📄 হেজাজের পবিত্র পাহাড়ী জীবন ও আধুনিক বিজ্ঞান
হযরত সাহাবায়ে কিরাম ও আহলে বাইতের বীরত্ব, অক্লান্ত পরিশ্রম, সাহসিকতা ও পৌরুষের সম্পর্ক ঈমান-তাকওয়া ও হুযুর (সাঃ) এর অকৃত্রিম মহব্বতের প্রতিফলন ছিল। সাথে সাথে আল্লাহ তা'আলা তাদের এমন ভূ-খণ্ড দান করেছেন, যাতে পাহাড় বাগান ও পানির ঝর্ণাধারা প্রভৃতি ছিল। তাঁরা সর্বদা অকুতোভয় নিবেদিত প্রাণ হয়ে জীবন যাপন করে পাহাড়ে আরোহন করতেন, অবতরণ করতেন। এটা এমন কাজ ছিল যা আধুনিক বিজ্ঞানকে ভীষণ ভাবিয়ে তুলেছে।
📄 সর্বদা যুবক থাকার জন্মগত ব্যবস্থাপনা
১৯০৫ সালের কথা। বৈদ্যুতিক স্টিমার এস্টোলিনের উদ্ভাবক এফডু স্যালানেটের সম্পর্কে চিকিৎসকগণ অভিমত প্রকাশ করেন যে, তিনি আর মাত্র কয়েক দিন জীবিত থাকবেন। তিনি কঠিন যক্ষায় আক্রান্ত। তিনি জীবন সম্পর্কে নিরাশ হয়ে স্ত্রী ও সেবিকা সংগে নিয়ে ফ্লোরিডা অভিমুখে যাত্রা করেন। ডানিয়ুবে অবস্থানকালে তিনি এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন যে, তার মোটরগাড়ীকে স্টেট পার্কগামী অসমতল ও ভাঙ্গা রাস্তায় খুব জোরে চালাবেন। সম্ভবতঃ তিনি নিজের জীবনকে সমাপ্ত করে দিতে চেয়েছেন। কেননা চিকিৎসকগণের ধারণা ছিল, যদি সে পাহাড়ী এলাকায় চলে যায়, তাহলে সম্ভবতঃ তার জীবনের গাড়ীর চাকাকে এক দেড় বছর বেশী চালাতে পারবে।
কিন্তু এ উদ্যোগ গ্রহণকারী অভিজাত বৃদ্ধকে তো আরও পঁয়ত্রিশ বছর জীবিত থাকতে হয়েছে। সে ৯৩ বছর জীবিত ছিল। স্থানীয় চিকিৎসকদের ধারণা ছিল, এক মাইল উঁচু স্থানের উপরের শুষ্ক নব জীবন দানকারী আবহাওয়া আর পায়ে হেঁটে চলাফেরা করার কারণে তার স্বাস্থ্য পূর্বের মত সুস্থ হয়ে যায়।
পাহাড় সমূহে বিচরণ করে ঘুরে বেড়ানো মধ্যযুগ থেকে গ্রহণযোগ্যতা লাভ করতে শুরু করে। আর উনবিংশ শতাব্দিতে এ ধারণা খ্যাতির শীর্ষে উঠে। ফুসফুসের ব্যাধিতে আক্রান্ত রোগীদের জন্য আল্পস পর্বতমালায় চুম্বকের মত আকর্ষণ সৃষ্টি হয়। এটা ঐ সময় ছিল, যখন উচ্চ স্থান সমূহের উপর সুইজারল্যাণ্ডের মত স্যানিটোরিয়াম প্রতিষ্ঠিত হয়। নোবেল বিজয়ী ম্যাসম্যাস তার স্বরচিত “তেলেসমাতি পাহাড়" (The Magic Mountain) নামক গ্রন্থে এর উল্লেখ করেছে। প্রায় প্রতিটি আল্পাইন পর্বতমালা যে কোন ব্যাধি থেকে মুক্তি দেওয়ার বিশেষ্যত্বের ধারক ছিল। ইউরোপ শাসক এবং বিশ্বের ধনাঢ্য ব্যক্তিরা বর্তমানে তাদের ব্যাধি, যাতে দৈহিক দুঃখ কষ্ট অন্তর্ভূক্ত হয়, তা থেকে নিষ্কৃতি লাভের উদ্দেশ্যে সুইজারল্যাণ্ডের ইনগার্ডেনের সমতল ভূমিতে আশ্রয় নেয়। আরও চমৎকার কথা হল, সুইজারল্যান্ডের যে কোন কমিউনিটিতে বর্তমানেও ব্যাধি নিরাময়ের পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু বর্তমানে ওখানে রুগ্ন ব্যক্তি পাওয়া যায় না। সুতরাং এ স্থান ভ্রমণ বিলাসীদের সাধারণ চিকিৎসা বা ঐ সব লোকদের দেখা শোনা করে, যারা শুধু আরাম-আয়েশের উদ্দেশ্যে আল্পস পর্বতমালায় আগমন করে। সৌভাগ্যের সাথে ইউরোপীয় বীমা কোম্পানীসমূহ কর্মকর্তাদের ব্যাধি নির্ণয় করে নেয়। ঐ ইউরোপীয় চিকিৎসকগণ ক্লান্ত দুর্বল, জ্বালা-যন্ত্রণা ভোগী ও খিটখিটে স্বভাবের কর্মকর্তাদেরকে ঐ উঁচু পাহাড় সমূহে আরোহন করার পরামর্শ দান করে।
