📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 বয়োজ্যেষ্ঠদের স্মরণ শক্তির বিষয়

📄 বয়োজ্যেষ্ঠদের স্মরণ শক্তির বিষয়


বিজ্ঞানীগণ দীর্ঘদিন পর্যন্ত এ বিষয় বাস্তবিক বলে ধারণা করতেন যে, বৃদ্ধ লোকের ব্রেণ একদিনে এক লাখ নিউরোন (মাংস পেশী) থেকে বঞ্চিত হয়। আর এভাবে স্মরণশক্তি থেকে বঞ্চিত হয়। কিন্তু আধুনিক গবেষণা এ সিদ্ধান্ত ভুল প্রমাণ করেছে। বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতমান অভিজ্ঞ অ্যালান প্যাডরিজ এর সাম্প্রতিক গবেষণা মোতাবেক ব্রেনের মাংসপেশী কস্মিন কালেও মরে না। তবে অবশ্য স্তিমিত হয়ে যায়। বিজ্ঞানীগণ এর ব্যাখ্যায় বলেন, মস্তিষ্কে বিদ্যমান কোটি কোটি সংখ্যক মাংসপেশি টেলিফোনের তারের মত কাজ করে। তাতে বয়সের সাথে সাথে দুর্বলতা দেখা দেয়। কিন্তু ব্রেনের ঐ অংশ যাতে স্মরণশক্তি সংরক্ষিত থাকে, তা ক্ষতিগ্রস্থ হয় না। এর ব্যাখ্যায় তারা কম্পিউটারের উদাহরণ দিয়েছেন। আধুনিক কম্পিউটার বিদ্যুৎগতিতে কাজ করে। যেখানে পুরাতন কম্পিউটারের গতি বিশেষ ক্ষীণ হয়। বিজ্ঞানীদের মতে বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তির ব্রেনও এভাবে কিছুটা ক্ষীণ গতির হয়ে যায়। কিন্তু স্বীয় যোগ্যতা ও কর্মক্ষমতার দিক থেকে তাতে কোন ঘাটতি দেখা দেয় না。

খ্যাতনামা সাইকোলোজিষ্ট পাউল ও তার সমমনা বিশেষজ্ঞদের অভিমত হল ৪০ বছর বয়সের পর থেকে মানুষের মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতায় বিশেষ এক ধরনের ঘাটতি দেখা দেয়, যা যুবক লোকদের তুলনায় নকশার উপর প্রার্থিত স্থান তালাশে বিলম্ব করে। অথবা অনেক গাড়ীর মধ্যে নিজের গাড়ীকে চিনতে ভুল করে। যার উপর তাদের মনোযোগ থাকে না। তারা কোন ঘটনা পড়লে বা কোন চলচ্চিত্র দেখেও সম্ভবতঃ স্বীয় দৈনন্দিন কাজে নিয়োজিত হওয়ার কারণে ঐ ঘটনা ও চলচ্চিত্রের কোন কোন দৃশ্য সম্পূর্ণ রূপে ভুলে যায়। কিন্তু ফেঁসে যাওয়া বিষয় সমাধান করায় তাদের দক্ষতায় কোন প্রকার পার্থক্য হয় না। গবেষণা অনুযায়ী কখনো এরূপ প্রমাণ হয়নি যে, কোন বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তির গাড়ী চালাতে ভুল করেছে। অথবা সে দাবা খেলার রীতি নীতি ভুলে গেছে।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের গবেষণা মোতাবেক দেখা যায়, মানুষের মস্তিষ্কের স্মৃতিশক্তি ঐ সময় কমে যায়, যখন এ ধরনের টাইলকোলিন উৎপাদনে ঘাটতি দেখা দেয়। কিন্তু এই ঘাটতি কোন কোন কার্যকরী ঔষধের দ্বারা দূর হয়ে যেতে পারে। তা সাধারণ বাজারে হাতের নাগালেই রয়েছে। এ কারণে যদি কোন বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তির স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে যায়, তাহলে তাকে বেশীর থেকে বেশী অন্যান্য ব্যাধির মত এক ব্যাধি মনে করে এর চিকিৎসা করাতে হবে।

