📄 এক বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের ইসলামী আইনী উপকারীতা
কখনো কখনো কোন বিষয়ে মানবিক অজ্ঞতা বা প্রকৃত যথার্থতা সম্পর্কে মানুষের জ্ঞানের স্বল্পতার কারণেও ভুল ভ্রান্তি, মতবিরোধ দেখা দেয়। যেমন খমর বা নেশা জাতিয় দ্রব্যাদি সম্পর্কে হযরত ইমাম আবু ইউসুফ রহ. শুধু আংগুরের রস থেকে উৎপাদিত রসকে নেশা ধর্তব্য মনে করেন। অন্যান্য ইমামগণ এর সম্পূর্ণ বিপরীত অভিমত প্রকাশ করেছেন। এমন কি হযরত ইমাম মুহাম্মদ রহ. আংগুর ছাড়া ফল ও ফল জাতীয় দ্রব্যাদির রস থেকে উৎপাদিত শরাবকেও খমর বা নেশার অন্তর্ভূক্ত গণ্য করেছেন। অবশেষে আধুনিক বিজ্ঞান এ মত বিরোধ চিরদিনের জন্য নিষ্পন্ন করে দিয়েছে। সব ফল ও ফল জাতীয় দ্রব্যাদির রস থেকে উৎপাদিত শরাব যাতে নেশা ও ইথাইল এ্যালকোহলের (Ethyl Alcohol) উপাদান বিদ্যমান পাওয়া যায়, তা শরাবের অন্তর্ভূক্ত হবে। কিন্তু অন্যান্য উৎপাদিত দ্রব্যাদি যাতে নেশা ও এ্যালকোহলের উপাদান বিদ্যমান হবে, ঐ সব বিষয়ের সমাধান ব্যতিক্রম ও পৃথক হবে। যথা ভাং-আফিম প্রভৃতির শুধু এক বিন্দু বা তার সাদৃশ্যতা (অর্থাৎ নেশা না হওয়ার পরিমাণ) হারাম হবে না। বরং অবৈধতা শুধু নেশা হওয়ার অবস্থায় অত্যাবশ্যক হবে। কিন্তু এ্যালকোহলের এক ফোঁটাও ব্যবহার করা হারাম হবে। চাই কার্যতঃ নেশা সৃষ্টি না করুক। এটা এমন এক উদাহরণ যাতে বিজ্ঞানের এক ব্যাখ্যা ফিকাহ বিশেষজ্ঞগণের উপকারী প্রমাণ হয়েছে। কিন্তু যে আলেমগণ নিয়মিত ভাবে বিজ্ঞানের গ্রন্থাবলী পাঠ করে না অথবা শুধু শোনা কথা বা অসমাপ্ত জ্ঞান রাখেন। তারা বিভিন্ন বিষয় অভিমত প্রকাশ করে ভুলভ্রান্তিতে পতিত হয়。
📄 এক অকৃতকার্য প্রচেষ্টা
বিজ্ঞান মূলতঃ সত্ত্বাগত বাস্তবতা সমূহ অনুসন্ধান করার এক সকল প্রচেষ্টা ও ধারাবাহিক পথ অতিক্রম করার নাম। বিজ্ঞানের সামনে যখন কোন সমস্যা সমাধানের পর্যাপ্ত পরিমাণ উপকরণ সমবেত হয় এবং কোন বিষয়ের বাস্তবতা অনুমান করার ঝলক অনুভূত হতে থাকে, তখন যুক্তিপ্রয়োগ বা কল্পনা প্রসূত নমুনা পরিলক্ষিত হয়, তারপর যখন একাধিক বিজ্ঞানী তা সমর্থন করে, তখন তার অতিরিক্ত প্রমাণ বিদ্যমান হয়। তখন ওটাকে মতবাদ বলে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে যখন এক দীর্ঘ সময় পর্যন্ত ঐ মতবাদের ঘোষণা ধারাবাহিকভাবে পৃথিবীর আনাচে কানাচে পৌঁছে যায় আর সকল বিজ্ঞানী এ সম্পর্কে ঐক্যমতে উপনীত হয়, তখন ঐ মতবাদকে আইনের মর্যাদা দেওয়া হয়। নীতিগতভাবে তা আইনে পরিণত হওয়ার পর ঐ মতবাদে পরিবর্তন ও