অনুরূপভাবে জার্মান চিকিৎসকগণও স্বীয় চিকিৎসাধীন অধিকাংশ রোগীদেরকে এ ধরনের ব্যবস্থা অর্থাৎ পাঁচ-ছয় সপ্তাহ পার্বত্য এলাকায় অবকাশ যাপনের পরামর্শ লিখে দেন। আপনি এ ধরনের প্রচুর সংখ্যক লোককে পর্বতমালার উঁচুতে আরাম কেদারায় বসে সুখ নিন্দ্রায় বিভোর দেখতে পাবেন।
নিশ্চিত বিশ্বাস করুন যে, আমেরিকার অসংখ্য মানুষ পার্বত্য এলাকায় গিয়ে ঐ সব লোকদের নিকট থেকে স্বীয় হারানো দৈহিক শক্তিকে পুনরায় ফিরে পাওয়ার শিক্ষা গ্রহণ করে। তারা স্পেনের কোলোরিডিউ এলাকায় গিয়ে সূর্য স্নান করে। শীতকালীন পার্কের কলোনীতে অবস্থান করে। আর জংগলে ঘোড়ায় আরোহণ করে। রাফিজের স্বচ্ছ স্রোতস্বিনীতে কাঠের উপর ভর করে সাঁতার কাটে। আর উৎসাহ উদ্দীপনার সাথে নিউজিল্যাণ্ডের পাহাড় সমূহে আরোহন করে।
কিন্তু এ কাজ এত গুরুত্বপূর্ণ কেন? প্রথমতঃ নীরবতা ও প্রশান্তি শুধু উঁচু স্থানে পাওয়া যায়। চিকিৎসা শাস্ত্র অনেক পূর্বে এ বাস্তবতাকে স্বীকার করেছে যে, শব্দ ও কোলাহল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে নিস্তেজ করে দেয় এবং জীবনায়ু হ্রাস পাওয়ার কারণ হয়। পর্বত মালায় গমন করে আপনি কোলাহল ও সকল প্রকার হইহল্লা থেকে মুক্ত থাকবেন। ওখানে এ কর্কশ শব্দও শুনা যায় না, যার বিকট শব্দে শহরের অলিগলি ভারী হয়ে থাকে। এখানে এসে অসংখ্য লোকে লোকারণ্য দোকান ও বাসসমূহে অসংখ্য যাত্রীদের ধাক্কা খেতে হবে না। টাইপ রাইটারের অনর্গল খটখট আওয়াজ আপনার কানকে বিব্রত করবে না। এখানে আপনি সিগারেটের বিষাক্ত ধোঁয়া থেকেও নিরাপদ থাকবেন। একবার আপনি ব্যবসা ও অর্থ উপার্জনের চিন্তা থেকে অবসর নিন। আমাদেরকে একশ বছর পূর্বে জনমূর এ কথা জানিয়েছেন, জীবন গড়তে চান তো পার্বত্য এলাকায় চলে যান। ওখানে ব্যাধির যন্ত্রণা ও চিকিৎসার ঝামেলা আপনার মন থেকে শুকনো পাতার মত উড়ে চলে যাবে।
যারা স্বয়ং পায়ে হেঁটে চলাফেরা করে আর ভালোভাবে ফুসফুসে শ্বাস নিয়ে খুশি হতে চান, সে সরের পরামর্শ অনুযায়ী হারানো যৌবনকে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবে। চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের অভিমত হল পদব্রজে পাহাড়ে আরোহন করা অতি চমৎকার এক ব্যায়াম। অসটিন মেডিক্যাল সোসাইটির মতে সপ্তাহে একবার পদব্রজে পাহাড়ে আরোহণ করার পরিশ্রম যে কোন যুবক ব্যক্তির ওজন কমানোর জন্য অতিকার্যকর প্রমাণ হয়েছে। যদি চিকিৎসার সাথে উপযোগী খাদ্যও নির্ণয় করে দেওয়া হয়, তাহলে তাতে বিশেষ উপকার লাভ হবে। পদব্রজে পর্বত আরোহণের সময় বিশেষ উঁচুতে উঠার কারণে দেহের তাপ জ্বলে যায়।
পার্বত্য এলাকায় ভ্রমণ ও আনন্দ উল্লাস করার উপকারীতা অতি ব্যাপক। আপনার পদদ্বয়, গোড়ালী, হাঁটু ও পায়ের পাতা এমনকি বাহুদ্বয়ও স্পন্দিত হতে থাকে। আপনি যখন উপরে আরোহণ করতে থাকেন, তখন আপনার মেশিন রূপি দেহের কাজকর্ম সতেজ-চঞ্চল হয়ে যায়। তাতে মেরুদণ্ড মজবুত হয়। ব্রেণ পরিশোধিত হয়ে যায়। আমেরিকান বিমান বাহিনীর চিকিৎসকগণ কষ্টসাধ্য পর্বতে পদব্রজে আরোহণের এভাবে ব্যাখ্যা করেছেন:
• শ্বাসের গতি দ্রুত হয়।
