📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 রোমান খ্রিস্টান ও ইরানের অগ্নি উপাসকদের অসহিষ্ণুতা

📄 রোমান খ্রিস্টান ও ইরানের অগ্নি উপাসকদের অসহিষ্ণুতা


পৃথিবীর এ সভ্য জাতি নিজেদের বর্বরতায় সব জাতিকে ছাড়িয়ে গেছে। তাদের এখানে ইয়াহুদী ও ভারতবর্ষের উল্লেখিত অত্যাচার-নির্যাতন ছাড়াও তারা ফসলের মাঠ ও ফলের বাগান সমূহ জ্বালিয়ে দিয়েছে। তারা জনবসতিতে অগ্নিসংযোগ করে ধ্বংস স্তূপে পরিণত করে দেওয়াকে বিজয় গৌরব মনে করত। সিকান্দার আযম শামের প্রাচীন বাণিজ্যিক শহর সুর দীর্ঘ সময় কঠোর অবরোধের পর দখল করে। দখলের পর আট হাজার নিরাপরাধ লোককে হত্যা করে। ত্রিশ হাজার মানুষকে ক্রিতদাসে পরিণত করে। ঐ সময় বিজয়ীদের জন্য দু'টি রাস্তা ছিল, হয়ত ব্যাপক হারে মানুষ হত্যা করা অথবা ক্রিতদাস বানিয়ে নেওয়া। ৭০ খ্রিস্টাব্দে তাইতাস রোমী বাইতুল মুকাদ্দাস নগরী জয় করার পর শহরের সব সুন্দরী যুবতী মেয়েদের বিজয়ীদের মধ্যে বণ্টন করে দেয়। যুবকদেরকে বন্দী করে মিশরের খনি শ্রমিক বানানোর জন্য অথবা রোমের আগ্নেয়গিরির জ্বলন্ত লাভায় নিক্ষেপ করার জন্য অথবা ওখানে খ্রিস্টমাস উৎসবে জন্তুর মুখে নিক্ষেপ করার জন্য পাঠানো হত। তারা ওখানে ৯৭ হাজার লোককে বন্দী করে। তন্মধ্যে ১১হাজার লোক ক্ষুত পিপাসায় মারা যায়। এভাবে প্রায় এক লাখ ত্রিশ হাজার লোক নিহত হয়। ৫৪০ খ্রিস্টাব্দে নওশেরোয়া এনতাকিয়া নগরী লুণ্ঠন করার পর তাতে অগ্নিসংযোগ করে। আর ৫৬৭ খ্রিস্টাব্দে ক্যাসপোডিসিয়া ও মালাইনটাইন নগরী অগ্নিসংযোগ করে ধ্বংস করে দেয়। ৬৪৫ খ্রিস্টাব্দে খসরু পারভেজ বাইতুল মুকাদ্দাস নগরী দখল করার পর নব্বই হাজার লোক হত্যা করে। উপাসনালয় সমূহ জ্বালিয়ে দেয়। এর জবাবে হিয়াক্লিয়াস যখন ইরান আক্রমণ করে তখন সে আর্মোনেয়া রাষ্ট্রকেই নিশ্চিহ্ন করে দেয়। আর জাস্টিনীস আফ্রিকা আক্রমণ কালে সেখানকার পাঁচ লাখ অধিবাসীদের অস্তিত্বকে পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত করে সবুজ শ্যামল দেশকে বদ্ধভূমিতে পরিণত করে। মূলতঃ রোমান শাসকরা অরোমান শাসকদের আইনগত অস্তিত্বকেই সমর্থন করত না। ইরানী শাসকদেরও একই অবস্থা ছিল। তাদের মতে যে কোন অ-ইরানী হিংস্র ও বিদ্রোহী। কারণ, এ শাসকবর্গের প্রত্যেকে যুদ্ধে চারিত্রিক গুণাবলীকে পদদলিত করত। আর একে অপরের প্রতি অসহিষ্ণুতা প্রকাশ করত। ৭০ খ্রিস্টাব্দে আবিসিনিয়ার বাদশাহ আবরাহা পবিত্র কা'বা গৃহ আক্রমণ করে। কিন্তু মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ তা'আলা ক্ষুদ্র আবাবিল পাখি দ্বারা তার পুরো বাহিনীকে কয়েক মুহূর্তের মধ্যে নিশ্চিহ্ন করে দেন। এ ঘটনা তাফসীরে ইবনে কাসীরে সূরা ফীলের অধীনে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। তার এ আক্রমণের কারণ ছিল সানার গীর্জায় অপমানের প্রতিশোধ নেওয়া। অথবা ঐতিহাসিকদের মতে ওয়ারসিল জর্জের নিকট প্রাচ্যের কাবা বাণিজ্যের কেন্দ্রে বিন্দু হিসেবে বহাল থাকুক, এ ছিল অসহনীয় ব্যাপার।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 আরববাসীদের মধ্যে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অসহিষ্ণুতা

