📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 নারীদের শ্রম সাধনার একশত বছর

📄 নারীদের শ্রম সাধনার একশত বছর


(প্রাথমিক ও মাধমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অবগতির জন্য।)

উক্ত গ্রন্থের প্রকাশক সাহী ফাউণ্ডেশন। ১৯৯৭ সালে তা প্রকাশ করা হয়। ১১৯ পৃষ্ঠার এ গ্রন্থের মূল্য ১১০ রুপি। আসমা আজমল কর্তৃক লিখিত ও ফারিহা জাফর কর্তৃক প্রকাশিত হয়। উক্ত গ্রন্থ তিন অধ্যায় বিন্যাস করা হয়।

১. উপমহাদেশে মুসলিম নারীদের শ্রম সাধনা ১৮৮৬ সাল থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত নারী উন্নয়নে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের মূল্যায়ন করা হয়।
২. বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত চতুর্থ বিশ্বনারী সম্মেলন। এটা হল পাকিস্তান সরকার প্রদত্ত ও সরকারী প্রতিবেদনের সারমর্ম। এ সম্পর্কে পূর্বে আলোকপাত করা হয়েছে।
৩. নারী বিরোধী সকল প্রকার বৈষম্যকে স্বতন্ত্রভাবে নির্মূল করার লক্ষ্যে জাতিসংঘের নির্ধারিত সনদ (cedaw) এর উর্দু অনুবাদ পেশ করা হয়।

তাতে লিখিত হয়, (cedaw) জাতিসংঘ কর্তৃক নারী উন্নয়ন সম্পর্কিত ত্রিশ বছরের কর্ম পরিকল্পনার প্রতিফলন। ১৯৪৬ সালে এ কমিশন গঠন করা হয়। কমিশনের কাজের সফলতা ততোখানি মর্যাদা লাভ করে নি। নারীদের উন্নয়নে যেসব সুপারিশ করা হয়েছে, তার সফলতায় আরো অনেক সুপারিশ প্রস্তাব আকারে গৃহীত হয়। তন্মধ্যে (cedaw) হল, এক ব্যাপক বিস্তৃত সনদ, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ১৮ ডিসেম্বর ১৯৭৯ সালে উক্ত প্রস্তাব গৃহীত হয়। ১৯৮১ সালে ২০টি দেশ উক্ত প্রস্তাবের পক্ষে সমর্থন পেশ করে। এভাবে এটা এক আন্তর্জাতিক কনভেনসন হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। সুপারিশের দশম বাষিকী বৈঠক অনুষ্ঠানে প্রায় শতাধিক দেশ উক্ত চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর প্রদান করে। আর্ন্তজাতিক মানবাধিকার সংরক্ষণের সব চুক্তিতে cedaw এক গুরুত্বপূর্ণ মর্যাদা লাভ করে। এ কমিশন পৃথিবীর অর্ধেক জনসংখ্যা অর্থাৎ নারীদের মানবাধিকার সমস্যাকে চিহ্নিত করে। কনভেনসনের প্রাণ জাতিসংঘের উদ্দেশ্যের সাথে সংশ্লিষ্ট। তাতে মানুষের মৌলিক অধিকার, মানুষের মর্যাদা রক্ষা ও ক্ষমতায়ণ, নারী ও পুরুষের সমতায়ণ নিশ্চিত করার উপর ভীষণ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 আমি জেগে উঠেছি (নারী ও শিক্ষা)

📄 আমি জেগে উঠেছি (নারী ও শিক্ষা)


প্রাথমিক ও মাধমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অবগতির উদ্দেশ্যে উক্ত গ্রন্থ ও সাহী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রকাশ করা হয়। (শিক্ষা প্রসার সোসাইটি)। ৯৬ পৃষ্ঠার এ গ্রন্থের মূল্য ৬০ রুপি। আসমা আজমল, ফারিহা জাফরের তত্ত্বাবধানে উক্ত গ্রন্থ প্রকাশ করে। বাঁধাইও অতিচমৎকার। উক্ত গ্রন্থ চার অধ্যায় বিন্যাস করা হয়।

১. (পাকিস্তানে) নারী সমাজের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা ও এর সমস্যাবলী।
২. নারী সংক্রান্ত বিষয়ে সামাজিক বুনিয়াদের ভিত্তি নির্ধারণ।
৩. আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা।
৪. উন্নয়ন মূলক পদক্ষেপ।

ভূমিকায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, উক্ত গ্রন্থে নারীদের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার পর্যালোচনা, অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক বিষয় চুড়ান্ত পর্যালোচনা করা হয়। তাতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পাঠ্যসূচীর মূল্যায়ণ পর্যালোচনাকে অর্ন্তভূক্ত করা হয়। এছাড়াও নারীদের উন্নততর শিক্ষা ব্যবস্থা চালু, তাদের আত্মনির্ভরশীলতা, ব্যক্তিগত বিষয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণের যোগ্যতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে করণীয় পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে আলোকপাত করা হয়। সাহী ফাউণ্ডেশনের সূচনা লগ্ন থেকে সমাজে শিক্ষা বিস্তারের উদ্দেশ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। উক্ত ফাউণ্ডেশন প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য এভাবে বর্ণনা করেছে, সাহী ফাউণ্ডেশনের একমাত্র উদ্দেশ্য হল, উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থার চালু করা। উন্নত নিয়মশৃঙ্খলা প্রবর্তন করা। প্রতিবন্ধকতা ও সমস্যা সমূহ চিহ্নিত করে তা নিরসনের করার ব্যবস্থা করা। এ কারণে সাহী ফাউণ্ডেশনে শিক্ষা সংক্রান্ত বিষয়কে বেশী গুরুত্ব দিয়ে এর জন্য বিশেষ এক বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা হয়। এর লক্ষ্য হল, নারীদের মাধ্যমে বর্তমান প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থা ও পাঠ্যসূচী মূল্যায়ন করা। আর শিক্ষা সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করা।

