📄 রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সন্ধি চুক্তিতে উদারতা ও সহিষ্ণুতা
লিসানুল আরব গ্রন্থের বর্ণনা মোতাবেক مَعَاهَدَات শব্দটি مَعَاهَدَةً এর বহুবচন। بَابُ مُفَاعَلَهُ থেকে গঠিত হয়েছে। অর্থ হল, শপথ করে পাকা পোক্ত প্রতিজ্ঞা ও প্রতিশ্রুতি বদ্ধ হওয়া। রাসূলুল্লাহ এর চুক্তিপত্র প্রকাশ হয়েছে বিশেষ করে মদীনাতে তাশরীফ রাখার পর, যা বিভিন্ন গোত্র ও ধর্মাবলম্বীদের সাথে করা হয়েছে। এখানে বিশেষ উল্লেখযোগ্য কথা হল, নবীজীর আর্বিভাবের একমাত্র উদ্দেশ্য আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠা করা। তাঁর চুক্তির তিন যুগ ছিল। প্রথমে বদর যুদ্ধের পূর্ববর্তী সময়। দুই ঐতিহাসিক হুদাইবিয়ার সন্ধিচুক্তি স্থাপনের সময়। তিন মক্কা বিজয়ের সময়। পবিত্র কুরআন মজিদে পঁচিশের অধিক স্থানে পূর্ণাঙ্গ সতর্কতা ও দৃঢ়তার সাথে প্রতিশ্রুতিপূর্ণ করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। এর জন্য বিরাট পুরষ্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। রাসূলুল্লাহ এর শান্তি চুক্তির সূচনা হয়েছে প্রথম আকাবার শপথ থেকে। আর বিশেষ শান্তিচুক্তি হয়েছে মদীনায়। রাসূলুল্লাহ প্রত্যেক স্তরের লোকদের সাথে ৫০ এর আধিক শান্তিচুক্তি করেছেন। তন্মধ্যে আরবের মুশরিক, মুনাফিক, ইয়াহুদী, খ্রিস্টান ও অগ্নিপুজারীরাও অন্তর্ভূক্ত ছিল। রাসূলুল্লাহ নিজ প্রতিশ্রুতি রক্ষার শিক্ষা দিয়েছেন। তথাপি মুসলমানদের সাথে সর্বদা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা হয়েছে। মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেন, মুসলমানদের সাথে অতি নির্লজ্জতার সাথে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে বিশ্বাস ঘাতকতা করা হয়েছে। রায়াল, জাকওয়ান, আসবা ও বনী লিহিয়ান গোত্রগুলো তাদের শত্রুদের প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহ এর নিকট ফৌজী সাহায্যের আবেদন করেছিল। রাসূলুল্লাহ তাদের সাহায্যার্থে ৭০ জন কারী সাহাবী প্রেরণ করেন। কিন্তু বীরে মাউনা নামক স্থানে পৌঁছার পর ঐ সব লোক বিশ্বাসঘাতকতা করে নিরস্ত্র হাফেযে কুরআন মুসলমানদের নির্মমভাবে শহীদ করে দেয়। যখন হযরত আসেম রাযি. এর বাহিনীকে বনী লিহিয়ান গোত্রের দু'শত তীরন্দাজ বাহিনী ঘেরাও করে ফেলে, তখন তাদের নিকট থেকে ওয়াদা নেওয়া হয় যে, যদি তোমরা নিচে নেমে আস, তাহলে তোমাদের সাথে কোন প্রকার দুষ্কৃতি করা হবে না। এরপর একদল নিচে নেমে আসার সাথে সাথে তাদের অধিকাংশকে কৃতদাস বানিয়ে বিক্রয় করে দেওয়া হয়। এরূপ প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ ও বিশ্বাস ঘাতকতা করা সত্ত্বেও রাসূলুল্লাহ এর মহিমান্বিত আখলাকে নিরাপদ অবস্থায় যে রূপ আখলাখের সুদৃঢ়তা ছিল, যুদ্ধের ময়দানে সংঘাতময় মুহূর্তেও অনুরূপ দৃঢ়তা ছিল। তাঁর মহিমান্বিত সত্ত্বাগত বিষয় ও তাঁর প্রতিজ্ঞা রক্ষা করার এ আদর্শ নমুনা ছিল যে, নবুওয়াতের পূর্ব যুগের ঘটনা হল, আব্দুল্লাহ ইবনুল আমামা এক বিষয়ে রাসূলুল্লাহ এর সাথে প্রতিজ্ঞা বদ্ধ হয়ে এক স্থানে নবীজীকে বসিয়ে রেখে চলে যায়। ঘটনাচক্রে সে নিজেই তা ভুলে যায়। তিন দিন পর ফিরে আসে, তখন রাসূলুল্লাহ ইরশাদ করলেন, আমি তিন দিন পর্যন্ত তোমার অপেক্ষায় এ স্থানে বসে আছি। অথচ রাসূলুল্লাহ এর পক্ষ থেকে প্রতিজ্ঞা রক্ষার আদর্শ নমুনা সম্পূর্ণ বিপরীত। বদরের যুদ্ধে মুসলমানদের সংখ্যা কম ছিল। হযরত আবু হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান ও আবু হাসান রাযি. মক্কা থেকে মদীনা অভিমুখে আসছেন। পথিমধ্যে কাফিররা তাদেরকে গ্রেফতার করে ফেলে। পরে তাদেরকে রাসূলুল্লাহ এর পক্ষে যুদ্ধে যোগদান না কারার শর্তে মুক্তি করে দেয়। তাঁরা উভয়ে রাসূলুল্লাহ এর দরবারে হাজির হয়ে পুরো ঘটনা পেশ করেন। রাসূলুল্লাহ তাঁদেরকে বললেন, তোমরা উভয়ে ফিরে চলে যাও। আমি যে কোন অবস্থায় ওয়াদা পূর্ণ করব। রাসূলুল্লাহ এর প্রতিজ্ঞাসমূহের একাধিক বেশিষ্ট্য বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু আমার দৃষ্টিতে দুটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য এমন, যা পৃথিবীর ইতিহাসে কোন শান্তিতে চুক্তিতে পাওয়া যায় না। প্রথমতঃ চুক্তিপত্রে উদারতা ও সহিষ্ণুতা। দ্বিতীয়তঃ চুক্তির সমতার বুনিয়াদকে আগ্রহের সাথে গ্রহণ করা। তাঁর চুক্তিতে বিজয়ের নমুনা পরিলক্ষিত হত না বরং নিরাপত্তার নমুনা উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে তাঁর সামনে এসে হাজির হত। মদীনা সনদ, হুদাইবিয়ার সন্ধিচুক্তি ও অন্যান্য চুক্তিপত্র এর স্পষ্ট উদাহরণ। পক্ষান্তরে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ২৮ জুন ১৯১৯ খ্রিঃ চুক্তিপত্র লেখার স্থানে লিখিত চুক্তি শান্তিচুক্তি নামে গৃহীত হয়। এনসাইক্লোপিডিয়া বৃটানিকার বর্ণনা মোতাবেক জার্মানীকে যুদ্ধের একক জিম্মদার স্থির করা হয়। তাদের সৈন্য বাহিনীকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্র করে দেওয়া হয়। বিজয়ী প্রতিনিধিদের সামনে জার্মানীর পরাজিত বাহিনীকে অত্যন্ত লজ্জাজনক অবস্থায় পেশ করা হয়। চুক্তিপত্রের নমুনা তৈরী করার সময় তাদেরকে অপরাধীর মত দাঁড় করে রাখা হয়। পরিণামে জার্মানীর যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ স্বরূপ প্রায় ১২৫ কোটি ডলার জরিমানা আরোপ করা হয়। যা