📄 পারস্পরিক সম্পর্ক স্থাপন
বিশেষজ্ঞদের মতে পারস্পরিক যোগাযোগ পারস্পরিক সম্পর্ককে গভীর করে। তাতে অনেক আশা আকাংখার তুফান বন্ধ হয়ে যায়।
জনৈক পিতা লিখেছেন, "আমরা সাধারণ আলোচনায় অনেক সময় ব্যয় করে দেই। ঐ সময় আমরা কখনো কখনো অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে উপনীত হই অথবা এরূপ উৎসাহ উদ্দীপনায় মনোযোগী হই, যার বহিঃপ্রকাশ অবশেষে আমাদের সবার জন্য কল্যাণকর প্রমাণ হয়। যদি আমার পুত্র আমার সাথে গাড়ী, খেলাধুলা ও অন্যান্য হাসি-খুশির বিষয় কথাবার্তা বলতে না পারে, তাহলে পরে স্কুল বা জমিনের বিষয় সম্পর্কে তার সাথে কথা বলার আশা কি ভাবে করা যায়? পারস্পরিক সম্পর্ক বা উত্তম যোগাযোগের উদ্দেশ্য হল পারস্পরিক ভুল ভ্রান্তি সমূহ নিরসন করা। সুদৃঢ় মজবুত খান্দানের লোকের একে অপরের গোপনীয় অপ্রকাশ্য বিষয় সমূহ সমাধানের পেছনে লেগে থাকে।"
মেক্সিকার জনৈক স্বামী লিখেছে "আমার স্ত্রী কয়েক বার বলেছিল, বর্তমানে শহরে অনেক ভালো ছবি প্রদর্শিত হয়। তার উদ্দেশ্য ছিল, সে যে কোন ছবি দেখতে ইচ্ছুক। কিন্তু তার সঠিক উদ্দেশ্য জানার পর আমি সংবাদ পত্রের পাতা থেকে ছবির নাম পড়ে তাকে শোনাতে শুরু করি। তাতে সে ভীষণ উত্তেজিত হয়ে যেত। আর আমি বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যেতাম যে, তার হলো কি? এর পর হঠাৎ একদিন তার উদ্দেশ্য আমার বুঝে আসে। যখন সে তার অভ্যাস অনুযায়ী ভালো ছবি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে, তখনই আমি সংবাদপত্র একদিকে ছুড়ে ফেলে দিয়ে তাকে ছবি দেখানোর উদ্দেশ্যে নিয়ে যাই। এ দিনই আমাদের মাঝে সম্পর্কের অবনতির সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। এখন সে ইশারায় কথা বলার স্থলে স্পষ্ট করে বলে, ছবি দেখতে হবে, আর আমিও তাকে ছবি দেখানোর স্পষ্ট প্রোগ্রাম করে তাকে জানিয়ে দেই।"
সুদৃঢ় মজবুত খান্দানের লোকেরা যারপর নাই তাগিদ দিয়ে বলেন, উত্তম সম্পর্ক এমনিতে স্থাপিত হয় না। এর জন্য উদ্দেশ্য, প্রচেষ্টা সময় ও অনুশীলন জরুরী。
📄 আত্মীক পবিত্রতা
সফলকাম ও মজবুত খান্দানের লোকদের মতে আত্মীক পবিত্রতা এক আভ্যন্তরীন বিষয়। তাতে আমাদের মাঝে পারস্পরিক সম্প্রীতি ভালবাসা, একে অপরের দুঃখ দুর্দশায় সমবেদনা ও সহমর্মীতা প্রকাশ এবং সৌহার্দ সৃষ্টি হয়। কিছু কিছু লোকের মনে করে ধর্মীয় ইবাদতে তা প্রকাশ পায়। অথচ কারও মতে পবিত্র লোকদের আসল নিদর্শন হল, তারা যখন নিজেদের চার পাশের লোকদের কথা স্মরণ করে, তখন তারা নৈতিক মূল্যায়নের অনুসারী হয়ে যায়।
আত্মীক মূল্যায়নের বহিঃপ্রকাশের কার্যকারীতা মজবুত খান্দানের লোকদের নিত্যদিনের কাজের অংশে পরিণত হয়। তারা নিজের কথামত কাজ করে। তাদের মধ্যে বিশ্বস্ততা, দায়িত্ববোধ, সহনশীলতা ও উদারতা অক্ষুণ্ণ পাওয়া যায়।