পুরো বিষয় আমি অবগত হয়েছি। প্যাকনাজ স্কুল অফ মেডিসিন বিভাগের নিউরোলজির পরিচালক ব্যারিগোজডনের অভিমত পেশ করে এ আলোচনা সমাপ্ত করছি। বয়োবৃদ্ধদের স্মরণশক্তি শেষ হয়ে যাওয়া এমন এক বিষয়, যেন বলা হল, এ গাড়ী এত বছর পর নষ্ট হয়ে যাবে। অথচ গাড়ী নষ্ট হবে না। পুরাতন হয়ে যাবে। আর যদি ঐ পুরানো গাড়ী সঠিকভাবে দেখাশোনা করা হয়, তাহলে কাজ করার ক্ষেত্রে পুরাতনটি কোন অংশে কম হবে না।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 সুস্থ দেহ ও সুস্থ ব্রেন

📄 সুস্থ দেহ ও সুস্থ ব্রেন


সম্ভবতঃ এ উক্তি ভুল হওয়া সম্পর্কে আপনি আমার সাথে একমত হবেন না। কিন্তু বাস্তবতা হল, শুধু এ ধরনের ব্যাধির কারণে ব্রেণ দুর্বল হয়ে যায়, যেসব ব্যাধি ব্রেণের সাথে সম্পর্কিত। আর ঐ বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তি যে হৃদরোগে অথবা ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত হয় অথবা উচ্চ রক্তচাপের শিকার। ফলে তার দেহও দুর্বল, জরাজীর্ণ, তার ও মেধা শক্তিতে কোন প্রকার ঘাটতি দেখা দেবে না।

প্যানসালভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও অন্যান্য দেহ ও মস্তিস্ক রোগ বিশেষজ্ঞদের অভিমত হল, এ ধরনের দৈহিক ব্যাধিসমূহ তাতে ভুল ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতির অভ্যাস নিজ থেকে যোগ হয়। এর মধ্যে যদিও এরূপ আশঙ্কা হয় যে, দৈহিক শক্তির সাথে সাথে মনের কার্য ক্ষমতাও হ্রাস পেতে শুরু করে। উদাহরণতঃ প্রয়োজন অতিরিক্ত পানাহার করা, কাজ কর্ম না করা, হতোদ্যম ও অলস হয়ে বসে থাকা অথবা দুশ্চিন্তা, এ ধরনের ব্যাধি, যার ফলে দেহের সাথে সাথে স্মরণশক্তিও দুর্বল হয়ে যায়। কিন্তু বয়সের সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই। এ সবব্যাধি অল্প বয়স্ক ব্যক্তির জন্যও ক্ষতিকর, অধিক বয়সের লোকদের জন্যও ক্ষতিকর হয়। তবে বিশেষজ্ঞদের অভিমত হল, এ ধরনের বয়োজ্যেষ্ঠদের মধ্যে যারা প্রয়োজন অতিরিক্ত ব্যায়াম করে, তারা নিজ স্মরণশক্তির সুস্থতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে ফেলে তথাপি আমি আধা ঘণ্টা ভ্রমণকারী ৪০ বছরের বেশী বয়সী ব্যক্তিকে তার সমবয়সী লোকদের তুলনায় অনেক উত্তম এবং তাদের স্মরণশক্তি বেশী থাকে বলে মনে করি, যারা কোন ধরনের ব্যায়াম করে না।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 বয়োজ্যেষ্ঠদের স্মরণশক্তি কি ফেরৎ আসে না?

📄 বয়োজ্যেষ্ঠদের স্মরণশক্তি কি ফেরৎ আসে না?


