📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 নারী-পুরুষের পনেরটি পার্থক্য, রক্তের পার্থক্য

📄 নারী-পুরুষের পনেরটি পার্থক্য, রক্তের পার্থক্য


নারী ও পুরুষ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে এক সমানে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলতে হবে। বেসামরিক ও সামরিক বাহিনীতে নারীরা একত্রে কাজ করতে হবে। এসব পদে পুরুষদের একচ্ছত্র অধিকারী হওয়া চলবে না। নারী-পুরুষের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ কারী মত পছন্দনীয়। এজাতীয় আরো কথা আগামীদিন শুনতে পাবেন। আমি এখানে নিত্য নতুন বৈজ্ঞানিক, মনোস্তাত্বিক ও চিকিৎসাবিধগণের গবেষণালব্ধ পরিণাম ফল উল্লেখ করছি। এ ফলাফলের আলোকে আপনার জন্য বুঝা সহজ হবে যে, জীবন-যাপনের দিক থেকে পুরুষ-নারী একে অপরের থেকে কি পরিমাণ ব্যতিক্রম। তাদের উভয়ের কর্মক্ষেত্রে কতটা স্বতন্ত্র।

রক্তের পার্থক্য
জীবজগতের যে কোন প্রাণীর জোড়াই ধরুন, তাদের নর-মাদীর রক্তের রাসায়নিক উপাদানে বিস্তর পার্থক্য রয়েছে। উদাহরণ স্বরূপ কোন কোন নর ষাণ্ডার রক্ত হলদে ও মাদী ষাণ্ডার রক্ত সবুজ হয়। মানুষের রক্তে। ততোটা পার্থক্য দেখা যায় না। তারপরও মহিলাদের রক্তের তুলনায় পুরুষের রক্তে লাল কণিকা ১০% ভাগ বেশী থাকে।

পুরুষের রক্তের রং বেশী লাল হয়। তাছাড়া মহিলাদের রক্তের তুলনায় হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বেশী হয়। হিমোগ্লোবিন রক্তের এক গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। এর মাধ্যমে দেহের মধ্যে অক্সিজেন সরবরাহ হয়। আর তা দেহের প্রয়োজনীয় স্থানে দ্রুত অক্সিজেন পৌঁছে দেয়।

মহান আল্লাহ তা'আলা রক্তের এ উপকরণ সমূহের ঘাটতি এভাবে পূরণ করে দেন যে, নারী দেহে রক্ত এমনিতে দ্রুত ও সহজে তৈরি হয়ে যায়। অভিজ্ঞতায় প্রমাণ হয়েছে, দুর্ঘটনাজনিত নারীদেহের ক্ষত তুলনা মূলকভাবে অতি দ্রুত পূর্ণ হয়ে যায়। তাদের মাসিক স্রাবেও প্রচুর রক্ত ক্ষরণ হয়। এ অভ্যেস কম-বেশী বিশ থেকে ৪৫ বছর পর্যন্ত জারি থাকে। কিন্তু মহান আল্লাহ তা'আলা নারীদের দেহে দ্রুত ও তাড়াতাড়ি রক্ত উৎপাদনের ক্ষমতা রেখে দিয়েছেন। যা তাদেরকে দুর্বলতাও অসুস্থতা থেকে বাঁচিয়ে রাখে। এ কারণে সন্তান প্রসবের পর তারা অতিদ্রুত সুস্থ্য হয়ে যায়।

যতদিন নারীদের মাসিক স্রাব হয়, ততদিন নারী সন্তান জন্ম দানের যোগ্য থাকে। রক্তক্ষরণ ও জরায়ুতে সন্তানের দৈহিক গঠনে শক্তি ক্ষয় হয়। কিন্তু আমি পূর্বে উল্লেখ করেছি যে, কম-বেশী পয়তাল্লিশ বছর বয়স পর্যন্ত নারীর মাসিক স্রাব হয়। এর পর ঐ শক্তি যা রক্তক্ষরণ বা সন্তান উৎপাদনে ব্যয় হত তা উদ্বৃত্ত থেকে যায়। ঐ উদ্ধৃত শক্তির কারণে নারীর জীবন দীর্ঘ হয়ে যায়।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 উচ্চ রক্তচাপ, নিশ্বাস, হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন, দৈহিক শক্তি

