📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 প্রকৃত বাস্তবতা জীবন অনুভূতি ও জ্ঞানপ্রজ্ঞা বৃদ্ধি করে

📄 প্রকৃত বাস্তবতা জীবন অনুভূতি ও জ্ঞানপ্রজ্ঞা বৃদ্ধি করে


(এক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন) প্রাচ্যদেশে প্রচলিত এ ধারণা সম্পূর্ণ সঠিক ও বাস্তবভিত্তিক বলে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে যে, বয়োজ্যেষ্ঠদের জ্ঞান-প্রজ্ঞা বুদ্ধিমত্তা যুবকদের তুলনায় অনেক বেশী সঠিক ও নির্ভরযোগ্য হয়। এলিন লিনগর ও তার সাথী বিকালুই হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিল। তার নেতৃত্বে এক পর্যবেক্ষণ অনুশীলন চলাকালে চীনা ও আমেরিকান বয়োবৃদ্ধদের কর্মদক্ষতায় যখন প্রতিযোগীতায় পার্থক্য নিরুপন করা হয়, তখন চীনা বয়োবৃদ্ধদের কর্মক্ষমতা উন্নত প্রমাণ হয়। কেননা চীনের বয়োজ্যেষ্ঠদের বেশী বুদ্ধিমান ও প্রজ্ঞাশীল পাওয়া যায়। সে সময় আমেরিকার সামাজিক অবস্থা এর সম্পূর্ণ বিপরীত ছিল। গবেষণা কেন্দ্র সমূহ ব্রেণের পেশী সম্পর্কে পরীক্ষা-নিরীক্ষা কারী বিশেষজ্ঞগণ এ পর্যন্ত এ কথার সমর্থক হয়েছেন যে, বেশী বয়স জ্ঞান-প্রজ্ঞা ও বুদ্ধিমত্তার দিক থেকে এক নিয়ামত ও মূলধন।

বার্লিনে অন্তঃদৃষ্টি সঠিক আন্দাজের বিষয়ের মূলকারণ ও এর ইতিবাচক সমাধানের ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন বয়সীদের মাঝে এক প্রতিযোগীতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পর্যবেক্ষক দলের সদস্যগণ প্রত্যক্ষ্য করেন যে, ৭৫ বছর বয়সের লোক স্বীয় কর্মক্ষমতার দিক থেকে যুবকদের তুলনায় অনেক বেশী অগ্রগামী ছিল। অপর এক অভিজ্ঞতায় বেশী বয়সী মুদ্রাক্ষরিকদের কর্মদক্ষতা প্রতিযোগীতায় কমবয়সী মুদ্রাক্ষরিকদের তুলনায় বাচনভঙ্গী পূর্ববর্তী শব্দাবলীর সাথে বুঝে নেয়। যদিও কি-বোর্ডের উপর রাখা তাদের আঙ্গুল যুবক মুদ্রাক্ষরিকদের তুলনায় ক্ষীণ গতিতে চলে, কিন্তু তারা স্বীয় শক্তিকে শব্দ মুদ্রন করে ব্যয় করে না। আর তাদের বারবার বাচনভঙ্গীর প্রতিও তাকাতেও হয় না। এতে তাদের সার্বিক কর্মদক্ষতা যুবকদের তুলনায় উত্তম প্রমাণ হয়েছে। অপর এক পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, বয়োজ্যেষ্ঠ লোক যদিও সিদ্ধান্ত গ্রহণে তুলনামূলক বেশী সময় নষ্ট করে, কিন্তু তাদের সিদ্ধান্ত অধিক সঠিক ও বাস্তব ভিত্তিক হয়।

এ বিস্ময়কর পর্যবেক্ষণের সারমর্ম হল, বেশী বয়সের লোকের ব্রেণ যুবক ব্রেণ থেকে কস্মিনকালেও নিচু হয় না বরং বিশুদ্ধ মতে তারা ব্যতিক্রম হয়। আর যদিও কোন কোন দিক থেকে তারা যুবকদের তুলনায় দুর্বল হয়। তারা ঐ দুর্বলতাকে নিজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় জ্ঞান-প্রজ্ঞা, বুদ্ধিমত্তা ও অন্তর্দৃষ্টি দ্বারা দূর করে নেয়। তারা অধিকাংশ সময় জয় লাভ করে। এ কথা যদিও ইউ এস নিউজ এণ্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্টের ঐ জরিপের অন্তর্ভুক্ত হয়নি। কিন্তু তার মধ্যকার এ বাস্তবতা বিশ্ব ইতিহাসকে ভালোভাবে মানতে বাধ্য করেছে যে, বৃদ্ধ ব্রেণ যদি নবীন যুবকের দৈহিক শক্তিকে ব্যবহার করে তাহলে পৃথিবী তার সামনে অবনত হয়ে যায়।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 সফলকাম জীবনের গোপন রহস্য

