📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 ভয়-ভীতি, বিষণ্নতা, ক্রোধ

📄 ভয়-ভীতি, বিষণ্নতা, ক্রোধ


ভয়-ভীতি, বিষণ্নতা, ক্রোধ প্রবৃতির প্রভাব পাকস্থলীতে প্রতিফলিত হয়। আমাদের দেহের একটি অঙ্গ স্বীয় জীবন ও শক্তি বহাল রাখার জন্য আমাদের রক্ত থেকে খাদ্য প্রাণ সংগ্রহ করে, যা আমাদের শিরা-উপশিরায় প্রবাহমান থাকে। এ খাদ্য দেহের অনেক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ চলাফেরার পর বিভিন্ন উপায়ে পরিশোধিত হয় এবং নিয়ম অনুযায়ী রক্তে পরিণত হয়।

পরিপাকতন্ত্রের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অংশ হল পাকস্থলী। যদি পাকস্থলীর কাজকর্ম সংযত থাকে। তাহলে দেহের সর্বাঙ্গের অবস্থা ভাল থাকে। আর যদি পাকস্থলি সঠিকভাবে কাজ না করে, তাহলে পুরো দেহ সঠিক খাদ্য গ্রহণ থেকে বঞ্চিত হয়ে বিভিন্ন প্রকার ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়। এ কারণে হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে। ব্যাধির স্থান হল পাকস্থলী। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা হল সংযত থাকা। যেহেতু পাকস্থলীর যাবতীয় কাজকর্মের আয়োজন ও বিশৃঙ্খলা মানুষের নিজ ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল, তা শুধু আচার-আচরণের দ্বারা নয় বরং শরী'আতের দৃষ্টিতেও মানুষের উপর অত্যাবশ্যক হল, পাকস্থলী সচল থাকার প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখায় অলসতা না করা। আর ঐ সব কাজ থেকে বিরত থাকা, যাতে পাকস্থলীর স্বাভাবিক ক্রিয়াকর্ম বিঘ্নিত ও তার স্বাভাবিক কাজকর্ম অনিয়মিত না হয়ে যায়। এ কারণে স্বাস্থ্য সুস্থ রাখার জন্য সবচেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ণ হল, প্রত্যেক ব্যক্তির হজমশক্তি নষ্ট না হওয়ার ব্যাপারে খেয়াল রাখা। আর তা থেকে বিরত থাকা। যে ব্যক্তি পরিমিত সাধারণ খাবার ও পরিস্কার স্বল্প পানি পান করে, তার বদ হজম নির্ণয় করা কঠিন কাজ নয়। কিন্তু অধিকাংশ লোকের কাজ হল এর বিপরীত। তারা পানাহারে ভীষণ লৌকিকতা ও ভোজন বিলাসে অভ্যস্থ হয়ে আছে। বিভিন্ন ধরনের চটপটি জাতীয় খাবর ও একাধিক প্রকার তরল পানীয়ের স্বাদ উপভোগে অতি উৎসাহী। এ কারণে তাদের বদহজমের কারণ তারা কখনো জানতে পারে না। হজমশক্তি দুর্বল করার কারণ সমূহ নিম্নরূপ।

১. নেশা ও চটপটি জাতীয় ভোজন বিলাসী খাবার ভক্ষণ।
২. তামাক সেবন করা।
৩. খারাপ প্রতিক্রিয়া যথা হিংসা, ঘৃণা, বিষণ্ণতা ও দুশ্চিন্তায় মগ্ন থাকা।
৪. খাবারের পর দেহমিলন।
৫. খাবারের পর কঠোর পরিশ্রমের কাজ করা।
৬. খাবারের পর তাৎক্ষণিকভাবে শুয়ে পড়া।
৭. খাবার হজম হওয়ার পূর্বে কিছু খেয়ে নেওয়া।
৮. স্বয়ং নিজেকে ভালো খাবারের প্রতি সোপর্দ করে দেওয়া।

