📄 হযরত আম্বিয়ায়ে কিরাম সম্পর্কে সাক্ষ্য দান
মাত্র কিছু দিন পূর্বেও বিশেষজ্ঞ ঐতিহাসিকরা হযরত ইবরাহীম ও হযরত ইউসুফ আ. প্রমুখ পয়গম্বরগণের ঘটনাবলীকে নিতান্ত গালগল্প বলে অভিহিত করে বলত, তাদের ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে ঐতিহাসিক কোন প্রমাণ নেই। কিন্তু বর্তমান যুগের প্রত্নতত্ত্ব খননের দ্বারা প্রমাণ হয়েছে যে, তারা সকলে আল্লাহ তা'আলার প্রেরিত পয়গাম্বর ছিলেন। আর ঐ সুমহান মর্যাদার অধিকারী পয়গম্বররা দ্বীন প্রচারে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছেন। হযরত ইবরাহীম আ. এক আন্তর্জাতিক খ্যাতনামা পয়গম্বর ছিলেন। তিনি এশিয়া ও আফ্রিকার বিরাট এলাকা দ্বীন প্রচারের উদ্দেশ্যে একাধিক বার ভ্রমণ করেছেন। আমেরিকার লাইফ নামক পুস্তিকা এপ্রিল ১৯৬৫ খ্রিঃ সংখ্যায় ব্যাবিলনের কথা উল্লেখ করেছে। যথারীতি প্রমাণ হয়েছে যে, হযরত ইব্রাহীম আ. এর এ সফরের মাঝে বাণিজ্য বা পার্থিব কোন উদ্দেশ্য ছিল না বরং তিনি শুধু দ্বীন প্রচারের উদ্দেশ্যে এ সব সফর করেছেন।
বর্তমান যুগে স্বয়ং বাইবেলের ধ্বজাধারীরা বাইবেলের অনেক বর্ণনাকে অসমর্থিত ও ত্রুটিপূর্ণ বলে অভিমত প্রকাশ করেছে। যেমন, বাইবেলে লিখিত আছে, হযরত ইবরাহীম আ. স্বীয় প্রাণ রক্ষার্থে নিজ স্ত্রীকে বোন বলে সম্বোধন করেছেন। কিন্তু বর্তমানে তাঁর গোত্রের সামাজিক রীতি নীতি সম্বলিত প্রত্নতত্ন খনন করার পর যে সমস্ত পাত হস্তগত হয়েছে। সেগুলোর দ্বারা প্রমাণ হয়েছে যে, তাঁর গোত্রে প্রচলিত রীতি ছিল, যখন কোন সম্মানীত ব্যক্তি বৃদ্ধ হয়ে যেত। তখন তিনি স্ত্রীকে বোন উপাধীতে ভূষিত করতেন। আর তিনি ঐ প্রচলিত বর্ণনাকে সম্মানের কারণ বলে উল্লেখ করেছেন। সুতরাং তিনি যখন মিশরে স্বীয় স্ত্রীকে বোন বলেছেন, তখন তাঁর উদ্দেশ্য প্রকৃত অর্থে বোন বলা নয়। আর তিনি প্রাণ বাঁচানোর উদ্দেশ্যে বোন বলেননি বরং তিনি শুধু মিশরবাসীদের সামনে স্বীয় বংশগত ঐতিহ্য ও মর্যাদাকে তুলে ধরেছেন। তিনি ছিলেন গোত্রের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু যখন হাজার হাজার বছর পর মানুষ বাইবেল লিখতে শুরু করে, তখন পূর্ববর্তী বর্ণনা সমূহ ও প্রচলিত রীতিনীতি বিলুপ্ত হয়ে পড়েছিলো। আর আইন কানুন ও পরিবর্তন হয়ে গিয়েছিল। সুতরাং হযরত ইবরাহীম আ. এর সম্পর্কে তাওরাতে যেসব বর্ণনার উল্লেখ করা হয়েছে, তারা এর কল্পনা প্রসূত এক ভ্রান্ত ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করে লাইফ নামক পুস্তিকার বিশেষ সংখ্যায় প্রকাশ করে। ঐ ঘটনা ছাড়াও হযরত ইয়াকুব আ. সম্পর্কে বাইবেলের ঐ বর্ণনাকেও ভ্রান্ত বলে উল্লেখ করেছে যে, তিনি (নাউজুবিল্লাহ) স্বীয় পিতাকে ধোঁকা দিয়ে নবুওয়াত লাভ করেনী। আর আধুনিক গবেষণায় লব্ধ প্রমাণ একত্রিত করে তাঁকে ও তাঁর মাতাকে প্রতারণার অভিযোগ মুক্ত বলে প্রমাণ করা হয়েছে। যা বাইবেলের বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
📄 জনৈক রুশ বিজ্ঞানীর গবেষণা
প্রাশ্চাত্যের বিজ্ঞানীদের প্রকাশিত অভিমত সমূহ ও তাদের সম্পর্কিত বানানো মূলভিত্তির দ্বারা এতো বেশী বিস্মিত হয় নি, আধুনিক রুশ বিজ্ঞানীদের গবেষণায় যত আশ্চার্যান্বিত হয়েছি। বর্তমানে রুশ বিজ্ঞানীরাও আল্লাহ ও বাইবেল সম্পর্কে অভিমত প্রকাশ করতে শুরু করেছে। এর ধারাবাহিকতায় প্রোগেসিব পাবলিশার্স মাক্স কর্তৃক প্রকাশিত এ গ্রন্থ সর্বজন সমাদৃত হয়েছে। উক্ত গ্রন্থের নাম হল "যাদুর বহিঃপ্রকাশ" (On the Track of Discovery)। উক্ত গ্রন্থে রুশ মনোবিজ্ঞানী মিস্টার আগরিষ্ট উল্লেখ করেছেন, ভূগর্ভে অসংখ্য অপ্রত্যাখ্যান যোগ্য বিস্ময়কর সমস্যার সমাধান রয়েছে। বিজ্ঞানের উন্নতির সাথে সাথে এর সংখ্যাও ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি লাভ করছে।
📄 পুরানো কথার আধুনিক ব্যাখ্যা
এর উদাহরণ পেশ করতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেছেন, পৃথিবীর কোন কোন অংশে সীসা জাতীয় বস্তু পাওয়া যাচ্ছে। যাকে Tektites বলা হয়। এ সম্পর্কে এ পর্যন্ত গৃহীত মতবাদ ব্যাপক স্বীকৃতি লাভ করতে পারেনি। আর Tektites এর অস্তিত্ব আজ পর্যন্ত ধাঁধাঁয় পরিণত হয়ে আছে। অধিকন্তু জড় পূজারী ও জ্ঞান-পাপী সমাজের বিজ্ঞানীশা পুরাতন ধর্মীয় উপাখ্যানের উপর গুরুত্বারোপ করে বলছে যে, আমরা অনেক পুরাতন কাহিনী জানতে সক্ষম হয়েছি। যার মাধ্যমে আমরা মানুষের নভোমণ্ডলে আরোহন ও নভোমণ্ডলের লোকদের জমিনে অবতরণের খবর পেয়েছি। অনুরুপ ভাবে বাইবেলের সবচেয়ে পুরাতন লেখা থেকে আমরা জানতে পেরেছি যে, আদিম যুগে পৃথিবীতে দেও-দানবের বাস ছিল। অনুরূপ আরো এক উদাহরণ সম্পর্কে আলোচনা করতে নিয়ে রুশ মনোবিজ্ঞানীশা বলেন, আদিম যুগের মানুষ এরূপ অসংখ্য বিষয় জানত যা আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানে পূর্ববর্তী একশ বছরের মধ্যে আবিষ্কৃত আধুনিক যন্ত্রপাতির দ্বারা প্রমাণ করা যায়। তন্মধ্যে বৃহস্পতি গ্রহের চার পাশে চন্দ্রের ঘূর্ণয়ন এক উল্লেখযোগ্য বিষয়। এ ধারণাও আমরা আধুনিক বিজ্ঞানের গবেষণার পূর্ববর্তী বর্ণনার