📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 ৩. রূপক বাকপটুতা ৪. সচেতনতার বিন্যাস

📄 ৩. রূপক বাকপটুতা ৪. সচেতনতার বিন্যাস


৩. রূপক বাকপটুতা : এ ধরনের স্বপ্ন সমূহে অচেতনতার দলিত উৎসাহ রূপক কামনা বাসনা সমূহ প্রেথিত স্মৃতি চারণ ও অক্ষম আকাঙ্খা সমূহের রূপক বাকপটুতা ধারন করে গভীর প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে। এ স্বপ্ন অনেক গুরুত্ববহ ও চিত্রধারক হয়। যদি এ সম্পর্কে একটু মনোযোগের সাথে দ্বৈত্যের অস্তিত্ব সহজে পরিচালনা করা যায়।

৪. অচেতনতার বিন্যাস : এ স্বপ্ন অতিসহজ সরল অর্থবহ ও উত্তম হয়। আর তা অচেতনতায় লুকায়িত বোধগম্য বিষয়কে এভাবে অনুভূতির সামনে নিয়ে আসে, যাতে তা বুঝতে অযথা সময়ক্ষেপণ না হয়। এ ধরনের স্বপ্ন দেখার কারণে নির্দয়তার পর ব্রেণে কোন কষ্ট অনুভূত হয় না বরং উৎসাহ কিছু সুস্বাদু হয়ে যায়। আর মানুষ তা অতিদ্রুত ভুলে যায়। আপনি যে স্বপ্নই দেখুন, তা স্মরণ রাখার চেষ্টা করুন। অবশ্যই যে কোন স্বপ্নে কিছু না কিছু নাটকীয় প্রতিক্রিয়া থাকে। যে স্বপ্নে যত বেশী নাটকীয়তা পাওয়া যাবে, অবশ্যই তা মনে ঐ পরিমাণ গভীরতা ও দীর্ঘ চিত্র রেখে যাবে। বর্তমানে আমেরিকার খ্যাতনামা স্বপ্ন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার গার্ডনর মারফী স্বপ্নের বিষয়বস্তুর উপর জ্ঞান-গর্ব ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণে নিয়োজিত আছেন। তার মতে সব ধরনের স্বপ্নের বাঁকে সাধারণ স্বভাবজাত বা পাশবিক রীতি নীতি ও মূল বিষয়বস্তুর শক্তি অবশ্য কার্যকরী হয়। সব স্বপ্নের একই কারণ ও উদ্দেশ্য হয়। চাই আপনি ঐ স্বপ্নকে যে কোন স্তরেই রাখুন না কেন। প্রবৃত্তিগত ও দৈহিক আলোড়ন সমূহ আমাদের সামগ্রীক স্বপ্নের কারণ হয়। কোন কোন সময় হজমের দুর্বলতার কারণে অদ্ভূত ও বিস্ময়কর স্বপ্ন দেখতে পায়। যদি আপনি মানসিক দিক থেকে প্রশান্তও প্রফুল্ল হন, তাহলে সম্ভবতঃ আপনি কোন স্বপ্ন দেখবেন না। আর যদি স্বপ্ন দেখেনও তথাপি তা অতি মনোরম স্বপ্ন হবে।

অনেক স্বপ্ন প্রাচীনতম পরিভাষায় কাশফ ও ইলহাম নামে অভিহিত হয়। আমরা আধুনিক পরিভাষায় সেগুলোকে অনুভূতি, অস্বাভাবিক ইন্দ্রিয় অনুভূতি বলি। স্বপ্নের ব্যাপারে এ সূক্ষ্ম মনে কল্পিত থাকে যে, জটিল স্বপ্ন অবচেতনতার অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়। আমরা সবাই ঐ সময় যে ধরনের সমাজ সভ্যতায় বসবাস করি। তার পরিণতি এই হয় যে, আমরা স্বীয় অন্তরে কথা গোপন করে রাখি। আর তা সচরাচর প্রকাশ করি না। উদাহরণতঃ মনে করুন, আপনি কোন মহিলাকে দেখছেন, সে মহিলাকে আপনার খুবই পছন্দ হয়েছে। কিন্তু চারিত্রিক প্রহরী আপনার জীবনকে বাঁধা দিয়ে রেখেছে। আপনি তার গুণাবলী ও প্রশংসায় এক শব্দও উচ্চারণ করতে পারছেন না। অথচ আপনার অন্তরে এ কামনা আছে। আর তার পরিণতি প্রকাশ হয়ে আছে। আমাদের এ অসমাপ্ত বাসনাসমূহ অনুভূতির অধীনস্থ গুদামে পৌছে যায়।