📄 সফলকাম জীবনের গোপন রহস্য


আমি জাহাজে আরোহন করে ফ্লোরিডা অভিমুখে যাত্রা করি। পথে জর্জ টাউনে আমার এক পুরানো বন্ধুর সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে যাত্রা বিরতি করি। জাহাজ প্রায় শহরের নিকটবর্তী ছিল। তখন আমি দুরবীণ দিয়ে দেখি, সে সমুদ্রের তীরে আমার অপেক্ষায় আছে। অথচ চতুর্দিক রক্ত জমাট করে দেওয়ার মত প্রচণ্ড হিমেল হাওয়া বইছে। তার বয়স ৮০ বছর অতিক্রম করেছে। কিন্তু সে বুক ফুলিয়ে এমনভাবে দাঁড়িয়ে ছিল, যেন কোন শক্তিশালী আকৃতির মানুষ দাঁড়িয়ে আছে। এ ব্যক্তি বয়োজ্যেষ্ঠ জ্ঞানী বান্ডাড বুরুশ ছিল। সে আমাকে তার গাড়ীতে করে তার গ্রামের বাড়ীতে নিয়ে যায়। যেখানে তার জমিদারি ছিল। আমরা গোল কার কক্ষে বসে আলোচনা শুরু করি। ঐ কক্ষে বুরুশ পৃথিবীর বিখ্যাত জ্ঞাণীগুণীদের মধ্যে রুজভেল্ট, চার্চিলও ছিল। আন্তর্জাতিক বিষয় সম্পর্কে আলোচনা চলতে থাকে। বয়োবৃদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও বুরুশের মধ্যে নবীন যুবকের মত নবোদ্যম ছিল। কত মজার ব্যাপার যে যদি তারা একবারও অতীতের আলোচনা করত, তারা ধারাবাহিক ভাবে বর্তমান ও ভবিষ্যত সম্পর্কে আলোচনা করতে থাকে। আমাকে আর্থিক সামাজিক ও দৈহিক ইতিহাস সম্পর্কে অনভিজ্ঞ পেয়ে তারা হতাশ ও নিরাশাগ্রস্থ হয়ে যায়। তার অবয়ব পূর্ণাঙ্গ উজ্জ্বল ও দীপ্তিময়, চোখে চমক বিদ্যমান, আলোচনা চলা অবস্থায় তারা মাত্র একবার অতীত সম্পর্কে আলোচনা করে বলে যে, গতকাল আমি দশটি গুলি করেছি, তাতে শুধু আটটি তিতির হাতে এসেছে।

পৃথিবী এ ধরনের জ্ঞানীদের এতো ইজ্জত-সম্মান কেন করে? কারণ তারা অপরাজেয়। তারা সর্বদা নিয়মিত পরিশ্রম ও সাধনায় মগ্ন হয়ে থাকে। শ্রম ও সাধনায় কখনো তারা আত্মতৃপ্তি লাভ করে না। আমার অপর এক বন্ধু সে দেশের বিরাট এক নামকরা কোম্পানীর প্রধান। সে আনুমানিক সত্তর বছর বয়সেও সুষ্ঠু নেতৃত্ব দানের যোগ্য। সেও অতীতের ঘটনাবলী আলোচনা না করে পুরো সময় প্রতিদিনের সমস্যা সমাধানের বিষয়ে আলোচনা করে। আথবা আগামী দিনের জন্য নিত্যনতুন পরিকল্পনা ও বিভিন্ন ধরনের কর্মকৌশল প্রণয়ন করে। নিজের কাজ ছাড়া সে দাবা খেলায় উৎসাহী ছিল। সে বেশ চমৎকার খেলা করত। তার আনন্দ ও সফলতার গোপন রহস্য হল, তার নিয়মিত শ্রম ও সাধনায় ব্যস্ততা। হালাল উপায়ে সম্পদ উপার্জন। তারপর উপার্জিত সম্পদগুলো উত্তম পদ্ধতিতে ব্যয় করা। এটা বর্তমান পৃথিবীতে ভীষণ কঠিন কাজের অন্যতম। কিছু দিন আগে আমি এক প্রসিদ্ধ ক্লাবে দাবা খেলতে যাই। খেলা শেষ হয় সন্ধ্যা নাগাদ। তাই ক্লাবের অধিকাংশ সদস্য নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। কিন্তু পাঁচ ছয়জন লোক এক কক্ষে বসে সহসাই চিৎকার করতে থাকে।

সেখানে মদপানের জমজমাট আসর চলছিল। আমি তাদের চিনতে পেরেছি। তাদের কাজ প্রত্যেক সন্ধ্যায় মদ পান করা আর অনর্থক হইহল্লা করা। একাজ তাদের নিয়মিত অভ্যাস। আশ্চর্যের ব্যাপার হল, তারা সকলে এক সময়ে জগত বিখ্যাত ছিল। কাজ কারবারে সফলকাম ছিল। ছোট বড় সকলেই তাদের শ্রদ্ধা ও সম্মান করত। যদি ব্যক্তিগত ভাবে খুশি ও সফলতা লাভ করে থাকে, তাহলে তাদের আনন্দিত হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু তাদের অবস্থা নিশ্চিত এমন ছিল, যেন তাদের উল্লেখযোগ্য কোন উপাদানের ঘাটতি রয়েছে। নতুবা তারা হুইস্কি ও সোডা পান করে জীবনের বাস্তবতা থেকে পলায়ণ করার চেষ্টা করত না। তাদের প্রত্যেকেরই জানা ছিল, তাদের জীবনায়ু শেষ হয়ে আসছে।

