📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 কতিপয় চাক্ষুস ঘটনা

📄 কতিপয় চাক্ষুস ঘটনা


এ হল, মন ও ব্রেণের ক্ষমতার যোগ্যতা সমূহের এক অতি নগন্য কারিশমা। পশ্চিমা বিশ্বের শ্বেতাঙ্গ জাতিসমূহ তাদের স্বীয় অনুভূতি ও অভিজ্ঞতার আলোকে কাজ করে প্রকৃতির ঐ সব জড় পদার্থীয় শক্তি সমূহকে নিয়ন্ত্রণ করে নিয়েছে। যতদিন পর্যন্ত পশ্চিমা জগতের বিজ্ঞানীগণ তাদের পরীক্ষাকেন্দ্রে বা গবেষণা সমূহে জড়পদার্থের কার্যকরী পরীক্ষা জারী রাখবে, ততদিন পর্যন্ত তাদের জড়পদার্থীয় উন্নতি ও আত্মতৃপ্তি কেউ বাঁধাগ্রস্থ করতে পারবে না। আপনি কিছুক্ষণ চিন্তা-ভাবনা করে দেখুন যে, মানুষের এ প্রতিভার পরিভ্রমণে শুধু স্বীয় পঞ্চইন্দ্রিয়ের সাহায্যে প্রায় অর্ধ পৃথিবীর জমিনকে বাস্তবিকই স্বর্গপুরীতে পরিণত করে দিয়েছে। এখনও যদি আমরা স্বীয় জ্ঞান-প্রজ্ঞাকে কাজে লাগাতে শুরু করি, যে সব বিষয় এখন পর্যন্ত আমরা কোন গুরুত্ব দেইনি, তাহলে আমরা আমাদের এ পৃথিবীকে উন্নত করে কোথায় থেকে কোথায় পৌঁছে দিতে পারতাম।

আধুনিক উন্নত বিশ্বে টেলিফোন কত প্রয়োজনীয়। তার গুরুত্ব আপনি ভালোভাবে অবগত আছেন। কিন্তু টেলিপ্যাথির উপকারীতা অভিজ্ঞতা লাভে সম্ভবতঃ এর প্রয়োজনীয়তারও অবকাশ থাকবে না। কেননা এক ব্যক্তি যে ভবিষ্যত দর্শনের ক্ষমতা রাখে, আকৃতি দেখে মনের কথা বলার ভঙ্গির দূর্গ জয় করে নিয়েছে। সে মুখ দিয়ে যা কিছু বলবে তাই হবে। অনেক লোক আজ পর্যন্ত এ কথা বিশ্বাস করে না যে, আমাদের বাহ্যিক পঞ্চইন্দ্রিয়ের মত আভ্যন্তরীন ইন্দ্রিয় ও আছে। সুতরাং আমি ঐ ধরনের লোকদের জন্য এ অধ্যায়ে এমন কতিপয় সত্য ঘটনা পেশ করছি, যাতে সত্যই তারা বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যায়। কিন্তু আমি তাদের নিকট এ আবেদনও করব যে, এ সব বিষয় সম্ভব হল কি করে? আর এ সবের কি কি উপকরণ হতে পারে। উত্তেজনাপূর্ণ শক্তির মূল্যায়ন করা আলোচনার দ্বারা সম্ভব। কোন কোন ভাষণ মানুষের দেহমনে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। ঐ শক্তির প্রকাশও হয়। যেমন, কারো সাথে লড়াই শুরু করে দেওয়া। সর্বদা উত্তোজনার কারণে যুদ্ধ সংঘটিত হয়। ভবিষ্যত দর্শনের যোগ্যতা লাভ করার জন্য উত্তেজনার অফুরন্ত শক্তির মাধ্যমে কাজ করা হয়। এ শক্তি যা স্বভাবে প্রকাশিত হয়, তাকে নিয়ন্ত্রণে বিশেষ কোন শক্তিকে নিয়োজিত করে দেওয়া হয়। লক্ষ্য রাখতে হবে, আমাদের স্বভাবের পাত্রে শুধু মাত্র দু'টি শক্তি রয়েছে। ১. কামোত্তোজনা। ২. জৈবিক চাহিদা।

