📄 এটা হল পাকিস্তানের বিরাট দূরদর্শিতা
পাকিস্তানের অপর রেজিস্টার্ড বেসরকারী সংস্থা গণতান্ত্রিক মানব উন্নয়ন কমিশন পাকিস্তান (ডেমোক্রেটিক কমিশন ফর হিউম্যান ডিপার্টমেন্ট পাকিস্তান) ৯৮ পৃষ্ঠার উন্নত মানের এ বই ১৯৯৭ সালে প্রকাশ করে। শিশু অধিকারের আর্ন্তজাতিক চুক্তি, ইসলামী আইন ও পাকিস্থানী আইন প্রবর্তন। পারস্পরিকতাত্ত্বিক আইন ও পাকিস্তানী আইন প্রবর্তন। পারস্বপারিক তাত্ত্বিক পর্যালোচনা।
উক্ত গ্রন্থ সুইডেনের শিশু নিরাপত্তা সংস্থার (রডাবরটন) সহায়তায় প্রকাশিত হয়। সম্পাদনা ও সংকলন বিন্যস্ত করণ ও প্রতিপাদন করেছেন বেলা জামিল ও শাহীন সরদার আলী। প্রকাশ থাকে যে, উক্ত মহিলাদ্বয় পাকিস্তান গণতান্ত্রিক মানব উন্নয়ন সংস্থার সদস্য ছিল। বরং বেলা জামিল দু' বছর ঐ সংস্থার প্রধানের দায়িত্বপালন করে। ঐ বেলা জামিল গ্রন্থ পরিচিতে উল্লেখ করেছেন,
উক্ত গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যের কারণে আমরা এ সিদ্ধান্তে উপনীত হতে সক্ষম হয়েছি যে, মানবাধিকারের আর্ন্তজাতিক আইন আর স্থানীয় সামাজিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত নিম্নস্তর থেকে কার্যকরী করায় স্থানীয় আইনের মধ্যে অনেক বেশী ব্যবধান দেখ যাচ্ছে। ইসলামী আইন, মানবাধিকারের আর্ন্তজাতিক আইন সমূহের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে চিন্তা করলে তার অনেক বেশী সূত্র বের হয়ে আসে। মূলতঃ রাজনৈতিক যৌক্তিকতার আলোকে মানবাধিকারের নীতিমালা শিশু অধিকারের পরিপন্থী করা হয়েছে। বিভিন্ন দেশ এ বিষয়ে নিজেদের দুর্বলতা ও রাজনৈতিক পদক্ষেপকে পর্দাবৃত করার জন্য ধর্ম ও রাজনীতিক আশ্রয় গ্রহণ করছে। উক্ত প্রতিবেদন চার অধ্যায়ে বিন্যাস করা।
প্রথম অধ্যায় শিশু অধিকারের ইতিহাস, উন্নয়নমূলক কর্ম প্রচেষ্টা ও শিশু অধিকারে আন্তর্জাতিক চুক্তি।
দ্বিতীয় অধ্যায় আর্ন্তজাতিক শিশু অধিকারের সাথে পাকিস্তানী আইনের মতবিরোধ। আর ইসলামী আইনের মূলনীতির সাথে পর্যালোচনা।
তৃতীয় অধ্যায় শিশু কল্যাণমূলক সংশ্লিষ্ট কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা। যেমন, শিশুদের কোলো নেওয়া, বিবাহ ছাড়া জন্মগ্রহণকারী শিশুদের সামাজিক অবস্থা, শিশু কল্যাণ তহবিল ও বিশেষ করে শিশুদের অর্থনৈতিক অবস্থা ইত্যাদি।
চতুর্থ অধ্যায়কে সমাপ্তি অধ্যায়, পূর্ববর্তী আলোচনা সমূহের সারমর্ম, শিশুদের কল্যাণে ভবিষ্যত কর্মকৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন কল্পে সুপারিশ পেশ করা হয়। যাতে পাকিস্তানে শিশু অধিকার কার্যকরীভাবে সংরক্ষিত হয় এবং সফলভাবে সংরক্ষিত হয়।
১৯৯১ সালের শিশু সংরক্ষণ, নিরাপত্তা ও উন্নতি বিষয়ক ছয় দিন ব্যাপী এক কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। তাতে ২৫ দফা সম্বলিত এক প্রস্তাবনার স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এ উদ্দেশ্যে উক্ত কনফারেন্সে বলা হয়, পাকিস্তানের সরকার ও জনসাধারণ উভয়ের উপর এ দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে যে, পাকিস্তানী শিশু ও তাদের মাতা-পিতাকে জাতীয়, প্রাদেশিক ও স্থানীয়ভাবে ঐ সব অধিকার বাস্তবায়ন করতে হবে, যাতে জাতিসংঘের আর্ন্তজাতিক কনভেনসন বনাম শিশু অধিকারের দায়িত্ব ন্যস্ত করা হয়।
