, আধুনিক মুক্ত জ্ঞানের ক্ষমতা মানুষকে চারিত্রিক যে গহীন জংগলে আবদ্ধ করে বিপদোন্মুখ করে দিয়েছে, তাতে অনন্ত সততার আলো পৌছতে পারে। বিশ্ব মানবতা মুক্তির কোন পথ পেয়ে যেতে পারে। আপনি তো শিল্পকারখানা যানবাহন এটমবোম, কম্পিউটার, মহাশূন্যযান প্রভৃতি বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার স্বচোখে দেখছেন। কিন্তু আপনি কি এর মধ্যে আবদ্ধ হয়ে পড়েছেন। নাকি বিজ্ঞানের আবিষ্কারের বেড়াজালে আটকা পড়ে জ্ঞানপাপী মানুষের কি যে বিপদজনক অবস্থা হয়েছে, সে সম্পর্কে একটু গভীর চিন্তা-ভাবনা করে দেখেছেন?
মানুষ বিজ্ঞান, অর্থ-সম্পদ, আবিষ্কার ও উপায়-উপকরণের উপর আরোহন করার স্থলে ঐ নব উদ্ভাবিত শক্তি সমূহের আরোহী হয়ে গেছে বরং সে তামা-ধাতু কারিগরি শক্তির সামনে প্রায় এমন হয়ে গেছে, মনিবের সামনে গোলামের যে অবস্থা যেমন হয়। তারা উন্নত জ্ঞান-বুদ্ধি, উপায়-উপকরণ প্রভৃতির প্রাচুর্যতা সত্ত্বেও প্রথম থেকে অত্যন্ত উদাসীন ও হতাশাগ্রস্ত হয়ে আছে। পূর্বের তুলনায় বর্তমানে অন্যায়, অত্যাচার নির্যাতনের শিকার বেশী হচ্ছে। যুদ্ধ ও রক্তপাতের শিকার বেশী হচ্ছে। এখন বেশী পরিমাণে পরামর্শ ও কুচক্রান্ত ও জোর জবরদস্তির সামনে নিরুপায় ও অসহায় হয়ে আছে। আরো বেশী নিগৃহীত হচ্ছে। আরো বেশী প্রতারণার ছলে মিথ্যা বলা, মিথ্যার প্রচার প্রসার মিথ্যায় লিপ্ততা ও মিথ্যা কার্যকরী করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। বর্তমানে পারিবারিক অশান্তি ও সামাজিক নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছে। বর্তমানে বেশী ভীত-সন্ত্রস্ত। হতাশা, নৈরাশ্যতা অনুভূতিহীনতা ও অন্যান্য মানসিক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়।
📄 জ্ঞানের পূর্ণাঙ্গ ক্ষমতা লাভ করা
জনাব আলমাস সাহেব। এ সবই কি জ্ঞানের চাকা। এটা হলো সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা। বিবেক-বুদ্ধির মাধ্যমে পরিচালিত ব্যক্তি পৃথিবীতে খোদার ইবাদত থেকে মুক্ত হয়ে যাওয়ার পতাকাবাহী হয়ে যায়। ঐ উন্নত জ্ঞানের অধিকারীদের অবস্থা হল, তারা অর্থ উপার্জন, যৌনাচার, প্রতিচিত্র দেখে এবং স্বীয় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কামনা-বাসনা ছাড়াও সময়ের আলোকে প্রাধান্য বিস্তার করা, ক্ষমতা দখল করা, বিশেষ করে বীরত্বের অমৃতের পূজা-পার্বনে মগ্ন। তারা ধ্বংসশীল মানুষের স্তুতি গায়। তাদের ছবি সমূহের পূজা করছে। তাদেরকে মহাজ্ঞানী জ্ঞাপন করছে। আর তাদের মৃত্যুর পর তাদের জড় লাশ ও তাদের কবর পূজা করছে। তাদের কবরের উপর ফুলের অর্ঘ্য দিচ্ছে। ব্যাস! এটাই হল তাদের হালুয়া-রুটি। আপনার জ্ঞানের পরিধির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবতা।
এটা হলো সমস্ত জ্ঞানের বিজ্ঞান ও বস্তুবাদের উপর ব্যয় করার পরিণতি। আর জিন্দেগীর রূহানী ও চারিত্রিক চাহিদা সমূহের প্রতি তাকিয়ে দেখুন। সাংস্কৃতিক ভারসাম্যকে এমনভাবে ধ্বংস করার পর শান্তি ও নিরাপত্তা, আভিজাত্য ও নৈতিকতার বিষয়ে কি প্রশ্ন করা হবে? ঐ ভারসাম্যহীনতাকে নির্মূল করে ইনসাফভিত্তিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত করার উদ্দেশ্যে কুরআনে অবতীর্ণ হয়েছে।
📄 চাঁদের সৌন্দর্য
আপনার বক্তব্য অতি চিত্তাকর্ষক ও প্রাঞ্জল। সাথে সাথে অত্যধিক বিস্ময়করও বটে। অনেক মজা উপভোগ করেছি। মহাশূন্যযান চাঁদে অবতরণ করার পর চাঁদের সৌন্দর্য মলিন হল কি ভাবে? আর পরিভাষার ভাণ্ডার ধ্বংস হল কেন, এতো বড় ঘটনা কখন কি ভাবে ঘটে গেল?