এ শক্তির অতি সামান্য অংশকে কাজে লাগালে আমরা এ পৃথিবীকে স্বর্গে পরিণত করে দিতে সক্ষম। এ শক্তির কিছু অংশকে কাজে লাগিয়ে মানুষ সৃষ্টিজগতকে নিশ্চিত হাতের তালুতে নিয়ে আসতে সক্ষম হবে। তাতে অন্তরের ঘুরে বেড়ানোর স্থান ও কালের বাধ্যবাধকতা নেই, তার দ্বারা মুজিজা সাদৃশ্য কাজ করাও সম্ভব হয়।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 কতিপয় ঘটনা

📄 কতিপয় ঘটনা


পুরনো এক ঘটনা, একদিন সকালে এ্যানের পিতা ঘুম থেকে উঠার পর তাকে খুব বিমূষ মনে হয়। তার চোখের সামনে বারবার ছোট ভাইয়ের চেহারা ভেসে আসছে। তীব্রভাবে হৃদকম্পন হচ্ছিল। তার চেহারাও ফ্যাকাশে হয়ে যায়। তিনি নিজের অবস্থার উপর নিয়ন্ত্রণ করার প্রাণপণ চেষ্টা করেন। কিন্তু সকাল সাত ঘটিকা থেকে নয় ঘটিকা পর্যন্ত তার অবস্থার কোন পরিবর্তন হয়নি। তখন তিনি আবেগ-আপ্লুত হয়ে স্বীয় ছোট ভাই সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের আশ্চর্যজনক কথা বলতে শুরু করেন। অবশেষে টেলিফোনে ভাইয়ের অবস্থা ভালোভাবে জানার সিদ্ধান্ত হয়। সে আফ্রিকাতে অবস্থান করছে। সুতরাং এ্যানের পিতা কাঁপতে কাঁপতে তার বার্তা অফিসে গিয়ে পৌঁছে। আর তখনই ফেরত খামসহ তার বার্তা প্রেরণ করা হয় যে, তুমি তোমার অবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে জানাও। তোমার ব্যাপারে আমরা ভীষণ চিন্তিত। এরপর তিনি ওখান থেকে তার নিজ কর্মস্থলে যাওয়ার মনোস্থ করেন। কিন্তু কি ভেবে যেন তিনি তার ইচ্ছা পরিবর্তন করে বাড়ী ফিরে আসেন। তার স্ত্রীও ভীষণ উদ্বিগ্ন ছিল। বুঝে আসছিল না, কি হচ্ছে এসব? তার কণ্ঠনালী রূদ্ধ হওয়ার উপক্রম। এ কিছুক্ষণ পর তার কপালের মোটা রগও লাফাতে শুরু করে।

এ সময় এ্যানের মা রান্না করছিল। তার পিতাও ভীত হয়ে রান্নাঘরে গিয়ে পৌঁছে। সম্ভবতঃ তখন এগারটা বাজে। হঠাৎ চুলার উপরে থেকে পাতিল এমনিতে নিচে পড়ে যায়। আর একটি বিড়াল চিৎকার করে পলাতে শুরু করে। এ সময় এ্যানের পিতার হৃদকম্পন আরো বেড়ে যায়। সুতরাং তিনি নীরব হয়ে বিছানায় শুয়ে পড়েন। তার স্ত্রীও খানিকটা পেরেশান ও ভীত হয়ে পড়ে। ঠিক এক ঘটিকার সময় আরজেন্ট প্রেরিত বার্তায় জবাব এসে যায়। তাতে লেখা ছিল, আপনার ভাই ঠিক সাড়ে এগারটার সময় এক বাস দুর্ঘটনায় মারা গেছে। আফ্রিকার স্থানীয় সময় তখন সাড়ে এগারটা ছিল। তখন সেখানে চুলার উপর থেকে পাতিল উপুড় হয়ে পড়ে গিয়েছিল। ফ্রেক্সবার্তা পাওয়ার পর আমার বন্ধুর পিতার মন-মেজাজ স্বাভাবিক হয়ে আসে। তার মনে হয় যেন তার মাথার উপর থেকে বিরাট এক বোঝা সরে গেছে।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 চিঠি এসে গেছে, রেল দুর্ঘটনা, মৃত্যুর পয়গাম