নেশা করার কারণে হজমপ্রক্রিয়া ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দুর্বল হয়ে যায়। আর এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় পাকস্থলী ও আঁতুড়ির ক্রিয়াকর্মে ব্যাপক বিঘ্ন সৃষ্টি করে। পাকস্থলীর পাঁচক রস, যা হজমের সর্বোত্তম মাধ্যম। তা নিঃশেষে হয়ে যায়। আর পেট থেকে বায়ু নির্গমনের সমস্যা প্রকট হয়ে দাঁড়ায়। কেননা শরাব, গরম ও চটপটি জাতীয় দ্রব্যাদি ব্যবহারের কারণে পাকস্থলীর মাংসগ্রন্থি থেকে ব্যাপক পরিমাণ রস নিঃসৃত হতে থাকে। প্রয়োজনের সময় খাদ্য হজম করার জন্য অথবা ঐ রসের বিন্দুমাত্র অংশও মুখের মধ্যে থাকে না। যদিও সামান্য কিছু পরিমাণ থাকে, তাও খাবারের সাধারণ নড়াচড়ার কারণে প্রভাবিত হয়ে পাকস্থলী থেকে বের হয় না। ফলে গরম মশলা যুক্ত সুস্বাদু উপকরণের আলোড়নে নির্গত হতে অভ্যস্থ হয়ে যায়। সুতরাং তখন খাবার স্বাভাবিকভাবে হজম হয় না।

ধুম পান করার কারণে দেহের বেশীর ভাগ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অকেজো ও দুর্বল হয়ে যায়। ফলে পাকস্থলীও দুর্বল হয়ে কর্মক্রিয়ায় অক্ষম হয়ে যায়। তখন খাদ্য হজম করতে পারে না। ফলে খাদ্য দীর্ঘ সময় পর্যন্ত পাকস্থলীতে পড়ে থাকে। তা ফুলে যাবার কারণে বিভিন্ন প্রকার দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা জন্মে। তা অস্ত্রে প্রবেশ করে গড় গড় শব্দ করতে থাকে।

অধিক গরম খাবার গ্রহণের কারণে মুখ পুড়ে যায় কেন? কারণ, এমতাবস্থায় চিবানো ব্যতীত অধিকাংশ খাবার গিলে ফেলতে হয়। ফলে একে তো এ খাবার নরম না হয়ে পাকস্থলীতে চলে যায়। দ্বিতীয়তঃ মুখের যে লালা হজমের কারণ হয়, তার সাথে মিলিত হতে পারে না। যদ্দরুন পাকস্থলী ভারী হয়ে যায়। আর সে তা হজম করতে অক্ষম হয়ে যায়। অধিক গরম বস্তু ব্যবহারের অপর আরেক ক্ষতি হল, মুখের স্বাদ গ্রহণের অনুভূতি দুর্বল হয়ে যায়। সুতরাং মুখ দিয়ে যদি আধা মিনিট পর্যন্ত গরম পানি সেবন করা হয়, তাহলে এর পর মুখ মিষ্টি, টক, লবণাক্ততা ও পানসের মধ্যে পার্থক্য অনুভব করতে পারে না। হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে "দু'প্রকারের খাদ্য এরূপ, যাতে কোন বরকত হয় না। এক ফুঁক দেওয়া খাদ্য, আর দুই গরম খাদ্য।" এটা আল্লাহ তা'আলার এক বিরাট অনুগ্রহ যে, তিনি মানুষের হাতে বস্তুর গরম ও ঠাণ্ডা বুঝার শক্তি দান করেছেন। সুতরাং যে গরম খাদ্য তার পাকস্থলীর জন্য ক্ষতিকর হবে, তা সে পূর্বেই হাতের মাধ্যমে অনুভব করতে সক্ষম হয়।

যদি মানুষের সৃষ্টি ও আকৃতির প্রতি লক্ষ্য করা হয়, তাহলে প্রমাণ হয় যে, সে প্রবৃতির প্রভাবে প্রভাবিত ভীষণ যোগ্যতার অধিকারী অর্থাৎ এটা তাকে একদিকে রূহানী স্বাদ বা মানসিক কষ্ট দান করে। প্রথম প্রকারের প্রতিক্রিয়া তার উপর এক দিকে উজ্জলতা ও প্রশস্ততার অবস্থা অবতারিত হতে থাকে। তাকে আমরা খুশি ও প্রফুল্লতা বলি। আর দ্বিতীয় প্রকারের প্রতিক্রিয়ায় সাময়িক কিছু সময়ের জন্য সংকীর্ণতা ও কোষ্ঠ কাঠিন্যতা দেখা দেয়। আমরা ওটাকে বিষণ্ণতা দুশ্চিন্তা নামে অভিহিত করি। এতদুভয় অবস্থার প্রতিক্রিয়া আমরা দেহের মাঝে ভালো ভাবেই অনুভব করি। সুতরাং খুশির সময় আমরা দেহের উপর রক্তিমাভ ও দুঃখের সময় ফ্যাকাসেভাব দেখতে পাই।

