📄 ইংরেজ ঐতিহাসিক ফ্যানির অভিমত
মুসলমানগণ রাজ্যশাসন কালে কোন অমুসলমানকে ইসলাম গ্রহণ করার জন্য কঠোরতা আরোপ করেনি। খ্রিস্টানদের বিলুপ্তীর জন্যও কোন পরিকল্পনা গ্রহণ করেনি। যদি ইসলামের খলীফাগণ এতদুভয়ের মধ্যে একটি পরিকল্পনাও গ্রহণ করতেন, তাহলে অতি সহজে খ্রিস্টানদের ভূ-পৃষ্ঠ থেকে চিরদিনের জন্য বিলুপ্ত করে দিতে পারতেন। যত সহজে ফার্ডিনান্ড ও আজমাইলেনা তা করেছে। তারা ইসলামকে সাপানিয়া থেকে নির্মূল করে দিয়েছে। চতুর্দশ লুই ফ্রান্সে প্রোটেস্টাইন মতবাদকে শাস্তি যোগ্য ঘোষণা করে। ইয়াহুদীদেরকে সাড়ে তিনশ বছর পর্যন্ত ইংল্যান্ডে প্রবেশ করতে দেয়নি। এশিয়া মহাদেশে বর্তমান সময়ও খ্রিস্টানদের গীর্জা বিদ্যমান থাকা ঐ ব্যাপক উদারতা ও সহিষ্ণুতার অকাট্য প্রমাণ। যা ইসলামী শাসকগণ তাদের অমুসলিম প্রজাদের সাথে করেছেন। যুদ্ধে রক্তপাত ঘটত কিন্তু বিনারক্তপাতেও বিজয় গৌরব অর্জন করার অনেক উদাহরণ রয়েছে। মুসলমান সেনাপতিগণ কখনও শত্রু বাহিনীকে অস্ত্র ধরার সুযোগ না দিয়ে আক্রমণ পরিচালনা করেনি। মুসলমানদের এরূপ সৌযন্যমূলক আচরণ ছিল যে, রোমানদের আক্রমণের সময় মুসলমানগণ খ্রিস্টানদের কর ফেরত দিয়ে দেয়। স্বয়ং খ্রিস্টানরা রোমানদের বিরুদ্ধে মুসলমানদের যুদ্ধে জয়লাভের জন্য দু'আ করত। মুসলমানদের বিজয়ী হওয়ার পর খ্রিস্টানরা বিজয় উৎসব পালন করে। উপরন্তু তারা নিজ দায়িত্বে কর পরিশোধ করে এবং বিপুল সংখ্যক স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করে।
📄 আমার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা
জাপানীরা কী ব্যক্তিজীবনে রাসূলুল্লাহ সুন্নাতের অনুসারী? ভৌগোলিক দৃষ্টিতে জাপান অসংখ্য দ্বীপের দেশ। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দ্বীপ এমনভাবে মিলিত হয়ে আছে, সাধারণ মানুষ কিছুতে বুঝতে পারবে না যে, এটা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সংযুক্ত দ্বীপাঞ্চল। তাদের আধুনিক প্রযুক্তি তাদের দূরত্বকে একত্রে মিলিত করে নিয়েছে। প্রাচীন জাপানে সারা দেশের সাথে কোন সংযোগ ছিল না। সম্পূর্ণ একক পৃথক রাষ্ট্র, যারা শুধু নিজেদের শক্তি-সামর্থ ও যুদ্ধবাজ হওয়ার উপর দৃঢ় বিশ্বাসী ছিল। শক্তিশালী ব্যক্তি রাষ্ট্র ক্ষমতার অধিকারী হত, সে বিভিন্ন গোত্রের আকারে পরস্পরে যুদ্ধবিগ্রহ করে একে অপরের উপর প্রাধান্য বিস্তার করত। দুর্বল ব্যক্তি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের কল্পনাই করত না, যুলুমের বাজার সরগরম ছিল। বিশেষ কোন নিয়মনীতির প্রচলন ছিল না। এক অঞ্চলের শাসক অন্য দুর্বল এলাকা জোরপূর্বক দখল করে নিত। রাষ্ট্রপ্রধানকে খোদায়ী অবতার ও বা প্রতিভূ মনে করা হত। যে যেভাবে ইচ্ছা রাজ্য শাসন করত। সময়ের বিবর্তনের সাথে সাথে সকল গোত্রবাসী পারস্পরিক মতবিরোধ দূর করে এক শক্তিশালী সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে। নির্বাচনের