📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 অন্তর অন্তরই

📄 অন্তর অন্তরই


আমেরিকান সাইক্লো নিউমরোলজিষ্ট ডাক্তার (Paul poersal PHD) লিখিত "দি হার্ট কূইক" নামক গ্রন্থে অন্তর ও আহলে অন্তরের পরিচয় জানার জন্য অত্যন্ত বিস্ময়কর। কিন্তু তিনি মনোরম চিত্তাকর্ষক অভিমত ব্যক্ত করেছেন, তা পড়লে অন্তর চিন্তায় পড়ে যায়। ডাক্তার সাহেবও বলেন, কোন বিষয়ে দুঃখ পেলে ব্যথা অনুভব করে। কারো কথা স্মরণ হলে আবেগপ্রবণ হয়ে উঠে। আবার কারো কথা স্মরণ হলে উৎফুল্ল হয়ে উঠে। এখন প্রমাণ হল, এটা নিছক ইশারা বা রূপক বাকপটুতা নয়। বাস্তবে অন্তরের এ অবস্থা হয়। যখন অন্তর ভেঙ্গে যায়, তখন তার ব্যথার পর্দায় কম্পন ও মলিনতা এবং কোমলতার শৃংখখলায় পরিবর্তন দেখা দেয়। এ কারণে প্রতিভাবান লোক Stress এর প্রতিক্রয়া অতিদ্রুত ও সহজে গ্রহণ করে নেয়। আর এ ধরনের ব্যাধি অন্তরের বিপরীতে এসে যায়।

ডাক্তার পোল তার গ্রন্থে কতিপয় চিত্তাকর্ষক ঘটনা উল্লেখ করেছেন। যেমন, জনৈক ব্যক্তির স্ত্রী মৃত্যুশয্যায় শায়িত। স্বামীর প্রতি অতি তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে ভালবাসার গভীরতা দেখিয়ে বলে, "যদি তুমি মরে যাওয়ার ভান দেখাও, তাহলে আমি তোমকে প্রাণে মেরে ফেলব।" ডাক্তার বলেন, এ দৃশ্য দেখে আমি বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যাই।

এ কথা শোনামাত্রই রোগীর অস্তিমিত হৃদ কম্পন ফিরে আসে আর সে চোখ খুলে দেখতে থাকে। এর দ্বারা প্রমাণ হয়েছে যে, কখনো কখনো ভালবাসার কতিপয় আবেগময় শব্দাবলী একান্ত নিজেস্ব একাধিক বাক্য কোন অর্ধমৃত ব্যক্তির মনে প্রাণ সঞ্চার করে দিতে পারে। ডাক্তার পোলের অভিমত হল, অন্তর তো চিন্তা-ভাবনা করতে থাকে। কিন্তু দেহের কোষ টক, খোলাখুলি টক জিনিস পায় না বরং মেমোরি (স্মৃতি) ধারন কারী অংগ প্রত্যংগ সংযোজন করা হয়। তখন সংযোজক (অর্থাৎ গ্রহীতা) যার অংগে অন্যের অংগ সংযোজন করা হয়েছে, তার কিছু না কিছু বিশেষ স্বভাবিক স্বভাবগত অভ্যাসও লাভ করে থাকে।

উদাহরণ স্বরূপ একবার জনৈক মহিলার দেহে অন্য এক জনের কিডনী সংযোজন করা হয়েছে। তার জানা ছিল না যে, এর দাতা কে? কিন্তু যখন সে নিজের পরিবর্তন অনুভব করে, তখন আশ্চর্য্য হয়ে যায়। সে অনুভব করে যে, পূর্বের তুলনায় বর্তমানে খেলাধুলার প্রতি সে বিশেষ আগ্রহী হয়ে উঠেছে। অথচ সে বাল্য থেকে যৌবন কাল পর্যন্ত খেলাধুলার প্রতি তেমন আগ্রহী ছিল না। অভ্যন্তরীণ ফল এটাই প্রকাশ হয়েছে যে, সে যে ব্যক্তির কিডনী গ্রহণ করেছে, বাস্তবে তার খেলাধুলার প্রতি ভীষণ আগ্রহ ছিল। এ কারণে তার মধ্যেও খেলাধুলার আগ্রহ বেড়ে গেছে। সুতরাং চুড়ান্তভাবে বলতে পারে যে, দেহের অন্যান্য ইন্দ্রিয় সমূহ ও কোষে নিজেস্ব এক মেজাজ এক মেমোরী বা স্মৃতি শক্তি রাখে। তার নিজেস্ব অভিরুচি পরিবর্তন করে না। আরেকবার দেখা গেছে, জনৈক ব্যক্তির দেহে যখন অপর কোন ব্যক্তি মৃত ব্যক্তির কিডনী স্থাপন করা হয়, তখন সে নিজ স্ত্রীকে কখনো কখনো ঐ ব্যক্তির স্ত্রীর নামে ডাকত। এ সম্পর্কে সে বা তার স্ত্রীর নিশ্চিত কোন কিছু জানা ছিল না। যখনই তার অন্তর স্বীয় স্ত্রীর মহব্বত অনুভব করত, তখনই তাকে এ নামে ডাকতে শুরু করত। যা তার মহব্বতের পর্দায় অংকিত রাখা ছিল।

