📄 ঘুম সম্পর্কে ইউরোপীয়দের বিদ্রোহ ও ইসলাম
পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থার নাম ইসলাম। ইসলাম মানুষকে পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা দিয়েছে। মানুষ যখনই এ জীবন ব্যবস্থার সাথে বিদ্রোহ ঘোষণা করবে, তখনই মানুষ ভীষণ পেরেশান হয়ে যাবে। জাপান আমেরিকা ও ইউরোপ ঘুমের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছে। তাদের সকল প্রকার নিয়ম শৃঙ্খলা ভেঙ্গে খানখান হয়ে গেছে। দুপুরের খাবারের পর সামান্য বিশ্রাম ও রাতে তাড়াতাড়ী শোয়া ইসলামের রীতি। তাতে ঘুম ও কাজের মাঝে সমঝোতা হয়।
কি পরিমাণ ঘুম প্রয়োজন
সাধারণতঃ মনে করা হয়, মানুষের দৈনিক সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমানো উচিত। কিন্তু গবেষণা ও পর্যালোচনায় প্রমাণ হয়েছে যে, বাস্তবে সুস্থ্য লোকের জন্য রাতে এর চেয়ে অনেক কম ঘুমানোই যথেষ্ট। কেননা অনেক মানুষ রাতে শুধু পাঁচ বা ছয় ঘণ্টা ঘুমাবার পরও বেশ কর্মচঞ্চল ও কর্মক্ষম থাকে। অথচ এ ধরনের লোকেরও কমতি নেই, যারা রাতে নয় দশ ঘণ্টা ঘুমানোর পরেও দিনে তন্দ্রাচ্ছন্ন থাকে। সুতরাং বুঝা যায়, সাধারণ সুস্থতার সাথে ঘুমের প্রয়োজন হয়। তথাপি প্রত্যেকেরই ঘুমানোর পৃথক পৃথক অভ্যাস হয়ে থাকে।
কিছু লোক সারা রাত ঘুমানোর পরও সকালে বিছানায় নিদ্রামগ্ন হয়ে পড়ে থাকে। অথচ তখন অনেক লোক চোখ খোলার সাথে সাথে ঘুম থেকে উঠে দাঁড়িয়ে যায় বরং লাফ দিয়ে বিছানা থেকে ত্যাগ করে। একবার আমেরিকার অঙ্গরাজ্য টেক্সাসের বোস্টন শহরের বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘুম সম্পর্কে এক গবেষণা চালানো হয়। ঐ গবেষণার আলোকে বলা হয় যে, সুস্থ্য ব্যক্তিদের জন্য যথেষ্ট ঘুমের গড় ব্যাখ্যা ঐ সময়ের মাঝে অর্থাৎ অধিকাংশ প্রাপ্তবয়স্ক লোক রাতে ছয় থেকে নয় ঘণ্টা ঘুমিয়ে থাকে। এর অর্থ এই নয় যে, যদি আপনি এর চেয়ে কম ঘুমান, তাহলে কোন ক্ষতিকর সম্মুখীন হতে পারেন। অনেক লোক রাতে শুধু দুই বা তিন ঘণ্টা ঘুমানোর পরও সম্পূর্ণ সুস্থ্য ও সবল দেখা যায়।
ঘুমানোর ব্যাপারে সাধারণ কথা হল, মানুষের বয়স যত বাড়তে থাকে তার ঘুমানের সময়ও তত কমতে থাকে। কিন্তু এ অভিমত কোন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা সমর্থন যোগ্য কথা নয়। বস্তুতঃ নবজাতক শিশু সাধারণতঃ ১৮ ঘণ্টা ঘুমিয়ে থাকে। আর যখন তার বয়স ষোল থেকে উনিশ বছরে পৌঁছে, তখন ঘুমের পরিমাণ কমে সাড়ে সাত ঘণ্টায় এসে যায় অর্থাৎ প্রাপ্ত বয়স্ক লোকের ঘুমের গড় সময় পূর্বের তুলনায় ক্রমান্বয়ে কমতে থাকে। ত্রিশ বছর বয়সের পর পুরুষদের তুলনায় গড়ে পঞ্চাশ বছর বয়সের পরবর্তী নারীদের তুলনায় গড়ে ঘুম কমে যায়। পুরুষ ও নারী উভয়ের ঘুমে সাধারণতঃ ৫০ বছর বয়স থেকে ৫৮ বছর বয়সে অনেক বেশী কমে যায়। যেন বেশী বয়সী লোকদের রাতে গড়ে ছয় ঘণ্টা ঘুমই যথেষ্ট।
বিজ্ঞানের গবেষণায় প্রমাণ হয়েছে যে, ঘুমের সম্পর্ক হল চোখের অবয়বের বিবর্তণের নীরবতার ওপর। এর দু'টি বড় রীতি বা নমুনা আছে। চোক্ষুদ্বয়ের ক্ষীণ গতির স্পন্দনের রীতিকে NREM ও REM বলা হয়। দ্রুত গতিতে স্পন্দনযোগ্য চোখের ঘুম স্বপ্নালু হয়। ক্ষীণগতি চোখের স্পন্দনের (NREM) এর বিশ্রাম চার স্তরে হয়। প্রথম বিশ্রামে হালকা ঘুম ও এর গভীরতায় বৃদ্ধির দিক থেকে চূড়ান্ত গভীর নিদ্রার এক চতুর্থাংশ হয়। রাতে সুস্থ্য ব্যক্তির ঘুমের সময় সাধারণতঃ প্রতি ৯০ মিনিট পর এ যাত্রা বিরতির সম্মুখীন হয়। যেন জানা গেল যে, স্বপ্নও একটি ঘুম, অর্থাৎ যে ঘুমে আমরা স্বপ্ন দেখি সাধারণতঃ সে ঘুম কম গভীর হয়। শিশুদের ঘুমে চোখের অবয়বের বিবর্তন খুব দ্রুত হয়। তখন প্রাপ্ত বয়স্কদের ঘুমের এ সময় শতকরা ২০ থেকে ২৫ বার বিবর্তন হয়। শিশুদের ঘুমের বড় অংশে চোক্ষুদ্বয়ের অবয়ব ক্ষীণ গতিতে বিবর্তন হয়। অর্থাৎ এর যাত্রাবিরতি দুই নম্বর ও চার নম্বরের সম্পূর্ণ বিপরীত হয়। বেশী বয়সী লোকদের ঘুম এ কারণে অনেক কম হয় অথবা পুরো রাতে তার বিন্দুমাত্র ঘুমই আসে না।
