📄 মানুষের গোপন কামনা-বাসনা ও কর্মদক্ষতা সঠিক ভাবে উপলব্ধি করা
মুমিনের দূরদর্শিতা ও আধুনিক বিজ্ঞান
• মুমিনের বিচক্ষণতাকে ভয় করো, সে আল্লাহর নূর প্রত্যক্ষ করে। (ইহইয়াউল উলূম) ইসলাম একক দ্বীন ও ধর্ম। যাতে প্রত্যেক লোককে পূর্ণাঙ্গ আকল ও অনুভূতির দ্বারা ভূষিত করা হয়েছে।
• এ জ্ঞান-প্রজ্ঞা ও অনুভূতি তখন পূর্ণাঙ্গ হয়, মানুষ যখন তাকওয়া ও খোদা ভীতির জীবন-যাপন শুরু করে।
• হযরত উমর রাযি. মানুষের চেহারা ও বাহ্যিক অবস্থা দেখে বিরাট বিরাট বিষয় মীমাংসা করে দিতেন।
• হযরত খালিদ বিন ওয়ালেদ রাযি, যুদ্ধের ময়দান ও স্বাভাবিক জীবন যাপনে অতি উচ্চ স্তরের বিচক্ষণতা প্রদর্শন করতেন। তাঁর জীবনে এ ধরনের অসংখ্য ঘটনা সংঘঠিত হয়েছে।
• হযরত উমর বিন আব্দুল আযীয রাযি. এর দৃষ্টান্ত তো স্বয়ং ইউরোপীয় বিশেষজ্ঞগণ তাদের গ্রন্থে উল্লেখ করেছে।
• হযরত ইমাম আবু হানীফা রাযি. এর পূর্ণাঙ্গ বিচক্ষণ্ণতা ও অন্তর্দৃষ্টি সম্পন্ন হাজারো ঘটনা গ্রন্থরাজীতে বর্ণিত আছে।
• হযরত ইমাম আবু ইউসুফ রাযি. এর বিচার সংক্রান্ত হাজারো ঘটনা ইতিহাসের পাতায় লিখিত আছে।
📄 অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ভাষা
কোন জনবহুল স্থানে বা প্রসিদ্ধ কোন স্থানে মানুষকে পর্যবেক্ষণ করুন। রেল ষ্টেশন বা বিমান বন্দরে হাজারো ভ্রমণ কারীদেরকে প্রতি মুহূর্তে গাড়ী বা বিমানের অপেক্ষায় বসে থাকতে দেখবেন। তাদের অবয়ব ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের প্রতি লক্ষ্য করলে সঠিকভাবে অনুধাবন করতে পারবেন। কিছু সময় অপেক্ষা করাকে এসব লোক বিভিন্ন আন্দাজে প্রকাশ করছে। এ ইংগিতমূলক ভাষা বুঝার সঠিক একটি পদ্ধতি হচ্ছে স্বয়ং মূল্যায়ণ করে দেখা। কথায় বলে, চোখ যে মনের কথা বলে।
গোপনীয় রহস্যময় হেঁয়ালীপনা ইংগিতের ভাষা বুঝা ভীষণ কষ্ট ও পরিশ্রমের কাজ। তাছাড়া যে কোন ভাষা বুঝার সঠিক পন্থা হল, প্রথমে শব্দের অর্থ বুঝতে হবে, তারপর শব্দ সমূহকে জড়ো করে এক অর্থবোধক বাক্যে রূপ দেওয়া হয়। এভাবে এক ব্যক্তির মনোভাব, ধ্যান-ধারনা বুদ্ধিমত্তার কথা প্রকাশ করা সম্ভব হয়। অনুরূপ অবস্থা, ইশারা, আকার-ইংগিত গোপনীয় রহস্যাবলী বিন্যাস্ত হওয়ার পর এক ব্যক্তির আভ্যন্তরীণ বুদ্ধিমত্তার অবস্থা অর্থবহরূপে সামনে নিয়ে আসা যায়।
আল্লামা ইকবাল রহ. তার এক কবিতায় জাতিকে পুরো অস্তিত্বের সাথে উপমা দান করেছেন, আর কবিকে ঐ অস্তিত্বের দৃষ্টি বলে উল্লেখ করেছেন। মানবদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সমূহের মধ্যে সবচেয়ে মহামূল্যবান হল অবয়ব। এটি মানুষের আভ্যন্তরীন ও বুদ্ধির ইংগীত ও ইশারার গুপ্তচর বৃত্তি করে। চোখ এ সব কিছুই বলে দেয়। যা জবান বলতে অক্ষম।