আরেকটি ব্যতিক্রমী ঘটনা উল্লেখ করা হচ্ছে। তাও অত্যন্ত বিস্ময়কর ও চিত্তাকর্ষক। একটি ছোট শিশু সুইমিং পুলে ডুবে মারা যায়। তখন তার কিডনী নিয়ে আরেক শিশুর দেহে সংযোজন করা হয়। তা সংযোজন করে প্রতিস্থাপনের উদ্দেশ্যে একে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত হাসপাতাল রাখা হয়। ব্যারন নামের এ শিশুর যখন পাঁচ বছর বয়স হয়। তখন সে তার মায়ের নিকট তার না দেখা বন্ধু কোলবীর কথা আলোচনা করতে শুরু করে। সে তার সাথে কথা বলত ও খেলা করত। ব্যারনের মাতা বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যায় যে, ঐ মৃত শিশুর নাম ছিল কোলবী। সে তৎক্ষণাৎ কোলবীর মায়ের সাথে সাক্ষাত করে। এর পর উভয় মহিলা ব্যারনকে তাদের নিজের সন্তান মনে করা শুরু করে। তারা উভয়ে বন্ধু হয়ে যায়। ডাক্তার পোলের অভিমত হল, মানুষের মধ্যে পারস্পরিক এক Compassion Connection থাকা ভীষণ জরুরী। কেননা এর উপর মানুষের স্থায়ীত্ব নির্ভরশীল। সত্যই এক অন্তর অপর অন্তরের সাথে মিশে যায়। কেননা এক প্রকৃতিক উৎস (ওয়াভারয়েশন) হয়ে যায়। যা এক অন্তর থেকে অন্য অন্তর পর্যন্ত পরিভ্রমণ করে। সুতরাং যখন মাতা-পিতা, ভাই-বোন, স্ত্রী-সন্তানাদি, নিকট আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবের মধ্যে কেউ বিপদে পতিত হয়, তখন হাজার মাইল দূরে অবস্থিত ব্যথিত অন্তর টেলিফোন বা চিঠির মাধ্যমে সংবাদ পাওয়ার পূর্বেই অজানা পেরেশানীর সংকেত দিতে শুরু করে দেয়। অথচ অন্তর অন্তরই থাকে।

"সবাই তোমার সরকার থেকে অন্তর লাভ করেছে। যতক্ষণ অন্তর ব্যথা অনুভব করেনি, ততক্ষণ অন্তর অন্তর হয় নি।"

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 এক ভয়ঙ্কর ইয়াহুদী ষড়যন্ত্রের মুখোশ উন্মোচন

📄 এক ভয়ঙ্কর ইয়াহুদী ষড়যন্ত্রের মুখোশ উন্মোচন


সম্প্রতি বাংলাদেশে মহিলাদেরকে অর্ধউলংগ হয়ে ইউরোপীয় পোশাক ও মাথায় হেলমেট দিয়ে মোটরসাইকেল চালাতে দেখা যায়। তাদের এ বিশেষ নিদর্শন সাধারণ ইউরোপীয় NGO অর্থাৎ ননগভর্মেন্ট অরগানাইজেশন (বেসরকারী সেবা সংস্থা) দেখে বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যায়- এ তো ইউরোপীয় সংগঠন, যা ওখানে কাজ করছে। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশে ঐ সংগঠন ভীষণ জোরে শোরে কাজ করছে। মূলতঃ এ উন্নয়ন সংস্থার উদ্দেশ্য হল, যে কোন ব্যক্তির সাথে সাহায্য প্রদানের মাধ্যমে সম্পর্ক স্থাপন করা, সে মানুষ হতে পার। তারপর এ সাহায্য পরবর্তীতে মুসলমানদেরকে কাফির-ধর্মত্যাগী করে দেয়।