📄 চিঠি এসে গেছে, রেল দুর্ঘটনা, মৃত্যুর পয়গাম


চিঠি এসে গেছে
জনৈক ব্যক্তি এক সময় মিয়ামিতে অবস্থান করছিল। সে তার নিজের এক ঘটনা বর্ণনা করে বলছিল, একবার সে নৈপূণ্যতা অর্জনের জন্য কোথাও যাচ্ছিল। একদিন সকালে সে জাহাজের মেসে বসে নাশতা খাচ্ছিল। তখন হঠাৎ তার মনে হয়, দীর্ঘ তিন মাস কঠিন অপেক্ষার পর আজকের দিনে তার পিতার এক চিঠি এসেছে। সে তখন তার এ মনোভাবের কথা তার আশপাশের বন্ধুদের বলে। কিন্তু তারা সকলে তার কথা শুনে হাসতে শুরু করে। যেখানে তিন মাসে কোন চিঠি আসেনি, তা এখন কি করে আসবে। কিন্তু ঐ ব্যক্তির দৃঢ় বিশ্বাস হয় যে, আজ অবশ্যই সে তার পিতার চিঠি পাবে। তার অন্তর এ সাক্ষী দিচ্ছে। অপর দিকে জাহাজের টেলিপ্রিন্টারে তার পিতার প্রেরিত চিঠি নোট করা হচ্ছে। এ সময় তো পিতার চিঠি পৌঁছে গেছে। কিন্তু যখন ঠিক এগারটা বাজে জাহাজের ডাক বাহক তাকে চিঠিটা এনে দেয়, তখন তারা সকলে বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যায়। ঐ চিঠি ঐ দিন সকালে বেতার যন্ত্রের মাধ্যমে জাহাজে পৌঁছানো হয়।

রেল দুর্ঘটনা
এক লোক তার নিজের এক ঘটনা শুনিয়েছিল। ঘটনাটি তার নিজের ভাষায় উল্লেখ করছি। সে বলেছিল, একবার আমার আত্মীয় সম্পর্কিত এক ভাই লাহোর যাচ্ছিল। আমি তাকে বিদায় জানানোর উদ্দেশ্যে তার সাথে ষ্টেশন পর্যন্ত গেলাম। মালপত্র ইত্যাদি পূর্ব নির্ধারিত কুলির সাহায্যে গাড়ীতে উঠিয়ে ও দিলাম। এ জন্য তাকে কোন সমস্যায় পড়তে হয়নি। গাড়ী ছেড়ে যাবার মাত্র কয়েক মিনিট বাকী আছে। আমরা উভয় বিভিন্ন বিষয় আলাপ আলোচনা করছিলাম। তবে সঠিক মনে নেই যে, আমি তাকে কি বিষয় জিজ্ঞেস করেছিলাম। যার জবাব চিন্তা করার জন্য সে তার অভ্যাস মত নিজের দু'চোখ বন্ধ করে নেয়। এরপর সে চোখ খেলে তার চেহারায় এক ধরনের মুচকি হাসি দেখা যায়। আমি কারণ জিজ্ঞেস করলে সে বলল, চোখ বন্ধ করা মাত্র, আমি এ গাড়ীতে ভ্রমণ করছি। গাড়ি খুব দ্রুত গতিতে চলছে। হঠাৎ সামনের দিক থেকে অপর এক গাড়ী আসল। ফলে উভয় গাড়ীর মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হল। তার এ কথা শুনে আমি হঠাৎ চমকে উঠি। তখুনি আমি তার সব মালপত্র দ্রুত গাড়ি থেকে নামিয়ে ফেলি। এটা তার নিছক ধারনা হোক না কেন। না জানি তা সত্য হয়ে যায়। আমি তার টিকেট ফেরৎ দেওয়ার ব্যবস্থা করি। ডাকে বলি, অন্য যে কোন দিন যাওয়া ভাল হবে বলে মনে হয়। পরবর্তী সময় ঐ গাড়ী চামবরের নিকটবর্তী স্থানে অপর এক গাড়ীর সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়।

মৃত্যুর পয়গাম
জনৈক ব্যক্তি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের এক দফতরে চাকুরী করত। একদিন বিকালে তাকে ভীষণ চিন্তা যুক্ত ও বিমূর্ষ দেখা যায়। জিজ্ঞেস করার পর জানা যায়, তার এক মাত্র আদুরে কন্যা একদিন পূর্বে মারা গেছে। সে বলল, তার কন্যার মৃত্যুর দিন যখন সে তার দফতরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখন তার কন্যা তোতলা মুখে তাকে বলেছিল, পাপা! আজ তুমি দফতরে যেও না। সে কন্যাকে অনেক বুঝিয়ে শুনিয়ে বলে, আমি দফতর থেকে ফিরে আসার সময় তোমার জন্য মিষ্টি নিয়ে আসব। কিন্তু সে কিছুতেই মানতে রাজী হয়নি। সে তার জেদের উপর অটল থাকে। অবশেষে সেই ভারাক্রান্ত মনে তাকে ও ভাবে রেখে সে নিজ গৃহ থেকে দফতর অভিমূখে যাত্রা করে। আর তার কন্যার সাথে ওয়াদা করে যে তাড়াতাড়ি দফতর থেকে ফিরে আসবে। কন্যা তাকে বলেছিল, তুমি যতক্ষণ ফিরে না আসবে ততক্ষণ আমি এভাবে এ খাটের উপর বসে তোমার অপেক্ষা করতে থাকব।