আমাদের বর্তমান সামাজিক সংস্কৃতি আমাদেরকে অন্য ব্যক্তির সাথে মিথ্যা আচরণে বাধ্য করছে। তাই তাকে মিথ্যা সান্ত্বনা দান করছি। নিজের কামনা-বাসনাকে অন্যের কামনা বাসনার জন্য উৎসর্গ করছি। বর্তমানে কেউ কেউ অর্থ-সম্পদের মোহে নেশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছে। কেউ এক জাতীয়তাবাদের শিকার। কেউ শক্তির দাপটে ভীত সন্ত্রস্ত। কেউ দুর্বলতা থেকে বেপরোয়া হয়ে আছে। অবশেষে এ সব কিছু কোথায় চলে যায়, তা আমাদের অজানা। এ সব কিছু অনুভূতির ছাদ থেকে সাময়িকভাবে একসময় অদৃশ্য হয়ে যায়। কিন্তু চিরদিনের জন্য নয়। তা যখনই সুযোগ পেয়ে যায়, তখনই স্বভাবিক গুণ্ডাদের মত অনুভূতির অধীনস্ত কারাগার থেকে পলায়ণ করে জ্ঞান বুদ্ধির শীর্ষে আরোহন করে ধমকাতে শুরু করে। সব মানুষের মধ্যে তা সংরক্ষণের শক্তি-সামর্থ ও রয়েছে। ঐ প্রহরী, ঐ উপাদেয় ও বন্দী স্মৃতি স্মরণী ও কামনা-বাসনা সমূহকে সম্পূর্ণরূপে এ অবস্থায় উত্তেজিত হতে দেয় না। সুতরাং সে আকৃতি পরিবর্তন করে উপস্থিত হয়। অভিজ্ঞ মনোস্তত্ব গবেষকদের ধারনা মতে, যদি অনুভূতির অধীনস্থ কারা প্রহরী ঐ হারিয়ে যাওয়া স্মৃতি ও কামনা-বাসনা সমূহকে রূপক বাকপটুতা বা সামগ্রীক আলামতের স্থলে হুবহু আকার আকৃতিতে বোধ বুদ্ধি পর্যন্ত পৌছার অনুমতি দেয়, তাহলে মানুষের ব্রেনের রগসমূহ ছিড়ে যাবে। এ অভিজ্ঞতা ছাড়াও যে স্বপ্ন দেখা হয়, তাকে বোধ বুদ্ধি ও অস্বাভাবিক অনুভূতি বলা হয়। এ একটা এসনেরী পরসেসনের অধীনে উত্তেজিত হয়। আর কোন সংবাদ বা সুখবরের মর্যাদাভূক্ত হয়।

একবার নিউইয়র্ক শহরে এক সংবাদপত্রের দফতরে অতি প্রত্যুষে এক ব্যক্তির টেলিফোন আসে। সে বলেছিল, আমি স্বপ্নে বড় বড় মিনার গম্বুজ ও অট্রালিকা সমূহকে ভেঙ্গে পড়তে দেখেছি। আরও দেখেছি, আমার ভ্রাতার মাথায় দেওয়াল ভেঙ্গে পড়েছে। সে ঐ দেওয়ালের নিচে চাপা পড়ে মারা গেছে। সম্ভবতঃ কোথাও কোন প্রচণ্ড ভূমিকম্প হয়েছে। তোমার ভ্রাতা এখন বর্তমানে কোথায় আছে- সহকারী সম্পাদক তাকে জিজ্ঞাসা করেন। সে তাৎক্ষণিক জবাব দেয়, আগাদিরে আছে। ঠিক ঐ মুহূর্তে উক্ত সংবাদ পত্রের দফতরে টেলিপ্রিন্টার টিপ টিপ করে বাজতে শুরু করে। সহকারী সম্পাদক তাৎক্ষণিকভাবে মেশিনের নিকট পৌছে যায়। তখন মরোক্কোর সমূদ্র উপকূলীয় এক পর্যটন শহরে মারাত্মক ভয়াবহ ভূমিকম্পের ধ্বংসলীলার খবরাখবর এ টেলিপ্রিন্টারে লিখিত হতে থাকে। সত্যই ওখানে এক ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। তাতে কয়েক মুহূর্তের মধ্যে সারা শহর মৃতপুরীতে পরিণত হয়েছে।

এ ধরনের স্বপ্ন সমূহের স্বত্ত্বাগত ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করা অসম্ভব। কিন্তু আমরা ভালভাবে জানি যে, এটা সত্য স্বপ্ন, কাশফ, এলহামের অন্তর্ভূক্ত হতে পারে। আর স্বপ্নের আকৃতিতে এরূপ হওয়া অসম্ভব নয়। আবার কখনও দেখলেন, আপনি কোন বিমানে বসে আছেন। কোথাও উড়ে চলে যাচ্ছেন। কিন্তু সকালে উঠে আপনি ঐ সহজ স্বপ্ন ভুলে বসেছেন। এর তিন মাস পরে আপনি ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম নৈশকোচে যাচ্ছেন। তখন হঠাৎ আপনার ঐ স্বপ্নের কথা স্মরণ হল। কেননা ঐ সময় অনুরূপ দৃশ্য আপনার চোখের সামনে ভাসছে। স্বপ্নে স্থান ও কালের কোন প্রতিবন্ধকতা নেই। প্রথমতঃ স্বপ্ন ব্রেন থেকে সময়ের প্রতিবন্ধকতা দূর করে দেয়। দ্বিতীয়তঃ স্বপ্ন স্থানের সীমাবদ্ধতা বোধ করে এক ঘটনাকে অনেক বেশী হৃদয়গ্রাহী করে নেয়। প্রায় লোকই প্রশ্ন করে, কেন এসব স্বপ্ন দেখানো হয়? এর উপকারীতা ও উদ্দেশ্য কি? এরূপ হওয়া কি সত্যই কুদরতী কাজ? এ ধরনের প্রশ্ন প্রচুর। কিন্তু এর কিছুদিন পর দেখে, কোথায় থেকে এক ভয়ানক দৈত্য ঐ দিক থেকে বের হয়ে আসছে। আর সে তাৎক্ষণিকভাবে সব পরীদেরকে ধ্বংস করে দেয়। আপনাকে কোহেকাফের সর্বোচ্চ চূড়ার উপর থেকে নিচে ফেলে দেয়।

