📄 পুরানো কথার আধুনিক ব্যাখ্যা
এর উদাহরণ পেশ করতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেছেন, পৃথিবীর কোন কোন অংশে সীসা জাতীয় বস্তু পাওয়া যাচ্ছে। যাকে Tektites বলা হয়। এ সম্পর্কে এ পর্যন্ত গৃহীত মতবাদ ব্যাপক স্বীকৃতি লাভ করতে পারেনি। আর Tektites এর অস্তিত্ব আজ পর্যন্ত ধাঁধাঁয় পরিণত হয়ে আছে। অধিকন্তু জড় পূজারী ও জ্ঞান-পাপী সমাজের বিজ্ঞানীশা পুরাতন ধর্মীয় উপাখ্যানের উপর গুরুত্বারোপ করে বলছে যে, আমরা অনেক পুরাতন কাহিনী জানতে সক্ষম হয়েছি। যার মাধ্যমে আমরা মানুষের নভোমণ্ডলে আরোহন ও নভোমণ্ডলের লোকদের জমিনে অবতরণের খবর পেয়েছি। অনুরুপ ভাবে বাইবেলের সবচেয়ে পুরাতন লেখা থেকে আমরা জানতে পেরেছি যে, আদিম যুগে পৃথিবীতে দেও-দানবের বাস ছিল। অনুরূপ আরো এক উদাহরণ সম্পর্কে আলোচনা করতে নিয়ে রুশ মনোবিজ্ঞানীশা বলেন, আদিম যুগের মানুষ এরূপ অসংখ্য বিষয় জানত যা আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানে পূর্ববর্তী একশ বছরের মধ্যে আবিষ্কৃত আধুনিক যন্ত্রপাতির দ্বারা প্রমাণ করা যায়। তন্মধ্যে বৃহস্পতি গ্রহের চার পাশে চন্দ্রের ঘূর্ণয়ন এক উল্লেখযোগ্য বিষয়। এ ধারণাও আমরা আধুনিক বিজ্ঞানের গবেষণার পূর্ববর্তী বর্ণনার মাধ্যমে লাভ করেছি। বিজ্ঞানের এ আবিষ্কারও ১৮৭৭ খ্রিঃ Asaph Hall করেছেন। মূলতঃ ফ্রান্সের জ্যোতির্বিজ্ঞানী ব্যালে এ বর্ণনাকে মূলভিত্তি ঘোষণা করে বসেছেন যে, আদিম যুগে এমন জাতি ছিল, যারা জ্যোতিবিজ্ঞান সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ জ্ঞানের অধিকারী ছিল। ঐ জাতি এখন বিলুপ্ত প্রায় হয়ে গেছে। প্রখ্যাত জার্মান জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও গণিতবিদ ক্যল শাস ১৮১৯ খ্রিঃ তার বক্তব্যে তিনি জ্যেতির্বিজ্ঞানের মতবাদ উল্লেখ করেছেন।
📄 জঘন্য গোলক ধাঁধাঁ
বিরাট আকারের প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে পাওয়া যাচ্ছে। তা মানুষের জ্ঞানের জন্য শোলক ধাঁধাঁ হয়ে আছে। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, বা'লাবাক্কা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত প্রসিদ্ধ ঐতিহাসিক মন্দিরের কথা। মন্দিরটি বিরাট পাথর দ্বারা প্রস্তুত করা হয়েছিল। তাতে ব্যবহৃত পাথরগুলোর কোন কোনটি বিশ মিটার (১৭ ফিট) লম্বা। ওজন প্রায় এক হাজার টন। এ ভারী পাথর খনি থেকে কাটা হয়েছে। আর জমিন থেকে সাত মিটার প্রায় পঁচিশ ফিট উপরে উত্তোলন করা হয়েছে। অথচ আধুনিক বিজ্ঞানের যুগে বিজ্ঞানীদের আবিষ্কৃত শক্তিশালী যন্ত্রপাতির সাহায্যেও এরূপ কাজ করা কঠিন। এরূপ এক বিরাট পাথর ২১ মিটার (৭৪ ফিট) লম্বা, আর ৪৮ মিটার (১৬ ফিট) আর ৪২ মিটার (১৪ ফিট) উঁচু ছিল। এ পাথর তো কাটা হয়েছে। কিন্তু কেটে প্রান্তর থেকে সম্পূর্ণ রূপে পৃথক করা হয়নি।