১৯৯২ সালের টাইমস ম্যাগাজিনের এক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয় যে, এ সংগঠন পরিচালনার মাধ্যমে এ পর্যন্ত বিশ লাখ মুসলমানকে ধর্মান্তরিত করে অমুসলিম বানানো হয়েছে।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 ইউ এন এ -এর সহায়তায় পাকিস্তানে এনজিও -এর তামাশা

📄 ইউ এন এ -এর সহায়তায় পাকিস্তানে এনজিও -এর তামাশা


পশ্চিমা শক্তিবর্গের বাকচাতুর্য্যপূর্ণ নতুন বিশ্বব্যবস্থা গড়ার উদ্দেশ্য হল, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র সমূহের শাসকদেরকে অনুগত ও আজ্ঞাবহ করার পদ্ধতি হচ্ছে, তাদের দ্বারা ইউ এন ও-এর বিভিন্ন চুক্তির উপর স্বাক্ষর করানো। তাহলে তারা ইসলামকে ভুলের চরে উঠিয়ে আমাদের পরামর্শের সামনে অবনত হয়ে পড়বে। প্রথমতঃ সাধারণ জনগণ যাতে স্বাভাবিক ইসলামী বিধান পালন না করে বরং তারা যেন তাকে ভীষণ ঘৃণা করতে শিখে। আর এর বিরুদ্ধে জোরালো আন্দোলন গড়ে তোলে। এর জন্য সর্বপ্রথম প্রয়োজন হল, সাধারণ জনগণের অভিমত নিয়ন্ত্রণ করা, এর জন্য টেলিভিশনই যথেষ্ট। এর মাধ্যমে অনর্থক, অশ্লীল, বেহায়াপনার যত দ্রুত বিস্তার করানো সম্ভব।

এক্ষেত্রে তা নিজেই তার একক উদাহরণ। তবে এর সাথে আরো অতিরিক্ত কিছু উপকরণের প্রয়োজন রয়েছে। সুতরাং এর জন্য দেশে এনজিও বা বেসরকারী সেবা সংস্থার প্লাবন বয়ে চলেছে। এটা হল, বিদেশী ইয়াহুদী খ্রিস্টানদের সংগঠন। যা ইউএনও-এর এজেণ্ডা অনুযায়ী মুসলিম সংখ্যা গরিষ্ঠ দেশ সমূহে ব্যাপক আকারে পরিচালনা করা হচ্ছে। তারা জাতিসংঘ সাহায্য তহবিল থেকে কিছু মূলধন পায় আর কিছু কিছু মূলধন স্থানীয় সরকার থেকেও পায়। এ বিদেশী ধর্মহীন ও লিভারেল সংস্কৃতি দেশে বিস্তার লাভের অতি সহজ ও কার্যকরী পন্থা হল সমাজে প্রভাব বিস্তার করার পর উন্নয়ন ও সংস্কার সাধনের নামে জনসাধারণকে ধর্মবিমূখ করে প্রবৃত্তি পুজারী বানানো।

অনুরূপ আরো এক উপায়ে বিশ্বব্যাংকের মাধ্যমে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করছে। তারা আমাদের ঋণ দেওয়ার সাথে সাথে শিক্ষা প্রদানে মনোনিবেশ করেছে। এভাবে তারা সমাজের সর্বনিম্ন শ্রেণী পর্যন্ত পৌছে তাদের মন-মগজ থেকে ইসলামের মহব্বতকে নির্মূল করে দিচ্ছে। তাদের বুঝানো হচ্ছে, দুনিয়াতে শুধু এক আদেশ ও এক সংগঠন তা হল ইউ এন ও। তোমরা ইসলাম ছেড়ে দাও। এটা হল, সেকেলে রীতিনীতি। যদি উন্নতি করে সামনে অগ্রসর হতে চাও, তাহলে তোমদের জন্য ইউ এন ও এর প্রদত্ত এজেণ্ডা বাস্তবায়নে কাজ করা জরুরী। নতুবা তোমরা উন্নয়নের ধারা থেকে অনেক পিছিয়ে যাবে। সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ভ্রান্ত বর্ণমালার মত পৃথিবীর ইতিহাস থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