এ ধরনের স্বপ্ন সমূহকে সত্য স্বপ্নের অন্তর্ভূক্ত গণ্য করা হয় না। এটা তো এক ধরনের মানসিক বিকার। ঐ ভয়ানক দৈত্য, যে আপনার সব আরাম আয়েশ, সুখ-স্বাচ্ছন্দ উলটপালট করে দিয়েছে, সেটি মূলতঃ আপনার আবেগ অনুভূতি। কোন স্বপ্ন বুঝার জন্য ভীষণ জরুরী হল, স্বপ্ন দর্শনকারী ব্যক্তি থেকে আবেগ দূর করে দিতে হবে। এ কথা বিশেষ প্রনিধানযোগ্য যে, স্বপ্নের ব্যাখ্যার জন্য সর্বদা মানসিক উত্তেজনা উল্লেখযোগ্য স্থান লাভ করে। তার অনেক কিছু স্বভাবিকভাবে আপনার কনডালনি শক্তি আপনার মাঝে গোপনে ওঁৎ পেতে বসে থাকে। তা সাধাণরতঃ স্বপ্নের মাঝে নিত্যনতুন রূপ ধারন করে আপনার সামনে হাজির হয়। সে কখনো আপনার বিছানায় আরাম করে। আর তখন তাকে এক তরতাজা গোলাপ ফুলের মত চিত্তাকর্ষক মনে হয়। তারপর সে আপনার অন্তরের অনুভূতিকে এক বিস্ময়কর হাসি-খুশি ও আনন্দে উদ্বেলিত করে চারপাশ সুরভিতেও মোহিত করে দেয়। ঐ ফুল নিয়ে কিছুক্ষণ মজা উপভোগ করার পর আপনি তা আপনার হাত দিয়ে চেপে দূরে নিক্ষেপ করে দেন। গোলাপ মূলতঃ প্রবৃত্তির কামনা-বাসনার প্রতিচ্ছবি।

কখনো এরূপ স্বপ্ন দেখতে পান যে, আপনি গভীর পানিতে সাঁতার কাটছেন। এ ধরনের স্বপ্নের ব্যাখ্যা হিব্রু ভাষায় হয়ত কিছু একটা হতে পারে। কিন্তু সুফীয়ায়ে কিরাম অতিরিক্ত পানিকে প্রবৃত্তির উত্তেজনা বলে উল্লেখ করেছেন। কোন কোন স্বপ্ন মূলতঃ স্বপ্নই হয় না বরং ওটা শুধু খেয়ালই হয়। যেমন, আপনি বাসে আরোহন করে দফতরে যাত্রা করছেন। অথবা আপনি আপনার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সামনে নথিপত্র পেশ করছেন। এ সত্য স্বপ্ন দ্বারা হয়ত স্বাভাবিকভাবে উপকৃত হতে পারেন। আধুনিক মনোস্তত্ত্ব বিদগণের গবেষণায় প্রমাণ হয়েছে যে, মানুষের পঞ্চন্দ্রিয় ছাড়াও এমন কতিপয় ইন্দ্রিয় শক্তি রয়েছে, যাকে আমরা "সুপার হিউম্যান" নামে অভিহিত করে থাকি। এ আভ্যন্তরীন শক্তি স্থান কাল ও ধ্বংসের শীর্ষস্থান থেকে অনেক উর্ধ্বে। আমাদের এ পৃথিবীতে এমন অনেক জীবজন্তু পাওয়া যায়, তাদের অনুভূতি মানুষের অনুভূতি থেকে অনেক বেশী শক্তিশালী। যেমন, পিপিলিকার অনুভূতি শক্তি ও উল্লুকের অন্তর্দৃষ্টির কথাই ধরুন। মানুষের অনেক আগে কুকুর সুপার সনিক বিমানের শব্দ বুঝতে সক্ষম।

