📄 যুদ্ধের ময়দানে কুরআনের কপি
সেপ্টেম্বর যুদ্ধের সময় বেলুচ রেজিমেন্ট এক ড্রাইভার গোলাবারুদ ভর্তি এক ট্রাক যুদ্ধের ময়দানে সামনের কোন মোর্চার দিকে নিয়ে যাচ্ছিল। যুদ্ধের ময়দানে তখন টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছিল। নিজ ও শত্রুর মোর্চাসমূহের পরিচয় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। পাক বাহিনীর ঐ ট্রাক চালক ধূলাবালি, ধোঁয়া উপেক্ষা করে দুশমনদের সীমানায় ঢুকে যায়। দুশমনরা তাকে বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করে। তখন ঐ জানবাজ ট্রাক চালক গোলাকারুদ ভর্তি ট্রাককে দুশমনের হাতে ন্যস্ত করার স্থলে জীবনবাজী রেখে ট্রাক ঘুরিয়ে নেয়। দুশমনরা তাকে চার দিক থেকে ঘেরাও করে ফেলে। কিন্তু পাক ফৌজের এই দুসাহসী ট্রাকচালক গোলাবারুদ ভর্তি ট্রাককে উচু নীচু জমিন ও টিলা টংগরের উপর দিয়ে চালিয়ে দুশমনের ঘেরাও থেকে বের করার চেষ্টা করতে থাকে। শত্রু বাহিনী তার উপর বৃষ্টির মতো গুলি বর্ষন করতে থাকে। আল্লাহ ছাড়া কারো জানার উপায় ছিল না যে, সে আহত হয়েছে না অক্ষত রয়েছে। কিন্তু শত্রু বাহিনীর এক শিখ অফিসারের বর্ণনা মতে সে ঐ ট্রাককে নিজের মোর্চার দিকে বের করে নেওয়ার চেষ্টা করতে থাকে। অবশেষে তার উপর গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়। ফলে গোলা-বারুদ ভর্তি ট্রাক বিস্ফোরিত হয়ে যায়। আগুন নিভে যাওয়ার পর এক শিখ মেজর পবিত্র কুরআন মজীদের এক কপি সসম্মানে উঠিয়ে নিয়ে আমাদের অফিসারদের সাথে সাক্ষাত করে বলে যে, ঐ ট্রাক জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ড্রাইভারের পোড়া কয়েকটি হাড় ব্যতীত আর কিছুই পাওয়া যায়নি। কিন্তু পুড়ে যাওয়া ঐ ট্রাকের ফুটের ভেতরে দুই কপি কুরআন মজীদ অক্ষত পাওয়া যায়। শিখ বলেছিল, এক কপি অনুবাদ কৃত ছিল, তা আমি আমার নিজের জন্য রেখে দিয়েছি। আমি তা প্রতি শব্দে শব্দে পাঠ করব। আমি কুরআন মজীদের শ্রেষ্ঠত্ব ও অলৌকিকতায় বিশ্বাসী হয়ে গেছি। এ দ্বিতীয় কপি অনুবাদহীন, এটা আপনাদের সামনে পেশ করার জন্য নিয়ে এসেছি। ঐ কপি বর্তমানে লাহোর শাহী মসজিদের যাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। তা ১১ নং বেলুচ রেজিমন্টে পেশ করেছিল।
📄 কুরআন ও চন্দ্র অবতরণ
