📄 মানুষ অস্বাভাবিক ক্ষমতার মালিক
আমাদের এ পৃথিবীতে মানুষই রূহানী শক্তির অধিকারী প্রাণী। সে স্বীয় অভ্যাস মত অপছন্দ ও অপছন্দনীয় সব উপকরণ নির্ধারণ করতে সক্ষম। তদুপরি মানুষ অসংখ্য যোগ্যতার অধিকারী, তার প্রবৃত্তি কিছুটা জটিল। এ কারণে তাকে সহজে কোন বিষয় বুঝানো সম্ভব হয় না। তার দ্বারা এমন এমন কাজ সংঘটিত হয়, যা সাধারণ মানুষের দৃষ্টিতে অতিআশ্চর্য ও বিস্ময়কর মনে হয়। এটাকে অস্বাভাবিক ও সুপারন্যাচারাল নামে অভিহিত করা হয়। পক্ষান্তরে যদি সূক্ষ্মদৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করা হয়, তাহলে দেখা যায়, তার কুদরতের কারখানায় সুপার ন্যাচারাল বলতে কোন কিছুই নেই। সব বস্তুর সূচনা ও সমাপ্তি সৃষ্টিগত নিয়মের অধিন। এ কারণে এ জগতে কোন বস্তুই সৃষ্টির বাইরে নয়। আমাদের এ সৃষ্টিজগতে ফিত্রাতের অসংখ্য বিধানাবলীর কার্যকরীতা পরিলক্ষিত হচ্ছে, তন্মধ্যে হাতে গোণা কতিপয় বিধান আমরা জ্ঞাত। আর অসংখ্য বিধান আমরা জ্ঞাত হতে পারিনি।
সুতরাং যে বিষয়ে আমাদের জ্ঞান নেই, সেই বিষয়কে আমরা তাৎক্ষণিক ভাবে "সুপার ন্যাচারাল" বা অস্বাভাবিক বলে অভিহিত করি। অথচ তা অতি স্বাভাবিক। উদাহরণ স্বরূপ মনে করুন, আপনার মধ্যে এ যোগ্যতা আছে যে, আপনি শুধু স্বীয় ধ্যানের ক্ষমতাবলে চার হাজার মাইল দূরে বসে কোন ব্যক্তিকে প্রতিক্রিয়াশীল করতে পারেন, বা কোন ব্যাধিগ্রস্থ ব্যক্তিকে হাত দিয়ে স্পর্শ করে ব্যাধি মুক্ত করে দিতে পারেন। কোন ব্যক্তিকে কয়েক মিনিট নজর বন্ধী করে দেখতে পারেন। তাকে অজ্ঞান করে দিতে পারি। আপনি নিজ চোখ বন্ধ করে লাহোরের আনারকলি বাজার, লন্ডনের প্যাকাটির প্রতিচ্ছবি তৈরি করতে পারেন এমনকি ওখানের জীবন্ত জাগ্রত দৃশাবলি এভাবে আপনার সামনে এসে যায়, যেন স্বয়ং আপনি ওখানে চলাফেরা করছেন। তাছাড়া আপনি অন্যের মনের খবর বলে দিতে সক্ষম। এক নজরে তার পূর্বাপর সব ঘটনা জেনে নিতে পারেন। অধিকন্তু আপনি এক ঝলকের মধ্যে ভবিষ্যতে সংঘটিতব্য সব ঘটনাবলী বলে দিতে সক্ষম। আপনার আভ্যন্তরীণ এসব যোগ্যতা ফিতরাতের কোন না কোন বিধান অনুযায়ী হচ্ছে। কিন্তু আপনি যখন কোনো ব্যক্তিকে এরূপ অন্য কোন ক্ষমতায় মনোযোগী দেখতে পান, তখন তাকে তাৎক্ষণিকভাবে সুপার ন্যাচারাল বলে ফেলেন। অথচ সে শুধু সুপার নরমাল বা স্বীয় অভ্যাস অনুযায়ী কথা বলছে। মূলতঃ আমাদের এ জগতে স্বভাব বহিঃর্ভূত বা অস্বভাবিক বলতে কোন কিছু নেই।
তথাপি আমরা কখনো এখানে স্বচোখে এমন বস্তু দেখি, যা আমাদের স্বভাবের বিপরীত। এ রেলগাড়ী, উড়োজাহাজ, দূরালাপনি, টেলিভিশন ও বেতারযন্ত্র দেখতে দেখতে আমরা এগুলোর প্রতি এমন অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি যে, ওগুলো এখন আর আমাদের জন্য নতুন বা আশ্চর্যের কোন বস্তু নয়। কিন্তু ঐ সব বস্তু কোন জংলী বর্বর গোত্রের লোকজন দেখলে তারা এ গুলোর অপলক তাকিয়ে থাকবে। এগুলোকে যাদু বা দৈবাৎ কর্ম বলে ধারনা করবে। সর্বপ্রথম ভারতে যখন রেলগাড়ীর চালু হয়, তখন অশিক্ষিত গ্রাম্য লোকজন আগুন জ্বলে ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে দ্রুত গতিতে চলন্ত ইঞ্জিনের সামনে উভয় হাত জোড় করে কুর্নিশ করত। আর অগ্নি দেবতার দোহাই দিতে শুরু করত। সর্বপ্রথম যখন সিরিয়া ও হিজাজ অঞ্চলে গাড়ী চালানো শুরু হয়, তখন নিরক্ষর অজ্ঞ বেদুইনরা এটাকে শয়তানী কাজ চিহ্নিত করে বিভিন্ন স্থানে রেললাইন উপড়ে ফেলে। কিন্তু এখন আপনি বলুন তো, এমন কোন লোক আছে কি, যে রেলগাড়ী দেখে বিস্ময়ে হতবাক হবে বা চমকে উঠবে। এতো মাত্র কিছুদিন পূর্বে ১৯৬৪খ্রিঃ নভেম্বরে আমাদের করাচী শহরে নাজিমাবাদ এলাকায় রেল লাইনের উপর দিয়ে যাত্রী পরিবহন চালু হয়। সংবাদপত্রের মাধ্যমে জোরালোভাবে উক্ত রেলের শুভ উদ্ভোধনের কয়েকদিন পূর্বে থেকে ঘোষণা করা শুরু হয়।