পাকিস্তানের অপর রেজিস্টার্ড বেসরকারী সংস্থা গণতান্ত্রিক মানব উন্নয়ন কমিশন পাকিস্তান (ডেমোক্রেটিক কমিশন ফর হিউম্যান ডিপার্টমেন্ট পাকিস্তান) ৯৮ পৃষ্ঠার উন্নত মানের এ বই ১৯৯৭ সালে প্রকাশ করে। শিশু অধিকারের আর্ন্তজাতিক চুক্তি, ইসলামী আইন ও পাকিস্থানী আইন প্রবর্তন। পারস্পরিকতাত্ত্বিক আইন ও পাকিস্তানী আইন প্রবর্তন। পারস্বপারিক তাত্ত্বিক পর্যালোচনা।
উক্ত গ্রন্থ সুইডেনের শিশু নিরাপত্তা সংস্থার (রডাবরটন) সহায়তায় প্রকাশিত হয়। সম্পাদনা ও সংকলন বিন্যস্ত করণ ও প্রতিপাদন করেছেন বেলা জামিল ও শাহীন সরদার আলী। প্রকাশ থাকে যে, উক্ত মহিলাদ্বয় পাকিস্তান গণতান্ত্রিক মানব উন্নয়ন সংস্থার সদস্য ছিল। বরং বেলা জামিল দু' বছর ঐ সংস্থার প্রধানের দায়িত্বপালন করে। ঐ বেলা জামিল গ্রন্থ পরিচিতে উল্লেখ করেছেন,
উক্ত গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যের কারণে আমরা এ সিদ্ধান্তে উপনীত হতে সক্ষম হয়েছি যে, মানবাধিকারের আর্ন্তজাতিক আইন আর স্থানীয় সামাজিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত নিম্নস্তর থেকে কার্যকরী করায় স্থানীয় আইনের মধ্যে অনেক বেশী ব্যবধান দেখ যাচ্ছে। ইসলামী আইন, মানবাধিকারের আর্ন্তজাতিক আইন সমূহের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে চিন্তা করলে তার অনেক বেশী সূত্র বের হয়ে আসে। মূলতঃ রাজনৈতিক যৌক্তিকতার আলোকে মানবাধিকারের নীতিমালা শিশু অধিকারের পরিপন্থী করা হয়েছে। বিভিন্ন দেশ এ বিষয়ে নিজেদের দুর্বলতা ও রাজনৈতিক পদক্ষেপকে পর্দাবৃত করার জন্য ধর্ম ও রাজনীতিক আশ্রয় গ্রহণ করছে। উক্ত প্রতিবেদন চার অধ্যায়ে বিন্যাস করা।
প্রথম অধ্যায় শিশু অধিকারের ইতিহাস, উন্নয়নমূলক কর্ম প্রচেষ্টা ও শিশু অধিকারে আন্তর্জাতিক চুক্তি।
দ্বিতীয় অধ্যায় আর্ন্তজাতিক শিশু অধিকারের সাথে পাকিস্তানী আইনের মতবিরোধ। আর ইসলামী আইনের মূলনীতির সাথে পর্যালোচনা।
তৃতীয় অধ্যায় শিশু কল্যাণমূলক সংশ্লিষ্ট কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা। যেমন, শিশুদের কোলো নেওয়া, বিবাহ ছাড়া জন্মগ্রহণকারী শিশুদের সামাজিক অবস্থা, শিশু কল্যাণ তহবিল ও বিশেষ করে শিশুদের অর্থনৈতিক অবস্থা ইত্যাদি।
চতুর্থ অধ্যায়কে সমাপ্তি অধ্যায়, পূর্ববর্তী আলোচনা সমূহের সারমর্ম, শিশুদের কল্যাণে ভবিষ্যত কর্মকৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন কল্পে সুপারিশ পেশ করা হয়। যাতে পাকিস্তানে শিশু অধিকার কার্যকরীভাবে সংরক্ষিত হয় এবং সফলভাবে সংরক্ষিত হয়।
১৯৯১ সালের শিশু সংরক্ষণ, নিরাপত্তা ও উন্নতি বিষয়ক ছয় দিন ব্যাপী এক কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। তাতে ২৫ দফা সম্বলিত এক প্রস্তাবনার স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এ উদ্দেশ্যে উক্ত কনফারেন্সে বলা হয়, পাকিস্তানের সরকার ও জনসাধারণ উভয়ের উপর এ দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে যে, পাকিস্তানী শিশু ও তাদের মাতা-পিতাকে জাতীয়, প্রাদেশিক ও স্থানীয়ভাবে ঐ সব অধিকার বাস্তবায়ন করতে হবে, যাতে জাতিসংঘের আর্ন্তজাতিক কনভেনসন বনাম শিশু অধিকারের দায়িত্ব ন্যস্ত করা হয়।
📄 বাল্যকালে যৌনাচারের কুফল