সুতরাং তারা ইউ এন ও র এজেন্ডোকেই উক্ত গ্রন্থের প্রথমে সংযোজন করেছে। তাদের মতে পাকিস্তানী নারীদের অবনতির একমাত্র কারণ পাকিস্তানে প্রথম আইন প্রণয়ন, যা ১৯৭৯ সালে প্রবর্তিত শাস্তি প্রদান সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে এ ধরনের শর্তাবলী অর্ন্তভূক্ত করা হয়। তাতে নারীদের আইনগত অধিকার মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। শরী'আতের নির্ধারিত শাস্তি (যার বেশীর ভাগ কুরআন মজীদে নির্ধারণ করা হয়েছে) প্রয়োগের ক্ষেত্রে নারীর সাক্ষী প্রদানকে শুরু থেকে খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু যখন নারীকে শাস্তি দেওয়ার কথা হয়। ঐ আইনের অধীনে যে কোন অপরাধে সমবয়সী পুরুষের মোকাবিলায় নারীকে কঠোর শাস্তি দেওয়া হয়। চাই তার বয়স নয় বা দশ বছর হোক না কেন। যেহেতু ঐ বয়সে কন্যা প্রাপ্তা বয়স্কা হয়ে যায় আর এ আইনের অধীনে জোরপূর্বক ধর্ষণের শিকার নারীরা দ্বিগুন অন্যায় অত্যাচারের শিকার হয়। প্রথমতঃ সে কঠোর পাশবিক নির্যাতনের নিদর্শন হয়। দ্বিতীয়তঃ তাকে ব্যাভিচারের অপরাধে অভিযুক্ত করা হয়। ঐ সময়ে কারাগারে বন্দী অধিকাংশ নারীকে এ অপরাধে অপরাধী সাব্যস্ত করা হয়।

এর ফলে এক দিকে এক মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব প্রতিফলিত হয়। বেশীর ভাগ নারী যৌন অপরাধে জড়িয়ে পড়ে এবং স্বেচ্ছায় জঘন্য কাজে লিপ্ত হয়। আর অপর দিকে আরো এক মনোভাব প্রকাশ হয় যে, যাদের উপর পাশবিক নির্যাতন করা হয় তাদের নিরাপত্তার অজুহাতে তাদের উপর আরো কঠোর বিধি-নিষেধ জারী করা হয়। ফলে তারা গৃহবন্দী হয়ে যায়। এ ধরনের অপরাধীরা ভবঘুরে হয়ে যায়। যার বেশী বাড়াবাড়ী করে তাকে বন্দী করে রাখা হয়। এটা ন্যায় নীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী। ১৯৮৪ সালে প্রবর্তিত সাক্ষ্য আইনে আর্থিক বিষয় সত্যায়ণ বা মৌলিক সাক্ষ্য প্রদানের ক্ষেত্রে এক পুরুষের মোকাবিলায় দু'জন নারীর সাক্ষ্য প্রদানকে সমর্থন করা হয়েছে। অর্থাৎ একজন শিক্ষিতা মহিলার মোকাবিলায় একজন অশিক্ষিত পুরুষের সাক্ষ্যকে বেশী প্রধান্য দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও চার জন মহিলাও সাক্ষ্য প্রদান করতে পারবে না। একজন পুরুষের সাক্ষ্য অত্যাবশ্যক। উক্ত শর্ত নারীদের আইনগত অধিকারকে মারাত্মক আকারে সীমিত করে দেওয়া হয়েছে। এর নেতিবাচক প্রভাবও প্রতিফলিত হয়েছে। এভাবে একজন নারীকে এক আধা ব্যক্তি বানিয়ে দিয়েছে। ১৯৬১ সালের জারী কৃত আইন (তাতে পুরুষের একাধিক বিবাহের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।) সত্ত্বেও পুরুষের দ্বিতীয় বিবাহের রীতি বন্ধ করা হয়নি। কেননা আইন সঠিকভাবে কার্যকরী হচ্ছে না। পুরুষ স্বীয় আর্থিক স্বচ্ছলতা ও দৈহিক শক্তির দাপটে নিজের বিষয় মানিয়ে নেয়। আর নারী পেছনে পড়ে যায়।

তাদের ঘোরতর আপত্তি হল, আমাদের এখানে প্রচলিত পাঠ্যসূচীতে নেতিবাচক পার্থক্যও তীব্রভাবে উস্কে দেওয়া হয়েছে। মেয়েদেরকে শুধু ঐ শিক্ষাই দেওয়া হয়, যাতে তারা উত্তম গৃহিনী ও উত্তম মা হওয়ার যোগ্য হয়। তাদের আরেক কঠিন আপত্তি হল, প্রাথমিক ও মাধমিক পাঠ্যসূচীতে ছেলেদের বেশীর ভাগ ছবি দেওয়া হয় কেন? শুধুমাত্র শতকরা ২৫ ভাগ ছবি মেয়েদের। এখানে নেতিবাচক পার্থক্য করা হয়েছে। গ্রন্থের শেষ ভাগে মেয়েদের জন্য দু'চারটি কবিতা ও কাহিনী সংযোজন করা হয়েছে। এক গল্পের শিরোনাম হল, "বুদ্ধিমতি বালিকা"। তাতে বলা হয়েছে-

মেয়েরা লেখা পড়ার পর তাদের অধিকার আদায়ে স্বেচ্ছায় আন্দোলনে নেমে পড়ে। বিবাহ সংক্রান্ত বিষয় আসলে তখন আমি যেন সাহস না হারিয়ে ফেলি। আমরা পিতা উক্ত বিষয় জানার পর তিনি আমাকে অনেক কথা বলেন কিন্তু আমি তাকে আমার সিদ্ধান্তের বিষয় পরিস্কার জানিয়ে দেই যে, যদি বিবাহ করতেই হয় তাহলে আমি আমার পছন্দের ঘরে বিবাহ করব। তাছাড়া অন্য কোন ঘরে বিবাহ করব না। নতুবা বিষ খেয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেব। অবশেষে আমার পিতা আমার ও পরিবারের অন্যদের কথায় আমার মতামত মেনে নিতে বাধা হয়। এভাবে আমার বান্ধবীর দেবরের সাথে আমার বিবাহ হয়। ঠিক ঐ সময় আমার চাকুরীর নিয়োগপত্র পেয়ে যাই। আর বিবাহের অল্পকিছু দিন পূর্বে আমি চাকুরীতে যোগদান করি। বিবাহের পরও ঐ চাকুরী করতে থাকি। বর্তমানে আমি স্কুলের শিক্ষয়ীত্রির দায়িত্ব পালন করছি। আর নিজের ছেলে মেয়েদের ও শিক্ষিত করে তোলার চেষ্টা করছি।

উক্ত গল্পে বুদ্ধিমতি বালিকার দু'টি বুদ্ধিমত্তার উল্লেখ করা হয়েছে। এক মাতাপিতাকে ভয় দেখিয়ে নিজে পছন্দ অনুযায়ী বিবাহ করা। দুই চাকুরী করা। এ কাহিনীতে উক্ত গ্রন্থ সমাপ্ত করা হয়েছে। যেন পূর্বে বারী ঘুমিয়ে ছিল। যখন তার মধে এ সব বিষয় সৃষ্টি হয়েছে, তখন সে সঠিক অর্থে জাগ্রত হয়ে উঠেছে।