• অতিরিক্ত অক্সিজেন আকর্ষণ করার দায়িত্ব পালন করে।
• পর্বত আরোহণের সময় রক্তের চলাচল বেশী দ্রুত হয়।
• উচ্চ রক্তচাপ হ্রাস পায়।
• অন্তরে শক্তি বৃদ্ধি হয়।
যখন রক্তনালীতে কোলেষ্টেরল বা চর্বি জাতীয় অন্যান্য অতিরিক্ত পদার্থ জমা হতে শুরু করে, তখন উপযুক্ত ব্যায়াম করার কারণে হৃদপিণ্ড পর্যন্ত রক্ত চলাচলের উপযুক্ত রাস্তা করে দেয়। দৈনিক এক ঘণ্টা উপরে আরোহন করার কারণে ছোট বড় সব জোড়া স্পন্দিত হয়। আর পুরো দেহে সরাসরি রক্তের সরবরাহ পৌঁছে যায়।
রীতিমত আনন্দ-উল্লাসের সাথে পাহাড়ে পরিভ্রমণ কুদরতীভাবে আপনাকে খুশি ও সুস্থতা দান করে। এর এক উল্লেখযোগ্য উদাহরণ প্রসিদ্ধ দশটি পাহাড়ে ওডিশন করেছেন। ওরা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যোগদানকারী দল ছিল। যারা উচ্চে আরোহণে বিশেষ পারদর্শিতা লাভ করেছিল, আর তাদের অসংখ্য সাবেক সদস্য এখনও ঐ খেলা করার জন্য পাহাড় সমূহে আরোহন করে থাকে। তাদের মধ্যে একদল কঠোর ও কষ্টকর পাহাড় সমূহের চূড়ায় ধীরে ধীরে আরোহন করে। মূলতঃ তারা ভীষণ পরিশ্রমি ও উদ্যমি হয়, তাদের মধ্যে অনেকে ভারী বোঝা বহন করে নিয়ে যায়। তাদের দেহ হয় সুঠাম ও সবল।
উঁচু টিলাতে আরোহন করার সময় দেহের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, শিরা-উপশিরা স্পন্দিত হয়। পদব্রজে অভিজ্ঞ পর্বত আরোহীদের পায়ের গোড়ালী ও বাহুদ্বয় নিশ্চিত সবল ও সতেজ থাকে। কখনো কখনো স্বীয় পিঠ ও গোড়ালীর সাহায্যে সোজা খাড়া টিলা সমূহের মাঝে নিজেকে উপরে তুলে নেয়। কখনো গোড়ালী বিস্তার করে পেছনে নিচের দিকে ঝুঁকে যায়। কখনো রশির সাহায্যে উপরে আরোহন করে।
এ উৎসাহ মানুষকে সুস্থতা লাভের নিশ্চয়তা দান করে কী? আলসা বিশ্ববিদ্যালয়ে চালিত এক গবেষণায় এ কথা সঠিক বলে প্রমাণ হয়েছে। ডক্টর থমাস কারনাইনের মতে মূলতঃ পর্বত আরোহণের অর্থ হল, দুর্বলতা ও বার্ধক্য আসার গতিকে বিলম্বিত করা। শোনা যায়, জনৈক এস্টিন চিকিৎসকও নিজেদের রোগীদের এ বলে পর্বতারোহনের অভ্যাস চালু রাখার উপদেশ দিতেন যে, যদি আপনি পর্বতারোহন করা ছেড়ে দেন, তাহলে মনে করবেন, আপনার জীবনের গাড়ীকে থামিয়ে দিয়েছেন।
এতে কোন সন্দেহ নেই যে, ঢালু ও উঁচু চুড়া হলে শরীরের অঙ্গ প্রত্যঙ্গের শক্তির প্রয়োজন হয়। কিন্তু যে সব লোক স্বেচ্ছায় নিজেকে ঐ সব বিপজ্জনক মুহূর্তের জন্য উৎসর্গ করে রেখেছে, তাদের দাবী হল, পর্বতারোহনের কষ্ট মানসিক ও দৈহিক দিক থেকে তত কষ্টসাধ্য বিরক্তিকর অনুভূত হয় না। স্বাভাবিক নগর জীবন দেহমনকে যেরূপ অতিষ্ট করে।
মানুষের শক্তি ও সাহস বৃদ্ধি করা ছাড়াও পাহাড়ী খেলাধুলা অন্যান্য উপকারীতা ও সহজতর করে দেয়। তন্মধ্যে এক হল, দৈনন্দিন অভ্যাস থেকে মুক্তি লাভ হয়। তাছাড়াও আত্মা ও অন্তরকে আরামদান করা অতি সহজ হয়ে যায়। জীবনের প্রকৃত স্বাদ উপভোগ করা যায়। আর আত্মবিশ্বাসে এক নতুন আলো প্রজ্বলিত হয়। অনুরূপভাবে শীত মৌসুমে বরফের উপর পিছল খাওয়াতে দৈহিক ও মানসিক সুস্থতা বৃদ্ধি লাভ হয়। যদি আপনি বরফে আবৃত পাহাড়ের উপর থেকে নিচে গড়িয়ে পড়েন, তাহলে আপনি নিশ্চিত অনিন্দ্য আনন্দ অনুভব করতে সক্ষম হবেন।