স্বাস্থ্যের উপর প্রতিক্রিয়া প্রতিফলিত হওয়ার দিক থেকে ঐ প্রতিক্রিয়া সমূহ দু'প্রকার হয়, এক তো হল এই যে, মানুষের নফসে প্রশান্তি আরাম ও স্বচ্ছন্দতা সৃষ্টি করে, যথা খুশি ও সফলতা ইত্যাদি। নফসের মধ্যস্থতায় যখন এ প্রতিক্রিয়া দেহে সঞ্চালিত হয়, তখন এর দ্বারা না শুধু ব্যাধি হালকা হয় বরং সাধারণতঃ ব্যাধি নিরাময় হয়ে যায়। দ্বিতীয়তঃ নফসে সংকীর্ণতা, অবসন্নতা ও দুর্বলতা দেখা দেয়।

প্রবৃত্তিগত প্রতিক্রিয়া সমূহ সর্বপ্রথম এবং সবচেয়ে বেশী প্রতিফলিত হয় ব্রেণের ওপর। এর ফলে সে নিজের অভ্যাসের চেয়ে বেশী কাজ করতে শুরু করে। যা দৈহিক অনেক কর্মোদ্দোম ও শক্তি অকর্মন্য করে দেয়। অবশেষে হয়ত অঙ্গ প্রত্যঙ্গের সব নিয়মানুবর্তীতা নড়বড়ে হয়ে যায়। অথবা কোন বিশেষ অঙ্গ যা ব্রেণ থেকে বের হয়েছে, তার নিশানা হয়ে যায়। এ কারণে পুরো দেহের রাজা হলো ব্রেণ। যার ভালো-মন্দ সবই মস্তক থেকে আসে। মোটকথা, যখন ব্রেণের উপর এ প্রতিক্রিয়া প্রতিফলিত হয়, তখন তার মধ্যস্থতায় রক্ত চলাচল, শ্বাস-প্রশ্বাস ও হজমে বিশেষভাবে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। প্রথম প্রতিক্রিয়া হয় ব্রেণের ওপর। এর দ্বারা কোন কোন সময় ব্রেণে বিভিন্ন ব্যাধি, যথা ব্রেণে যন্ত্রণা, মৃগী, সন্নাস রোগ প্রভৃতি দেখা দিতে পারে। এর দ্বারা কখনো কখনো রক্ত দূষিত হয়ে যেতে পারে। তার তরল হওয়ার শক্তি নষ্ট হয়ে যায়। যা রক্ত পরিশেধিত করে শক্তিশালী করে দিত। আর কখনো রক্তের উপকরণে ঘাটতি এসে য়ায়। ফলে দেহের সব কর্মক্ষমতা ভন্ডুল হয়ে যেতে পারে।

সুতরাং আমরা অধিকাংশ সময় দেখতে পাই, কোন দুগ্ধদানকারী শিশুর মায়ের উপর যখন প্রবৃত্তিগত কোন প্রতিক্রিয়া প্রতিফলিত হয়, দুঃশ্চিন্তা, ক্রোধ, ভয় ভীতি প্রভৃতি প্রবল হয়, তখন তার দুধ নষ্ট হয়ে যায়। এ দুধ যখন শিশুকে পান করানো হয়, তখন তাতে শুধু শিশু ক্ষতিগ্রস্থ হয় না বরং কখনো কখনো এ দুধ বিষক্রিয়ার কাজ করে। এ বিষাক্ত দুধ সম্পর্কে আমাদের কোন জ্ঞানই নেই যে, এটা প্রবৃত্তিগত প্রতিক্রিয়ার কারণে নষ্ট হয়ে গেছে বরং আমরা এটা জানি যে, বদ হজম, পাকস্থলীর গণ্ডগোল ও পানাহারের বাছবিচার না করার কারণেও স্বভাব খিটখিটে হয়, তাহলে সে সাধারণ প্রতিক্রিয়ায় স্বীয় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের শক্তিকে অধিক মাত্রায় ব্যয় করে দেয়। এ কারণে তার দুধ শিশুর বিশেষ খাদ্য উপাদানযুক্ত হয় না। কেননা শিশুর দাঁত উঠার যে উপকরণ দুধে বিদ্যমান থাকত। তা প্রকৃতিগত প্রতিক্রিয়ার কারণে জ্বলে যায়। আর অবশেষে এ শিশু যখন বড় হয়, তখন তার দেহ দুর্বল ও হালকা হয়। তার দাঁত দুর্বল ও কমজোর হয়। এছাড়াও তার আচার-আচরণ অভ্যাস ও স্বীয় মায়ের আচার-আচরণের মত খারাপ ও স্বভাব মায়ের স্বভাবের মত খিটখিটে হয়ে যায়।