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যায়য়ের ঘুম বিশেষজ্ঞ কেন্দ্রের পরিচালক জন ম্যাসনের অভিমত হল, কোন কোন বেশী বয়স্ক ব্যক্তি এ সন্দেহে লিপ্ত হয়েছে যে, তাদের নিদ্রাহীনতা রোগ হয়েছে। তাদের পরীক্ষা করা হলে প্রমাণ হয় যে, তাদের পর্যাপ্ত ঘুম হয়। আর তাদের ঘুম কম হওয়ার কোন কারণ নেই বরং এটা তাদের ঘুমানোর বিশেষ এক পদ্ধতি। ঐ লোকদের জিজ্ঞাসা করে জানা যায়, তারা সকালে সাতটায় জাগার স্থলে সকাল সাড়ে পাঁচটায় জেগে উঠে।
সুতরাং তাদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যে, যদি তারা সচেতনতা ও সজীবতা অনুভব করে। তাহলে তাদের চিন্তার কোন কারণ নেই। আর তাদের মনে করতে হবে যে, তাদের পর্যাপ্ত ঘুম হয়। এটাও এক গৃহীত সিদ্ধান্ত যে, সুস্থ্য ব্যক্তির ঘুমের প্রয়োজন কম হয়। আর যে যে ভাবে স্বাস্থ্যের প্রতি আকৃষ্ট হয় তার ঘুম কমে যায়। কিন্তু স্বাস্থ্য নষ্ট হলে পেরেশানী ও নিম্ন গতিতে (ডিপ্রেশন) এর পরিমাণ বেড়ে যায়।
কেননা হাসি-খুশি, প্রফুল্ল ও সুস্থ্য ব্যক্তি চার ঘণ্টা ঘুমিয়েও সবল সতেজ থাকে। মানুষ যদি নিজে এবং নিজের পরিবেশ সম্পর্কে আত্মতৃপ্ত হয়, তাহলে তার ঘুম এমনিতেই কমে যায়। ঘুমের ব্যাপারে এক আশ্চর্য ও বিস্ময়কর কথা হল, দেহ নিজে নিজের ঘুমের পর্যাপ্ততা ও অপ্রতুলত হওয়ার উপলব্দি হয়। সুতরাং দেহের পর্যাপ্ত ঘুমানোর জন্য সুস্থতা ও পরিবেশ সম্মত অভ্যাসের প্রয়োজন। অপর এক ঘুম বিশেষজ্ঞ ডাক্তার জিরাল্ড ম্যাক মিশনের অভিমত হল, প্রত্যেক ব্যক্তির ঘুমের দ্বারা দেহের কোন অংশ পুনঃবহাল হয়।
এ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া এ পর্যন্ত কঠিন ব্যাপার হয়ে আছে। এ বিষয় একাধিক বিজ্ঞানীদের অভিমত ব্যতিক্রম। কতিপয় গবেষকদের অভিমত হল, প্রত্যাবর্তন (Metabolism) দেহের সাথে সম্পর্কিত হরমোন ঘুমন্ত অবস্থায় বেশী কার্যকরী হয়। তখন সামান্য পরাভূত ও নির্জীব সম্পর্কিত হরমোন অলস ও দুর্বল হয়ে যায়। বৃটেনের বিশেষজ্ঞ ডাক্তার জ্যাম হারটনের মতে ঐ হরমোনের কার্যকারীতা, যা দেহের লালন পালনের সাথে সম্পর্কিত ও প্রত্যাবর্তনের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়, তা সাধারণতঃ দেহের কর্মক্ষমতা অর্থাৎ দৈহিক পরিশ্রম ও অবসাদ প্রভৃতির সাথে সম্পর্কিত হয়। পরিশ্রমের কারণে অবসন্ন হয়। দৈহিক ব্যায়ামকারী ব্যক্তির গভীর ও ভালো ঘুম হয়। অনুরূপভাবে খেলোয়াড় ও দৈহিক পরিশ্রমকারীদেরও ঘুম গভীর এবং সুখময় হয়।
দেহ মনমগজ এমন অঙ্গ, এর সাথে ঘুমের বাস্তব সম্পর্ক রয়েছে। মগজের ঐ অংশ যাকে মস্তকের কেশর (Cerebral Cortex) বলা হয়, তার ঘুমের সব চেয়ে বেশী প্রয়োজন। ঘুমের ঘাটতিতে সর্বপ্রথম এতে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। মস্তকের ঐ অংশ ঘুমন্ত ও জাগ্রত উভয় অবস্থায় জটিল ও কঠিন কাজকর্ম ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে। ঘুমানোর কারণে ঐ অংশের উপর এ বিরুপ প্রতিক্রিয়া প্রতিফলিত হয়, তা যে কোন অবস্থায় বিপজ্জনক হয় বরং এর কারণে দীর্ঘ সময় অর্থাৎ পুরো সপ্তাহের কর্ম ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে।
