📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 বয়োজ্যেষ্ঠদের সম্মান ও আধুনিক বিজ্ঞান

📄 বয়োজ্যেষ্ঠদের সম্মান ও আধুনিক বিজ্ঞান


ইসলাম বয়োজ্যেষ্ঠদের সম্মান প্রদান করেছে। ইউরোপে বয়োজ্যেষ্ঠদের তুচ্ছ তাচ্ছিল্য ও অবজ্ঞা করা হয়। কিন্তু বর্তমানে সেই ইউরোপীয়দের গবেষণায় প্রমাণ হয়েছে, বাস্তবেই বয়োজ্যেষ্ঠরা সম্মানের যোগ্য। ইউ.এস. নিউজ উইক এন্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্টের এক চমক লাগানো রিপোর্ট যা সারা বিশ্বে প্রকাশ হয়েছে। নামী দামী ও বিশ্ববিজয়ী কাহিনীর ভিত্তিতে জমিনে পতিত করে দিয়েছে। এটি এমন এক বিষয়, যা যে কোন বয়সের মানুষ পড়তে ইচ্ছুক。

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 বুদ্ধিমত্তা ও বয়োজ্যেষ্ঠতা

📄 বুদ্ধিমত্তা ও বয়োজ্যেষ্ঠতা


এ বৃদ্ধ তো এখন বার্ধক্য জনিত জ্ঞান শূন্য। শিশু ও বৃদ্ধ এক সমান হয়ে গেছে। ছেড়ে দিন জি! তাতে বাবাজির কি অপরাধ। এটাতো হল তার বয়সের চাহিদা। এ ধরনের অসংখ্য উক্তি আমাদের সমাজে সাধারণতঃ প্রচলিত নয় বরং পাশ্চাত্য জগতেও বয়োজ্যেষ্ঠদের বুদ্ধিমত্তা লোপ পাওয়ার বিষয়কে বাস্তবে স্বীকার করা হয়। কিন্তু বিশ্ববরেণ্য মনোস্তাত্ত্বিকদের গবেষণা এ সম্পর্কে দ্বি-মত প্রকাশ করেছে। ঐ বিশেষজ্ঞদের এক অভিমত বিশ্বকে হতবাক করে দিয়েছে যে, বয়োবৃদ্ধ ব্রেণ বিস্ময়কর শক্তি, অভিজ্ঞতা ও সংশোধনের অধিকারী। সহস্র হাজার লোকের ব্রেণের অভিজ্ঞতার উপর বিজ্ঞানীদের অভিজ্ঞতা ও অসংখ্য বৃদ্ধ লোকের অভিমত জানার পর আমেরিকার বিশেষজ্ঞগণ যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তাতে তারা ঐ সমস্ত উক্তি ভ্রান্ত বলে উল্লেখ করেছে। যা বয়োবৃদ্ধ লোকদের সম্পর্কে আজ পর্যন্ত সঠিক বলে সমর্থন করা হয়। আমি দুনিয়াতে প্রচলিত অভিমত ও উক্তি সমূহের মূল্যায়ন ও বিশেষজ্ঞদের তরতাজা অভিমত সমূহের আলোকে বক্তব্য পেশ করছি। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসিদ্ধ বিজ্ঞানী গর্ডলাস পাউল ১৫৮৩ খ্রিঃ মানুষের উপর এক গবেষণা পরিচালনা করেন। তাতে ২৫ বছর বয়স থেকে শুরু করে ৯৩ বছর বয়সের লোক অন্তর্ভূক্ত ছিল। তিনি তাদের স্মরণশক্তি, শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি নিয়ে পর্যালোচনা করেন। উক্ত গবেষণার ফলে শতকরা ৫ থেকে ৮ জন বয়োবৃদ্ধের কর্মক্ষমতা নবযুবকদের তুলনায় কোন অংশে কম ছিল না। যেখানে ৮০ ও ৯০ বছর বয়সের একাধিক ব্যক্তি তো স্বীয় ব্রেণের সংশোধনের যোগ্যতার দিক থেকে যে কোন বয়সের লোকদের থেকে উত্তম ও উন্নত প্রমাণ হয়। যে সকল বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তি নিজ কাজকর্মে কম বের হয়, তাদের অবস্থা এমন ছিল না যে, তাদের প্রতিদিনের অভ্যাসে প্রতিক্রিয়া দেখা যেত। পাউল তার প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছেন, সত্তর বছর বয়স্ক ব্যক্তির মেধা শক্তিতে কোন প্রকার ঘাটতি পাওয়া যায় নি। এতে প্রমাণ হয় যে, সত্তর বছর বয়সের পরও শতকরা ২৫ জন লোক তার শক্তি বহাল রাখতে সক্ষম হয়। সত্তর বছরের পূর্বে মস্তিষ্কের দুর্বলতার শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে অধিকাংশই ব্যক্তি উগ্রমেজাজী এবং নানা রোগ-ব্যাধি ও প্রতিকূল পরিবেশের শিকার হয়।

