📄 জীবনী শক্তি জাগ্রত করুন
আমি আপনাকে ভবিষ্যত দ্রষ্টা বানাতে চাই। আর এর জন্য আপনার শ্রম সাধনা ও অনুশীলনের প্রয়োজন। আপনি নিজের মত করে ভবিষ্যত দ্রষ্টা হওয়ার আগ্রহে সকল প্রকার ত্যাগ স্বীকারে চুড়ান্তভাবে উৎসাহী ও প্রস্তুত। কিন্তু প্রশ্ন হতে পারে, শ্রম-সাধনা ও অনুশীলনের জ্বালানী কোথেকে সংগ্রহ করবেন। আপনি জানেন, যৌনশক্তি ঐ অনুশীলনে জ্বালানীর কাজ করে। আর এ কারণে মেরুদণ্ডের হাড় সমূহের নলে কামোত্তেজনার দানব গোপনে ঘাপটি মেরে বসে আছে। আপনি প্রথমে এটাকে ধীরে ধীরে জাগ্রত করতে থাকুন। তারপর পুরোপুরিভাবে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত করুন। তারপর আপনি ঐ সাপের চামড়া ছিলে ফেলুন, যাকে ক্যানডালি বলা হয়। তারপর দেখবেন, ধীরে ধীরে এ রত্নভাণ্ডার কিভাবে হারাম রগের বাসস্থানের প্রতি অগ্রসর হতে শুরু করে। তখন ধীরে ধীরে অনুভব হবে, আপনার ব্রেণ ঐ ভাণ্ডারের পদ্মরাগমনি, চুনি, নীলকান্তমনি ও পান্না থেকেও বেশী ঝলমল করতে শুরু করবে। যেভাবে এটমকে ভাঙ্গার জন্য তাপ, নড়াচড়া ও আঘাতের প্রয়োজন হয়, অনুরূপভাবে ঐ ক্যানডালি শক্তিকে জাগ্রত করার জন্য ঐ সব বস্তুর প্রয়োজন হয়। আপনাকে কাজ করার পর তার কাজ প্রতিহত করার জন্যও অপেক্ষা করতে হবে। হতে পারে আপনি যখন সঠিক সময় ঘুম থেকে জাগ্রত হবেন, তখন আপনার ভবিষ্যত দর্শনের শক্তিও জেগে উঠবে। অথবা আপনি নিজ বিছানায় শোয়া অবস্থায়ই আপনার অন্তর্দৃষ্টি খুলে যাবে। মানবীয় সহজাত কোন স্বভাব সত্ত্বাগতভাবে খারাপ হয় না। এ উত্তেজনা ও কামোত্তেজনাগুলো দান করা হয়েছে, যাতে এসবের সাহায্যে পূর্ণাঙ্গ জীবন যাপনের সহায়তা লাভ করতে পারি এবং স্বীয় ব্যক্তি স্বত্ত্বা গঠন করতে পারি। কখনো যেন এরূপ না হয় যে, আমরা এ স্বভাবজাত উত্তেজনা শক্তিকে খোদ নিজের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে শুরু করি। আমাদের সর্বপ্রথম ঐ ধরনের সকল শক্তিকে গুটিয়ে একই কেন্দ্রীভূত করতে হবে। যদি আপনার সামনে কোন উদ্দেশ্য আসে, তাহলে গন্তব্যস্থলে পৌঁছা কঠিন হবে না।
