📄 ১. ভাণ্ডার সঞ্চয় না করা
এ ধরনের স্বপ্ন সমূহে আমাদের মনে নতুন-পুরাতন, ভালো-মন্দ অভিজ্ঞতা ও ঘটনাবলীর আনাগোনা শুরু হয়। এ ভাণ্ডার সঞ্চয়ণ অজ্ঞাতভাবে অনুভূতির পর্দায় পরিলক্ষিত হতে শুরু করে। উদাহরণ স্বরূপ মনে করুন! এক ব্যক্তি স্বপ্নে দেখছে যে, সে উড়োজাহাজে ভ্রমণ করছে। তাতে বিভিন্ন ধরনের আসন সাজানো হয়েছে। আর ঐ সব আসনে বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ বসে আছে। সে বাড়ী ভাড়া করে রশিদ প্রস্তুত করছে। বলা বাহুল্য, এ ব্যক্তি নিশ্চয় পৌর কর্পোরেশনের কর্মচারী হবে। কিন্তু কেরানী তাকে বাড়ী ভাড়ার রশিদ না দিয়ে সিনেমার টিকেট দিচ্ছে। এর উপর একশত টাকার নোটের মত বঙ্গবন্দুর ছবি অঙ্কিত আছে। তার অপর পিঠে টিভি টিকেটের চিত্রও রয়েছে। আবার টিকেটটি বাসের টিকেটের সমান।
এরূপ স্বপ্নের বিভিন্ন আংগিকের স্মরণীয় বিষয় সমূহ পরস্পরে এমনভাবে গড়বড় হয়ে গেছে যে, এর আসল উদ্দেশ্য কিছুই বুঝে আসে না।
📄 ২. একস্থান থেকে অন্যস্থানে প্রত্যাবর্তন
এক রাতে আপনি স্বপ্নে দেখছেন, আপনার প্রেমিকার সাথে আপনার বড় ভাইয়ের বিবাহ হয়ে যাচ্ছে। অথবা দেখলেন, আপনি আপনার কলমের নিভ পানিতে ডুবিয়ে চিঠি লিখছেন, এ ধরনের স্বপ্ন সমূহের আকৃতি সম্পূর্ণরূপে পরিবর্তন হয়ে যায়। এটাও আপনার অচেতনতার কর্মকাণ্ডের পরিণতি।
📄 ৩. রূপক বাকপটুতা ৪. সচেতনতার বিন্যাস
৩. রূপক বাকপটুতা : এ ধরনের স্বপ্ন সমূহে অচেতনতার দলিত উৎসাহ রূপক কামনা বাসনা সমূহ প্রেথিত স্মৃতি চারণ ও অক্ষম আকাঙ্খা সমূহের রূপক বাকপটুতা ধারন করে গভীর প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে। এ স্বপ্ন অনেক গুরুত্ববহ ও চিত্রধারক হয়। যদি এ সম্পর্কে একটু মনোযোগের সাথে দ্বৈত্যের অস্তিত্ব সহজে পরিচালনা করা যায়।
৪. অচেতনতার বিন্যাস : এ স্বপ্ন অতিসহজ সরল অর্থবহ ও উত্তম হয়। আর তা অচেতনতায় লুকায়িত বোধগম্য বিষয়কে এভাবে অনুভূতির সামনে নিয়ে আসে, যাতে তা বুঝতে অযথা সময়ক্ষেপণ না হয়। এ ধরনের স্বপ্ন দেখার কারণে নির্দয়তার পর ব্রেণে কোন কষ্ট অনুভূত হয় না বরং উৎসাহ কিছু সুস্বাদু হয়ে যায়। আর মানুষ তা অতিদ্রুত ভুলে যায়। আপনি যে স্বপ্নই দেখুন, তা স্মরণ রাখার চেষ্টা করুন। অবশ্যই যে কোন স্বপ্নে কিছু না কিছু নাটকীয় প্রতিক্রিয়া থাকে। যে স্বপ্নে যত বেশী নাটকীয়তা পাওয়া যাবে, অবশ্যই তা মনে ঐ পরিমাণ গভীরতা ও দীর্ঘ চিত্র রেখে