"ইউ এস ন্যাশনাল ইনষ্টিটিউট অফ এ্যাজিং" এর নিউরোসার্জের প্রধান স্যাটলিনের প্রতিবেদনে এ ধরনের যুবক ও বৃদ্ধদের উপর সমীক্ষা চালিয়েছে, যারা এমন এক কাজে নিয়োজিত ছিল। তাদের গৃহীত সিদ্ধান্ত মতে বেশী বয়স্ক লোকদের নষ্ট হয়ে যাওয়া কাজ সঠিক করার যোগ্যতা কম বয়সী লোকদের তুলনায় অনেক বেশী পাওয়া যায়। কারণ, যখন স্থপতি ব্যক্তির ব্রেণের কোন অংশ বা মাংশপেশী অকার্যকর হয়ে যায়, তখন নিকটবর্তী ব্রেণের কোষ ঐ স্থান দখল করে নেয়। আর যুবকদের ব্রেণে এ যোগ্যতা থাকে না। বয়োবৃদ্ধ ব্রেণের এ যোগ্যতা বিস্ময়কর।

প্যানসালভেনিয়া স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মহিলা শিরি বিলিজের গবেষণায় অপর এক বিস্ময়কর বিষয় প্রকাশ পেয়েছে অর্থাৎ এ ধরনের বয়োজ্যেষ্ঠ, যাদের বয়স সত্তর বছর বা তার চেয়ে কিছু বেশী হয়েছে এবং যাদের স্মরণশক্তি বিশেষভাবে অকার্যকর হয়ে গেছে, তাদের জন্য গৃহশিক্ষকের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। যাতে তাদের উপদেশ ও কোচিংয়ে বয়োজ্যেষ্ঠরা স্বীয় ব্রেণের দুর্বলতার হয়রানী থেকে কিছুটা রক্ষা পায়। দীর্ঘ সাত বছর পর পুনরায় দ্বিতীয়বার যখন ঐ সব লোকদের পর্যবেক্ষণ করা হয়, তখন দেখা যায়, তাদের কর্মক্ষমতায় কোন ঘাটতি নেই। অনুরূপভাবে বার্লিনের ম্যাক্স প্লাঙ্ক ইনস্টিটিউটের পাল ব্যারিষ্টার বিভিন্ন ধরনের লোকের স্মরণশক্তি পর্যালোচনা করে প্রমাণ করেছেন, বেশী বয়স্ক ব্যক্তি শিক্ষার ব্যাপারে অল্প বয়সী লোকদের অগ্রবর্তী হয়। মনোস্তত্ত্ব বিশেষজ্ঞগণ বর্তমানে দৃঢ়ভাবে বিভিন্ন অনুশীলন ও কোচিংয়ের মাধ্যমে বয়োজ্যেষ্ঠদের স্মরণশক্তি উন্নত করতে হয়েছে তাদের পর্যবেক্ষণ ও কোন বিষয়ের বাস্তবতা উপলব্ধি করার যোগ্যতায়ও বিস্ময়কর অগ্রগতি সাধিত হয়েছে।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 প্রকৃত বাস্তবতা জীবন অনুভূতি ও জ্ঞানপ্রজ্ঞা বৃদ্ধি করে