অনুভূতি ও উৎসাহ, পরিশ্রম ও উদ্যমের এ পৃথিবীতে প্রশান্তিও নির্জনতা লাভ করা ভীষণ কঠিন হয়ে গেছে। পূর্ণাঙ্গ নির্জনতা আমরা শুধু রাতেই লাভ করতে পারি। যখন চর্তুদিক নীরব নিস্তব্দ হয়ে যায়, চর্তুদিকে নীরবতার আদেশ কার্যকরী হয়, তখন আপনি আপনার ব্রেণকে সকল প্রকার ধ্যান-ধারনা, কামনা-বাসনা, উৎসাহ-উদ্দীপনা থেকে সম্পূর্ণরূপে পূতপবিত্র পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে নিন। অভ্যন্তরীণ সব শক্তিকে গুটিয়ে একীভূত করে নিন। এর জন্য এক বিশেষ অনুশীলনের কথা সামনে বিস্তারিতভাবে আলোকপাত করব।
আমি ইতোপূর্বে খাদ্যদ্রব্যাদি সম্পর্কে সতর্কতা অবলম্বন করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছি। খাদ্য দ্রব্যাদি আধ্যাত্মিক শ্রম সাধনা ও ধ্যান-তন্ময়তার মাধ্যম রূপে কাজ করে। দেহ ও ব্রেণের সকল শক্তিকে এক কেন্দ্রে একীভূত করে নিন। অতিউৎসাহ ও হৈ চৈ থেকে বিরত থাকুন।
ভবিষ্যৎ দর্শনের যোগ্যতা তৈরী করার উদ্দেশ্যে নিয়মিত অনুশীলন শুরু করার পূর্বে নিম্নোক্ত উপদেশ ভালোভাবে স্মরণ রাখুন।
১. ধারাবাহিকভাবে সামনে অগ্রসর হওয়ার দৃঢ় চিত্ততা থাকতে হবে।
২. এ অনুশীলনকে কখনো অস্বাভাবিক অভ্যাস বা অনর্থক ধারনা করবেন না।
৩. নফসে আম্মারার ভাণ্ডারকে (প্রবৃত্তির তাড়না) নিয়ন্ত্রিত রাখার চেষ্টা করুন।
৪. "ক্যানডালনি শক্তি" কে অতি সতর্কতার সাথে ধীরে ধীরে জাগ্রত করা শুরু করুন।
৫. এক বিন্দুর উপর একীভূত ও সমষ্ঠিগত শক্তিকে হাতুড়ী দিয়ে নির্জনতার ক্যানডালনির উপর দৃঢ়তার আঘাত করুন।
📄 ভবিষ্যত দর্শন অটল বাস্তবতা
মানবীয় অনুভূতি বর্তমান, অতীত ও ভবিষ্যতের লৌহজিঞ্জিরে আবদ্ধ হয়ে আছে। কিন্তু অনুভূতি ঐ ধরনের শৃংখলে আবদ্ধ হওয়া থেকে সম্পূর্ণ অবমুক্ত ও স্বাধীন। সে যখন ইচ্ছা তখন স্থান কালের প্রতিবন্ধকতা ভেদ করে চলতে শুরু করতে পারে। প্রত্যেক ব্যক্তিকে প্রতিনিয়ত ঐ অদৃশ্য বাস্তবতার সম্মুখীন হতে হয়। আপনি অধিকাংশ সময় স্বপ্নে নিজেকে দূরদূরান্তে কিভাবে দেখে ফেলেন। ওখানে আপনি আপনার কোন কোন বন্ধু বা আত্মীয়ের সাথে সাক্ষাত করেন। কিন্তু যখন চোখ খোলেন তখন নিজেকে নিজের বিছানায়ই দেখতে পান। ঐ বিছানা, ঐ বাসস্থান, যেখানে আপনি কয়েক ঘণ্টা পূর্বে নিজ চোখ বন্ধ করে ছিলেন।
এটা কিরূপ আশ্চর্যজনক বিষয় যে, এ সংক্ষিপ্ত সময়ে আপনার ব্রেণ দ্রুত দূরদূরান্ত পরিভ্রমণ করে এসেছে। সময় ও স্থানের সীমানা ভেদ করে কোত্থেকে কোথায় পৌঁছে গেছে। তাছাড়া স্থান ও কালের সীমাবদ্ধতাও তো আপনি নিজেই সৃষ্টি করেছেন। এ সব বাহ্যিক অনুভূতির ধোঁকা। রাতের যে সময় আরাম করার এবং ঘুমানোর আহবান করছে, ঐ সময় পৃথিবীর অপর এক