পৃথিবীর সর্বত্র যুবক-যুবতীদের স্বাস্থ্য উন্নত করার স্বার্থে দেখাশোনা করা প্রয়োজন। এর প্রতিকার হল, যুবক-যুবতিরা কোথায় থাকে? কি অবস্থায় থাকে? তাদের বয়স কত? তাদের শরীর-স্বাস্থ্যের উপর যেন কোন খারাপ প্রতিক্রিয়া না পড়ে। এজন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতার বিষয় হল, উঠতি বয়সে তাদের চারিত্রিক পবিত্রতা যথাযথভাবে বজায় রাখা। তাই আমরা অনেক দেশের স্বাভাবিক জাতিগত জীবন-যাপনের স্তরে পৌঁছার পূর্বে যুবক-যুবতীদের দৈহিক মেলামেশার সুযোগ সুবিধা জানিয়ে দিচ্ছি। অথবা তাদেরকে এরূপ কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। এ সম্পর্কে প্রচলিত এক ভ্রান্ত রীতি হলো বাল্য বিবাহ। ভারতে কম বয়সে অধিকাংশ মেয়েকে বিবাহ দেওয়া হয়। তারপর তাদের ব্যাপারে এ আশাও পোষণ করা হয়, এ অল্প বয়সে তারা সন্তান জন্ম দেবে। পাশ্চাত্য দেশে এরূপ হয় না। তথাপি আমরা প্রচার মাধ্যমে তাদেরকে ধারাবাহিকভাবে উৎসাহী করে তুলছি। আর এ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে দিচ্ছি যে, যৌবনের স্বাদ লুফে নেওয়া ব্যতীত যৌবন নিস্ফল থেকে যাবে।
অনোন্নত দেশসমূহ বিশেষ করে এশিয়া, আফ্রিকা ও ল্যাটিন আমেরিকার অধিকাংশ অঞ্চলে সাধারণতঃ নয় বছর বয়সে ছেলে-মেয়েদের বিবাহ দেওয়া হয়। এসব অঞ্চলে বিশেষভাবে শহর এলাকায় বিবাহ ব্যতীত অধিকাংশ যুবক-যুবতিদের মধ্যে দৈহিক সম্পর্ক হতে দেখা যায়। সর্বনাশের ব্যাপার হল, বর্তমানে এ সংক্রান্ত সংস্কৃতি অতিদ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে। গ্রামবাসীদের পুরাতন ধ্যান-ধারণা আর নগরবাসীদের আধুনিক বিলাসিতা অতি উৎসাহ ও উদ্ধিপনার সাথে বিস্তার লাভ করছে, কিন্তু তাদের অতি উৎসাহে যুবক যুবতিদের স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রতিক্রিয়া দেখা দিচ্ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এ ধরনের মেয়ে গর্ভবতি হয়ে যায়, যারা দৈহিক দিক থেকে নিশ্চিত গর্ভধারণের অযোগ্য। অর্থাৎ তাদের দৈহিক গঠন এখনো পাকাপোক্ত হয়নি। ফলে তাদের প্রসূতিকাল ভীষণ ঝুকিপূর্ণ হয়ে যায়। তার উপর অবৈধ গর্ভধারণ, অনাকাঙ্খিত গর্ভধারী মেয়েকে গর্ভপাতের প্রতি আগ্রহী করে তোলে। কিন্তু গর্ভপাতের যে মারাত্মক প্রতিক্রিয়া শরীর স্বাস্থ্যের উপর প্রতিফলিত হয়, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। স্বাস্থ্যের আরো এক মারাত্মক হুমকির বিষয় হল, কোন কোন সময় দেখা যায়, দৈহিক ব্যাধিসমূহ একে অপরের মধ্যে সংক্রমিত হয়। বিবাহিত স্বামী স্ত্রীর মাধ্যমে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপনের দ্বারা দৈহিক ব্যাধি সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয় না অথবা অনেক কম সংক্রমিত হয়। অনাকাঙ্খিত গর্ভধারণ থেকে বাঁচার জন্য যুবক-যুবতীরা জন্মনিয়ন্ত্রণের ঔষধ ও বিভিন্ন পদ্ধতি গ্রহণ করে। কিন্তু তাতে ভীষণ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরী। তারপরও কোন কোন জন্ম নিরোধক পদ্ধতি এমন, যা প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় অল্পবয়স্কদের জন্য বেশী ক্ষতিকর বলে প্রমাণ হয়েছে।
ইতালির বালাজি নামক স্থানে আর্ন্তজাতিক রোগ প্রতিরোধক ফেডারেশনের পরামর্শ শীর্ষক এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত বৈঠকে আর্ন্তজাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিশেষজ্ঞগণ যে অভিমত প্রকাশ করেন, তার সারমর্ম নিম্নরূপ।
সিংগাপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সেন রতানম যিনি আই.পি.পি.এফ. এর আর্ন্তজাতিক মেডিক্যাল উপদেষ্টা প্যানেলের (আই.এস.এপি.) সদস্য। তার অভিমত হল, যদি ১৮ বছরের কম বয়সী মেয়েদের গর্ভধারণে বিরত রাখা হয়, তাহলে মহিলা ও শিশুদের স্বাস্থ্য সম্পর্কিত অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