প্রবীণ ব্যক্তিগণ বলেন, মানুষের কোন কোন খারাপ আচরণ কোন কোন প্রাণীর খারাপ আচরণ পর্যন্ত পৌঁছে যায়, তখন তার রক্ত দূষিত হয়ে যায়। আর তার মুখের লালা বিষাক্ত হয়ে যায়। তখন সে এ দলের অন্তর্ভূক্ত হয়ে যায়। এর প্রমীণ হল, ঐ ব্যক্তি যখন কোন প্রাণীকে চিবিয়ে খায়, তখন তার মুখের লালা ঐ প্রাণীকে বিষাক্ত করে দেয়।

এধরনের প্রতিক্রিয়ায় হজমের উপর যে বিরূপ প্রভাব প্রতিফলিত হয়, তার প্রমাণ হল; অধিকাংশ সময় দেখা যায়, চূড়ান্ত ভয়ের সময় মানুষের মুখ শুকিয়ে যায়। তাই তখন মানুষ কথা বলতে পারে না। রাগান্বিত অবস্থায় মানুষের অবস্থা সম্পূর্ণ বিপরীত হয় অর্থাৎ এ মাংস স্বীয় অভ্যাসের চেয়ে বেশী কাজ করতে শুরু করে। তাই তখন মানুষের মুখে ফেনা এসে যায়। এ দুই অসামঞ্জস্য ও বিপরীত অবস্থা পাকস্থলীকে ক্ষতিগ্রস্থ করে দেয়। এ প্রতিক্রিয়ার বিরূপ প্রভাব চুল কালো রাখার স্বাভাবিক শক্তিকে নষ্ট করে দেয়। সুতরাং অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়, যৌবনকালে যদি কেউ ভ্রমণগতভাবে দুঃশ্চিন্তাও দূর্ভাবনা পতিত হয়, তাহলে অসময়ে তার চুল সাদা হয়ে যায়।