ঘটনাচক্রে ঐ দিন তার দফতরে দেরী হয়ে যায়। আর যখন সে বাড়ী যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাস ষ্টেশনে পৌঁছে, তখন তার এক বহু পুরনো বন্ধু তাকে ওখানে গতিরোধ করে। তাই ওখান থেকে সে সন্ধ্যা সাতটার পূর্বে কোন মতেই ছাড়া পায়নি। কিন্তু ওখানে হঠাৎ মন-মেজায হতবিহ্বল হয়ে যায়। সে ভীষণ চিন্তিত হয়ে উঠে। আদুরে কন্যার সাথে কৃত ওয়াদা স্মরণ হয়। এরপর তার মন-মেজায এতো বেশী বিগড়ে যেতে শুরু করে যে, সে ঘরে ফিরে যেতে বাধ্য হয়। সে তাড়াতাড়ি এক মোটর সাইকেল ভাড়া করে ঘরে পৌঁছে। তার স্ত্রী তাকে বল্ল! তোমার আদুরে কন্যা তো সকাল থেকে কাঁদতে কাঁদতে নিস্তেজ হয়ে গেছে। বার বার অচেতন অবস্থায় তাকে ডাকতে থাকে। ঐ ব্যক্তি তাড়াতাড়ি তার কক্ষে গিয়ে কন্যাকে দেখতে থাকে। এমন সময় কন্যা লাফ দিয়ে খাটে দাঁড়িয়ে অভিযোগের সুরে বলতে শুরু করে যে, তুমি তো অন্যান্য দিনের চেয়ে আজ অনেক দেরিতে বাড়ী ফিরেছ। আর আমি তোমার অপেক্ষা করতে করতে ক্লান্ত ও অবসন্ন হয়ে পড়েছি। সে পিতা তার কন্যাকে ঝাপটে ধরে কোলে তুলে নিয়ে বুকের মাঝে লাগাতেই কন্যা বলতে শুরু করে, পা! পা! আমি চলে যাচ্ছি। আমি আল্লাহ তা'আলার নিকট চলে যাচ্ছি। আর এ অবস্থায় তার বাহুর উপরই মেয়েটির মৃত্যু হয়। তারপর যা হওয়ার তা সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা। কিন্তু আমি এখন জানতে চাই, জড়বিজ্ঞান এসব ঘটনার ব্যাখ্যা বিশ্লেষণকে কিভাবে প্রাধান্য দেবে?

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 আধুনিক বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে আল্লাহ তা‘আলার উপর ঈমান আনার গুরুত্ব

📄 আধুনিক বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে আল্লাহ তা‘আলার উপর ঈমান আনার গুরুত্ব


বাহ্যিক গঠনের দিক থেকে মহান আল্লাহ তা'আলা কি ধরনের? আমি এই বিষয় ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করতে সম্পূর্ণ অক্ষম। মানুষের জ্ঞান ও বিবেকে যা কিছু আসে মানুষ তা বুঝতে সক্ষম হয়। কেননা আল্লাহ তা'আলার মহিমান্বিত ও অনাদী শানের সামনে মানুষের জ্ঞান বুদ্ধি কিছুই না। তাই আল্লাহ তা'আলার সত্ত্বা বা জাত সম্পর্কে মানুষ কোন কিছুই ধারনা করতে পারে না। এ কারণে কুরআন মজীদে স্বয়ং আল্লাহ তা'আলা নিজের আকার আকৃতির বর্ণনা এমনভাবে উল্লেখ করেছেন, তা কোনভাবেই মানুষের জ্ঞান বুদ্ধিতে আসছে না। এ কারণে সূরা আল ফাতহার ১০নং আয়াতে, সূরা আল ইমরানের ৩৭নং আয়াতে এবং অন্যান্য সূরার অনেক আয়াতে মানুষের হাতের মোকাবিলায় স্বীয় হাতের ধারনা দিয়েছেন। সূরা আল বাকারা ১১৫নং, আর অন্যান্য কতিপয় আয়াতে স্বীয় চেহারার ধারনা দিয়েছেন। বিভিন্ন আয়াতে سمیع বা শ্রোতা ,بصير বা দ্রষ্টার বরাতে নিজের কান ও চোখের ধারনা দিয়েছেন। অর্থাৎ মহান আল্লাহ তা'আলা মানুষকে বুঝানোর উদ্দেশ্যে নিজেই নিজের ঐ সব আকার আকৃতি পেশ করেছেন। তা মানুষের জ্ঞান বুদ্ধি বুঝতে সম্পূর্ণ অক্ষম। বাস্তবে মহান আল্লাহ তা'আলা এসব আকার-আকৃতি থেকে সম্পূর্ণ পাক ও বেপরোয়া। অনুরূপভাবে মহান আল্লাহ তা'আলা মানুষকে বুঝানো উদ্দেশ্যে কুরআন মজীদে অনেক বিষয়ের উদাহরণ পেশ করেছেন। অনুরূপভাবে উপরে বর্ণনা করা হয়েছে, আল্লাহ তা'আলার উচ্চতা হয়ত বা আসমান সমূহের উপর বাহ্যিক বিদ্যমানতার বৈপরিত্যকে যদি এমন এক উদাহরণের দ্বারা পেশ করা হয়, তা মানুষের জ্ঞান বিবেকে ধরে, তবে তা ভুল হবে না।