কম থেকে কম শোয়ার কারণে স্বাস্থ্যের প্রতি ক্ষতিকর কোন প্রভাব পড়ে না, যদি ঘুম গভীর ও আরামদায়ক হয়। দৈহিক প্রয়োজন পূরণ করে দেয়। বিশেষজ্ঞগণ বিভিন্ন উপায়ে ঘুমের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। তাতে লোকেদের তুলনামূলক কম সময় ঘুমানোর ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। ঐ সময় স্বাস্থ্য সম্পর্কে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। তাতে দেখা যায়, কিছু নারী ও পুরুষ রাতে সাত থেকে আট ঘণ্টা পর্যন্ত ঘুমাতে অভ্যস্থ ছিল। স্বেচ্ছা সেবক হিসেবে ঐ সময় তাদেরকে আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা ঘুমানোর ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করা হয়। এক বছর পর তাদের স্বাভাবিক স্বাস্থ্য পর্যালোচনা করা হয়। তাতে দেখা যায়, ঐ সব লোকদের স্বাস্থ্যের উপর কোন দিক থেকে কোন প্রকার ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া প্রতিফলিত হয়নি। তাদের গভীর নিদ্রা মগ্নতার সময় কোন প্রকার ঘাটতি দেখা দেয়নি। আর রাত ভর ঘুমানোর মধ্যে ঐ গভীর নিদ্রামগ্নতার অংশ অভ্যাস অনুযায়ী সময় তিন ঘণ্টার কিছু কম ছিল। যেন তাদের আসল ঘুম হয়ে গেছে, যা তাদের সুস্থতা বহাল রাখার জন্য যথেষ্ট ছিল। দীর্ঘ সময় ঘুমের জন্য বিছানায় পড়ে থাকা অথবা তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে ঘুমানোর চেয়ে উত্তম হল কয়েক ঘণ্টা গভীর ও আরামে ঘুমিয়ে নেওয়া। এ জন্য আনুমানিক রাতে পাঁচ ঘণ্টা ঘুমানো যথেষ্ট হয়।
ডাক্তার ম্যাকমিশন বলেন, রাতে প্রশান্তিদায়ক সুখনিদ্রার জন্য কতিপয় সহজ ও জরুরী বিষয় স্মরণ রাখুন এবং কার্যকরী করুন। তা হল নিম্নরূপ-
১. ঘরে নির্মল বাতাস আসা যাওয়া নিশ্চিত করুন। ঘরের দরজা উষ্ণতা রোধক নাতীশীতুষ্ণ হতে হবে।
২. শয়নের পূর্বে রাতে খাবার খেয়ে নিন। কখনো খালি পেটে শয়ন করবেন না। খানা ও শয়নের মধ্যে সর্বদা এক ঘণ্টার ব্যবধান বহাল রাখুন।
৩. রাতের খাবার যেন ভারী, তেজ ঝালযুক্ত না হয় বরং হালকা ও সহজে হজমযোগ্য হতে হবে।
৪. রাতের শয়নের সময় ঈষৎ উষ্ণ এক গ্লাস দুধ বা কোন ফল বা ফলের হালকা রস সেবন করা উপকারী।
৫. দৈনিক হালকা ব্যায়াম করুন। আর শোয়ার পূর্বে চল্লিশ কদম হাঁটুন অথবা শয়নের পূর্বে উপদেশমূলক কোন কাব্যগ্রন্থ পাঠ করুন। তা আপনার মন থেকে অবসাদ ও ক্লান্তি দূর করে দেবে।
6. শোয়ার পূর্বে দু'আ করুন। আর মানসিকভাবে পূর্ণতৃপ্তি লাভ করুন এবং বেশী বেশী করে মানসিক ভাবে দুশ্চিন্তা মুক্ত হওয়ার চেষ্টা করুন।
৭. শোয়া ও জাগ্রত হওয়ার স্বাভাবিক সময় নির্ধারণ করুন।
৮. শয়নকক্ষের আলো নিভিয়ে দিন। তাহলে চোখ প্রশান্তি লাভ করবে। শোয়ার পরিবেশ সৃষ্টি হবে।
৯. ঘুম না আসার কারণে চিন্তিত হওয়ার কোন কারণ নেই। বরং মনে করুন, আপনি বিশ্রাম করছেন।
এ সম্পর্কে চিন্তিত হলে বা ঘুম আনার চেষ্টা করলে হিতে বিপরীত হতে পারে। এমন অবস্থায় গরমের মৌসুমে মুখে ঠাণ্ডা পানির ঝাপটা দিন। কোন কোন অবস্থায় এটা খুব আরামদায়ক হয়। ঘুমের নির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারিত নেই। এ কারণে আপনি যথাসম্ভব কম ঘুমানোর অভ্যাস করুন। কিন্তু এর জন্য তাৎক্ষণিক কোন চেষ্টা ও তড়িঘড়ি চেষ্টা চালাবেন না বরং ধীরে ধীরে এ অভ্যাস গড়তে হবে।
📄 আপনি আপনার বংশকে সুদৃঢ় ও মজবুত বানাতে চান কি?