কিন্তু সংবাদ পত্রের সাথে জড়িত ব্যক্তিও আহবানকারীগণ ব্যতীত সাধারণ লোকজনের মাঝে এ নিয়ে কোন উৎসাহ ও উদ্ধীপনা দেখা যায়নি। তবে পথ চলা অবস্থায় করাসংগ গেইট বন্ধ থাকার কারণে তামাশা দেখার জন্য কিছু লোক জড়ো হয় ঠিক। তবে কোন লোক নিজের কাজ ছেড়ে দেয় নি। আর না কেউ নিজেস্ব প্রয়োজনীয় কাজ ত্যাগ করে দেখার জন্য এসেছে। কিন্তু এ ঘটনা যদি এক শতাব্দি পূর্বে সংঘটিত হত, তাহলে কি আপনি মনে করতে পারতেন, করাচী লোকেরা এভাবে নিজ কাজে ব্যস্ত থাকত বা নিজ ঘরে বসে থাকত? নিশ্চয়ই নয়! পুরো শহর বাসীই প্রথম রেল চলার দৃশ্য দেখার জন্য রেল লাইনের উভয় পাশে মাইলের পর মাইল শুধু মানুষের মাথাই দেখা যেত। কিন্তু এখন যেহেতু চোখের কাছে রেলগাড়ী বিস্ময়কর কোন জিনিসই নয়, এ কারণে এ নিয়ে তাদের কোন গুরুত্ব নেই।
এখন আসুন। আমি এমন এক ব্যক্তির কথা আলোচনা করব যে, আপনার সাথে সাক্ষাত করে এক নজরে আপনার বিগত জীবনের সঠিক ঘটনাবলী সম্পূর্ণ সত্য ও সঠিকভাবে দিতে পারে। ঐ ব্যক্তি না আপনার সম্পর্কে অবগত না আপনার বংশ মর্যাদা সম্পর্কে জ্ঞাত। আর না আপনার অতীত জীবনের সাথে কোন সম্পর্ক ছিল। তারপর আপনি ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে কি ধারনা পোষণ করবেন? সে কি সুপার ন্যাচারাল ক্ষমতার অধিকারী? কস্মিনকালেও নয়। কিন্তু তার মাঝে এমন কতিপয় ক্ষমতা রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে পাওয়া যায় না। আমরা তাকে 'সুপার নরমাল' বলব। ঘটনা হল, আমরা এ সম্পর্কে উন্মুক্ত কাশফ, অদৃশ্য দেখা, বিস্ময়কর দৃশ্য, ভবিষ্যত বলা, প্রশস্থ বক্ষ, আর্থাস রিডংগ "ওয়াদান” বা ধ্যানের মাধ্যমে চিকিৎসা, ধ্যানের প্রতিক্রিয়া ঢেউয়ের আবর্তন, মেসমেরিজম, হিপনোটিজম। এ ধরনের আরো অনেক বিষয়কে সুপার ন্যাচারাল ধারনা করি। অথচ তা অতি সুপার নরমাল। প্রত্যেক ব্যক্তি বিশেষ বিশেষ অনুশীলন ও শ্রম সাধনার মাধ্যমে মস্তিস্কের ঐ ঘুমন্ত অনুভূতি সমূহকে জাগ্রত করে অস্বাভাবিক কাজ করতে সক্ষম হয়।
ইসলামের তাসাউফেও ঐ একই কারণে ঐ সব অস্বাভাবিক অভ্যাস অর্থাৎ কাল্ফ ও কারামতকে বিন্দুমাত্রও গুরুত্ব দেয়নি। আসলে গুরুত্ব রয়েছে নফসের নমনীয়তা, সৃষ্টির সেবা, নেক আমল ও সৎ চরিত্রতা, মহব্বতে নিমোজ্জিত হওয়া, তাওয়াক্কুল, ধৈর্য্য ও সহনশীলতা ও আল্লাহ তা'আলার মর্জির উপর সন্তুষ্ট হওয়ার। এ গুণাবলীকে নফসের জিহাদ বলা হয়। সব চেয়ে বড় সূফী ঐ ব্যক্তি, যিনি মুজাহাদা বা কৃচ্ছতা সাধনে সক্ষম। বাকী সব ধোঁকাবাজী। আপনি যদি নিজের মধ্যে অস্বাভাবিক মানসিক যোগ্যতা ও শক্তি তৈরী করতে চান, তাহলে নানাভাবে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত প্রবৃত্তিকে অনুশীলন করান। তখন দেখবেন, আপনার মধ্যেও অস্বাভাবিক ক্ষমতা জাগ্রত হয়ে যাবে।
এটা সম্পূর্ণ অনুরূপ বিষয়, যেভাবে শারীরিক ব্যায়ামের মাধ্যমে দেহের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ সমূহ মজবুত হয়। যোগ ব্যায়ামের মাধ্যমে নিজের মধ্যে নিমোজ্জিত বা বিলীন হওয়ার অবস্থা তৈরী করুন। তখন আপনি অন্যের দৃষ্টিতে সত্যই বিস্ময়কর ব্যক্তি হয়ে যাবেন। হিপনোটিজম শিক্ষা করুন। আর অন্যের প্রতি দৃষ্টি নিবন্ধ করে দেখুন। তাদের উপর ঘুম প্রবল করে দিন। তারপর আপনি তাদেরকে কাঠের পুতুলের মত নাচাতে পারবেন।
📄 সামনে অগ্রসর হও অথবা পথ ছেড়ে দাও
স্বভাবতঃ আপনি কখনো সহ্য করবেন না যে, কেউ আপনার পথ আগলে রাখুক। অথবা আপনার উন্নতি লাভে ইস্পাত কঠিন বাঁধা হয়ে দাঁড়াক। কোন কোন মানুষের ইচ্ছা ইস্পাত থেকেও কঠিন মজবুত হয়। তার ধ্যান-ধারনা ঝড়ো হাওয়া থেকেও বেশী ধ্বংসাত্মক ও প্রলয়ঙ্করী হয়। যখনই মানুষের আমিত্ব ও পাশবিক কামনা বাসনার সামনে কোন বাঁধা এসে দাঁড়ায়, তখন সে দুনিয়াকে জাহান্নামে পরিণত করার জন্য প্রস্তুত হয়ে যায়। কুদরতিভাবে প্রতিশোধ স্পৃহা প্রত্যেক মানুষের স্বভাবগত ব্যাপার। এ কারণে যখন কেউ আপনার চলার পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়, তখন আপনি তার প্রতি তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকাতে থাকেন। যেন আপনি তাকে কাঁচা খেয়ে ফেলবেন। এমতাবস্থায় আপনি তাৎক্ষণিকভাবে এক মুহূর্তের জন্য কিছু চিন্তা-ভাবনা করে নিন যে, আপনি কি কারো পথ রূদ্ধ করার জন্য দাঁড়িয়েছেন?