প্রবীণ লোকেরা বলেন, প্রতিহিংসা ও ক্রোধ মানুষকে দ্রুত বৃদ্ধ করে দেয়। গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করার পর এ কথা সঠিক বলে প্রমাণ হয়েছে। কেননা এ ধরনের স্বভাবের লোক সর্বদা অশান্তিতে থাকে। এ অশান্তিই বদহজমের সবচেয়ে বড় কারণ। এর ফলে মানুষ পরিমিত আহার করতে পারে না, তখন সে দুর্বল ও হালকা হয়ে অসময়ে বার্ধক্যের শিকার হয়ে যায়। যে সব শিশুদের অন্তর প্রতিহিংসা ও ক্রোধে পরিপূর্ণ হয়, বাল্যকালে তাদের উগ্র চালচলন ও রুক্ষ মেজাজ পরিলক্ষিত হয়। যেহেতু এ ধরনের স্বভাব গোপন থাকে না। তা বক্ষে ও কপালে ঝলমল করতে দেখা যায়। এ প্রতিক্রিয়া বিশেষ করে নারীদের প্রসূতিকালে প্রাপ্তবয়সে বা বার্ধ্যক্যে বিপজ্জনক ব্যাধিতে আক্রান্ত করতে পারে। ব্যাধিগ্রস্থ অবস্থায় বা ব্যাধি মুক্ত হওয়ার পরও এ সব প্রতিক্রিয়ার বিরূপ প্রভাব প্রতিফলিত হওয়ার মারাত্মক আশংকা থাকে। সাধারণতঃ মানুষের উপর প্রতিফলিত প্রতিক্রিয়ায় বিরাট পার্থক্য দেখা যায়। কোন কোন ব্যক্তির অনুভূতি বেশী দেখা যায়। আর কারো কারো অনুভূতি অনেক কম। কারো স্বভাব দুর্বল ও অধৈর্য্যশীল হয়। এমনকি কেউ কেউ তো দুঃখ-যন্ত্রণায় স্বভাবিকভাবে অশান্ত ও হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়ে। আর কারো কারো এরূপ অবস্থা হয় না। কিন্তু বর্তমানে সময়ের দ্রুত গতির কারণের প্রতি আর মানুষের ঐ সব দুঃখ কষ্ট ও চিন্তা-ভাবনার প্রতি দৃষ্টিপাত করলে দেখা যায়, মানুষ জীবিকা ও অর্থ উপার্জনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। তাতে স্পষ্ট প্রমাণ হয় যে, বর্তমান অধিকাংশ ব্যাধির কারণ হল বহিরাগত প্রক্রিয়ার প্রতিফলন। এ ধারনা যতই সঠিক হোক, কিন্তু তাতে বেশী দখল রয়েছে আভ্যন্তরী্ন প্রতিক্রিয়ার, যা দেহের মাঝে বহিরাগত প্রতিক্রিয়া গ্রহণ করার যোগ্যতা সৃষ্টি করে দেয়। কেননা আভ্যন্তরী্ন বিদ্রোহীর সাহায্যেই বহিরাগত দুশমন ভিতরে প্রবেশ করে। বিশেষ করে বর্তমান সময় মানুষের চাহিদা অনেক বেড়ে গেছে। মানুষ আরাম আয়েশের ব্যাপক উপকরন তৈরি করছে। সংস্কৃতি দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। যার ফলে মানুষকে এসব বিষয় আকলের সাহায্যে গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করে কাজ করতে হবে। এ ধরনের মানুষ দু'ভাগে বিভক্ত। এক শ্রেণীর, যারা স্বীয় চিন্তা-চেতনাকে বৈধ উপকার লাভে ব্যবহার করছে। দ্বিতীয়তঃ ঐ সব লোক, যারা এর সাহায্যে ছল-চাতুরীর মাধমে অবৈধ কাজ করছে। যদিও প্রথম দল দ্বিতীয় দলের তুলনায় নগন্য, কিন্তু তারা প্রকৃত আরাম আয়েশ ও সঠিক সুখ-শান্তি লাভ করে মহান আল্লাহ তা'আলা সন্তুষ্টি ও সৃষ্টি জীবের প্রশংসা লাভের যোগ্য হচ্ছে। আর দ্বিতীয় দল তারা এ জাতীয় ক্ষণস্থায়ী লাভের জন্য চির দুর্নাম ভর্ৎসনা ও আল্লাহ তা'আলার কঠোর ক্রোধের পাত্র হয়ে যাচ্ছে।

মোটকথা, দৈহিক সুস্থতা যার কাম্য তার প্রথম কর্তব্য হল, নিজের চরিত্র সংশোধন করা। বিবেক-বুদ্ধি ব্যবহারে সীমার অতিরিক্ত কাজ না করা। বিপজ্জনক বিষয় থেকে বিরত থাকা। ক্ষমতার অতিরিক্ত প্রত্যাশার পিছনে না ছুটা। ক্ষমতা অনুযায়ী বৈধ আয় উপার্জনের চেষ্টা করা। তারপর যা কিছু অর্জন হয়, তাকে যথেষ্ট মনে করে সন্তুষ্ট হওয়া। অপরের সফলতা ও আয় উন্নতি দেখে জ্বলে পুড়ে না মরা। লোভ লালসার দাস না হওয়া। কেননা যে বেশী লোভ করে, সে বঞ্চিত হয়। আর বঞ্চিত হওয়ায় চিন্তা ও ঘৃণা জন্ম হয়। আর মানুষের স্বাস্থ্য নষ্ট করে দেয়।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 নারী-পুরুষের পনেরটি পার্থক্য, রক্তের পার্থক্য