📄 আরববাসীদের মধ্যে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অসহিষ্ণুতা


মুসলমানদের মক্কা ও মদীনাতে শুধু তিন শ্রেণীর লোকদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করতে হয়েছে। মক্কাতে মুশরিকদের সাথে, আর মদীনাতে ইয়াহুদী ও মুনাফিকদের সাথে। এছাড়া দুটি প্রদেশেই অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের অবস্থান সমান ছিল। সুতরাং মুসলমানদের ঐ তিন শ্রেণীর লোকদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করতে হয়েছে। আর ঐ তিন দলই মুসলমানদের সাথে অসহিষ্ণুতা ও অসহমর্মীতা পূর্ণ আচরণ করেছে। তারা ইসলাম ব্যতীত সবধর্মই গ্রহণ করেছে। অন্যান্য জাতি ও মিল্লাত যেখানে পরস্পরে একে অপরের সাথে অসহিষ্ণুতার মনভাব প্রকাশ করেছে, ওখানে ইসলামের অনুসারীদের সাথেও সেই অসদাচরণ করেছে। তার সংক্ষিপ্ত নমুনা নিম্নে উল্লেখ করা হচ্ছে। রাসূলুল্লাহ এর নবুওয়াতের সূচনালগ্নে পৃথিবীতে বিরাট বিরাট সভ্য রাজত্ব ছিল। মাইনে ইরানী। কনসটান্টিনোপলে বরজিবী, আর খানাবাইনে চীনারা পৃথিবী তিন ভাগে বিভক্ত ছিল। মানবীয় চিন্তাধারা মিশরের পিরামিড তৈরী করেছে। তাওরাতের উত্তাপও পৃথিবীতে এসেছিল। আর ইঞ্জিলের নমনীয়তাও ছিল। বেদের জাতপাতও বিদ্যমান ছিল। ইংরেজ ভাগ বণ্টনের উষ্ণতার পরিণতির প্রতিফলনও মানুষ প্রত্যক্ষ করেছে। আর কানপুশের শিক্ষা মোতাবেক একশ' এক পুরুষ পর্যন্ত আত্মীয়তার সম্পর্ক স্মরণ রাখার প্রচেষ্টাও করা হয়েছিল। আর এরিষ্টটলের রাজনীতি ও হিন্দুদের মহাভারতও লিপিবদ্ধ হয়েছিল। কিন্তু পৃথিবীতে তখনও এমন এক ধর্মের ভীষণ প্রয়োজন ছিল, যা পূর্ণাঙ্গ উদারতা ও সহিষ্ণুতার মাধ্যমে বিশ্ব জগতে বসবাস কারী মানুষকে নিজের নিরাপত্তার চাদরে আবৃত করে নিতে সক্ষম হবে। আর এ ছিল ঐ পথপ্রদর্শন, সমস্ত আম্বিয়ায়ে কিরাম যার আগমনের সুসংবাদ দিয়ে গেছেন।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 ইয়াহুদীদের ইসলামকে অসহ্য করা