পর্যালোচনা ও পর্যবেক্ষণের অর্ন্তভূক্ত ছয়টি গোপন রহস্য
বর্তমানে কোন সুদৃঢ় ও মজবুত বংশ কি আছে? যখন ত্রিশ বছরের অভিজ্ঞ পারিবারিক ও সামাজিক খান্দানী পরামর্শ দানকারীর সামনে পেশ করা হয়, তখন তিনি জবাব দিবেন, "আল্লহর শোকর, এ পর্যন্ত এর জবাব হ্যাঁ বাচক রয়েছে।" কিন্তু ঐ বিশেষজ্ঞ এ নিয়ে ভীষণ চিন্তিত ছিলেন যে, অবশেষে উপায়-উপকরণ বহনের সব কিছু পারিবারিক জীবনের নেতিবাচক দিক সমূহের উপর পুঞ্জিভূত হল কেন? তিনি চিন্তা করেন, এ নেতিবাচক মনোভাবের কারণ হতে পারে খান্দানী জীবন যাপনের বিস্তারিত ইতিবাচক বিষয় সম্পর্কে অজ্ঞতা। সুতরাং তিনি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন যে, খান্দান সমূহের অবস্থা জানার জন্য ব্যাপক গবেষণা করতে হবে। হয়ত বা তাতে এ নেতিবাচক মনোভাব খতম হওয়ার ক্ষেত্রে কিছু সাহায্য হবে। তাই ঐ বিশেষজ্ঞ আমেরিকার ২৫ টি রাজ্যের চার ডজন পত্রিকায় এ সংক্রান্ত এক বিজ্ঞাপন প্রকাশ করেন। "যদি আপনি কোন সুদৃঢ় অভিজাত খান্দানের বংশধর হন, তাহলে অনুগ্রহ করে আমার সাথে যোগাযোগ করুন। খান্দানকে অকার্যকর বানানোর বিষয় আমি অনেক কিছু অবগত আছি। এখন আমি ঐ সব বিষয় জানতে ইচ্ছুক, যা আপনাকে সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিতে পারে।"
উক্ত বিজ্ঞপ্তি বিশেষ কার্যকরী হয় এবং অসংখ্য চিঠি আসতে শুরু করে। পত্রের জবাবদাতা প্রত্যেক খান্দান এক প্রশ্ন তালিকা প্রেরণ করতে শুরু করে। আর এভাবে "ফ্যামিলি সনফ রিচার্জ প্রজেক্ট" অর্থাৎ খান্দান সুদৃঢ় করার গবেষণা কেন্দ্র অস্তিত্ব লাভ করে। এ পর্যন্ত তিন হাজারের অধিক খান্দানী ব্যক্তি ঐ পর্যবেক্ষণে অংশগ্রহণ করে। বিস্ময়কর ব্যাপার সমূহের মধ্যে খান্দান গুলোর পক্ষ থেকে প্রায় প্রত্যেকে বিশেষ ছয় প্রকার বৈশিষ্ট্যের উল্লেখ করে। যা তাদের ধারণা অনুযায়ী খান্দানগুলোকে সুদৃঢ় ও মজবুত রাখার ব্যাপারে বুনিয়াদী ভূমিকা পালন করে। উক্ত বৈশিষ্ট্য ছয়টি নিম্নরূপ।
দৃঢ়তার শর্তে প্রতিজ্ঞা পূর্ণ করা
যে কোন খান্দানের সফলতার গুরুত্বপূর্ণ বস্তু হল সময়। আন্তরিক উৎসাহ উদ্দীপনা ও মনোবল, পুঁজি বিনিয়োগ করা, মজবুত সুদৃঢ় খান্দানের অন্যান্য সকল লোকদের উপর প্রাধান্য দেওয়া পরস্পর কল্যাণকামীতা, সফলতা ও উন্নতি বিধান কল্পে নিজেদের জীবন বিলিয়ে দেওয়া যে কোন অবস্থায় একে অপরের সাহায্য সহায়তায় এগিয়ে আসা। খান্দানের স্থিতিশীলতায় দৃঢ় বিশ্বাসী হওয়া।
এ ধরনের খান্দান সমূহের প্রতিশ্রুতি অর্থাৎ একাগ্রতা, একনিষ্ঠতা, অনুগ্রহ সুখী সমৃদ্ধ পারিবারিক সম্পর্কের মূল চাবিকাঠি। একজনের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকে অপরের অন্তর ভাঙ্গার পয়গাম মনে করা হয় অর্থাৎ তোমার এটা পরিবর্তন করা সম্ভব।
কিছু খান্দান কাজে ব্যয়িত হওয়া সময় ও শক্তিকে খান্দানের সবচেয়ে বড় দুশমন নির্ধারণ করেছে। এক সন্তানের পিতা লিখেছেন,
"কোন কোন সময় মনে হয়, এ সময় কর্মস্থলে ব্যয় করা বেশী উপকার হত। তারপরও চিন্তা-ভাবনা করি, কাজকর্মের প্রতিবেদন যা আমার জীবনের বিগত কয়েক দিনের বা সপ্তাহের উপর প্রভাবান্বিত মনে হয়েছে কিন্তু একজন পিতা হিসেবে আমার কাজ ততোধিক গুরুত্বপূর্ণ। যদি আমি শিশুদের জন্য উত্তম পিতা হই, তাহলে আমার সন্তানও উত্তম পিতা-মাতা বলে প্রমাণ হবে। তারপর আমি যখন থাকব না, তখন ঐ কাজকর্মের প্রতিবেদন ও অকার্যকর হয়ে যাবে। তখন আমার পৌত্র ও পৌত্রী প্রপৌত্র ও প্রপৌত্রীরা এক উত্তম পিতা হবে। এ কারণে আমি উত্তম ছিলাম।"