জনাব! আপনি এযুগে কুরআনে নম্বর খুঁজছেন। অথচ মানুষ মহাশূন্যের বক্ষ ভেদ করে চাঁদে জ্ঞানের উন্নতির পতাকা উড্ডিন করে এসেছে। আর আপনি কুরআনের পতাকা বাহী হয়ে না রাজনৈতিক দিক থেকে সুস্থ আছেন, না অর্থনৈতিক দিক থেকে সুখে শান্তিতে স্বচ্ছল জীবন যাপন করছেন, না সত্ত্বাগত দিক থেকে উন্নতি লাভ করছেন, না আত্মরক্ষার দিক থেকে নিজে স্বয়ং সম্পূর্ণ হয়েছেন। না আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক দাবার গুটির চালে বিচক্ষণতা লাভের স্থলে অসহায় হয়ে অন্যের হাতের পুতুলে পরিণত হয়েছেন। আর পরস্পরে আপোষে মনের সুখে লড়াই করছেন। একে অন্যের রক্ত ঝরাচ্ছেন। আর বিভিন্ন স্থানে বোমার লক্ষ্যবস্তু পরিণত হচ্ছেন, কুরআনের অনুসারীরা বর্তমানে এমন এক গাড়ীতে পরিণত হয়েছে। যার চাকা নষ্ট হয়ে গেছে। তার ইঞ্জিন বলে দিয়েছে যে, এর পার্টস (দ্রুত) অকেজো হয়ে গেছে। কিছু বুদ্ধিমান আরোহী এ গাড়ী ত্যাগ করে চলে গেছে। কিছু লোক দুঃখিত ও ব্যথিত হয়ে আছে। আর কিছু সৌভাগ্যবানও রয়েছে। যারা এ নিয়ে কবিতার সুরে আশার আলো দেখাচ্ছে যে, এ বাস কখনো একাকী কোন অলৌকিক মুজিজা দেখাবে, এবং গাড়ী চলতে শুরু করবে। সামাজিক জীবনের এক অত্যাবশ্যক কর্তব্য হল, একতা। কিন্তু এ ঐক্য ও একতা মুসলিম বিশ্বের নেতাদের মধ্যে তো দূরের কথা, আপনি আপনার দেশের ধর্মীয় নেতাদের দিকে তাকিয়ে দেখুন, তাদের মধ্যে একতা আছে কি না।
? আরব বিশ্ব ইসরাইলের হাতে তিন তিন বার মার খাবার পরও প্রকৃত অর্থে ঐক্যবদ্ধ হতে পারেনি। ঠিক এমনই সংকটময় মুহূর্তে সিরিয়া, ইরাক-ইয়ামানের মধ্যে যা হচ্ছে, তা চোখের সামনে আছে। আপনি আরও দেখবেন, বহুস্থানে একদিকে প্রত্যেক ধর্মের অনুসারীরা বলছে, তারা সমাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। কিন্তু অন্য দলের মধ্যে অন্তদ্বন্ধও চলছে। সম্ভবতঃ আপনার স্মরণ না থাকার কথা, ১৯৫১ সালে ওলামাদের যে ঐক্য পরিলক্ষিত হয়েছে, তখনও দু'দলের অনুসারীরা স্ব স্ব দল নিয়ে পৃথক পৃথক জামাতে নামায আদায় করেছে। তবে আমি বলতে চাই, চাঁদে মানুষের পৌছার ফলে একদিকে তো চাঁদের সৌন্দর্যের যাদু লণ্ডবণ্ড হয়েছে। আমাদের কবি সাহিত্যিকদের পুঁজি ও ভাষা অলংকরণের রত্নভাণ্ডার ধ্বংস হয়ে গেছে। যেমন, আকবর এলাহাবাদী বলেছেন,
مغرب نے دوربین سے کمر انکی دیکه لی مشرق کی شاعری کا مزه کر کرا هوا !