যখন ফলবান বৃক্ষের ফলন বন্ধ হয়ে যায়, তখন বৃক্ষটির হঠাৎ মৃত্যু হয়ে যায়। মানুষেরও একই অবস্থা হয়। এ পৃথিবীতে দীর্ঘ ও পূর্ণ হাসি-খুশি জীবন লাভের গোপন রহস্য কি? আমার ধারণা, আমি বহুদিন পূর্বে এর জবাব পেয়ে গেছি। পবিত্র ইঞ্জিলের পৃষ্ঠা উল্টাচ্ছিলাম। সৃষ্টি তত্ত্ব অধ্যায়ের এক বিষয় আমার নজরে আসে। বক্তব্য অতি দীর্ঘ ছিল। কিন্তু তা আমার অন্তরে পাথরে খোদাই-য়ের মত অংকিত হয়ে যায়। "শুধু ঐ জীবিকা হালাল যা তুমি দেহের ঘাম ঝরিয়ে উপার্জন করো।"

তৎক্ষণাৎ বাক্যটি আমাকে কাজ করার জন্য ধমকাতে থাকে। বস্তুতঃ জীবনের প্রতি পদক্ষেপ আমাকে মল্লযুদ্ধের প্রতি আহবান করে। তথাপি বুযুর্গের এসব বাণী সর্বদা আমার সাহস যোগাতে থাকে। আমার সব চেয়ে বড় কামনা হল, যখন সফর সমাপ্তির নিকটবর্তী হতো, তখন আমি আমার কাজে পূর্ণ আত্মতৃপ্ত হয়ে যেতাম। আমার সৌভাগ্য ছিল, আমি জীবনযুদ্ধে বীর পুরুষের মত লড়াই করেছি। কখনো পিঠ দেখাই নি। আমার ঈমান নিরাপদ রয়েছে।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 পোশাক সম্পর্কে বিস্ময়কর প্রতিবেদন

📄 পোশাক সম্পর্কে বিস্ময়কর প্রতিবেদন


• পোশাকের পূর্বে অলংকার আবিষ্কৃত হয়েছে।
• পাতলা পোশাক ও টাই এশিয়ার লোকদের জন্য কষ্টকর।
• বুট ও মোজা মহামারীরূপে বিস্তার করেছে।

মানবজগতের অধিকাংশ বিশেষজ্ঞগণ এ বিষয় ঐক্যমতে উপনীত হয়েছেন যে, পোশাক প্রবর্তনের কারণ মৌসুম পরিবর্তনের উপর নির্ভরশীল অনুভূতির ছিল। না লজ্জা শরমের ব্যাপার ছিল বরং এ কারণে আদিম যুগের মানুষ দেহে নকশা ও চিত্রাংকন করত চামড়া দাগাত, দাঁতগুলো চমকদার করত, কেশ বিন্যাস করত। আরাম-আয়েশ ও ভোগ-বিলাসের অন্যান্য পদ্ধতিকে পোশাক মনে করত। মহান আল্লাহ তা'আলাকে মানুষ সুন্দর অবয়ব দান করেছেন। কিন্তু কথিত আছে, মানুষ উষ্ণ অঞ্চলে জন্ম লাভ করেছে অর্থাৎ এশিয়া ও আফ্রিকার মরু অঞ্চল সমূহে মানুষের জন্ম হয়েছে। দীর্ঘ সময় পর্যন্ত ওখানে অবস্থান করেছে।

মৌসুমের অবস্থা থেকে আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যে পোশাকের প্রয়োজনই অনুভূত হয়নি। সেখান থেকে তারা ইউরোপের উত্তরাঞ্চলে এসে পৌঁছে। তখন পোশাক নামক কোন বস্তুর অস্তিত্ব হয়নি। ইউরোপ অতিক্রম করে যখন উত্তর মেরু অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হতে থাকে, তখন হিম শীতল এলাকার ঠাণ্ডার হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার উদ্দেশ্যে মানুষের দেহ আবৃত করার জন্য পোশাক প্রয়োজন অনুভূত হয়। একাধিক স্থান অতিক্রম করার পর মানুষ পোশাকে প্রকাশ্য দুই আকৃতি গ্রহণ করে। গ্রীষ্মঅঞ্চলের লোকের পোশাক কম ওজনী ও হালকা পাতলা ছিল। আর হিমশীত অঞ্চলের লোকের পোশাক ভারী ও বেশী মোটা হত। হিমশীতল এলাকায় হালকা পাতলা পোশাকের প্রবর্তন হয় রোমান সম্রাটদের যুগে।

ষষ্ঠ শতাব্দি থেকে সপ্তম শতাব্দি পর্যন্ত হালকা পাতলা পোশাকের লম্বা কোট ও এক প্রকার লম্বা জামা পরিধান করা হয়। যা দেহের বিরাট এক অংশ আবৃত করে রাখত, পাতলা পোশাকের উপর মুখ থেকে মাঝ পর্যন্ত লম্বাকোট বা লম্বা জামা ব্যবহার শেষ হয়ে যায়। বর্তমানে এমন পাতলা পোশাকের প্রবর্তন হয়েছে, যার সাথে শার্ট ব্যবহার করা হয়। শার্ট ভেতরে ব্যবহার করা হত। তা এত পাতলা যে, তাতে দেহ পুরোপুরি দৃষ্টিগোচর হত। ঐ সময় গ্রীষ্মঅঞ্চলে বসবাস কারী লোকজন পোশাক দ্বারা দেহ আবৃত করার স্থলে দেহ সুন্দর করার বিভিন্ন গবেষণা শুরু করে। আর বিভিন্ন ধরনের অলংকার যথা চুড়ি, নুপুর, গলারহার, কানের বালা ও নথ ব্যবহার করতে শুরু করে। এর দ্বারা প্রমাণ হয় যে, পোশাকের পূর্বে অলংকারের প্রচলন শুরু হয়।