আপনি যে বাসে যাত্রী হয়ে আরোহন করতে যাচ্ছেন, ঐ বাসে অন্যান্য যাত্রীদেরও আরোহন করতে হবে। আপনি যদি ঐ বাসের দরজায় পৌছে ওখানে দাঁড়িয়ে যান এবং অত্যন্ত বেপরোয়া মনে আপনার জুতার ফিতা বাঁধতে শুরু করে দেন, তাহলে অন্যান্য যাত্রীদের বাসে আরোহন করতে নিশ্চিত কষ্ট হবে। তাদের রাস্তা ছেড়ে দিয়ে সামনে অগ্রসর হয়ে জুতার ফিতা বাঁধুন। যদি আপনি তা না করেন, তাহলে পেছন থেকে আগত কোন শক্তিশালী যাত্রী আপনাকে রাস্তা থেকে উঠিয়ে কোন আবর্জনার স্তূপে ছুড়ে ফেলবে। এভাবে না শুধু আপনি ঐ বাসে আরোহন করতে পারবেন বরং আপনি নিজ জুতার ফিতাও বাঁধতে পারবেন না। মানুষ উৎসাহ ও অভ্যাসে কিছুটা এমন যে, সে এগুলো ছাড়া জীবন যাপন করতে অক্ষম হয়ে পড়ে। আর যদি এগুলো ছাড়া বেঁচেও তাহলে সে মানবাকৃতিতে নয় বরং এক ফিরিশতা বা কাঠের পুতুল হয়ে থাকবে। মানুষ স্বীয় উৎসাহ ও অভ্যাসের বুলি দিয়ে সকল প্রকার বিপদ-আপদ সহ্য করে, সপ্তপৃথিবী পর্যন্ত পরিভ্রমণ করে ফেলে। অবশ্য জন্মের পর থেকেই মাতা-পিতার পক্ষ থেকে এ প্রচেষ্টার সূচনা হয় যে, আপনার স্বাস্থ্য যেন কখনো খারাপ না হয়। আপনার দৈহিক গঠন যেন হালকা পাতলা না হয়। আপনার দৈহিক গঠন যেন নিখুঁত ও সুঠাম সবল থাকে।
সামান্য হুঁশ জ্ঞান হওয়ার পর আপনি নিজে স্বেচ্ছায় শারীরিক ব্যায়াম করা শুরু করেন। যাতে আপনার হাড় সমূহের উপর সাধারণভাবে গোশত জমাট হয়ে যায়। দেহের কোন অংগ-প্রত্যংগ যেন ঢিলেঢালা বা রুচিহীন দেখা না যায়। বরং দেখা যায় কোন এক স্থানে চর্বি জমে যাওয়ার ভয়ে আপনি বছরের পর বছর ব্যায়াম করতে থাকেন। উত্তম বলবর্ধক খাদ্য ভক্ষণ করতে থাকেন। যদি কখনো পাকস্থলী লিভার, হৃদপিণ্ড, ফুসফুসে কোন গোলযোগ দেখা দেয়, তখন এর চিকিৎসায় অকাতরে হাজার হাজার টাকা ব্যয় করেছেন। কিন্তু কত আক্ষেপের বিষয় যে, আপনি আপনার মেধাকে সুস্থ্য রাখার ও আপনার প্রতিভাগত যোগ্যতাকে জীবনী শক্তি দান করার জন্য কখনো কিছু করেননি। আর না আপনার মাতা-পিতা এ বিষয়ে বিশেষ কোন মনোযোগ দিয়েছে। এমনকি এ নিয়ে কখনো গভীর দৃষ্টিতে চিন্তা-ভাবনাও করেননি।
আপনি এবং আপনার মাতা-পিতা যদি মেধাগত যোগ্যতা বিকাশের উদ্দেশ্যে বেশী কিছু করে থাকেন, তাহলে শুধু এতোটুকু করেছেন যে, আপনাকে কোন স্কুলে বা কলেজে শিক্ষা লাভের উদ্দেশ্যে ভর্তি করে দিয়েছেন। কেউ আপনার মেধাগত যোগ্যতা জানার ও বিকাশের জন্য কখনো কোন চেষ্টা করেনি। বাস্তবে আপনার কোন ধরনের শিক্ষালাভ করা জরুরী ছিল? আপনার মেধা ও প্রতিভা কোন ধরনের শিক্ষার জন্য যথোপযুক্ত ছিল? যদি আপনি নিজে খেলার বলের মত জিতে গিয়েছেন, তাও আপনি স্বীয় লেখা পড়া পূর্ণাঙ্গ করে লাভ করেছেন। তথাপি তাতে আপনার কোন লাভ হয়নি। তার পর সামনে অগ্রসর হয়ে আপনি আপনার কারবারে মনোনিবেশের শিক্ষা লাভের মনোভাবকে সম্পূর্ণ রূপে ত্যাগ করে দিয়েছেন। আপনার জন্য ঐ বইগুলো স্পর্শ করা এরূপ হয়ে গেছে, যেন কোন স্থায়ী রোগাক্রান্ত বন্ধুর সেবা করার উদ্দেশ্যে গমন করা। চোখের পর্দা স্থির করুন। শুধু কিতাব স্পর্শ করায় কোন উপকার নেই, যাবত আপনি ঐ কিতাবের বর্ণনা মোতাবেক পর্যবেক্ষণ ও অনুশীলন না করবেন। আর অনুশীলনের জন্য দৃঢ় মনোবলের প্রয়োজন। অগোছালো কোন কাজ করার চেয়ে উত্তম হল ঐ কাজে হাত না দেওয়া। কিছু দূর পথ চলার পর খরগোশের মত গাছের শীতল ছায়ায় সুখ নিদ্রায় বিভোর হয়ে পড়ার চেয়ে সামনে কোন পদক্ষেপ না নেওয়াই শ্রেয়।
আপনি দৃঢ় মনোবল নিয়ে কিছু দূর এগিয়ে দেখুন, আপনি কিছু করতে পারছেন কি না? অনুশীলন ও প্রচেষ্টার মাধ্যমে আপনি একের পর এক অদৃশ্য শক্তির উপর নিয়ন্ত্রণ লাভ করতে পারবেন। আপনি সামান্য পরিশ্রম ও অনুশীলনের পর না শুধু আপনার মধ্যে ঐ ভবিষ্যদ্বাণী করার যোগ্যতা তৈরী করে নেবেন বরং আপনার ধ্যান-ধারনাকে অন্যদের উপর অদৃশ্য আলোর কিরনের মাধ্যমে পরিবর্তন করে নিতে পারবেন। যে কোন ব্যক্তিকে আপনি হিপনোটাইজ করে তার অন্তরের কথাও শুনে নিতে পারবেন। কোন মহিলার চোখে চোখ রেখে আপনি ঐ মহিলাকে সারা জীবনের জন্য আপনার পূজারী ও দাসী বানিয়ে নিতে পারবেন। চন্দ্র ও নক্ষত্রের কাঁধে কাঁধে ঘুরে আপনি অগণিত অনন্ত অসীম সৃষ্টিজগত পরিভ্রমণ করতে সক্ষম হবেন। আর তখন এ মহাবিশ্ব আপনার সামনে এক ক্ষুদ্র অণুকণা মনে হবে। উঠুন, আপনি দৃঢ় মনোবল নিয়ে সামনে অগ্রসর হতে থাকুন। বাঁধা বিঘ্ন অতিক্রম করে অসীম সৃষ্টিজগতের মনজিলসমূহ পরিভ্রমণ করে আসুন। এ সবকিছু আপনার পাকাপোক্ত ইস্পাত কঠিন দৃঢ়তার মুখাপেক্ষী।