অবস্থা দৃষ্টে মনে হয়, যেসব মানুষ এটাকে কেটেছে, তারা ওটাকে এ ভাবে রেখে পাহাড় থেকে চলে গেছে। রুশ বিচারকশা মনে করেন, ৪০ হাজার লোক মিলে অনেক কষ্টে ওটাকে স্বস্থান থেকে সরিয়ে দিয়েছে বলা যায়। এখন প্রশ্ন উঠতে পারে যে, ঐ জ্বিনদের এলাকার পাথরকে কেটেছে? কখন কি উদ্দেশ্যে এ কাজ করা হয়েছে? এটা এক সমাধান যোগ্য ধাঁধাঁ। আজ এমন অনেক অপ্রত্যাখ্যাত মনগড়া কথা বুঝা যায়, যা সত্য বলে প্রমাণ হচ্ছে। তারপরও এটাকে অস্বীকার করা হচ্ছে যে, সাংস্কৃতিক উন্নতি আমাদেরকে বারবার স্বীয় ঐতিহাসিক ধ্যান-ধারনার উপর পুনরায় দৃষ্টি নিবন্ধ করতে বাধ্য করছে। এ কারণে ঐ সব ধাঁধাঁ ও অন্যান্য ধাঁধাঁর উপর আমাদের চূড়ান্ত মতবাদের আলোকে পুনরায় দৃষ্টি নিবন্ধ করার প্রয়োজন রয়েছে যে, এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার জন্য নিত্য নতুন পন্থায় গবেষণা করা জরুরী। তাহলে এসব বড় বড় অট্টালিকা তৈরি করেছ?
📄 চল্লিশ ফিট লম্বা মানুষ
উক্ত আলোচনা ঝেড়ে ফেলে দিয়ে রুশ মনোবিজ্ঞানীশা এ মতবাদ প্রকাশ করেছেন যে, বিরাট বিরাট পাথর ঐ সব লোকেরা কর্তন করেছে, যারা কোন এক সময় বৃহস্পতি গ্রহ থেকে পৃথিবীতে এসেছে। তারা পৃথিবীতে কিছু সময় অবস্থান করে বিস্ময়কর কাজ করেছে। সৌভাগ্যক্রমে বিজ্ঞানীরা উক্ত গুহার এক তৈল চিত্র পেয়ে যায়। গ্রন্থকারের অভিমতে খোলা বাহুর উপর পোশাক পরিহিত ব্যক্তি সাদৃশ এবং ছয় মিটার (২০ ফিট) লম্বা। যেহেতু ছবির উপরের অংশ মানুষের আকৃতি ছিল। এ কারণে অনুমান করা হয়েছে যে, ঐ সব লোকদের দৈহিক আকৃতি আনুমানিক ৪০ ফিট লম্বা ছিল।
📄 কুরআনের আলোকে এক মনস্তাত্ত্বিক পরামর্শ
মহান আল্লাহ তা'আলা অসংখ্য নিয়ামত সমূহের সাথে আমি অধম লেখককে আন্তরিক অনুভূতিও দান করেছেন। আপনার বৃত্তান্ত পড়ে প্রথমতঃ আমার ভেতর কঠিন দুঃখ-যাতনার উপলব্ধি হয়েছে। আর আপনার প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করাই ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু অনুভূতি ও কল্পনার জগত থেকে আমি যখন বাস্তবতায় প্রবেশ করি এবং সামান্য চিন্তা-ভাবনা করার সুযোগ লাভ করি, তখন এরূপ অনেক বিষয় সামনে আসে যে, আপনার সহমর্মিতায় সেগুলো বলা অত্যাবশ্যক মনে হয়।