ডাক্তার এ্যানজেলি প্রডবোস বার্জিন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বংশগত রোগ নির্ণয় বিভাগের প্রধান। তিনিও এ বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করে বলেন, মা হওয়ার যোগ্যা মেয়েদের বয়স যত কম হবে, তাদের স্বাস্থগত সমস্যাও তত বেশী মারাত্মক কঠিন হবে। তিনি এ বিষয়েও ঐক্যমত পোষণ করেন যে, উন্নয়নশীল দেশ সমূহে ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী মহিলাদের মৃত্যুর ঝুকি বেশী হওয়ার একমাত্র কারণ হল, তাদের অধিকাংশ গর্ভধারণ, সন্তান প্রসব, গর্ভপাতের কারণে জটিলতায় পতিত হয়।
অধ্যাপক রতানম বলেন, নয় বছর বয়সে গর্ভধারণের পরিণতি শুধু মা ও সন্তানকে ভোগ করে না বরং এর ফলে পুরো সমাজ পেরেশান হয়ে যায়। অল্প বয়সে গর্ভধারণের সংখ্যা কি পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে, তা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পূর্ব ভারতীয় উপকূলীয় অঞ্চলে যেসব মহিলার প্রথম সন্তান জন্ম হয়, তাদের মধ্যে শতকরা ৫৮ জনের বয়স ১৯ বছরের নিচে। আর তন্মধ্যে প্রায় শতকরা ৪০ ভাগ মেয়ে যাদের বয়স ১৭ বছরেরও কম। ইন্দোনেশিয়াতেও শতকরা ৪১ জন মহিলা ১৭ বছরের কম বয়সে প্রথম সন্তান জন্ম দেয়। অপর দিকে পানামাতে যত মহিলা প্রথম সন্তানের মা হয়, তাদের মধ্যে বেশীর ভাগ মহিলার বয়স ১৫ থেকে ১৯ বছর। আমেরিকায় প্রতি বছর দশ লাখের অধিক মেয়ে ১৩ থেকে ১৯ বছরের মধ্যে গর্ভবতী হয়। তাদের মধ্যে প্রায় ত্রিশ হাজার মেয়ের বয়স ১৫ বছরের কম।
পৃথিবীর সর্বত্র যুবক-যুবতীদের স্বাস্থ্য উন্নত করার স্বার্থে দেখাশোনা করা প্রয়োজন। এর প্রতিকার হল, যুবক-যুবতিরা কোথায় থাকে? কি অবস্থায় থাকে? তাদের বয়স কত? তাদের শরীর-স্বাস্থ্যের উপর যেন কোন খারাপ প্রতিক্রিয়া না পড়ে। এজন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতার বিষয় হল, উঠতি বয়সে তাদের চারিত্রিক পবিত্রতা যথাযথভাবে বজায় রাখা। তাই আমরা অনেক দেশের স্বাভাবিক জাতিগত জীবন-যাপনের স্তরে পৌঁছার পূর্বে যুবক-যুবতীদের দৈহিক মেলামেশার সুযোগ সুবিধা জানিয়ে দিচ্ছি। অথবা তাদেরকে এরূপ কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। এ সম্পর্কে প্রচলিত এক ভ্রান্ত রীতি হলো বাল্য বিবাহ। ভারতে কম বয়সে অধিকাংশ মেয়েকে বিবাহ দেওয়া হয়। তারপর তাদের ব্যাপারে এ আশাও পোষণ করা হয়, এ অল্প বয়সে তারা সন্তান জন্ম দেবে। পাশ্চাত্য দেশে এরূপ হয় না। তথাপি আমরা প্রচার মাধ্যমে তাদেরকে ধারাবাহিকভাবে উৎসাহী করে তুলছি। আর এ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে দিচ্ছি যে, যৌবনের স্বাদ লুফে নেওয়া ব্যতীত যৌবন নিস্ফল থেকে যাবে।
অনোন্নত দেশসমূহ বিশেষ করে এশিয়া, আফ্রিকা ও ল্যাটিন আমেরিকার অধিকাংশ অঞ্চলে সাধারণতঃ নয় বছর বয়সে ছেলে-মেয়েদের বিবাহ দেওয়া হয়। এসব অঞ্চলে বিশেষভাবে শহর এলাকায় বিবাহ ব্যতীত অধিকাংশ যুবক-যুবতিদের মধ্যে দৈহিক সম্পর্ক হতে দেখা যায়। সর্বনাশের ব্যাপার হল, বর্তমানে এ সংক্রান্ত সংস্কৃতি অতিদ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে। গ্রামবাসীদের পুরাতন ধ্যান-ধারণা আর নগরবাসীদের আধুনিক বিলাসিতা অতি উৎসাহ ও উদ্ধিপনার সাথে বিস্তার লাভ করছে, কিন্তু তাদের অতি উৎসাহে যুবক যুবতিদের স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রতিক্রিয়া দেখা দিচ্ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এ ধরনের মেয়ে গর্ভবতি হয়ে