যাবে। বর্তমানে আমেরিকার খ্যাতনামা স্বপ্ন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার গার্ডনর মারফী স্বপ্নের বিষয়বস্তুর উপর জ্ঞান-গর্ব ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণে নিয়োজিত আছেন। তার মতে সব ধরনের স্বপ্নের বাঁকে সাধারণ স্বভাবজাত বা পাশবিক রীতি নীতি ও মূল বিষয়বস্তুর শক্তি অবশ্য কার্যকরী হয়। সব স্বপ্নের একই কারণ ও উদ্দেশ্য হয়। চাই আপনি ঐ স্বপ্নকে যে কোন স্তরেই রাখুন না কেন। প্রবৃত্তিগত ও দৈহিক আলোড়ন সমূহ আমাদের সামগ্রীক স্বপ্নের কারণ হয়। কোন কোন সময় হজমের দুর্বলতার কারণে অদ্ভূত ও বিস্ময়কর স্বপ্ন দেখতে পায়। যদি আপনি মানসিক দিক থেকে প্রশান্তও প্রফুল্ল হন, তাহলে সম্ভবতঃ আপনি কোন স্বপ্ন দেখবেন না। আর যদি স্বপ্ন দেখেনও তথাপি তা অতি মনোরম স্বপ্ন হবে।
অনেক স্বপ্ন প্রাচীনতম পরিভাষায় কাশফ ও ইলহাম নামে অভিহিত হয়। আমরা আধুনিক পরিভাষায় সেগুলোকে অনুভূতি, অস্বাভাবিক ইন্দ্রিয় অনুভূতি বলি। স্বপ্নের ব্যাপারে এ সূক্ষ্ম মনে কল্পিত থাকে যে, জটিল স্বপ্ন অবচেতনতার অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়। আমরা সবাই ঐ সময় যে ধরনের সমাজ সভ্যতায় বসবাস করি। তার পরিণতি এই হয় যে, আমরা স্বীয় অন্তরে কথা গোপন করে রাখি। আর তা সচরাচর প্রকাশ করি না। উদাহরণতঃ মনে করুন, আপনি কোন মহিলাকে দেখছেন, সে মহিলাকে আপনার খুবই পছন্দ হয়েছে। কিন্তু চারিত্রিক প্রহরী আপনার জীবনকে বাঁধা দিয়ে রেখেছে। আপনি তার গুণাবলী ও প্রশংসায় এক শব্দও উচ্চারণ করতে পারছেন না। অথচ আপনার অন্তরে এ কামনা আছে। আর তার পরিণতি প্রকাশ হয়ে আছে। আমাদের এ অসমাপ্ত বাসনাসমূহ অনুভূতির অধীনস্থ গুদামে পৌছে যায়।
আমাদের বর্তমান সামাজিক সংস্কৃতি আমাদেরকে অন্য ব্যক্তির সাথে মিথ্যা আচরণে বাধ্য করছে। তাই তাকে মিথ্যা সান্ত্বনা দান করছি। নিজের কামনা-বাসনাকে অন্যের কামনা বাসনার জন্য উৎসর্গ করছি। বর্তমানে কেউ কেউ অর্থ-সম্পদের মোহে নেশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছে। কেউ এক জাতীয়তাবাদের শিকার। কেউ শক্তির দাপটে ভীত সন্ত্রস্ত। কেউ দুর্বলতা থেকে বেপরোয়া হয়ে আছে। অবশেষে এ সব কিছু কোথায় চলে যায়, তা আমাদের অজানা। এ সব কিছু অনুভূতির ছাদ থেকে সাময়িকভাবে একসময় অদৃশ্য হয়ে যায়। কিন্তু চিরদিনের জন্য নয়। তা যখনই সুযোগ পেয়ে যায়, তখনই স্বভাবিক গুণ্ডাদের