📄 দীর্ঘ জীবন লাভের গোপন রহস্য
অসীম আসমানের নির্দয়তা প্রাণের আকর্ষণ বিকর্ষণ, জীবনের অনিশ্চয়তায় সংকীর্ণ হয়ে অধিকাংশ মানুষ নিজ জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটাতে চায়। কিন্তু এরূপ হওয়া সত্ত্বেও মানুষ স্বীয় নির্ধারিত জীবনকে কার্যকরী বানানোর উদ্দেশ্য ও হযরত নূহ আ. এর মত দীর্ঘ জীবন লাভের চিন্তায় মগ্ন হয়ে পড়েছে। সুতরাং এর আলোকে সাধারণতঃ আবে হায়াতের বা অমরত্ব লাভের পানির বর্ণনা এসে যায়। যা পান করে মানুষ অমর হতে চায়। এ আবেহায়াত কোথায়? আর তা কোন ঝর্ণা থেকে প্রবাহিত হয়। এর জবাব আজ পর্যন্ত কোন দিগবিজয়ী কলম্বাস দিতে পারেনি। তথাপি আমাদের এ পৃথিবীতে এরূপ লোক আবির্ভূত হয়ে অতীত হয়েছে। আর বর্তমানে, বিদ্যমান আছে। তারা আবেহায়াত পান করেনি। কিন্তু নিজের সাধারণ জীবন-যাপন ও সহজসরল অভ্যাস ও চালচলনের কারণে দীর্ঘ জীবন লাভ করেছে। আর এ জগতের রং রূপের দৃশ্যাবলীকে দীর্ঘ দিন যাবত দু'নয়ন ভরে উপভোগ করছে।
মানুষ স্বাভাবিকভাবে দীর্ঘ জীবন লাভের গোপন রহস্য মনে করে মূল্যবান দামী খাবারকে, এ ধারণা সঠিক নয়। ইংলেন্ডের প্রসিদ্ধ কবর স্থান ওয়েষ্টমিনিষ্টার এভিতে “থমাস পারকার" নামক এক ব্যক্তিকে সমাধিস্থ করা হয়। ১৪৮৩ খ্রিঃ তার জন্ম হয়, আর ১৬৩৫ খ্রিঃ তার মৃত্যু হয়। এভাবে সে দীর্ঘ ১৫০ বছর জীবন লাভ করে। কথিত আছে, ১৩০ বছর বয়সেও তার স্বাস্থ্য ঈর্ষান্বিত ভালো ছিল। সে শুধু নিজের জমিতে কাজ করত না বরং অবসর সময়ে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে অন্যের জমিতেও কাজ করত, ঐ বয়সে সে দ্বিতীয় বিবাহ করে।
তার দুর্ভাগ্য হল, একদিন প্রথম চার্লস তার এত দীর্ঘ জীবন, এত সুন্দর স্বাস্থ্যের বর্ণনা শুনে তাকে স্বীয় দরবারে আমন্ত্রণ জানিয়ে রাজকীয় অতিথিশালায় আপ্যায়ণের আয়োজন করে। প্রথম চার্লস এভাবে তার আতিথেয়তার ব্যবস্থা করে যে, থমাসের জন্য উন্নত মানের মদ, সুস্বাদু খাবার ও বিভিন্ন প্রকার মিষ্টি খাবারের আয়োজন করে। সকল প্রকার ভোগবিলাসিতারও আয়োজন করে। তাকে কোন কাজ করতে দেয়নি। এর শেষ পরিণতি হল, থমাস অল্পদিনের মধ্যে মৃত্যুকে স্বাগতম জানিয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় হয়ে চলে যায়। তার মৃত্যুর পর তার রক্ত ও দেহ পরীক্ষা করে প্রমাণ হয় যে, তার মৃত্যুর জন্য মূলতঃ দায়ী হল এ উন্নত মানের খাবার ও প্রয়োজনের অতিরিক্ত বিশ্রাম। যা সে প্রথম চার্লসের এখানে রাজকীয় অতিথি হওয়ার কারণে পেয়েছে।
খ্যাতনামা অভিজ্ঞ ডাক্তার ওলিম পাওরের অভিমত হল যে, যদি তার খাদ্য ও আবহাওয়ায় পরিবর্তন করা না হত, আর সে তার পরিশ্রমকে বহাল রাখত, তাহলে সে আরো দীর্ঘ দিন জীবিত থাকত। দীর্ঘ গবেষণার পর প্রকাশ হয়েছে যে, তার দীর্ঘ জীবন সুস্থ থাকার একমাত্র কারণ ছিল, সে খাদ্য হিসেবে শুধু সাদা রুটি, তাজা দুধ পানি, এবং তাজা সবুজ শাক সবজি ব্যবহার করত।