যায়, যারা দৈহিক দিক থেকে নিশ্চিত গর্ভধারণের অযোগ্য। অর্থাৎ তাদের দৈহিক গঠন এখনো পাকাপোক্ত হয়নি। ফলে তাদের প্রসূতিকাল ভীষণ ঝুকিপূর্ণ হয়ে যায়। তার উপর অবৈধ গর্ভধারণ, অনাকাঙ্খিত গর্ভধারী মেয়েকে গর্ভপাতের প্রতি আগ্রহী করে তোলে। কিন্তু গর্ভপাতের যে মারাত্মক প্রতিক্রিয়া শরীর স্বাস্থ্যের উপর প্রতিফলিত হয়, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। স্বাস্থ্যের আরো এক মারাত্মক হুমকির বিষয় হল, কোন কোন সময় দেখা যায়, দৈহিক ব্যাধিসমূহ একে অপরের মধ্যে সংক্রমিত হয়। বিবাহিত স্বামী স্ত্রীর মাধ্যমে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপনের দ্বারা দৈহিক ব্যাধি সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয় না অথবা অনেক কম সংক্রমিত হয়। অনাকাঙ্খিত গর্ভধারণ থেকে বাঁচার জন্য যুবক-যুবতীরা জন্মনিয়ন্ত্রণের ঔষধ ও বিভিন্ন পদ্ধতি গ্রহণ করে। কিন্তু তাতে ভীষণ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরী। তারপরও কোন কোন জন্ম নিরোধক পদ্ধতি এমন, যা প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় অল্পবয়স্কদের জন্য বেশী ক্ষতিকর বলে প্রমাণ হয়েছে।
ইতালির বালাজি নামক স্থানে আর্ন্তজাতিক রোগ প্রতিরোধক ফেডারেশনের পরামর্শ শীর্ষক এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত বৈঠকে আর্ন্তজাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিশেষজ্ঞগণ যে অভিমত প্রকাশ করেন, তার সারমর্ম নিম্নরূপ।
সিংগাপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সেন রতানম যিনি আই.পি.পি.এফ. এর আর্ন্তজাতিক মেডিক্যাল উপদেষ্টা প্যানেলের (আই.এস.এপি.) সদস্য। তার অভিমত হল, যদি ১৮ বছরের কম বয়সী মেয়েদের গর্ভধারণে বিরত রাখা হয়, তাহলে মহিলা ও শিশুদের স্বাস্থ্য সম্পর্কিত অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
ডাক্তার এ্যানজেলি প্রডবোস বার্জিন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বংশগত রোগ নির্ণয় বিভাগের প্রধান। তিনিও এ বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করে বলেন, মা হওয়ার যোগ্যা মেয়েদের বয়স যত কম হবে, তাদের স্বাস্থগত সমস্যাও তত বেশী মারাত্মক কঠিন হবে। তিনি এ বিষয়েও ঐক্যমত পোষণ করেন যে, উন্নয়নশীল দেশ সমূহে ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী মহিলাদের মৃত্যুর ঝুকি বেশী হওয়ার একমাত্র কারণ হল, তাদের অধিকাংশ গর্ভধারণ, সন্তান প্রসব, গর্ভপাতের কারণে জটিলতায় পতিত হয়।
অধ্যাপক রতানম বলেন, নয় বছর বয়সে গর্ভধারণের পরিণতি শুধু মা ও সন্তানকে ভোগ করে না বরং এর ফলে পুরো সমাজ পেরেশান হয়ে যায়। অল্প বয়সে গর্ভধারণের সংখ্যা কি পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে, তা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পূর্ব ভারতীয় উপকূলীয় অঞ্চলে যেসব মহিলার প্রথম সন্তান জন্ম হয়, তাদের মধ্যে শতকরা ৫৮ জনের বয়স ১৯ বছরের নিচে। আর তন্মধ্যে প্রায় শতকরা ৪০ ভাগ মেয়ে যাদের বয়স ১৭ বছরেরও কম। ইন্দোনেশিয়াতেও শতকরা ৪১ জন মহিলা ১৭ বছরের কম বয়সে প্রথম সন্তান জন্ম দেয়। অপর দিকে পানামাতে যত মহিলা প্রথম সন্তানের মা হয়, তাদের মধ্যে বেশীর ভাগ মহিলার বয়স ১৫ থেকে ১৯ বছর। আমেরিকায় প্রতি বছর দশ লাখের অধিক মেয়ে ১৩ থেকে ১৯ বছরের মধ্যে গর্ভবতী হয়। তাদের মধ্যে প্রায় ত্রিশ হাজার মেয়ের বয়স ১৫ বছরের কম।