মূলতঃ খোদ আপনার বক্তব্যও শুধু বৃত্তান্ত ও অনুভূতি পর্যন্ত সীমাবদ্ধ ছিল না বরং তাতে আপনার আকীদা-বিশ্বাস এবং দৃষ্টিভঙ্গিরও বহিঃপ্রকাশ ঘটে। এর মাঝে ও মত দ্বৈততা রয়েছে। আপনার দুঃখ অনুভূতির সাথে যদি জীবন সম্পর্কে এ সব প্রতিচ্ছবি অন্তর্ভূক্ত থাকে, তাহলে আপনার পক্ষে ধৈর্য্য ধারণ করা কঠিন হবে। আর এক প্রকার দুঃখ-কষ্ট ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকবে। এ কারণে আপনার দুঃখ অদৃশ্য এক অংশীদার হয়ে শুধু এক ভাই হিসেবে বাস্তবতার একাধিক দিক আপনার সামনে পেশ করতে চাই। এ সম্পর্কে আপনি উদার মনে চিন্তা-ভাবনা করলে আল্লাহর ইচ্ছায় ধৈর্য্য ও সন্তুষ্টি লাভের স্থান পেয়ে যাবেন। আর যে অবস্থায় জীবন কাটবে ঐ অবস্থায় দৃঢ়তা ও সাহসিকতার সাথে জীবন যাপন করতে পারবেন।
অবশ্য নিশ্চিত মহান আল্লাহ তা'আলার কোন কাজ হিকমত ও ইনসাফ শূন্য হয় না। তাছাড়া আপনার উপর আপতিত দুঃখকষ্ট বিপদ আপদ কঠোরতা ও বে-ইনসাফী এ সবের জন্য স্বয়ং আমরাই দায়ী। ব্যক্তিগতভাবেও সামাজিক ভাবেও। কিন্তু কষ্টের আতিশয্যে আপনি কয়েকটি প্রশ্নবাক্য লিখেছেন। যেমন, মরহুম জীবন সঙ্গী বড় নেককার ছিলেন। তদুপরি কেন তিনি জীবন হারালেন? (পরোক্ষভাবে আরও লিখলেন, এক নগন্য টেক্সী চালক কেন দিব্যি বেচে গেল?)
বাক্যের অন্তরালে আল্লাহর বিরুদ্ধে নিছক একটি প্রশ্নই নয় বরং অসংখ্য প্রশ্ন উহ্য রয়েছে। তাই আমি বলতে চাই যে, মানুষের জীবন ধারা এ পৃথিবীতেই সীমাবদ্ধ নয়। এখানে চাওয়া-পাওয়াও পূর্ণ হয়না। জীবনের ডায়েরী দু'ভাগে বিভক্ত। প্রথম অংশ দেখুন যা দুঃখ কষ্টভরা ব্যাথা ও ট্রাজেটিতে শেষ হয়ে যায়। আর দ্বিতীয় অংশতো দেখার সুযোগই নাই, ধারণাও করা যায় না। তাই যেন এক অসমাপ্ত দাস্তান নিয়ে আপনি মনে মনে এক সিদ্ধান্ত করে ফেলেন যে, এ ঘটনা এরূপ হলকেন? এখনো তো ঐ ঘটনার বড় বড় মজবুত ছায়ানীড় বাকী রয়েছে।
যদি শুধু এ দুনিয়ার প্রতি তাকিয়ে দেখতে চান, তাহলে হযরত যাকারিয়া ও হযরত ঈসা আ. এর অবস্থার প্রতি তাকিয়ে দেখুন, ঐ সম্মানিত সত্তাদের সাথে কিরূপ আচরণ করা হয়েছে?
হযরত আম্মার বিন ইয়াসীর রাযি. এর পরিবারের সদস্যদের প্রতি তাকিয়ে দেখুন। বিশেষ করে হযরত সুমাইয়া রাযি. এর সাথে কি ধরনের নিষ্ঠুর আচরণ করা হয়েছে? হযরত খাব্বাব রাযি. এর উপর কি রূপ অমানুসিক সময় অতিবাহিত হয়েছে? ইরানের গভর্নর ফারাহকে ঈমান আনার জন্য কি মূল্য দিতে হয়েছে? সত্তরজন কুরআনে হাফেযের শাহাদাতকে দেখুন। কিভাবে তাদেরকে সঠতা ও ছলনার মাধ্যমে শহীদ করে দেওয়া হয়েছে। তাদের সাথে এরূপ নিষ্ঠুর অমানবিক আচরণ করা হল কেন? হযরত হামযা রাযি. লাশ বিকৃত করে দেওয়া হয়েছে। হযরত ইমাম হুসাইন রাযি. এর পরিবরবর্গের সাথে এ ধরনের জঘন্য ব্যবহার করা হয়েছে কেন? হযরত ইউসুফ আ. ও হযরত মুসা আ. এর উপর যে অবস্থা অতিবাহিত হয়েছে। মোটকথা কোন অপরাধের কারণে এরূপ করা হয়েছে? মক্কার জমিনে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর চলার পথে কাঁটা বিছানো হত কেন? তায়েফে তাঁর উপর পাথর নিক্ষেপ করানো হল কেন? আর ওহুদের ময়দানে তাঁর পবিত্র দান্দান শহীদ হল কেন?
