📄 অতি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষুদ্র এক প্রতিবেদন
সাধারণতঃ গ্রীকদেরকে বিজ্ঞানের জনক মনে করা হয়। কিন্তু আধুনিক প্রত্নতত্ত্বে প্রমাণ হয়েছে যে, এ অভিমত সঠিক নয়। ব্যাবিলন ও তার আশ পাশের (যেখানে হযরত ইবরাহীম আ. এর ভূমিষ্ঠ হয়েছেন।) লোকজনের প্রসিদ্ধ সৃজিত প্রশ্ন (Euclid) কে সতেরশ' বছর পূর্বে থেকে জ্ঞাত ছিল। তাদের তৈরী খোদাই কৃত মাটির পাত্রে যে সব পুরাকৃর্তি হস্তগত হয়েছে, তাতে এ বিষয় অপ্রত্যাখ্যান যোগ্য প্রমাণ হয়েছে।
📄 প্রাচীন সেচ ব্যবস্থা
আমাদের পয়গম্বরগণের পবিত্র জন্মভূমির মধ্যে প্রসিদ্ধ শহর বাগদাদের নিকটবর্তী স্থানে খনন করার পর বিদ্যুতের স্রোতধারা আবিষ্কৃত হয়েছে। যার অবস্থা সম্পর্কে জর্জ গিমুই প্রসিদ্ধ এটোমিক বিজ্ঞানী লিখেছেন, বিদ্যুতের স্রোতধারাকে ঐ সময় অলংকারের উপর স্বর্ণ পালিশ লাগানোর কাজে ব্যবহার করা হত। পরবর্তী সময় এ জ্ঞান পৃথিবী থেকে বিলীন হয়ে যায়। এর মাত্র কিছু দিন পূর্বে Dettore galvani তা পুনরায় উদ্ভাবন করেন।
📄 হযরত আম্বিয়ায়ে কিরাম সম্পর্কে সাক্ষ্য দান
মাত্র কিছু দিন পূর্বেও বিশেষজ্ঞ ঐতিহাসিকরা হযরত ইবরাহীম ও হযরত ইউসুফ আ. প্রমুখ পয়গম্বরগণের ঘটনাবলীকে নিতান্ত গালগল্প বলে অভিহিত করে বলত, তাদের ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে ঐতিহাসিক কোন প্রমাণ নেই। কিন্তু বর্তমান যুগের প্রত্নতত্ত্ব খননের দ্বারা প্রমাণ হয়েছে যে, তারা সকলে আল্লাহ তা'আলার প্রেরিত পয়গাম্বর ছিলেন। আর ঐ সুমহান মর্যাদার অধিকারী পয়গম্বররা দ্বীন প্রচারে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছেন। হযরত ইবরাহীম আ. এক আন্তর্জাতিক খ্যাতনামা পয়গম্বর ছিলেন। তিনি এশিয়া ও আফ্রিকার বিরাট এলাকা দ্বীন প্রচারের উদ্দেশ্যে একাধিক বার ভ্রমণ করেছেন। আমেরিকার লাইফ নামক পুস্তিকা এপ্রিল ১৯৬৫ খ্রিঃ সংখ্যায় ব্যাবিলনের কথা উল্লেখ করেছে। যথারীতি প্রমাণ হয়েছে যে, হযরত ইব্রাহীম আ. এর এ সফরের মাঝে বাণিজ্য বা পার্থিব কোন উদ্দেশ্য ছিল না বরং তিনি শুধু দ্বীন প্রচারের উদ্দেশ্যে এ সব সফর করেছেন।