অংশে সূর্য স্বীয় পূর্ণাঙ্গ শক্তির সাথে ঝলমল করছে। আইনেস্টাইনের মতে সময় অনুভূতির প্রতারণার নাম। করাচীতে আপনার পূর্ণাঙ্গ একদিন চব্বিশ ঘণ্টার হয়। কিন্তু উত্তর মেরু অঞ্চলের অধিবাসিগণ পুরো ছয় মাসকে তাদের পুরো একদিন মনে করে। এক সময় তখন লন্ডনে পৌঁছতে কয়েক দিন লেগে যেত। আর এখন মাত্র কয়েক ঘণ্টায় পৌঁছা যায়। পি.আই. এর কোন নৈশকালীন উড়োজাহাজে ভ্রমণ করে দেখুন। রাতের খাবার করাচীতে ঢাকায় খাচ্ছেন। আর সকালে নাশতা করছেন লন্ডনে।
সংযোগ স্থাপনের দৃষ্টিকোণ থেকে সময় অসীম ও চিরন্তন তো উন্মাদনার একক উচ্ছাসের নাম। এখানে না আছে বর্তমান, না আছে অতীত আর না আছে ভবিষ্যত। কেউ যেন সত্য কথাই বলেছেন, বর্তমান বলতে কিছুই নেই। ব্যাস। হয়ত ভবিষ্যত হবে নতুবা অতীত ছিল। আমাদের এ পৃথিবীতে হয়ত সব কিছু ভবিষ্যতে হবে অথবা অতীতে হয়েছে।
কারণ, মূলতঃ অনুভূতির পার্থক্য হল সময়। তা সময় ও সীমাবদ্ধতার জন্ম দেয়। নতুবা সত্ত্বাগত দিক থেকে এর নিবিড় কোন অস্তিত্ব নেই। যদি আমরা এভাবে স্বীয় অনুভূতির উপর বিজয়ী হয়ে যাই এবং প্রতিবন্ধকতা ছিন্নভিন্ন করে ফেলি, তাহলে আর কিছুই বাকী থাকবে না। এখন আপনি এক ঘটনা শুনুন। মিস্টার জায়েদ সাইকেলে আরোহন করে তার কার্যালয়ে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ তার মন বিষণ্ণ হতে শুরু করে। তারপর তার এ পেরেশানী আরো বাড়তে শুরু করে। তাই সে ভীত হয়ে সাইকেল থেকে নেমে যায়। তার কাছে মনে হচ্ছিল, তার মস্তিস্কে ভীষণ তোলপাড় হচ্ছে। সে তখন কিছু সময়ের জন্য বিস্ময়কর অবস্থা অনুভব করতে থাকে। তারপর রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে এ নিয়ে ভাবতে থাকে। সহসা সে নিজেকে স্ত্রীর খাটের পাশে দণ্ডায়মান দেখতে পায়। স্ত্রী খাটের উপর পড়ে আছে। আর বলছে, আমার জন্য ডাক্তার ডেকে নিয়ে আস।
এরপর মিস্টার জায়েদ সাহেবের কানে বিউগলের সুরের মত নানা শব্দ ভেসে আসে। কিন্তু সে অনতি বিলম্বে বাড়ি ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয়। এরপর সাইকেল ঘুরিয়ে চিকিৎসকসহ বাড়ীর উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। কেননা তার ব্রেণ এ পরামর্শ দিচ্ছিল। ঘরে পৌছে সে স্ত্রীকে সুস্থ্য সবল দেখতে পায়। ঐ বেচারী তাকে আকস্মিকভাবে ফিরে আসতে দেখে খুবই ব্যতিব্যস্ত হয়ে উঠে। জায়েদ সাহেবের