মাধ্যমে গঠন করে এক শক্তিশালী সরকার। সেখানে রাজতন্ত্রের সাথে সাথে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থাও সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে জাপান পুরোপুরি অংশগ্রহণ করে চীন দখল করে নেয়। দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সময় আমেরিকা জাপানের হিরোশিমা-নাগাসাকিতে এটম বোমা বর্ষণ করে। যার ফলে ঐ দু’টি শহর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। জনবসতি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে যায়। কিন্তু জাপানীরা নিজেদের সভ্যতা ও নিজেদের প্রতিজ্ঞা রক্ষার মজবুত ভিত্তির উপর নির্ভর করে সামনে অগ্রসর হয়। এমনকি দ্বিতীয়বারও দেখিয়ে দেয়, তারা এক শক্তিশালী জাতি। যুদ্ধের অস্ত্র পরিত্যাগ করে প্রযুক্তিগত শিক্ষা ব্যবস্থাকে নিজেদের একমাত্র লক্ষ্য স্থির করে এবং তারা নিজেরা পরস্পরে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সামনে অগ্রসর হতে শুরু করে। সামনে অগ্রসর হওয়াকে প্রাধান্য দেয়। উন্নতি লাভ করতে করতে পৃথিবীর প্রথম নম্বর জাতিতে পরিণত হয়। তাদের উন্নতি লাভের মূলনীতি সেটিই যা আমরা মুসলমানদের নিকট শিক্ষা করেছি আজ থেকে প্রায় ১৫০০বছর আগে। কুরআন মাজিদে ইসলামী বিধান অনুযায়ী অবতীর্ণ হয়েছে। কিন্তু আক্ষেপের বিষয় হল, আমরা ঈমান ও ইসলামের ধারকবাহক হওয়া সত্ত্বেও ঐ সমস্ত জাতি থেকে অনেক পেছনে পড়ে আছি। আর ঐ বিজাতিরা উন্নতির উচ্চ শিখরে আরোহন করেছে। আমাদেরকে যা করতে নিষেধ করা হয়েছে, ঐ মূলনীতিকে তারা নিজেদের করে নিয়ে প্রযুক্তির পৃথিবীতে নিজেদের ভাগ্য গঠন করে নিয়েছে। সহজ-সরল পথে চলে অনেক দূর সামনে অগ্রসর হয়ে গেছে। এখনো তাদের মধ্যে সময়ের মূল্য, পবিত্রতা, পরিবারের লালন-পালন, সততা সত্যবাদিতা প্রতিজ্ঞা রক্ষা করা, সাম্য-সমতা, সহমর্মিতা, আইনানুগ জীবন যাপন, অন্যের হক আদায়, বিশ্বস্থতা, শিক্ষা-সংস্কৃতি এমনকি সর্বদিক থেকে তারা যে কোন দেশ ও জাতি থেকে উন্নত। আক্ষেপ! সেই মুসলমান নেই। যারা ধর্মকে আপন করে নিয়েছিল। তাই দ্বীনও তাদের হয়েছে, দুনিয়া তাদের হয়েছে। তাঁরাই ছিল খাঁটি মুসলমান। ইসলাম ধর্মের পরিপন্থী কোন কাজ তাঁরা করেননি। আমার বন্ধুদের ঘটনাচক্রে জাপান ভ্রমণের সুযোগ হয়েছিল। তাই জাপানীদের জীবন-যাপন সম্পর্কে জানার সুযোগ হয়েছে। আমরা যেভাবে তাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেছি এবং তাদের মিলিত হওয়ার সুবাধে যে অভিজ্ঞতা লাভ করেছি, তা এখন বর্ণনা করছি।
📄 প্রতিশ্রুতি রক্ষার নিয়মানুবর্তীতা
হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে, যে প্রতিশ্রুতি পালন করে না, তার কোন দ্বীননেই। আইনতঃ মুসলমানদের জন্য আল্লহ তা'আলার আদেশ-নিষেধগুলো পালন করলে জীবন যাপন সহজ হয়। বিপদে থেকে মুক্তি লাভ হয়। আপনি জাপানের যে কোন প্রত্যন্ত অঞ্চলে যান, যে কোন লোকের সাথেই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হোন, তাহলে সে অবশ্যই তা পূর্ণ করবে। সে চেষ্টা করবে, আমি আমার প্রতিজ্ঞা রক্ষা করবই। উদাহরণ স্বরূপ মনে করুন, কোন ব্যবসায়ী কোথায় গাড়ী ক্রয়ের উদ্দেশ্যে গেল। কোনো জাপানীর সাথে চুক্তি হল, আমি এ গাড়ি এত দামে ক্রয় করব। এর মূল্য কাল বা আগামী দু'এক দিনের মধ্যে পরিশোধ করে দেব। আর সেও ওয়াদা করল যে, আমি আগামী দিন পর্যন্ত আপনার অপেক্ষা করব। তারপর আপনি যদি অন্য স্থানে চলে যান। সে অন্য কোন ব্যক্তির নিকট ঐ গাড়ী বিক্রয় করবে না। তাতে তার যতই মুনাফা হোক না কেন। সে প্রথম ব্যক্তির পরশু দিন ফিরে আসার অপেক্ষা করবে। অবশ্যই নিজের প্রতিজ্ঞা রক্ষা করবে। আপনি গাড়ীর ভালো মন্দ সবকিছু দেখে ক্রয় করতে পারবেন। শুধু এক গাড়ীই নয় বরং সব কাজেই একই নীতি। আর তা তারা দৃঢ়তার সাথে প্রতিষ্ঠিত করে স্থায়ী রাখে। আর বাস্তবতাকে সামনে রেখে বৈধ মুনাফায় কাজ কারবার করে। যদি কোন জাপানী কোন বন্ধুকে আমন্ত্রণ করে বা কোন স্থানে সাক্ষাত করার সময় নির্ধারণ করে দেয় তাহলে যত ঝড় তুফান আসুক বা যা কিছুই হোক না কেন, সে নির্দিষ্ট সময় ওখানে পৌঁছে যাবে। এটাই তাদের স্বভাবিক সহজ সরল জীবন যাপনে বিরাট সহায়ক। তাই সৌভাগ্য ও তাদের পদচুম্বন করছে। পক্ষান্তরে আমরা আমাদের ধর্ম ও দ্বীনী শিক্ষা থেকে অনেক দূরে সরে গিয়ে নিজেদের জন্য কঠিন বিপদ সৃষ্টি করছি। আমাদের কর্তব্য হল, এ সমস্ত বিষয় পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা। তাহলে আল্লাহ তা'আলা সামনে মস্তক অবনতকারী হতাম। নিজেদের সামাজিক লেনদেনকে অতি উত্তমরূপে সমাধাণ করতে পারতাম। আমাদের জীবন যাপনও অতি সহজ হয়ে যেত। কিন্তু জাতীয় কল্যাণের জন্য প্রতিজ্ঞা করা সত্ত্বেও আমরা তা পালন করি না। যদি কোন লোক নিজের জাতীয় কল্যাণের বিষয় প্রতিজ্ঞা করে, তা রক্ষা না করে, তাহলে অন্য লোকের পক্ষ থেকেও ওয়াদাপূর্ণ করার আশা না করা উচিত। আমাদের দেখার বিষয় হল, আমরা কি পরিমাণ প্রতিজ্ঞা পূর্ণ করি। কেননা বিজাতীয় লোক শুধু একক নিজেদের রীতি নীতি মোতাবেক ওয়াদা পূর্ণ করছে। তারা নিজেরা এমনিতে উন্নতির উচ্চ শিখরে আরোহন করছে, যেভাবে নিজেদের ব্যক্তিগত দিনপুঞ্জিতে প্রতিদিন করণীয় লিপিবদ্ধ করছে। তাতে প্রমাণ হয় যে, অমুক দিন অমুক সময় তাকে কি করতে হবে। আমাদের স্মরণ রাখার জন্য তা করা উচিত। তাহলে আমাদেরও স্মরণ থাকবে যে, অমুক দিন অমুক কাজ করতে হবে, তার সাথে সাক্ষাত করতে হবে। যদি কোন জাপানী কোন শো-রুম বা কোন রেস্তোরা বা অন্য কারবার শুরু করতে চায়, তাহলে তদসংশ্লিষ্ট দফতরকে পূর্বে ঘোষণা দিতে হবে যে, অমুক দিন অমুক তারিখে আমি আমার শো-রুম বা রেস্তোরা উদ্ভোধন করব। যদি সে তা উদ্ভোধনে বিলম্ব করে, তাহলে যদি কোন সাধারণ শহরবাসী এর বিরুদ্ধে মামলা করে দেয় যে, এ ব্যক্তির কারণে আমার সময় নষ্ট হয়ে গেছে। তবে তাকে উপযুক্ত শাস্তি পেতে হবে। কাজেই যে তারিখে ঘোষণা করা হবে, তাকে সেই নির্ধারিত সময়ের পূর্বে তা পূর্ণ করতে হবে এবং নির্ধারিত সময় অনুযায়ী নিজের কারবার শুরু করতে হবে।