📄 উচ্চ রক্তচাপ, নিশ্বাস, হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন, দৈহিক শক্তি


উচ্চ রক্তচাপ
পুরুষ ও নারীর রক্তের চাপ পরিমাপ যন্ত্র ব্যতিক্রম হয়। পুরুষের রক্ত ভারী হয়, তাতে জলীয় উপাদান কম হয়। নারীদের তুলনায় পুরুষের হৃদপিণ্ডের গতি দ্রুততর হয়। এ কারণে তার অক্সিজেনের প্রয়োজন বেশী হয়। ফলশ্রুতিতে রক্তের চাপ বেশী হয়। এর ব্যত্তয় ঘটলে কোন কোন সময় পুরুষের মৃত্যুর কারণ হয়ে যায়।

নারী ব্যথা, গরম ও ঠাণ্ডা দ্রুত অনুভব করে থাকে। তাদের এ গুলোর মোকাবিলার ক্ষমতা অনেক বেশী। মধ্যম শ্রেণী ও দারিদ্র্য পরিবারের নারীর প্রতি দেখুন। তারা তীব্র শীতের মধ্যেও সাধারণ পোশাক পরিধান করে কাজ কর্ম করছে। অথচ তখন তাদের সমবয়সী পুরুষ গরম কাপড়ের সাহায্য নিতে বাধ্য হয়ে যায়।

নিঃশ্বাস
নারীদের হৃদপিণ্ড ও ফুসফুস ক্ষুদ্র হয়। ফলশ্রুতিতে তাদের অক্সিজেনের প্রয়োজন কম হয়। পুরুষের তুলনায় নারী এক মিনিটে বেশী নিঃশ্বাস নেয়। তারা পুরুষের মতো টেনে নিঃশ্বাস নেয় না। এর কারণ হল, নিঃশ্বাস নেওয়ায় তারা পুরুষের মোকাবিলা করতে পারে না। কিন্তু পরিশ্রমের কাজ করার সময় তাদের নিঃশ্বাস দ্রুত ফুলে যায়।

নারী স্বল্প গভীর নিঃশ্বাস নেয়। এর উপকারীতা হল, তারা বাতাসে ভেসে বেড়ানো বিষাক্ত ধুলিকণা থেকে নিরাপদ থাকে। তারা ধীরস্থিরে নিঃশ্বাস নেয়। আর পুরুষের বিপরীতে বিষাক্ত উপকরণ তাদের ফুসফুসে কম প্রবেশ করে। মাত্র কয়েক বছর পূর্বে যখন ইথার আবিষ্কৃত হয়, তখন এক চিত্তাকর্ষক বিষয় সামনে আসে। ইথার ব্যথা-নিরোধক ঔষধ। কিন্তু প্রথমে এর ব্যবহারে অনেকের মৃত্যুর কারণ হয়। মৃতদের মধ্যে মহিলাদের তুলনায় পুরুষের সংখ্যা ছিল দ্বিগুণ ছিল। এর কারণ ছিল, মহিলাদের তুলনায় পুরুষের দেহে বিষাক্ত উপকরণ ধ্বংসের ক্ষমতা কম থাকা।

হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন
স্বাভাবিক অবস্থায় নারীদের তুলনায় পুরুষের হৃৎপিণ্ড প্রতি মিনিটে দশবারের কম স্পন্দিত হয়। অর্থাৎ পুরুষের তুলনায় নারীর হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন বেশী হয়। অভিজ্ঞতায় প্রমাণ হয়েছে, মাতৃ উদরেও ছেলের তুলনায় মেয়ের হৃৎপিণ্ড অতি দ্রুত স্পন্দিত হয়। সুতরাং অন্যান্য জটিলতার উপর নিয়ন্ত্রন লাভ হলে ভবিষ্যতে চিকিৎসকগণ হৃৎপিণ্ডের স্পন্দনের দ্বারাই জানতে সক্ষম হবে যে, মাতৃ গর্ভের শিশুটি ছেলে না মেয়ে?