ভীষণ গোস্বা হয় যে, তার ব্রেণ অন্তর তাকে বিস্ময়কর ধোঁকা দিয়েছে। তাই সে তাৎক্ষণিকভাবে গন্তব্যস্থলের দিকে যাত্রা শুরু করে। হঠাৎ স্ত্রী চক্কর দিয়ে বিছানায় পড়ে যায়। তার স্বাস্থ্য-মন বাস্তবিকই খারাপ হয়ে যায়। এ ছিল অভিজ্ঞতা অনুভূতির উন্নতি ও অদৃশ্য বিষয় সংকেত দেওয়া ও কাজ করার সুফল। কোন কোন সময় অবস্থা এরূপ হয় যে, আমাদের অনুভূতি পঞ্চইন্দ্রিয়ের শীর্ষে আরোহন করে সৃষ্টিজগতে সংঘঠিত কোন প্রিয় বস্তুকে বেষ্টন করে নেয়। মোহে নিমোজ্জিত হওয়া, কাশফ খোলা, ইলহাম, দৈবপ্রাপ্তি, সত্য স্বপ্ন, অদৃশ্য বাণী শোনা ও যুক্তি পেশকরা প্রভৃতি এর অন্তর্ভূক্ত হয়। জনৈক ব্যক্তি বর্ণনা করছিল, সে কফি হাউজে বসে কোন বিষয় নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করছিল। হঠাৎ সে অনুভব করে যে, তার ব্রেণ সমস্ত সৃষ্টিজীবকে আবেষ্টন করে নিয়েছে। এ অবস্থাকে প্যারাসাইকোলোজির (মনোস্তত্ত্বের) পরিভাষায় "আর ফাস্টমন স্যারি পরসিসেন" বলা হয়।
ডাক্তার এ্যালগিজেন্ড তার এক সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদনে এক অতি চিত্তকর্ষক ঘটনা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, তার জনৈক মক্কেল তার জীবনের এক আশ্চার্যজনক ঘটনা শুনিয়েছে। ঘটনা হল, সে একদিন তার ড্রয়িং রুমে চুপচাপ বসে ছিল। হঠাৎ সে অনুভব করতে থাকে, যেন কক্ষের ছাদ ভেঙ্গে নিচে পড়ে যাচ্ছে। আর তাৎক্ষণিকভাবে কোন অদৃশ্য শক্তি অতি দ্রুতগতিতে তাকে বাইরে নিক্ষেপ করছে। তার ধারনা মতে তা অবশ্যই কোন অদৃশ্য শক্তি ছিল। কেননা যখনই সে কক্ষ থেকে বাইরে বেরিয়ে যায়, ঠিক ঐ তখনই বিকট শব্দে ছাদ ভেঙ্গে নিচে পড়ে যায়। এ ঘটনার ব্যাখ্যা হতে পারে, ঐ ব্যক্তি মস্তকের শক্তি অনুভূতির সীমা থেকে উন্নীত হয়ে ছাদ ভেঙ্গে পড়ার বিষয় অনুভব করে নেয়। আর তার ক্যানডালি শক্তি (অন্তর্নিহিত গোপন শক্তি) বা স্যারনিপ্ট পাওয়ার সাধারণত: মানুষকে হেফাযত কতে পারে। আর তা তাকে কক্ষ থেকে উঠিয়ে বাইরে পৌছে দেয়। আপনার সাথে বর্তমান ও ভবিষ্যত বর্ণনা কারী বিস্ময়কর অসাধারণ ব্যক্তির সাক্ষাত হতে পারে। পূর্বে মহল্লাতে এরূপ এক বাঙালী যাদুকর ছিল। তার সম্পর্কে শোনা যায় যে, তার সাক্ষাতেজীন আসত। একবার এক ব্যক্তি তার সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে তার কক্ষে গিয়ে দেখে, ঐ বাঙলী বাঙা পা উপরের দিকে মাথা নিচের দিকে দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আর তার কতিপয় স্পশকাতর অংগে লম্বা লম্বা সুই ফুটানো আছে।