পরিশোধ করার মূলতঃ জার্মানীর ক্ষমতা ছিল না। এমন কি স্বয়ং ইংরেজ এইচ,জি, বিলিজও এটাকে বিজয়ী চুক্তিপত্র বলে ঘোষণা দেয়। রাসূলুল্লাহ ইয়াহুদীদের সাথে যে সহনশীলতা ও উদারতাপূর্ণ আচরণ এবং অমুসলমান জাতির সাথে যে সব চুক্তিপত্র করেছেন, তা তাঁর উদারতা ও সহিষ্ণুতার আদর্শ নমুনা ছিল। কিন্তু বিভিন্ন স্তরে লোকদের সাথে রাসূলুল্লাহ ব্যক্তিগতভাবে যে উদারতা ও সহনশীলতা প্রদর্শন করেছেন, তাদের মধ্যেও একদল ইয়াহুদী ছিল। ইয়াহুদীরা ইসলামের অনুসারীদের যে অসহিষ্ণু ও অনৈতিক ব্যবহার করেছে, তা এখন উল্লেখ করা হচ্ছে। পক্ষান্তরে রাসূলুল্লাহ সহিষ্ণুতা ও উদারতা প্রদর্শন করেছেন, তা হল এই। মুজিব উল্লাহ নদভী লিখেছেন, মদীনার ইয়াহুদীদের সমবেত হওয়ার মাদরাসা ছিল, রাসূলুল্লাহ ও একাধিক সাহাবায়ে কিরাম ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে তথায় যাতায়াত করতেন। বিশেষ করে হযরত উমর রাযি. বেশী যাতায়াত করতেন। হিজরতের প্রথম দিকে ইয়াহুদীরা নিজেদের শক্তি ও সামর্থের নেশায় অন্ধ হয়ে ইসলামকে তোয়াক্কা করত না। কিন্তু বদরের যুদ্ধে কুরাইশদের সৌভাগ্যের সূর্য অস্তমিত হতে দেখে, তারা নিজেদের ভবিষ্যত অন্ধকার দেখতে শুরু করে। রাসূলুল্লাহ মদীনাসনদ নামে যে শান্তি চুক্তি করেছেন, তা ইয়াহুদীদের প্রতি উদারতা ও সহিষ্ণুতার উত্তম নমুনা। এর কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ ও উল্লেখযোগ্য শর্তাবলী নিম্নে উল্লেখ করা হচ্ছে। ১. বনী আউফ গোত্রের ইয়াহুদীরা মুসলমানদের সাথে এক জাতি হিসেবে বসবাস করবে। ২. আর যদি কেউ ঐ চুক্তিবদ্ধ জাতি সমূহের উপর আক্রমণ করে তাহলে সকলে মিলে যৌথভাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ৩. চুক্তিবদ্ধ জাতিসমূহ পরস্পরে একে অপরের কল্যাণ কামনা করবে। একে অপরের হিতাকাঙ্খি হবে। কেউ কারও ক্ষতি ও অমঙ্গলকামী হতে পারবে না। ৪. যুদ্ধ চলাকালীন সময় ইয়াহুদী ও মুসলমান উভয় একযোগে কাজ করবে। ৫. ইয়াহুদীদের মিত্র গোত্রসমূহ ইয়াহুদীদের সমান। তারও সকল প্রকার সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবে। ৬. কোন ব্যক্তিকে চুক্তিবদ্ধ করে তার সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা যাবে না। ৭. অত্যাচারিত ও উৎপিড়ীত ব্যক্তিকে সর্বাত্মক সাহায্য সহযোগীতা করতে হবে। ৮. পারস্পরিক মতবিরোধপূর্ণ বিষয় রাসূলুল্লাহ কে মীমাংসাকারী মান্য করতে হবে। রাসূলুল্লাহ হযরত সাহাবায়ে কিরামকেও সহিষ্ণুতা ও উদারতা প্রদর্শনের আদেশ করেন। ৭ম হিজরীতে খাইবার যুদ্ধ সংঘটিত হয়। মুসলমানগণ ইয়াহুদীদের জীবজন্তুও অর্থ-সম্পদ লুণ্ঠন করে নিয়ে আসে। এতে রাসূলুল্লাহ ভীষণ অসন্তুষ্ট