ঐতিহাসিক এ চিত্রের উপর সামান্য দৃষ্টিপাত করুন। আপনি দেখতে পাবেন যে, অসংখ্য মানুষ সত্য-ন্যায়ের জন্য কারাগারে জীবন পার করছে। বেত্রাঘাতের অসহনীয় যন্ত্রনায় ছটফট করছে। ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলানো হচ্ছে। তরবারী দ্বারা মস্তক দ্বি-খণ্ডিত করা হচ্ছে। আর অপর দিকে বর্বর অত্যাচারী নিষ্ঠুর, চরিত্রহীন লোকেরা ভোগবিলাসে মহাসুখে জীবন কাটাচ্ছে।
আপনার প্রিয় জীবন সাথী মরহুম স্বামীর কথা ছেড়ে উদার মনে চিন্তা-ভাবনা করুন। সত্য-ন্যায়ের অনুসারীরা কখনো চিন্তা করেননি যে, তারা দুনিয়া থেকে কি পেয়েছেন। তারা সর্বদা এ চিন্তা করেছেন যে, আমরা এ দুনিয়াকে কি দিয়েছি? আর এ কঠিন ধ্যান-ধারণায় তারা হাসি-খুশিতে চলাফেরা করে থাকলেও অবশ্যই এই দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে যে, আল্লাহ তা'আলার ইনসাফের সমাপ্তি এখনো বাকী আছে। অপর জরুরী বিষয় এখন আপনি চিন্তা-ভাবনা করুন যে, এ পৃথিবীকে এমনিতেই বানানো হয়নি, যেসব মানুষ সৎ হবে, তাদের ভালো কাজের বিনিময় শুধু তাদের জন্য নির্দিষ্ট হবে। অন্যদের তাতে কোন অংশ থাকবে না। আর না এটা সঠিক হবে যে, খারাপ লোকের অন্যায়ের প্রতিফল শুধু তাদের উপর আবর্তিত হবে। অন্যদের উপর তাদের অন্যায়ের কোন প্রতিফল হবে না। বিশেষ করে নেককার লোকদেরকে সকল বদকার লোকদের সকল প্রকার পাপাচার থেকে রক্ষার উদ্দেশ্যে ফিরিশতা নিয়োজিত রাখা হয়েছে। আর এর বিপরীতে নেককার লোকদের নেকীর দ্বারা খারাপ লোককে উপকৃত হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। আমাদের জীবন সামাজিক জীবন। সামাজিক পরিবেশ যখন খারাপ লোকে ভরে যায়। আর সামাজিক জমিনে খারাপের কাঁটা জন্মাতে শুরু করে। তখন ঐ কাঁটার আঘাত হাতে গোনা ঐ অল্প কয়েক জন লোককেও সহ্য করতে হবে। যারা নেকী ও ন্যায়ের ফুলচন্দন লাগাতে ব্যতিব্যস্ত। এ কারণে নেকী ও ন্যায়ের জীবনের এক নীতি গত দাবী হল, কোন লোক ব্যক্তিগত জীবনে সীমিত নেকীর উপর সন্তুষ্ট না হয়ে বরং পুরো সামাজিক পরিবেশেকে সুস্থ সুন্দর মনোরম বানানোর চেষ্টা করা। অবস্থা যত খারাপ হোক। আর সেই খারাবী নির্মূলকারীর সংখ্যা যতই কম হোক, তাদের মাথায় সমাজ সংস্কার ও গঠনের জিম্মাদারী তত বেশী হবে। আমার কথা হল, সমাজিক জীবনে আমরা একে অপরের কৃতকর্মের অংশীদার হয়ে থাকি। হাবিব সাহেব, টেক্সির মালিক, আর সাইকেলের মালিক সবাই পরস্পর প্রভাব বিস্তার করে এবং প্রভাবিত হয়। ভালো-মন্দ যা হোক।