উল্লুক গহীন অন্ধকারেও ভালোভাবে পোকা মাকড় দেখতে পায়। মৌমাছি উত্তর-দক্ষিণ মেরুর বিশেষ আলোর রেখা অনুভব করতে সক্ষম। আমাদের ব্রেন অনেক বিস্ময়কর অদৃশ্য দেখার যোগ্য। তার সম্পর্কে আমরা সহজে আপনাকে কোন কিছু বলতে পারব না। কোন কোন সময় আমাদের ব্রেনের অস্বাভাবিক কার্যশক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে শুরু করে। আমরা কাশফের মাধ্যমে কোটি কোটি মাইল দূরে সংঘটিত ঘটনাবলী অতি সহজে দেখতে পাই। অনুরূপ সুফীয়ানে কিরামের মতে আধ্যাত্মিকতার উন্নতির বিভিন্ন স্তর রয়েছে। যথা ভয় ভীতির স্থান, হাককুল ইয়াকীন লাভের স্থান প্রভৃতি। অনুরূপভাবে মূলতত্বের শাখায় উন্নতি লাভেরেও বিভিন্ন স্তর রয়েছে। কোন কোন ব্যক্তি সামান্য কিছু অনুশীলনের পর ভালো ফলাফল লাভ করে আত্মহারা হয়ে যায়। উদাহরণতঃ একাধিক বিষয়ে কাশফ জারী হওয়া। একাধিক অদ্ভুত ও বিস্ময়কর স্বপ্ন দেখা। আর একাধিক দৈব বিষয় প্রাপ্তির পরই তারা কামেল ব্যক্তিদের সমান হওয়ার দাবী করে বসেন। অথচ তাদের উদাহরণ ঐ ইদুর থেকে কোন অংশে বেশী হবে না, যে এক বস্তা ধান পাওয়া মাত্রই জমিদারের মত তার উপর বসে যায়। এটা নিছক একটা খোয়াব যা একাকী ঘুমের ঘোরে নিজেই নিজেই প্রতিভাত হয়ে উঠে।

কোন কোন স্বপ্নের প্রতিক্রিয়া দশবার বছরের পুরাতন স্মৃতি চারণ বা চাপা উৎসাহের সাথে সম্পর্ক রাখে। কিছু স্বপ্ন পাকস্থলীর গোলযোগ, মাদক, আফিম বা অন্য যে কোন নেশার মাত্রাতিরিক্ততা অথবা দৈহিক কোন অশান্তির কারণে পরিলক্ষিত হয়। কাঁচা ঘুম ভাঙ্গা, ঘুমানোর স্থানের সংকীর্ণতা। আর ঋতুর ভিন্নতার কারণেও কখনো কখানো নানা ধরনের স্বপ্ন দেখা যেতে পারে। শোয়া অবস্থায় আমাদের অনুভূতি অতিবেশী স্বাধীনতার সাথে মুক্ত বিহংগের মত যথেচ্ছা ঘুরে বেড়ায়। যদি আপনি জাগ্রত হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে জানতে পারেন যে, স্বপ্ন দেখা অবস্থায় আপনি অবচেতন মনে কত কি করেছেন। তখন আপনার সামনে কত অদ্ভুত বিষয় উন্মুক্ত হয়ে গেছে। আমাদের কোন কোন স্বপ্ন এতো ভারী হয় যে, আমাদের অনুভূতির পর্দা সেই দৃশ্য সহ্য করতে অক্ষম। সুতরাং এ ধরনের সংকটময় মুহূর্তে আপনার নিরাপত্তা শক্তি (সরনিপ্ট পাওয়ার) তাৎক্ষণিকভাবে নিজের কাজ শুরু করে দেয়।

আর আপনি তখন ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে জাগ্রত হয়ে যান। যে সব স্বপ্নের দৃশ্য মনোরম হয় আর আত্মসন্তুষ্ট হয়, ঐ স্বপ্ন সমূহের গোপন তত্ত্ব সাধারণতঃ অতি সুস্বাদু ও বিস্ময়কর চিত্তকর্ষক হয়।

কোন কোন স্বপ্নদ্রষ্টা ঘটনায় নিজেও অংশ গ্রহণ করতে দেখে। কখনো ঐ নাটকে তার অবস্থা এক দায়িত্বশীল বা নীরব দর্শকের মত হয়। আর অন্য কেউ তা অংশগ্রহণকারী হয় না। আপনি এসব স্বপ্নের ব্যাখ্যা সড়কের পাশে উপবিষ্ট পেশাদার জ্যোতিষীর দ্বারা কখনো জানতে পারবেন না। আপনার স্বপ্ন কখনো কখনো এলহাম হতে পারে। এ ধরনের স্বপ্নসমূহকে সর্বদা আবেগ তাড়িত স্বপ্ন থেকে আলাদা করে রাখুন। আর তা থেকে স্বাভাবিকভাবে উপকৃত হওয়ার চেষ্টা করুন।