সারা আমেরিকাতে বর্তমানে এ অঙ্গ সঞ্চালনকে গৃহ কাজের অন্তর্ভূক্ত করে নিয়েছে। ঐ ব্যক্তি যে পূর্বে অনেক কষ্টে কয়েক কদম পথ চলার পর ঔষধের দোকান পর্যন্ত পৌঁছতে সক্ষম হত, এখন তারা অতি উৎসাহ ও উদ্দীপনার সাথে নিজ দেহ পরিচালনা করে। খেলা ও ব্যায়ামের মাধ্যম চিকিৎসা কারীদের দাবী হল, অংগ পরিচালনা এককভাবে প্রত্যেক সমবয়সী ব্যক্তির জন্য শক্তি বর্ধক ও উপকারী প্রমাণ হয়েছে। এ খেলা দেহে নব উদ্যম, সজীবতা ও শক্তি বৃদ্ধির ধারাকে সচল করে। দেহে দৃঢ়তা, শক্তি আর আত্মা ও মনে প্রশান্তি ও প্রফুল্লতা দান করে চরিত্রে উত্তম গুণাবলীর বৈশিষ্ট্য সৃষ্টি করে। খ্যাতনামা হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ডি.ডি. ওহান্ট এ ধরনের লোকদেরও শীত মৌসুমের এ সরগরম আনন্দ-উল্লাস গ্রহণের পরামর্শ দান করেন, যাদের বয়স সত্তর-আশি বছরের মাঝামাঝি। পর্বতারোহনের উৎসাহ উদ্দীপনা সাথে দৈহিকভাবে আগ্রহ ও উদ্যমের তরঙ্গ সৃষ্টি করে। অতি উচু পাহাড় সমূহের মনোরম দৃশ্যাবলী সৃজনশীল কাজে আলোড়ন সৃষ্টি করে। রিচার্ড ওগিজ তার অত্যন্ত মনোরম চিত্তাকর্ষক রোমান্টিক নাটক ও নাচ-গানের ধ্বনি জুরিখের অ্যালপাইনের এক বাংলোয় বসে ধারন করে। সেখান থেকে ঝিলের মনোরম দৃশ্যাবলী স্পষ্ট দেখা যেত। সে তার জনৈক বন্ধুকে বলেছিল, "আহ! এটা উজ্জ্বল সুসজ্জিত মুকুট ধারী উঁচু পাহাড়! আমি এখানে সৃজনশীল কাজ করে ভীষণ আনন্দ উপভোগ করি।"
ইংরেজ লেখক জন র্যাকসন একবার বলেছিলেন, প্রাকৃতিক মনোরম দৃশ্যাবলীর সূচনা হয়েছে পর্বতমালা থেকে। আর তাতে প্রাকৃতিক মনোরম সৌন্দর্য্যের পরিসমাপ্তি ঘটেছে। এই কারণে পৃথিবীতে প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলীর চেয়ে সুন্দর কোন বস্তু নেই। প্রসিদ্ধ পরিচালক এরিক স্যাইপ্যানের অভিমত হল, তিনি পর্বতের উঁচু চূড়ায় আরোহন করে একান্ত মনোরম আকর্ষণীয় অনুভূতিতে বিমোহিত হয়ে সম্পূর্ণরূপে আবেগ-আপ্লুত হয়ে যান।
আমাদের মধ্যে যারা বেশী সময় পাহাড়ে বিচরণ করে, তাদের মনোরম চিত্তাকর্ষক কথা সহজে অনুমান করা যায়। আমরা অধিকাংশ সময় তাদের সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হয়ে যাই। তাদের আন্তরিক আবেগ-অনুভূতি আমাদেরকে হতবাক করে দেয়। কখনো আমি তাদের আকর্ষণের গোলাম হয়ে যাই। আর কখনো কখনো তাদের সহমর্মিতা দেখে বাহ বাহ দিতে থাকি। মনোরম দৃশ্যাবলী আমাদেরকে আন্তরিক প্রশান্তি দান করে। চার পাশের পরিবেশের সৌন্দর্য নিশ্চিত আমাদের দৈহিক কাজের উৎসাহ ও উত্তম চিন্তা-ভাবনার ধারক বাহক হয়। দূরবর্তী পাহাড়ের মনোরম দৃশ্যাবলী জীবনের অনুভূতি বৃদ্ধি করে। দূরবর্তী মধুরতাকে স্থিতিশীল করে। কিছু হোক না হোক আত্মীক প্রশান্তি অবশ্যই অনুভূত হয়। পাহাড়ের উপর আরোহন করতেই উৎসাহ প্রবৃদ্ধি লাভ করে। অন্তরের দরজা খোলে তাৎক্ষণিকভাবে রংরূপে এমন খুশির ফোয়ারা ছুটতে শুরু করে এবং এরূপ অবস্থার অবতারণা হয়, যাতে পূর্বে কখনো এরূপ অবস্থা হত না, পাহাড়ের উপর থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখা অতি মনোরম ও চিত্তাকর্ষক।
লিচেং জুনের চার মূলনীতি ও ইসলামী ব্যাখ্যা