মত অনুভূতির অধীনস্ত কারাগার থেকে পলায়ণ করে জ্ঞান বুদ্ধির শীর্ষে আরোহন করে ধমকাতে শুরু করে। সব মানুষের মধ্যে তা সংরক্ষণের শক্তি-সামর্থ ও রয়েছে। ঐ প্রহরী, ঐ উপাদেয় ও বন্দী স্মৃতি স্মরণী ও কামনা-বাসনা সমূহকে সম্পূর্ণরূপে এ অবস্থায় উত্তেজিত হতে দেয় না। সুতরাং সে আকৃতি পরিবর্তন করে উপস্থিত হয়। অভিজ্ঞ মনোস্তত্ব গবেষকদের ধারনা মতে, যদি অনুভূতির অধীনস্থ কারা প্রহরী ঐ হারিয়ে যাওয়া স্মৃতি ও কামনা-বাসনা সমূহকে রূপক বাকপটুতা বা সামগ্রীক আলামতের স্থলে হুবহু আকার আকৃতিতে বোধ বুদ্ধি পর্যন্ত পৌছার অনুমতি দেয়, তাহলে মানুষের ব্রেনের রগসমূহ ছিড়ে যাবে। এ অভিজ্ঞতা ছাড়াও যে স্বপ্ন দেখা হয়, তাকে বোধ বুদ্ধি ও অস্বাভাবিক অনুভূতি বলা হয়। এ একটা এসনেরী পরসেসনের অধীনে উত্তেজিত হয়। আর কোন সংবাদ বা সুখবরের মর্যাদাভূক্ত হয়।
একবার নিউইয়র্ক শহরে এক সংবাদপত্রের দফতরে অতি প্রত্যুষে এক ব্যক্তির টেলিফোন আসে। সে বলেছিল, আমি স্বপ্নে বড় বড় মিনার গম্বুজ ও অট্রালিকা সমূহকে ভেঙ্গে পড়তে দেখেছি। আরও দেখেছি, আমার ভ্রাতার মাথায় দেওয়াল ভেঙ্গে পড়েছে। সে ঐ দেওয়ালের নিচে চাপা পড়ে মারা গেছে। সম্ভবতঃ কোথাও কোন প্রচণ্ড ভূমিকম্প হয়েছে। তোমার ভ্রাতা এখন বর্তমানে কোথায় আছে- সহকারী সম্পাদক তাকে জিজ্ঞাসা করেন। সে তাৎক্ষণিক জবাব দেয়, আগাদিরে আছে। ঠিক ঐ মুহূর্তে উক্ত সংবাদ পত্রের দফতরে টেলিপ্রিন্টার টিপ টিপ করে বাজতে শুরু করে। সহকারী সম্পাদক তাৎক্ষণিকভাবে মেশিনের নিকট পৌছে যায়। তখন মরোক্কোর সমূদ্র উপকূলীয় এক পর্যটন শহরে মারাত্মক ভয়াবহ ভূমিকম্পের ধ্বংসলীলার খবরাখবর এ টেলিপ্রিন্টারে লিখিত হতে থাকে। সত্যই ওখানে এক ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। তাতে কয়েক মুহূর্তের মধ্যে সারা শহর মৃতপুরীতে পরিণত হয়েছে।
এ ধরনের স্বপ্ন সমূহের স্বত্ত্বাগত ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করা অসম্ভব। কিন্তু আমরা ভালভাবে জানি যে, এটা সত্য স্বপ্ন, কাশফ, এলহামের অন্তর্ভূক্ত হতে পারে। আর স্বপ্নের আকৃতিতে এরূপ হওয়া অসম্ভব নয়। আবার কখনও দেখলেন, আপনি কোন বিমানে বসে আছেন। কোথাও উড়ে চলে যাচ্ছেন। কিন্তু সকালে উঠে আপনি ঐ সহজ স্বপ্ন ভুলে বসেছেন। এর তিন মাস পরে আপনি ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম নৈশকোচে যাচ্ছেন। তখন হঠাৎ আপনার ঐ স্বপ্নের কথা