পরিবর্ধন না হওয়াই উচিত। কিন্তু কি করা যাবে। মানবীয় জ্ঞান-প্রজ্ঞা এত সংকীর্ণ ও অসমাপ্ত যে আইনে পরিণত হওয়ার পরও পরিবর্তন হওয়ার অনেক উদাহরণ পাওয়া যায়। এক যুগে আইন পরিবর্তনের উর্ধে মনে করা হত। কিন্তু বিজ্ঞানী আইনেষ্টাইন এসে এটাকেও অসমাপ্ত ঘোষণা করে তাতে পরিবর্তন এনে দেন। স্যার জেমসজীনের মতে বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে বড় আবিষ্কার আইনেষ্টাইনের এ থিউরি বা মতবাদ। মজার ব্যাপার হল, মতবাদ আইনকে দূর করে দিয়েছে। পক্ষান্তরে মতবাদ আইন থেকে দুর্বল হয়। প্রকাশ থাকে যে, মতবাদের সম্পর্ককে এ পর্যন্ত আইনের মর্যাদা দেওয়া হয়নি। এভাবে বিজ্ঞান ধীরে ধীরে অগ্রসর হয়ে বাস্তবতা অনুসন্ধানের পথে নিয়োজিত রয়েছে।
📄 অবিজ্ঞানীদের বিজ্ঞান চর্চা
যারা বিজ্ঞানের এ অপূর্ব অগ্রগতি সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত, তারা যখন কলা বিভাগের ডিগ্রী অর্জন কারীদেরকে বিজ্ঞানের মতবাদ সমূহ (উদাহরণতঃ ডারউইনের মতবাদ) কুরআনের উপর টক্কর দেওয়ার শান দেখাতে থাকে, তখন তাদের এ শিশুসূলভ মনোভাবের উপর তাদের হাসি এসে যায়। কুরআনকে পাশ্চাত্যের দৃষ্টিভঙ্গীর অনুসারী বানানোর উদ্দেশ্যে বিগত পঞ্চাশ বছর যাবত যে সব মনীষী উৎসাহ দেখিয়েছেন, বর্তমানে তাদের যে সব অনুগামী মাঠে কাজ করছে। তারা সকলেই বিজ্ঞারের নাম জপ করছে। কিন্তু তারা স্বীয় শিক্ষা জীবনেও বিজ্ঞানকে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে কলা বিভাগে ডিগ্রী অর্জন করেছে। সুতরাং ঐ সব লোক যারা ইসলাম সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান অর্জন করেছেন। আর না তারা বিজ্ঞান সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান লাভ করেছে। (তবে বিজ্ঞান সম্পর্কে তাদের উৎসাহ অনেক বেশী) তারা উভয়ের সাথে সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করছে। তাদের অসমাপ্ত বর্ণনা সম্পর্কে কি আর বলা যাবে।
📄 অতি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষুদ্র এক প্রতিবেদন
সাধারণতঃ গ্রীকদেরকে বিজ্ঞানের জনক মনে করা হয়। কিন্তু আধুনিক প্রত্নতত্ত্বে প্রমাণ হয়েছে যে, এ অভিমত সঠিক নয়। ব্যাবিলন ও তার আশ পাশের (যেখানে হযরত ইবরাহীম আ. এর ভূমিষ্ঠ হয়েছেন।) লোকজনের প্রসিদ্ধ সৃজিত প্রশ্ন (Euclid) কে সতেরশ' বছর পূর্বে থেকে জ্ঞাত ছিল। তাদের তৈরী খোদাই কৃত মাটির পাত্রে যে সব পুরাকৃর্তি হস্তগত হয়েছে, তাতে এ বিষয় অপ্রত্যাখ্যান যোগ্য প্রমাণ হয়েছে।