📄 সততা সত্যবাদিতা ও নারীর স্থান
সততা সর্বদা সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। তা কেউ পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করতে পারে না। আর না কারও সততা পরিবর্তনের ক্ষমতা আছে। আর না কেউ পরিবর্তনের ক্ষমতার অধিকারী হতে পারবে। এর সর্বোৎকৃষ্ট উদাহরণ হল আমাদের জন্য আমাদের সত্য দ্বীন ও সত্য কুরআন মজিদ। এটি পূর্বে যেমন ছিল অদ্যাবধি তেমনই আছে। অনাদি কাল পর্যন্ত তেমনই থাকবে। এর এক বিন্দু পরিবর্তন করার ক্ষমতা কারো নেই। কেউ তা পরিবর্তন করতে সক্ষমও হবে না। যে কোন জাতির উন্নতির গোপন রহস্য তার সততা ও সত্যবাদিতা। প্রসিদ্ধ প্রবাদ আছে, সত্যবাদিতার কথা ভালো মিথ্যাবাদির মুখ কালো, মিথ্যাবাদী জাতি কখনো উন্নতি করতে পারে না, সততার সাথে নিজের কারবার পরিচালনা করাই হল কারবার। তাতে জাতীয় জীবনে উন্নতি লাভ হয়।
জাপানে যে কোন কারবার চাই ক্রয়-বিক্রয় হোক অথবা যে কোন প্রকার লেনদেনই হোক, তা ঐ জাপানি সততা, সত্যবাদিতা ও বিশ্বস্ততার সাথে তার সমাধান করবে। যদি আপনি নিত্য প্রয়োজনীয় যে কোন পণ্য ক্রয় করতে যান, আর তার নিকট যা যে অবস্থার উপস্থিত থাক সে তা বলে দেবে, এটাতে শতকরা এক ভাগ দুধ আছে। এতদিনের পুরানো। তদনুযায়ী তার মূল্যও নির্ধারণ করা আছে। যদি আপনি সবজী, দুধ, গোশত বা অন্য যে কোন দ্রব্য ক্রয় করতে যান এমন হবে না যে, তাজা বস্তুর দাম ১০০ ইয়েন হলে পুরাতন পণ্যও মূল্য ধরা হবে। আপনি যে বস্তু ক্রয় করতে চান, তাকে জিজ্ঞেস করলে সে সম্পূর্ণ সত্য সঠিকভাবে বলে দেবে যে, এটা এই কোয়ালিটির, এর ভাল গুণাবলী এই। ক্ষতিকর দিক এ পরিমাণ এতো দিনের পুরাতন বা তাজা নয়। তার পর ক্রেতা তার খেয়াল খুশি ও সামর্থ অনুযায়ী পণ্য ক্রয় করে নেবে। কোন প্রকার চোরা কারবারী নেই। সকল পন্যের উপর পণ্যের দাম লেখা আছে। আর খাদ্য ও পানীয় দ্রব্য সমূহের উপর মেয়াদ নির্দিষ্ট করা আছে। নির্দিষ্ট মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর তা নষ্ট করে দেওয়া হয়। পূর্ণ সততা ও বিশ্বস্ততার মাধ্যমে কারবার পরিচালনা করা হয়। পানাহারের সব দ্রব্যাদি তরতাজা ও পুষ্টিকর হয়। তা ব্যবহারের পর তাদের স্বাস্থ্য অক্ষুণ্ণ থাকে। যদি ভেজাল বা মেয়াদ উত্তীর্ণ খাদ্য কেউ খায়, তাহলে নিশ্চিত হবে, সে অসুস্থ্য হয়ে যাবে। জীবনে সুস্থতা হল হাজার নিয়ামতের চেয়ে বড় নিয়ামত। তাই স্বাস্থ্য যতদিন ঠিক থাকে, ততদিন পানাহার সঠিকও তরতাজা হতে হবে। এটা এমন এক কারণ, যার সাথে তাদের মরণের ব্যাখ্যাও যুক্তিযুক্ত। কোন ব্যক্তি বে-ঈমানী করে কোন পণ্যের সাথে ভেজাল মিশ্রিত করে মিথ্যা ছলনার আশ্রয় নিয়ে অন্য কারো জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা করতে পারে না।