"পাশ্চাত্য জগত দূরবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে তাদের কোমর পর্যন্ত দেখে নিয়েছে। প্রাচ্য জগতের কবি সাহিত্যিকদের কাব্য রচনার মজা বিলীন হয়ে গেছে।" অপরদিকে সত্য কথা হল, মযহাবের মাথাও ঝুকে পড়েছে। সামান্য অগ্রসর হয়ে অন্য এক জগতের জীবন যাপন ও বিশেষ করে বুদ্ধিমান জীবের অস্তিত্ব প্রকাশ হয়ে যাবে। তখন এ সন্দেহও দূর হয়ে যাবে যে, আমাদের এই কচি জমিনে সুরখাবের বিশেষ কোন পালক পড়েছে। যার কারণে সমস্ত বিশ্বজগতের জন্য রাহমাতুল্লিল আলামীন (সাঃ) এর মহান সত্ত্বাকে এর উপর প্রেরণ করা হয়েছে। আর বাকী সব সৃষ্টিজগত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। হযরত জিবরাঈল আ. কেও শুধু এ জগতের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে। আর আসমানী অহী ও এলহামের জন্যও এ জগতকে বিশেষভাবে নির্দিষ্ট করা হয়েছে। আপনি কুরআনের আলোকে নিছক এ কথাই বলুন যে, চাঁদে নামায আদায় করা হবে কিভাবে? সময়ের নিয়মানুবর্তীতা নির্ধারণ করা হবে কিভাবে? নামাযী কা'বা মুখী হবে কি উপায়ে? হজ্জ সমাপন করা হবে কিভাবে? আর খোদ বিমানের আরোহীরা নামাযের কি ব্যবস্থা করবে? শরী'আতের সববিধি-বিধানই তো এক দিকে বাঁকিয়ে রেখে দিয়েছেন। আপনি অথবা আপনার হযরত ওলামারা কুরআনের সূরা আর-রাহমানের প্রসিদ্ধ আয়াত পাঠ করে বলবেন, মানুষ জমিন ছেড়ে মহাশূন্যে কখনো পৌঁছতে পারবে না। কিন্তু এ ঘটনা সংঘটিত হয়ে গেছে। এখন কি হবে? এখন আপনি দেখবেন ঐ ওলামারা দু'দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এক দল যারা বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে কিছুটা অবগত। তারা নতুন ব্যাখ্যা দিয়ে বলছেন এর থেকে বের হওয়া যেতে পারে। তবে শর্ত হল বাদশাহী লাভ করা। কিন্তু ঐ দ্বিতীয় দল অতীতে রয়ে গেছে। তারা নিজের একঘুয়েমীতে অনড়। তারা বলে, চাঁদে পৌঁছার সব খবর মিথ্যা। এমন ছবি বানানো হয়েছে। আর টেলিভিশনে তা ফলাও করে প্রচার করা হচ্ছে। এ সবই এক মিথ্য বানওয়াট কিচ্ছা কাহিনী। একটু পর্যালোচনা করে দেখুন। এরা হল, আপনাদের প্রতিষ্ঠিত ওলামায়ে কিরাম, আর শরীয়াতের সুদৃঢ় ব্যাখ্যাকারী।
পশ্চাৎবর্তী দলের কথা ছেড়ে দিন। আমি অগ্রবর্তী দলের মধ্যে সবচেয়ে বেশী উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্বের অধিকারী ব্যক্তি উজির সাহেবের ধ্যান-ধারনা ভালোভাবে প্রত্যক্ষ করেছি। তার অধ্যাবসায়ের সারমর্ম হল, পৃথিবীতে যা কিছু হচ্ছে, তা নিছক কাঙ্খিত দ্বীন। আর তা কুরআন উপযোগী। তারা কুরআনকে পরিবর্তনশীল বিজ্ঞানের মতবাদের সাথে এমনভাবে যুশোপযোগী ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করেছে। আর যেভাবে উপরে আরোহনের মতবাদ থেকে শুরু করে সমাজতান্ত্রিক দর্শন পর্যন্ত প্রতিটি বিষয়কে কুরআনের মাধ্যমে উপস্থাপন করেছে।
তা দেখে সত্যই আমার গর্ব হয় যে, এ ভাবে হাত কান ধরা থেকে হাজার গুন আমাদের মতো জ্ঞানপাপীদের থেকে উত্তম, যারা জ্ঞানের প্রশস্ততাকে সমর্থন করে এ যথার্থতা গ্রহণ করেছেন যে, ওহী ও এলহামের ব্যাপার যতদূর চলে চলবে। অতীত যুগে যখন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি অপ্রর্যাপ্ত ও পরাধীন ছিল। তখন যেভাবে ছিল সেভাবে চলেছে। এখন মুক্তবুদ্ধির যুগ। আমরা সরল-সোজা ভাবে ঈমান এনেছি। তখন আমাদেরকে এত গোলক ধাঁধার চক্করে পড়া হয়নি। ঈমান আনার পূর্বে