পাকিস্তান গ্লোর্ডেন জুবলীর ধারাবাহিক উৎস আয়োজনে অপ্রচলিত প্রাথমিক শিক্ষার করনীয় বিষয়ক কনফারেন্স বাণিজ্যিক ভবন লাহোর চিল্ড্রেন কমপ্লেক্সে ৮, ১ আগষ্ট ১৯৯৭ সালে অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত গ্রন্থও সাহী প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ শিক্ষা বিস্তার সোসাইটি প্রকাশ করে। কনফারেন্সের প্রথম দিনে ৮টি বক্তব্য সম্বলিত এ গ্রন্থ রুবিনা মাহগোল তৈরি করেন।

মোট ১১৬ পৃষ্ঠার মধ্যে ৬০ পৃষ্ঠার এক বিষয় বস্তু খোদ রুবিনা মাহগোলের লিখিত। অনিয়মিত প্রাথমিক শিক্ষার অর্থ হল, ঐ শিক্ষা পদ্ধতি খ্যাতনামা পরিচিত শিক্ষা সংগঠনের বাইরে দেওয়া হয়। সুতরাং ১৯৯০ সালে থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আর্ন্তজাতিক শিক্ষা সংক্রান্ত কনফারেন্সে "সবার জন্য শিক্ষা" ঘোষণা পত্রে পাকিস্তান স্বাক্ষর করে। বর্তমানে প্রিয় মাতৃভূমির শিক্ষা বিস্তার ও ব্যাপক প্রসারের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা গ্রহণ করা জরুরী। সুতরাং ব্যবস্থাপকের অভিমতে সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য অনেক বেসরকারী সংগঠনের কার্যালয়ে স্কুল পরিচালনার কার্যক্রম চালানো হয়। কেননা শিক্ষাখাতের উন্নয়নে সরকার যে বাজেট দেয়, তা খুবই অপ্রতুল। এ কারণে শিক্ষা সংস্থা ধারাবাহিকভাবে যে শিক্ষা প্রদান করে, তাতে দেশের প্রয়োজনীয় চাহিদা আদৌ পূরণ হয় না। ফলে ঐসব বে-সরকারী সংস্থা এন. জি. ও. আনুষ্ঠানিক শিক্ষা বিস্তারের আন্দেলন গড়ে তোলে। তারা হাসি মুখে এসব সমস্যার মোকাবিলা করে সফলতার সাথে অসংখ্য স্কুল পরিচালনা করছে। উক্ত প্রোগ্রাম পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দু হল, প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলের। শিক্ষা বঞ্চিত শিশুরা বিশেষ করে গৃহহীন, উপার্জনক্ষম শ্রমিক শ্রেণী, অল্প বয়স্ক মেয়ে শিশু। যাদের কঠের পরিশ্রমের কাজে নিয়োজিত করা হয়।

রুবিনা মাহগোলে তার আলোচনায় শিক্ষার কর্মকৌশল নির্ধারণে শ্রেণী বৈষম্যের সংশোধনের উপায়কে তিন ভাবে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেছেন।
১. পুরুষ ও নারীর মধ্যে পৌরুষ্যত্ব ও নারীত্বের পার্থক্য নিরূপণ। এ দু'টোকে সম্পূর্ণ পৃথক সত্ত্বা মনে করা।
২. পৌরুষত্বের বৈশিষ্ট্য ও নারীত্বের বৈশিষ্ট্যকে পরস্পর বিপরীত মনে করা।
৩. সর্বক্ষেত্রে নারীদের দুর্বল ও নিকৃষ্ট মনে করা। অথচ পুরুষকে সবল ও উত্তম ও শ্রেয় মনে করা হয়। তারপর তিনি বলেন, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা ভারত উপমহাদেশে ইস্টইণ্ডিয়া কোম্পানীর অধীনে লর্ড ম্যকেল কর্তৃক প্রবর্তিত। আর তখন ইংরেজীকে সরকারী ভাষা ঘোষণা করা হয়। প্রথমে মুসলমানগণ নতুন এ শিক্ষা ব্যবস্থার ঘোরতর বিরোধীতা করে। কিন্তু হিন্দুরা নতুন এ শিক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করে সরকারী কার্যক্রমে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা লাভ করতে শুরু করে। অবশেষে মুসলমানগণ প্রয়োজনের তাগিদে ও সময়ের চাহিদা অনুযায়ী নতুন শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রবর্তিত শিক্ষা গ্রহণ করতে শুরু করে।

তখন স্যার সৈয়দ আহমদ ও অন্যান্য উন্নয়নকামীগণ আধুনিক শিক্ষা ও বিজ্ঞান শিক্ষায় বিশেষ গুরুত্বারোপ করে। কিন্তু এর সাথে সাথে তারা নারীদের আধুনিক শিক্ষার ঘোর বিরোধীতা করেন। প্রয়োজন ও সময়ের চাহিদা অনুযায়ী যদিও মেয়েদের স্কুলে পাঠানো হয়, কিন্তু মেয়েদের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, রাজনীতি, অর্থনীতি ইত্যাদি বিষয় পড়ানো হত না বরং তাদের ধর্মীয় বিষয়, সামান্য হিসাব জ্ঞান, গৃহস্থালীর কাজ, এক প্রকার শূচীকর্ম, সেলাই করা, রান্না-বান্না, শিশু পরিচর্চা ইত্যাদি বিষয় শিক্ষা দেওয়া হত। যা তাদের উত্তম মা ও উত্তম গৃহিনী হতে সহায়ক মনে করা হত। যেন নারীকে তার সত্ত্বার জন্য শিক্ষা দেওয়া হত না বরং পরিবার, গোত্র ও জাতীয় স্বার্থে শিক্ষা দেওয়া হত।

নারী শিক্ষা প্রসারের বিষয় স্যার সৈয়দ আহমদ খাঁনের উন্নত ধ্যান-ধারনা, নতুনত্ব পছন্দ, আল্লামা ইকবালের মত দার্শনিক ধ্যান-ধারনা, মৌলভী আশরাফ আলী থানবীর মত বুনিয়াদী সহায়তাকারী, চিন্তাশীল ব্যক্তিদের ধ্যান-ধারনা ব্যতিক্রম ছিল। যেন নারী শিক্ষার বিষয়ে ধমযুদ্ধাদের মধ্যে মতবিরোধের লড়াই চলেছে।