কিন্তু এর জন্য প্রয়োজন দৃঢ়মনোবল। এক পাহাড় বেষ্টিত স্থানের মত স্বস্থানে অটল অনড় ও সুদৃঢ় মনোবল ও অসহনীয় অপরাজেয় ফয়সালা গ্রহনের পর আপনি ভবিষ্যত দর্শন বা অদৃশ্য জ্ঞান লাভের যোগ্যতা অর্জনের জন্য সামনে অগ্রসর হন। আল্লাহ তা'আলার মহিমায় অবশ্যই আপনি আপনার লক্ষ্য স্থলে পৌঁছতে সক্ষম হবেন। সুদৃঢ় মনোবল গোপনীয় শক্তি সমূহ আপনার আজ্ঞাবহ হয়ে যাবে। আপনি বাইরে চর্তুদিক পর্যবেক্ষণ করে দেখুন। ক্ষেতের ফসল পেকে কাটার জন্য তৈরি হয়ে আছে। কিন্তু তা কাটা এবং নিজের ব্যবহারযোগ্য করার লোকের অভাব অনেক বেশী। এখন আপনার হাতে ফসল কাটার একটি যন্ত্র আছে। যা আপনি নিজের মর্জি ও সামান্য শৃঙ্খলার সাথে নিজ কাজে ব্যবহার করতে পারেন। আপনি যদি নিজের অব্যাহত প্রচেষ্টাকে এভাবে চালু রাখাতে স্বচেষ্টা হোন, তখন আপনি না শুধু ঐ তৈরি ফসল কেটে আনবেন বরং তখন বীজ বপন ও অন্যান্য জমিন সমূহের দেখা-শোনার দ্বায়িত্বও আপনার উপর ন্যস্ত করা হবে।
ভবিষ্যত দর্শনের স্বভাবকে কৌশল ও নমনীয়তার সাথে ব্যবহার করার মনোভাব পয়দা করে আপনি নিশ্চিত উজ্জ্বল ভবিষ্যত ও দীপ্তিমান অতীতের মালিক হয়ে যাবেন। অতি দ্রুততার সাথে কস্মিনকালেও কোন কাজ করবেন না। নৈরাশ্যতা হল, ঈমান একীনের দুর্বলতার অপর নাম, এটা হল সীমাহীন পেরেশানী। যা পরবর্তী সময় ধাপে ধাপে দৈহিক ব্যাধির আকারে প্রকাশ পায়। যদি আপনি একবার কোন মনজিল স্পর্শ করতে পারেন, তাহলে অবশিষ্ট মনজিল সমূহে পৌঁছা আনেক সহজ হয়ে যাবে। সামনে অগ্রসর হন। আর দৃঢ় মনোবল, চারিত্রিক দৃঢ়তা ও কৌশলের সাথে অদৃশ্য বিস্ময়কর শক্তি সমূহের উপর নিয়ন্ত্রণ লাভ করতে থাকুন।
📄 ভবিষ্যত দেখা অস্বাভাবিক নয়
মানুষের মধ্যে এমন কতিপয় ক্ষমতা ও শক্তি বিদ্যমান আছে, যা কখনো কখনো প্রতিভাকে অনুভূতির উচ্চস্তরে উঠিয়ে তাকে এরূপ কিছু রহস্যপূর্ণ শক্তির আঁধার বা মুজিজা সাদৃশ্য স্বভাব ধর্মীয় নিয়মাবলীতে পরিপূর্ণ করে দেয়। যার সঠিক অলৌকিকতা ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করা অসম্ভব। আমরা স্বাভাবিক জ্ঞানের আলোকে এর ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করতে অক্ষম।
খ্যাতনামা ঐতিহাসিক গীবনের অভিমত অনুযায়ী মানব ইতিহাস ধ্বংসের কলঙ্কে ভরা। কেননা মানব ইতিহাসের সূচনা থেকে বর্তমান আধুনিক যুগ পর্যন্ত বিভিন্ন সময় নানা দুঃখজনক ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। প্রত্যেক যুগে প্রত্যেক গোত্রে এ ধরনের ঘটনাবলী পরিলক্ষিত হয়েছে। যেগুলো অস্বাভাবিক বা স্বভাব বহির্ভূত ঘটনা বলে ব্যক্ত করা হয়। ভবিষ্যত দর্শন, যাদুমন্ত্র, মুজিজা ধর্মী ভবিষ্যত বাণী, দ্বৈব দান, কাশফ্ট, ইশরাফ। মোটকথা সব অবস্থাকে শুরু থেকে অস্বীকার করা হয়েছে। এ অস্বীকৃত নিতান্তই ভ্রান্ত।
পৃথিবীর প্রত্যেক গোত্রে এ ধরনের লোক পাওয়া যায়, যাদেরকে জ্যোতিষী, যোগী, সাধু, সন্যাসী পুরোহিত ফকহী বলা হয়। যাদুকর, ভবিষ্যত বক্তা, ভবিষ্যত দ্রষ্টা বলা হয়। এ সব লোক কখনো উর্ধ্ব জগতের প্রাণ কেন্দ্র থেকে কথা বলে থাকে। আর কখনো দূরারোগ্য ব্যাধিগ্রস্থদের ব্যাধি নিরাময়কারী হয়ে যায়। এ পৃথিবীতে এরূপ পয়গম্বর ও নবীর আবির্ভাব হয়েছে, যাদেরকে আল্লাহ জ্ঞান বহির্ভূত অস্বাভাবিক মুজিজা দান করেছেন। হযরত ঈসা (আ.) এর পবিত্র সত্ত্বায় এমন অস্বাভাবিক ক্ষমতা রেখে ছিলেন যে, তিনি পবিত্র হাতের স্পর্শে ব্যাধিগ্রস্তদের সুস্থ্য করে দিতেন। আমাদের প্রিয়নবী ঐ মুজিজা যাকে "شق القمر" তা বা চন্দ্র দ্বি-খণ্ডিত করা বলা হয়, তা অদ্যাবধি অগণিত অসংখ্য মানুষকে বিস্ময়ে হতবাক করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।
হযরত উমর রাযি. এর ঐ ঘটনাও কম বিস্ময়কর ছিল না, তিনি মসজিদে নববীতে বসে খুতবা পাঠরত অবস্থায় হাজার মাইল দূরে যুদ্ধরত মুসলিম বাহিনীকে জরুরী উপদেশ দান করেছেন। আর ঐ বাহিনী নিকটবর্তী পাহাড়ের পাশ থেকে ঐ আওয়াজ স্পষ্টভাবে শুনতে পেয়েছে। হযরত ঈসা (আ.) এর এক দৃষ্টান্ত তো বর্তমানে ফ্রান্সের লারজুড গ্রামে পাওয়া গেছে। সেখানে রোমান ক্যাথোলিক আকিদায় বিশ্বাসী জনৈক পাদ্রী শুধু হাতের স্পর্শে ও ঝাড় ফুঁকের মাধ্যমে কোটি কোটি ব্যাধিগ্রস্থ লোককে সুস্থ করে দিচ্ছে। আসমানী গ্রন্থ সমূহে স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করা হয়েছে, "অবশ্যই পাবে, একাগ্র মনে আমার নাম নিয়ে যা চাইবে।"
মানুষ যদি পূর্ণাঙ্গ গভীরে মনোযোগের সাথে চিন্তা-ভাবনা করতে থাকে। তাহলে সে নিজের মধ্যে খোদার এক গোপনীয় শক্তি অনূভব করতে পারবে। প্রত্যেক ব্যক্তি প্রথমে পরামর্শের দ্বারা তাৎক্ষণিকভাবে অনুভব করতে পারে। মহান আল্লাহ তা'আলা এ শক্তি সব মানুষকে দান করেছেন, যাতে সে জড়পদার্থের শক্তি সমূহ ছাড়াও এ ধরনের পূর্ণাঙ্গ গোপনীয় শক্তির দ্বারা পুরোপুরি উপকৃত হতে পারে। কিন্তু অনেক লোক ঐ শক্তি সমূহকে অবৈধ ও ভ্রান্ত পথে ব্যবহার করছে।
ষোল শতকের ইউরোপের ইতিহাসে এরূপ বহু যাদুকর তন্ত্রমন্ত্রবিদ, কারিশমাগীর মহিলাদের ঘটনাবলী আছে। তাদের মধ্যে কাউকে শূলে চড়ানো হয়েছে। কাউকে জীবন্ত আগুনে নিক্ষেপ করা হয়েছে। কাউকে প্রকাশ্য আদালতে দোষী সাব্যস্ত করে প্রস্তরাঘাতে হত্যা করা হয়েছে।