দৈহিক শক্তি
দৈহিক শক্তির দিক থেকে পুরুষ মোটামুটি নারী থেকে বেশী শক্তিশালী হয়। পুরুষের দেহের শক্তির পরিমান শতকরা ৮৭ ভাগ। আর বাকী গোশত ও চর্বি। আর নারীর শক্তির পরিমাণ মাত্র শতকরা ৫৪ ভাগ। পুরুষ দ্রুত ক্লান্তি অনুভব করে না। পুরুষের মোকাবিলায় নারী দ্রুত ক্লান্ত ও পরিশ্রান্ত হয়ে যায়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নারী-পুরুষ উভয় কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একসাথে কাজ করেছে। তখন এ বাস্তব সত্য স্পষ্ট হয়ে উঠে যে, তারা অতি দ্রুত ক্লান্তির শিকার হয়ে যেত। তাদের নিজের বল বৃদ্ধির জন্য দীর্ঘ সময় বিশ্রামের প্রয়োজন হত। ইউরোপের অন্যান্য দেশ সমূহের মোকাবিলায় আমেরিকার পেশাজীবি মহিলার সংখ্যা অনেক বেশী। কিন্তু তাদের কাজ দফতরীর দ্বায়িত্ব পালনের মত। তারা নথি নিবন্দন, মুদ্রাক্ষরিক, সার্ট মুদ্রাক্ষরিত অথবা দোকানের সেল্স গার্লের দ্বায়িত্ব পালন করা পছন্দ করে। অধিক পরিশ্রমের কাজ দৈহিক গঠনের সাথে উপযুক্ত নয়। সুতরাং শিল্প কারখানায় তাদের চাকুরীর সুযোগ হয় না।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 ভার উত্তোলনের যোগ্যতা, ক্রমোন্নতিতে পার্থক্য, খেলার মাঠ

📄 ভার উত্তোলনের যোগ্যতা, ক্রমোন্নতিতে পার্থক্য, খেলার মাঠ


ভার উত্তোলনের যোগ্যতা
নারীদের ভার উত্তোলনের ক্ষমতা কম। তার গড়ে ত্রিশ সেরের বেশী ওজনের ভার উত্তোলন করতে পারে না। চাই নারী-পুরুষের স্বাস্থ্যগতওজন এক সমান হোক। কিন্তু বোঝা উঠানোর যোগ্যাতায় বিশেষ পার্থক্য রয়েছে।

ক্রমোন্নতিতে পার্থক্য
পুরুষের দেহের তুলনায় নারীর দেহের ওজন বেড়ে যায়। নারীর দেহে চর্বি ও অপ্রয়োজনীয় গোশতের পরিমাণ অনেক বেশী থাকে। তা বরাবরই বৃদ্ধি পেতে থাকে। নারীর দেহে কুদরতের এ যুক্তি সিদ্ধতা রয়েছে যে, তাতে মাতৃউদরে সন্তান নমনীয়তার সাথে বিচরণ করতে পারে। এখন প্রশ্ন দেখা দিতে পারে যে, ঐ সময় নারী মোটা হয় কেন, যখন তারা সন্তান উৎপাদনের যোগ্য থাকে না? এর এক জবাব তো হল, চিকিৎসা বিজ্ঞানের গবেষণায় দেখা যায় যে, নারীর পাকস্থলী বড় হয়। আর তারা দ্রুতও সহজে খাদ্যদ্রব্য হজম করে ফেলে। সুতরাং তাদের ক্ষিধা বেশী হয়। তাই বেশী খবার তাদেরকে মোটা হওয়ার দিকে নিয়ে যায়। দ্বিতীয় কারণ হল, শেষ জীবনে নারীর দেহের সেসব উপকরণ, যা সন্তান জন্ম দানে খরচ হতে থাকত, তা বেকার হয়ে গোশতের সাথে মিলিত হয়ে যায়। ফলে তাদের দেহ মোটা হয়ে যায়।