কোন কোন লোকের ধারণা হল, পাতলা উন্নত আকৃতির পোশাক। কেননা আদিম যুগে লেংটি পরিধান করা হত। অনুরূপভাবে আদিম লম্বা জামা উন্নতি লাভ করতে করতে বর্তমানে আধুনিক জ্যাকেটের আকৃতি ধারণ করেছে। মানুষ যখন কিছু উন্নত ধরনের পোশাক তৈরিতে অভিজ্ঞতা লাভ করে, তখন বিভিন্ন স্তরের লোকদের মাঝে বিভিন্ন ধরনের পোশাকের অস্তিত্ব লাভ করতে শুরু করে। অনেক পেশাজীবি স্বীয় পোশাকের স্বরূপ বাস্তবায়ন করতে শুরু করে। অনেক পেশাজীবিকে তাদের পোশাক দেখেই চেনা যায়। যেমন, সেনাবাহিনী ও ধর্মীয় নেতাদের পোশাকে বিশেষ পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। তথাপি গ্রীষ্মাঞ্চলের পোশাকের সেই সরলতা বহাল থেকে যায়। আমেরিকার মায়া গোত্রের পুরুষেরা সাধারণত: সাদাসিধা ববজিন্স পরিধান করে। অথবা চারকোণ আকৃতির এক লম্বা সূতী কাপড় ব্যবহার করে, তাতে উভয় কাঁধের উপর গিড়া লাগাতো এ কাপড়ের সাথে এক আরাম দায়ক পাট্টা লাগানোর প্রচলনও ছিল, তাতে পরিধানকারী মর্যাদা প্রকাশ হত, তাদের নারীরা সাধারণতঃ মোটা অমসৃণ একই কাপড় ব্যবহার করে।

মিশর সিরিয়া ও ইরাকের শিক্ষিত সমাজের বেশীর ভাগ পোশাক সাদাসিধে ছিল। মিশরের প্রাচীন বাদশাহদের যুগে অভিজাত শ্রেণীর মানুষ সাদা নাইলনের গাগরা সাদৃশ্য কাপড় (Kilt) পরিধান করত। বাদশাহীর মধ্যবর্তী যুগে এ পোশাক কিছুটা লম্বা আকৃতি ধারণ করে। এর সাথে জামার নিচে গেঞ্জি ও সেমিজের ব্যবহার শুরু হয়। আধুনিক বাদশাহীর যুগে তাদের মধ্যে ছোট জামার প্রচলন শুরু হয়।

মিশরীয় নারীরা এরূপ ঢিলেঢালা হালকা-পাতলা রেশমী পোশাক পরিধান করত। তাতে তাদের দেহের প্রতিটি অঙ্গ ঝলমল করত। সময়ের আবর্তনের সাথে সাথে পোশাকের আকার আকৃতিতেও পরিবর্তন হতে শুরু করে। কিন্তু পুরুষের পোশাক প্রায় যুগেই প্রাচীন পদ্ধতি থেকে যায়। মিশর ও সিরিয়াবাসীদের সম্পর্কে ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে, তার দেহের একটি পশম ও বাকী রাখত না। কোন কঠোর কাজ করার সময় তারা দেহের সমস্ত পোশাক খুলে ফেলত। তাদের ধারণা ছিল, পোশাক পরিহিত ব্যক্তি থেকে উলঙ্গ ব্যক্তি বেশী কাজ করতে পারে।

বৈজ্ঞানিক এ সত্যকে অস্বীকার করা যায় না যে, গ্রীষ্মাঞ্চলের অধিবাসীরা বেশী কাপড় পরতে অনিচ্ছুক। আর তাদের পোশাক সর্বদিক থেকে শীত প্রধান অঞ্চলের লোকদের পোশাক থেকে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম হয়। কেননা তাদের চাহিদা শীত প্রধান অঞ্চলের অধিবাসীদের থেকে সম্পূর্ণ পৃথক। মরুঅঞ্চলের অধিবাসীরা লম্বা জামার মত যে কোন খোলা মেলা পোশাক পরিধান করে। তা তাদের জন্য উপকারী প্রমাণ হয়েছে। এভাবে তারা একদিকে দেহকে তাপ থেকে রক্ষা করতে সক্ষম হয়, অপরদিকে তা তাদের দেহের নির্গত ঘাম চুষে নেয়। ফলে দেহে বাতাস প্রবেশের কারণে প্রশান্তি অনুভব হবে।