ইয়াহুদীদের গোপন রহস্যবিদ দল কাবালাহ। কাবালাহ গোত্রের যাদুকরদের যথেষ্ট খ্যাতি রয়েছে। এসব যাদুকরদের নিয়ন্ত্রণে অস্বাভাবিক ক্ষমতা ছিল। তাদের নামে মানুষ প্রাণ উৎসর্গ করত। গোপন রহস্যময় জড়ি বুটির কারিশমা, লিখিত তাবিজ, তন্তর মন্তর, যাদুটোনা, নযরবন্দী, মোহমন্ত্র, অধঃপতনের জ্ঞান, আত্মা হাজির, গোপনীয় জ্ঞান, উচ্চাঙ্গ আমল মোটকথা অনেক নামে এগুলোর নামকরণ হয়েছে। এটাকে ভালো-মন্দ সবলোকের সাথে সম্পর্কিত করা হত। খোদ আমাদের দেশে (পাকিস্তান) শাহ সাহেব, পীরজী বাবা, গিসু দরাজ, আরো অনেক পরিচিতি বুযুর্গ অনেকেই রয়েছে। কিন্তু আল্লাহ না করুন, আমার উদ্দেশ্য তা নয়। তাদের মধ্যে সব লোকেরাই খারাপ হয়ে গেছে। কেউ কেউ সত্যই পূর্ণাঙ্গ গোপনীয় শক্তির মালিক হয়েছে। তাদের মধ্যে ভালো লোকও আছে। আর তারা স্বীয় শক্তি সমূহের দ্বারা ভালো কাজ করছেন। রুহানীয়াত স্বস্থানে অপ্রতিহত বাস্তব সত্য। যার দ্বারা অগণিত অসংখ্য মানুষ উপকৃত হচ্ছে। এ বিশ্বাস স্বস্থানে অনড়-অটল। আমি তা কখনো মিথ্যা বা ভ্রান্ত বলছি না।
কিন্তু আধ্যাত্মিকতা না কোন ধ্যান-ধারনা আর না যাদু বরং মজবুত নিবিড় বিজ্ঞান। যেভাবে আপনি উড়ো জাহাজ চালানো শিক্ষা করছেন, গাড়ী চালানোর জন্য প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছেন। অনুরূপভাবে আধ্যাত্মিকতার উপর কর্তৃত্ব অর্জনের জন্য নিয়ম মাফিক শিক্ষা গ্রহণ করা এবং যুক্তিসংগত অনুশীলনের প্রয়োজন হয়। এখানে প্রেতাত্মার বাসস্থান, জ্বিনদের পাহাড়, প্রজ্বলিত আগুনের মধ্যে চলা, বিষাক্ত সাপ চিবিয়ে খাওয়া বা আত্মা হাজির করা সম্পর্কে আলোচনা করা হচ্ছে না। তাছাড়া এসব বিষয় যথেষ্ট ব্যাখ্যা বিশ্লেষণযোগ্য। যে ব্যক্তি এগুলোকে অস্বাভাবিক কাজ মনে করে, সে ভ্রান্ত ধারনায় নিমোজ্জিত। ঐ ব্যক্তি এসব বিষয়ে বিশ্বস্ততা ও সততার সাথে জ্ঞানগর্ভ ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করতে পারে। কেননা এ বিধান ফিতরাতের অটল অনড় বাস্তবতাকে এক চুল পরিমাণও অস্বীকার করা যায় না। সর্বপ্রথম যখন বেতারযন্ত্র আবিষ্কৃত হয়, তখন এটাকে যাদু আখ্যায়িত করা হয়েছে। দূরালাপনীও বিস্ময়কর কারিশমা ছিলো। কিন্তু বর্তমানে এসব বস্তু আমাদের জীবনের অপরিহার্য অংশে পরিণত হয়েছে।
মানুষের মধ্যে এ সমস্ত শক্তি বিদ্যমান আছে। আমাদের প্রতি মুহূর্তে সেই সব শক্তির বাহ্যিক নিদর্শনের মোকাবিলা করতে হয়। সেসব নিরেট খাটি জড় পদার্থের হাকীকতের সমষ্টি, আর এসব হল খাটি রুহিয়াত। এর মধ্যে প্রয়োজনীয় জড় পদার্থের প্রয়োজন হয়। আপনি কখনো কি টেলিগ্রাফের নিয়মাবলীর প্রতি লক্ষ্য করেছেন? মানুষের মস্তকেও এ ধরনের বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান রয়েছে, যাকে আপনি মস্তিস্কের টেলিগ্রাফ বা টেলিপ্যাথি বলছেন। এ আধুনিক যুগে টেলিভিশন টেলিভিশনের প্রতিচ্ছবির প্রতিনিধিত্ব করছে না? মানুষের বিবেক-বুদ্ধি প্রতিভা রেডিও, টেলিফোন ও টেলিভিশন আবিষ্কার করেছে। এসব তার নিজের মস্তকের উপকরণের কোন অংশের সাথে কম সাদৃশ্যপূর্ণ নয়। সে বিদ্যুত ও পেট্রোলের সমন্বয়ে যে দ্রুতগামী শক্তি উদ্ভাবন করেছে, এ ধরনের শক্তি স্বয়ং তার অনুভূতির মধ্যে লুকায়িত আছে।
প্রাচীন কালে কিছু লোক এ ধরনের গোপনীয় শক্তির সাহায্যে কাজ করত। আর বর্তমান বিজ্ঞানের যুগেও এধরনের অনেক বিশেষজ্ঞ আছে। সামান্য চিন্তা করে দেখুন। যে আবিষ্কার প্রতিভা ও অনূভতি বিভিন্ন ধরনের জটিল দূর্লভ বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি ইনিজনিয়ারিং প্রযুক্তি জন্ম দিয়েছে, ঐ শক্তি সত্ত্বাগত দিক থেকে কিরূপ হতে পারে? আমরা এরূপ আশ্চর্যজনক বিস্ময়কর আবিষ্কার দেখে মাথা ঠুকছি। আর অধিকাংশ সময় বিস্মিত ও হতবাক হয়ে যাচ্ছি। কিন্তু এ বিষয় আমরা কখনো গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করে দেখছি না যে, কুদরত আমাদের মস্তকেও এ ধরনের অগণিত অসংখ্য সীমাহীন শক্তি ও যোগ্যতা দান করেছেন। মানব জীবন যেসব কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িয়ে আছে, আমরা নিম্নে ঐ সব বিষয়কে বিভিন্ন শিরোনামে উল্লেখ করছি।
১. কিছু কাজ এককভাবে জীবনে স্থায়ীত্ব দৃঢ়তা ও উন্নতি লাভে সহায়ক হয়। (ক) কিছু কাজ সরাসরি কোন মাধ্যম ছাড়া হয়। (খ) কোন কিছুর মাধ্যমে হয়। এর প্রথম কাজ সমূহ যার জন্য আমাদেরকে বাহ্যিক কোন শিক্ষা বা উপদেশ গ্রহণ নিঃস্প্রয়োজন বরং খোদ ফিতরাত তা শিক্ষা দান করে। এ ধরনের অধিকাংশ কাজ এরূপ যে, আমাদের ইচ্ছা ও কল্পনাতিতভাবে নিজে নিজেই হতে থাকে। আর আমাদের এর খবর পর্যন্ত হয় না। যথা হৃদপিণ্ডের স্পন্দন, রক্ত চলাচল, শ্বাস নিঃশ্বাসের কাজ ইত্যাদি। তারপরও তার নিয়মানুযায়ী ও বাঁধা বিঘ্ন ব্যতিরেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে চলতে থাকা তাতে আমাদের বিবেক বুদ্ধি হতবাক হয়ে যায়।