স্যার সৈয়দ আহমদ খাঁন মেয়েদের শুধু, ধর্মীয়, গার্হত্য বিষয় শিক্ষা দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ মনে করতেন। তিনি মেয়েদের ইতিহাস, ভূগোল, ত্রিকোনমিতি ইত্যাদি পড়ানোর ঘোর বিরোধী ছিলেন। তিনি মনে করতেন, পশ্চিমা নারী সমাজ যে শিক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করছে, ভারত উপমহাদেশের নারীদের ঐ পদ্ধতির শিক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করা অনুচিত ও অযৌক্তিক। যেন স্যার সৈয়দ আহমদের দৃষ্টিতে নারীদের শুধু চরিত্র গঠনমূলক শিক্ষার প্রয়োজন বেশী। আর এই আখলাখ কি ছিল মুসলিম নারী সমাজকে অমুসলিম নারী সমাজ থেকে রক্ষা করতে হবে। তাদের মধ্যে আপন-পর, মুহরেম-গায়েবে মুহরেমের পার্থক্য মজবুত করতে হবে। যেন নারীকে আত্মমর্যাদার লক্ষ্যস্থল নির্ধারণ করে তাদের উপর অনেক কঠোর শর্তারোপ করে দেওয়া হয়। তাদেরকে চাদর ও চার দেওয়ালের মাঝে অবরুদ্ধ করে দেওয়া হয়। আকবর এলাহাবাদের কবিতায় তাই প্রকাশ হয়েছে "নারীদের জিজ্ঞেস করা হলো আপনাদের যে পর্দা ছিল তার কি হল? তারা বলতে শুরু করে যে, তা পুরুষদের বিবেক-বুদ্ধির উপর পড়েছে।"

নারীদের পর্দাহীনতার কারণেই যেন জাতীয় আত্মমর্যাদা মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন হয়েছে। স্বয়ং আল্লামা ইকবাল নারীর নারীত্বের রক্ষক হিসেবে শুধু পুরুষকে চিহ্নিত করে আকবর এলাহাবাদী থেকেও দু'হাত সামনে অগ্রসর হয়েছেন। তিনি পর্দা প্রথাকেও নারীর নারীত্ব রক্ষার জন্য যতেষ্ট মনে করতেন না বরং তার ধারনা নারীকে শুধু পুরুষই রক্ষা করতে সক্ষম। এ মনোভাব তার কবিতায়ও তিনি প্রকাশ করেছেন। তিনি নারীদের আধুনিক ও প্রাচীন শিক্ষার ঘোর বিরোধী ছিলেন। তিনি জাতি গঠনে নারীর সতীত্ব রক্ষার একক রক্ষক শুধু পুরুষকে মনে করতেন। এভাবে গোত্রের নারীদেরকে আপন-পর ও অন্যদের নিরাপদ রাখা এতো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে গেছে যে, এ নিয়ে স্যার সৈয়দ আহমদ, ইকবালের মত আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত ব্যক্তি বর্গ, মাওলানা আশরাফ আলী থানবী, ডিপুটি নাজির আহমেদ দেহলভীর মত উন্নয়ন প্রিয় লোকজন পরস্পর মত বিরোধে জড়িয়ে পড়েছেন।

পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পরেও নারীদের শিক্ষা লাভের ক্ষেত্রে শ্রেণী বৈষম্য বহাল থাকে। পরবর্তীতে এ চিন্তা-ধারাকে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিতে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করে বুঝানো হয়। এভাবে প্রেসিডেন্ট আইয়ূব খাঁনের যুগের শিক্ষার নীতি নির্ধারক বলেন, "আমাদের মতে নারী সমাজ আবেগ-অনুভূতিতে ও শারীরিক ক্ষেত্রে, সন্তানের লালন-পালন, শিক্ষা দীক্ষায় ও শিশুদের যোগ্যতা বিকাশে উত্তম বলে প্রমাণ হয়েছে।
(জাতীয় শিক্ষানীতি ১৯৫৯ সালের রিপোর্ট) পাকিস্তান যেন স্বয়ং আধুনিক বৈজ্ঞানিক ও শিল্প কারিগরীর যুগে প্রবেশ করতে ইচ্ছুক ছিল তথাপি সে খানে নারীদের সম্পর্কে প্রাচীন রীতি-নীতি ও বিস্মৃত ধ্যান-ধারনা প্রসার ঘটানো হয়। অপর দিকে যাদের গৃহকর্মে দৈনিক গড়ে ষোল ঘণ্টা কঠোর পরিশ্রমের কাজ করতে হয়, তাদেরকে মমতার বন্ধনের প্রশান্তি ও নারীর শারীরিক অক্ষমতা ঘোষণা দিয়ে সঠিক মূল্যায়ন করা হয় না। না এর জন্য তাদের কোন আর্থিক বিনিময় দেওয়া হয়। জুলফিকার আলী ভূট্টোর সময় নারীদের মর্যাদা সম্পর্কে কিছুটা উন্নত ধ্যান-ধারনা পোষণ করার মন-মানসিকতা জন্মে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট 'জিয়াউল হকের সময় পূনরায় নারীদের চাদর ও চার দেওয়ালের মাঝে দ্বিতীয়বারের মত বন্দী করে ফেলা হয়। ইসলামীক করণের ছদ্মাবরণে অনেক সতন্ত্র আইন পাশ করা হয়। তাতে পুরুষের মোকাবিলায় নারীর মর্যাদা অনেক কমে যায়। এসব ব্যবস্থার প্রাতিক্রিয়া শিক্ষা ক্ষেত্রেও পরিলক্ষিত হয়। মুসলমান বীর যেমন মহাম্মদ বিন কাশেম, মাহমুদ গজনবী প্রমুখের আলোচনা করা হলে তাদের বীরত্ব, সাহসিকতা, বুদ্ধিমত্তা, জ্ঞান-প্রজ্ঞা, ন্যায়-পরায়ণতা ও বিজয়ী হিসেবে গুনাবলী আলোচনা করা হয়।

কিন্তু মুসলিম নারীদের যেমন হযরত খাদীজা বা ফাতেমা রাযি. এর আলোচনা করা হলে তাদেরকে শুধু উত্তম স্ত্রী ও উত্তম মা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। তাদের সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে কখনো বীরত্ব ও সাহসিকতার বিষয়ে আলোচনা করা হয় না। অথচ পুরুষদেরকে কখনো গৃহকর্ম করতে বা সন্তান প্রতিপালনের কাজ করতে দেখানো হয় না। যেমন সেবা করা, কুরবানী দেওয়া, আনুগত্য করায় ও পদাঙ্ক অনুসরণে পুরুষদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হয়। নারীর বীরত্ব, বাহাদুরী ও সাহসিকতাপূর্ণ ইতিহাস বর্ণনা করা নারীদের ক্ষেত্রে অসমিচীন মনে করা হয়। তদোপুরি এ বৈষম্য মূলক মনোভাবের মাধ্যমে পরবর্তী বংশধরদের কর্মবিমূখ ও অলস করে দেওয়া হয়।