স্মরণ হল। কেননা ঐ সময় অনুরূপ দৃশ্য আপনার চোখের সামনে ভাসছে। স্বপ্নে স্থান ও কালের কোন প্রতিবন্ধকতা নেই। প্রথমতঃ স্বপ্ন ব্রেন থেকে সময়ের প্রতিবন্ধকতা দূর করে দেয়। দ্বিতীয়তঃ স্বপ্ন স্থানের সীমাবদ্ধতা বোধ করে এক ঘটনাকে অনেক বেশী হৃদয়গ্রাহী করে নেয়। প্রায় লোকই প্রশ্ন করে, কেন এসব স্বপ্ন দেখানো হয়? এর উপকারীতা ও উদ্দেশ্য কি? এরূপ হওয়া কি সত্যই কুদরতী কাজ? এ ধরনের প্রশ্ন প্রচুর। কিন্তু এর কিছুদিন পর দেখে, কোথায় থেকে এক ভয়ানক দৈত্য ঐ দিক থেকে বের হয়ে আসছে। আর সে তাৎক্ষণিকভাবে সব পরীদেরকে ধ্বংস করে দেয়। আপনাকে কোহেকাফের সর্বোচ্চ চূড়ার উপর থেকে নিচে ফেলে দেয়।
এ ধরনের স্বপ্ন সমূহকে সত্য স্বপ্নের অন্তর্ভূক্ত গণ্য করা হয় না। এটা তো এক ধরনের মানসিক বিকার। ঐ ভয়ানক দৈত্য, যে আপনার সব আরাম আয়েশ, সুখ-স্বাচ্ছন্দ উলটপালট করে দিয়েছে, সেটি মূলতঃ আপনার আবেগ অনুভূতি। কোন স্বপ্ন বুঝার জন্য ভীষণ জরুরী হল, স্বপ্ন দর্শনকারী ব্যক্তি থেকে আবেগ দূর করে দিতে হবে। এ কথা বিশেষ প্রনিধানযোগ্য যে, স্বপ্নের ব্যাখ্যার জন্য সর্বদা মানসিক উত্তেজনা উল্লেখযোগ্য স্থান লাভ করে। তার অনেক কিছু স্বভাবিকভাবে আপনার কনডালনি শক্তি আপনার মাঝে গোপনে ওঁৎ পেতে বসে থাকে। তা সাধাণরতঃ স্বপ্নের মাঝে নিত্যনতুন রূপ ধারন করে আপনার সামনে হাজির হয়। সে কখনো আপনার বিছানায় আরাম করে। আর তখন তাকে এক তরতাজা গোলাপ ফুলের মত চিত্তাকর্ষক মনে হয়। তারপর সে আপনার অন্তরের অনুভূতিকে এক বিস্ময়কর হাসি-খুশি ও আনন্দে উদ্বেলিত করে চারপাশ সুরভিতেও মোহিত করে দেয়। ঐ ফুল নিয়ে কিছুক্ষণ মজা উপভোগ করার পর আপনি তা আপনার হাত দিয়ে চেপে দূরে নিক্ষেপ করে দেন। গোলাপ মূলতঃ প্রবৃত্তির কামনা-বাসনার প্রতিচ্ছবি।
কখনো এরূপ স্বপ্ন দেখতে পান যে, আপনি গভীর পানিতে সাঁতার কাটছেন। এ ধরনের স্বপ্নের ব্যাখ্যা হিব্রু ভাষায় হয়ত কিছু একটা হতে পারে। কিন্তু সুফীয়ায়ে কিরাম অতিরিক্ত পানিকে প্রবৃত্তির উত্তেজনা বলে উল্লেখ করেছেন। কোন কোন স্বপ্ন মূলতঃ স্বপ্নই হয় না বরং ওটা শুধু খেয়ালই হয়। যেমন, আপনি বাসে আরোহন করে দফতরে যাত্রা করছেন। অথবা আপনি আপনার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সামনে নথিপত্র পেশ করছেন। এ সত্য স্বপ্ন দ্বারা হয়ত স্বাভাবিকভাবে উপকৃত হতে পারেন। আধুনিক মনোস্তত্ত্ব বিদগণের গবেষণায় প্রমাণ হয়েছে