একত্রে সময় ব্যয় করা
যখন ১৫০০ শিশুকে জিজ্ঞেস করা হয়, তাদের ধারণা অনুযায়ী সমৃদ্ধ ও সুদৃঢ় মজবুত খান্দান গঠনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কি? তখন তারা সম্পদ, মনোরম গাড়ী-বাড়ী সম্পর্কে কোন কথা বলেনি। তাদের সকলেরই জবাব ছিলো "একত্রে কাজ করা আর খেলা-ধুলা করা" খান্দানের লোকদের মতেও এ জন্য প্রয়োজন তারা বেশীর ভাগ সময় একত্রে মিলেমিশে কাজ করা, খেলাধুলা করা, ইবাদত করা ও পানাহারে অতিবাহিত করা। তাদের মতে আপনি কি করছেন অতিগুরুত্বপূর্ণ কোন বিষয় নয়। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, একত্রে মিলেমিশে থাকা। জনৈকা মহিলা লিখেছিল, "আমি যে সময় খেলাধুলায় ব্যয় করি, ঠিক তত সময় সবাই একত্রে কাজ করায় ব্যয় করি। কাপড় ধোয়া, কাপড় ইস্ত্রি করা, ওগুলো ভাঁজ করা, ঘাস কাটা ইত্যাদি। কিন্তু এ সব কিছু কষ্টকর মনে হয় না। এটা হল আমাদের জীবনের অতিগুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। যখন আমরা সকলে মিলে একত্রে কাজ করি, এবং একে অপরের অতি নিকটবর্তী হই।"
যতদূর জানা যায় সুদৃঢ় মজবুত খান্দানের জবাব হল, শুধু একত্রে এক সাথে অতিবাহিত সময় মনোরমই নয়, তা আরও পর্যাপ্ত হওয়া উচিত। কেননা সময়ের উত্তম অবস্থা কয়েক মুহূর্তের সান্নিধ্য লাভের কারণে সৃষ্টি হয় না। এক কর্মজীবী মেয়ের মা লিখেছে, "আমি আমার মেয়ের সাথে কম সময় ব্যয় করার ব্যাপারে বলছি যে, সে তো ছিল মাত্র পনর মিনিট, কিন্তু তা ছিল অতি সুখকর। অথচ আমি জানি যে, এটা হল জিম্মাদারী থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া এবং নিজেকে নিজে ধোঁকা দেওয়া।"
উত্তম প্রতিদান প্রদান
অন্যের পক্ষে থেকে প্রতিদান লাভের অনুভূতি মানুষের মৌলিক প্রয়োজনের মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা পাঠ এবং হাজারো ইন্টার্ভিউর পর প্রমাণ হয়েছে যে, মজবুত অভিজাত খান্দানের মধ্যে একে অপরের উপকার ও প্রতিদান দানের মনোভাব ধারনার চেয়ে অনেক বেশী। জনৈকা মা লিখেছেন, আমরা উভয়ে সর্বদা শয়নের পূর্বে নিজ শিশুদের কক্ষে যাই। তাদের কোলে তুলে নিয়ে আদর করি, চুমো দেই। তাদের সারা দিনের কাজের প্রশংসা করি। প্রত্যেক দিন কাজের শেষে তাদের এ পয়গাম পৌছানো আমাদের ধারণা অতি জরুরী।"
এক যুগল দম্পতি লিখেছে, পারস্পরিক গুণাবলী ও প্রশংসা বর্ণনা করা মূলতঃ তাদের পুরো জীবনকে পরিবর্তন করে দিয়েছে। নতুবা আমাদের ধ্বংস অনিবার্য ছিল। ঐ মহিলার মন্তব্য হল যে, "বিবাহের পরপর আমাদের মেলামেশা এমন কিছু যুগল বন্ধুদের মত থাকে যে, তাদের মধ্যে প্রত্যেকে নিজেকে নিজে অতিউত্তম ও উন্নত মনে করত। আর বাকী সবাইকে নিকৃষ্ট ও হেয় মনে করত। তারা যে কোন লোকের কোন না কোন দোষ-ত্রুটি ও ব্যর্থতা খুঁজে বেড়াত এবং তাকে আলোচনার বিষয়বস্তু নির্ধারণ করত। তাদের তিরস্কার ও ভর্ৎসনা থেকে কেউ নিরাপদ ছিল না। অকল্পনীয়ভাবে তাদের এ অভ্যাসে আমি প্রভাবান্বিত হয়ে পড়ি। আমার নিকট দাম্পত্য জীবন-যাপন অসহনীয় মনে হতে শুরু করে। আমাদের চিন্তাধারাও নেতিবাচক হতে শুরু করে।