খেলার মাঠ
খেলার মাঠে ও নারীকে পুরুষের সমান করার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। কিন্তু অভিজ্ঞতার সাক্ষী হল, সে দৈহিক গঠনের দিক থেকে পুরুষের মোকাবিলা করতে অক্ষম। উদাহরণতঃ নারীর দ্রুত গতিতে বল নিক্ষোপের যোগ্যতা নেই। এর কারণ নিক্ষেপণের দুর্বলতা নয়, দৈহিক গঠন। নারীর দেহের কনুই ও হাতের কজীর হাড়সমূহ পরস্পরে এমন উপকরণের সাথে মিলিত হয়ে আছে, তাই সে দ্রুত হাতে বল ঘুরাতে পারে না। তার দৈহিক গঠন সিঁড়িতে আরোহন করায়ও কষ্ট অনুভূত হয়। অনুরূপভাবে পায়ের পাতা ও গোড়ালীর হাড়সমূহের জোড়া থেকে পদক্ষেপ নেওয়ায় সফলকাম হতে দেয় না।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 কন্ঠের রগ সমূহ, মাংস পিণ্ডের পার্থক্য, ক্ষতিকর উপকরণ

📄 কন্ঠের রগ সমূহ, মাংস পিণ্ডের পার্থক্য, ক্ষতিকর উপকরণ


কণ্ঠের রগসমূহ
নারীর কণ্ঠনালীর রগ থেকে পুরুষের কণ্ঠনালীর রগসমূহ দ্বিগুণ লম্বা হয়। নারী হালকা সূরে সহজে গেয়ে নিতে পারে। কিন্তু তুলনামূলক বেশী লম্বা টান নেওয়া তার জন্য কঠিন হয়।

মাংসপিণ্ডের পার্থক্য
দেহের কোন কোন মাংশপিণ্ড নারী-পুরুষকে একে অপরের তুলনায় স্বাতন্ত্রতা দান করা হয়েছে। গলার মাংসপিণ্ডের কথাই ধরুন। এটা রস নিঃসরণে বাইরের তুলনায় রক্তের মধ্যে রস নিঃসরণ করে থাকে। এ রস নিঃসরণ যদি বেশী হয়ে যায়, তাহলে মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ব্যথা-বেদনা ও ম্যাজমেজে ভাব দেখা দেয়। আবার হৃৎপিণ্ডেও গোলযোগ দেখা দিতে পারে। যদি অধিক পরিমাণে রস নিঃসরণ হতে থাকে, তাহলে কোন কোন সময় তাৎক্ষণিক জ্ঞান-বুদ্ধি লোপ পেতে পারে। এ রোগ সাধারণতঃ মহিলাদের বেশী হয়। এর কারণ হল, তাদের গলার মাংসপিণ্ড দৈর্ঘে বড় হয়।

ক্ষতিকর উপকরণ
এ বিষয় দীর্ঘ দিন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের চিন্তার কারণ ছিল যে, নারীদের তুলনায় পুরুষের পাকস্থলী ক্যানসারে বেশী আক্রান্ত হয় কেন? বর্তমানে চিকিৎসকগণ এ সমস্যা চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছেন। আমেরিকার দেহবিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ ক্রমাগত গবেষণার পর এ অভিমত প্রকাশ করেছেন যে, নারীদেহে এমন উপকরণ বিদ্যমান রয়েছে, যা তার দৈহিক বিষাক্ত ও ক্ষতিকর উপকরণের বিরুদ্ধে মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়। এর ফলে তাদের পাকস্থলী ক্যান্সার আক্রান্ত হওয়া থেকে নিরাপদ থাকে। তাই তাদের গর্ভের সন্তানের উপর খারাপ প্রতিক্রিয়া দেখ দেয় না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00