বেইজিং সম্মেলনের পর এ জন্মভূমিতে একক আধিপত্তও লেবারিজম বিস্তারের চেষ্টায় ব্যাপক উন্নতি সাধন করা হয়েছে। রেডিও টেলিভিশনের অনুষ্ঠানে প্রতিনিয়ত নিত্যনতুন উলংগপনা, বেহায়াপনার ব্যাপক প্রসার ঘটানো হচ্ছে। এনজিওদের কার্যক্রম দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। তারা এ উদ্দেশ্যে শিক্ষা বিভাগকে বিশেষভাবে চিহ্নিত করেছে। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় পাঠক্রমের রূপ রেখা নির্ধারণ করতে হয়। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা তাদের প্রদত্ত রূপরেখা অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়। বিভিন্ন স্থানে গোষ্ঠীগত বৈঠক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে জনসাধারণকে পরিকল্পিত পরিবার সম্পর্কে উদ্বুদ্ধ করা হয়। আর বিনামূল্যে পরিবার পরিকল্পনার দ্রব্যসামগ্রী সরবরাহ করা হয়।

এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য বিশেষভাবে গ্রাম্য লোকদের মনোনীত করা হয়েছে। মাধ্যমিক ও এস. এস. সি. স্তরের শিক্ষার্থীদের তিন মাসের প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদেরকে মতবিনিময় কেন্দ্রের কর্মী নিয়োগ করা হয়। এত কম শিক্ষাপ্রাপ্তা মেয়ে যাদের ঔষধের নাম পর্যন্ত শুদ্ধরূপে পড়ার যোগ্যতা নেই, তাদের মাধ্যমে গ্রাম্য অশিক্ষিত নারীদের নিকট পরিবার পরিকল্পনার বড়ি প্রেরনের সংগঠন পরিচালনা করা হয়।

অপর দিকে বিশ্ব ব্যংকের সহায়তায় শিক্ষার উন্নয়নের নামে অপর এক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। মেট্রিক, এম, এ ও বি, এ পাশ ছাত্রীদেরকে তিন মাসের কোর্সে প্রশিক্ষণ দান করে গ্রাম্য বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাদের প্রশিক্ষণ কোর্সকে বিশেষ পদ্ধতিতে বাস্তবায়ন করা হয়।

গ্রামের এম এ ও বি এ পাস ছাত্রী যারা স্বাভাবিক অস্বচ্ছলতা ও বেকারত্বে কারণে উপযুক্ত কোন চাকুরী প্রার্থী হয়। তখন তাদের বেশী পারিশ্রমিকের বিনিময়ে চাকুরীর প্রলোভন দেখিয়ে তাদের এ কোর্স সমাপ্ত করায়। তাদেরকে আমাদের মৌলিক চাহিদা ও সামাজিক রীতিনীতির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা শিখানো হয়। এ ধরনের এক কোর্স গত ৯৭সনের গ্রীস্মকালিন ছুটির সময় কতিপয় ছাত্রীকে লাহোরে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পাঠপুস্তক সমূহ তারা নিজেরা সরবরাহ করে। বিশ্বব্যংকের সাহায্যে এ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। প্রশিক্ষণার্থী ছাত্রীদের উন্নত মানের হোটেলে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এটা তিন মাসের প্রশিক্ষণ কোর্স ছিল। সব আয়োজনের সাথে সাথে ছাত্রীদের যাতায়াত ভাতাও প্রদান করা হয়। ঐ সময়ের ঐ প্রশিক্ষণ কোর্সের পুস্তক পর্যালোচনা করা উচিত।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 জাতীয় রিপোর্ট