যে ব্যক্তি বিজ্ঞানের ফিল্ড থিউরিকে (Field Theory) বুঝতে পারে, সে জানে, যদি দুটি স্থানে ধারাবাহিক ফিল্ড কম বা বেশী হয়, তাহলে ফিল্ডে অবস্থিত ব্যক্তি তার দ্বারা প্রভাবান্বিত হয়ে আলোড়ন যোগ্য হয়। উক্ত দু'স্থানের উপর ফিল্ডের প্রভাব কম-বেশীর কারণে এক স্থান থেকে অন্য স্থান নড়াচড়া করে থাকে। যদিও এ ফিল্ড উভয় স্থানে বিদ্যমান হয়। কিন্তু এ স্থানান্তরের কারণে অবস্থা এরূপ মনে হয় যেমন, ঐ স্থানান্তরযোগ্য বস্তু এক স্থানে ফিল্ডের উপস্থিতি সত্ত্বেও স্বীয় উদ্দেশ্য সাধন করতে পারে না। আর তখন সে অন্যস্থান এ উদ্দেশ্য মনে করে অন্য স্থানের দিকে ধাবিত হতে শুরু করে। এ সাধারণ উদাহরণের পর এর এক বিশেষ উদাহরণ পেশ করা হচ্ছে।

যদি দুটি স্থানে ইতিবাচক ফিল্ড এভাবে হয় যে, এক স্থানের উপর ফিল্ডের কঠোরতা অন্য স্থানের কঠোরতা থেকে অনেক বেশী হল। আর ঐ ফিল্ডে অবস্থিত এক ইলেক্ট্রন (Electron) যার উপর নৈতিবাচক চার্জ হয়, তা প্রবেশ করিয়ে দেওয়া হল। তখন এভাবে নড়াচড়া করতে শুরু করে। যেভাবে ইতিবাচক চার্জ বেশী হবে। যদিও উভয় স্থানে ইতিবাচক চার্জ বিদ্যমান। কিন্তু ফিল্ডের হ্রাস বৃদ্ধি ইলেক্ট্রনের নড়াচড়ার কারণ হয়। অনুরূপভাবে যদিও আল্লাহ তা'আলা সর্বদা বিদ্যমান। কিন্তু উপরে বর্ণিত কুরআনের আয়াত অনুযায়ী আল্লাহ তা'আলার আহকাম ও তদবীরসমূহ আসমান থেকে জমিনের দিকে হয়। আর মানুষের পবিত্র বাক্য ও নেক আমল সমূহের জমিন থেকে আসমানের প্রতি আরোহন করে। উক্ত আয়াতসমূহের মাধ্যমে সম্ভবতঃ আল্লাহ তা'আলার উদ্দেশ্য হল, আল্লাহ তা'আলা সর্বত্র বিদ্যমান হওয়া সত্ত্বেও যদি কোন ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার নৈকট্য লাভ ও স্থায়ী নেক আমল কবুলিয়্যাত বা গ্রহণযোগ্যতা চায়, তাই তাকে অবশ্যই আসমানের প্রতি মুখাপেক্ষি হতে হয়।