📄 গর্ভধারণ
ইসুইত (Assiut) বিশ্ববিদ্যালয়ের মিশরীয় অধ্যাপক মাহমুদ ফতহুল্লাহ বলেন, গর্ভধারণের ক্ষেত্রে কম বয়সী যুবক-যুবতিদের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করা জরুরী। ১৮ থেকে ১৯ বছর বয়সের মেয়েদের গর্ভ ধারণ কম ঝুকিপূর্ণ বরং ১৫ বা তার চেয়ে কম বয়সে গর্ভজনিত সমস্যা মারাত্মক ঝুকিপূর্ণ হয়। এ ধরনের মহিরাদের জন্য গর্ভধারণকালে মৃত্যর আশঙ্কা প্রবল হয়। শিশু মৃত্যুর কারণ ব্যাখ্যা করলে দেখা যায়, অল্প বয়সী মায়েদের সন্তান বিশ বছর বা তার চেয়ে বেশী বয়সী মায়েদের শিশুর মোকাবিলায় বেশী মারা যায়।
কম বয়সে সন্তানের মা হওয়ার বিপদজনক ঝুঁকি হলো, উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হওয়া। ফলে প্রসূতি মা ও সন্তান উভয়ের নিশ্চিত মৃত্যু হতে পারে। আরো এক আশঙ্কা দেখা দিতে পারে যে, শিশুর মাথা জরায়ু থেকে বড় হওয়ার কারণে সন্তান প্রসবের তীব্র যন্ত্রণা অনুভূত হয়। স্বাভাবিক বয়সে ভূমিষ্ঠ সন্তানের যত ওজন হওয়া উচিত, অল্পবয়সী মায়েদের সন্তান ততটা ওজনের হয় না। ফলে এ ধরণের শিশুদের পুরোপুরি মানসিক ও শারীরক বৃদ্ধি ঘটে না। এদিকে কম বয়সী প্রসূতি ও সন্তান উভয়ের গর্ভজনিত সমস্যা দূর করা যেতে পারে। কিন্তু অনাকাঙ্খিত বা অবৈধ সন্তানের মায়েরা যদি আর্থিক দিক থেকে অস্বচ্ছল হয়, তাহলে তাদের জন্য বিপদ কাটিয়ে উঠা সহজতরভাবে স্বাভাবিক উপকার করা সম্ভব হয় না。
ইসুইত (Assiut) বিশ্ববিদ্যালয়ের মিশরীয় অধ্যাপক মাহমুদ ফতহুল্লাহ বলেন, গর্ভধারণের ক্ষেত্রে কম বয়সী যুবক-যুবতিদের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করা জরুরী। ১৮ থেকে ১৯ বছর বয়সের মেয়েদের গর্ভ ধারণ কম ঝুকিপূর্ণ বরং ১৫ বা তার চেয়ে কম বয়সে গর্ভজনিত সমস্যা মারাত্মক ঝুকিপূর্ণ হয়। এ ধরনের মহিরাদের জন্য গর্ভধারণকালে মৃত্যর আশঙ্কা প্রবল হয়। শিশু মৃত্যুর কারণ ব্যাখ্যা করলে দেখা যায়, অল্প বয়সী মায়েদের সন্তান বিশ বছর বা তার চেয়ে বেশী বয়সী মায়েদের শিশুর মোকাবিলায় বেশী মারা যায়।
কম বয়সে সন্তানের মা হওয়ার বিপদজনক ঝুঁকি হলো, উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হওয়া। ফলে প্রসূতি মা ও সন্তান উভয়ের নিশ্চিত মৃত্যু হতে পারে। আরো এক আশঙ্কা দেখা দিতে পারে যে, শিশুর মাথা জরায়ু থেকে বড় হওয়ার কারণে সন্তান প্রসবের তীব্র যন্ত্রণা অনুভূত হয়। স্বাভাবিক বয়সে ভূমিষ্ঠ সন্তানের যত ওজন হওয়া উচিত, অল্পবয়সী মায়েদের সন্তান ততটা ওজনের হয় না। ফলে এ ধরণের শিশুদের পুরোপুরি মানসিক ও শারীরক বৃদ্ধি ঘটে না। এদিকে কম বয়সী প্রসূতি ও সন্তান উভয়ের গর্ভজনিত সমস্যা দূর করা যেতে পারে। কিন্তু অনাকাঙ্খিত বা অবৈধ সন্তানের মায়েরা যদি আর্থিক দিক থেকে অস্বচ্ছল হয়, তাহলে তাদের জন্য বিপদ কাটিয়ে উঠা সহজতরভাবে স্বাভাবিক উপকার করা সম্ভব হয় না।
📄 গর্ভপাত, দৈহিক ব্যাধর আক্রমণ, গর্ভপ্রতিরোধ
কোন কোন মহিলার জন্য গর্ভপাত করা অসম্ভব হয়ে যায়। কিন্তু এ বিষয় বিরোধ পূর্ণ বরং অধিকাংশ দেশে এটাকে বে-আইনী মনে করা হয়। তথাপি সংখ্যা গননায় প্রমাণ হয় যে, বিশ্বে প্রতিবছর ৩০ থেকে ৫০ লাখ নারী গর্ভপাত করে। তাদের মধ্যে অধিকাংশ মহিলার বয়স ১৩ থেকে ১৯ বছর, তারপরও তাদের মধ্যে শতকরা ৫০ ভাগ মহিলা অবিবাহিতা। অনঅভিজ্ঞ চিকিৎসকের দ্বারা অবৈধ গর্ভপাত ঘটানো যে কিরূপ বিপজ্জনক ও মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