রাসূলুল্লাহ এর হাদীসে বর্ণিত আছে, যে খাদ্য ভেজাল মিশ্রিত করে সে আমার দলভূক্ত নয়। মহল্লার অধিকাংশ দোকানেই দেখা যায়, দোকানদার নেই। ক্রেতা নিজের পছন্দ অনুযায়ী পণ্য নিয়ে মূল্য দেখে নিজেই তার ক্যাশে পয়সা ফেলে রাখে। অনুরূপ ট্রেনের টিকেটও কম্পিউটারের সাহায্যে করা হয়। এ হলো তাদের সততা ও সত্যবাদিতা। না কেউ বিশ্বাস ভংগ করে, আর না কেউ এরূপ চিন্তা-ভাবনা করে। এমনকি আপনি যদি কোন জাপানীকে তার পারিবারিক বিষয় জিজ্ঞেস করেন। উদাহরণতঃ তোমার নাম, তোমার ভাইবোন, স্ত্রী বা মাতা-পিতার নাম কি? কার বয়স কত, পারস্পরিক সম্পর্ক কিরূপ, আরো অতিরিক্ত যা কিছুই জিজ্ঞেস করুন না কেন, তারা অনায়াসে অকপটে সততা ও নিষ্ঠার সাথে সবকিছুর বাস্তবতা বলে দেবে। কেননা তাদের অন্তর পরিস্কার। চাই যে কোন ছেলে বা মেয়েকেই জিজ্ঞেস করুন না কেন। আমি আরও দেখেছি, তারা তাদের নারীদের ভীষণ ইজ্জত করে। যে জাতি নিজ স্ত্রীকে ইজ্জত করে না, সে জাতি উন্নতি করতে পারে না। আমি দেখেছি, জাপানী নারীদের ইজ্জত-সম্মান আবরুও সতীত্ব মর্যাদা জান মাল সব কিছুই সংরক্ষিত ও নিরাপদ। কেউ ভ্রান্ত পন্থা বা জোর জবরদস্তি মূলক কোন কিছু করে না।
রাত বারটার পরও একাকী মেয়েরা স্বেচ্ছায় যেখানে খুশি ঘুরে বেড়াতে পারে। সর্বদিক থেকে তাদের জান-মাল ইজ্জত-সম্মান নিরাপদ। কেননা সর্বত্র পুরুষের পাশা-পাশি নারীরা কাজ করে। যে কোন জাপানী কোটিপতি হোক না কেন, তার স্ত্রী পুত্র কন্যা অবশ্যই কোন না কোন কাজ করছে। তারা নিজেরা অন্যের বোঝা হওয়া পছন্দ করে না। ছাত্র-ছাত্রীরা লেখা-পড়ার সাথে খণ্ডকালীন ছুটির সময় চাকরি করে। নিজে নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করে। এভাবে তারা উন্নতির শিখরে আরোহন করছে। যখন মানুষের মধ্যে সততা, সত্যবাদিতাও বিশ্বস্ততার মত বস্তু এমনিতে এসে যাবে, তাহলে তো তাদের জীবন-যাপন সহজ ও সুখময় হয়ে যাবে। সাথে সাথে দেশ সুখী সমৃদ্ধ হবে। তাদের সমাজে নারীদের বিশেষ সম্মান ও পতিপত্তি রয়েছে। এক সত্যনিষ্ঠ বিশ্বস্ত সংগঠন রাষ্ট্র ও সরকার পরিচালনা করছে। এ সব মৌলিক বিষয়ের উপর আমল করে মানুষ সর্বদিকে উন্নতি লাভ করতে সক্ষম হয়। আমাদের ধর্ম আমাদের নারীদের বিশেষ মর্যাদা দান করেছে। সর্বত্র তাদের ইজ্জত-সম্মান ও মূল্যায়ন করার উপদেশ দিয়েছে। আমরা বুনিয়াদী বিষয় থেকে যতই দূরে সরে যাচ্ছি, চর্তুদিক থেকে ততই পথভ্রষ্ট ও তমাশাচ্ছন্ন হয়ে যাচ্ছি। আর অপুরন্ত ক্ষতির সম্মুক্ষীন হচ্ছি। জাপানে এক্ষেত্রেও উন্নতি লাভ করেছে যে, তারা তাদের সমাজে নারীকে পুরুষের সমকক্ষ মনে করছে। আর নারী-পুরুষ সকলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে। আর তাই এ নিয়ে নারীরাও গর্ববোধ করছে।