মানুষ কি? তা রূহ ও দেহের সমষ্টিমাত্র। দেহ ক্ষণস্থায়ী ধ্বংসশীল। কিন্তু রূহ চিরস্থায়ী অক্ষয়। রূহ হল আসল বস্তু। তা দেহকে দাঁড় করিয়ে রাখে। আর যখন রূহ দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তখনই দেহ বেকার হয়ে যায়। তা মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়। মাটির দেহ পুনরায় মাটিতে মিলিয়ে যায়। মানুষের মৃত্যুর পরও রূহ সর্বদা স্থায়ী ও কায়েম থাকে। মৃত্যুর পর মানুষকে স্বীয় কমরুল অনুযায়ী পুরস্কার ও শাস্তিদান করেন। আল্লাহ তা'আলা চাই রূহকে পুরস্কার বা শাস্তি দান করুন অথবা এ রূহকে দ্বিতীয়বার দেহ দান করে পুরস্কার বা শাস্তি দান করুন, সবই তার ইচ্ছার উপর নির্ভর। বাস্তবতা যা কিছুই হোক না কেন। উভয় অবস্থায় নিশ্চিত রুহ বিদ্যমান হবে। এ কারণে পুরস্কার ও শাস্তি প্রদানের বিষয় বুঝার জন্য এ বিষয় শুধু রূহের বরাত দিয়ে বর্ণনা করা হলে তা ভুল হবে না। এখন দেখুন, আল্লাহ তা'আলার শাস্তি থেকে মুক্তি লাভের জন্য আল্লাহ তা'আলা কি কি পদ্ধতি বর্ণনা করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় আল্লাহ তা'আলার উপর ঈমান আনা, আর এর সাথে সাথে তাঁকে এ দুনিয়া থেকে দূরবর্তী আসমান সমূহে ধারনা করা কত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

যখন কোন মানুষ আল্লাহ তা'আলার প্রতি মনোযোগী হয়ে, তার নৈকট্য লাভের আশা পোষণ করে, মূলতঃ তার রূহ মহান আল্লাহ তা'আলার দিকে মনোেযাগী হয়। দেহ তো শুধু রূহের কামনা-বাসনা অনুযায়ী কাজ করে। আর যদি কোন মানুষ আল্লাহ তা'আলা থেকে দূর হয়ে যায়, তখন মূলতঃ তার রূহ আল্লাহ তা'আলা থেকে দূর হয়ে যায়। কুফর হল, আল্লাহ তা'আলার বিদ্যমান হওয়ার অস্বীকৃতি। তাই নিশ্চিত কুফরকারীর রূহের উদ্দেশ্য আল্লাহ তা'আলা হন না। যেমন, পূর্বে সালোচনা করা হয়েছে। আল্লাহ তা'আলা তাঁর নিজের জন্য এ পৃথিবী থেকে দূরবর্তী আসমান সমূহে প্রতি ধারনা দিয়ে বর্ণনা করেছেন, আল্লাহ তা'আলা থেকে দূর হওয়া এ দুনিয়ার নিকটবর্তী হওয়ার সম্পূর্ণ বিপরীত। অর্থাৎ কুফর কারীর রূহ না শুধু তার জীবদ্দশায় আল্লাহ তা'আলার প্রতি অমনোযোগী থাকবে বরং তার মৃত্যুর পরও এদের রূহ আল্লাহ তা'আলা থেকে দূরে অর্থাৎ এ দুনিয়াতে বিদ্যমান থেকে যাবে। শিরক যদিও আল্লাহ তা'আলার সত্ত্বার অস্বীকৃতি নয়, কিন্তু নিশ্চিত তার সিফাত বা গুণাবলীকে অস্বীকার করা হয়। শিরক কারী ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত অন্য কোন সৃষ্টি জীবকেই আল্লাহ তা'আলার সমান মর্যাদা দান করে। চাই পাথর পূজার মাধ্যমে এ শিরক করা হোক। অথবা অন্য কোন সৃষ্টিজীবের প্রতি আল্লাহ তা'আলার সিফাত উপাস্য রূপে মান্য করার কারণেই হোক। অনুরূপভাবে মুশরিকের সৃষ্টিজীবের প্রতি উপাস্য মনে করে নিকটবর্তী হওয়া। আর আল্লাহ তা'আলাকে দূরে রেখে দেয়া। আর তার পরিণতিও কুফর কারীর মতই হবে আর্থাৎ তার রূহও আল্লাহ তা'আলা থেকে দূরে এ দুনিয়ার নিকটেই থেকে যাবে। যে ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার জাত ও সিফতের উপর নিশ্চিত দৃঢ় বিশ্বাসী হয়, সে স্বীয় রূহকে আল্লাহ তা'আলার প্রতি মনোযোগী রাখে। তার জীবনের নেক কাজসমূহ পবিত্র কালেমা (ঈমানের কালেমা) কে কুরআন মজীদের সূরা আল্ ফাতিরের ১০ম আয়াতের আলোকে আল্লাহ তা'আলার নিকট আসমান সমূহে পাঠানো হয়। তাই তার মৃত্যুর পর তার রূহ ও এ দুনিয়া থেকে দূর হয়ে তার নেক আমল পরিমান আল্লাহ তা'আলার নিকটবর্তী হয়ে যাবে। অর্থাৎ মুমিনের রূহের আল্লাহ তা'আলার নৈকট্য লাভ করা শুধু পবিত্র বাক্য (কালেমা তাইয়্যেবা) এর শর্তাধীন নয় বরং আল্লাহ তা'আলার নৈকট্য লাভের আমলও সমান হবে না।