অবশ্য বর্তমানে হাতে গোনা কিছু সংখ্যক নারী চিকিৎসা বিজ্ঞান নিয়ে লেখা পড়া করছে। এ ক্ষেত্রে তাদের সফলতাও পরিলক্ষিত হচ্ছে। কিন্তু সামগ্রীকভাবে জাতীয় পর্যায়ে তেমন কোন অগ্রগতি পরিলক্ষিত হচ্ছে না। পাঠ্যভুক্ত গ্রন্থসমূহে কোথায়ও পুরুষদের রান্না করা বা মহিলাদের জাহাজ চালাতে দেখা যায় না। যেন দুর্বল ও অক্ষমতাকে এককভাবে নারীদের জন্য আর শক্তি ও সক্ষমতাকে এককভাবে পুরুষদের জন্য নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। তারপর এ পাঠ্যসূচীতেও পুরুষ ও নারীদের জন্য পৃথক স্থান নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। বাহির ও ভিতর বলে বৈষম্যের সূচনা করেছে। তাদের অভ্যাস, অভিরুচি, চিত্তাকর্ষক বিষয়, কর্মক্ষেত্রেও বৈষম্য জন্ম দিয়েছে। অনুরূপভাবে রাজনৈতিক চর্চা এবং ধর্মের নামেও শ্রেণী বৈষম্যকে উস্কে দেওয়া হয়েছে।

আর নারীদের গণতান্ত্রিক অধিকার স্বাধীনতা ও উন্নতিকে তো সর্বদা ঘৃণাই করা হয়। বইয়ের পাঠ্যসূচীর শ্রেণী বৈষম্য এ যেন গা সহা হয়ে গেছে। এটা নারীদের সাথে অন্যায় আচরণ ও বেইনসাফীকরাকে উস্কে দেয়। ফলে গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাও বিঘ্নিত হচ্ছে। সুতরাং বর্তমানে শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের একান্ত দায়িত্ব ও কর্তব্য হল, তাদেরকে সরকারী ও বেসরকারী পাঠ্যসূচীতে পরিবর্তন আনতে হবে। তা যেন শ্রেণী বৈষম্য থেকে মুক্ত হয়। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়। শিক্ষার একমাত্র উদ্দেশ্য যদি গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হয়, তাহলে সর্বপ্রথম শিক্ষা ক্ষেত্রে শ্রেণী বৈষম্য ও প্রতিহিংসা দূর করতে হবে।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 এটা হল পাকিস্তানের বিরাট দূরদর্শিতা

📄 এটা হল পাকিস্তানের বিরাট দূরদর্শিতা


পাকিস্তানের অপর রেজিস্টার্ড বেসরকারী সংস্থা গণতান্ত্রিক মানব উন্নয়ন কমিশন পাকিস্তান (ডেমোক্রেটিক কমিশন ফর হিউম্যান ডিপার্টমেন্ট পাকিস্তান) ৯৮ পৃষ্ঠার উন্নত মানের এ বই ১৯৯৭ সালে প্রকাশ করে। শিশু অধিকারের আর্ন্তজাতিক চুক্তি, ইসলামী আইন ও পাকিস্থানী আইন প্রবর্তন। পারস্পরিকতাত্ত্বিক আইন ও পাকিস্তানী আইন প্রবর্তন। পারস্বপারিক তাত্ত্বিক পর্যালোচনা।

উক্ত গ্রন্থ সুইডেনের শিশু নিরাপত্তা সংস্থার (রডাবরটন) সহায়তায় প্রকাশিত হয়। সম্পাদনা ও সংকলন বিন্যস্ত করণ ও প্রতিপাদন করেছেন বেলা জামিল ও শাহীন সরদার আলী। প্রকাশ থাকে যে, উক্ত মহিলাদ্বয় পাকিস্তান গণতান্ত্রিক মানব উন্নয়ন সংস্থার সদস্য ছিল। বরং বেলা জামিল দু' বছর ঐ সংস্থার প্রধানের দায়িত্বপালন করে। ঐ বেলা জামিল গ্রন্থ পরিচিতে উল্লেখ করেছেন,

উক্ত গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যের কারণে আমরা এ সিদ্ধান্তে উপনীত হতে সক্ষম হয়েছি যে, মানবাধিকারের আর্ন্তজাতিক আইন আর স্থানীয় সামাজিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত নিম্নস্তর থেকে কার্যকরী করায় স্থানীয় আইনের মধ্যে অনেক বেশী ব্যবধান দেখ যাচ্ছে। ইসলামী আইন, মানবাধিকারের আর্ন্তজাতিক আইন সমূহের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে চিন্তা করলে তার অনেক বেশী সূত্র বের হয়ে আসে। মূলতঃ রাজনৈতিক যৌক্তিকতার আলোকে মানবাধিকারের নীতিমালা শিশু অধিকারের পরিপন্থী করা হয়েছে। বিভিন্ন দেশ এ বিষয়ে নিজেদের দুর্বলতা ও রাজনৈতিক পদক্ষেপকে পর্দাবৃত করার জন্য ধর্ম ও রাজনীতিক আশ্রয় গ্রহণ করছে। উক্ত প্রতিবেদন চার অধ্যায়ে বিন্যাস করা।

প্রথম অধ্যায় শিশু অধিকারের ইতিহাস, উন্নয়নমূলক কর্ম প্রচেষ্টা ও শিশু অধিকারে আন্তর্জাতিক চুক্তি।
দ্বিতীয় অধ্যায় আর্ন্তজাতিক শিশু অধিকারের সাথে পাকিস্তানী আইনের মতবিরোধ। আর ইসলামী আইনের মূলনীতির সাথে পর্যালোচনা।
তৃতীয় অধ্যায় শিশু কল্যাণমূলক সংশ্লিষ্ট কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা। যেমন, শিশুদের কোলো নেওয়া, বিবাহ ছাড়া জন্মগ্রহণকারী শিশুদের সামাজিক অবস্থা, শিশু কল্যাণ তহবিল ও বিশেষ করে শিশুদের অর্থনৈতিক অবস্থা ইত্যাদি।
চতুর্থ অধ্যায়কে সমাপ্তি অধ্যায়, পূর্ববর্তী আলোচনা সমূহের সারমর্ম, শিশুদের কল্যাণে ভবিষ্যত কর্মকৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন কল্পে সুপারিশ পেশ করা হয়। যাতে পাকিস্তানে শিশু অধিকার কার্যকরীভাবে সংরক্ষিত হয় এবং সফলভাবে সংরক্ষিত হয়।