"সৌভাগ্যক্রমে অবশেষে একদিন আমার অবস্থা সম্পর্কে সঠিক অনুভূতি লাভ হয়। তখন আমি সর্বপ্রথম পুরাতন সে বন্ধুদের ত্যাগ করে নতুন বন্ধু খুঁজতে শুরু করি। তারপর আমার চিন্তাধারায় ইতিবাচক দিক সমূহ জাগ্রত করার প্রচেষ্টা শুরু করি। এখন আমার স্বামী ঘরে প্রবেশ করা মাত্রই বলতে শুরু করে, বৌ! শোনো! আমার মনে হয়, তুমি আজ বাচ্চাদের নিয়ে বেশী ব্যস্ত ছিলে। তাদের চুল কাটিয়েছ। সম্ভবতঃ বাজারও করেছ। "আমার স্বামী তার আলোচনায় সেই বাগানের কথা এক বারও উল্লেখ করেনি, যা সারা দিনেও আমি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করিনি।"
"আর যখনই সে কাজ নিয়ে বিষণ্ণ হয়ে বাড়ী ফিরে আসত, তখন আমি তাকে বিগত সপ্তাহের ঐ তিন দিনের কথা স্মরণ করিয়ে দিতাম যে, ঐ দিন তো কাজকর্ম ভালোই চলছিল। এ কয়দিন খারাপ চলেছে, তাতে কি হয়েছে, আমি নিজেকে নিজে এই মূলনীতির অনুসারী করিনি যে, কি পাইনি সে বিষয় চিন্তা করব না বরং কি পেয়েছি তা নিয়ে চিন্তা ভাবনা করব।"
পারস্পরিক সম্পর্ক স্থাপন
বিশেষজ্ঞদের মতে পারস্পরিক যোগাযোগ পারস্পরিক সম্পর্ককে গভীর করে। তাতে অনেক আশা আকাংখার তুফান বন্ধ হয়ে যায়।
জনৈক পিতা লিখেছেন, "আমরা সাধারণ আলোচনায় অনেক সময় ব্যয় করে দেই। ঐ সময় আমরা কখনো কখনো অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে উপনীত হই অথবা এরূপ উৎসাহ উদ্দীপনায় মনোযোগী হই, যার বহিঃপ্রকাশ অবশেষে আমাদের সবার জন্য কল্যাণকর প্রমাণ হয়। যদি আমার পুত্র আমার সাথে গাড়ী, খেলাধুলা ও অন্যান্য হাসি-খুশির বিষয় কথাবার্তা বলতে না পারে, তাহলে পরে স্কুল বা জমিনের বিষয় সম্পর্কে তার সাথে কথা বলার আশা কি ভাবে করা যায়? পারস্পরিক সম্পর্ক বা উত্তম যোগাযোগের উদ্দেশ্য হল পারস্পরিক ভুল ভ্রান্তি সমূহ নিরসন করা। সুদৃঢ় মজবুত খান্দানের লোকের একে অপরের গোপনীয় অপ্রকাশ্য বিষয় সমূহ সমাধানের পেছনে লেগে থাকে।"
মেক্সিকার জনৈক স্বামী লিখেছে "আমার স্ত্রী কয়েক বার বলেছিল, বর্তমানে শহরে অনেক ভালো ছবি প্রদর্শিত হয়। তার উদ্দেশ্য ছিল, সে যে কোন ছবি দেখতে ইচ্ছুক। কিন্তু তার সঠিক উদ্দেশ্য জানার পর আমি সংবাদ পত্রের পাতা থেকে ছবির নাম পড়ে তাকে শোনাতে শুরু করি। তাতে সে ভীষণ উত্তেজিত হয়ে যেত। আর আমি বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যেতাম যে, তার হলো কি? এর পর হঠাৎ একদিন তার উদ্দেশ্য আমার বুঝে আসে। যখন সে তার অভ্যাস অনুযায়ী ভালো ছবি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে, তখনই আমি সংবাদপত্র একদিকে ছুড়ে ফেলে দিয়ে তাকে ছবি দেখানোর উদ্দেশ্যে নিয়ে যাই। এ দিনই আমাদের মাঝে সম্পর্কের অবনতির সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। এখন সে ইশারায় কথা বলার স্থলে স্পষ্ট করে বলে, ছবি দেখতে হবে, আর আমিও তাকে ছবি দেখানোর স্পষ্ট প্রোগ্রাম করে তাকে জানিয়ে দেই।"
সুদৃঢ় মজবুত খান্দানের লোকেরা যারপর নাই তাগিদ দিয়ে বলেন, উত্তম সম্পর্ক এমনিতে স্থাপিত হয় না। এর জন্য উদ্দেশ্য, প্রচেষ্টা সময় ও অনুশীলন জরুরী।
আত্মীক পবিত্রতা
