📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 আরবের মুশরিকদের ইসলামকে অসহ্য করা

📄 আরবের মুশরিকদের ইসলামকে অসহ্য করা


আল্লাহ তা'আলার আদেশ فَانْذِرُ )উঠুন ভয় দেখান) ইসলাম প্রচারের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করুন। আল্লাহর তাওহীদ প্রচার করার আদেশ দান করুন। বিস্তারিতভাবে এসব কথা অবতীর্ণ হয়। তখন রাসূলুল্লাহ ইসলামের প্রচার শুরু করেন। প্রাচ্যবিশারদ ডবিল লিখেছেন, যারানের পর্বত চূড়ায় তাওহীদের বর্ণনা শোনার পর আবু লাহাব ক্ষোভে-দুঃখে উত্তেজিত হয়ে শুধু রাসূলুল্লাহ কে ইসলাম প্রচারে বাঁধা দেয়নি বরং রাসূলুল্লাহ এর প্রতি পাথরের বৃষ্টি বর্ষণ করা শুরু করে। আর রাসূলুল্লাহ এর উপর অত্যাচারের স্ট্রিমরোলার চালাতে থাকে। এমনকি রাস্তায় কাঁটা বিছিয়ে দিত, কাবা গৃহে নামায আদায়ের সময় পিঠের উপর উটের নাড়ীভুঁড়ি চাপিয়ে দিত। এ সম্পর্কে কোসটান লিখেছেন, এ শাস্তিসমূহ ছিল এক ধরনের মৃত্যু। রাসূলুল্লাহ এর প্রতি ঈমান আনয়ণ কারীদের উপর কঠোর নির্যাতন ও তাদের হত্যা করা ছিল সাধারণ কাজ। তখন প্রাণ রক্ষার্থে মুসলমানদেরকে দু'বার আবিসিনিয়ায় হিজরত করতে হয়েছে। রাসূলুল্লাহ মক্কাবাসীদের বাদ দিয়ে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে তায়েফে গমন করেছেন। সেখানেও তায়েফের কিশোর তরুনদের দ্বারা অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। পাথর নিক্ষেপ সারা দেহ রক্তাক্ত করে তায়েফ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। তখন কোনো উপায়ান্তর না দেখে শিয়ায়ে আবু তালেবে অবরুদ্ধ করে পুরোপুরি সামাজিকভাবে বয়কট করা হয়। অবশেষে রাসূলুল্লাহ হিজরত করতে বাধ্য হন। কিন্তু মক্কার মুশরিকরা তাও সহ্য করতে রাজী হয়নি। মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে থাকে। প্রতারিত করে মুসলমানদের হত্যা করতে শুরু করে। যে সন্ধি চুক্তিই করা হত তার বিপরীত করত। এ অবস্থা মক্কা বিজয় পর্যন্ত চলতে থাকে। (এ সম্পর্কে সামনে আলোচনা করা হবে।)

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 রাসূলুল্লাহ ﷺ এর শিক্ষার আলোকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে সহিষ্ণুতার সূচনা

📄 রাসূলুল্লাহ ﷺ এর শিক্ষার আলোকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে সহিষ্ণুতার সূচনা


উপরে উল্লেখিত অসহিষ্ণুতার টানাপোড়নের যুগে রাসূলুল্লাহ এর শিক্ষা ও আমলের সুফল পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ইসলামের উদারতা পূর্ণাঙ্গ শক্তি প্রদর্শনের সাথে সামনে অগ্রসর হয়েছে। এর নজির না ইসলামের পূর্বে ছিল, আর না ইসলামের পরে পেশ করা যাবে। রাসূলুল্লাহ এর কথা ও কাজ ছিল কুরআনের মুতাবিক। এ দিকে ইশারা করে হযরত আয়েশা রাযি. ইরশাদ করেছেন, كَانَ خُلُقُهُ القرآن "তার চরিত্র ছিল স্বয়ং কুরআন।"