আমি এসব কথা আপনাকে এ জন্য বলছি যে, সামনে ভবিষ্যত দর্শনের অনুশীলন করার সময় আপনিও নিশ্চিত অসংখ্য স্বপ্ন দেখতে পারেন। সুতরাং আপনাকে সত্য স্বপ্ন সমূহকে সাধারণ আবেগ তাড়িত স্বপ্নসমূহ আলাদা করে নিতে হবে। সুফীয়ায়ে কিরাম ঐ সব অবস্থাকে যা তারা স্বপ্নজগত বা মোহে নিমজ্জিত হওয়ার জ্ঞানে দৃষ্টিগোচর হতে দেখেন, অতিবেশী গুরুত্ব দেননি বরং তারা আকলের কষ্ঠি পাথরে উত্তমরূপে ঘর্ষণ করে সেসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। তন্মধ্যে যে অবস্থা কিতাব ও সুন্নাতের পরিপন্থী দেখতে পান, সেগুলোকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেন। আর যেসব অবস্থা কিতাবসুন্নাহ মোতাবেক দেখতে পান, তা গ্রহণ করেন।

অনুরূপভাবে আপনিও রীতিমত অনুশীলন শুরু করুন। প্রথম অবস্থায় একাধিক অদৃশ্য এলহাম ও কাশফ ইত্যাদি অনুভূত হবে। এগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই বরং ঐ সময় আপনাকে সমূদ্রের মত গভীর নীরবতা অবলম্বন করতে হবে। তৎসঙ্গে ধৈর্য্য ও দৃঢ়তার সাথে ভবিষ্যত দর্শনের সব মনজিল অতিক্রম করতে হবে। যাবত না আপনি ঐ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের সারিতে অন্তর্ভূক্ত হয়ে যান।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 দৈবাৎ প্রাপ্তি

📄 দৈবাৎ প্রাপ্তি


দৈবাৎ প্রাপ্তি বাস্তবতা কি? এ বিষয়ে প্রায় মনোস্তত্ত্ব বিদগণ বিভিন্ন আঙ্গিকে আলোকপাত করেছেন। আর তা একাধিক প্রকার বলে উল্লেখ করেছেন। কথিত আছে, মরহুম হেকীম আজমল খাঁন তার গবেষণাগারে বসা থাকাবস্থায় তার মাঝে চিকিৎসা বিষয়ক জ্ঞান অবতারিত হয়ে যেত। রুগ্ন ব্যক্তিকে তার সামনে হাজির করার পর তিনি গভীরভাবে তার প্রতি দৃষ্টিপাত করতেন। তাতেই তার ব্যাধি ধরা পড়ত। কোন চিকিৎসক যখন এক মুহূর্তে তার রোগীর অবস্থা বুঝতে সক্ষম হয়, তার রোগ নির্ণয় সম্পূর্ণ সঠিক ও সত্য হয়। তাই তাকে অভিজ্ঞ চিকিৎসক বলা হয়।

এমতাবস্থায় চিকিৎসককে তাৎক্ষণিকভাবে রোগের অবস্থা নিরূপণ করতে হয় না বরং দ্রুত কার্যকর কোন ঔষধও লিখে দিতে হয়। সাধারণ লোকদের সাথে অধিকাংশ সময় এ ধরনের অবস্থা হয়। আমি এক অজ্ঞাত ব্যক্তিকে দেখতে থাকি, আর তাৎক্ষণিক ভাবে জেনে ফেলি যে, সে ভালো না খারাপ। অভিজ্ঞতার পর তা প্রমাণ হয়। যা আমি আগ থেকে চিন্তা ভাবনা করছিলাম। দৈবাৎ প্রাপ্তি বিভিন্নভাবে অর্জিত হতে পারে। কোন সাহিত্যিক তখনই উৎকৃষ্ট সাহিত্য পেশ করতে পারেন, যখন তার অন্তরে দৈবাৎ সাহিত্য জ্ঞান লাভ হয়। এক বিজ্ঞানী স্বীয় গবেষণায় নিমগ্ন আছেন। ইত্যাবসরে তার মনে এক খেয়াল আসল, যেন কোন বিজলীর চমক এসে গেছে। যদি তার গবেষণা সে আলোকে করা হয়, তাহলে তার ফল সেভাবে প্রকাশ হবে। সুতরাং যখন সে ঐ নতুন পদ্ধতিতে গবেষণা করবে, তখন তার ফল তাই হবে, যা সে চেয়েছে। এটা হলো বৈজ্ঞানিক দৈব প্রাপ্তি। আইনেস্টাইন তাৎক্ষণিক সম্পর্কের দৃষ্টিতে পৌঁছে যেতে সক্ষম হতেন। আপনি নূন্যতম এ "হঠাৎ" শব্দের প্রতি গভীরভাবে দৃষ্টি নিবন্ধ করুন। কেননা এটাই হলো দ্বৈব প্রাপ্তি। মূলতঃ মানুষের বুদ্ধি ঐ তেজ লহরীর নাম, যা সঠিক সময়ে হঠাৎ লেস্পরূপে প্রকাশ হয়। আর আমাদেরকে সঠিকভাবে কোন বিষয় সতর্ক করে। আমরা যখন কোন নতুন বিষয় দীর্ঘ সময় চিন্তা-ভাবনা করে জানতে পারি, তার সাথে দ্বৈব প্রাপ্তির কোন সম্পর্ক হয় না। জনৈক মনোস্তত্ত্ববিদের অভিমত হল, মানুষের ব্রেনে কোটি কোটি কোষ রয়েছে। তা শক্তিশালী আলো সৃষ্টি করতে পারে। ওটাকে দ্বৈব প্রাপ্তি বলা যায়। কঠোর উত্তেজনায় নিমোজ্জিত হয়ে পূর্ণ একাগ্রতার সাথে আপনি যে কাজ করবেন, তাতে কিছু না কিছু দ্বৈব প্রাপ্তির অবশ্যই সৃষ্টি হতে পারে। অভিজ্ঞ মনোস্তত্ত্বিকগণের মতে, জীবজন্তুর মধ্যেও ভবিষ্যত দর্শনের শক্তিশালী যোগ্যাতা পাওয়া যায়। তারা উপর ও নিচের বিপদ সংকেত অনেক পূর্বে পেয়ে যায়। ফরে তখন তারা হৈ চৈ শুরু করে。