সফলকাম ও মজবুত খান্দানের লোকদের মতে আত্মীক পবিত্রতা এক আভ্যন্তরীন বিষয়। তাতে আমাদের মাঝে পারস্পরিক সম্প্রীতি ভালবাসা, একে অপরের দুঃখ দুর্দশায় সমবেদনা ও সহমর্মীতা প্রকাশ এবং সৌহার্দ সৃষ্টি হয়। কিছু কিছু লোকের মনে করে ধর্মীয় ইবাদতে তা প্রকাশ পায়। অথচ কারও মতে পবিত্র লোকদের আসল নিদর্শন হল, তারা যখন নিজেদের চার পাশের লোকদের কথা স্মরণ করে, তখন তারা নৈতিক মূল্যায়নের অনুসারী হয়ে যায়।
আত্মীক মূল্যায়নের বহিঃপ্রকাশের কার্যকারীতা মজবুত খান্দানের লোকদের নিত্যদিনের কাজের অংশে পরিণত হয়। তারা নিজের কথামত কাজ করে। তাদের মধ্যে বিশ্বস্ততা, দায়িত্ববোধ, সহনশীলতা ও উদারতা অক্ষুণ্ণ পাওয়া যায়। জনৈক ভদ্রলোক লিখেছেন,
আমাদের নিত্যদিনের কাজকর্মে আত্মীক মূল্যায়ন প্রকাশ করা জরুরী। তা কিভাবে সম্ভব হবে- আমরা বাচ্চাদের সামনে তো বিশ্বস্ততার ডাকঢোল বাজিয়ে থাকি। আর দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতারণার আশ্রয় নেই। দায়িত্ব কর্তব্য সম্পর্কে বক্তৃতা বিবৃতি দান করি। কিন্তু প্রয়োজনের সময় পাড়া পড়শীর প্রতি লক্ষ্য রাখি না। আমি ভালো করেই জানি, যদি আমি দ্বি-মুখি নীতি অবলম্বন করি, তাহলে আমার সন্তানরাও কপটতা পূর্ণ আচরণ করবে।
ভুলভ্রান্তির মোকাবিলা করা
সুদৃঢ় অভিজাত খান্দানও এ থেকে নিরাপদ নয়। তাদেরও অনেক ভুল-ভ্রান্তি হয়ে থাকে। কিন্তু তারা সফলতার সাথে তার মোকাবিলা করে। সমস্যার সমাধানের জন্য তাদের চিন্তা-ভাবনা, পারস্পরিক সম্পর্ক স্থাপন ও আত্মীক মূল্যায়ন করে। এ সম্পর্কে ইতোপূর্বে আলোচনা করা হয়েছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার তাদের সাথে সমঝোতা করতে অক্ষম হয়। যখন তারা পারিবারিক অবস্থাকে নিজেদের মানের মিলাতে পারে না। তারা তাকে জীবনের রোগব্যাধিতে পরিণত করার স্থলে স্বয়ং নিজেই নতুন উদ্ভাবিত অবস্থার অনুকূলে ঝুঁকে যায়। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পি.এইচ.ডি. ডিগ্রী লাভ কারী চল্লিশ বছর বয়স্ক কর্নেল অধ্যাপকের নিকট জীবন যাপনের জন্য ভোগ-বিলাসের সকল প্রকার নিয়ামত বিদ্যমান ছিল। মনের মত স্ত্রী, সন্তান, বিলাসবহুল বাড়ী, ইজ্জত সম্মান-সুখ্যাতি সবই ছিল তার। হঠাৎ একদিন সে খবর পায়, তার স্ত্রীর ভাই ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছে। স্ত্রী এ খবর শোনার পর তাৎক্ষণিকভাবে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য মাল সামান বেঁধে ভ্রাতার সেবা-যত্নের উদ্দেশ্যে চলে যায়। তখন অধ্যাপক দুই বিপদে পতিত হন। প্রথমতঃ আত্মীয় সম্পর্কিত ভাইয়ের ক্যান্সার আক্রান্ত হওয়া। দ্বিতীয়তঃ নিজ পরিবারের ধ্বংস হওয়া। এক মজবুত খান্দানের সৌভাগ্য অধ্যাপকের সাহেবের নজরে পড়ে। তিনি জানতেন, খান্দান এমন এক সংস্থা যেখানে মানুষ প্রশান্তি লাভ করে। শক্তি পূর্ণবহাল হয়। তারপর মানুষ এক নব উৎসাহ-উদ্দীপনা ও পূর্ণ মনোবলের সাথে উত্তম থেকে উত্তম জীবন গঠনের রূপ রেখা প্রণয়নের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ে। অধ্যাপক সাহেব দ্রুত নিজেকে নিজে নব উদ্ভাবিত ধাঁচে ঢেলে সাজাতে শুরু করেন। সন্তানদের প্রস্তুতি, নাশতা তৈরি করা, স্কুলে পৌঁছে দেওয়া, তাদের সাথে গাল গল্প করা খেলাধুলা করা, সবকিছুই আয়ত্ব করে নেন।
এ সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে জনৈকা মহিলা লিখেছে, "আমি আমার বংশধরদের ভবিষ্যতের স্বার্থে ভালোবাসার পুঁজি বিনিয়োগ করে রেখেছি। এর চেয়ে উত্তম পুঁজি আর কিছুই হতে পারে না।"