তুর্কী জনগণ সাধারণতঃ পরিশ্রমি ও কষ্ট সহিষ্ণু হয়। তুরষ্কে এখন পর্যন্ত এমন হাজারো লোক অতিবাহিত হয়েছে যে, যারা শত বছরের বেশী জীবন লাভ করেছে। জারো আগা নামে এরূপ এক ব্যক্তি ছিল, তার জন্ম হয় ১৭৭৩ খ্রিঃ, আর দীর্ঘ ১৫১ বছর পর ১৯৩৪ খ্রিঃ তার মৃত্যু হয়। তার দৈহিক আকৃতি ছয় ফুট লম্বা ছিল। তার দেহ সুঠাম মজবুত ও তেলতেলে ছিল। সে তার এ দীর্ঘ জীবনে কখনো কোন ব্যাধির শিকার হয়নি। সে জীবনে ১১টি বিবাহ করেছে। তাতে তার ৩৬ জন সন্তান হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রায় অধিকাংশ সন্তান শত বছরের দীর্ঘজীবন পেয়েছে। তাদের এ দীর্ঘজীবন লাভের কারণ সম্পর্কে বলেছিল, আমার নিকট এমন কোন ডাক্তারী চিকিৎসার ব্যবস্থা পত্র নেই, যা ব্যবহার করে মানুষ দীর্ঘ জীবন লাভ করতে পারবে। আর দীর্ঘ জীবন লাভের একমাত্র উপায় হচ্ছে, আমি জীবনে কখনো সীমাতিরিক্ত কোন কাজ করিনি। আর আমার জীবনের বেশীর ভাগ সময় সবুজ শ্যামল পথে প্রান্তরে ও উন্মুক্ত ময়দানে বিচরণের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করেছি।
মদ, তামাক ও এ ধরনের অন্যান্য নেশা জাতীয় দ্রব্যাদির প্রতি আমার স্বাভাবিক ঘৃণা ছিল। তাজা দুধ, ফল ফলাদি ও তাজা শাক সবজি আমার প্রিয় খাবার ছিল। আমি রাত দিনে মাত্র দু'বার খাবার খেতাম। আমি আমার খাবারের পরিমাণও কখনো বেশ কম হতে দেইনি। আমি সর্বদা পরিমিত আহার করতাম। এর সাথে সাথে আমি দৈনিক প্রায় দু'মাইল পথ পায়ে হেঁটে যেতাম। আমার নিত্যদিনের কাজ সমূহ নিজেই করতাম। বর্তমানেও তুরষ্কে এ ধরনের হাজারো মানুষ রয়েছে, যাদের বয়স একশ বছরের বেশী হবে। আধুনিক চীনের প্রতিষ্ঠাতা প্রাণপুরুষ লীচেং জন। তিনি দীর্ঘ ২০০ বছর জীবনায়ু পেয়েছেন। তার সম্পর্কে বলা হয়, তার বয়স যখন ১৫০ বছর হয়, তখন স্বীয় কাজ থেকে অবসর নিয়ে নিজের গ্রামের বাড়ী চলে আসেন। ৮০ বছর পর্যন্ত দেশীয় কৃষি কাজ করেন। মৃত্যু পর্যন্ত তার স্বাস্থ্য ঈর্ষান্বিত ভালো ছিল। সে তার জীবনে ১৪ বিবাহ করেছে। তার ১৮০ জন সন্তান জন্ম হয়। লীচেং জন দীর্ঘ জীবন ও উত্তম স্বাস্থ্য লাভের চার মূলনীতির উল্লেখ করেছেন।
১. কচ্ছপের মত বসুন অর্থাৎ দিনের মধ্যে এরূপ এক সময় নির্ধারণ করুন, যখন আপনি একাকী নির্জনে বসে আপনার অন্তর ও চিন্তা-শক্তিকে একস্থানে অবরুদ্ধ করে ফেলুন। ঐ মুহূর্তে আপনি একান্ত নিষ্ঠার সাথে স্বীয় কৃতকর্মের ভালো-মন্দ, স্বীয় জীবনের মূলনীতি ও নিজের ভবিষ্যতকে দীপ্তিমান করার চিন্তা ভাবনা করুন। এভাবে আপনি আপনার সামগ্রীক অলসতা সম্পর্কে সতর্ক হয়ে তা দূর করে দেওয়ায় সচেষ্ট হোন। এতে আপনার ব্যক্তিস্বত্তা উন্নতি লাভ করবে। আপনার দেহমন ও আত্মার প্রয়োজনীয় শক্তি প্রতিষ্ঠা করার যোগ্যতা লাভ করতে সক্ষম হবেন।