নিত্যনতুন দর্শন ও বৈজ্ঞানিক মতবাদের মুকাবিলা করতে হয়নি। তারপর কুরআন মজীদে এর সমর্থনে আয়াত খোঁজ করতে হয়নি। তারপরও যদি কাজ না হয় তাহলে কুরআন মজীদের শব্দাবলীর নতুন অর্থ বের করতেও হয়নি। যদি ডারউইন, নিউটন, ফ্রয়েড ও মার্কসের অভিমত চিন্তা-ভাবনা করে পছন্দ করতেছি যে, তার পর এর কি প্রয়োজন রয়েছে আমাদের কে তাদের অভিমতের সাথে কুরআনকে মিলিয়ে দেখতে হবে। আমাদের কাজ তো হল কুরআনকে চুমু দিয়ে সুন্দর করে তাকের উপর রেখে দেওয়া।
অনুরূপভাবে আমরা ঐ মনীষীদের সুদৃঢ় সাহসিকতার প্রতিদান দিচ্ছি যে, এই যুগেও আপনারা খোদার উপর ঈমান আনার ব্যাপারে সুদৃঢ় আছেন। তাই বিখ্যাত কবি গালিব বলেছেন-
وفاداری بشرط استواری اصل ایمان ہے
দৃঢ়তার সাথে প্রতিজ্ঞাপূর্ণ করাই আসল ঈমান।
আমাদের সমস্যার সমাধান হচ্ছে, এ পরিবর্তনশীল পৃথিবী ও পরিবর্তনশীল বাহ্যিক জ্ঞানের মাঝে আবর্তিত হওয়ার পর আমরা সূচনা থেকে প্রতিজ্ঞার বুনিয়াদকে আবৃত করে দিয়েছি।
📄 চিত্রাকর্ষক এক পত্রের জবাব
জনাব! আপনি এযুগে কুরআনে নম্বর খুঁজছেন। অথচ মানুষ মহাশূন্যের বক্ষ ভেদ করে চাঁদে জ্ঞানের উন্নতির পতাকা উড্ডিন করে এসেছে। আর আপনি কুরআনের পতাকা বাহী হয়ে না রাজনৈতিক দিক থেকে সুস্থ আছেন, না অর্থনৈতিক দিক থেকে সুখে শান্তিতে স্বচ্ছল জীবন যাপন করছেন, না সত্ত্বাগত দিক থেকে উন্নতি লাভ করছেন, না আত্মরক্ষার দিক থেকে নিজে স্বয়ং সম্পূর্ণ হয়েছেন। না আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক দাবার গুটির চালে বিচক্ষণতা লাভের স্থলে অসহায় হয়ে অন্যের হাতের পুতুলে পরিণত হয়েছেন। আর পরস্পরে আপোষে মনের সুখে লড়াই করছেন। একে অন্যের রক্ত ঝরাচ্ছেন। আর বিভিন্ন স্থানে বোমার লক্ষ্যবস্তু পরিণত হচ্ছেন, কুরআনের অনুসারীরা বর্তমানে এমন এক গাড়ীতে পরিণত হয়েছে। যার চাকা নষ্ট হয়ে গেছে। তার ইঞ্জিন বলে দিয়েছে যে, এর পার্টস (দ্রুত) অকেজো হয়ে গেছে। কিছু বুদ্ধিমান আরোহী এ গাড়ী ত্যাগ করে চলে গেছে। কিছু লোক দুঃখিত ও ব্যথিত হয়ে আছে। আর কিছু সৌভাগ্যবানও রয়েছে। যারা এ নিয়ে কবিতার সুরে আশার আলো দেখাচ্ছে যে, এ বাস কখনো একাকী কোন অলৌকিক মুজিজা দেখাবে, এবং গাড়ী চলতে শুরু করবে। সামাজিক জীবনের এক অত্যাবশ্যক কর্তব্য হল, একতা। কিন্তু এ ঐক্য ও একতা মুসলিম বিশ্বের নেতাদের মধ্যে তো দূরের কথা, আপনি আপনার দেশের ধর্মীয় নেতাদের দিকে তাকিয়ে দেখুন, তাদের মধ্যে একতা আছে কি না।
? আরব বিশ্ব ইসরাইলের হাতে তিন তিন বার মার খাবার পরও প্রকৃত অর্থে ঐক্যবদ্ধ হতে পারেনি। ঠিক এমনই সংকটময় মুহূর্তে সিরিয়া, ইরাক-ইয়ামানের মধ্যে যা হচ্ছে, তা চোখের সামনে আছে। আপনি আরও দেখবেন, বহুস্থানে একদিকে প্রত্যেক ধর্মের অনুসারীরা বলছে, তারা সমাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। কিন্তু অন্য দলের মধ্যে অন্তদ্বন্ধও চলছে। সম্ভবতঃ আপনার স্মরণ না থাকার কথা, ১৯৫১ সালে ওলামাদের যে ঐক্য পরিলক্ষিত হয়েছে, তখনও দু'দলের অনুসারীরা স্ব স্ব দল নিয়ে পৃথক পৃথক জামাতে নামায আদায় করেছে। তবে আমি বলতে চাই, চাঁদে মানুষের পৌছার ফলে একদিকে তো চাঁদের সৌন্দর্যের যাদু লণ্ডবণ্ড হয়েছে। আমাদের কবি সাহিত্যিকদের পুঁজি ও ভাষা অলংকরণের রত্নভাণ্ডার ধ্বংস হয়ে গেছে। যেমন, আকবর এলাহাবাদী বলেছেন,
مغرب نے دوربین سے کمر انکی دیکه لی مشرق کی شاعری کا مزه کر کرا هوا !