📄 জাতীয় রিপোর্ট


সেপ্টেম্বর ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত বিশ্বনারী সম্মেলনে পাকিস্তানের নারী সমাজের উন্নয়নে পেশকৃত এক রিপোর্ট। যা সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় প্রকাশ করা হয়। ১৫০ পৃষ্ঠার এ রিপোর্ট পাকিস্তানের নারী ও যুব উন্নয়ন মন্ত্রনালয়ের সচিব সালমা ওয়াহিদ তৈরি করেন। উক্ত রিপোর্টের ভূমিকায় উল্লেখ করা হয় যে, এ রিপোর্ট শিল্প কারখানায় কর্মরত পেশাদার, শিক্ষা বিশেষজ্ঞ, চলমান কর্মপরিকল্পনাবিদ, সরকারী ও বে-সরকারী সংস্থা সমূহের দীর্ঘ ২১ মাসের পরামর্শ ও সাহায্য সহায়তার প্রতিফলন।

নারীদের সমস্যাসমূহ বিশেষভাবে চিহ্নিত করার জন্য এবং তাদের একসূত্রে আবদ্ধ করার জন্য জাতীয়, প্রাদেশিক ও আঞ্চলিক পর্যায়ে অসংখ্য বৈঠক, কনফারেন্স ও ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠান করা হয়। যাতে নারী সমাজের মাঝে সামাজিক সমতা, নারীর উন্নয়ন ও নারী ব্যক্তি স্বাধীনতা লাভ করে জাতীয় উন্নতি সাধনের লক্ষ্যে স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা প্রণয়নও কর্মকৌশল নির্ধারণ করে সে সম্পর্কে গভীরভাবে পর্যালোচনা করতে হবে। উক্ত রিপোর্ট ইংরেজী ভাষায় প্রণয়ন করা হয়। এর উর্দু অনুবাদ করে সাহী ফাউণ্ডেশন (শিক্ষা উন্নয়ন সোসাইটি), আসমা আজমলও ফারিয়াহ জাফরের তত্ত্বাবধানে এ কাজ সমাপ্ত হয়। পুস্তকটি সুন্দর মনোরম ও উন্নত গ্রেট আপের দাবীদার। পরিচিতি পর্বে উল্লেখ করা হয় যে, উক্ত কনফারেন্স সমূহে (যা নারী সংক্রান্ত বিষয় ইউ এন ও জের প্লাটফরম থেকে সময় সময় প্রকাশ করা হয়।) নারীদের জন্য ব্যাপক কর্মসূচী প্রণয়নের ধারকবাহক। কেননা বর্তমান বিশ্বে নারীদের বিষয়কে অন্যান্য বিষয় থেকে পৃথক করা চলবে না।

উক্ত বিষয় সমূহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট হল, দারিদ্রতা, সমাজিক বৈষম্য, মানবাধিকার আদায়ে অবিশ্বস্ততা, ন্যায় বিচারের বিলুপ্তি, বিশৃঙ্খলা, নিরাপত্তাহীনতা। এখন এসব বিষয়ে সময় ক্ষেপন বিশ্ব ভ্রাতিত্ব স্থাপনের জন্য গ্রহণযোগ্য হবে না। এ সমস্যা দু'ভাবে সমাধান করা সম্ভব। প্রথমতঃ উল্লেখিত সমস্যা সমূহকে সামনে রেখে অন্ততঃপক্ষে মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে নিশ্চিত প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে। দ্বিতীয়তঃ এ সব সমস্যা নিরসনের জন্য সামাজিক সমতা বিধান কল্পে দীর্ঘ মেয়াদী উন্নয়ন লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা জরুরী। বিগত দুই দশকে পাকিস্তানের জাতীয় সমস্যা সমূহের মধ্যে নারী উন্নয়ন ও নারীর ব্যক্তি স্বাধীনতার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। বর্তমানেও পাকিস্তানের (বাংলাদেশের) নারী সমাজ পুরুষ শাসিত শাসন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলিত। এহেন উন্নয়নকামী ও প্রবীণ রীতিনীতি অনুসারীদের মধ্যে দৃষ্টিভংগীর যুদ্ধ এখনো চলছে।

পক্ষান্তরে জাতিসংঘের অধীনে জাতিসংঘের অর্ন্তভূক্ত এক সদস্য দেশ হিসেবে পাকিস্তানী (বাংলাদেশী) জনগণের সমস্যা নিরসন কল্পে একক অংশীদার। এছাড়াও সম্মিলিত জাতিসংঘের বুনিয়াদী উদ্দেশ্য পূরণ করার বিষয় অঙ্গীকারাবদ্ধ। এর অধীনে জনগণের অধিকার রক্ষা, মানবাধিকার বাস্তবায়ন, ইজ্জত-সম্মান রক্ষা, তাছাড়া নারী ও পুরুষের সমঅধিকার বাস্তবায়ন করা একান্ত অপরিহার্য্য।