কোন কোন সময় মুখ যা কিছু বলতে চায়, চোখ তা নিষেধ করে বাতিল করে প্রত্যক্ষ দেখিয়ে দেয়। গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সময় আমরা আমাদের প্রতিপক্ষকে সামনা সামনি দেখতে পাই। তার মুখ থেকে উচ্চারিত ভাষা-শব্দ ও বাক্যাবলির পরিচ্ছন্নতা চারিত্রিক রসকস বিদ্যমান দেখতে পাই। কিন্তু তার চোক্ষুদ্বয় এছাড়াও আরো কিছু বলে দিচ্ছে। তা পুরোপুরি খোলা রয়েছে। আলোচনার সময় তার ঠোটের ভাজ দেখা যায়।
মনোস্তত্ত্ব বিশেষজ্ঞ জিন ব্যাটপালিনের এ সম্পর্কে অভিমত হল, আলোচনায় যে ব্যক্তির চোখের অবস্থা উপরে উল্লেখিত বিবরণের মত হবে, এসব লোক মূলতঃ স্বীয় চোখের ইশারায় এ কথা বলছে যে, তার কথা না মানা পর্যন্ত সে এখান থেকে যাবে না। আর সে আপনার সাথে কোন প্রকারে আপোষ মীমাংসাও করবে না। আবার গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সময় নিজের চোখ অর্ধেক বন্ধ রাখে, পালক সমূহ ঝুকে থাকে, হালকা মুচকি হাসি দিতে থাকে, তাহলে জেনে নিন যে, তার চোক্ষুদ্বয় বলেছে, সে আপনার কথা শেষ পর্যন্ত শুনবে। আর আপনার উপকার করতে কোন প্রকার বাঁধা বিঘ্ন সৃষ্টি করবে না, এ প্রকৃতির মানুষ নিজে বিশ্বস্থতার সাথে কাজ করে। আর সে অধিক সময় নষ্ট করে হলেও আপনার কথা শুনবে।
📄 মৃত ব্যক্তির সমালোচনা করা
• হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে, মৃত ব্যক্তিদের সমালোচনা করো না। কেননা তারা পূর্বে তাদের যে আমল প্রেরণ করেছে, তারা তা পেয়ে গেছে।
📄 পিউরনেল হাউজ প্রধানের বক্তব্য
আমার জনৈক বন্ধু দুর্ঘটনায় নিহত হয়। আমি তার মৃতদেহ আনার জন্য পিউরনেল হাউজে গমন করি। লাশ গ্রহণে বিলম্ব হয়। তাই আমি হাউজ প্রধানের কক্ষে গিয়ে বসে অপেক্ষা করতে থাকি। আর তার সাথে আলোচনায় লিপ্ত হই। তার আলোচনায় এক বিস্ময়কর রহস্য উন্মুক্ত হয়। হাউজের চীফ আমাকে বললেন, যে সব লোক তাদের মৃত ব্যক্তিদের মন্দ বলে, তাদের বিস্ময়কর ধ্বংসে দেখে আমার ভীষন তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছে। এ ধরনের লোকদের সকলের একই কথা বলে, যখন তাদের মৃতদের আমাদের নিকট আনা হয়, তখন তাদের চেহারা কুৎসিত হয়ে যায়। তাদের দেহ বাঁকা হয়ে যায়। একটি নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বে তাদের দেহ পঁচন ধরে যায়।
এ অভিজ্ঞতা কিছুটা এ ধরনের হতে পারে যে, আমার নিকট আত্মীয় বন্ধু প্রায়ই মৃত ব্যক্তিদের মন্দ বলত। আমি তাকে এরূপ করতে বাঁধা দিতাম। অবশেষে তার মৃত্যু হয়। তখন তার চেহারা অনুরূপ দেখা যায়। তারপর অপর এক পিউরনেল হাউজের চীফও আমাকে একই কথা বলেছেন। তখন আমি চমকে উঠি। তারপর এ বিষয় ধারাবাহিকভাবে পর্যবেক্ষণ করতে থাকি। তখন আমি তার নিকট বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়।