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 কুরআনের আলোকে সহিষ্ণুতা

📄 কুরআনের আলোকে সহিষ্ণুতা


এ কারণে সর্বপ্রথম কুরআনের আলোকে সহনশীলতার শিক্ষা পেশ করা হচ্ছে। সূরা আম্বিয়াতে মহান আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেছেন, "আমি আপনাকে নিছক রহমত স্বরূপ সমগ্র বিশ্বের জন্য প্রেরণ করেছি।” রাসূলুল্লাহ এর রহমত কাফির-মুশরিক সকল মানুষের জন্য সমান ছিল। যার ইচ্ছা সে রহমত ও নিরাপত্তার চাদরে আবৃত হতে পারত। সূরা আহযাবে বর্ণনা করা হয়েছে, “হে নবী! নিশ্চয় আমি আপনাকে প্রেরণ করেছি, উপস্থিত পর্যবেক্ষণকারী করে, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী রূপে এবং আল্লাহর প্রতি তার নির্দেশে আহবানকারী আর আলোকোজ্জল সূর্য রূপে। সূরা সাবায়ও এর পুনরাবৃত্তি হয়েছে। আর সূরা আন্-নাহলে আদেশ দেওয়া হয়েছে, আল্লাহ তা'আলা সকলের সাথে আদল-ইহসান ও সদাচরণের আদেশ দান করেছেন"। সূরা কাসাসেও এক কথার পুনরাবৃত্তি হয়েছে। ধর্মীয় বিষয়ে উদারতা ও সহিষ্ণুতার চূড়ান্ত রূপ ও সূরা কাহাফে বলা হয়েছে, "যার ইচ্ছা ঈমান আনবে, আর যার ইচ্ছা কুফরী ইখতিয়ার করবে। সূরা বাককারাতে ইরশাদ করা হয়েছে, "দ্বীনের ব্যাপারে কোন জোর জবরদস্তী নেই"। সূরা আল কাফিরুনেও এর পুনরাবৃত্তি হয়েছে। কাজের সাথে কঠোরতা ও অসহিষ্ণুতার কোন সম্পর্ক নেই। বরং এটা হলো মহব্বতের জন্য। আল্লাহ তা'আলার বাণী হলো, আপন প্রভূর প্রতি বুদ্ধিমত্তা ও প্রজ্ঞার সাথে লোকজনকে আহবান করা। আর তর্ক-বিতর্কে ধৈর্য্য ও সহিষ্ণুতা প্রকাশ করা, যদি সে তোমার সাথে সীমালঙ্ঘনমূলক আচরণ না করে। তারপর আদেশ দেওয়া হয়েছে, যারা আল্লাহ ব্যতীত অন্যের ইবাদত করে তাদের প্রতিমাসমূহকে গালি দেবে না। নতুবা সে অজ্ঞতা বশতঃ তোমার সত্য খোদাকে গালি দিতে শুরু করবে। আর নিজের পরকালকে ধ্বংস করে দেবে। জোর জবরদস্তি করা আপানার কাজ নয়। বরং আপনার কাজ হল, শুধু আল্লাহর বাণী পৌছে দেওয়া। আর যে হিদায়াতের পথে চলে সে তার নিজের কল্যাণের জন্য চলে। আর যে পথ ভ্রষ্ট হয় সে নিজের ক্ষতি সাধন করে। এর চেয়ে অধিক বেশী সহনশীলতা ও সহিষ্ণুতার শিক্ষা কোন ধর্ম দিয়েছে কি?

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 প্রাচ্য বিশারদদের পক্ষ থেকে কুরআনের শিক্ষার অঙ্গীকার

📄 প্রাচ্য বিশারদদের পক্ষ থেকে কুরআনের শিক্ষার অঙ্গীকার


খ্যাতনামা ইউরোপীয় মুসতাশরিক জজ সেল বলেছেন, মুসলমানদের ধর্ম ও কুরআনের ধর্ম তো এক শান্তি ও নিরাপত্তর ধর্ম। আউসিক্যাসল্ট কারের অভিমত হল, সারা বিশ্বে যদি কুরআনের বিধান জারি থাকে, তাহলে পৃথিবীতে শান্তি ও নিরাপত্তা কখনো বিঘ্নিত হবে না। ফ্রান্সের প্রাচ্য বিশারদ মিসিসিউ সিডউল্টের অভিমত হল, যেসব মানুষ ইসলামকে সন্ত্রাসী ধর্ম বলে আখ্যায়িত করে, তাদের অন্তর অন্ধকারচ্ছন্ন হওয়ার স্পষ্ট দলীল হল, তারা ঐ স্পষ্ট আয়াতসমূহের প্রতি আলোকপাত করে না। যার প্রতিক্রিয়ায় আরববাসীদের সকল প্রকার চারিত্রিক কলঙ্ককে মুহূর্তের মধ্যে দূর করে অথচ তা দীর্ঘ দিন যাবত তাদের মধ্যে প্রচলিত ছিল। প্রতিপক্ষ থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করা বংশ পরম্পরায় শত্রুতা জিইয়ে রাখা। প্রতিহিংসা, অন্যায়ভাবে অত্যাচার নির্যাতন করা, খুন-খারাবি করা ইত্যাদি ঘৃণিত ও জঘন্য রীতিনীতিকে কুরআন চিরদিনের জন্য বিলুপ্ত করে দিয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশ বিষয় পূর্বে ইউরোপে বিরাজমান ছিল; বর্তমানেও আছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00