📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 এলহাম অদৃশ্য আওয়াজ

📄 এলহাম অদৃশ্য আওয়াজ


এক অতি উত্তম সৌন্দর্য মণ্ডিত যোগ্যতার নাম এলহাম। প্রত্যেক লোকের এলহাম হয় না। এ বৈশিষ্ট্য শুধু পয়গাম্বরগণ ও মনোনীত ব্যক্তিদের লাভ হয়। তাদের মধ্যে সর্বদা এলহাম হতে থাকে। মহান আল্লাহ তা'আলার সাথে সম্পর্ক স্থান করার জন্য এটি অতি উত্তম মাধ্যম। এলহাম ও অদৃশ্য আওয়াজের কাঁচুলি আঁচলের সাথে মিলিত। এখন আসুন! ভবিষ্যত দর্শনের ঐ পদ্ধতি সমূহ বুঝার চেষ্টা করি, যা বিশেষজ্ঞগণ তাদের শীষ্যদের জন্য নির্ধারণ করেছেন। তাতে মোম বাতি দেখা, নিজেকে দেখা, পাত্র দেখা ও আয়না দেখা প্রভৃতির সাধারণ প্রচলন রয়েছে। পালিশ করা নখের প্রতি সূক্ষ্মদৃষ্টি নিবন্ধ করা, আর পাত্রে পানি নিয়ে তা মনযোগসহকারে দেখাও ভবিষ্যত দর্শনের যোগ্যতা লাভের উদ্দেশ্য মনে করা হয়। এসব পদ্ধতির সাথে বিনা মনোযোগে দূরবর্তী ঘটনাবলী প্রত্যক্ষ করা যেতে পারে। দীর্ঘ সময় ধ্যান-তন্ময়তার থাকার পর কানের পর্দায় নানা অজ্ঞাত শব্দ ভেসে আসে, একে গাইবী আওয়াজ বলা হয়। কেউ কেউ একে শয়তানের আওয়াজ বলে। যা আইনতঃ ভ্রান্ত। সেটি ভিন্ন বিষয়। এর সাথে ভবিষ্যত দর্শনের সাথে কোন সম্পর্ক নেই।

এলহামের পরিধি সৃষ্টিজগতের প্রশস্ততা থেকে অনেক বেশী। সুতরাং একত্ব, উপস্থিতির মর্যাদাও এর অন্তর্ভূক্ত রয়েছে। যে ব্যক্তি নিরবচ্ছিন্ন ধ্যান, শ্রম-সাধনা ও অনুশীলনের পর কোন প্রকার এলহামের মর্যাদায় পৌছে যায়, সে তখন এমন এমন সৌন্দর্য্যের অধিকারী হয়ে যায় যে, সাধারণ লোক তা দেখে সীমাহীন হতবাক। এ ধরনের সৌন্দর্য্য ধারাবাহিক অনুশীলনের পর আপনার মধ্যেও সৃষ্টি হতে পারে। কিন্তু ওটাকে আমরা এলহাম বলি না। উদাহরণস্বরূপ মনে করুন, কোন লোকের মধ্যে কোন বিষয় আলোচনা চলছে। আপনি নিজেও ঐ আলোচনায় জড়িত হয়েছেন। আর একান্ত নীরবতা ও মনোযোগের সাথে সকলের আলোচনা শুনছেন। অল্পকিছুক্ষণ পর আপনি নিজের উপর ধ্যান-তন্ময়তা অবতারিত করে নিয়েছেন। তারপর কথা বলতে শুরু করেছেন। তখন শ্রোতাগণ বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যায়। আপনার মুখ থেকে উচ্চারিত প্রতিটি শব্দ সত্য ও সঠিক হয়। আপনার কোন কথা মিথ্যে বা ভুল হয় না। যদি আপনি একাগ্রচিত্তে অনুশীলন করেন, তাহলে এই বৈশিষ্ট্য আপনার মধ্যেও সৃষ্টি হয়ে যাবে। এ কথা প্রায় সকলেই জানেন যে, সমস্ত পয়গম্বর ও মনোনীত বরেণ্য ব্যক্তিগণও দীর্ঘ সময় বিজন স্থানে পাহাড়ের গুহায় নির্জনে একাকী নিরবচ্ছিন্ন ধ্যান সাধনা করেছেন। তারা কোন স্তরে পৌঁছার পর এলহাম লাভের মর্যাদায় উপনীত হয়েছেন। আর ঐ স্তরে পৌঁছার পরই তাদের স্বভাব বহিঃর্ভূত শক্তির বিকাশ ঘটে। সাথে সম্পর্ক স্থাপিত ও অদৃশ্য আওয়াজ শোনার সুযোগ লাভ হয়েছে।