হয়ে হযরত সাহাবায়ে কিরামকে সমবেত করে ইরশাদ করেন, আল্লাহ তা'আলা তোমাদের জন্য বৈধ করেন নি যে, বিনা অনুমতিতে তোমরা জোরপূর্বক আহলে কিতাবদের গৃহে প্রবেশ করবে। আর না তাদের নারীদের মারধর করবে। আর না তাদের বাগানের ফল ও ফসল খাবে। যাবত না তারা তোমাদেরকে তা প্রদান করে, যা তাদের উপর অত্যাবশ্যক করা হয়। সবচেয়ে বেশী চিত্তাকর্ষক কথা হল, খাইবার দূর্গ অবরোধের সময় জনৈক ইয়াহুদীর রাখাল কৃতদাস মুসলমান হয়ে যায়। ইসলামী আইন মোতাবেক সে তাৎক্ষণিকভাবে আযাদ হয়ে যায়। কিন্তু রাসূলুল্লাহ তাকে আদেশ করেন, স্বীয় মনিবের সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করা যাবে না। সুতরাং সে স্বীয় মনিবের পশুপালকে হাঁকিয়ে দূর্গের নিকট তাড়িয়ে নিয়ে যায়। তারপর পশুপালকে ভয় দেখিয়ে উত্তেজিত করে দেয়। পশুরপাল অভ্যাস অনুযায়ী নিজ মনিবের গৃহে পৌঁছে যায়। আর ঐ বিশ্বস্থ কৃতদাস পুনরায় ফিরে এসে মুসলমানদের সাথে মিলিত হয়। অবশেষে দূর্গবাসীরা হাতিয়ার ছেড়ে দেয়। খাইবরের ইয়াহুদীরা পরাজিত হওয়ার পর আবেদন করে, আমাদের জমিন আমাদের নিকট থেকে ছিনিয়ে না নেয়া হোক। রাসূলুল্লাহ তাদের আবেদন কবুল করেন। সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, অর্ধেক জমিন মুসলমানদের হাতে ছেড়ে দিতে হবে। রাসূলুল্লাহ স্বীয় প্রতিনিধিদেরকে আদেশ দেন, তারা যে অংশ ছেড়ে দেবে শুধু তা গ্রহণ করবে। হযরত সুফিয়া রাযি. ইয়াহুদী সর্দারের কন্যা ছিলেন। রাসূলুল্লাহ তাঁকে বিবাহ বন্ধনে নিয়ে আসেন। এর চেয়ে আরও বেশী কোন বিজয়ী পরাজিতদের এরূপ সহিষ্ণুতা ও উদারতা প্রদর্শন করেছে কি?
📄 খ্রিস্টানদের সাথে সহিষ্ণুতা ও উদারতা
ইয়াহুদীদের পূর্বে খ্রিস্টানদের সাথে মুসলমানদের সম্পর্ক স্থাপিত হয়। আবিসিনিয়ার অধিপতি নাজ্জাশী ইসলাম গ্রহণ করে মুসলমানদর আশ্রয় দেওয়ার কারণে খ্রিস্টানদের সম্পর্কে মুসলমানদের উত্তম ধারনা হয়। পবিত্র কুরআন মজিদের সূরা মাঈদায় বর্ণিত আয়াতে অন্যান্য জাতির মুকাবিলায় তাদেরকে উত্তম বলে উল্লেখ করা হয়। একবার নাজরানের এক খ্রিস্টান প্রতিনিধিদল মদীনাতে আগমন করে। রাসূলুল্লাহ তাদের জন্য ঝমকালো মেহমানদারীর আয়োজন করেন। শুধু তাই নয়। মসজিদে নববীতে তাদের থাকার ব্যবস্থাও করেন। এমনকি তাদেরকে নিজনিজ ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী নামায আদায় করার অনুমতি দান করেন। রাসূলুল্লাহ এর সর্বপ্রথম সীরাত রচিয়তা হযরত ওরউয়া বিন যুবাইর রাযি. নাজরানের খ্রিস্টান প্রতিনিধিদলের সাথে গৃহীত চুক্তিপত্রের বিস্তারিত বর্ণনা উল্লেখ করে বলেন, তাতে এ শর্তও অন্তর্ভূক্ত করা হয় যে, মুসলমান খ্রিস্টানদের নিকট থেকে