তদুপরি সারা পৃথিবীতে সংঘটিত ঘটনা আপনার বিরুদ্ধে গেছে। কিন্তু এখানেও এক দুর্বলতা রয়েছে। প্রবৃত্তির ঝামেলা এতে বেশী যে, মানুষ ঘটনার যে কোন বাহ্যিক দিক সম্পর্কে তাৎক্ষণিক কোন বর্ণনা ও ব্যাখ্যায় প্রভাবান্বিত হয়ে যায়, তখন এক ন্যায় পরায়ণ ব্যক্তির অভিমতের যথার্থতা নিরুপন করে না। অপর দিকে এ পৃথিবীতে এক সাধারণ প্রতিক্রিয়া রয়েছে, যা প্রত্যেক মানুষকে দৃষ্টিহীন করে দিয়েছে। সাইকেলের মালিকের মোকাবিলায় টেক্সির মালিক, আর টেক্সির মালিকের মোকাবিলায় উন্নত মানের প্রাইভেট কারের মালিক জনতার আদালতে যেন পূর্ব ঘোষিত অপরাধী। সাথে সাথে আপনি এই বাস্তবতাকেও ভুলবেন যে, সরকারী কর্মকর্তাদের ব্যাপারে তাদের অভিমতের কারণে এক বিশেষ ধরনের অনুভূতি সাধারণ মানুষের মধ্যে বিস্তার লাভ করেছে। যখনই তারা সুযোগ পেয়ে যায়, তখনই এক অনাকাঙ্খিত প্রতিশোধের শিকার হয়ে যায়।
মোটকথা, এ সব বিষয়ও সমাজের ঐ অসংখ্য অন্যায়ের মধ্যে শামিল হয়, যা যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। যার মূল অনেক গভীরে। এর পরিবর্তনের জন্য কঠিন শ্রম সাধনার প্রয়োজন। এর হক আদায়কারী লোকের সংখ্যা খুবই কম। যে কোন ব্যক্তি নিজের ঘর, নিজের সুখ-শান্তি ও ব্যক্তিগত সমস্যায় জর্জরিত।
সর্বশেষে আবেদন হল, আমাদের জীবনে সংঘটিত ঘটনাবলীর আদলে আল্লাহ তা'আলা সম্পর্কে উল্টা সিধা কথা বলার ফ্যাসানে কোন কোন বে-দ্বীনি বা সন্দেহজনক উপাদানের সূচনা দেখা দিয়েছে, তা এখন এতো শক্তিশালী হয়েছে যে, আল্লাহ তা'আলায় বিশ্বাসী ও তাঁর আদলের উপর ভরসাকারী ব্যক্তি ও অনুরূপ উক্তি করছে। পক্ষান্তরে এ সব কথা ঈমানের জন্য ভীষণ ক্ষতিকর প্রমাণ হয়েছে। যা আপনাকে ধীরে ধীরে গ্রাস করে নিচ্ছে। আর আপনার রূহকে আল্লাহ তা'আলার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয় থেকে সরিয়ে এমন স্থানে পৌছে দেবে, যেখানে আপনি হযরত ইয়াকুব আ. কে তার প্রিয়তম পুত্র থেকে বাহ্যিক দৃষ্টিতে বঞ্চিত হয়েছে বলে মনে করবেন। ঠিক আছে শান্তিময় ধৈর্য্য ধারণ শব্দের পুনরাবৃত্তি করা সহজ। কিন্তু ঐ শব্দ সমূহ অন্তরে সহনীয় করে নেওয়া খুবই কঠিন হবে।"
অবশ্য এ কঠিন কাজেও মানুষ অনেক বার সফলতা দেখিয়েছে। আপনি বলবেন, কোথায় পয়গম্বরগণের কথা। আর আমরা কোথায়। আপনি যা-ই বলুন না কেন, বস্তুতঃ পয়গম্বরগণের ঐ সব বর্ণনা এ জন্য রেকর্ড করা হয়েছে, যাতে আমরা ঐ নমুনা দেখে উপদেশ গ্রহণ করতে পারি। আল্লাহ আপনার সাহায্য সহায়তা কারী হোন। আর আপনার বিদায় হয়ে যাওয়া বন্ধুর প্রতি দয়া ও অনুগ্রহ করুন।