ক্ষুধা নিবারণের জন্য খাবার খাওয়া, তৃষ্ণা মিটানোর জন্য পানি পান করা, ঘুমানোর জন্য শুয়ে পড়া, এ সবগুলো এমন কাজ, যাকে স্বভাবধর্মী বলা হয়। এছাড়াও এমন কতিপয় স্বাভাবিক কাজ কর্ম রয়েছে, যেগুলো আমাদের অনুভূতির পাহারাদারের কাজ করে। আর তাদেরকে সহজভাবে পূর্ণ হতে দেয় না। এ সবের মধ্যে প্রতিশোধ গ্রহণ ইত্যাদি। দ্বিতীয় প্রকারের কাজ সমূহ, যার উপর ব্যক্তিগত জীবন শর্তের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়ে আছে, তা হল, যেসব কাজ কর্মকে জীবিকা নির্বাহের কাজ বলি। একাধিক উপায়ে জীবিকা নির্বাহ করা যায়। যথা চাকুরী, ব্যবসা, কারিগরি পেশা ইত্যাদি। কিন্তু যদি আমরা সুস্থ্য দৃষ্টিতে চিন্তা করে দেখি, তাহলে তাতে কিছু বস্তুকে সাধারণভাবে একীভূত দেখতে পাই।
সামান্য চিন্তা-ভাবনা করে দেখুন। একজন কর্মচারীর সফলতার ভিত্তি কিসের উপর নির্ভরশীল হতে পারে। তা শুধু দু'টি বিষয়ের উপর নির্ভরশীল। অর্থাৎ স্বীয় মনিবের মন-মেজাজ সম্পর্কে ভালো অভিজ্ঞতা লাভ করা। তার স্বভাব, পছন্দ-অপছন্দ, হাসি-মজাক সম্পর্কে ভালোভাবে অবগতি লাভ করা। তার জন্য ঐকান্তিক পরিশ্রম, আনুগত্যের সাথে আদেশ পালন ও নিরলসভাবে সেবা করে চলা। ঐ সব কাজ অতি উৎসাহ ও উদ্দীপনার সাথে সমাপ্ত করা।
আপনাকে ঐ দু' জিনিসের মাধ্যমে স্বীয় জীবনে লক্ষ্য অর্জন করতে হবে। সেই সাথে ঐ সব গোপন শক্তি সমূহের নিয়ন্ত্রণ লাভ করা। ঐ গুলোকে নিজের ইচ্ছা মত পরিচালনার প্রশিক্ষণ লাভ করা। যাতে সাধারণ মানুষ বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যায়। ব্যক্তিগত উন্নতির জন্য আমাদেরকে যেসব বাস্তবতার মুখোমূখী হতে হয়, তাও দু'শ্রেণীতে বিভক্ত হয়েছে।
(১) জড় পদার্থের মাধ্যমে উপার্জন। (২) মস্তিস্কের মাধ্যমে উপার্জন।
এখানে রূহ সম্পর্কে আলোচনা করা হচ্ছে না। কেননা রূহের উপর দ্বীন-ধর্মের আকাঈদের সীলমহর লাগিয়ে দেয় হয়েছে। এ কারণে রুহীয়াত বা মূলতত্ত্ব (সারূপককইজম) কে আধ্যাত্মিক দৃষ্টিকোণ থেকে দ্বীনের আকাঈদ সংক্রান্ত বিষয়কে নিষ্প্রাণ মনে করা হয়। এ পর্যন্ত আপনি (জড় পদার্থের মাধ্যমে উপার্জন লাভ করেছেন। এখন আপনি নিজের মেধাশক্তি খাটিয়ে কাজ করতে শিখুন। কিন্তু আপনি এ সব কাজকে অস্বাভাবিক মনে করবেন না। মানুষের মাঝে একদিকে যেমন সূক্ষ্মতর ইন্দ্রিয় রয়েছে, অন্য দিকে রয়েছে আকাট্য বাহ্যিক আকৃতি অর্থাৎ গোশত, চামড়া, হাড্ডি ও অংগ-প্রত্যংগর দৈহিক আকৃতি রয়েছে। আপনার এক নাক প্রকাশ্য আরেক নাক অপ্রকাশ্য। আপনার চোখ চারটি। দুটি দৈহিক, আর দুটি মানসিক। অনুরূপ উৎসাহ-উদ্দীপনা, অনুভূতি, ধ্যান-ধারনা ও দু'টি আকৃতি রয়েছে। আপনি যখন কোন মনোরম দৃশ্য অবলোকন করেন। তখন অন্তরে খুশির আমেজ দেখা দেয়। আর যখন ভয়ংকর কোন শব্দ শুনতে পান, তখন আপনার হৃদ কম্পনও বেড়ে যায়। আপনি কখনো চিন্তা করে দেখেছেন কি -এতদুভয়ের মধ্যে কে সম্পর্ক স্থাপন করে রেখেছে? সম্ভবতঃ আপনি এটাকে যুক্তিবিজ্ঞান ও দলীল-প্রমাণ বলবে। আপনি এর দ্বারা ভাল মন্দের পার্থক্য নিরূপন করেন। কিন্তু যুক্তিবিজ্ঞান ও দলীলপ্রমাণের শক্তির প্রাণ কেন্দ্র কোথায়। আপনার অনুভূতি যার সম্পর্কে এ পর্যন্ত আপনি পুরোপুরি অবগত নয়। স্মরণ রাখুন রূহয়ীয়াত বা মূলতত্বের প্রয়োগ মূলতঃ অস্বাভাবিক অনুভূতি শক্তি ও তার কাজের মাধ্যমে লাভ হয়।
আপনি এখন প্রস্তুতি গ্রহণ করুন, আপনাকে এখন একান্ত দৃঢ়তা ও ইস্পাত কঠিন মনোবলের সাথে ব্রেণের অদৃশ্যশক্তি সমূহের উপর নিয়ন্ত্রণ লাভ করতে হবে। এখন আপনি নিজের মধ্যে ভবিষ্যত দর্শনের শক্তি ও যোগ্যতা পয়দা করতে থাকুন। যাতে আপনি ঐ বিস্ময়কর শক্তির মাধ্যমে মানব কল্যাণ ও উন্নতির জন্য উল্লেখযোগ্য গৌরবময় ইতিহাস সৃষ্টি করতে পারেন। মানুষের ব্যক্তিগত জীবনকে সাফল্যমণ্ডিত করে দিতে পারেন। এ শক্তির বলে আপনি যে কোন লোকের উপর প্রাধান্য বিস্তার করতে পারবেন। মনোস্তত্বের পর প্যারাসাইকোলোজী পৃথক এক পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান। জড় বিজ্ঞানে ধারাবাহিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানোর পর আপনি যেভাবে এক ব্যারোমিটার (বায়ুর গতি পরিমাপক) যন্ত্র উদ্ভাবন করতে পারেন, অনুরূপভাবে আপনি ধারাবাহিক প্রচেষ্টা ও অনুশীলনের মাধ্যমে আপনার ব্রেণের সেই সূক্ষ্ম অনুভূতি জাগ্রত করতে পারেন। যা আপনাকে ঝড় আসার পূর্বাভাস দিতে সক্ষম হবে। বিরাট প্রশস্ত এ পৃথিবীকে গুটিয়ে এক বিন্দুর সমান করে আপনার সামনে হাজির করে দেবে। তখন আপনি এ সৃষ্টিজগতের প্রতিটি অংশকে অত্যন্ত সহজভাবে প্রত্যক্ষ করতে পারবেন। আপনার দেখা এতো নিখুঁত ও নির্ভুল হবে যে, কোন কোন সময় আপনার নিজের যোগ্যতা দেখে আপনি নিজেই বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যাবেন। আপনি অনুকূল পরিবেশে সর্বদা সব কিছু থেকে স্বাভাবিকভাবে উপকৃত হতে থাকবেন।
📄 শক্তির উৎস নফসে আম্মারাহ