"পাশ্চাত্য জগত দূরবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে তাদের কোমর পর্যন্ত দেখে নিয়েছে। প্রাচ্য জগতের কবি সাহিত্যিকদের কাব্য রচনার মজা বিলীন হয়ে গেছে।" অপরদিকে সত্য কথা হল, মযহাবের মাথাও ঝুকে পড়েছে। সামান্য অগ্রসর হয়ে অন্য এক জগতের জীবন যাপন ও বিশেষ করে বুদ্ধিমান জীবের অস্তিত্ব প্রকাশ হয়ে যাবে। তখন এ সন্দেহও দূর হয়ে যাবে যে, আমাদের এই কচি জমিনে সুরখাবের বিশেষ কোন পালক পড়েছে। যার কারণে সমস্ত বিশ্বজগতের জন্য রাহমাতুল্লিল আলামীন (সাঃ) এর মহান সত্ত্বাকে এর উপর প্রেরণ করা হয়েছে। আর বাকী সব সৃষ্টিজগত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। হযরত জিবরাঈল আ. কেও শুধু এ জগতের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে। আর আসমানী অহী ও এলহামের জন্যও এ জগতকে বিশেষভাবে নির্দিষ্ট করা হয়েছে। আপনি কুরআনের আলোকে নিছক এ কথাই বলুন যে, চাঁদে নামায আদায় করা হবে কিভাবে? সময়ের নিয়মানুবর্তীতা নির্ধারণ করা হবে কিভাবে? নামাযী কা'বা মুখী হবে কি উপায়ে? হজ্জ সমাপন করা হবে কিভাবে? আর খোদ বিমানের আরোহীরা নামাযের কি ব্যবস্থা করবে? শরী'আতের সববিধি-বিধানই তো এক দিকে বাঁকিয়ে রেখে দিয়েছেন। আপনি অথবা আপনার হযরত ওলামারা কুরআনের সূরা আর-রাহমানের প্রসিদ্ধ আয়াত পাঠ করে বলবেন, মানুষ জমিন ছেড়ে মহাশূন্যে কখনো পৌঁছতে পারবে না। কিন্তু এ ঘটনা সংঘটিত হয়ে গেছে। এখন কি হবে? এখন আপনি দেখবেন ঐ ওলামারা দু'দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এক দল যারা বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে কিছুটা অবগত। তারা নতুন ব্যাখ্যা দিয়ে বলছেন এর থেকে বের হওয়া যেতে পারে। তবে শর্ত হল বাদশাহী লাভ করা। কিন্তু ঐ দ্বিতীয় দল অতীতে রয়ে গেছে। তারা নিজের একঘুয়েমীতে অনড়। তারা বলে, চাঁদে পৌঁছার সব খবর মিথ্যা। এমন ছবি বানানো হয়েছে। আর টেলিভিশনে তা ফলাও করে প্রচার করা হচ্ছে। এ সবই এক মিথ্য বানওয়াট কিচ্ছা কাহিনী। একটু পর্যালোচনা করে দেখুন। এরা হল, আপনাদের প্রতিষ্ঠিত ওলামায়ে কিরাম, আর শরীয়াতের সুদৃঢ় ব্যাখ্যাকারী।