📄 দৃঢ়তার শর্তে প্রতিজ্ঞা পূর্ণ করা
যে কোন খান্দানের সফলতার গুরুত্বপূর্ণ বস্তু হল সময়। আন্তরিক উৎসাহ উদ্দীপনা ও মনোবল, পুঁজি বিনিয়োগ করা, মজবুত সুদৃঢ় খান্দানের অন্যান্য সকল লোকদের উপর প্রাধান্য দেওয়া পরস্পর কল্যাণকামীতা, সফলতা ও উন্নতি বিধান কল্পে নিজেদের জীবন বিলিয়ে দেওয়া যে কোন অবস্থায় একে অপরের সাহায্য সহায়তায় এগিয়ে আসা। খান্দানের স্থিতিশীলতায় দৃঢ় বিশ্বাসী হওয়া।
এ ধরনের খান্দান সমূহের প্রতিশ্রুতি অর্থাৎ একাগ্রতা, একনিষ্ঠতা, অনুগ্রহ সুখী সমৃদ্ধ পারিবারিক সম্পর্কের মূল চাবিকাঠি। একজনের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকে অপরের অন্তর ভাঙ্গার পয়গাম মনে করা হয় অর্থাৎ তোমার এটা পরিবর্তন করা সম্ভব।
কিছু খান্দান কাজে ব্যয়িত হওয়া সময় ও শক্তিকে খান্দানের সবচেয়ে বড় দুশমন নির্ধারণ করেছে। এক সন্তানের পিতা লিখেছেন,
"কোন কোন সময় মনে হয়, এ সময় কর্মস্থলে ব্যয় করা বেশী উপকার হত। তারপরও চিন্তা-ভাবনা করি, কাজকর্মের প্রতিবেদন যা আমার জীবনের বিগত কয়েক দিনের বা সপ্তাহের উপর প্রভাবান্বিত মনে হয়েছে কিন্তু একজন পিতা হিসেবে আমার কাজ ততোধিক গুরুত্বপূর্ণ। যদি আমি শিশুদের জন্য উত্তম পিতা হই, তাহলে আমার সন্তানও উত্তম পিতা-মাতা বলে প্রমাণ হবে। তারপর আমি যখন থাকব না, তখন ঐ কাজকর্মের প্রতিবেদন ও অকার্যকর হয়ে যাবে। তখন আমার পৌত্র ও পৌত্রী প্রপৌত্র ও প্রপৌত্রীরা এক উত্তম পিতা হবে। এ কারণে আমি উত্তম ছিলাম।"
📄 একত্রে সময় ব্যয় করা
যখন ১৫০০ শিশুকে জিজ্ঞেস করা হয়, তাদের ধারণা অনুযায়ী সমৃদ্ধ ও সুদৃঢ় মজবুত খান্দান গঠনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কি? তখন তারা সম্পদ, মনোরম গাড়ী-বাড়ী সম্পর্কে কোন কথা বলেনি। তাদের সকলেরই জবাব ছিলো "একত্রে কাজ করা আর খেলা-ধুলা করা"। খান্দানের লোকদের মতেও এ জন্য প্রয়োজন তারা বেশীর ভাগ সময় একত্রে মিলেমিশে কাজ করা, খেলাধুলা করা, ইবাদত করা ও পানাহারে অতিবাহিত করা। তাদের মতে আপনি কি করছেন অতিগুরুত্বপূর্ণ কোন বিষয় নয়। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, একত্রে মিলেমিশে থাকা। জনৈকা মহিলা লিখেছিল, "আমি যে সময় খেলাধুলায় ব্যয় করি, ঠিক তত সময় সবাই একত্রে কাজ করায় ব্যয় করি। কাপড় ধোয়া, কাপড় ইস্ত্রি করা, ওগুলো ভাঁজ করা, ঘাস কাটা ইত্যাদি। কিন্তু এ সব কিছু কষ্টকর মনে হয় না। এটা হল আমাদের জীবনের অতিগুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। যখন আমরা সকলে মিলে একত্রে কাজ করি, এবং একে অপরের অতি নিকটবর্তী হই।"
যতদূর জানা যায় সুদৃঢ় মজবুত খান্দানের জবাব হল, শুধু একত্রে এক সাথে অতিবাহিত সময় মনোরমই নয়, তা আরও পর্যাপ্ত হওয়া উচিত। কেননা সময়ের উত্তম অবস্থা কয়েক মুহূর্তের সান্নিধ্য লাভের কারণে সৃষ্টি হয় না। এক কর্মজীবী মেয়ের মা লিখেছে, "আমি আমার মেয়ের সাথে কম সময় ব্যয় করার ব্যাপারে বলছি যে, সে তো ছিল মাত্র পনর মিনিট, কিন্তু তা ছিল অতি সুখকর। অথচ আমি জানি যে, এটা হল জিম্মাদারী থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া এবং নিজেকে নিজে ধোঁকা দেওয়া।"