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 কাশফ

📄 কাশফ


মূলতত্ব বিশেষজ্ঞগণের মতে "কাশফ" ঐ যোগ্যতাকে বলা হয়, যার উপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতে সংঘটিতব্য ঘটনা এমনিতে উন্মুক্ত হয়ে মন-মানসে ভেসে উঠে। অথবা সুদূরে কোন স্থানে বিশেষ কোন ঘটনা সংঘটিত হচ্ছে, কিন্তু মনে তা বিস্ময়করভাবে জানা হয়ে যায়। যখন আপনি সব চিন্তা-ভাবনা দূর করে বিশেষ কোন বিষয়ে একাগ্র চিত্ত হয়ে তার প্রতিকৃত কায়েম করেন, তখন ধীরে ধীরে আপনার অনুভূতির সম্পর্ক শেষ হয়ে যাবে। ঐ তাৎক্ষণিক অবস্থাকে বিশেষজ্ঞগণ 'ডস ইসুমিয়েশন অফ কাশনাস' বলেছেন। এভাবে যখন সাজানো ধ্যানের ধারাবাহিকতা সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে, তখন বে-খুদী বা আত্মহারা, উত্তেজনা ও মোহগ্রস্থ হওয়ার অবস্থা দেখা দেবে। এ অবস্থায় কখনো চোখের মানবীয় বিবেক-বুদ্ধি হঠাৎ সৃষ্টিজগতের একচ্ছত্র অনুভূতির সাথে স্বীয় অনুভূতি প্রতিষ্ঠিত করে স্থান ও কালের প্রতিবন্ধকতা থেকে মুক্ত হয়ে যায়। অভিজ্ঞ মনোস্তাত্ত্বিকগণ মানুষের আত্মহারা ও উত্তেজনাকর অবস্থাকে, যখন তা স্থান ও কালের প্রতিবন্ধকতা থেকে মুক্ত হয়ে যায়, উন্নততর অনুভূতির সম্পর্ক স্থাপন করার উত্তম মাধ্যম ঘোষণা করেছেন।

সুফীয়ায়ে কিরামের মতে এটা ধ্যানের প্রথম স্তর। ঐ সময় কাশফের অবস্থা অবতারিত হয়ে যায়। তখন চোখের সামনে প্রার্থীদের আকৃতি সমূহ আবর্তিত হতে শুরু করে। আর তখন অদৃশ্য আওয়াজ শ্রবণ শুরু হয়। উদাহরণতঃ মনে করুন, আপনি একাকী বসে আপনার আগাম কোন ভ্রমণ সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করছেন। যদি আপনি অমুক স্থানে ভ্রমণে যাবেন। ওখানে পৌঁছে আপনি কি কি কাজ করবেন। এর চিত্র অংকিত হওয়া মাত্রই আপনার চোখের সামনে বিদ্যুতের এক চমক ভেসে উঠে। ঐ ঝলকের মধ্যে আপনি শুধু ঐ দূরবর্তী স্থানই দেখেন নি বরং এটাও প্রত্যক্ষ করেছেন, আপনি ঐ স্থানে পৌঁছার পর কি কি কাজ করবেন। এ ধরনের কাল্পনিক অবস্থাকে কাশফের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ দর্শন বলা হয়। এটা এমন এক সূক্ষ্ম যোগ্যতা যা অনেক কম ব্যক্তি লাভ করতে পারে। কিন্তু একজন মানুষ মনে অনেক বেশী ধ্যান জাগ্রত ও শ্রম সাধনার মাধ্যমে নিজের মধ্যে এ ধরনের যোগ্যতা সৃষ্টি করতে পারে। আমি সামনে এ ধরনের কতিপয় অনুশীলনের কথা পেশ করব, যা বাস্তবায়ন করে আপনিও নিশ্চত নিজের মধ্যে উত্তেজনা ও কাশফের যোগ্যতা সৃষ্টি করতে সক্ষম হবেন। অভিজ্ঞ মূল তত্ত্ববিদগণের মাঝে ঐ সময় এটা সৃষ্টি হয়, যখন তারা ধারাবাহিকভাবে ধ্যান মগ্নতা ও শ্রম সাধনায় লিপ্ত হয়।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 এলহাম অদৃশ্য আওয়াজ