📄 প্রকৃত বাস্তবতা জীবন অনুভূতি ও জ্ঞানপ্রজ্ঞা বৃদ্ধি করে


(এক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন) প্রাচ্যদেশে প্রচলিত এ ধারণা সম্পূর্ণ সঠিক ও বাস্তবভিত্তিক বলে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে যে, বয়োজ্যেষ্ঠদের জ্ঞান-প্রজ্ঞা বুদ্ধিমত্তা যুবকদের তুলনায় অনেক বেশী সঠিক ও নির্ভরযোগ্য হয়। এলিন লিনগর ও তার সাথী বিকালুই হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিল। তার নেতৃত্বে এক পর্যবেক্ষণ অনুশীলন চলাকালে চীনা ও আমেরিকান বয়োবৃদ্ধদের কর্মদক্ষতায় যখন প্রতিযোগীতায় পার্থক্য নিরুপন করা হয়, তখন চীনা বয়োবৃদ্ধদের কর্মক্ষমতা উন্নত প্রমাণ হয়। কেননা চীনের বয়োজ্যেষ্ঠদের বেশী বুদ্ধিমান ও প্রজ্ঞাশীল পাওয়া যায়। সে সময় আমেরিকার সামাজিক অবস্থা এর সম্পূর্ণ বিপরীত ছিল। গবেষণা কেন্দ্র সমূহ ব্রেণের পেশী সম্পর্কে পরীক্ষা-নিরীক্ষা কারী বিশেষজ্ঞগণ এ পর্যন্ত এ কথার সমর্থক হয়েছেন যে, বেশী বয়স জ্ঞান-প্রজ্ঞা ও বুদ্ধিমত্তার দিক থেকে এক নিয়ামত ও মূলধন।

বার্লিনে অন্তঃদৃষ্টি সঠিক আন্দাজের বিষয়ের মূলকারণ ও এর ইতিবাচক সমাধানের ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন বয়সীদের মাঝে এক প্রতিযোগীতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পর্যবেক্ষক দলের সদস্যগণ প্রত্যক্ষ্য করেন যে, ৭৫ বছর বয়সের লোক স্বীয় কর্মক্ষমতার দিক থেকে যুবকদের তুলনায় অনেক বেশী অগ্রগামী ছিল। অপর এক অভিজ্ঞতায় বেশী বয়সী মুদ্রাক্ষরিকদের কর্মদক্ষতা প্রতিযোগীতায় কমবয়সী মুদ্রাক্ষরিকদের তুলনায় বাচনভঙ্গী পূর্ববর্তী শব্দাবলীর সাথে বুঝে নেয়। যদিও কি-বোর্ডের উপর রাখা তাদের আঙ্গুল যুবক মুদ্রাক্ষরিকদের তুলনায় ক্ষীণ গতিতে চলে, কিন্তু তারা স্বীয় শক্তিকে শব্দ মুদ্রন করে ব্যয় করে না। আর তাদের বারবার বাচনভঙ্গীর প্রতিও তাকাতেও হয় না। এতে তাদের সার্বিক কর্মদক্ষতা যুবকদের তুলনায় উত্তম প্রমাণ হয়েছে। অপর এক পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, বয়োজ্যেষ্ঠ লোক যদিও সিদ্ধান্ত গ্রহণে তুলনামূলক বেশী সময় নষ্ট করে, কিন্তু তাদের সিদ্ধান্ত অধিক সঠিক ও বাস্তব ভিত্তিক হয়।

এ বিস্ময়কর পর্যবেক্ষণের সারমর্ম হল, বেশী বয়সের লোকের ব্রেণ যুবক ব্রেণ থেকে কস্মিনকালেও নিচু হয় না বরং বিশুদ্ধ মতে তারা ব্যতিক্রম হয়। আর যদিও কোন কোন দিক থেকে তারা যুবকদের তুলনায় দুর্বল হয়। তারা ঐ দুর্বলতাকে নিজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় জ্ঞান-প্রজ্ঞা, বুদ্ধিমত্তা ও অন্তর্দৃষ্টি দ্বারা দূর করে নেয়। তারা অধিকাংশ সময় জয় লাভ করে। এ কথা যদিও ইউ এস নিউজ এণ্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্টের ঐ জরিপের অন্তর্ভুক্ত হয়নি। কিন্তু তার মধ্যকার এ বাস্তবতা বিশ্ব ইতিহাসকে ভালোভাবে মানতে বাধ্য করেছে যে, বৃদ্ধ ব্রেণ যদি নবীন যুবকের দৈহিক শক্তিকে ব্যবহার করে তাহলে পৃথিবী তার সামনে অবনত হয়ে যায়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00