১. ইসলাম নিজের হিসাব করার আহবান জানায় যে, বসে বসে স্বয়ং নিজের প্রকাশ্য ও গোপনীয় কৃতকর্মের হিসাব করুন।
২. মুমিন সুচতুর ও সুস্থ্য সবল হয়। হুযুর (সাঃ) এর চালচলন দুর্বল ছিল না, তিনি সর্বদা দ্রুত ও হাসি-খুশি অবস্থায় পথ চলতেন বরং দুর্বল ও ধীর গতিতে পথ অতিক্রম কারীকে ইসলাম অপছন্দ করে।
৩. মানুষের উপর নফসেরও হক রয়েছে। এ কারণে বিশ্রাম গ্রহণ করা জরুরী, জাপান স্বীয় জানের হক আদায় না করে প্রযুক্তিগত উন্নতি সাধন করেছে। কিন্তু তা নয়, নফসের হক আদায় করে তারা আত্মহত্যাকে অতিক্রম করে সামনে অগ্রসর হয়েছে।
৪. নিরাশ হওয়া কুফরী ও পাপ।
📄 দীর্ঘ জীবন লাভের গোপন রহস্য
অসীম আসমানের নির্দয়তা প্রাণের আকর্ষণ বিকর্ষণ, জীবনের অনিশ্চয়তায় সংকীর্ণ হয়ে অধিকাংশ মানুষ নিজ জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটাতে চায়। কিন্তু এরূপ হওয়া সত্ত্বেও মানুষ স্বীয় নির্ধারিত জীবনকে কার্যকরী বানানোর উদ্দেশ্য ও হযরত নূহ আ. এর মত দীর্ঘ জীবন লাভের চিন্তায় মগ্ন হয়ে পড়েছে। সুতরাং এর আলোকে সাধারণতঃ আবে হায়াতের বা অমরত্ব লাভের পানির বর্ণনা এসে যায়। যা পান করে মানুষ অমর হতে চায়। এ আবেহায়াত কোথায়? আর তা কোন ঝর্ণা থেকে প্রবাহিত হয়। এর জবাব আজ পর্যন্ত কোন দিগবিজয়ী কলম্বাস দিতে পারেনি। তথাপি আমাদের এ পৃথিবীতে এরূপ লোক আবির্ভূত হয়ে অতীত হয়েছে। আর বর্তমানে, বিদ্যমান আছে। তারা আবেহায়াত পান করেনি। কিন্তু নিজের সাধারণ জীবন-যাপন ও সহজসরল অভ্যাস ও চালচলনের কারণে দীর্ঘ জীবন লাভ করেছে। আর এ জগতের রং রূপের দৃশ্যাবলীকে দীর্ঘ দিন যাবত দু'নয়ন ভরে উপভোগ করছে।
মানুষ স্বাভাবিকভাবে দীর্ঘ জীবন লাভের গোপন রহস্য মনে করে মূল্যবান দামী খাবারকে, এ ধারণা সঠিক নয়। ইংলেন্ডের প্রসিদ্ধ কবর স্থান ওয়েষ্টমিনিষ্টার এভিতে “থমাস পারকার" নামক এক ব্যক্তিকে সমাধিস্থ করা হয়। ১৪৮৩ খ্রিঃ তার জন্ম হয়, আর ১৬৩৫ খ্রিঃ তার মৃত্যু হয়। এভাবে সে দীর্ঘ ১৫০ বছর জীবন লাভ করে। কথিত আছে, ১৩০ বছর বয়সেও তার স্বাস্থ্য ঈর্ষান্বিত ভালো ছিল। সে শুধু নিজের জমিতে কাজ করত না বরং অবসর সময়ে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে অন্যের জমিতেও কাজ করত, ঐ বয়সে সে দ্বিতীয় বিবাহ করে।
তার দুর্ভাগ্য হল, একদিন প্রথম চার্লস তার এত দীর্ঘ জীবন, এত সুন্দর স্বাস্থ্যের বর্ণনা শুনে তাকে স্বীয় দরবারে আমন্ত্রণ জানিয়ে রাজকীয় অতিথিশালায় আপ্যায়ণের আয়োজন করে। প্রথম চার্লস এভাবে তার আতিথেয়তার ব্যবস্থা করে যে, থমাসের জন্য উন্নত মানের মদ, সুস্বাদু খাবার ও বিভিন্ন প্রকার মিষ্টি খাবারের আয়োজন করে। সকল প্রকার ভোগবিলাসিতারও আয়োজন করে। তাকে কোন কাজ করতে দেয়নি। এর শেষ পরিণতি হল, থমাস অল্পদিনের মধ্যে মৃত্যুকে স্বাগতম জানিয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় হয়ে চলে যায়। তার মৃত্যুর পর তার রক্ত ও দেহ পরীক্ষা করে প্রমাণ হয় যে, তার মৃত্যুর জন্য মূলতঃ দায়ী হল এ উন্নত মানের খাবার ও প্রয়োজনের অতিরিক্ত বিশ্রাম। যা সে প্রথম চার্লসের এখানে রাজকীয় অতিথি হওয়ার কারণে পেয়েছে।