যে, মানুষের পঞ্চন্দ্রিয় ছাড়াও এমন কতিপয় ইন্দ্রিয় শক্তি রয়েছে, যাকে আমরা "সুপার হিউম্যান" নামে অভিহিত করে থাকি। এ আভ্যন্তরীন শক্তি স্থান কাল ও ধ্বংসের শীর্ষস্থান থেকে অনেক উর্ধ্বে। আমাদের এ পৃথিবীতে এমন অনেক জীবজন্তু পাওয়া যায়, তাদের অনুভূতি মানুষের অনুভূতি থেকে অনেক বেশী শক্তিশালী। যেমন, পিপিলিকার অনুভূতি শক্তি ও উল্লুকের অন্তর্দৃষ্টির কথাই ধরুন। মানুষের অনেক আগে কুকুর সুপার সনিক বিমানের শব্দ বুঝতে সক্ষম।
উল্লুক গহীন অন্ধকারেও ভালোভাবে পোকা মাকড় দেখতে পায়। মৌমাছি উত্তর-দক্ষিণ মেরুর বিশেষ আলোর রেখা অনুভব করতে সক্ষম। আমাদের ব্রেন অনেক বিস্ময়কর অদৃশ্য দেখার যোগ্য। তার সম্পর্কে আমরা সহজে আপনাকে কোন কিছু বলতে পারব না। কোন কোন সময় আমাদের ব্রেনের অস্বাভাবিক কার্যশক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে শুরু করে। আমরা কাশফের মাধ্যমে কোটি কোটি মাইল দূরে সংঘটিত ঘটনাবলী অতি সহজে দেখতে পাই। অনুরূপ সুফীয়ানে কিরামের মতে আধ্যাত্মিকতার উন্নতির বিভিন্ন স্তর রয়েছে। যথা ভয় ভীতির স্থান, হাককুল ইয়াকীন লাভের স্থান প্রভৃতি। অনুরূপভাবে মূলতত্বের শাখায় উন্নতি লাভেরেও বিভিন্ন স্তর রয়েছে। কোন কোন ব্যক্তি সামান্য কিছু অনুশীলনের পর ভালো ফলাফল লাভ করে আত্মহারা হয়ে যায়। উদাহরণতঃ একাধিক বিষয়ে কাশফ জারী হওয়া। একাধিক অদ্ভুত ও বিস্ময়কর স্বপ্ন দেখা। আর একাধিক দৈব বিষয় প্রাপ্তির পরই তারা কামেল ব্যক্তিদের সমান হওয়ার দাবী করে বসেন। অথচ তাদের উদাহরণ ঐ ইদুর থেকে কোন অংশে বেশী হবে না, যে এক বস্তা ধান পাওয়া মাত্রই জমিদারের মত তার উপর বসে যায়। এটা নিছক একটা খোয়াব যা একাকী ঘুমের ঘোরে নিজেই নিজেই প্রতিভাত হয়ে উঠে।
কোন কোন স্বপ্নের প্রতিক্রিয়া দশবার বছরের পুরাতন স্মৃতি চারণ বা চাপা উৎসাহের সাথে সম্পর্ক রাখে। কিছু স্বপ্ন পাকস্থলীর গোলযোগ, মাদক, আফিম বা অন্য যে কোন নেশার মাত্রাতিরিক্ততা অথবা দৈহিক কোন অশান্তির কারণে পরিলক্ষিত হয়। কাঁচা ঘুম ভাঙ্গা, ঘুমানোর স্থানের সংকীর্ণতা। আর ঋতুর ভিন্নতার কারণেও কখনো কখানো নানা ধরনের স্বপ্ন দেখা যেতে পারে। শোয়া অবস্থায় আমাদের অনুভূতি অতিবেশী স্বাধীনতার সাথে মুক্ত বিহংগের মত যথেচ্ছা ঘুরে বেড়ায়। যদি আপনি জাগ্রত হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে জানতে পারেন যে, স্বপ্ন দেখা অবস্থায় আপনি অবচেতন মনে কত কি করেছেন। তখন আপনার সামনে কত অদ্ভুত বিষয় উন্মুক্ত হয়ে গেছে। আমাদের কোন কোন স্বপ্ন এতো ভারী হয় যে, আমাদের অনুভূতির পর্দা সেই দৃশ্য সহ্য করতে অক্ষম। সুতরাং এ ধরনের সংকটময় মুহূর্তে আপনার নিরাপত্তা শক্তি (সরনিপ্ট পাওয়ার) তাৎক্ষণিকভাবে নিজের কাজ শুরু করে দেয়।