যোগ ব্যয়ামে মাথার উপর ভর করে দাঁড়ানো এক উল্লেখযোগ্য ব্যায়াম। অধিকাংশ সাধু ব্যক্তি এ ধরনের সাধনা করে। যাদের অধিকাংশ সময় মাথা ব্যথা হয় ও তালুতে চমক অনুভূত হয়। বাহ্যিক কোন কারণ ব্যতীত চেহারা লাল হতে শুরু করে বা মস্তকের রগ সমূহে কখনো বিদ্যুতের মত উজ্জ্বল মনে হয়। তখন মাথা নিচু করে অনুশীলন শুরু করা উচিত। এছাড়াও মাথা নিচু করার অনেক উপকারীতা রয়েছে।
জনৈক ব্যক্তি জ্বিনে ধরা এক মহিলার অবস্থা প্রসংগে বলেছিল, ঐ জ্বিনে ধরা মহিলার নিকট সর্বদা মহিলাদের ভীড় লেগে থাকত। যে তার নিকট কিছুর আবেদন করত, ঐ মহিলা তাৎক্ষণিকভাবে তা হাজির করে দিত। এক ব্যক্তি অনেক চিন্তা ভাবনা করে তার নিকট এক ফলের আবেদন করে, যা ঐ মৌসুমে কোথাও পাওয়া যেত না। ফলে মহিলাটি কিছু সময় ঐ ব্যক্তির প্রতি গভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। তারপর তার হাত পেছনের দিকে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর নিজের হাতে মুঠি খোলে। তখন তার হাতে একটি আম দেখা যায়। একদিন হঠাৎ ঐ মহিলা অদৃশ্য হয়ে যায়। তারপর সে কোথায় চলে গেছে এর কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। বিবেক বুদ্ধি ও বিজ্ঞানের আলোকে এ অবিশ্বাস্য দৃশ্যের কোন ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু প্যারাসাইকোলোজির মূলতত্বের মাধ্যমে এ বিষয় যথেষ্ট ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করা যায়। কেননা তার উদ্দেশ্য এ ধরনের মানুষের জ্ঞান ও মস্তকে ঘুমন্ত অবস্থায় অনেক শক্তির আনাগোনা করে। কোন কোন সময় অবস্থা এরূপ হয়, যা আবেগ-অনুভূতির আওতায় আসে না। এর কারণ আবেগের উত্তেজনা, পাকস্থলির গণ্ডগোল ও মানসিক অবসাদও হতে পারে।
জীবজন্তুর ভয়, বিতৃষ্ণা, প্রেমের উত্তেজনা, সাধারণ মাথা ব্যথা, যার ব্যাপক কোন কারণ নেই। নারীদের নমনীয়তা, জৈবিক চাহিদা, নিদ্রাহীনতা, আর্থিক অস্বচ্ছলতার দুশ্চিন্তা, অতিরিক্ত ধুমপান ও চায়ের নেশা প্রভৃতি অবশেষে মানসিক ব্যাধির কারণ হয়ে যায়। এসব অশান্তি আর আবেগের পেছনে অবশ্যই কিছু না কিছু কারণ আছে। অতি দ্রুত ব্রেণের সৃষ্টিগত শক্তিগুলো ক্ষতিগ্রস্থ করা এবং অচেতনা তার নিজেস্ব গণ্ডি থেকে সামনে অগ্রসর হওয়ার কারণে সে নিজেই তা আড়াল করতে শুরু করে।