গ্রীষ্মাঞ্চলের অধিবাসীদের জন্য ইউরোপীয় লোকদের মতে মোটা পোশাক পরিধান করা ভীষণ যন্ত্রণাদায়ক ও ক্ষতিকর। এতে বিভিন্ন ধরনের সংক্রামক ব্যাধি বিস্তারের আশংকা আছে। গ্রীষ্মাঞ্চলের মায়েরা শিশুদের সূর্যের তাপ থেকে রক্ষার উদ্দেশ্যে নিজেদের পরিহিত জামার আচলে লুকিয়ে চলাফেরা করে। তাদের পরিহিত জামা খাটো হলে তাদের দেহ থেকে নির্গত ঘাম কখনো শুকাবে না। কেননা এ সব ধ্বংসাত্মক উপকরণ সৃষ্টি হবে। তাতে রোগজীবাণুর বৃদ্ধি পাওয়া অবশ্যম্ভাবী হবে। কালক্রমে এক বিশেষজ্ঞের পোশাক সম্পর্কে এক তিক্ত অভিজ্ঞতা লাভ হয়েছে। কয়েক বছর পূর্বে তিনি কলোম্বিয়ার পূর্বাঞ্চলে এক ল্যাবরেটরিতে গবেষণারত ছিলেন। ওখানে যারা নির্দিষ্ট পদে কর্মচারীর দায়িত্ব পালন করত, তাদের মধ্যে অধিকাংশ লোকের পা সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত ছিল। বিভিন্ন পদ্ধতিতে চিকিৎসা করা হয়। চিকিৎসার ফল কিছুই হয়নি। আর ঐ ব্যাধির প্রকৃত কারণও জানা যায় নি।

ঐ এলাকায় যেসব লোক খালি পায়ে চলাচল করে বা হালকা ফানুস জাতীয় সেন্ডেল ব্যবহার করে। কিন্তু নির্দিষ্ট পেশায় নিয়োজিত লোকজন তাদের কর্মপ্রেরণা অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য বুট জুতা ও মোজা ব্যবহার করত। ঐ বিশেষজ্ঞ নিজেও সেন্ডেল পরিধান করতেন, তাতে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত তার কোন কষ্ট হত না। তখন এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, এ ব্যাধির মূল কারণ ঐ বুট জুতা ও মোজা। সুতরাং তিনি বলেন, বিশেষ কোন সময় ব্যতীত বুট জুতা ও মোজা পরিধান না করা উত্তম। এ পরিকল্পনা সাধারণ ভাবে কার্যকর করা হয়। তারপর আর কেউ এ রোগে আক্রান্ত হয়নি।

এ বিষয়ে এক ক্ষতিকর প্রভাব হল, গ্রীষ্মাঞ্চলের অধিবাসীবৃন্দ পাশ্চাত্য সংস্কৃতি নিজেদের করে নেওয়ার বিষয় কোন কোন সময় এতো সীমালংঘন করছে যে, তারা পোশাকের ছোট থেকে ছোট আকৃতি গ্রহণ করে নিয়েছে। তারা নিজেরা সরকারের উচ্চ পর্যায়ে চেষ্টা করছে যে, মানুষ পাশ্চাত্য ধরনের জুতা পরিধান করুক। চাই তাতে পদযুগল গলে যাক না কেন। কোন কোন দেশে আইন পাশ করা হচ্ছে যে, শহর অতিক্রম করার সময় প্রত্যেককে জ্যাকেট ব্যবহার করতে হবে। অনুরূপভাবে হোটেল সমূহের অতিথি বয়দের ব্যাপারে এ আশা পোষণ করে যেখানে শুধু জামা পরে কাজ করতে আসে ওখানে তাদেরও জ্যাকেট পরিধান করে আসতে হবে।

পাশ্চাত্যের স্থপতিগণ এ বিষয় অনেক দূর এগিয়ে গেছে। তারা গ্রীষ্মাঞ্চলীয় দেশসমূহ কর্মরত কর্মীদের জন্য ঢিলেঢালা পোশাকের ব্যাপারে সুপারিশ করার স্থলে ওখানের সরকারের প্রতি জোর চাপ দিচ্ছে, তারা যেন শিল্পকারখানা সমূহ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত করে নেয়। আপনি যদি কখনো ফ্লোরিডা গমন করেন। তাহলে ওখানের অবস্থা দেখে কিংকর্তব্য বিমূঢ় হয়ে যাবেন। তাদের কোন কোন রীতি নীতি অতি বিস্ময়কর। উদাহরণতঃ ওখানে পুকুরে গোসল করার সাধারণ রীতি প্রচলিত আছে। অন্যান্য কাজ করার সময় তাদের দেহে কোন পোশাকই থাকে না। বর্তমানে গ্রীষ্মাঞ্চলীয় দেশ সমূহে নিশ্চিতভাবে পাতলা পোশাক ও টাই ব্যবহার সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হওয়া উচিত। এটা কোন দিক থেকে স্বাস্থ্য সম্মত নয়। এর মাধ্যমে আভিজাত্যের সঙ্গ বৃদ্ধির স্থলে সংস্কৃতির দাসত্ব প্রাধান্য বিস্তার করে। মানুষ স্বীয় পরিবেশ থেকে বিচ্যুত হয়ে যাচ্ছে। এশিয়া ও আফ্রিকার অধিবাসীদের চাহিদা ইউরোপবাসীদের চাহিদা থেকে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। আর এ বিষয় স্মরণ না রাখা মারাত্মক ভ্রান্ত ও ক্ষতিকর।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 ঘুম সম্পর্কে ইউরোপীয়দের বিদ্রোহ ও ইসলাম

