📄 একত্রে সময় ব্যয় করা
যখন ১৫০০ শিশুকে জিজ্ঞেস করা হয়, তাদের ধারণা অনুযায়ী সমৃদ্ধ ও সুদৃঢ় মজবুত খান্দান গঠনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কি? তখন তারা সম্পদ, মনোরম গাড়ী-বাড়ী সম্পর্কে কোন কথা বলেনি। তাদের সকলেরই জবাব ছিলো "একত্রে কাজ করা আর খেলা-ধুলা করা"। খান্দানের লোকদের মতেও এ জন্য প্রয়োজন তারা বেশীর ভাগ সময় একত্রে মিলেমিশে কাজ করা, খেলাধুলা করা, ইবাদত করা ও পানাহারে অতিবাহিত করা। তাদের মতে আপনি কি করছেন অতিগুরুত্বপূর্ণ কোন বিষয় নয়। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, একত্রে মিলেমিশে থাকা। জনৈকা মহিলা লিখেছিল, "আমি যে সময় খেলাধুলায় ব্যয় করি, ঠিক তত সময় সবাই একত্রে কাজ করায় ব্যয় করি। কাপড় ধোয়া, কাপড় ইস্ত্রি করা, ওগুলো ভাঁজ করা, ঘাস কাটা ইত্যাদি। কিন্তু এ সব কিছু কষ্টকর মনে হয় না। এটা হল আমাদের জীবনের অতিগুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। যখন আমরা সকলে মিলে একত্রে কাজ করি, এবং একে অপরের অতি নিকটবর্তী হই।"
যতদূর জানা যায় সুদৃঢ় মজবুত খান্দানের জবাব হল, শুধু একত্রে এক সাথে অতিবাহিত সময় মনোরমই নয়, তা আরও পর্যাপ্ত হওয়া উচিত। কেননা সময়ের উত্তম অবস্থা কয়েক মুহূর্তের সান্নিধ্য লাভের কারণে সৃষ্টি হয় না। এক কর্মজীবী মেয়ের মা লিখেছে, "আমি আমার মেয়ের সাথে কম সময় ব্যয় করার ব্যাপারে বলছি যে, সে তো ছিল মাত্র পনর মিনিট, কিন্তু তা ছিল অতি সুখকর। অথচ আমি জানি যে, এটা হল জিম্মাদারী থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া এবং নিজেকে নিজে ধোঁকা দেওয়া।"
📄 উত্তম প্রতিদান প্রদান
অন্যের পক্ষে থেকে প্রতিদান লাভের অনুভূতি মানুষের মৌলিক প্রয়োজনের মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা পাঠ এবং হাজারো ইন্টার্ভিউর পর প্রমাণ হয়েছে যে, মজবুত অভিজাত খান্দানের মধ্যে একে অপরের উপকার ও প্রতিদান দানের মনোভাব ধারণার চেয়ে অনেক বেশী। জনৈকা মা লিখেছেন, "আমরা উভয়ে সর্বদা শয়নের পূর্বে নিজ শিশুদের কক্ষে যাই। তাদের কোলে তুলে নিয়ে আদর করি, চুমো দেই। তাদের সারা দিনের কাজের প্রশংসা করি। প্রত্যেক দিন কাজের শেষে তাদের এ পয়গাম পৌছানো আমাদের ধারণা অতি জরুরী।"
এক যুগল দম্পতি লিখেছে, পারস্পরিক গুণাবলী ও প্রশংসা বর্ণনা করা মূলতঃ তাদের পুরো জীবনকে পরিবর্তন করে দিয়েছে। নতুবা আমাদের ধ্বংস অনিবার্য ছিল। ঐ মহিলার মন্তব্য হল যে, "বিবাহের পরপর আমাদের মেলামেশা এমন কিছু যুগল বন্ধুদের মত থাকে যে, তাদের মধ্যে প্রত্যেকে নিজেকে নিজে অতিউত্তম ও উন্নত মনে করত। আর বাকী সবাইকে নিকৃষ্ট ও হেয় মনে করত। তারা যে কোন লোকের কোন না কোন দোষ-ত্রুটি ও ব্যর্থতা খুঁজে বেড়াত এবং তাকে আলোচনার বিষয়বস্তু নির্ধারণ করত। তাদের তিরস্কার ও ভর্ৎসনা থেকে কেউ নিরাপদ ছিল না। অকল্পনীয়ভাবে তাদের এ অভ্যাসে আমি প্রভাবান্বিত হয়ে পড়ি। আমার নিকট দাম্পত্য জীবন-যাপন অসহনীয় মনে হতে শুরু করে। আমাদের চিন্তাধারাও নেতিবাচক হতে শুরু করে।
সৌভাগ্যক্রমে অবশেষে একদিন আমার অবস্থা সম্পর্কে সঠিক অনুভূতি লাভ হয়। তখন আমি সর্বপ্রথম পুরাতন সে বন্ধুদের ত্যাগ করে নতুন বন্ধু খুঁজতে শুরু করি। তারপর আমার চিন্তাধারায় ইতিবাচক দিক সমূহ জাগ্রত করার প্রচেষ্টা শুরু করি। এখন আমার স্বামী ঘরে প্রবেশ করা মাত্রই বলতে শুরু করে, 'বৌ! শোনো! আমার মনে হয়, তুমি আজ বাচ্চাদের নিয়ে বেশী ব্যস্ত ছিলে। তাদের চুল কাটিয়েছ। সম্ভবতঃ বাজারও করেছ।' আমার স্বামী তার আলোচনায় সেই বাগানের কথা এক বারও উল্লেখ করেনি, যা সারা দিনেও আমি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করিনি।"