📄 এলহাম অদৃশ্য আওয়াজ


এক অতি উত্তম সৌন্দর্য মণ্ডিত যোগ্যতার নাম এলহাম। প্রত্যেক লোকের এলহাম হয় না। এ বৈশিষ্ট্য শুধু পয়গাম্বরগণ ও মনোনীত ব্যক্তিদের লাভ হয়। তাদের মধ্যে সর্বদা এলহাম হতে থাকে। মহান আল্লাহ তা'আলার সাথে সম্পর্ক স্থান করার জন্য এটি অতি উত্তম মাধ্যম। এলহাম ও অদৃশ্য আওয়াজের কাঁচুলি আঁচলের সাথে মিলিত। এখন আসুন! ভবিষ্যত দর্শনের ঐ পদ্ধতি সমূহ বুঝার চেষ্টা করি, যা বিশেষজ্ঞগণ তাদের শীষ্যদের জন্য নির্ধারণ করেছেন। তাতে মোম বাতি দেখা, নিজেকে দেখা, পাত্র দেখা ও আয়না দেখা প্রভৃতির সাধারণ প্রচলন রয়েছে। পালিশ করা নখের প্রতি সূক্ষ্মদৃষ্টি নিবন্ধ করা, আর পাত্রে পানি নিয়ে তা মনযোগসহকারে দেখাও ভবিষ্যত দর্শনের যোগ্যতা লাভের উদ্দেশ্য মনে করা হয়। এসব পদ্ধতির সাথে বিনা মনোযোগে দূরবর্তী ঘটনাবলী প্রত্যক্ষ করা যেতে পারে। দীর্ঘ সময় ধ্যান-তন্ময়তার থাকার পর কানের পর্দায় নানা অজ্ঞাত শব্দ ভেসে আসে, একে গাইবী আওয়াজ বলা হয়। কেউ কেউ একে শয়তানের আওয়াজ বলে। যা আইনতঃ ভ্রান্ত। সেটি ভিন্ন বিষয়। এর সাথে ভবিষ্যত দর্শনের সাথে কোন সম্পর্ক নেই।

এলহামের পরিধি সৃষ্টিজগতের প্রশস্ততা থেকে অনেক বেশী। সুতরাং একত্ব, উপস্থিতির মর্যাদাও এর অন্তর্ভূক্ত রয়েছে। যে ব্যক্তি নিরবচ্ছিন্ন ধ্যান, শ্রম-সাধনা ও অনুশীলনের পর কোন প্রকার এলহামের মর্যাদায় পৌছে যায়, সে তখন এমন এমন সৌন্দর্য্যের অধিকারী হয়ে যায় যে, সাধারণ লোক তা দেখে সীমাহীন হতবাক। এ ধরনের সৌন্দর্য্য ধারাবাহিক অনুশীলনের পর আপনার মধ্যেও সৃষ্টি হতে পারে। কিন্তু ওটাকে আমরা এলহাম বলি না। উদাহরণস্বরূপ মনে করুন, কোন লোকের মধ্যে কোন বিষয় আলোচনা চলছে। আপনি নিজেও ঐ আলোচনায় জড়িত হয়েছেন। আর একান্ত নীরবতা ও মনোযোগের সাথে সকলের আলোচনা শুনছেন। অল্পকিছুক্ষণ পর আপনি নিজের উপর ধ্যান-তন্ময়তা অবতারিত করে নিয়েছেন। তারপর কথা বলতে শুরু করেছেন। তখন শ্রোতাগণ বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যায়। আপনার মুখ থেকে উচ্চারিত প্রতিটি শব্দ সত্য ও সঠিক হয়। আপনার কোন কথা মিথ্যে বা ভুল হয় না। যদি আপনি একাগ্রচিত্তে অনুশীলন করেন, তাহলে এই বৈশিষ্ট্য আপনার মধ্যেও সৃষ্টি হয়ে যাবে। এ কথা প্রায় সকলেই জানেন যে, সমস্ত পয়গম্বর ও মনোনীত বরেণ্য ব্যক্তিগণও দীর্ঘ সময় বিজন স্থানে পাহাড়ের গুহায় নির্জনে একাকী নিরবচ্ছিন্ন ধ্যান সাধনা করেছেন। তারা কোন স্তরে পৌঁছার পর এলহাম লাভের মর্যাদায় উপনীত হয়েছেন। আর ঐ স্তরে পৌঁছার পরই তাদের স্বভাব বহিঃর্ভূত শক্তির বিকাশ ঘটে। সাথে সম্পর্ক স্থাপিত ও অদৃশ্য আওয়াজ শোনার সুযোগ লাভ হয়েছে।