২. কবুতরের মত বক্ষ প্রশস্থ করে চলতে শুরু করুন অর্থাৎ স্বীয় অন্তর ও ফুসফুসের সাহায্যে কাজ করে গভীর নিঃশ্বাসের সাথে সচল রাখার জন্য অক্সিজেন অত্যাবশ্যক। এটা যত বেশী পরিমাণে আপনার দেহের অভ্যন্তরে প্রবেশ করানো হবে ঠিক তত বেশী পরিমানে আপনার রক্ত পরিশোধিত হবে। আপনার হজমশক্তি সঠিক থাকবে। আর আপনি যে ধরনের খাদ্য ভক্ষণ করুন না কেন, তা অতিসহজে হজম হয়ে আপনার শরীরের সাথে মিলিত হবে। আর তাতে আপনার দেহে রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।
৩. কুকুরের মত শয়ন করুন। আরাম দায়ক গভীর নিদ্রার গুরুত্ব অনস্বীকার্য দিনের কঠোর পরিশ্রম ও দৌড়-ঝাঁপের পর মানবদেহ দীর্ঘ বিশ্রাম লাভের প্রত্যাশি হয়। মহান আল্লাহ তা'আলা মানুষের বিশ্রাম গ্রহণের জন্য রাত সৃষ্টি করেছেন। যদি মানুষ রাতে দুশ্চিন্তামুক্ত হয়ে আরামের ঘুম না ঘুমায়, তাহলে সে দিন ভর হাসি-খুশি ও আন্তরিকতার সাথে স্বীয় কাজ সমাধা করতে পারবে না। নিদ্রাহীনতা ও দেহকে বিশ্রাম না দেওয়ার কারণে দেহের কর্ম প্রেরণা হ্রাস পায়। দেহ দুর্বল ও রোগাক্রান্ত হতে শুরু করে। তাই মানসিক ও দৈহিক সুস্থতা লাভের জন্য রাতের গভীর সুখনিদ্রার প্রয়োজন অপরিহার্য।
৪. সর্বদা অন্তর প্রফুল্ল রাখুন। যেভাবে দিনের সাথে রাতের ফুলের সাথে কাঁটার সম্পর্ক অত্যাবশ্যক, অনুরূপভাবে জীবনের সাথে হাসি-খুশি ও প্রফুল্লতার সাথে পুরোপুরি স্বাদ উপভোগের উদ্দেশ্যে মানুষকে জীবনে অনেক বার দুর্ঘটনায়ও একাকার হয়ে যেতে হয়। কিন্তু যদি মানুষ বিন্দুমাত্র দুঃখ-কষ্টের সাথে জীবন চালাতে শুরু করে, আর সাহস হারিয়ে বসে, তাহলে সে অতিদ্রুত কিংকর্তব্য বিমুঢ়তার শিকার হয়ে মৃত্যুর করাল গ্রাসে পরিণত হয়ে যাবে। মানসিক দুশ্চিন্তা, প্রতিহিংসা, এক গুঁয়েমি, রাগ ও গোস্বা, সীমাতিরিক্ত ছলচাতুরী মানবদেহে বিষাক্ত উপাদান তৈরি করে। আর তা স্বাস্থ্যের উপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করে।
📄 খর্বাকৃতির লোক দীর্ঘ জীবন লাভ করে
পৃথিবীর সর্বত্র দীর্ঘাকৃতি লোককে সম্মানের দৃষ্টিতে দেখা হয়। আর সাধারণতঃ দীর্ঘাকৃতির লোক শুধু শক্তিশালী সবল ও স্বাস্থ্যবান হবে। আমার মাতা-পিতা, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয় স্বজন, সংবাদ মাধ্যম চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনও আমার অন্তরে এ বিষয় আলোড়ন করত যে, লম্বা হওয়া অনেক সৌন্দর্যের ব্যাপার। খেলাধুলা যেমন, ফুটবল, বাস্কেট বল, বেসবল