১৯৯১ সালের শিশু সংরক্ষণ, নিরাপত্তা ও উন্নতি বিষয়ক ছয় দিন ব্যাপী এক কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। তাতে ২৫ দফা সম্বলিত এক প্রস্তাবনার স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এ উদ্দেশ্যে উক্ত কনফারেন্সে বলা হয়, পাকিস্তানের সরকার ও জনসাধারণ উভয়ের উপর এ দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে যে, পাকিস্তানী শিশু ও তাদের মাতা-পিতাকে জাতীয়, প্রাদেশিক ও স্থানীয়ভাবে ঐ সব অধিকার বাস্তবায়ন করতে হবে, যাতে জাতিসংঘের আর্ন্তজাতিক কনভেনসন বনাম শিশু অধিকারের দায়িত্ব ন্যস্ত করা হয়।

পাকিস্তানের অপর রেজিস্টার্ড বেসরকারী সংস্থা গণতান্ত্রিক মানব উন্নয়ন কমিশন পাকিস্তান (ডেমোক্রেটিক কমিশন ফর হিউম্যান ডিপার্টমেন্ট পাকিস্তান) ৯৮ পৃষ্ঠার উন্নত মানের এ বই ১৯৯৭ সালে প্রকাশ করে। শিশু অধিকারের আর্ন্তজাতিক চুক্তি, ইসলামী আইন ও পাকিস্থানী আইন প্রবর্তন। পারস্পরিকতাত্ত্বিক আইন ও পাকিস্তানী আইন প্রবর্তন। পারস্বপারিক তাত্ত্বিক পর্যালোচনা।

উক্ত গ্রন্থ সুইডেনের শিশু নিরাপত্তা সংস্থার (রডাবরটন) সহায়তায় প্রকাশিত হয়। সম্পাদনা ও সংকলন বিন্যস্ত করণ ও প্রতিপাদন করেছেন বেলা জামিল ও শাহীন সরদার আলী। প্রকাশ থাকে যে, উক্ত মহিলাদ্বয় পাকিস্তান গণতান্ত্রিক মানব উন্নয়ন সংস্থার সদস্য ছিল। বরং বেলা জামিল দু' বছর ঐ সংস্থার প্রধানের দায়িত্বপালন করে। ঐ বেলা জামিল গ্রন্থ পরিচিতে উল্লেখ করেছেন,

উক্ত গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যের কারণে আমরা এ সিদ্ধান্তে উপনীত হতে সক্ষম হয়েছি যে, মানবাধিকারের আর্ন্তজাতিক আইন আর স্থানীয় সামাজিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত নিম্নস্তর থেকে কার্যকরী করায় স্থানীয় আইনের মধ্যে অনেক বেশী ব্যবধান দেখ যাচ্ছে। ইসলামী আইন, মানবাধিকারের আর্ন্তজাতিক আইন সমূহের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে চিন্তা করলে তার অনেক বেশী সূত্র বের হয়ে আসে। মূলতঃ রাজনৈতিক যৌক্তিকতার আলোকে মানবাধিকারের নীতিমালা শিশু অধিকারের পরিপন্থী করা হয়েছে। বিভিন্ন দেশ এ বিষয়ে নিজেদের দুর্বলতা ও রাজনৈতিক পদক্ষেপকে পর্দাবৃত করার জন্য ধর্ম ও রাজনীতিক আশ্রয় গ্রহণ করছে। উক্ত প্রতিবেদন চার অধ্যায়ে বিন্যাস করা।

প্রথম অধ্যায় শিশু অধিকারের ইতিহাস, উন্নয়নমূলক কর্ম প্রচেষ্টা ও শিশু অধিকারে আন্তর্জাতিক চুক্তি।
দ্বিতীয় অধ্যায় আর্ন্তজাতিক শিশু অধিকারের সাথে পাকিস্তানী আইনের মতবিরোধ। আর ইসলামী আইনের মূলনীতির সাথে পর্যালোচনা।
তৃতীয় অধ্যায় শিশু কল্যাণমূলক সংশ্লিষ্ট কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা। যেমন, শিশুদের কোলো নেওয়া, বিবাহ ছাড়া জন্মগ্রহণকারী শিশুদের সামাজিক অবস্থা, শিশু কল্যাণ তহবিল ও বিশেষ করে শিশুদের অর্থনৈতিক অবস্থা ইত্যাদি।
চতুর্থ অধ্যায়কে সমাপ্তি অধ্যায়, পূর্ববর্তী আলোচনা সমূহের সারমর্ম, শিশুদের কল্যাণে ভবিষ্যত কর্মকৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন কল্পে সুপারিশ পেশ করা হয়। যাতে পাকিস্তানে শিশু অধিকার কার্যকরীভাবে সংরক্ষিত হয় এবং সফলভাবে সংরক্ষিত হয়।

১৯৯১ সালের শিশু সংরক্ষণ, নিরাপত্তা ও উন্নতি বিষয়ক ছয় দিন ব্যাপী এক কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। তাতে ২৫ দফা সম্বলিত এক প্রস্তাবনার স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এ উদ্দেশ্যে উক্ত কনফারেন্সে বলা হয়, পাকিস্তানের সরকার ও জনসাধারণ উভয়ের উপর এ দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে যে, পাকিস্তানী শিশু ও তাদের মাতা-পিতাকে জাতীয়, প্রাদেশিক ও স্থানীয়ভাবে ঐ সব অধিকার বাস্তবায়ন করতে হবে, যাতে জাতিসংঘের আর্ন্তজাতিক কনভেনসন বনাম শিশু অধিকারের দায়িত্ব ন্যস্ত করা হয়।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 বাল্যকালে যৌনাচারের কুফল

📄 বাল্যকালে যৌনাচারের কুফল


পৃথিবীর সর্বত্র যুবক-যুবতীদের স্বাস্থ্য উন্নত করার স্বার্থে দেখাশোনা করা প্রয়োজন। এর প্রতিকার হল, যুবক-যুবতিরা কোথায় থাকে? কি অবস্থায় থাকে? তাদের বয়স কত? তাদের শরীর-স্বাস্থ্যের উপর যেন কোন খারাপ প্রতিক্রিয়া না পড়ে। এজন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতার বিষয় হল, উঠতি বয়সে তাদের চারিত্রিক পবিত্রতা যথাযথভাবে বজায় রাখা। তাই আমরা অনেক দেশের স্বাভাবিক জাতিগত জীবন-যাপনের স্তরে পৌঁছার পূর্বে যুবক-যুবতীদের দৈহিক মেলামেশার সুযোগ সুবিধা জানিয়ে দিচ্ছি। অথবা তাদেরকে এরূপ কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। এ সম্পর্কে প্রচলিত এক ভ্রান্ত রীতি হলো বাল্য বিবাহ। ভারতে কম বয়সে অধিকাংশ মেয়েকে বিবাহ দেওয়া হয়। তারপর তাদের ব্যাপারে এ আশাও পোষণ করা হয়, এ অল্প বয়সে তারা সন্তান জন্ম দেবে। পাশ্চাত্য দেশে এরূপ হয় না। তথাপি আমরা প্রচার মাধ্যমে তাদেরকে ধারাবাহিকভাবে উৎসাহী করে তুলছি। আর এ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে দিচ্ছি যে, যৌবনের স্বাদ লুফে নেওয়া ব্যতীত যৌবন নিস্ফল থেকে যাবে।