আর আপনি তখন ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে জাগ্রত হয়ে যান। যে সব স্বপ্নের দৃশ্য মনোরম হয় আর আত্মসন্তুষ্ট হয়, ঐ স্বপ্ন সমূহের গোপন তত্ত্ব সাধারণতঃ অতি সুস্বাদু ও বিস্ময়কর চিত্তকর্ষক হয়।
কোন কোন স্বপ্নদ্রষ্টা ঘটনায় নিজেও অংশ গ্রহণ করতে দেখে। কখনো ঐ নাটকে তার অবস্থা এক দায়িত্বশীল বা নীরব দর্শকের মত হয়। আর অন্য কেউ তা অংশগ্রহণকারী হয় না। আপনি এসব স্বপ্নের ব্যাখ্যা সড়কের পাশে উপবিষ্ট পেশাদার জ্যোতিষীর দ্বারা কখনো জানতে পারবেন না। আপনার স্বপ্ন কখনো কখনো এলহাম হতে পারে। এ ধরনের স্বপ্নসমূহকে সর্বদা আবেগ তাড়িত স্বপ্ন থেকে আলাদা করে রাখুন। আর তা থেকে স্বাভাবিকভাবে উপকৃত হওয়ার চেষ্টা করুন।
আমি এসব কথা আপনাকে এ জন্য বলছি যে, সামনে ভবিষ্যত দর্শনের অনুশীলন করার সময় আপনিও নিশ্চিত অসংখ্য স্বপ্ন দেখতে পারেন। সুতরাং আপনাকে সত্য স্বপ্ন সমূহকে সাধারণ আবেগ তাড়িত স্বপ্নসমূহ আলাদা করে নিতে হবে। সুফীয়ায়ে কিরাম ঐ সব অবস্থাকে যা তারা স্বপ্নজগত বা মোহে নিমজ্জিত হওয়ার জ্ঞানে দৃষ্টিগোচর হতে দেখেন, অতিবেশী গুরুত্ব দেননি বরং তারা আকলের কষ্ঠি পাথরে উত্তমরূপে ঘর্ষণ করে সেসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। তন্মধ্যে যে অবস্থা কিতাব ও সুন্নাতের পরিপন্থী দেখতে পান, সেগুলোকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেন। আর যেসব অবস্থা কিতাবসুন্নাহ মোতাবেক দেখতে পান, তা গ্রহণ করেন।
অনুরূপভাবে আপনিও রীতিমত অনুশীলন শুরু করুন। প্রথম অবস্থায় একাধিক অদৃশ্য এলহাম ও কাশফ ইত্যাদি অনুভূত হবে। এগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই বরং ঐ সময় আপনাকে সমূদ্রের মত গভীর নীরবতা অবলম্বন করতে হবে। তৎসঙ্গে ধৈর্য্য ও দৃঢ়তার সাথে ভবিষ্যত দর্শনের সব মনজিল অতিক্রম করতে হবে। যাবত না আপনি ঐ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের সারিতে অন্তর্ভূক্ত হয়ে যান।
📄 দৈবাৎ প্রাপ্তি