বর্তমান যুগে স্বয়ং বাইবেলের ধ্বজাধারীরা বাইবেলের অনেক বর্ণনাকে অসমর্থিত ও ত্রুটিপূর্ণ বলে অভিমত প্রকাশ করেছে। যেমন, বাইবেলে লিখিত আছে, হযরত ইবরাহীম আ. স্বীয় প্রাণ রক্ষার্থে নিজ স্ত্রীকে বোন বলে সম্বোধন করেছেন। কিন্তু বর্তমানে তাঁর গোত্রের সামাজিক রীতি নীতি সম্বলিত প্রত্নতত্ন খনন করার পর যে সমস্ত পাত হস্তগত হয়েছে। সেগুলোর দ্বারা প্রমাণ হয়েছে যে, তাঁর গোত্রে প্রচলিত রীতি ছিল, যখন কোন সম্মানীত ব্যক্তি বৃদ্ধ হয়ে যেত। তখন তিনি স্ত্রীকে বোন উপাধীতে ভূষিত করতেন। আর তিনি ঐ প্রচলিত বর্ণনাকে সম্মানের কারণ বলে উল্লেখ করেছেন। সুতরাং তিনি যখন মিশরে স্বীয় স্ত্রীকে বোন বলেছেন, তখন তাঁর উদ্দেশ্য প্রকৃত অর্থে বোন বলা নয়। আর তিনি প্রাণ বাঁচানোর উদ্দেশ্যে বোন বলেননি বরং তিনি শুধু মিশরবাসীদের সামনে স্বীয় বংশগত ঐতিহ্য ও মর্যাদাকে তুলে ধরেছেন। তিনি ছিলেন গোত্রের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু যখন হাজার হাজার বছর পর মানুষ বাইবেল লিখতে শুরু করে, তখন পূর্ববর্তী বর্ণনা সমূহ ও প্রচলিত রীতিনীতি বিলুপ্ত হয়ে পড়েছিলো। আর আইন কানুন ও পরিবর্তন হয়ে গিয়েছিল। সুতরাং হযরত ইবরাহীম আ. এর সম্পর্কে তাওরাতে যেসব বর্ণনার উল্লেখ করা হয়েছে, তারা এর কল্পনা প্রসূত এক ভ্রান্ত ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করে লাইফ নামক পুস্তিকার বিশেষ সংখ্যায় প্রকাশ করে। ঐ ঘটনা ছাড়াও হযরত ইয়াকুব আ. সম্পর্কে বাইবেলের ঐ বর্ণনাকেও ভ্রান্ত বলে উল্লেখ করেছে যে, তিনি (নাউজুবিল্লাহ) স্বীয় পিতাকে ধোঁকা দিয়ে নবুওয়াত লাভ করেনী। আর আধুনিক গবেষণায় লব্ধ প্রমাণ একত্রিত করে তাঁকে ও তাঁর মাতাকে প্রতারণার অভিযোগ মুক্ত বলে প্রমাণ করা হয়েছে। যা বাইবেলের বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
📄 জনৈক রুশ বিজ্ঞানীর গবেষণা
প্রাশ্চাত্যের বিজ্ঞানীদের প্রকাশিত অভিমত সমূহ ও তাদের সম্পর্কিত বানানো মূলভিত্তির দ্বারা এতো বেশী বিস্মিত হয় নি, আধুনিক রুশ বিজ্ঞানীদের গবেষণায় যত আশ্চার্যান্বিত হয়েছি। বর্তমানে রুশ বিজ্ঞানীরাও আল্লাহ ও বাইবেল সম্পর্কে অভিমত প্রকাশ করতে শুরু করেছে। এর ধারাবাহিকতায় প্রোগেসিব পাবলিশার্স মাক্স কর্তৃক প্রকাশিত এ গ্রন্থ সর্বজন সমাদৃত হয়েছে। উক্ত গ্রন্থের নাম হল "যাদুর বহিঃপ্রকাশ" (On the Track of Discovery)। উক্ত গ্রন্থে রুশ মনোবিজ্ঞানী মিস্টার আগরিষ্ট উল্লেখ করেছেন, ভূগর্ভে অসংখ্য অপ্রত্যাখ্যান যোগ্য বিস্ময়কর সমস্যার সমাধান রয়েছে। বিজ্ঞানের উন্নতির সাথে সাথে এর সংখ্যাও ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি লাভ করছে।