অনোন্নত দেশসমূহ বিশেষ করে এশিয়া, আফ্রিকা ও ল্যাটিন আমেরিকার অধিকাংশ অঞ্চলে সাধারণতঃ নয় বছর বয়সে ছেলে-মেয়েদের বিবাহ দেওয়া হয়। এসব অঞ্চলে বিশেষভাবে শহর এলাকায় বিবাহ ব্যতীত অধিকাংশ যুবক-যুবতিদের মধ্যে দৈহিক সম্পর্ক হতে দেখা যায়। সর্বনাশের ব্যাপার হল, বর্তমানে এ সংক্রান্ত সংস্কৃতি অতিদ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে। গ্রামবাসীদের পুরাতন ধ্যান-ধারণা আর নগরবাসীদের আধুনিক বিলাসিতা অতি উৎসাহ ও উদ্ধিপনার সাথে বিস্তার লাভ করছে, কিন্তু তাদের অতি উৎসাহে যুবক যুবতিদের স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রতিক্রিয়া দেখা দিচ্ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এ ধরনের মেয়ে গর্ভবতি হয়ে যায়, যারা দৈহিক দিক থেকে নিশ্চিত গর্ভধারণের অযোগ্য। অর্থাৎ তাদের দৈহিক গঠন এখনো পাকাপোক্ত হয়নি। ফলে তাদের প্রসূতিকাল ভীষণ ঝুকিপূর্ণ হয়ে যায়। তার উপর অবৈধ গর্ভধারণ, অনাকাঙ্খিত গর্ভধারী মেয়েকে গর্ভপাতের প্রতি আগ্রহী করে তোলে। কিন্তু গর্ভপাতের যে মারাত্মক প্রতিক্রিয়া শরীর স্বাস্থ্যের উপর প্রতিফলিত হয়, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। স্বাস্থ্যের আরো এক মারাত্মক হুমকির বিষয় হল, কোন কোন সময় দেখা যায়, দৈহিক ব্যাধিসমূহ একে অপরের মধ্যে সংক্রমিত হয়। বিবাহিত স্বামী স্ত্রীর মাধ্যমে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপনের দ্বারা দৈহিক ব্যাধি সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয় না অথবা অনেক কম সংক্রমিত হয়। অনাকাঙ্খিত গর্ভধারণ থেকে বাঁচার জন্য যুবক-যুবতীরা জন্মনিয়ন্ত্রণের ঔষধ ও বিভিন্ন পদ্ধতি গ্রহণ করে। কিন্তু তাতে ভীষণ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরী। তারপরও কোন কোন জন্ম নিরোধক পদ্ধতি এমন, যা প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় অল্পবয়স্কদের জন্য বেশী ক্ষতিকর বলে প্রমাণ হয়েছে।

ইতালির বালাজি নামক স্থানে আর্ন্তজাতিক রোগ প্রতিরোধক ফেডারেশনের পরামর্শ শীর্ষক এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত বৈঠকে আর্ন্তজাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিশেষজ্ঞগণ যে অভিমত প্রকাশ করেন, তার সারমর্ম নিম্নরূপ।

সিংগাপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সেন রতানম যিনি আই.পি.পি.এফ. এর আর্ন্তজাতিক মেডিক্যাল উপদেষ্টা প্যানেলের (আই.এস.এপি.) সদস্য। তার অভিমত হল, যদি ১৮ বছরের কম বয়সী মেয়েদের গর্ভধারণে বিরত রাখা হয়, তাহলে মহিলা ও শিশুদের স্বাস্থ্য সম্পর্কিত অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

ডাক্তার এ্যানজেলি প্রডবোস বার্জিন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বংশগত রোগ নির্ণয় বিভাগের প্রধান। তিনিও এ বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করে বলেন, মা হওয়ার যোগ্যা মেয়েদের বয়স যত কম হবে, তাদের স্বাস্থগত সমস্যাও তত বেশী মারাত্মক কঠিন হবে। তিনি এ বিষয়েও ঐক্যমত পোষণ করেন যে, উন্নয়নশীল দেশ সমূহে ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী মহিলাদের মৃত্যুর ঝুকি বেশী হওয়ার একমাত্র কারণ হল, তাদের অধিকাংশ গর্ভধারণ, সন্তান প্রসব, গর্ভপাতের কারণে জটিলতায় পতিত হয়।

অধ্যাপক রতানম বলেন, নয় বছর বয়সে গর্ভধারণের পরিণতি শুধু মা ও সন্তানকে ভোগ করে না বরং এর ফলে পুরো সমাজ পেরেশান হয়ে যায়। অল্প বয়সে গর্ভধারণের সংখ্যা কি পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে, তা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পূর্ব ভারতীয় উপকূলীয় অঞ্চলে যেসব মহিলার প্রথম সন্তান জন্ম হয়, তাদের মধ্যে শতকরা ৫৮ জনের বয়স ১৯ বছরের নিচে। আর তন্মধ্যে প্রায় শতকরা ৪০ ভাগ মেয়ে যাদের বয়স ১৭ বছরেরও কম। ইন্দোনেশিয়াতেও শতকরা ৪১ জন মহিলা ১৭ বছরের কম বয়সে প্রথম সন্তান জন্ম দেয়। অপর দিকে পানামাতে যত মহিলা প্রথম সন্তানের মা হয়, তাদের মধ্যে বেশীর ভাগ মহিলার বয়স ১৫ থেকে ১৯ বছর। আমেরিকায় প্রতি বছর দশ লাখের অধিক মেয়ে ১৩ থেকে ১৯ বছরের মধ্যে গর্ভবতী হয়। তাদের মধ্যে প্রায় ত্রিশ হাজার মেয়ের বয়স ১৫ বছরের কম।