দৈবাৎ প্রাপ্তি বাস্তবতা কি? এ বিষয়ে প্রায় মনোস্তত্ত্ব বিদগণ বিভিন্ন আঙ্গিকে আলোকপাত করেছেন। আর তা একাধিক প্রকার বলে উল্লেখ করেছেন। কথিত আছে, মরহুম হেকীম আজমল খাঁন তার গবেষণাগারে বসা থাকাবস্থায় তার মাঝে চিকিৎসা বিষয়ক জ্ঞান অবতারিত হয়ে যেত। রুগ্ন ব্যক্তিকে তার সামনে হাজির করার পর তিনি গভীরভাবে তার প্রতি দৃষ্টিপাত করতেন। তাতেই তার ব্যাধি ধরা পড়ত। কোন চিকিৎসক যখন এক মুহূর্তে তার রোগীর অবস্থা বুঝতে সক্ষম হয়, তার রোগ নির্ণয় সম্পূর্ণ সঠিক ও সত্য হয়। তাই তাকে অভিজ্ঞ চিকিৎসক বলা হয়।
এমতাবস্থায় চিকিৎসককে তাৎক্ষণিকভাবে রোগের অবস্থা নিরূপণ করতে হয় না বরং দ্রুত কার্যকর কোন ঔষধও লিখে দিতে হয়। সাধারণ লোকদের সাথে অধিকাংশ সময় এ ধরনের অবস্থা হয়। আমি এক অজ্ঞাত ব্যক্তিকে দেখতে থাকি, আর তাৎক্ষণিক ভাবে জেনে ফেলি যে, সে ভালো না খারাপ। অভিজ্ঞতার পর তা প্রমাণ হয়। যা আমি আগ থেকে চিন্তা ভাবনা করছিলাম। দৈবাৎ প্রাপ্তি বিভিন্নভাবে অর্জিত হতে পারে। কোন সাহিত্যিক তখনই উৎকৃষ্ট সাহিত্য পেশ করতে পারেন, যখন তার অন্তরে দৈবাৎ সাহিত্য জ্ঞান লাভ হয়। এক বিজ্ঞানী স্বীয় গবেষণায় নিমগ্ন আছেন। ইত্যাবসরে তার মনে এক খেয়াল আসল, যেন কোন বিজলীর চমক এসে গেছে। যদি তার গবেষণা সে আলোকে করা হয়, তাহলে তার ফল সেভাবে প্রকাশ হবে। সুতরাং যখন সে ঐ নতুন পদ্ধতিতে গবেষণা করবে, তখন তার ফল তাই হবে, যা সে চেয়েছে। এটা হলো বৈজ্ঞানিক দৈব প্রাপ্তি। আইনেস্টাইন তাৎক্ষণিক সম্পর্কের দৃষ্টিতে পৌঁছে যেতে সক্ষম হতেন। আপনি নূন্যতম এ "হঠাৎ" শব্দের প্রতি গভীরভাবে দৃষ্টি নিবন্ধ করুন। কেননা এটাই হলো দ্বৈব প্রাপ্তি। মূলতঃ মানুষের বুদ্ধি ঐ তেজ লহরীর নাম, যা সঠিক সময়ে হঠাৎ লেস্পরূপে প্রকাশ হয়। আর আমাদেরকে সঠিকভাবে কোন বিষয় সতর্ক করে। আমরা যখন কোন নতুন বিষয় দীর্ঘ সময় চিন্তা-ভাবনা করে জানতে পারি, তার সাথে দ্বৈব প্রাপ্তির কোন সম্পর্ক হয় না। জনৈক মনোস্তত্ত্ববিদের অভিমত হল, মানুষের ব্রেনে কোটি কোটি কোষ রয়েছে। তা শক্তিশালী আলো সৃষ্টি করতে পারে। ওটাকে দ্বৈব প্রাপ্তি বলা যায়। কঠোর উত্তেজনায় নিমোজ্জিত হয়ে পূর্ণ একাগ্রতার সাথে আপনি যে কাজ করবেন, তাতে কিছু না কিছু দ্বৈব প্রাপ্তির অবশ্যই সৃষ্টি হতে পারে। অভিজ্ঞ মনোস্তত্ত্বিকগণের মতে, জীবজন্তুর মধ্যেও ভবিষ্যত দর্শনের শক্তিশালী যোগ্যাতা পাওয়া যায়। তারা উপর ও নিচের বিপদ সংকেত অনেক পূর্বে পেয়ে যায়। ফরে তখন তারা হৈ চৈ শুরু করে。