এখন আসুন আমরা জেনে নেই, এ এলহামী অবস্থা কখন অবতারিত হয়? বস্তুতঃ যখন একাগ্রমনে প্রসিদ্ধ কোন ইতিবাচক ধ্যানে তন্ময় হয়ে হয়, তখন ব্রেণে কেন্দ্রীয় আবর্তিত অংশে এক ধরনের জ্যা সৃষ্টি হয়। আর জ্যা ব্রেণের শ্লৈষ্মিক রগে (পিছোড়ি গ্ল্যান্ডে) আলোড়ন সৃষ্টি হয়ে যায়। আর আমলকারীর উপর ধ্যান-তনায়তার অবস্থা প্রভাবান্বিত হয়। শ্লৈষ্মিক রগের কাজ অতি দ্রুত হয়ে যায়। আলোকরশ্মি বের হওয়ার শক্তিও দ্রুত বৃদ্ধি লাভ করে। তারপর বিশেষ এক স্তরে পৌঁছার পর ব্রেণের অপর এক গ্যলণ্ড (ফি শেল গ্যালন্ড) ও স্বীয় কাজ শুরু করে দেয়।

বিশেষজ্ঞগণ এ দ্বিতীয় গ্যালণ্ডকে "গিদ্দাহ সানবীর" নামে অভিহিত করেছেন। এরূপ অনুভূতি শীর্ষ কেন্দ্র। এ সবের পরিচিত লাভের ফলে ঐ বিশেষ রশিাসমূহ প্রকাশ হয়, তা অনেক ব্যবধান ও দূরবর্তী স্থান ও কালের বন্ধন থেকে মুক্ত হয়। আর এটাকে অনন্ত ও অসীম বলা হয়। যখন ঐ বিশেষ আলোকরশ্মিসমূহ আলোড়িত হয়, তখন অন্তর্দৃষ্টির সামনে ঐ সব দৃশ্য আনাগোনা করতে শুরু করে। এ সম্পর্কে আপনার অনুভূতি কিছু জানতে ইচ্ছুক হয়। প্রথম প্রথম এ প্রতিচ্ছবিগুলো অস্পষ্ট ও ধাঁধার মত দৃষ্টিগোচর হয়। এ গুলোর আকৃতি ধারন করে প্রকাশ হওয়ার সময় ভয়ভীতি অবতারিত হয়। তখন দেহ কাঁপতে শুরু করে। শিরাউপশিরায় রক্ত দ্রুত চলতে শুরু করে। কোন কোন সময় ধ্যানমগ্ন অবস্থায় এরূপ মনে হয়, যেন আমরা আমাদের দৈহিক বাঁধা বন্ধ থেকে মুক্ত হয়ে দিগন্ত বিস্তৃিত উন্মুক্ত মাঠে বিচরণ করছি। তা মুলতঃ পদার্থীয় দেহের রশ্মি। কেননা তা আমাদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। এ কারণে এরূপ মনে হয়, যেন আমি নিজে প্রশস্ত খোলা মাঠে ঘুরে বেড়াচ্ছি।

এ অবস্থার সাথে সাথে তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের কানে এক ধরনের আওয়াজ আসতে শুরু করে। মনে হয় যেন বাতাস সোঁ সোঁ করছে। এ আওয়াজ তীব্র হয়ে বাশি বাজাচ্ছে। তারপর এরূপ মনে হয়, যেন নিকটে কোথায়ও শিলা পড়ছে। এরপর এ আওয়াজ এত বেশী গর্জনশীল হয়ে যাচ্ছে যে, তাতে শ্রবণশক্তি নষ্ট হওয়ার উপক্রম। তারপর অনেক অনেক ভয়ালদৃশ্য চোখের সামনে ভেসে আসছে, অদ্ভূত বিস্ময়কর শব্দ শোনা যাচ্ছে। আর এ সবই হল শোনা ও দেখার ধোঁকা। এ কারণে তা দেখে আমাদের ভীত হওয়া উচিত হবে না। তা থেকে বাঁচার জন্য আমরা যদি নিজেদের চারপাশে বৃত্ত অংকন করে নেই, তাহলে এ ধরনের ভয়ভীতি থেকে নিরাপদ থাকব। এর নিয়ম হল, আপনি আপনার চার পাশে মধ্যমা আঙ্গুলি দিয়ে এক বিরাট বৃত্ত এঁকে নিন। আর নিজের চার পাশে ঐ বৃত্তের চার কোনে চার খণ্ড কংকর রেখে দিন। এ হল আপনার নিরাপত্তা লাভের বৃত্ত। আর তখন আপনার অনুমতি ব্যতীত কেউ এ বৃত্তের মধ্যে প্রবেশ করতে পারবে না।

আরও বলে দিচ্ছি, এ নিরাপত্তাবলয় অংকন খাঁটি পাশ্চাত্য রীতি অনুযায়ী হতে হবে। প্রাচ্য দেশীয় বিশেষজ্ঞগণের নিকট এ নিরাপত্তাবলয়ের কোন গুরুত্ব নেই বরং তারা তাদের শীষ্যদের সর্বদা ভয়ভীতি মুক্ত হয়ে দৃঢ় মনোবলের সাথে কাজ করে এ ধরনের সন্দেহ থেকে বাঁচার' পদ্ধতি শিক্ষা দেন। আমাদের মতে অস্বাভাবিক শক্তিকে আয়ত্ব করার জন্য শুধু এক পদ্ধতি রয়েছে। তা হল, একান্ত ধৈর্য্য ও দৃঢ়তার সাথে এসব অবস্থা প্রত্যক্ষ করতে থাকা।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 সত্য স্বপ্ন