এখন প্রশ্ন হল, যদি মানব দেহের সত্ত্বাগত বাস্তবতা ও তার অঙ্গ প্রত্যঙ্গ ও কর্মকাণ্ড ও তার চামড়ার নিচের অবস্থা সামনে আসার পরও তার সৌন্দর্য্য নষ্ট হয় না। দাম্পত্য জীবন থেকে শুরু করে প্রেম-প্রীতি পর্যন্ত সব আনন্দ আহলাদ জারী থাকে। তদ্রুপ যদি উদ্ভিদ জগতের প্রাকৃতিক ও রাসায়নিক বাস্তবতা উন্মুক্ত করার কারণে ফুলের সৌন্দর্য্য বিনষ্ট না হয়, যদি তাজা ফুলের সৌন্দর্য্য বিলুপ্ত না হয় তাহলে এক সরল প্রকৃতি চাঁদই কি অপরাধ করেছে যে, তার সম্পর্কে একাধিক মৌলিকতা সামনে আসায় তার মান সম্মান সবই ধূলায় মিশ্রিত হয়ে গেছে। জনাব আলমাস! স্বয়ং হীরা ও আলমাসের বৈজ্ঞানিক সংমিশ্রণ কয়লাকে মিলিত করে দিয়েছে। তারপরও কি বাজারে তার মূল্য হ্রাস পেয়ে গেছে। প্রাকৃতিক গণ্ডিতে সৌন্দর্য্যের নাম হলো ভালো অবস্থা, যা আমাদের পঞ্চইন্দ্রিয়ের অনুভূতির মাধ্যমে স্মৃতিতে ভেসে উঠে। বিজ্ঞানের এই সৌন্দর্য্য গবেষণা না ফুল ও প্রজাপতি সমূহ ছিনিয়ে নিতে পারে, আর না চাঁদকে তা থেকে বঞ্চিত করতে পারে।
📄 ইসলাম নিরাপদ রয়েছে
এখন বাকী রইল ধর্মীয় বিষয়। এ পৃথিবীতে এরূপ মতবাদ হবে যার বুনিয়াদ সমূহ চাঁদে অবতরণের কারণে বিশাল গর্তে পরিণত হয়ে গেছে। আর আপনি এর ফলে খুশি হয়েছেন। আমার সমবেদনা অনুভূত হচ্ছে। কিন্তু ইসলাম না কোন মতবাদ, আর না ইসলামের কোন ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতির সম্মুখীন তো হয় ঐ অকেজো ধ্যান-ধারণা, যা কুরআনের এক আয়াতের সাথে চালু হয়েছে। প্রয়োজন হল, ঐ আয়াতকে সঠিকভাবে হৃদয়ঙ্গম করা। প্রসঙ্গতঃ আলোচনা শেষ প্রান্তে উল্লেখ করা হচ্ছে। ইসলাম, হিন্দু মতবাদ বা খ্রিস্টবাদের (আকৃতি বিদ্যমান) মত বস্তু নয়। এটা সুদৃঢ় দ্বীন। আপনার চিন্তার কিছুই নেই। ইসলাম সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছে।
আমার এ দাবী হয়ত আপনার নিকট বিস্ময়কর মনে হবে যে, মানুষের চন্দ্রে অবতরণ করা মহান আল্লাহ্ তা'আলার সত্ত্বা ও তাঁর দ্বীনের সত্যতার পক্ষে সততার দলীল হয়েছে। বিন্দুমাত্রও এর বিপরীত হয়নি। বস্তুতঃ চাঁদে পৌছা যদি সম্ভব হয়ে থাকে তাহলে স্বাভাবিক নিয়ম রীতির মধ্যে হয়েছে। গ্রহ-নক্ষত্রের জগত আল্লাহ তা'আলার বিধানের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের কারণে হয়েছে।