📄 ঘুম সম্পর্কে ইউরোপীয়দের বিদ্রোহ ও ইসলাম


পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থার নাম ইসলাম। ইসলাম মানুষকে পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা দিয়েছে। মানুষ যখনই এ জীবন ব্যবস্থার সাথে বিদ্রোহ ঘোষণা করবে, তখনই মানুষ ভীষণ পেরেশান হয়ে যাবে। জাপান আমেরিকা ও ইউরোপ ঘুমের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছে। তাদের সকল প্রকার নিয়ম শৃঙ্খলা ভেঙ্গে খানখান হয়ে গেছে। দুপুরের খাবারের পর সামান্য বিশ্রাম ও রাতে তাড়াতাড়ী শোয়া ইসলামের রীতি। তাতে ঘুম ও কাজের মাঝে সমঝোতা হয়।

কি পরিমাণ ঘুম প্রয়োজন
সাধারণতঃ মনে করা হয়, মানুষের দৈনিক সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমানো উচিত। কিন্তু গবেষণা ও পর্যালোচনায় প্রমাণ হয়েছে যে, বাস্তবে সুস্থ্য লোকের জন্য রাতে এর চেয়ে অনেক কম ঘুমানোই যথেষ্ট। কেননা অনেক মানুষ রাতে শুধু পাঁচ বা ছয় ঘণ্টা ঘুমাবার পরও বেশ কর্মচঞ্চল ও কর্মক্ষম থাকে। অথচ এ ধরনের লোকেরও কমতি নেই, যারা রাতে নয় দশ ঘণ্টা ঘুমানোর পরেও দিনে তন্দ্রাচ্ছন্ন থাকে। সুতরাং বুঝা যায়, সাধারণ সুস্থতার সাথে ঘুমের প্রয়োজন হয়। তথাপি প্রত্যেকেরই ঘুমানোর পৃথক পৃথক অভ্যাস হয়ে থাকে।

কিছু লোক সারা রাত ঘুমানোর পরও সকালে বিছানায় নিদ্রামগ্ন হয়ে পড়ে থাকে। অথচ তখন অনেক লোক চোখ খোলার সাথে সাথে ঘুম থেকে উঠে দাঁড়িয়ে যায় বরং লাফ দিয়ে বিছানা থেকে ত্যাগ করে। একবার আমেরিকার অঙ্গরাজ্য টেক্সাসের বোস্টন শহরের বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘুম সম্পর্কে এক গবেষণা চালানো হয়। ঐ গবেষণার আলোকে বলা হয় যে, সুস্থ্য ব্যক্তিদের জন্য যথেষ্ট ঘুমের গড় ব্যাখ্যা ঐ সময়ের মাঝে অর্থাৎ অধিকাংশ প্রাপ্তবয়স্ক লোক রাতে ছয় থেকে নয় ঘণ্টা ঘুমিয়ে থাকে। এর অর্থ এই নয় যে, যদি আপনি এর চেয়ে কম ঘুমান, তাহলে কোন ক্ষতিকর সম্মুখীন হতে পারেন। অনেক লোক রাতে শুধু দুই বা তিন ঘণ্টা ঘুমানোর পরও সম্পূর্ণ সুস্থ্য ও সবল দেখা যায়।

ঘুমানোর ব্যাপারে সাধারণ কথা হল, মানুষের বয়স যত বাড়তে থাকে তার ঘুমানের সময়ও তত কমতে থাকে। কিন্তু এ অভিমত কোন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা সমর্থন যোগ্য কথা নয়। বস্তুতঃ নবজাতক শিশু সাধারণতঃ ১৮ ঘণ্টা ঘুমিয়ে থাকে। আর যখন তার বয়স ষোল থেকে উনিশ বছরে পৌঁছে, তখন ঘুমের পরিমাণ কমে সাড়ে সাত ঘণ্টায় এসে যায় অর্থাৎ প্রাপ্ত বয়স্ক লোকের ঘুমের গড় সময় পূর্বের তুলনায় ক্রমান্বয়ে কমতে থাকে। ত্রিশ বছর বয়সের পর পুরুষদের তুলনায় গড়ে পঞ্চাশ বছর বয়সের পরবর্তী নারীদের তুলনায় গড়ে ঘুম কমে যায়। পুরুষ ও নারী উভয়ের ঘুমে সাধারণতঃ ৫০ বছর বয়স থেকে ৫৮ বছর বয়সে অনেক বেশী কমে যায়। যেন বেশী বয়সী লোকদের রাতে গড়ে ছয় ঘণ্টা ঘুমই যথেষ্ট।

বিজ্ঞানের গবেষণায় প্রমাণ হয়েছে যে, ঘুমের সম্পর্ক হল চোখের অবয়বের বিবর্তণের নীরবতার ওপর। এর দু'টি বড় রীতি বা নমুনা আছে। চোক্ষুদ্বয়ের ক্ষীণ গতির স্পন্দনের রীতিকে NREM ও REM বলা হয়। দ্রুত গতিতে স্পন্দনযোগ্য চোখের ঘুম স্বপ্নালু হয়। ক্ষীণগতি চোখের স্পন্দনের (NREM) এর বিশ্রাম চার স্তরে হয়। প্রথম বিশ্রামে হালকা ঘুম ও এর গভীরতায় বৃদ্ধির দিক থেকে চূড়ান্ত গভীর নিদ্রার এক চতুর্থাংশ হয়। রাতে সুস্থ্য ব্যক্তির ঘুমের সময় সাধারণতঃ প্রতি ৯০ মিনিট পর এ যাত্রা বিরতির সম্মুখীন হয়। যেন জানা গেল যে, স্বপ্নও একটি ঘুম, অর্থাৎ যে ঘুমে আমরা স্বপ্ন দেখি সাধারণতঃ সে ঘুম কম গভীর হয়। শিশুদের ঘুমে চোখের অবয়বের বিবর্তন খুব দ্রুত হয়। তখন প্রাপ্ত বয়স্কদের ঘুমের এ সময় শতকরা ২০ থেকে ২৫ বার বিবর্তন হয়। শিশুদের ঘুমের বড় অংশে চোক্ষুদ্বয়ের অবয়ব ক্ষীণ গতিতে বিবর্তন হয়। অর্থাৎ এর যাত্রাবিরতি দুই নম্বর ও চার নম্বরের সম্পূর্ণ বিপরীত হয়। বেশী বয়সী লোকদের ঘুম এ কারণে অনেক কম হয় অথবা পুরো রাতে তার বিন্দুমাত্র ঘুমই আসে না।