সাধারণতঃ আমেরিকাতে দুই বা তিন মাসের মধ্যে গর্ভপাত ঘটানো হয় কমবয়সী মহিলাদের গর্ভপাত করাতে বিলম্ব করা হয়। কিন্তু এক ডাক্তারের মতে তা মারাত্মক বিপজ্জনক ও ঝুঁকিপূর্ণ। তাতে মৃত্যুর সম্ভাবনা বেশী হতে পারে। নতুবা অন্যান্য আশঙ্কা ও মারাত্মক বিপজ্জনক হতে পারে। তাতে বিবেক-বুদ্ধি হতবিহবল হয়ে যায়।
যুবক-যুবতিদের ক্ষেত্রে এক আশঙ্কা হল, একজন থেকে অপরের মধ্যে সংক্রামক রোগ-ব্যাধি ছড়িয়ে পড়তে পারে। অধ্যাপক ফতহুল্লাহর মতে এ ধরণের রোগ-ব্যাধি অধিকাংশ ক্ষেত্রে পুরুষ ও নারীকে সন্তান প্রজননে অক্ষম করে দেয়। এমনকি কোন কোন দেশে দৈহিক সংক্রামক ব্যাধি ব্যাপক আকারে বিস্তার লাভ করছে। এর এক কারণ বাল্য বিবাহ। দ্বিতীয় কারণ, এ ধরনের দৈহিক রোগ প্রতিরোধের চিকিৎসা নির্ণয়ের ফলে যুবক-যুবতিরা এ ধরনের ব্যাধি সম্পর্কে বেপরোয়া মনোভাব প্রকাশ করে।
গর্ভ প্রতিরোধের উপকরণ ও বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা সেসব যুবক-যুবতিরাই অনুভব করে, যাদের স্বতীত্বের বা পবিত্রতার কোন ভয় ভীতি নেই অথবা যারা দাম্পত্য জীবন যাপন শুরু করতে অক্ষমতার কারণে সন্তানাদি লালন-পালন করতে অনিচ্ছুক। কিছু কিছু যুবক-যুবতি জন্ম প্রতিরোধ পদ্ধতি সঠিকভাবে নির্বাচন করতে আগ্রহ প্রকাশ করে। কিন্তু এ সম্পর্কে অভিজ্ঞতা লাভ করার প্রয়োজন অনেক বেশী। অনুরূপভাবে এর কোন ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হয় না। ডাক্তার পরমিলা স্যাইনানাইজির অভিমত হল, এরূপ যুবক-যুবতিরা জন্মনিরোধক বড়িও ব্যবহার করতে পারে। তবে এর জন্য ডাক্তারের সঠিক পরামর্শ প্রয়োজন। মহিলাদের জন্ম প্রতিরোধ ঔষধ ব্যবহার বা নিয়ন্ত্রন গ্রহণ তখনই করা যেতে পারে, যখন তাদের নিয়মিত মাসিক স্রাব শুরু হয়। কোন কোন চিকিৎসক এ ধরনের মহিলাদের জন্মনিরোধক ব্যবস্থা গ্রহণের অভিমত দেয় না, যাদের সন্তান জন্ম হয়নি। কেননা এ ব্যবস্থা গ্রহণের কারণে তাদের চিরবন্ধাত্বে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিতে পারে। কোন কোন মহিলা ইনজেকশনের মাধ্যমেও জন্মনিরোধক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। কিন্তু মহিলারা তাতে অস্বস্তি ভোগ করে। তাদেরকে চিকিৎসকগণ এ ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেয় না। অল্পবয়সে যৌন রোগে আক্রান্ত হওয়ার কারণে শুধু দৈহিক ক্ষতি হয় না বরং ব্যক্তি জীবনও বিশেষভাবে আক্রান্ত হয়। ফলশ্রুতিতে অনেক প্রকার বিপদের আশঙ্কা দেখা দিতে পারে। যেসব যুবক-যুবতি এক সাথে কাজ করে, তাদের কর্তব্য হল, নিজের সহকর্মীদেরকে যৌন কাজে উত্তেজিত করার চেষ্টা না করা বরং তাদের অপরিণত বয়সে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সতর্ক করা ও চারিত্রিক নিয়মাবলী পালনে উদ্বুদ্ধ করা।
বলাজিউ বৈঠকে এ বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করা হয় যে, যুবক-যুবতিদের চারিত্রিক নিয়মতান্ত্রিক জীবন-যাপনের অনুসারী করতে হবে। সাথে সাথে এ বিষয়েও বিশেষ সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে যে, কখনো যেন তারা নিয়মতান্ত্রিক জীবন-যাপনে বে-পরোয়া ও উদাসীন হয়ে সুশৃঙ্খল জীবন-যাপনকে অপছন্দ না করে এবং উশৃংখল জীবন যাপনের পথ বেছে না নেয়।
কোন কোন মহিলার জন্য গর্ভপাত করা অসম্ভব হয়ে যায়। কিন্তু এ বিষয় বিরোধ পূর্ণ বরং অধিকাংশ দেশে এটাকে বে-আইনী মনে করা হয়। তথাপি সংখ্যা গননায় প্রমাণ হয় যে, বিশ্বে প্রতিবছর ৩০ থেকে ৫০ লাখ নারী গর্ভপাত করে। তাদের মধ্যে অধিকাংশ মহিলার বয়স ১৩ থেকে ১৯ বছর, তারপরও তাদের মধ্যে শতকরা ৫০ ভাগ মহিলা অবিবাহিতা। অনঅভিজ্ঞ চিকিৎসকের দ্বারা অবৈধ গর্ভপাত ঘটানো যে কিরূপ বিপজ্জনক ও মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