পশ্চাৎবর্তী দলের কথা ছেড়ে দিন। আমি অগ্রবর্তী দলের মধ্যে সবচেয়ে বেশী উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্বের অধিকারী ব্যক্তি উজির সাহেবের ধ্যান-ধারনা ভালোভাবে প্রত্যক্ষ করেছি। তার অধ্যাবসায়ের সারমর্ম হল, পৃথিবীতে যা কিছু হচ্ছে, তা নিছক কাঙ্খিত দ্বীন। আর তা কুরআন উপযোগী। তারা কুরআনকে পরিবর্তনশীল বিজ্ঞানের মতবাদের সাথে এমনভাবে যুশোপযোগী ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করেছে। আর যেভাবে উপরে আরোহনের মতবাদ থেকে শুরু করে সমাজতান্ত্রিক দর্শন পর্যন্ত প্রতিটি বিষয়কে কুরআনের মাধ্যমে উপস্থাপন করেছে।
তা দেখে সত্যই আমার গর্ব হয় যে, এ ভাবে হাত কান ধরা থেকে হাজার গুন আমাদের মতো জ্ঞানপাপীদের থেকে উত্তম, যারা জ্ঞানের প্রশস্ততাকে সমর্থন করে এ যথার্থতা গ্রহণ করেছেন যে, ওহী ও এলহামের ব্যাপার যতদূর চলে চলবে। অতীত যুগে যখন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি অপ্রর্যাপ্ত ও পরাধীন ছিল। তখন যেভাবে ছিল সেভাবে চলেছে। এখন মুক্তবুদ্ধির যুগ। আমরা সরল-সোজা ভাবে ঈমান এনেছি। তখন আমাদেরকে এত গোলক ধাঁধার চক্করে পড়া হয়নি। ঈমান আনার পূর্বে নিত্যনতুন দর্শন ও বৈজ্ঞানিক মতবাদের মুকাবিলা করতে হয়নি। তারপর কুরআন মজীদে এর সমর্থনে আয়াত খোঁজ করতে হয়নি। তারপরও যদি কাজ না হয় তাহলে কুরআন মজীদের শব্দাবলীর নতুন অর্থ বের করতেও হয়নি। যদি ডারউইন, নিউটন, ফ্রয়েড ও মার্কসের অভিমত চিন্তা-ভাবনা করে পছন্দ করতেছি যে, তার পর এর কি প্রয়োজন রয়েছে আমাদের কে তাদের অভিমতের সাথে কুরআনকে মিলিয়ে দেখতে হবে। আমাদের কাজ তো হল কুরআনকে চুমু দিয়ে সুন্দর করে তাকের উপর রেখে দেওয়া।
অনুরূপভাবে আমরা ঐ মনীষীদের সুদৃঢ় সাহসিকতার প্রতিদান দিচ্ছি যে, এই যুগেও আপনারা খোদার উপর ঈমান আনার ব্যাপারে সুদৃঢ় আছেন। তাই বিখ্যাত কবি গালিব বলেছেন-
وفاداری بشرط استواری اصل ایمان ہے
দৃঢ়তার সাথে প্রতিজ্ঞাপূর্ণ করাই আসল ঈমান।
আমাদের সমস্যার সমাধান হচ্ছে, এ পরিবর্তনশীল পৃথিবী ও পরিবর্তনশীল বাহ্যিক জ্ঞানের মাঝে আবর্তিত হওয়ার পর আমরা সূচনা থেকে প্রতিজ্ঞার বুনিয়াদকে আবৃত করে দিয়েছি।
📄 আলমাস খান, চার সদাহ
ভাই আপনার পত্র অতি চিত্তাকর্ষক ও চমৎকার। পত্রের ব্যাপারে কি আর বলব। অধিকন্তু যেসব কথা আপনার মনে জাগে, তাকে কি ভাবে এদিক সেদিক না করে শূন্য গর্ত বলে দেব। বেস। আপনি এক দুর্বলতা দেখিয়েছেন যে, আপনার নিজের নাম প্রকাশ করতে চাননি। ঠিক আছে। মনে হয় এর যুক্তিসংগত কোন কারণ রয়েছে। আমি আপনার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোন কাজ করব না। মোটকথা, আমি স্বানন্দে আপনাকে আলমাস বানিয়ে দিয়েছি।