এ কথা অবিস্মরণীয় যে, প্যারাসাইকোলোজী ও যোগব্যায়ামের সব অনুশীলনের উদ্দেশ্য হল শুধুমাত্র মানুষের দৈহিক অংগ-প্রত্যংগ সমূহকে নিয়ন্ত্রণে রেখে শক্তি ক্ষয় রোধ করা। দ্বিতীয়তঃ এ সব অনুশীলনের দ্বারা মনোযোগ ও ধ্যান-ধারনার শক্তিকে এক কেন্দ্রে একীভূত করে নেওয়া হয়। যখনই ধ্যান-ধারনা ও মনোযোগ এক লক্ষ্যে স্থির হয়ে যাবে, তখন শাহরগের জীবনী শক্তি জাগ্রত হতে শুরু করবে। অনুরূপভাবে মানুষের আভ্যন্তরীণ অনুভূতি শক্তির শীর্ষে আরোহন করে সুপার কানেকশনের শীর্ষে আরোহন করে কাজ শুরু করবে।
ভবিষ্যত দর্শনের বা গায়েব জানার যোগ্যতা সৃষ্টি করে নেওয়া কোন বিস্ময়কর বিষয় নয়। এখন থেকে হাজার হাজার বছর পূর্বে হামাবী ও ব্যবিলনের যাদুবিদগণ এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ ক্ষমতার অধিকারী ছিল। আপনি নিশ্চই জামশেদের নাম শুনে থাকবেন। যে কাঁচের মধ্যে গায়েবের অবস্থা দেখতে পেত। মূলতঃ চেতনা যখনই অবচেতনার সাথে স্বীয় সম্পর্ক ও সংযোগ ভঙ্গ করে, তখন গায়েব জানার সূচনা হয়। আগাম যুক্তি প্রদানের জন্য জরুরী হল, চেতনা ও অচেতনার সাথে সম্পর্ক (ডস এ্যাসোসিয়েশন অফ কনশাসন্স) অবশিষ্ট রাখা যাবে না। এভাবে হাজারো বছর পূর্বে পুরোহিত ও জ্যোতিষীগণ ভবিষ্যদ্বাণী পেশ করত। অনুরূপভাবে বর্তমানেও তা সম্ভব। এর জন্য প্রয়োজন হল, শুধু স্বীয় অবচেতন অনুভূতি সমূহকে জাগ্রত করে নেওয়া।
📄 আমাদের স্বপ্ন ও তার ধরন
আমরা ঘুমের ঘোরে অবশ্যই কিছু না কিছু স্বপ্ন দেখি। আবার কেউ কেউ নিজের স্বপ্নগুলোকে অতিগুরুত্ব দিয়ে থাকে। যাবত না সে কোন জ্যোতিষী, গনক ও ফকীর থেকে এর ব্যাখ্যা জেনে নেয়, ততক্ষণ পর্যন্ত সে স্বস্তি বোধ করে না। বাস্তবিকই আমাদের স্বপ্ন স্বস্থানে অতিগুরুত্বপূর্ণ। এভাবে তা ভবিষ্যত দর্শনের সারিতে এসে যায়। এ কারণে আপনি নিজের প্রয়োজনে এর কিছু বাস্তবতা অবশ্যই জেনে নিন। আমাদের স্বপ্ন বিভিন্ন ধরনের হতে পারে।
১. সাদা স্বপ্ন। ৩. নিদর্শনমূলক স্বপ্ন। ৫. কাশফের সংযোগে স্বপ্ন।
২. বিস্ময়কর স্বপ্ন। ৪. কারণ যুক্ত স্বপ্ন। ৬. রুইয়ায়ে সাদেকা বা সত্য স্বপ্ন।