যে পরিমাণ নেক আমল হবে, ঠিক সে পরিমাণ আল্লাহ তা'আলার নৈকট্য লাভ করবে। আর দুনিয়া থেকে ঐ পরিমাণ দূরবর্তী হয়ে যাবে। যেমন শুরুতে বর্ণনা করা হয়েছে যে, কিয়ামতের দিন এরূপ হবে, তখন জমিন তার নির্ধারিত স্থানচ্যুত হয়ে সূর্যের মধ্যে প্রবিষ্ট হয়ে যাবে। আর তখন এভাবে শুধু জমিন নয় বরং ঐ সব বস্তু যা এ জমিনে বিদ্যমান ছিল বা তার নিকটবর্তী ছিল সবই এই জমিনের সাথে সাথে সূর্যের মধ্যে প্রবিষ্ট হয়ে যাবে। আর তাকে কিয়ামতের শাস্তি ভোগ করতে হবে। যে সকল রূহ আল্লাহ তা'আলা থেকে দূর হয়ে জমিনের নিকটবর্তী থেকে যাবে, তার এ জমিনের সাথে সাথে সূর্যের মধ্যে ডুকে যাবে। তখন সেখানে কোন ছায়া হবে না। আর কিয়ামতের পুরা দিন অর্থাৎ যতক্ষণ সূর্যের তেজ বাকী থাকবে। আর ঐ মুহূর্তে কোটি কোটি বছরের সমান গণ্য হবে, তারা শাস্তি ভোগ করতে থাকবে।

কিন্তু যে সমস্ত রূহ জমিন থেকে দূর হয়ে আল্লাহ তা'আলার নিকটবর্তী হয়ে যাবে, তারা জমিন থেকে স্ব স্ব দূরত্ব অনুযায়ী সূর্য থেকে দূরে থেকে যাবে। এ হিসেবে তাদের শাস্তিও কম ভোগ করতে হবে। আর যে সব রূহ আল্লাহ তা'আলার বেশী নৈকট্য লাভ করবে, তারা কিয়ামতের দিনের আযাব থেকে সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকবে। আল্লাহ তা'আলা মানুষের অসীম ও অপুরন্ত কল্যাণকামী। তিনি চান, মানুষ প্রাকৃতিক বিধান অনুযায়ী শাস্তি ভোগ করুক। এ কারণে তিনি শাস্তি থেকে নিরাপদ থাকার উপায়ও বর্ণনা করে দিয়েছেন। স্থায়ী পুরস্কার ও শাস্তি, জান্নাত বা জাহান্নামে প্রবেশ তো কিয়ামতের পরে হবে। এর পূর্বে কিয়ামতের আযাব উপস্থিত হবে। যে ব্যক্তি কিয়ামতের দিন সফলকাম হবে, সে নিশ্চিত জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যে বদনসীব ধরা পড়বে, কিয়ামতের দিনে ব্যর্থ হবে, সে দোযখের আযাব ভোগ করবে। এ কারণে প্রকৃত সফলতা ও ব্যর্থতা কিয়ামতের দিনে মীমাংসা হয়ে যাবে।