গ্রহ-নক্ষত্রের দৈহিক স্থূলতা আর তাদের আবর্তনের ব্যবধান ও তাদের গতির দ্রুততার সঠিক হিসাব মতে সময়ের দিক থেকে তাতে কয়েক সেকেণ্ডের বেশী পার্থক্য ধরা পড়ে না। আর না স্থানের দিক থেকে কয়েক ফুটের বেশী গড়বড় হয়। এ শৃঙ্খলা বিশ্বের ঐ দাঁড়ি পাল্লার সাক্ষী, যা খোদায়ী বিধানের প্রতিফল। ঐ দাঁড়িপাল্লাকে দেখে এক খোদার ইবাদতকারী পৃথিবীর যে কোন অবিশ্বাসীদের সম্বোধন করে জিজ্ঞেস করছে, "যদি বিশ্বজগত চূড়ান্ত পরিমাপের বিধানে বাঁধা না হত আর যদি গ্রহ-নক্ষত্রের উদয়াচল ও গতিধারা পরিবর্তন হতে থাকত তাহলে মহাশূন্য আলোকিত হত কি ভাবে?
সুতরাং যদি অপরিবর্তনীয় বিধানাবলীর অস্তিত্ব প্রমাণ হয়। তাহলে আইন প্রণয়নকারী মহান সত্ত্বার অস্তিত্বও প্রমাণ হয়েছে। তাছাড়া বাস্তবিক পক্ষেই সৃষ্টি জগতের সকল ভারসাম্যতা খোদায়ী শ্বাশত বিধানের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে, এমন কি স্বয়ং মানুষের বিবেক-বুদ্ধির সঠিক ব্যবহারকারী মানুষকে এ পথনির্দেশনা দেয় যে, স্বয়ং তার জীবনের ভারসাম্য, তার সুস্থতা, তার নিয়ম পদ্ধতি ও তার নিরাপদ লালন পালনও খোদায়ী বিধানের মাধ্যমে সম্ভব। সৃষ্টিজগত যে মহান শক্তির সামনে একত্ববাদী হয়ে অবনতমস্তকে চমৎকার শৃঙ্খলার সাথে চলছে, ঐ সৃষ্টিজগতে বসবাসকারী মানুষ জীবনের সংশোধন ও কল্যাণের এ লক্ষ্যে তাদেরকে ঐ মহান শক্তির অনুগত ও আজ্ঞাবহ থাকতে হবে।
সুতরাং মানুষের চাঁদে অবতরণের ঘটনা ইসলামের সততা ও সত্যতার জন্য ক্ষতিকর কোন বিষয়ই নয়। যদি আপনি একটু পেছনের কথা চিন্তা করেন, তাহলে দেখবেন, যে দিন মানুষ প্রথম কোন উঁচু গাছে আরোহন করেছে, ঐ দিন সে-ও প্রত্যক্ষ দর্শীদের মাঝে চাঁদে অবতরণকারীদের থেকে কম ছিল না। তারপর যে দিন মানুষ প্রথম শূন্যে উড়েছে বা যে দিন মানুষ সর্বপ্রথম উড়োজাহাজকে শূন্যে উড়তে দেখেছে, ঐ দিন মানুষের জ্ঞান বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেছে। কিন্তু সে দিন সে প্রথম ঘটনায় না খোদাকে অস্বীকার করেছে, না খোদার দ্বীনকে অস্বীকার করেছে। অনুরূপভাবে চাঁদে পৌঁছার ঘটনা বা তার পরবর্তীতে অন্য গ্রহে পৌঁছার ঘটনাও খোদার খোদায়ী ও তাঁর শ্বাশত দ্বীনের সত্যতায় ক্ষতিকর কোন প্রভাব ফেলবে না।