📄 নারী-পুরুষের পনেরটি পার্থক্য, রক্তের পার্থক্য


নারী ও পুরুষ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে এক সমানে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলতে হবে। বেসামরিক ও সামরিক বাহিনীতে নারীরা একত্রে কাজ করতে হবে। এসব পদে পুরুষদের একচ্ছত্র অধিকারী হওয়া চলবে না। নারী-পুরুষের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ কারী মত পছন্দনীয়। এজাতীয় আরো কথা আগামীদিন শুনতে পাবেন। আমি এখানে নিত্য নতুন বৈজ্ঞানিক, মনোস্তাত্বিক ও চিকিৎসাবিধগণের গবেষণালব্ধ পরিণাম ফল উল্লেখ করছি। এ ফলাফলের আলোকে আপনার জন্য বুঝা সহজ হবে যে, জীবন-যাপনের দিক থেকে পুরুষ-নারী একে অপরের থেকে কি পরিমাণ ব্যতিক্রম। তাদের উভয়ের কর্মক্ষেত্রে কতটা স্বতন্ত্র।

রক্তের পার্থক্য
জীবজগতের যে কোন প্রাণীর জোড়াই ধরুন, তাদের নর-মাদীর রক্তের রাসায়নিক উপাদানে বিস্তর পার্থক্য রয়েছে। উদাহরণ স্বরূপ কোন কোন নর ষাণ্ডার রক্ত হলদে ও মাদী ষাণ্ডার রক্ত সবুজ হয়। মানুষের রক্তে। ততোটা পার্থক্য দেখা যায় না। তারপরও মহিলাদের রক্তের তুলনায় পুরুষের রক্তে লাল কণিকা ১০% ভাগ বেশী থাকে।

পুরুষের রক্তের রং বেশী লাল হয়। তাছাড়া মহিলাদের রক্তের তুলনায় হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বেশী হয়। হিমোগ্লোবিন রক্তের এক গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। এর মাধ্যমে দেহের মধ্যে অক্সিজেন সরবরাহ হয়। আর তা দেহের প্রয়োজনীয় স্থানে দ্রুত অক্সিজেন পৌঁছে দেয়।

মহান আল্লাহ তা'আলা রক্তের এ উপকরণ সমূহের ঘাটতি এভাবে পূরণ করে দেন যে, নারী দেহে রক্ত এমনিতে দ্রুত ও সহজে তৈরি হয়ে যায়। অভিজ্ঞতায় প্রমাণ হয়েছে, দুর্ঘটনাজনিত নারীদেহের ক্ষত তুলনা মূলকভাবে অতি দ্রুত পূর্ণ হয়ে যায়। তাদের মাসিক স্রাবেও প্রচুর রক্ত ক্ষরণ হয়। এ অভ্যেস কম-বেশী বিশ থেকে ৪৫ বছর পর্যন্ত জারি থাকে। কিন্তু মহান আল্লাহ তা'আলা নারীদের দেহে দ্রুত ও তাড়াতাড়ি রক্ত উৎপাদনের ক্ষমতা রেখে দিয়েছেন। যা তাদেরকে দুর্বলতাও অসুস্থতা থেকে বাঁচিয়ে রাখে। এ কারণে সন্তান প্রসবের পর তারা অতিদ্রুত সুস্থ্য হয়ে যায়।

যতদিন নারীদের মাসিক স্রাব হয়, ততদিন নারী সন্তান জন্ম দানের যোগ্য থাকে। রক্তক্ষরণ ও জরায়ুতে সন্তানের দৈহিক গঠনে শক্তি ক্ষয় হয়। কিন্তু আমি পূর্বে উল্লেখ করেছি যে, কম-বেশী পয়তাল্লিশ বছর বয়স পর্যন্ত নারীর মাসিক স্রাব হয়। এর পর ঐ শক্তি যা রক্তক্ষরণ বা সন্তান উৎপাদনে ব্যয় হত তা উদ্বৃত্ত থেকে যায়। ঐ উদ্ধৃত শক্তির কারণে নারীর জীবন দীর্ঘ হয়ে যায়।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 উচ্চ রক্তচাপ, নিশ্বাস, হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন, দৈহিক শক্তি

📄 উচ্চ রক্তচাপ, নিশ্বাস, হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন, দৈহিক শক্তি