প্যানসালভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জরনাটোলজি কেন্দ্রের পরিচালক ওয়ারন্যারশাই তার গবেষণায় উল্লেখ করেছেন, ভাল উন্নত শিক্ষা সুস্বাস্থ্য শ্রমসাধনা ও সুন্দর অবয়ব ও বন্ধুসূলভ আচরণ জীবনের বুনিয়াদী কাজ। তাতে ব্রেনের শক্তি দীর্ঘ জীবন পর্যন্ত বহাল থাকে। কোন ঘাটতি দেখা যায় না।

পক্ষান্তরে যারা এক নিয়মে অভ্যস্থ হয়ে গেছে। তারা স্বীয় জীবন সম্পর্কে অতৃপ্ত হয়ে আছে। তাদের বুদ্ধি অতিদ্রুত বার্ধক্যের শিকার হয়। অপর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৭০ বছর ও তার চেয়ে বেশী বয়সের লোক ফলাফল নির্ধরনের গতি ক্ষীণ হয়। আর বিশ বছর বয়সের যুবকের তুলনায় ভুল ভ্রান্তি বেশী করে। কিন্তু ঐ সব লোকদের মেধাশক্তি সমূহের যেখানে ঐ উপকরণের ঘাটতি হয়, ওখানে এমন কিছু যোগ্যতা তাদের মাঝে সৃষ্টি হয়, যা তাদের ঐ ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দান করে। অভিজ্ঞতায় এ কথার সত্যতা প্রমাণ হয়েছে যে, কোন কোন বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তি মেধাশক্তির দিক থেকে যে কোন বয়সের যুবকদের থেকে বিস্ময়কররূপে উত্তম ও অগ্রবর্তী হয়। কাজেই বলা হয় যে, বার্ধক্যের কারণে বুদ্ধিতে ঘাটতি সৃষ্টি হয়।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 বয়োজ্যেষ্ঠদের স্মরণ শক্তির বিষয়

📄 বয়োজ্যেষ্ঠদের স্মরণ শক্তির বিষয়


বিজ্ঞানীগণ দীর্ঘদিন পর্যন্ত এ বিষয় বাস্তবিক বলে ধারণা করতেন যে, বৃদ্ধ লোকের ব্রেণ একদিনে এক লাখ নিউরোন (মাংস পেশী) থেকে বঞ্চিত হয়। আর এভাবে স্মরণশক্তি থেকে বঞ্চিত হয়। কিন্তু আধুনিক গবেষণা এ সিদ্ধান্ত ভুল প্রমাণ করেছে। বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতমান অভিজ্ঞ অ্যালান প্যাডরিজ এর সাম্প্রতিক গবেষণা মোতাবেক ব্রেনের মাংসপেশী কস্মিন কালেও মরে না। তবে অবশ্য স্তিমিত হয়ে যায়। বিজ্ঞানীগণ এর ব্যাখ্যায় বলেন, মস্তিষ্কে বিদ্যমান কোটি কোটি সংখ্যক মাংসপেশি টেলিফোনের তারের মত কাজ করে। তাতে বয়সের সাথে সাথে দুর্বলতা দেখা দেয়। কিন্তু ব্রেনের ঐ অংশ যাতে স্মরণশক্তি সংরক্ষিত থাকে, তা ক্ষতিগ্রস্থ হয় না। এর ব্যাখ্যায় তারা কম্পিউটারের উদাহরণ দিয়েছেন। আধুনিক কম্পিউটার বিদ্যুৎগতিতে কাজ করে। যেখানে পুরাতন কম্পিউটারের গতি বিশেষ ক্ষীণ হয়। বিজ্ঞানীদের মতে বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তির ব্রেনও এভাবে কিছুটা ক্ষীণ গতির হয়ে যায়। কিন্তু স্বীয় যোগ্যতা ও কর্মক্ষমতার দিক থেকে তাতে কোন ঘাটতি দেখা দেয় না。