যে জিনিস ধার নেবে, তা নষ্ট হলে ক্ষতিপূরণ দান করতে হবে। নাজরানবাসীদের জানমাল, ধর্ম, গীর্জা ও ধর্মীয় নেতা সকলের অধিকার সংরক্ষণের জিম্মদার হবে। ৬ষ্ঠ হিজরীতে মিশরের সীনাই অঞ্চলের সিনেট ক্যাথোরিনের পাদ্রীদের সাথে যে চুক্তিপত্র করা হয়, তাতে এ শর্ত অন্তর্ভূক্ত করা হয় যে, খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের কোন প্রকার ক্ষতি সাধন করা হবে না। কোন পাদ্রীকে পদচুত্য করা হবে না। খানকাহ থেকে বের করে দেওয়া হবে না। তাদেরকে ধর্ম পরিবর্তনে বাধ্য করা হবে না বরং গীর্জা মেরামতের জন্য মুসলমানগণ সকল প্রকার সাহায্য সহায়তা করবে।
📄 প্রাচ্য বিশারদদের অঙ্গীকার
প্রসিদ্ধ প্রাচ্য বিশারদ আরল্যান্ড স্যার থমাস ইসলামের এ আদর্শকে অকপটে স্বীকার করে বলেছেন, আরবদের প্রাথমিক রাজ্যজয়ের যুগে জোরপূর্বক কাউকে মুসলমান করা হয়েছে, কারো প্রতি কঠোরতা আরোপ করা হয়েছে, এমন ঘটনা আমার জানা নেই বরং বাস্তবতা হল, আরব বাসীরা খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের সাথে যে উদারতা ও সহিষ্ণুতাপূর্ণ আচরণ করেছে, তা তাদের রাজ্য জয়ের দ্বার উন্মুক্ত করে দিয়েছে।
📄 ইংরেজ ঐতিহাসিক ফ্যানির অভিমত
মুসলমানগণ রাজ্যশাসন কালে কোন অমুসলমানকে ইসলাম গ্রহণ করার জন্য কঠোরতা আরোপ করেনি। খ্রিস্টানদের বিলুপ্তীর জন্যও কোন পরিকল্পনা গ্রহণ করেনি। যদি ইসলামের খলীফাগণ এতদুভয়ের মধ্যে একটি পরিকল্পনাও গ্রহণ করতেন, তাহলে অতি সহজে খ্রিস্টানদের ভূ-পৃষ্ঠ থেকে চিরদিনের জন্য বিলুপ্ত করে দিতে পারতেন। যত সহজে ফার্ডিনান্ড ও আজমাইলেনা তা করেছে। তারা ইসলামকে সাপানিয়া থেকে নির্মূল করে দিয়েছে। চতুর্দশ লুই ফ্রান্সে প্রোটেস্টাইন মতবাদকে শাস্তি যোগ্য ঘোষণা করে। ইয়াহুদীদেরকে সাড়ে তিনশ বছর পর্যন্ত ইংল্যান্ডে প্রবেশ করতে দেয়নি। এশিয়া মহাদেশে বর্তমান সময়ও খ্রিস্টানদের গীর্জা বিদ্যমান থাকা ঐ ব্যাপক উদারতা ও সহিষ্ণুতার অকাট্য প্রমাণ। যা ইসলামী শাসকগণ তাদের অমুসলিম প্রজাদের সাথে করেছেন। যুদ্ধে রক্তপাত ঘটত কিন্তু বিনারক্তপাতেও বিজয় গৌরব অর্জন করার অনেক উদাহরণ রয়েছে। মুসলমান সেনাপতিগণ কখনও শত্রু বাহিনীকে অস্ত্র ধরার সুযোগ না দিয়ে আক্রমণ পরিচালনা করেনি। মুসলমানদের এরূপ সৌযন্যমূলক আচরণ ছিল যে, রোমানদের আক্রমণের সময় মুসলমানগণ খ্রিস্টানদের কর ফেরত দিয়ে দেয়। স্বয়ং খ্রিস্টানরা রোমানদের বিরুদ্ধে মুসলমানদের যুদ্ধে জয়লাভের জন্য দু'আ করত। মুসলমানদের বিজয়ী হওয়ার পর খ্রিস্টানরা বিজয় উৎসব পালন করে। উপরন্তু তারা নিজ দায়িত্বে কর পরিশোধ করে এবং বিপুল সংখ্যক স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করে।