উপরোল্লিখিত ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ অনুযায়ী কাফির ও মুশরিক আল্লাহ তা'আলা থেকে দূরে ও দুনিয়ার নিকটবর্তী হওয়ার কারণে অবশ্যই কিয়ামতের আযাব ও এর পরে স্থায়ী আযাব ভোগ করবে। তাদের সৎকর্ম ও পবিত্র কালেমার (ঈমানের কালেমা) অনুপস্থিতিতে তারা আল্লাহ তা'আলার নৈকট্য লাভ করতে পারবে না। এ কারণে যদি কোন ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার উপর ঈমান আনা ব্যতীত সারা জীবন সৎকর্ম করে। তাই এ সৎকর্মও ঐ ব্যক্তিকে আল্লাহ তা'আলা থেকে দূরত্ব ও জমিনের নৈকট্যের কারণে তাকে কিয়ামতের আযাব থেকে নিরাপদ করতে পারবে না।

এ ব্যাপারে মহান আল্লাহ তা'আলা মানুষের সাথে কোন প্রকার বাড়াবাড়ী করবেন না বরং এ সবই এক কানুনের অধীনে হবে। এ কারণে মহান আল্লাহ তা'আলা তাঁর স্বীয় সত্ত্বার উপর ঈমান আনা ও জমিন থেকে দূর আসমানের প্রতি নিজের উপস্থিতির ধারনা দিয়ে নিজের নিকটবর্তী হওয়ার আহ্বান করেছেন। যাতে মানুষ এ পৃথিবী থেকে দূর হয়ে কিয়ামতের দিনের আযাব থেকে মুক্তি লাভ করতে পারে। এ হল, মহান আল্লাহ তা'আলার অনুগ্রহ। যেহেতু তিনি তাঁর আযাব থেকে মুক্তি লাভের উপায় বর্ণনা করে দিয়েছেন, এখন যদি কোন ব্যক্তি এর উপর আমল না করে, তাহলে তা হবে তার নিজের অপরাধ। উপরোল্লিখিত ব্যাখ্যায় প্রমাণ হয়েছে যে, কিয়ামত ও কিয়ামত পরবর্তী আযাব থেকে মুক্তি লাভ এবং স্বীয় সৎকর্মের প্রতিদান লাভ করার জন্য একমাত্র আল্লাহ তা'আলার উপর ঈমান আনার বুনিয়াদী গুরুত্ব লাভ করেছে। সাথে সাথে মহান আল্লাহ তা'আলা তাঁর উপর ঈমান আনয়ণকারীদের আরও জানিয়ে দিয়েছেন, ঈমানের সাথে সাথে সৎকর্মও ভীষণ জরুরী। যা তার রূহকে এ দুনিয়া থেকে দূর করে আল্লাহ তা'আলার নিকট নিয়ে যাবে। আল্লাহ তা'আলার উপর ঈমান আনার জোর তাকিদ কেন করেছেন, তাও প্রমাণ হয়ে গেছে। অর্থ-সম্পদ ও আরম-আয়েশের উপকরণ সমূহ বৈধ পন্থায় লাভ করা সত্ত্বেও এটাকে অপছন্দনীয় ঘোষণা করা হল কেন? নিজের কষ্টার্জিত অর্থ-সম্পদ অন্যের জন্য খরচ করার প্রতি গুরুত্বারোপ করা হল কেন? আর সর্বদা মৃত্যুকে স্মরণ করা এবং মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করার উপর জোর তাকিদ করা হল কেন? মানুষকে দুনিয়া বিমুখী করার জন্য এসব বিষয় আদেশ করা হয়েছে। তৎসঙ্গে আত্মার সাথে সম্পর্ক স্থাপন করা, আর দুনিয়ার প্রতি মহব্বত না রাখা। তাহলে মৃত্যুর পর দুনিয়ার সাথে তার রূহের কোন সম্পর্ক থাকবে না। আর সে স্বীয় সৎ কর্মানুযায়ী এই পৃথিবী থেকে দূর ও আল্লাহ তা'আলার নৈকট্য লাভ করবে অনুরূপভাবে আল্লাহ তা'আলা সকল প্রকার খারাপ কাজ যেমন গর্ব-অহংকার, মিথ্যা বলা প্রতারণা করা, অবৈধ প্রন্থায় অর্থ-সম্পদ লাভ করা, অত্যাচার ও ন্যায় বিচার না করা, প্রভৃতি কাজ করতে নিষেধ করেছেন। কেননা এসব কিছু কোন না কোন প্রার্থিব উপকার লাভ ও দুনিয়ার মহব্বত ও মোহ। ঈমান আনা সত্ত্বেও মানুষের রূহকে দুনিয়া থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যেতে পারে না। অনুরূপভাবে কিয়ামত দিনের আযাব থেকে মুক্তি লাভ করা তার জন্য কঠিন হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00