উচ্চ রক্তচাপ
পুরুষ ও নারীর রক্তের চাপ পরিমাপ যন্ত্র ব্যতিক্রম হয়। পুরুষের রক্ত ভারী হয়, তাতে জলীয় উপাদান কম হয়। নারীদের তুলনায় পুরুষের হৃদপিণ্ডের গতি দ্রুততর হয়। এ কারণে তার অক্সিজেনের প্রয়োজন বেশী হয়। ফলশ্রুতিতে রক্তের চাপ বেশী হয়। এর ব্যত্তয় ঘটলে কোন কোন সময় পুরুষের মৃত্যুর কারণ হয়ে যায়।

নারী ব্যথা, গরম ও ঠাণ্ডা দ্রুত অনুভব করে থাকে। তাদের এ গুলোর মোকাবিলার ক্ষমতা অনেক বেশী। মধ্যম শ্রেণী ও দারিদ্র্য পরিবারের নারীর প্রতি দেখুন। তারা তীব্র শীতের মধ্যেও সাধারণ পোশাক পরিধান করে কাজ কর্ম করছে। অথচ তখন তাদের সমবয়সী পুরুষ গরম কাপড়ের সাহায্য নিতে বাধ্য হয়ে যায়।

নিঃশ্বাস
নারীদের হৃদপিণ্ড ও ফুসফুস ক্ষুদ্র হয়। ফলশ্রুতিতে তাদের অক্সিজেনের প্রয়োজন কম হয়। পুরুষের তুলনায় নারী এক মিনিটে বেশী নিঃশ্বাস নেয়। তারা পুরুষের মতো টেনে নিঃশ্বাস নেয় না। এর কারণ হল, নিঃশ্বাস নেওয়ায় তারা পুরুষের মোকাবিলা করতে পারে না। কিন্তু পরিশ্রমের কাজ করার সময় তাদের নিঃশ্বাস দ্রুত ফুলে যায়।

নারী স্বল্প গভীর নিঃশ্বাস নেয়। এর উপকারীতা হল, তারা বাতাসে ভেসে বেড়ানো বিষাক্ত ধুলিকণা থেকে নিরাপদ থাকে। তারা ধীরস্থিরে নিঃশ্বাস নেয়। আর পুরুষের বিপরীতে বিষাক্ত উপকরণ তাদের ফুসফুসে কম প্রবেশ করে। মাত্র কয়েক বছর পূর্বে যখন ইথার আবিষ্কৃত হয়, তখন এক চিত্তাকর্ষক বিষয় সামনে আসে। ইথার ব্যথা-নিরোধক ঔষধ। কিন্তু প্রথমে এর ব্যবহারে অনেকের মৃত্যুর কারণ হয়। মৃতদের মধ্যে মহিলাদের তুলনায় পুরুষের সংখ্যা ছিল দ্বিগুণ ছিল। এর কারণ ছিল, মহিলাদের তুলনায় পুরুষের দেহে বিষাক্ত উপকরণ ধ্বংসের ক্ষমতা কম থাকা।

হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন
স্বাভাবিক অবস্থায় নারীদের তুলনায় পুরুষের হৃৎপিণ্ড প্রতি মিনিটে দশবারের কম স্পন্দিত হয়। অর্থাৎ পুরুষের তুলনায় নারীর হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন বেশী হয়। অভিজ্ঞতায় প্রমাণ হয়েছে, মাতৃ উদরেও ছেলের তুলনায় মেয়ের হৃৎপিণ্ড অতি দ্রুত স্পন্দিত হয়। সুতরাং অন্যান্য জটিলতার উপর নিয়ন্ত্রন লাভ হলে ভবিষ্যতে চিকিৎসকগণ হৃৎপিণ্ডের স্পন্দনের দ্বারাই জানতে সক্ষম হবে যে, মাতৃ গর্ভের শিশুটি ছেলে না মেয়ে?