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যায়য়ের ঘুম বিশেষজ্ঞ কেন্দ্রের পরিচালক জন ম্যাসনের অভিমত হল, কোন কোন বেশী বয়স্ক ব্যক্তি এ সন্দেহে লিপ্ত হয়েছে যে, তাদের নিদ্রাহীনতা রোগ হয়েছে। তাদের পরীক্ষা করা হলে প্রমাণ হয় যে, তাদের পর্যাপ্ত ঘুম হয়। আর তাদের ঘুম কম হওয়ার কোন কারণ নেই বরং এটা তাদের ঘুমানোর বিশেষ এক পদ্ধতি। ঐ লোকদের জিজ্ঞাসা করে জানা যায়, তারা সকালে সাতটায় জাগার স্থলে সকাল সাড়ে পাঁচটায় জেগে উঠে।

সুতরাং তাদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যে, যদি তারা সচেতনতা ও সজীবতা অনুভব করে। তাহলে তাদের চিন্তার কোন কারণ নেই। আর তাদের মনে করতে হবে যে, তাদের পর্যাপ্ত ঘুম হয়। এটাও এক গৃহীত সিদ্ধান্ত যে, সুস্থ্য ব্যক্তির ঘুমের প্রয়োজন কম হয়। আর যে যে ভাবে স্বাস্থ্যের প্রতি আকৃষ্ট হয় তার ঘুম কমে যায়। কিন্তু স্বাস্থ্য নষ্ট হলে পেরেশানী ও নিম্ন গতিতে (ডিপ্রেশন) এর পরিমাণ বেড়ে যায়।

কেননা হাসি-খুশি, প্রফুল্ল ও সুস্থ্য ব্যক্তি চার ঘণ্টা ঘুমিয়েও সবল সতেজ থাকে। মানুষ যদি নিজে এবং নিজের পরিবেশ সম্পর্কে আত্মতৃপ্ত হয়, তাহলে তার ঘুম এমনিতেই কমে যায়। ঘুমের ব্যাপারে এক আশ্চর্য ও বিস্ময়কর কথা হল, দেহ নিজে নিজের ঘুমের পর্যাপ্ততা ও অপ্রতুলত হওয়ার উপলব্দি হয়। সুতরাং দেহের পর্যাপ্ত ঘুমানোর জন্য সুস্থতা ও পরিবেশ সম্মত অভ্যাসের প্রয়োজন। অপর এক ঘুম বিশেষজ্ঞ ডাক্তার জিরাল্ড ম্যাক মিশনের অভিমত হল, প্রত্যেক ব্যক্তির ঘুমের দ্বারা দেহের কোন অংশ পুনঃবহাল হয়।

এ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া এ পর্যন্ত কঠিন ব্যাপার হয়ে আছে। এ বিষয় একাধিক বিজ্ঞানীদের অভিমত ব্যতিক্রম। কতিপয় গবেষকদের অভিমত হল, প্রত্যাবর্তন (Metabolism) দেহের সাথে সম্পর্কিত হরমোন ঘুমন্ত অবস্থায় বেশী কার্যকরী হয়। তখন সামান্য পরাভূত ও নির্জীব সম্পর্কিত হরমোন অলস ও দুর্বল হয়ে যায়। বৃটেনের বিশেষজ্ঞ ডাক্তার জ্যাম হারটনের মতে ঐ হরমোনের কার্যকারীতা, যা দেহের লালন পালনের সাথে সম্পর্কিত ও প্রত্যাবর্তনের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়, তা সাধারণতঃ দেহের কর্মক্ষমতা অর্থাৎ দৈহিক পরিশ্রম ও অবসাদ প্রভৃতির সাথে সম্পর্কিত হয়। পরিশ্রমের কারণে অবসন্ন হয়। দৈহিক ব্যায়ামকারী ব্যক্তির গভীর ও ভালো ঘুম হয়। অনুরূপভাবে খেলোয়াড় ও দৈহিক পরিশ্রমকারীদেরও ঘুম গভীর এবং সুখময় হয়।

দেহ মনমগজ এমন অঙ্গ, এর সাথে ঘুমের বাস্তব সম্পর্ক রয়েছে। মগজের ঐ অংশ যাকে মস্তকের কেশর (Cerebral Cortex) বলা হয়, তার ঘুমের সব চেয়ে বেশী প্রয়োজন। ঘুমের ঘাটতিতে সর্বপ্রথম এতে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। মস্তকের ঐ অংশ ঘুমন্ত ও জাগ্রত উভয় অবস্থায় জটিল ও কঠিন কাজকর্ম ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে। ঘুমানোর কারণে ঐ অংশের উপর এ বিরুপ প্রতিক্রিয়া প্রতিফলিত হয়, তা যে কোন অবস্থায় বিপজ্জনক হয় বরং এর কারণে দীর্ঘ সময় অর্থাৎ পুরো সপ্তাহের কর্ম ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে।