মনোস্তত্ত্ববিদগণ বছরের পর বছর পরীক্ষা নিরীক্ষা করে এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, মানুষ উন্নতি লাভকারীজীব এ সৃষ্টিজগতের এক দূর্লভ শক্তি। আর এ শক্তিকে শানিত করে তার চেতনাবোধ। মূলতঃ চেতনাবোধই প্রাণীজগতকে অনুভূতিহীনতার স্তর থেকে সামনে নিয়ে যায়। আপনিও স্বচক্ষে দেখে থাকবেন, যে ব্যক্তি স্বজাতির দিক থেকে শক্তিশালী হয়, তার বুদ্ধি ও প্রতিভা উত্তম হয়। মানবিক চেতনা বোধ এবং চেতনাহীনতা বৃদ্ধি পায় তার স্বভাবগত আগ্রহ-উদ্যমের দ্বারা। তার প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার বিষয়টিও এর মাধ্যমে নিরূপণ করা হয়। যদি স্বভাবগত শক্তি ভ্রান্ত পথে ব্যয় হয়ে যায়, তাহলে এর পরিণতি সর্বদা দুঃসহ হয়। যে ব্যক্তি নৈতিকতা বিরোধী কাজে অভ্যস্থ হয়ে যায় এবং স্বভাষাগত শক্তি অনায়াসে নষ্ট করতে থাকে, এ ধরনের লোক সর্বদা পথের ভিখারী হয়ে থাকে। এমনকি নিজের মস্তিষ্ক বিকৃতির কারণে জীবন থেকে বিতৃষ্ণ হয়ে যায়। স্মরণ রাখতে হবে, আমাদের দেহ-মনের সব শক্তির উৎস হল আত্মিক চেতনাবোধ। যাকে নফসে আম্মার বলা হয়। এ ভূতকে এক হিংস্র গরিলার সাথেও উপমা দেওয়া যেতে পারে। কেননা মানুষ তার স্বভাব ও প্রবত্তির তাড়নায় অবশেষে পশুতে পরিণত হয়ে যায়।
প্রাচীন যুগে অর্থাৎ প্রাক ঐতিহাসিক যুগের মানুষ বানর, গরিলা ও বন্য প্রাণীর মত উলংগ জীবন যাপন করত। তাদের ঐ জীবন ছিল শুধু উদরপূর্ণ করার জন্য। প্রবৃত্তিকে শান্তি দানের উদ্দেশ্যে। সে বিপরীত লিঙ্গের সাথে জীবজন্তুর মত মেলামেশা করত। ফলশ্রুতিতে সন্তান পয়দা হত। এসব অজ্ঞাতনামা পূর্বপুরুষেরা লাখো ও হাজারো বছর পর্যন্ত জীবন যাপন করেছে। তারা যা বুঝত, তাই করত। চর্তুদিকে জংগী আইন-কানুন চালু ছিল। অর্থাৎ জোর যার রাজ্য তার এই নীতি ছিল সর্বত্র, তাদের মানবিক অনুভূতি পর্যন্ত জাগ্রত হয়নি। এ কারণে তারা নিজের জ্ঞানকে কাজে লাগাতে পারেনি। হাজার বছর পর্যন্ত আমাদের ঐ হিংস্র পূর্বপুরুষগণ বাঘ-সিংহ প্রভৃতি জন্তুর সাথে কুস্তি লড়ে চলত। ঋতুর কঠোরতা মোকাবিলা করে চলত।
কিন্তু তাদের ধ্যান-ধারনা ও তাদের কথা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকত। ক্রমান্বয়ে হাজার হাজার বছরের আবর্তনের পর অনুভূতিহীনতার মাটি থেকে অনুভূতির অংকুব উদগম হয়। কিশলয় প্রকাশ পায়। আর মানুষ সর্বপ্রথম তা থেকে কিছু কাজ করতে শিখে। হাজার বছর পর্যন্ত তাদের মেধার অনুভূতির এ কাজ জারী থাকে। প্রয়োজন সীমাবদ্ধতার গণ্ডি বেদ করে ব্যাপক আকারে ধারন করতে শুরু করে। মানুষের মধ্যে সর্বকাল থেকে শক্তির আকর্ষণ বিদ্যমান ছিল। সুতরাং মানুষ এ শক্তিকে কাজে লাগাতে শুরু করে। স্বভাবধর্মী কমনা-বাসনার পেরিয়ে সামাজিক সাংস্কৃতিক রীতনীতি নির্ধারণ করা হয়। অবশেষে যখন গরিলা ও বন মানুষ এ পৃথিবীতে পাঁচ বা ছয় ফুট বাক শক্তিসম্পন্ন প্রাণী সর্বশ্রেষ্ঠ জীবে পরিণত হয়ে যায়। প্রথমে সব মানুষও অন্যান্য প্রাণীর মত গোত্রীয় এক নিয়মের অধীনে পরিচালিত হত। কিন্তু বর্তমানে জীবন-যাপনের উপকরণের প্রভাবে জীবন যাত্রার নিয়ম-রীতির জটিলতা কঠোরতা বরণ করে নেয়। তাই আমাদের চিন্তা-চেতনা ও দৈহিক অংগ প্রত্যংগ সমূহ এর দ্বারা বিশেষ প্রভাবান্বিত হয়ে যায়। হাজারো 'কামনা বাসনার উদ্রেক হয়েছে। তাদের অবস্থা ও ধ্যান-ধারনা এত জটিল যে, তা বুঝতে আমরা সম্পূর্ণ অক্ষম। যদিও বর্তমানে আমরা আমাদের প্রাচীন পূর্বপুরুষদের মোকাবিলায় যথেষ্ট সভ্য ও সাংস্কৃতিক মনা হয়েছি। তথাপি আমাদের মাঝে সেই গরিলা হিংস্র রক্তপিপাসু প্রাণীটি ঘাপটি মেরে বসে আছে। যার অনুকরণে আমাদের পূর্বপূরুষগণ তাদের হাজারো কোটি বছর পার করেছে। এসব আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি। এ পাশবিকতায় আমরা বর্তমানেও সফলতা লাভ করছি। এর কারণে নিত্য নতুন অনেক বস্তু আমাদের সামনে আসছে।
স্বভাব ও কামোত্তেজনার এ জাহান্নামী দৈত্ব কোন আখলাক বা কানুনকে সমর্থন করে না। সে তো শুধু শক্তির দাপটকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়। আর আমরা এখনও ঐ শক্তির দাপটে উপকৃত হতে চাই। এ রক্ত পিপাসু পৈশাচিকতার মাধ্যমে মানুষ বিরাট উপকার সাধন করেছে। ব্যাপক ক্ষতিরও সম্মুক্ষীন হয়েছে। যদি মানুষ স্বীয় মজ্জাগত শক্তির অফুরন্ত ভাণ্ডারকে অনর্থক নষ্ট করে না ফেলত, তাহলে সে ঐ শক্তির গুণে তার মেধাগত প্রতিভাকে অস্বাভাবিকভাবে প্রজ্জলিত করতে পারত। বিশেষভাবে স্মরণ রাখতে হবে, স্বীয় প্রতিভার যোগ্যতা সমূহের উন্নতি কল্পে মানবিক কামোত্তেজনার শক্তির উপর নিয়ন্ত্রণ লাভ করতে হবে। তাকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। ঐ স্বভাবকে তার খুশি মত চলতে দেওয়া যাবে না। কেননা যদি আপনার নফসে আম্মারাহ পূর্ণাঙ্গ রূপে জাগ্রত হয়ে যায়, তাহলে আপনি নিশ্চিত হিতাহিত জ্ঞান শূন্য হয়ে যাবেন।