এখন আসুন আমরা জেনে নেই, এ এলহামী অবস্থা কখন অবতারিত হয়? বস্তুতঃ যখন একাগ্রমনে প্রসিদ্ধ কোন ইতিবাচক ধ্যানে তন্ময় হয়ে হয়, তখন ব্রেণে কেন্দ্রীয় আবর্তিত অংশে এক ধরনের জ্যা সৃষ্টি হয়। আর জ্যা ব্রেণের শ্লৈষ্মিক রগে (পিছোড়ি গ্ল্যান্ডে) আলোড়ন সৃষ্টি হয়ে যায়। আর আমলকারীর উপর ধ্যান-তনায়তার অবস্থা প্রভাবান্বিত হয়। শ্লৈষ্মিক রগের কাজ অতি দ্রুত হয়ে যায়। আলোকরশ্মি বের হওয়ার শক্তিও দ্রুত বৃদ্ধি লাভ করে। তারপর বিশেষ এক স্তরে পৌঁছার পর ব্রেণের অপর এক গ্যলণ্ড (ফি শেল গ্যালন্ড) ও স্বীয় কাজ শুরু করে দেয়।

বিশেষজ্ঞগণ এ দ্বিতীয় গ্যালণ্ডকে "গিদ্দাহ সানবীর" নামে অভিহিত করেছেন। এরূপ অনুভূতি শীর্ষ কেন্দ্র। এ সবের পরিচিত লাভের ফলে ঐ বিশেষ রশিাসমূহ প্রকাশ হয়, তা অনেক ব্যবধান ও দূরবর্তী স্থান ও কালের বন্ধন থেকে মুক্ত হয়। আর এটাকে অনন্ত ও অসীম বলা হয়। যখন ঐ বিশেষ আলোকরশ্মিসমূহ আলোড়িত হয়, তখন অন্তর্দৃষ্টির সামনে ঐ সব দৃশ্য আনাগোনা করতে শুরু করে। এ সম্পর্কে আপনার অনুভূতি কিছু জানতে ইচ্ছুক হয়। প্রথম প্রথম এ প্রতিচ্ছবিগুলো অস্পষ্ট ও ধাঁধার মত দৃষ্টিগোচর হয়। এ গুলোর আকৃতি ধারন করে প্রকাশ হওয়ার সময় ভয়ভীতি অবতারিত হয়। তখন দেহ কাঁপতে শুরু করে। শিরাউপশিরায় রক্ত দ্রুত চলতে শুরু করে। কোন কোন সময় ধ্যানমগ্ন অবস্থায় এরূপ মনে হয়, যেন আমরা আমাদের দৈহিক বাঁধা বন্ধ থেকে মুক্ত হয়ে দিগন্ত বিস্তৃিত উন্মুক্ত মাঠে বিচরণ করছি। তা মুলতঃ পদার্থীয় দেহের রশ্মি। কেননা তা আমাদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। এ কারণে এরূপ মনে হয়, যেন আমি নিজে প্রশস্ত খোলা মাঠে ঘুরে বেড়াচ্ছি।

এ অবস্থার সাথে সাথে তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের কানে এক ধরনের আওয়াজ আসতে শুরু করে। মনে হয় যেন বাতাস সোঁ সোঁ করছে। এ আওয়াজ তীব্র হয়ে বাশি বাজাচ্ছে। তারপর এরূপ মনে হয়, যেন নিকটে কোথায়ও শিলা পড়ছে। এরপর এ আওয়াজ এত বেশী গর্জনশীল হয়ে যাচ্ছে যে, তাতে শ্রবণশক্তি নষ্ট হওয়ার উপক্রম। তারপর অনেক অনেক ভয়ালদৃশ্য চোখের সামনে ভেসে আসছে, অদ্ভূত বিস্ময়কর শব্দ শোনা যাচ্ছে। আর এ সবই হল শোনা ও দেখার ধোঁকা। এ কারণে তা দেখে আমাদের ভীত হওয়া উচিত হবে না। তা থেকে বাঁচার জন্য আমরা যদি নিজেদের চারপাশে বৃত্ত অংকন করে নেই, তাহলে এ ধরনের ভয়ভীতি থেকে নিরাপদ থাকব। এর নিয়ম হল, আপনি আপনার চার পাশে মধ্যমা আঙ্গুলি দিয়ে এক বিরাট বৃত্ত এঁকে নিন। আর নিজের চার পাশে ঐ বৃত্তের চার কোনে চার খণ্ড কংকর রেখে দিন। এ হল আপনার নিরাপত্তা লাভের বৃত্ত। আর তখন আপনার অনুমতি ব্যতীত কেউ এ বৃত্তের মধ্যে প্রবেশ করতে পারবে না।

আরও বলে দিচ্ছি, এ নিরাপত্তাবলয় অংকন খাঁটি পাশ্চাত্য রীতি অনুযায়ী হতে হবে। প্রাচ্য দেশীয় বিশেষজ্ঞগণের নিকট এ নিরাপত্তাবলয়ের কোন গুরুত্ব নেই বরং তারা তাদের শীষ্যদের সর্বদা ভয়ভীতি মুক্ত হয়ে দৃঢ় মনোবলের সাথে কাজ করে এ ধরনের সন্দেহ থেকে বাঁচার' পদ্ধতি শিক্ষা দেন। আমাদের মতে অস্বাভাবিক শক্তিকে আয়ত্ব করার জন্য শুধু এক পদ্ধতি রয়েছে। তা হল, একান্ত ধৈর্য্য ও দৃঢ়তার সাথে এসব অবস্থা প্রত্যক্ষ করতে থাকা।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00