প্রভৃতির জন্যও লম্বা খেলোয়াড় নির্বাচনও তাই প্রমাণ করে। কিন্তু বর্তমানে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞগণ দীর্ঘ কয়েক বছর গবেষণার পর এ চিত্তাকর্ষক রহস্য উন্মোচন করেছেন যে, দীর্ঘাকৃতি ও সুস্থতার মাঝে কোন সম্পর্ক নেই। চিকিৎসক ও বিজ্ঞানীগণ বিভিন্ন শ্রেণী পেশা ও অভিজ্ঞতার সাথে সম্পর্কিত অনেক ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করেন। তন্মধ্যে সাবেক আমেরিকার প্রেসিডেন্ট, আঘাত সম্পর্কিত অভিজ্ঞ বিজ্ঞানী, ব্যবসায়ী ও খেলোয়াড় অন্তর্ভূক্ত ছিল। তাদের মোট সংখ্যা ৭৫০ জন ছিল। প্রথমে পৃথক পৃথকভাবে তাদের সকলের দৈহিক আকৃতি মৃত্যুর সময় ও বয়স সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়। তারপর তাদের দৈহিক আকৃতি অনুযায়ী বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত করে (যেমন দীর্ঘাকৃতি, মধ্যমাকৃতি ও খর্বাকৃতি) প্রত্যেক দলের গড় আয়ু বের করা হয়। তারপর পারস্পরিক তুলনা করে বয়স সমূহের শতকরা গড় হিসাব করা হয়। ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি থেকে ছোট আকৃতির লোক খর্বাকৃতির আর ৬ ফুট দীর্ঘাকৃতির লোককে দীর্ঘাকৃতির দলভূক্ত করা হয়।
এ অনুসন্ধানে প্রমাণ হয়েছে, একই দলের বিভিন্ন খর্বাকৃতির লোক ও দীর্ঘাকৃতির লোকের মোকাবিলায় কমের পক্ষে শতকরা ১১ জন দীর্ঘ দিন জীবিত থাকে। আর দু'দলের মধ্যে এ পার্থক্য শতকরা ২০ ভাগ পর্যন্ত পাওয়া যায়। বাস্কেট বলের ৬ ফুটের অধিক লম্বা খেলোয়াড়দের শতকরা গড় আয়ু ৬৪ বছর ছিল। আর খর্বাকৃতির খেলোয়াড়দের ৭৪ বছর অর্থাৎ লম্বা খেলোয়াড়দের থেকে ৯ বছর বেশী। এ অবস্থা ফুটবল ব্যাপারেও খর্বাকৃতির খেলোয়াড়দের মধ্যে বিদ্যমান ছিল। অনুরূপভাবে খর্বাকৃতির বক্সার দীর্ঘাকৃতির বক্সারের তুলনায় সাত বছর বেশী জীবিত থাকে। অনুরূপভাবে বেসবলের খর্বাকৃতির খেলোয়াড়রা দীর্ঘাকৃতির খেলোয়াড় থেকে গড়ে বার বছর বেশী বয়স পায়। সফল ব্যবসায়ীদের মধ্যে খর্বাকৃতির ও দীর্ঘাকৃতির ব্যক্তিদের মধ্যে বয়সের ৯ বছরের পার্থক্য দেখা যায়।
এ আলোচনায় অস্বাভাবিক লম্বা ব্যক্তিও অন্তর্ভূক্ত হয়েছে। তাদেরকে দু'ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। খর্বাকৃতির জিন্ট লম্বাকৃতির জিন্ট থেকে শতকরা ১২ জন দীর্ঘজীবন লাভ করে। কিন্তু উভয় দলের জিন্টের গড় আয়ু শুধু ৪২ বছর থাকে। যারা অন্যান্য দলগুলোর মোকাবিলায় অত্যন্ত কম ছিল। আমেরিকার অজ্ঞাত পাঁচ প্রেসিডেন্ট যাদের আকৃতি ৫ ফুট ৮ ইঞ্চির থেকে কম ছিলো। তারা গড়ে ৮০ বছর বয়সে মারা যায়। যেখানে ৬ ফুটের অধিক লম্বাকৃতির পাঁচ প্রেসিডেন্ট শুধু ৬৬ বছর জীবিত ছিলো। ৭৫০ জনের ঐ দলের শুধু ১৫ জন ৯০ বছর জীবন পায়। কিন্তু তাদের মধ্যে দু'জন ব্যতীত বাকী সকলে খর্বাকৃতির ছিল।