দৈহিক শক্তি
দৈহিক শক্তির দিক থেকে পুরুষ মোটামুটি নারী থেকে বেশী শক্তিশালী হয়। পুরুষের দেহের শক্তির পরিমান শতকরা ৮৭ ভাগ। আর বাকী গোশত ও চর্বি। আর নারীর শক্তির পরিমাণ মাত্র শতকরা ৫৪ ভাগ। পুরুষ দ্রুত ক্লান্তি অনুভব করে না। পুরুষের মোকাবিলায় নারী দ্রুত ক্লান্ত ও পরিশ্রান্ত হয়ে যায়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নারী-পুরুষ উভয় কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একসাথে কাজ করেছে। তখন এ বাস্তব সত্য স্পষ্ট হয়ে উঠে যে, তারা অতি দ্রুত ক্লান্তির শিকার হয়ে যেত। তাদের নিজের বল বৃদ্ধির জন্য দীর্ঘ সময় বিশ্রামের প্রয়োজন হত। ইউরোপের অন্যান্য দেশ সমূহের মোকাবিলায় আমেরিকার পেশাজীবি মহিলার সংখ্যা অনেক বেশী। কিন্তু তাদের কাজ দফতরীর দ্বায়িত্ব পালনের মত। তারা নথি নিবন্দন, মুদ্রাক্ষরিক, সার্ট মুদ্রাক্ষরিত অথবা দোকানের সেল্স গার্লের দ্বায়িত্ব পালন করা পছন্দ করে। অধিক পরিশ্রমের কাজ দৈহিক গঠনের সাথে উপযুক্ত নয়। সুতরাং শিল্প কারখানায় তাদের চাকুরীর সুযোগ হয় না।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 ভার উত্তোলনের যোগ্যতা, ক্রমোন্নতিতে পার্থক্য, খেলার মাঠ

📄 ভার উত্তোলনের যোগ্যতা, ক্রমোন্নতিতে পার্থক্য, খেলার মাঠ


ভার উত্তোলনের যোগ্যতা
নারীদের ভার উত্তোলনের ক্ষমতা কম। তার গড়ে ত্রিশ সেরের বেশী ওজনের ভার উত্তোলন করতে পারে না। চাই নারী-পুরুষের স্বাস্থ্যগতওজন এক সমান হোক। কিন্তু বোঝা উঠানোর যোগ্যাতায় বিশেষ পার্থক্য রয়েছে।

ক্রমোন্নতিতে পার্থক্য
পুরুষের দেহের তুলনায় নারীর দেহের ওজন বেড়ে যায়। নারীর দেহে চর্বি ও অপ্রয়োজনীয় গোশতের পরিমাণ অনেক বেশী থাকে। তা বরাবরই বৃদ্ধি পেতে থাকে। নারীর দেহে কুদরতের এ যুক্তি সিদ্ধতা রয়েছে যে, তাতে মাতৃউদরে সন্তান নমনীয়তার সাথে বিচরণ করতে পারে। এখন প্রশ্ন দেখা দিতে পারে যে, ঐ সময় নারী মোটা হয় কেন, যখন তারা সন্তান উৎপাদনের যোগ্য থাকে না? এর এক জবাব তো হল, চিকিৎসা বিজ্ঞানের গবেষণায় দেখা যায় যে, নারীর পাকস্থলী বড় হয়। আর তারা দ্রুতও সহজে খাদ্যদ্রব্য হজম করে ফেলে। সুতরাং তাদের ক্ষিধা বেশী হয়। তাই বেশী খবার তাদেরকে মোটা হওয়ার দিকে নিয়ে যায়। দ্বিতীয় কারণ হল, শেষ জীবনে নারীর দেহের সেসব উপকরণ, যা সন্তান জন্ম দানে খরচ হতে থাকত, তা বেকার হয়ে গোশতের সাথে মিলিত হয়ে যায়। ফলে তাদের দেহ মোটা হয়ে যায়।

খেলার মাঠ
খেলার মাঠে ও নারীকে পুরুষের সমান করার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। কিন্তু অভিজ্ঞতার সাক্ষী হল, সে দৈহিক গঠনের দিক থেকে পুরুষের মোকাবিলা করতে অক্ষম। উদাহরণতঃ নারীর দ্রুত গতিতে বল নিক্ষোপের যোগ্যতা নেই। এর কারণ নিক্ষেপণের দুর্বলতা নয়, দৈহিক গঠন। নারীর দেহের কনুই ও হাতের কজীর হাড়সমূহ পরস্পরে এমন উপকরণের সাথে মিলিত হয়ে আছে, তাই সে দ্রুত হাতে বল ঘুরাতে পারে না। তার দৈহিক গঠন সিঁড়িতে আরোহন করায়ও কষ্ট অনুভূত হয়। অনুরূপভাবে পায়ের পাতা ও গোড়ালীর হাড়সমূহের জোড়া থেকে পদক্ষেপ নেওয়ায় সফলকাম হতে দেয় না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00