খ্যাতনামা অভিজ্ঞ ডাক্তার ওলিম পাওরের অভিমত হল যে, যদি তার খাদ্য ও আবহাওয়ায় পরিবর্তন করা না হত, আর সে তার পরিশ্রমকে বহাল রাখত, তাহলে সে আরো দীর্ঘ দিন জীবিত থাকত। দীর্ঘ গবেষণার পর প্রকাশ হয়েছে যে, তার দীর্ঘ জীবন সুস্থ থাকার একমাত্র কারণ ছিল, সে খাদ্য হিসেবে শুধু সাদা রুটি, তাজা দুধ পানি, এবং তাজা সবুজ শাক সবজি ব্যবহার করত।
তুর্কী জনগণ সাধারণতঃ পরিশ্রমি ও কষ্ট সহিষ্ণু হয়। তুরষ্কে এখন পর্যন্ত এমন হাজারো লোক অতিবাহিত হয়েছে যে, যারা শত বছরের বেশী জীবন লাভ করেছে। জারো আগা নামে এরূপ এক ব্যক্তি ছিল, তার জন্ম হয় ১৭৭৩ খ্রিঃ, আর দীর্ঘ ১৫১ বছর পর ১৯৩৪ খ্রিঃ তার মৃত্যু হয়। তার দৈহিক আকৃতি ছয় ফুট লম্বা ছিল। তার দেহ সুঠাম মজবুত ও তেলতেলে ছিল। সে তার এ দীর্ঘ জীবনে কখনো কোন ব্যাধির শিকার হয়নি। সে জীবনে ১১টি বিবাহ করেছে। তাতে তার ৩৬ জন সন্তান হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রায় অধিকাংশ সন্তান শত বছরের দীর্ঘজীবন পেয়েছে। তাদের এ দীর্ঘজীবন লাভের কারণ সম্পর্কে বলেছিল, আমার নিকট এমন কোন ডাক্তারী চিকিৎসার ব্যবস্থা পত্র নেই, যা ব্যবহার করে মানুষ দীর্ঘ জীবন লাভ করতে পারবে। আর দীর্ঘ জীবন লাভের একমাত্র উপায় হচ্ছে, আমি জীবনে কখনো সীমাতিরিক্ত কোন কাজ করিনি। আর আমার জীবনের বেশীর ভাগ সময় সবুজ শ্যামল পথে প্রান্তরে ও উন্মুক্ত ময়দানে বিচরণের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করেছি।
মদ, তামাক ও এ ধরনের অন্যান্য নেশা জাতীয় দ্রব্যাদির প্রতি আমার স্বাভাবিক ঘৃণা ছিল। তাজা দুধ, ফল ফলাদি ও তাজা শাক সবজি আমার প্রিয় খাবার ছিল। আমি রাত দিনে মাত্র দু'বার খাবার খেতাম। আমি আমার খাবারের পরিমাণও কখনো বেশ কম হতে দেইনি। আমি সর্বদা পরিমিত আহার করতাম। এর সাথে সাথে আমি দৈনিক প্রায় দু'মাইল পথ পায়ে হেঁটে যেতাম। আমার নিত্যদিনের কাজ সমূহ নিজেই করতাম। বর্তমানেও তুরষ্কে এ ধরনের হাজারো মানুষ রয়েছে, যাদের বয়স একশ বছরের বেশী হবে। আধুনিক চীনের প্রতিষ্ঠাতা প্রাণপুরুষ লীচেং জন। তিনি দীর্ঘ ২০০ বছর জীবনায়ু পেয়েছেন। তার সম্পর্কে বলা হয়, তার বয়স যখন ১৫০ বছর হয়, তখন স্বীয় কাজ থেকে অবসর নিয়ে নিজের গ্রামের বাড়ী চলে আসেন। ৮০ বছর পর্যন্ত দেশীয় কৃষি কাজ করেন। মৃত্যু পর্যন্ত তার স্বাস্থ্য ঈর্ষান্বিত ভালো ছিল। সে তার জীবনে ১৪ বিবাহ করেছে। তার ১৮০ জন সন্তান জন্ম হয়। লীচেং জন দীর্ঘ জীবন ও উত্তম স্বাস্থ্য লাভের চার মূলনীতির উল্লেখ করেছেন।
১. কচ্ছপের মত বসুন অর্থাৎ দিনের মধ্যে এরূপ এক সময় নির্ধারণ করুন, যখন আপনি একাকী নির্জনে বসে আপনার অন্তর ও চিন্তা-শক্তিকে একস্থানে অবরুদ্ধ করে ফেলুন। ঐ মুহূর্তে আপনি একান্ত নিষ্ঠার সাথে স্বীয় কৃতকর্মের ভালো-মন্দ, স্বীয় জীবনের মূলনীতি ও নিজের ভবিষ্যতকে দীপ্তিমান করার চিন্তা ভাবনা করুন। এভাবে আপনি আপনার সামগ্রীক অলসতা সম্পর্কে সতর্ক হয়ে তা দূর করে দেওয়ায় সচেষ্ট হোন। এতে আপনার ব্যক্তিস্বত্তা উন্নতি লাভ করবে। আপনার দেহমন ও আত্মার প্রয়োজনীয় শক্তি প্রতিষ্ঠা করার যোগ্যতা লাভ করতে সক্ষম হবেন।