পৃথিবীর সর্বত্র যুবক-যুবতীদের স্বাস্থ্য উন্নত করার স্বার্থে দেখাশোনা করা প্রয়োজন। এর প্রতিকার হল, যুবক-যুবতিরা কোথায় থাকে? কি অবস্থায় থাকে? তাদের বয়স কত? তাদের শরীর-স্বাস্থ্যের উপর যেন কোন খারাপ প্রতিক্রিয়া না পড়ে। এজন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতার বিষয় হল, উঠতি বয়সে তাদের চারিত্রিক পবিত্রতা যথাযথভাবে বজায় রাখা। তাই আমরা অনেক দেশের স্বাভাবিক জাতিগত জীবন-যাপনের স্তরে পৌঁছার পূর্বে যুবক-যুবতীদের দৈহিক মেলামেশার সুযোগ সুবিধা জানিয়ে দিচ্ছি। অথবা তাদেরকে এরূপ কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। এ সম্পর্কে প্রচলিত এক ভ্রান্ত রীতি হলো বাল্য বিবাহ। ভারতে কম বয়সে অধিকাংশ মেয়েকে বিবাহ দেওয়া হয়। তারপর তাদের ব্যাপারে এ আশাও পোষণ করা হয়, এ অল্প বয়সে তারা সন্তান জন্ম দেবে। পাশ্চাত্য দেশে এরূপ হয় না। তথাপি আমরা প্রচার মাধ্যমে তাদেরকে ধারাবাহিকভাবে উৎসাহী করে তুলছি। আর এ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে দিচ্ছি যে, যৌবনের স্বাদ লুফে নেওয়া ব্যতীত যৌবন নিস্ফল থেকে যাবে।

অনোন্নত দেশসমূহ বিশেষ করে এশিয়া, আফ্রিকা ও ল্যাটিন আমেরিকার অধিকাংশ অঞ্চলে সাধারণতঃ নয় বছর বয়সে ছেলে-মেয়েদের বিবাহ দেওয়া হয়। এসব অঞ্চলে বিশেষভাবে শহর এলাকায় বিবাহ ব্যতীত অধিকাংশ যুবক-যুবতিদের মধ্যে দৈহিক সম্পর্ক হতে দেখা যায়। সর্বনাশের ব্যাপার হল, বর্তমানে এ সংক্রান্ত সংস্কৃতি অতিদ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে। গ্রামবাসীদের পুরাতন ধ্যান-ধারণা আর নগরবাসীদের আধুনিক বিলাসিতা অতি উৎসাহ ও উদ্ধিপনার সাথে বিস্তার লাভ করছে, কিন্তু তাদের অতি উৎসাহে যুবক যুবতিদের স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রতিক্রিয়া দেখা দিচ্ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এ ধরনের মেয়ে গর্ভবতি হয়ে যায়, যারা দৈহিক দিক থেকে নিশ্চিত গর্ভধারণের অযোগ্য। অর্থাৎ তাদের দৈহিক গঠন এখনো পাকাপোক্ত হয়নি। ফলে তাদের প্রসূতিকাল ভীষণ ঝুকিপূর্ণ হয়ে যায়। তার উপর অবৈধ গর্ভধারণ, অনাকাঙ্খিত গর্ভধারী মেয়েকে গর্ভপাতের প্রতি আগ্রহী করে তোলে। কিন্তু গর্ভপাতের যে মারাত্মক প্রতিক্রিয়া শরীর স্বাস্থ্যের উপর প্রতিফলিত হয়, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। স্বাস্থ্যের আরো এক মারাত্মক হুমকির বিষয় হল, কোন কোন সময় দেখা যায়, দৈহিক ব্যাধিসমূহ একে অপরের মধ্যে সংক্রমিত হয়। বিবাহিত স্বামী স্ত্রীর মাধ্যমে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপনের দ্বারা দৈহিক ব্যাধি সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয় না অথবা অনেক কম সংক্রমিত হয়। অনাকাঙ্খিত গর্ভধারণ থেকে বাঁচার জন্য যুবক-যুবতীরা জন্মনিয়ন্ত্রণের ঔষধ ও বিভিন্ন পদ্ধতি গ্রহণ করে। কিন্তু তাতে ভীষণ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরী। তারপরও কোন কোন জন্ম নিরোধক পদ্ধতি এমন, যা প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় অল্পবয়স্কদের জন্য বেশী ক্ষতিকর বলে প্রমাণ হয়েছে।

ইতালির বালাজি নামক স্থানে আর্ন্তজাতিক রোগ প্রতিরোধক ফেডারেশনের পরামর্শ শীর্ষক এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত বৈঠকে আর্ন্তজাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিশেষজ্ঞগণ যে অভিমত প্রকাশ করেন, তার সারমর্ম নিম্নরূপ।

সিংগাপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সেন রতানম যিনি আই.পি.পি.এফ. এর আর্ন্তজাতিক মেডিক্যাল উপদেষ্টা প্যানেলের (আই.এস.এপি.) সদস্য। তার অভিমত হল, যদি ১৮ বছরের কম বয়সী মেয়েদের গর্ভধারণে বিরত রাখা হয়, তাহলে মহিলা ও শিশুদের স্বাস্থ্য সম্পর্কিত অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

ডাক্তার এ্যানজেলি প্রডবোস বার্জিন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বংশগত রোগ নির্ণয় বিভাগের প্রধান। তিনিও এ বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করে বলেন, মা হওয়ার যোগ্যা মেয়েদের বয়স যত কম হবে, তাদের স্বাস্থগত সমস্যাও তত বেশী মারাত্মক কঠিন হবে। তিনি এ বিষয়েও ঐক্যমত পোষণ করেন যে, উন্নয়নশীল দেশ সমূহে ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী মহিলাদের মৃত্যুর ঝুকি বেশী হওয়ার একমাত্র কারণ হল, তাদের অধিকাংশ গর্ভধারণ, সন্তান প্রসব, গর্ভপাতের কারণে জটিলতায় পতিত হয়।

অধ্যাপক রতানম বলেন, নয় বছর বয়সে গর্ভধারণের পরিণতি শুধু মা ও সন্তানকে ভোগ করে না বরং এর ফলে পুরো সমাজ পেরেশান হয়ে যায়। অল্প বয়সে গর্ভধারণের সংখ্যা কি পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে, তা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পূর্ব ভারতীয় উপকূলীয় অঞ্চলে যেসব মহিলার প্রথম সন্তান জন্ম হয়, তাদের মধ্যে শতকরা ৫৮ জনের বয়স ১৯ বছরের নিচে। আর তন্মধ্যে প্রায় শতকরা ৪০ ভাগ মেয়ে যাদের বয়স ১৭ বছরেরও কম। ইন্দোনেশিয়াতেও শতকরা ৪১ জন মহিলা ১৭ বছরের কম বয়সে প্রথম সন্তান জন্ম দেয়। অপর দিকে পানামাতে যত মহিলা প্রথম সন্তানের মা হয়, তাদের মধ্যে বেশীর ভাগ মহিলার বয়স ১৫ থেকে ১৯ বছর। আমেরিকায় প্রতি বছর দশ লাখের অধিক মেয়ে ১৩ থেকে ১৯ বছরের মধ্যে গর্ভবতী হয়। তাদের মধ্যে প্রায় ত্রিশ হাজার মেয়ের বয়স ১৫ বছরের কম।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00