📄 ইয়াহুদীদের ইসলামকে অসহ্য করা


বড়ই বিস্ময়কর যে, এ ইয়াহুদীরাই এক সময় মানুষকে আখেরী নবী রাসূলুল্লাহ এর আগমনের সুসংবাদ শোনাত। কিন্তু সে কাঙ্খিত শেষ নবী রাসূলুল্লাহ এর তাশরীফ আনার পর এরাই সর্বপ্রথম বিরোধীতা করে এবং ঘোরতর শত্রু হয়ে দাঁড়ায়। এমন কি চিরস্থায়ী অভিশাপের যোগ্য চিহ্নিত হয়। ডক্টর হামিদুল্লাহ খাঁন ইয়াহুদীদের বিরোধীতার কারণ উল্লেখ করে বলেন, প্রথমতঃ মুসলমানগণ বাইতুল মুকাদ্দাসের পরিবর্তে কা'বাকে কিবলা বানিয়েছে। দ্বিতীয়তঃ বনী কাইনুকার ঘটনার পর ইয়াহুদীরা মুসলমানদেরকে তাদের জন্য মহাবিপদ মনে করতে শুরু করে। এ কারণে তারা মক্কার মুশরিকদের সাথে গোপন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। কাব বিন আশরাফকে গোপন ষড়যন্ত্রের কারণে হত্যা করে ফেলা হয়। অবশেষে বনী নাযীর গোত্রের ইয়াহুদীদেরকে মদীনা থেকে বহিষ্কার করা হয়। ইয়াহুদীরা সর্বদা ইসলামের বিরুদ্ধে গোপন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকত। অন্যান্য লোকদেরকেও যুদ্ধের জন্য উৎসাহ দিত। মুসলমানদের বিরুদ্ধে শত্রুতা ও বিদ্বেষ পোষণ করা তাদের অভ্যাসে পরিণতি হয়ে গিয়েছিল। রাসূলুল্লাহ এর السَّلَامُ عَلَيْكُمْ (আসসালামু আলাইকুম) এর স্থলে رَاعِنَا (রাইনা (আপনি ধ্বংস হোন) বলত। রা'য়েনা এর স্থলে انْظُرْنَا , অর্থাৎ “আমাদের প্রতি করুনার দৃষ্টি দান করুন” বলার পরিবর্তে “আমাদের রাখাল” বলত। অতঃপর তাদের এ ধৃষ্টতাপূর্ণ আচরণের দায়ে তাদেরকে মদীনা এবং পরবর্তীতে খায়বারের দূর্গসমূহ থেকেও বহিষ্কার করা হয়। ইয়াহুদীরা যে কোন উপায়েই মুসলমানদের সহ্য করতে অপ্রস্তুত ছিল। কারণ, তাদের জ্ঞানের রাজ্য হস্তচ্যুত হয়ে যাওয়া। আরবের মধ্যে রাসূলুল্লাহ এর তাশরীফ আনা, আর মুসলমানদের শক্তি বৃদ্ধিও তাদের অসহ্যের কারণ ছিল। প্রাচ্য বিশারদ আরভিসি বুডলি ইয়াহুদীদের অসহিষ্ণুতাপূর্ণ মনোভাবে পরিণতিকে ইনসাফপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গিতে উল্লেখ করে বলেছে। ইয়াহুদীদের অসহিষ্ণু মনোভাব তাদের এক বিরাট অংশের দ্বিতীয় অভ্যাসে পরিণত হয়ে পড়েছে। যার কারণে তাদের একাধিকবার তাদের আবাসস্থল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সর্বপ্রথম তাদেরকে তাদের আবাসস্থল থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তা ছিলো বড় বহিষ্কার। হযরত ঈসা মসীহের ৫৮৬ বছর পূর্বে একবার তারা নিজ আবাসস্থল থেকে বহিষ্কৃত হতে হয়েছে। দ্বিতীয়বার ৬৩ খ্রিস্টাব্দে তারপর ৭০ খ্রিস্টাব্দে আর সর্বশেষ ১৩৫ খ্রিস্টাব্দে তাদেরকে তাদের স্বদেশ থেকে বহিস্কার করা হয়। এ ধারাবাহিক বহিস্কারের কারণে ইয়াহুদীরা দূরদূরান্তে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু অধিকাংশ ইয়াহুদী জেরুজালেমের আশেপাশের আরব দেশগুলোতে থেকে যায়। তাদের মধ্যে খ্যাতনামা তিন গোত্র বনী কাইনুকা, বনী নাযীর ও বনী কোরাইযা মদীনাতেই থেকে যায়। মদীনার ঐ ইয়াহুদীরা মুসলমানদের বিরুদ্ধে গোপন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হওয়ার সাথে সাথে মুসলমানদের ইজ্জত-সম্মান ক্ষুণ্ণ করার প্রতিও অগ্রসর হতে শুরু করে। বনী কাইনুকার এক ব্যক্তি এক মুসলমান যুবতী কন্যাকে উন্মুক্ত বাজারে উলঙ্গ করে চরম হঠকারীতায় মেতে উঠে, উপহাস করে। এ অবস্থা দেখে এক মুসলমান তাকে তাৎক্ষণিকভাবে হত্যা করে এর জবাব দেয়। ইয়াহুদীরা ঐ মুসলমানকে শহীদ করে ফেলে। এ নিয়ে অবশেষে মুসলমানদের সাথে ইয়াহুদীদের ধর্মযুদ্ধ হয়। যুদ্ধে ইয়াহুদীরা পরাজিত হওয়ার পর তাদের মদীনা থেকে বহিষ্কার করে দেওয়া হয়।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 মুনাফিকদের ইসলামকে অসহ্য করা