📄 জনৈক ভদ্রলোক লিখেছেন
আমাদের নিত্যদিনের কাজকর্মে আত্মীক মূল্যায়ন প্রকাশ করা জরুরী। তা কিভাবে সম্ভব হবে? আমরা বাচ্চাদের সামনে তো বিশ্বস্ততার ডাকঢোল বাজিয়ে থাকি। আর দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতারণার আশ্রয় নেই। দায়িত্ব কর্তব্য সম্পর্কে বক্তৃতা বিবৃতি দান করি। কিন্তু প্রয়োজনের সময় পাড়া পড়শীর প্রতি লক্ষ্য রাখি না। আমি ভালো করেই জানি, যদি আমি দ্বি-মুখি নীতি অবলম্বন করি, তাহলে আমার সন্তানরাও কপটতা পূর্ণ আচরণ করবে।
📄 ভুলভ্রান্তির মোকাবেলা করা
সুদৃঢ় অভিজাত খান্দানও এ থেকে নিরাপদ নয়। তাদেরও অনেক ভুল-ভ্রান্তি হয়ে থাকে। কিন্তু তারা সফলতার সাথে তার মোকাবিলা করে। সমস্যার সমাধানের জন্য তাদের চিন্তা-ভাবনা, পারস্পরিক সম্পর্ক স্থাপন ও আত্মীক মূল্যায়ন করে। এ সম্পর্কে ইতোপূর্বে আলোচনা করা হয়েছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার তাদের সাথে সমঝোতা করতে অক্ষম হয়। যখন তারা পারিবারিক অবস্থাকে নিজেদের মানের মিলাতে পারে না। তারা তাকে জীবনের রোগব্যাধিতে পরিণত করার স্থলে স্বয়ং নিজেই নতুন উদ্ভাবিত অবস্থার অনুকূলে ঝুঁকে যায়। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পি.এইচ.ডি. ডিগ্রী লাভ কারী চল্লিশ বছর বয়স্ক কর্নেল অধ্যাপকের নিকট জীবন যাপনের জন্য ভোগ-বিলাসের সকল প্রকার নিয়ামত বিদ্যমান ছিল। মনের মত স্ত্রী, সন্তান, বিলাসবহুল বাড়ী, ইজ্জত সম্মান-সুখ্যাতি সবই ছিল তার। হঠাৎ একদিন সে খবর পায়, তার স্ত্রীর ভাই ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছে। স্ত্রী এ খবর শোনার পর তাৎক্ষণিকভাবে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য মাল সামান বেঁধে ভ্রাতার সেবা-যত্নের উদ্দেশ্যে চলে যায়। তখন অধ্যাপক দুই বিপদে পতিত হন। প্রথমতঃ আত্মীয় সম্পর্কিত ভাইয়ের ক্যান্সার আক্রান্ত হওয়া। দ্বিতীয়তঃ নিজ পরিবারের ধ্বংস হওয়া। এক মজবুত খান্দানের সৌভাগ্য অধ্যাপকের সাহেবের নজরে পড়ে। তিনি জানতেন, খান্দান এমন এক সংস্থা যেখানে মানুষ প্রশান্তি লাভ করে। শক্তি পূর্ণবহাল হয়। তারপর মানুষ এক নব উৎসাহ-উদ্দীপনা ও পূর্ণ মনোবলের সাথে উত্তম থেকে উত্তম জীবন গঠনের রূপ রেখা প্রণয়নের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ে। অধ্যাপক সাহেব দ্রুত নিজেকে নিজে নব উদ্ভাবিত ধাঁচে ঢেলে সাজাতে শুরু করেন। সন্তানদের প্রস্তুতি, নাশতা তৈরি করা, স্কুলে পৌঁছে দেওয়া, তাদের সাথে গাল গল্প করা খেলাধুলা করা, সবকিছুই আয়ত্ব করে নেন।
এ সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে জনৈকা মহিলা লিখেছে, "আমি আমার বংশধরদের ভবিষ্যতের স্বার্থে ভালোবাসার পুঁজি বিনিয়োগ করে রেখেছি। এর চেয়ে উত্তম পুঁজি আর কিছুই হতে পারে না।"