আমাদের জন্য মানবিক চাহিদা পূর্ণ করাও জরুরী। কিন্তু তা শুধু মেরামতের দৃষ্টিকোণ থেকে হতে হবে। আমাদের ভেতর লুকায়িত পশুবৃত্তির কারণে আমরা খুন-খারাবীর দৃশ্য দেখে বিশেষ ধরনের আনন্দ ও স্বাদ উপভোগ করি। যে মানুষের অসাধারণ পৈশাচিকতা রয়েছে, সে আমাদের জন্য অস্ত্র পাচারকারী সার্জন হতে পারে। তবু তাকে ডাকাত বা ঘাতক হতে দেওয়া হয় কেন? আমাদের মাঝে যেসব জেবিক শক্তি যে মানুষের রয়েছে, তন্মধ্যে যৌন উত্তেজনা বিশেষ গুরুতপূর্ণ। আমরা এর উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে অসংখ্য উপকারীতা লাভ করতে সক্ষম। যেভাবে এক ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সময় কোন বাঁধা বিঘ্নের সম্মুক্ষীন না হলে, চার পাশে প্লাবনের ধ্বংসলীলা রেখে যায়। কিন্তু যদি এর মুখে বাঁধ দিয়ে চার দিকে নহর, পুকুর ও ঝিল বানিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে ঐ প্লাবন এক রহমত প্রমাণ হবে। আর এর দ্বারা লাখো একর জমি চাষাবাদ করা যাবে। জন্মগত যৌন উত্তেজনার অবস্থাও তাই।
যদি এটাকে লাগামহীনভাবে ছেড়ে দেওয়া হয়, তাহলে সে নিশ্চিত তার কামোত্তেজনার দাপটে চারিত্রিক সব মূল্যবোধ ভাসিয়ে নিয়ে যাবে। কিন্তু যদি ঐ শক্তির উপর স্বীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা যায়, তাহলে আমরা এর দ্বারা অতি গুরুত্বপূর্ণ বিস্ময়কর কাজ সমাধা করতে সক্ষম হব। যদি আপনি ভবিষ্যত দর্শনের নিয়মাবলী শিক্ষা লাভ করতে চান, তাহলে সর্বপ্রথম আপনাকে স্বীয় হুজাত কামোত্তেজনার উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আপনাকে এরূপ দ্য দ্রব্যাদি ব্যবহার করতে হবে, যা আপনার যৌন উত্তেজনা বৃদ্ধিকারক না হয়। উদাহরণতঃ পালং শাক, দধি, ছাগলের দুধ ও মুগডাল ইত্যাদি। এ সব চুলকা খাবার ধারাবাহিকভাবে আপনার প্রতিভা বিকাশে সহায়ক হবে।
আপনার মত প্রত্যেক লোকের মাঝে এ কাজের শক্তির উৎস রয়েছে। কেননা বর্তমান যুগে পূর্ববর্তী যুগের মত মানুষকে বাঘ ও সিংহের সাথে লড়াই করতে হয় না। অনুরূপভাবে আপনাকে গুহা থেকে বের হয়ে কোন ঘড়িয়াল বা হাংগরের সাথে যুদ্ধ করতে হয় না। আর না কাউকে বিশাল বিশাল অজগর সাপের গলা কাটতে হয়।
যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি আপনার নফসে আম্মারাহকে নিয়ন্ত্রণে না রাখবেন, ততক্ষণ আপনার সৃষ্টিগত সৌন্দর্য্য চেতনার শীর্ষে আরোহণ করতে পারবে না। প্রত্যেক মানুষের মধ্যে এরূপ এক বিশেষ শক্তি নিহিত আছে, ইউগের পরিভাষায় যাকে "কন্তেলানি শক্তি" বলা হয়। ইংরেজীতে এর অনুবাদ হল "স্যারনিপ্ট পাওয়ার"। আমার-আপনার মেরুদণ্ডের হাড়ে সকল প্রকার দ্বিতীয় জীবনী শক্তি দৌড়াতে থাকে। বাইর থেকে এ শক্তি দৃষ্টিগোচর হয় না বরং এটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনার ও আমার মাঝে সমভাবে বিদ্যমান। যদি আমি আপনি আভ্যন্তরীণ এ শক্তিকে জাগ্রত করে এর উপর নিয়ন্ত্রণ লাভ করতে পারি, তাহলে আমি নিজের মধ্যে ভবিষ্যৎ দর্শনের যোগ্যতা সষ্টি করার ক্ষেত্রে একদিকে নিশ্চিত সফলতা লাভ করতে সক্ষম হয়। মানুষের সব নীরব অনুভূতি ও অন্যান্য উপায় অনুকরণ অনুশীলন এ কারণে সূচিত হয় যে, মেরুদণ্ডের হাড়ের জড়ে যে জীবনী শক্তি লুকায়িত আছে, তাকে জাগ্রত করে দেয়। মেরুদণ্ডের হাড়কে আপনি নগন্য মনে করবেন না। ওটা হারাম রগ, উত্তেজনা, প্রাকৃতিক স্বভাব, েেচতনতাসহ আরো বিভিন্ন প্রকার গোপন শক্তির উৎস। মেরুদণ্ডের হাড়ের নলের অংগগুলো পাওয়া যায়। যা সরাসরি আমাদের ব্রেণে সাথে সম্পর্কিত।
ভবিষ্যত দর্শনের যোগ্যতা ও জীবন শক্তি বা স্যারনিপ্ট পাওয়ার জাগ্রত করা দুটি পৃথক পৃথক বস্তু। এ কারণে এ দু বস্তু একত্রে লাভ করার চেষ্টা করবেন না। প্রথমে ক্যানডালীন শক্তিকে জাগ্রত করুন। তারপর ভবিষ্যত দর্শনের যোগ্যতা অর্জন করুন। সুতরাং এর জন্য সর্বপ্রথমে আপনি আপনার ব্রেণ ও অংগ-প্রত্যংগসমূহকে জৈবিক মলিনতা থেকে পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন করে নিন। সেই সাথে এই ধরনের আরো অনেক প্রকারের বস্তুকে আবেষ্টন করে নিতে হবে। প্রায় সব মানুষেরই জানা আছে যে, সহজাত স্বভাবের মানদণ্ডে মানুষ ও প্রাণী উভয় এক সমান। জীবজন্তু অক্ষম অসহায় কিন্তু আমরা তা নই। আমাদের সকলের মাঝে এ শক্তি ও যোগ্যতা বিদ্যমান রয়েছে যে, আমরা বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীণ অবস্থাকে ও আমাদের পছন্দের ছাঁচে সাজিয়ে নিতে পারি। এ সবই আমরা জ্ঞাত। জীবজন্তু কখনো স্বভাবজাত কানুনের বিরোধীতা করে না। কিন্তু মানুষ তার স্বভাবের বিরোধীতা করতে বাধ্য হয়। সে তার নফসে আম্মারার উপর ক্রমান্বয়ে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়। এমনকি পৈশাচিকতাও তার ব্যক্তি স্বত্তার অংশ হয়ে যায়।
আপনি আপনার জীবনী শক্তি বা ক্যানডালি শক্তির উৎসকে নির্দয়ভাবে মিটানোর চেষ্টা করুন। কেননা যদি অমূল্য রত্ন খরচ হয়ে যায়, তাহলে তা পুনরায় হাতের নাগালে আসবে না। আপনি আপনার ঐ অসীম শক্তিকে জাগ্রত করার সময় নূন্যতম পক্ষে সতর্কতা ও সাবধানতার সাথে কাজ করুন। কখনো যেন এরূপ না হয় যে, আপনার অসতর্কতা বশতঃ এ শক্তি চিৎকার করে জাগ্রত হয়ে যায়। আর আপনি তার শক্তিশালী প্লাবনে ভেসে গিয়ে চিরদিনের জন্য আপনার নিজেকে হারিয়ে ফেলেন।