খ্যাতনামা সাইকোলোজিষ্ট পাউল ও তার সমমনা বিশেষজ্ঞদের অভিমত হল ৪০ বছর বয়সের পর থেকে মানুষের মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতায় বিশেষ এক ধরনের ঘাটতি দেখা দেয়, যা যুবক লোকদের তুলনায় নকশার উপর প্রার্থিত স্থান তালাশে বিলম্ব করে। অথবা অনেক গাড়ীর মধ্যে নিজের গাড়ীকে চিনতে ভুল করে। যার উপর তাদের মনোযোগ থাকে না। তারা কোন ঘটনা পড়লে বা কোন চলচ্চিত্র দেখেও সম্ভবতঃ স্বীয় দৈনন্দিন কাজে নিয়োজিত হওয়ার কারণে ঐ ঘটনা ও চলচ্চিত্রের কোন কোন দৃশ্য সম্পূর্ণ রূপে ভুলে যায়। কিন্তু ফেঁসে যাওয়া বিষয় সমাধান করায় তাদের দক্ষতায় কোন প্রকার পার্থক্য হয় না। গবেষণা অনুযায়ী কখনো এরূপ প্রমাণ হয়নি যে, কোন বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তির গাড়ী চালাতে ভুল করেছে। অথবা সে দাবা খেলার রীতি নীতি ভুলে গেছে।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের গবেষণা মোতাবেক দেখা যায়, মানুষের মস্তিষ্কের স্মৃতিশক্তি ঐ সময় কমে যায়, যখন এ ধরনের টাইলকোলিন উৎপাদনে ঘাটতি দেখা দেয়। কিন্তু এই ঘাটতি কোন কোন কার্যকরী ঔষধের দ্বারা দূর হয়ে যেতে পারে। তা সাধারণ বাজারে হাতের নাগালেই রয়েছে। এ কারণে যদি কোন বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তির স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে যায়, তাহলে তাকে বেশীর থেকে বেশী অন্যান্য ব্যাধির মত এক ব্যাধি মনে করে এর চিকিৎসা করাতে হবে।

পুরো বিষয় আমি অবগত হয়েছি। প্যাকনাজ স্কুল অফ মেডিসিন বিভাগের নিউরোলজির পরিচালক ব্যারিগোজডনের অভিমত পেশ করে এ আলোচনা সমাপ্ত করছি। বয়োবৃদ্ধদের স্মরণশক্তি শেষ হয়ে যাওয়া এমন এক বিষয়, যেন বলা হল, এ গাড়ী এত বছর পর নষ্ট হয়ে যাবে। অথচ গাড়ী নষ্ট হবে না। পুরাতন হয়ে যাবে। আর যদি ঐ পুরানো গাড়ী সঠিকভাবে দেখাশোনা করা হয়, তাহলে কাজ করার ক্ষেত্রে পুরাতনটি কোন অংশে কম হবে না।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 সুস্থ দেহ ও সুস্থ ব্রেন

📄 সুস্থ দেহ ও সুস্থ ব্রেন


সম্ভবতঃ এ উক্তি ভুল হওয়া সম্পর্কে আপনি আমার সাথে একমত হবেন না। কিন্তু বাস্তবতা হল, শুধু এ ধরনের ব্যাধির কারণে ব্রেণ দুর্বল হয়ে যায়, যেসব ব্যাধি ব্রেণের সাথে সম্পর্কিত। আর ঐ বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তি যে হৃদরোগে অথবা ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত হয় অথবা উচ্চ রক্তচাপের শিকার। ফলে তার দেহও দুর্বল, জরাজীর্ণ, তার ও মেধা শক্তিতে কোন প্রকার ঘাটতি দেখা দেবে না।

প্যানসালভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও অন্যান্য দেহ ও মস্তিস্ক রোগ বিশেষজ্ঞদের অভিমত হল, এ ধরনের দৈহিক ব্যাধিসমূহ তাতে ভুল ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতির অভ্যাস নিজ থেকে যোগ হয়। এর মধ্যে যদিও এরূপ আশঙ্কা হয় যে, দৈহিক শক্তির সাথে সাথে মনের কার্য ক্ষমতাও হ্রাস পেতে শুরু করে। উদাহরণতঃ প্রয়োজন অতিরিক্ত পানাহার করা, কাজ কর্ম না করা, হতোদ্যম ও অলস হয়ে বসে থাকা অথবা দুশ্চিন্তা, এ ধরনের ব্যাধি, যার ফলে দেহের সাথে সাথে স্মরণশক্তিও দুর্বল হয়ে যায়। কিন্তু বয়সের সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই। এ সবব্যাধি অল্প বয়স্ক ব্যক্তির জন্যও ক্ষতিকর, অধিক বয়সের লোকদের জন্যও ক্ষতিকর হয়। তবে বিশেষজ্ঞদের অভিমত হল, এ ধরনের বয়োজ্যেষ্ঠদের মধ্যে যারা প্রয়োজন অতিরিক্ত ব্যায়াম করে, তারা নিজ স্মরণশক্তির সুস্থতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে ফেলে তথাপি আমি আধা ঘণ্টা ভ্রমণকারী ৪০ বছরের বেশী বয়সী ব্যক্তিকে তার সমবয়সী লোকদের তুলনায় অনেক উত্তম এবং তাদের স্মরণশক্তি বেশী থাকে বলে মনে করি, যারা কোন ধরনের ব্যায়াম করে না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00