এ হল ঐ ধারাবাহিক কোর্সের উদ্দেশ্য। শুধুমাত্র এ শিক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়নে পাকিস্তানকে (বাংলাদেশকে) বৈদেশিক সাহায্য প্রদান করা হয়। এখানে ধর্মীয় যথসামান্য নিদর্শনাবলীর প্রতি যে সম্মান প্রদর্শন, সমাজিক লজ্জা-শরম বাকী আছে, তাও সমূলে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া। তারা এমনভাবে আলাপ-আলোচনা করে মনে হয় যেন পূর্বে মূসলমান ছিল বলেই ভুলে গেছে। আর এখন ইউ এন ও এর সদস্য হয়েছে। আল্লাহ, রাসূল, কুরআন ও সুন্নাহর প্রতিশ্রুতি পালন করা তাদের ঈমানের দাবী। আর এর বিপরীত যে কোন আদেশ পালন হল, ঈমানের পরিপন্থী। অথচ সে অতি উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে ইউ এন ও এর সদস্য হয়েছে। কিন্তু স্মরণ রাখুন, মুসলমান হওয়ার জন্য আপনার বুনিয়াদী ও প্রাথমিক সনদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন অতি বেশী জরুরী। সেটি ইউ এন ও এর সনদ নয় বরং তা হল, কুরআন ও সুন্নাহের সনদ। আল্লাহ ও রাসূলের ফরমান। যে বিধান এবং যে প্রজ্ঞাপন আল্লাহ ও রাসূলের আহকামের সাথে বিরোধপূর্ণ হবে, তা মুসলমানদের নিকট অপ্রয়োজনীয় কাগজের ঝুড়িতে নিক্ষেপ যোগ্য।

বেইজিং সম্মেলনে নির্ধারিত সরকারী প্রতিবেদনে নারী সম্পর্কিত ১২টি সমস্যা চিহ্নিত করে তাতে বর্তমান নারীদের অবস্থা তুলে ধরা হয়। নারীদের এসব সমস্যা সমাধান কল্পে সরকারী-বেসরকারী সংস্থা সমূহের পদক্ষেপের সংক্ষিপ্ত বিবরন পেশ করা হয়। (১) নারী ও দারিদ্রতা। (২) নারী ও শিক্ষা। (৩) নারী ও স্বাস্থ। (৪) নারী ও কর্মদক্ষতা। (৫) নারী ও দেশী বিদেশী মতবিরোধ। (৬) নারী ও অর্থ উপার্জন। (৭) নারী ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ। (৮) নারী ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন। (৯) নারী ও অধিকার। (১০) নারী ও পরিবেশ। (১১) নারী ও উপস্থাপনা মাধ্যম। (১২) কন্যা সন্তানের জন্মের পর থেকে বিবাহ পর্যন্ত পৃথক ব্যবস্থার (এর অধীনে পাকিস্তানে ১৯৯০ সালকে সার্ক ডিকডেটড অফ দি গোল্ড চাইল্ড বছর হিসেবে পালন করা হয়) দশ বছর ১৯৯০ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়।

এ প্রতিবেদন বেহজিং সম্মেলনে ইউ এন ও এর প্রতিনিধিদের নিকট হস্তান্তর করা হয়। আল্লাহ মাফ করুন। আমাদের সব চিন্তাভাবনা হল ইউ এন ও কে সন্তুষ্ট করা। আফসোস! যদি আল্লাহ তা'আলাকে রাজী ও সন্তুষ্ট করার জন্য এর অর্ধেক চিন্তা-ভাবনা করা হত, তাহলে নারীদের উপকৃত সকল প্রকার অন্যায় অত্যাচার নির্মূল হয়ে যেত। যদি সম্পূর্ণ নির্মূল নাও হত, তবু অন্তত এ ধরনের অপরাধ স্বল্প মাত্রায় সংঘটিত হত।

"প্রতিমাদের নিকট তোমাদের যত প্রত্যাশা আর আল্লাহ তা'আলা সম্পর্কে শত নৈরাশ্যতা, তোমরাই বল তাহলে কুফরী আর কাকে বলবে?

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00