📄 মুনাফিকদের ইসলামকে অসহ্য করা


চৌধুরী আফযাল হক বলেন, সফলতার সাথে যুদ্ধ থেকে নিস্কৃতি লাভ করা সহজ। পার্থিব সম্পদকে দ্বীনের জন্য উৎসর্গ করা সহজ। কিন্তু মুনাফিকদের সাথে তাল মিলিয়ে চলা, তাদের হাজারো ষড়যন্ত্রের পরও একবারও তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ না করা রাসূলুল্লাহ এর অভিপ্রায় ছিল। যখন মুসলমানগণ মক্কাতে বাস করেছিল তখন মুনাফিকদের অস্তিত্ব ছিল না। রাসূলুল্লাহ মদীনায় হিজরত করার পর তাদের অস্তিত্ব সামনে আসে। এদের নেতা ছিল আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই। মদীনাবাসীরা তাকে সরদার মনোনীত করার প্রস্তুতি গ্রহণ করে মুকুট পরিয়ে সিংহাসনে আরোহণ করানোর অপেক্ষায় ছিল। ইত্যাবসরে রাসূলুল্লাহ এর মদীনায় তাশরীফ নেওয়ায় মদীনাবাসীরা উবাইয়ের পরিবর্তে রাসূলুল্লাহ কে ঐ আসনে অধিষ্ঠিত করে। এটা উবাইয়ের নিকট অসহনীয় হয়। তাই সে তার চেলা-চামুণ্ডাদের সাথে নিয়ে ইসলাম গ্রহণ করে গোপন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। বনী মুস্তালিকের বিজয়ের পর পঞ্চম হিজরীতে নিজ সম্প্রদায়কে বলল, মদীনাতে পৌছামাত্রই সম্মানীতদের (মদীনাবাসী) অসম্মানীদের (নাউযুবিল্লাহ) অর্থাৎ মুসলমানদের বের করে দেবে। মুসলমানদের বিজয়ে তাদের গাত্রদাহ হয়েছে। বনী নাযীর গোত্রের ইয়াহুদীদের মুসলমানদের বিরুদ্ধে উৎসাহ দেয়। মুসলমানদেরকে পরাজিত করার উদ্দেশ্যে ওহুদের যুদ্ধে সংকটময় মুহূর্তে ৩০০জন সঙ্গী-সাথীকে নিয়ে রণে ভংগ দিয়ে মদীনায় চলে আসে। খন্দকের যুদ্ধে মুসলমানদের সাথে যোগদান না করে, মুসলমানদের বিরুদ্ধে গোপন ষড়যন্ত্র করার জন্য মসজিদে জিরার তৈরী করে। মুসলমাকনদেরকে রোমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগদানে ভয় দেখিয়ে বলে لَا تَنْفِرُوا فِي الْحَرِّ ভীষণ গরমের মৌসুম। যুদ্ধে যোগদান করো না। কুরআন মজিদে এর প্রতিবাদ করে জবাব দেওয়া হয়েছে,- قُلْ نَارُ جَهَنَّمَ أَشَدُّ حَرَّا বলুন! জাহান্নামের আগুন তদপেক্ষা অধিক উত্তপ্ত হবে। তোমরা তা থেকে মুক্তি লাভের প্রস্তুতি গ্রহণ করো। মোটকথা, মুনাফিকরা মদীনাতে না এ প্রতিজ্ঞা রেখেছিল, আর না চারিত্রিক কোনও বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ রেখেছিল বরং তারা মুসলমানদের ক্ষতিগ্রস্থ করার জন্য সর্বদা মরিয়া ছিল।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00