মাধ্যমে লাভ করেছি। বিজ্ঞানের এ আবিষ্কারও ১৮৭৭ খ্রিঃ Asaph Hall করেছেন। মূলতঃ ফ্রান্সের জ্যোতির্বিজ্ঞানী ব্যালে এ বর্ণনাকে মূলভিত্তি ঘোষণা করে বসেছেন যে, আদিম যুগে এমন জাতি ছিল, যারা জ্যোতিবিজ্ঞান সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ জ্ঞানের অধিকারী ছিল। ঐ জাতি এখন বিলুপ্ত প্রায় হয়ে গেছে। প্রখ্যাত জার্মান জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও গণিতবিদ ক্যল শাস ১৮১৯ খ্রিঃ তার বক্তব্যে তিনি জ্যেতির্বিজ্ঞানের মতবাদ উল্লেখ করেছেন।
📄 জঘন্য গোলক ধাঁধাঁ
বিরাট আকারের প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে পাওয়া যাচ্ছে। তা মানুষের জ্ঞানের জন্য শোলক ধাঁধাঁ হয়ে আছে। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, বা'লাবাক্কা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত প্রসিদ্ধ ঐতিহাসিক মন্দিরের কথা। মন্দিরটি বিরাট পাথর দ্বারা প্রস্তুত করা হয়েছিল। তাতে ব্যবহৃত পাথরগুলোর কোন কোনটি বিশ মিটার (১৭ ফিট) লম্বা। ওজন প্রায় এক হাজার টন। এ ভারী পাথর খনি থেকে কাটা হয়েছে। আর জমিন থেকে সাত মিটার প্রায় পঁচিশ ফিট উপরে উত্তোলন করা হয়েছে। অথচ আধুনিক বিজ্ঞানের যুগে বিজ্ঞানীদের আবিষ্কৃত শক্তিশালী যন্ত্রপাতির সাহায্যেও এরূপ কাজ করা কঠিন। এরূপ এক বিরাট পাথর ২১ মিটার (৭৪ ফিট) লম্বা, আর ৪৮ মিটার (১৬ ফিট) আর ৪২ মিটার (১৪ ফিট) উঁচু ছিল। এ পাথর তো কাটা হয়েছে। কিন্তু কেটে প্রান্তর থেকে সম্পূর্ণ রূপে পৃথক করা হয়নি।
অবস্থা দৃষ্টে মনে হয়, যেসব মানুষ এটাকে কেটেছে, তারা ওটাকে এ ভাবে রেখে পাহাড় থেকে চলে গেছে। রুশ বিচারকশা মনে করেন, ৪০ হাজার লোক মিলে অনেক কষ্টে ওটাকে স্বস্থান থেকে সরিয়ে দিয়েছে বলা যায়। এখন প্রশ্ন উঠতে পারে যে, ঐ জ্বিনদের এলাকার পাথরকে কেটেছে? কখন কি উদ্দেশ্যে এ কাজ করা হয়েছে? এটা এক সমাধান যোগ্য ধাঁধাঁ। আজ এমন অনেক অপ্রত্যাখ্যাত মনগড়া কথা বুঝা যায়, যা সত্য বলে প্রমাণ হচ্ছে। তারপরও এটাকে অস্বীকার করা হচ্ছে যে, সাংস্কৃতিক উন্নতি আমাদেরকে বারবার স্বীয় ঐতিহাসিক ধ্যান-ধারনার উপর পুনরায় দৃষ্টি নিবন্ধ করতে বাধ্য করছে। এ কারণে ঐ সব ধাঁধাঁ ও অন্যান্য ধাঁধাঁর উপর আমাদের চূড়ান্ত মতবাদের আলোকে পুনরায় দৃষ্টি নিবন্ধ করার প্রয়োজন রয়েছে যে, এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার জন্য নিত্য নতুন পন্থায় গবেষণা করা জরুরী। তাহলে এসব বড় বড় অট্টালিকা তৈরি করেছ?