কম থেকে কম শোয়ার কারণে স্বাস্থ্যের প্রতি ক্ষতিকর কোন প্রভাব পড়ে না, যদি ঘুম গভীর ও আরামদায়ক হয়। দৈহিক প্রয়োজন পূরণ করে দেয়। বিশেষজ্ঞগণ বিভিন্ন উপায়ে ঘুমের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। তাতে লোকেদের তুলনামূলক কম সময় ঘুমানোর ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। ঐ সময় স্বাস্থ্য সম্পর্কে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। তাতে দেখা যায়, কিছু নারী ও পুরুষ রাতে সাত থেকে আট ঘণ্টা পর্যন্ত ঘুমাতে অভ্যস্থ ছিল। স্বেচ্ছা সেবক হিসেবে ঐ সময় তাদেরকে আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা ঘুমানোর ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করা হয়। এক বছর পর তাদের স্বাভাবিক স্বাস্থ্য পর্যালোচনা করা হয়। তাতে দেখা যায়, ঐ সব লোকদের স্বাস্থ্যের উপর কোন দিক থেকে কোন প্রকার ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া প্রতিফলিত হয়নি। তাদের গভীর নিদ্রা মগ্নতার সময় কোন প্রকার ঘাটতি দেখা দেয়নি। আর রাত ভর ঘুমানোর মধ্যে ঐ গভীর নিদ্রামগ্নতার অংশ অভ্যাস অনুযায়ী সময় তিন ঘণ্টার কিছু কম ছিল। যেন তাদের আসল ঘুম হয়ে গেছে, যা তাদের সুস্থতা বহাল রাখার জন্য যথেষ্ট ছিল। দীর্ঘ সময় ঘুমের জন্য বিছানায় পড়ে থাকা অথবা তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে ঘুমানোর চেয়ে উত্তম হল কয়েক ঘণ্টা গভীর ও আরামে ঘুমিয়ে নেওয়া। এ জন্য আনুমানিক রাতে পাঁচ ঘণ্টা ঘুমানো যথেষ্ট হয়।

ডাক্তার ম্যাকমিশন বলেন, রাতে প্রশান্তিদায়ক সুখনিদ্রার জন্য কতিপয় সহজ ও জরুরী বিষয় স্মরণ রাখুন এবং কার্যকরী করুন। তা হল নিম্নরূপ-
১. ঘরে নির্মল বাতাস আসা যাওয়া নিশ্চিত করুন। ঘরের দরজা উষ্ণতা রোধক নাতীশীতুষ্ণ হতে হবে।
২. শয়নের পূর্বে রাতে খাবার খেয়ে নিন। কখনো খালি পেটে শয়ন করবেন না। খানা ও শয়নের মধ্যে সর্বদা এক ঘণ্টার ব্যবধান বহাল রাখুন।
৩. রাতের খাবার যেন ভারী, তেজ ঝালযুক্ত না হয় বরং হালকা ও সহজে হজমযোগ্য হতে হবে।
৪. রাতের শয়নের সময় ঈষৎ উষ্ণ এক গ্লাস দুধ বা কোন ফল বা ফলের হালকা রস সেবন করা উপকারী।
৫. দৈনিক হালকা ব্যায়াম করুন। আর শোয়ার পূর্বে চল্লিশ কদম হাঁটুন অথবা শয়নের পূর্বে উপদেশমূলক কোন কাব্যগ্রন্থ পাঠ করুন। তা আপনার মন থেকে অবসাদ ও ক্লান্তি দূর করে দেবে।
6. শোয়ার পূর্বে দু'আ করুন। আর মানসিকভাবে পূর্ণতৃপ্তি লাভ করুন এবং বেশী বেশী করে মানসিক ভাবে দুশ্চিন্তা মুক্ত হওয়ার চেষ্টা করুন।
৭. শোয়া ও জাগ্রত হওয়ার স্বাভাবিক সময় নির্ধারণ করুন।
৮. শয়নকক্ষের আলো নিভিয়ে দিন। তাহলে চোখ প্রশান্তি লাভ করবে। শোয়ার পরিবেশ সৃষ্টি হবে।
৯. ঘুম না আসার কারণে চিন্তিত হওয়ার কোন কারণ নেই। বরং মনে করুন, আপনি বিশ্রাম করছেন।

এ সম্পর্কে চিন্তিত হলে বা ঘুম আনার চেষ্টা করলে হিতে বিপরীত হতে পারে। এমন অবস্থায় গরমের মৌসুমে মুখে ঠাণ্ডা পানির ঝাপটা দিন। কোন কোন অবস্থায় এটা খুব আরামদায়ক হয়। ঘুমের নির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারিত নেই। এ কারণে আপনি যথাসম্ভব কম ঘুমানোর অভ্যাস করুন। কিন্তু এর জন্য তাৎক্ষণিক কোন চেষ্টা ও তড়িঘড়ি চেষ্টা চালাবেন না বরং ধীরে ধীরে এ অভ্যাস গড়তে হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00