২. কবুতরের মত বক্ষ প্রশস্থ করে চলতে শুরু করুন অর্থাৎ স্বীয় অন্তর ও ফুসফুসের সাহায্যে কাজ করে গভীর নিঃশ্বাসের সাথে সচল রাখার জন্য অক্সিজেন অত্যাবশ্যক। এটা যত বেশী পরিমাণে আপনার দেহের অভ্যন্তরে প্রবেশ করানো হবে ঠিক তত বেশী পরিমানে আপনার রক্ত পরিশোধিত হবে। আপনার হজমশক্তি সঠিক থাকবে। আর আপনি যে ধরনের খাদ্য ভক্ষণ করুন না কেন, তা অতিসহজে হজম হয়ে আপনার শরীরের সাথে মিলিত হবে। আর তাতে আপনার দেহে রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।
৩. কুকুরের মত শয়ন করুন। আরাম দায়ক গভীর নিদ্রার গুরুত্ব অনস্বীকার্য দিনের কঠোর পরিশ্রম ও দৌড়-ঝাঁপের পর মানবদেহ দীর্ঘ বিশ্রাম লাভের প্রত্যাশি হয়। মহান আল্লাহ তা'আলা মানুষের বিশ্রাম গ্রহণের জন্য রাত সৃষ্টি করেছেন। যদি মানুষ রাতে দুশ্চিন্তামুক্ত হয়ে আরামের ঘুম না ঘুমায়, তাহলে সে দিন ভর হাসি-খুশি ও আন্তরিকতার সাথে স্বীয় কাজ সমাধা করতে পারবে না। নিদ্রাহীনতা ও দেহকে বিশ্রাম না দেওয়ার কারণে দেহের কর্ম প্রেরণা হ্রাস পায়। দেহ দুর্বল ও রোগাক্রান্ত হতে শুরু করে। তাই মানসিক ও দৈহিক সুস্থতা লাভের জন্য রাতের গভীর সুখনিদ্রার প্রয়োজন অপরিহার্য।
৪. সর্বদা অন্তর প্রফুল্ল রাখুন। যেভাবে দিনের সাথে রাতের ফুলের সাথে কাঁটার সম্পর্ক অত্যাবশ্যক, অনুরূপভাবে জীবনের সাথে হাসি-খুশি ও প্রফুল্লতার সাথে পুরোপুরি স্বাদ উপভোগের উদ্দেশ্যে মানুষকে জীবনে অনেক বার দুর্ঘটনায়ও একাকার হয়ে যেতে হয়। কিন্তু যদি মানুষ বিন্দুমাত্র দুঃখ-কষ্টের সাথে জীবন চালাতে শুরু করে, আর সাহস হারিয়ে বসে, তাহলে সে অতিদ্রুত কিংকর্তব্য বিমুঢ়তার শিকার হয়ে মৃত্যুর করাল গ্রাসে পরিণত হয়ে যাবে। মানসিক দুশ্চিন্তা, প্রতিহিংসা, এক গুঁয়েমি, রাগ ও গোস্বা, সীমাতিরিক্ত ছলচাতুরী মানবদেহে বিষাক্ত উপাদান তৈরি করে। আর তা স্বাস্থ্যের উপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করে।
📄 খর্বাকৃতির লোক দীর্ঘ জীবন লাভ করে
পৃথিবীর সর্বত্র দীর্ঘাকৃতি লোককে সম্মানের দৃষ্টিতে দেখা হয়। আর সাধারণতঃ দীর্ঘাকৃতির লোক শুধু শক্তিশালী সবল ও স্বাস্থ্যবান হবে। আমার মাতা-পিতা, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয় স্বজন, সংবাদ মাধ্যম চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনও আমার অন্তরে এ বিষয় আলোড়ন করত যে, লম্বা হওয়া অনেক সৌন্দর্যের ব্যাপার। খেলাধুলা যেমন, ফুটবল, বাস্কেট বল, বেসবল প্রভৃতির জন্যও লম্বা খেলোয়াড় নির্বাচনও তাই প্রমাণ করে। কিন্তু বর্তমানে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞগণ দীর্ঘ কয়েক বছর গবেষণার পর এ চিত্তাকর্ষক রহস্য উন্মোচন করেছেন যে, দীর্ঘাকৃতি ও সুস্থতার মাঝে কোন সম্পর্ক নেই। চিকিৎসক ও বিজ্ঞানীগণ বিভিন্ন শ্রেণী পেশা ও অভিজ্ঞতার সাথে সম্পর্কিত অনেক ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করেন। তন্মধ্যে সাবেক আমেরিকার প্রেসিডেন্ট, আঘাত সম্পর্কিত অভিজ্ঞ বিজ্ঞানী, ব্যবসায়ী ও খেলোয়াড় অন্তর্ভূক্ত ছিল। তাদের মোট সংখ্যা ৭৫০ জন ছিল। প্রথমে পৃথক পৃথকভাবে তাদের সকলের দৈহিক আকৃতি মৃত্যুর সময় ও বয়স সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়। তারপর তাদের দৈহিক আকৃতি অনুযায়ী বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত করে (যেমন দীর্ঘাকৃতি, মধ্যমাকৃতি ও খর্বাকৃতি) প্রত্যেক দলের গড় আয়ু বের করা হয়। তারপর পারস্পরিক তুলনা করে বয়স সমূহের শতকরা গড় হিসাব করা হয়। ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি থেকে ছোট আকৃতির লোক খর্বাকৃতির আর ৬ ফুট দীর্ঘাকৃতির লোককে দীর্ঘাকৃতির দলভূক্ত করা হয়।
এ অনুসন্ধানে প্রমাণ হয়েছে, একই দলের বিভিন্ন খর্বাকৃতির লোক ও দীর্ঘাকৃতির লোকের মোকাবিলায় কমের পক্ষে শতকরা ১১ জন দীর্ঘ দিন জীবিত থাকে। আর দু'দলের মধ্যে এ পার্থক্য শতকরা ২০ ভাগ পর্যন্ত পাওয়া যায়। বাস্কেট বলের ৬ ফুটের অধিক লম্বা খেলোয়াড়দের শতকরা গড় আয়ু ৬৪ বছর ছিল। আর খর্বাকৃতির খেলোয়াড়দের ৭৪ বছর অর্থাৎ লম্বা খেলোয়াড়দের থেকে ৯ বছর বেশী। এ অবস্থা ফুটবল ব্যাপারেও খর্বাকৃতির খেলোয়াড়দের মধ্যে বিদ্যমান ছিল। অনুরূপভাবে খর্বাকৃতির বক্সার দীর্ঘাকৃতির বক্সারের তুলনায় সাত বছর বেশী জীবিত থাকে। অনুরূপভাবে বেসবলের খর্বাকৃতির খেলোয়াড়রা দীর্ঘাকৃতির খেলোয়াড় থেকে গড়ে বার বছর বেশী বয়স পায়। সফল ব্যবসায়ীদের মধ্যে খর্বাকৃতির ও দীর্ঘাকৃতির ব্যক্তিদের মধ্যে বয়সের ৯ বছরের পার্থক্য দেখা যায়।
এ আলোচনায় অস্বাভাবিক লম্বা ব্যক্তিও অন্তর্ভূক্ত হয়েছে। তাদেরকে দু'ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। খর্বাকৃতির জিন্ট লম্বাকৃতির জিন্ট থেকে শতকরা ১২ জন দীর্ঘজীবন লাভ করে। কিন্তু উভয় দলের জিন্টের গড় আয়ু শুধু ৪২ বছর থাকে। যারা অন্যান্য দলগুলোর মোকাবিলায় অত্যন্ত কম ছিল। আমেরিকার অজ্ঞাত পাঁচ প্রেসিডেন্ট যাদের আকৃতি ৫ ফুট ৮ ইঞ্চির থেকে কম ছিলো। তারা গড়ে ৮০ বছর বয়সে মারা যায়। যেখানে ৬ ফুটের অধিক লম্বাকৃতির পাঁচ প্রেসিডেন্ট শুধু ৬৬ বছর জীবিত ছিলো। ৭৫০ জনের ঐ দলের শুধু ১৫ জন ৯০ বছর জীবন পায়। কিন্তু তাদের মধ্যে দু'জন ব্যতীত বাকী সকলে খর্বাকৃতির ছিল।
অনুরূপভাবে বৃটেনের অভিজাত শ্রেণী সেখানে সাধারণ এলাকার তুলনায় লম্বাকৃতির লোক পাওয়া যায়। পূর্ববর্তী এক হাজার বছরে তাদের মধ্যে মাত্র দু'জন লোক একশ' বছর পর্যন্ত জীবিত ছিল।
এখন প্রশ্ন হতে পারে, পুরুষ ও নারী উভয়ের সঠিক ও যথাযথ আকার আকৃতি কি হওয়া উচিত? এ ব্যাপারে এখন আলোচনা করা হচ্ছে। তথাপি বিজ্ঞানীদের অভিমত হল, বর্তমান শিল্প কারিগরির যুগে দীর্ঘাকৃতি ও ভারী ঢিলাঢালা হওয়ায় কোন উপকার নেই। আমেরিকার স্থাপত্য উন্নতিতে খর্বাকৃতির লোকের অবদান অনেক বেশী বলে প্রমাণ হয়েছে। তাদের আকৃতি ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি থেকে কম ছিলো। আর ভবিষ্যত সৃজনশীলতার যুগেও এ ধরনের খর্বাকৃতির লোক উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। হাতির মত মোটাতাজা দেহের অধিকারী ব্যক্তির স্বীয় পশু শক্তির দ্বারা ব্যক্তিগত কোন উপকারীতা লাভ হলে হতে পারে। কিন্তু দেশ জাতির জন্য তারা সম্পূর্ণ অকর্মন্য।