সাধারণতঃ আমেরিকাতে দুই বা তিন মাসের মধ্যে গর্ভপাত ঘটানো হয় কমবয়সী মহিলাদের গর্ভপাত করাতে বিলম্ব করা হয়। কিন্তু এক ডাক্তারের মতে তা মারাত্মক বিপজ্জনক ও ঝুঁকিপূর্ণ। তাতে মৃত্যুর সম্ভাবনা বেশী হতে পারে। নতুবা অন্যান্য আশঙ্কা ও মারাত্মক বিপজ্জনক হতে পারে। তাতে বিবেক-বুদ্ধি হতবিহবল হয়ে যায়।
যুবক-যুবতিদের ক্ষেত্রে এক আশঙ্কা হল, একজন থেকে অপরের মধ্যে সংক্রামক রোগ-ব্যাধি ছড়িয়ে পড়তে পারে। অধ্যাপক ফতহুল্লাহর মতে এ ধরণের রোগ-ব্যাধি অধিকাংশ ক্ষেত্রে পুরুষ ও নারীকে সন্তান প্রজননে অক্ষম করে দেয়। এমনকি কোন কোন দেশে দৈহিক সংক্রামক ব্যাধি ব্যাপক আকারে বিস্তার লাভ করছে। এর এক কারণ বাল্য বিবাহ। দ্বিতীয় কারণ, এ ধরনের দৈহিক রোগ প্রতিরোধের চিকিৎসা নির্ণয়ের ফলে যুবক-যুবতিরা এ ধরনের ব্যাধি সম্পর্কে বেপরোয়া মনোভাব প্রকাশ করে।
গর্ভ প্রতিরোধের উপকরণ ও বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা সেসব যুবক-যুবতিরাই অনুভব করে, যাদের স্বতীত্বের বা পবিত্রতার কোন ভয় ভীতি নেই অথবা যারা দাম্পত্য জীবন যাপন শুরু করতে অক্ষমতার কারণে সন্তানাদি লালন-পালন করতে অনিচ্ছুক। কিছু কিছু যুবক-যুবতি জন্ম প্রতিরোধ পদ্ধতি সঠিকভাবে নির্বাচন করতে আগ্রহ প্রকাশ করে। কিন্তু এ সম্পর্কে অভিজ্ঞতা লাভ করার প্রয়োজন অনেক বেশী। অনুরূপভাবে এর কোন ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হয় না। ডাক্তার পরমিলা স্যাইনানাইজির অভিমত হল, এরূপ যুবক-যুবতিরা জন্মনিরোধক বড়িও ব্যবহার করতে পারে। তবে এর জন্য ডাক্তারের সঠিক পরামর্শ প্রয়োজন। মহিলাদের জন্ম প্রতিরোধ ঔষধ ব্যবহার বা নিয়ন্ত্রন গ্রহণ তখনই করা যেতে পারে, যখন তাদের নিয়মিত মাসিক স্রাব শুরু হয়। কোন কোন চিকিৎসক এ ধরনের মহিলাদের জন্মনিরোধক ব্যবস্থা গ্রহণের অভিমত দেয় না, যাদের সন্তান জন্ম হয়নি। কেননা এ ব্যবস্থা গ্রহণের কারণে তাদের চিরবন্ধাত্বে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিতে পারে। কোন কোন মহিলা ইনজেকশনের মাধ্যমেও জন্মনিরোধক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। কিন্তু মহিলারা তাতে অস্বস্তি ভোগ করে। তাদেরকে চিকিৎসকগণ এ ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেয় না। অল্পবয়সে যৌন রোগে আক্রান্ত হওয়ার কারণে শুধু দৈহিক ক্ষতি হয় না বরং ব্যক্তি জীবনও বিশেষভাবে আক্রান্ত হয়। ফলশ্রুতিতে অনেক প্রকার বিপদের আশঙ্কা দেখা দিতে পারে। যেসব যুবক-যুবতি এক সাথে কাজ করে, তাদের কর্তব্য হল, নিজের সহকর্মীদেরকে যৌন কাজে উত্তেজিত করার চেষ্টা না করা বরং তাদের অপরিণত বয়সে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সতর্ক করা ও চারিত্রিক নিয়মাবলী পালনে উদ্বুদ্ধ করা।
বলাজিউ বৈঠকে এ বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করা হয় যে, যুবক-যুবতিদের চারিত্রিক নিয়মতান্ত্রিক জীবন-যাপনের অনুসারী করতে হবে। সাথে সাথে এ বিষয়েও বিশেষ সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে যে, কখনো যেন তারা নিয়মতান্ত্রিক জীবন-যাপনে বে-পরোয়া ও উদাসীন হয়ে সুশৃঙ্খল জীবন-যাপনকে অপছন্দ না করে এবং উশৃংখল জীবন যাপনের পথ বেছে না নেয়।