অনুরূপভাবে বৃটেনের অভিজাত শ্রেণী সেখানে সাধারণ এলাকার তুলনায় লম্বাকৃতির লোক পাওয়া যায়। পূর্ববর্তী এক হাজার বছরে তাদের মধ্যে মাত্র দু'জন লোক একশ' বছর পর্যন্ত জীবিত ছিল।
এখন প্রশ্ন হতে পারে, পুরুষ ও নারী উভয়ের সঠিক ও যথাযথ আকার আকৃতি কি হওয়া উচিত? এ ব্যাপারে এখন আলোচনা করা হচ্ছে। তথাপি বিজ্ঞানীদের অভিমত হল, বর্তমান শিল্প কারিগরির যুগে দীর্ঘাকৃতি ও ভারী ঢিলাঢালা হওয়ায় কোন উপকার নেই। আমেরিকার স্থাপত্য উন্নতিতে খর্বাকৃতির লোকের অবদান অনেক বেশী বলে প্রমাণ হয়েছে। তাদের আকৃতি ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি থেকে কম ছিলো। আর ভবিষ্যত সৃজনশীলতার যুগেও এ ধরনের খর্বাকৃতির লোক উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। হাতির মত মোটাতাজা দেহের অধিকারী ব্যক্তির স্বীয় পশু শক্তির দ্বারা ব্যক্তিগত কোন উপকারীতা লাভ হলে হতে পারে। কিন্তু দেশ জাতির জন্য তারা সম্পূর্ণ অকর্মন্য।
📄 বয়োজ্যেষ্ঠদের সম্মান ও আধুনিক বিজ্ঞান
ইসলাম বয়োজ্যেষ্ঠদের সম্মান প্রদান করেছে। ইউরোপে বয়োজ্যেষ্ঠদের তুচ্ছ তাচ্ছিল্য ও অবজ্ঞা করা হয়। কিন্তু বর্তমানে সেই ইউরোপীয়দের গবেষণায় প্রমাণ হয়েছে, বাস্তবেই বয়োজ্যেষ্ঠরা সম্মানের যোগ্য। ইউ.এস. নিউজ উইক এন্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্টের এক চমক লাগানো রিপোর্ট যা সারা বিশ্বে প্রকাশ হয়েছে। নামী দামী ও বিশ্ববিজয়ী কাহিনীর ভিত্তিতে জমিনে পতিত করে দিয়েছে। এটি এমন এক বিষয়, যা যে কোন বয়সের মানুষ পড়তে ইচ্ছুক。
📄 বুদ্ধিমত্তা ও বয়োজ্যেষ্ঠতা
এ বৃদ্ধ তো এখন বার্ধক্য জনিত জ্ঞান শূন্য। শিশু ও বৃদ্ধ এক সমান হয়ে গেছে। ছেড়ে দিন জি! তাতে বাবাজির কি অপরাধ। এটাতো হল তার বয়সের চাহিদা। এ ধরনের অসংখ্য উক্তি আমাদের সমাজে সাধারণতঃ প্রচলিত নয় বরং পাশ্চাত্য জগতেও বয়োজ্যেষ্ঠদের বুদ্ধিমত্তা লোপ পাওয়ার বিষয়কে বাস্তবে স্বীকার করা হয়। কিন্তু বিশ্ববরেণ্য মনোস্তাত্ত্বিকদের গবেষণা এ সম্পর্কে দ্বি-মত প্রকাশ করেছে। ঐ বিশেষজ্ঞদের এক অভিমত বিশ্বকে হতবাক করে দিয়েছে যে, বয়োবৃদ্ধ ব্রেণ বিস্ময়কর শক্তি, অভিজ্ঞতা ও সংশোধনের অধিকারী। সহস্র হাজার লোকের ব্রেণের অভিজ্ঞতার উপর বিজ্ঞানীদের অভিজ্ঞতা ও অসংখ্য বৃদ্ধ লোকের অভিমত জানার পর আমেরিকার বিশেষজ্ঞগণ যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তাতে তারা ঐ সমস্ত উক্তি ভ্রান্ত বলে উল্লেখ করেছে। যা বয়োবৃদ্ধ লোকদের সম্পর্কে আজ পর্যন্ত সঠিক বলে সমর্থন করা হয়। আমি দুনিয়াতে প্রচলিত অভিমত ও উক্তি সমূহের মূল্যায়ন ও বিশেষজ্ঞদের তরতাজা অভিমত সমূহের আলোকে বক্তব্য পেশ করছি। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসিদ্ধ বিজ্ঞানী গর্ডলাস পাউল ১৫৮৩ খ্রিঃ মানুষের উপর এক গবেষণা পরিচালনা করেন। তাতে ২৫ বছর বয়স থেকে শুরু করে ৯৩ বছর বয়সের লোক অন্তর্ভূক্ত ছিল। তিনি তাদের স্মরণশক্তি, শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি নিয়ে পর্যালোচনা করেন। উক্ত গবেষণার ফলে শতকরা ৫ থেকে ৮ জন বয়োবৃদ্ধের কর্মক্ষমতা নবযুবকদের তুলনায় কোন অংশে কম ছিল না। যেখানে ৮০ ও ৯০ বছর বয়সের একাধিক ব্যক্তি তো স্বীয় ব্রেণের সংশোধনের যোগ্যতার দিক থেকে যে কোন বয়সের লোকদের থেকে উত্তম ও উন্নত প্রমাণ হয়। যে সকল বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তি নিজ কাজকর্মে কম বের হয়, তাদের অবস্থা এমন ছিল না যে, তাদের প্রতিদিনের অভ্যাসে প্রতিক্রিয়া দেখা যেত। পাউল তার প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছেন, সত্তর বছর বয়স্ক ব্যক্তির মেধা শক্তিতে কোন প্রকার ঘাটতি পাওয়া যায় নি। এতে প্রমাণ হয় যে, সত্তর বছর বয়সের পরও শতকরা ২৫ জন লোক তার শক্তি বহাল রাখতে সক্ষম হয়। সত্তর বছরের পূর্বে মস্তিষ্কের দুর্বলতার শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে অধিকাংশই ব্যক্তি উগ্রমেজাজী এবং নানা রোগ-ব্যাধি ও প্রতিকূল পরিবেশের শিকার হয়।
প্যানসালভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জরনাটোলজি কেন্দ্রের পরিচালক ওয়ারন্যারশাই তার গবেষণায় উল্লেখ করেছেন, ভাল উন্নত শিক্ষা সুস্বাস্থ্য শ্রমসাধনা ও সুন্দর অবয়ব ও বন্ধুসূলভ আচরণ জীবনের বুনিয়াদী কাজ। তাতে ব্রেনের শক্তি দীর্ঘ জীবন পর্যন্ত বহাল থাকে। কোন ঘাটতি দেখা যায় না।
পক্ষান্তরে যারা এক নিয়মে অভ্যস্থ হয়ে গেছে। তারা স্বীয় জীবন সম্পর্কে অতৃপ্ত হয়ে আছে। তাদের বুদ্ধি অতিদ্রুত বার্ধক্যের শিকার হয়। অপর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৭০ বছর ও তার চেয়ে বেশী বয়সের লোক ফলাফল নির্ধরনের গতি ক্ষীণ হয়। আর বিশ বছর বয়সের যুবকের তুলনায় ভুল ভ্রান্তি বেশী করে। কিন্তু ঐ সব লোকদের মেধাশক্তি সমূহের যেখানে ঐ উপকরণের ঘাটতি হয়, ওখানে এমন কিছু যোগ্যতা তাদের মাঝে সৃষ্টি হয়, যা তাদের ঐ ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দান করে। অভিজ্ঞতায় এ কথার সত্যতা প্রমাণ হয়েছে যে, কোন কোন বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তি মেধাশক্তির দিক থেকে যে কোন বয়সের যুবকদের থেকে বিস্ময়কররূপে উত্তম ও অগ্রবর্তী হয়। কাজেই বলা হয় যে, বার্ধক্যের কারণে বুদ্ধিতে ঘাটতি সৃষ্টি হয়।