📄 সত্য স্বপ্ন


এখানে সত্য স্বপ্নসমূহের কিছু ব্যাখ্য-বিশ্লেষণ করা অতি জরুরী ও যুক্তি সংগত। মূলতঃ সত্য স্বপ্ন এলহাম, কাশফ, দ্বৈব প্রাপ্তির অন্তর্ভূক্ত। জাগ্রত অবস্থায় উক্ত তিন আকৃতি আমাদের সামনে আসে। কিন্তু ঘুমের মধ্যে আমাদের উপর এ ধরনের যে অবস্থা অবতারিত হয়, ওটাকে সত্য স্বপ্ন বলা হয়। প্রশ্ন হতে পারে, সত্য স্বপ্ন ও সাধারণ আবেগ প্রবন স্বপ্নগুলোর মধ্যে পার্থক্য করব কিভাবে? এর জবাবের জন্য আমাদেরকে ব্রেণের কতিপয় স্তর বা কোষ সম্পর্কে আলোচনা করতে হবে। যখন অবচেতনতার ঘর থেকে আবেগের ময়লাসমূহ বের হয়ে যায়, তখন তা ভিন্নরূপে অনুভূতির শীর্ষে আরোহন করার চেষ্টা করে। ঘুমানোর সময় অনুভূতির ক্রিয়াকর্ম নড়বড়ে হয়ে যায়। তখন মানুষ স্বীয় অচেতনতা সঠিকভাবে অনুমান করতে পারে না। কিন্তু এ সময় অচেতনতা ও চেতনতার মাঝে তৃতীয় আরেক শক্তি ও তার নিজ কাজ শুরু করে দেয়। ওটাকে প্রস্তুতি বা (স্যানসর পাওয়ার) বলা হয়। আমাদের অচেতনতার স্মৃতিচারণ এরূপ হয়। তাকে অনুভূতির অতিক্রম করার অনুমতি দেয় না।

সুতরাং তখন সে ভিন্নরূপে অনুভূতির শীর্ষে এসে যায়। আমাদের যেসব স্বপ্ন আবেগ প্রবণ শ্রেণীর হয়, ঐ সব স্বপ্নেরও একই অবস্থা। আমি তা পূর্বে আলোচনা করেছি অর্থাৎ কুদরতি সকল প্রকার সততায় অনাড়ম্বরতা বিদ্যমান। যেভাবে আমাদের সহজ সরল স্বপ্ন স্বাভাবিক বোধগম্য হয়, অনুরূপভাবে সত্য স্বপ্ন সকল প্রকার জটিলতা ও কঠোরতা মুক্ত হয়। আর তাতে কামোত্তোজনাপূর্ণ কারিশমার প্রতিফলন হয় না। তা শুধু একক এক দৃশ্য স্বরূপে আমাদের সামনে আসে। আর স্বীয় উদ্দেশ্য সাধন করার পর প্রবাহমান স্মৃতির ভাণ্ডারে হারিয়ে যায়। সত্য স্বপ্নে এক ধরনের মজাদার স্বাদ উপভোগ করা যায়। তা আমাদের অঙ্গ-প্রত্যংঙ্গের উপর শিরা উপশিরার মধ্যে প্রতিফলিত হয় না বরং তা এক ধরনের হালকা-পাতলা আবরণ যুক্ত হয়। কখনো আমাদের কামোত্তেজনা সূক্ষ্ম আকৃতিতে প্রকাশ হয় না, যেভাবে আমাদের ক্রোধ ও উত্তোজনাপূর্ণ অবস্থায় তার বহিঃপ্রকাশ লাল অংগারের মত হয়। অনুরূপভাবে কামোত্তেজনা ঘুমন্ত অবস্থায় সর্বদা ভয়ানক আকৃতিতে প্রকাশ হতে থাকে। সত্য স্বপ্ন দেখা অবস্থায় আমাদের অন্তর অস্বাভাবিক প্রশান্ত ও নীরব হয়ে যায়। আর অদৃশ্য আওয়াজের মাধ্যমে তখন আমাদেরকে জানিয়ে দেওয়া হয়, এ স্বপ্ন সত্য।

আপনি যখনই ভবিষ্যত দর্শনের অনুশীলন শুরু করবেন, তখন আপনার নিজের মধ্যে ক্রমান্বয়ে এমনিতেই এ যোগ্যতা সৃষ্টি হয়ে যাবে। আর তখন সত্য স্বপ্ন ও সাধারণ স্বপ্নের মধ্যে সহজেই পার্থক্য নিরূপণ করতে পারবেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00