"আর যখনই সে কাজ নিয়ে বিষণ্ণ হয়ে বাড়ী ফিরে আসত, তখন আমি তাকে বিগত সপ্তাহের ঐ তিন দিনের কথা স্মরণ করিয়ে দিতাম যে, ঐ দিন তো কাজকর্ম ভালোই চলছিল। এ কয়দিন খারাপ চলেছে, তাতে কি হয়েছে, আমি নিজেকে নিজে এই মূলনীতির অনুসারী করিনি যে, কি পাইনি সে বিষয় চিন্তা করব না বরং কি পেয়েছি তা নিয়ে চিন্তা ভাবনা করব।"
📄 পারস্পরিক সম্পর্ক স্থাপন
বিশেষজ্ঞদের মতে পারস্পরিক যোগাযোগ পারস্পরিক সম্পর্ককে গভীর করে। তাতে অনেক আশা আকাংখার তুফান বন্ধ হয়ে যায়।
জনৈক পিতা লিখেছেন, "আমরা সাধারণ আলোচনায় অনেক সময় ব্যয় করে দেই। ঐ সময় আমরা কখনো কখনো অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে উপনীত হই অথবা এরূপ উৎসাহ উদ্দীপনায় মনোযোগী হই, যার বহিঃপ্রকাশ অবশেষে আমাদের সবার জন্য কল্যাণকর প্রমাণ হয়। যদি আমার পুত্র আমার সাথে গাড়ী, খেলাধুলা ও অন্যান্য হাসি-খুশির বিষয় কথাবার্তা বলতে না পারে, তাহলে পরে স্কুল বা জমিনের বিষয় সম্পর্কে তার সাথে কথা বলার আশা কি ভাবে করা যায়? পারস্পরিক সম্পর্ক বা উত্তম যোগাযোগের উদ্দেশ্য হল পারস্পরিক ভুল ভ্রান্তি সমূহ নিরসন করা। সুদৃঢ় মজবুত খান্দানের লোকের একে অপরের গোপনীয় অপ্রকাশ্য বিষয় সমূহ সমাধানের পেছনে লেগে থাকে।"
মেক্সিকার জনৈক স্বামী লিখেছে "আমার স্ত্রী কয়েক বার বলেছিল, বর্তমানে শহরে অনেক ভালো ছবি প্রদর্শিত হয়। তার উদ্দেশ্য ছিল, সে যে কোন ছবি দেখতে ইচ্ছুক। কিন্তু তার সঠিক উদ্দেশ্য জানার পর আমি সংবাদ পত্রের পাতা থেকে ছবির নাম পড়ে তাকে শোনাতে শুরু করি। তাতে সে ভীষণ উত্তেজিত হয়ে যেত। আর আমি বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যেতাম যে, তার হলো কি? এর পর হঠাৎ একদিন তার উদ্দেশ্য আমার বুঝে আসে। যখন সে তার অভ্যাস অনুযায়ী ভালো ছবি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে, তখনই আমি সংবাদপত্র একদিকে ছুড়ে ফেলে দিয়ে তাকে ছবি দেখানোর উদ্দেশ্যে নিয়ে যাই। এ দিনই আমাদের মাঝে সম্পর্কের অবনতির সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। এখন সে ইশারায় কথা বলার স্থলে স্পষ্ট করে বলে, ছবি দেখতে হবে, আর আমিও তাকে ছবি দেখানোর স্পষ্ট প্রোগ্রাম করে তাকে জানিয়ে দেই।"
সুদৃঢ় মজবুত খান্দানের লোকেরা যারপর নাই তাগিদ দিয়ে বলেন, উত্তম সম্পর্ক এমনিতে স্থাপিত হয় না। এর জন্য উদ্দেশ্য, প্রচেষ্টা সময় ও অনুশীলন জরুরী。
📄 আত্মীক পবিত্রতা
সফলকাম ও মজবুত খান্দানের লোকদের মতে আত্মীক পবিত্রতা এক আভ্যন্তরীন বিষয়। তাতে আমাদের মাঝে পারস্পরিক সম্প্রীতি ভালবাসা, একে অপরের দুঃখ দুর্দশায় সমবেদনা ও সহমর্মীতা প্রকাশ এবং সৌহার্দ সৃষ্টি হয়। কিছু কিছু লোকের মনে করে ধর্মীয় ইবাদতে তা প্রকাশ পায়। অথচ কারও মতে পবিত্র লোকদের আসল নিদর্শন হল, তারা যখন নিজেদের চার পাশের লোকদের কথা স্মরণ করে, তখন তারা নৈতিক মূল্যায়নের অনুসারী হয়ে যায়।
আত্মীক মূল্যায়নের বহিঃপ্রকাশের কার্যকারীতা মজবুত খান্দানের লোকদের নিত্যদিনের কাজের অংশে পরিণত হয়। তারা নিজের কথামত কাজ করে। তাদের মধ্যে বিশ্বস্ততা, দায়িত্ববোধ, সহনশীলতা ও উদারতা অক্ষুণ্ণ পাওয়া যায়।