আমাদের অধিকাংশ স্বপ্ন এরূপ হয় যে, আমরা জাগ্রত হওয়া মাত্রই তা আমাদের মন থেকে মুছে যায়। কোন কোন লোক স্বপ্নে হাসে, কাঁদে অথবা বিস্ময়করভাবে মুখ আঁকা বাঁকা করতে দেখে। অর্থহীন বিড়বিড় করাও স্বপ্নের একাংশ। আমদের সর্বদা ঘুমে ঐ অনুভূতির উদ্রেক হতে থাকে। তাতে কোন অজ্ঞাত অবস্থা বা বিষয় বিদ্যমান হয়। তা আমাদের অতীত বা ভবিষ্যতের সাথে জড়িত হয়। স্বপ্নকে মানুষের মনের উদাহরণীয় কাজের সাথে ব্যাখ্যা করা হয়। মানুষের ব্রেন প্রতি মুহূর্তে কিছু না কিছু চিন্তা করে। শয়ন করার পর যখন বাহ্যিক কাজ কর্মের আলোড়ন শেষ হয়ে যায়, তখন আবেগ-অনুভূতি তো নিজেই বিভিন্ন ধরনের আকৃতি তৈরী করতে থাকে অথবা অচেতনতার গোপন উৎসাহ-উদ্দীপনা অসমাপ্ত কামনা ও বাঞ্ছিত হওয়ার বিষয়গুলো স্বরূপ পরিবর্তন করে আমাদের সামনে আসতে শুরু করে। কোন কোন স্বপ্ন ভীষণ জটিল ও কঠিন হয়। যার ফলে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত মন ব্যতিব্যস্ত থাকে। কোন কোন স্বপ্ন বারবার দৃষ্টিগোচর হতে থাকে। বাস্তবে আমাদের স্বপ্ন সমূহের মৌলিকত্বও রয়েছে।
১. ভাণ্ডার সঞ্চয় না করা। ৩. রূপক বাকপটুতা।
২. এক স্থান থেকে অন্যস্থানে প্রত্যাবর্তন করা। ৪. অবচেতনতা বিন্যাস করা।
স্বপ্নের মাধ্যমে কামোত্তেজনার সংমিশ্রণও হতে পারে। কিন্তু এখানে আমাদের শুধু এ বিষয় জানতে হবে যে, আমরা যখন ভবিষ্যত দর্শনের অনুশীলন কালে কোন স্বপ্ন দেখি, তখন এর বিষয়বস্তু বুঝতে সক্ষম হই।
📄 ১. ভাণ্ডার সঞ্চয় না করা
এ ধরনের স্বপ্ন সমূহে আমাদের মনে নতুন-পুরাতন, ভালো-মন্দ অভিজ্ঞতা ও ঘটনাবলীর আনাগোনা শুরু হয়। এ ভাণ্ডার সঞ্চয়ণ অজ্ঞাতভাবে অনুভূতির পর্দায় পরিলক্ষিত হতে শুরু করে। উদাহরণ স্বরূপ মনে করুন! এক ব্যক্তি স্বপ্নে দেখছে যে, সে উড়োজাহাজে ভ্রমণ করছে। তাতে বিভিন্ন ধরনের আসন সাজানো হয়েছে। আর ঐ সব আসনে বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ বসে আছে। সে বাড়ী ভাড়া করে রশিদ প্রস্তুত করছে। বলা বাহুল্য, এ ব্যক্তি নিশ্চয় পৌর কর্পোরেশনের কর্মচারী হবে। কিন্তু কেরানী তাকে বাড়ী ভাড়ার রশিদ না দিয়ে সিনেমার টিকেট দিচ্ছে। এর উপর একশত টাকার নোটের মত বঙ্গবন্দুর ছবি অঙ্কিত আছে। তার অপর পিঠে টিভি টিকেটের চিত্রও রয়েছে। আবার টিকেটটি বাসের টিকেটের সমান।
এরূপ স্বপ্নের বিভিন্ন আংগিকের স্মরণীয় বিষয় সমূহ পরস্পরে এমনভাবে গড়বড় হয়ে গেছে যে, এর আসল উদ্দেশ্য কিছুই বুঝে আসে না।