📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 নরড্যান ব্যারগের অভিমত

📄 নরড্যান ব্যারগের অভিমত


১৮৭১ খ্রিস্টাব্দের পূর্ববর্তী সময় ইউরোপের মধ্যাঞ্চলের দেশ সমূহ লাগাতার যুদ্ধের কারণে প্রায় ধ্বংস হয়ে যায়।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে জাতীয় আন্তর্জাতিক অসহিষ্ণুতার মনোভাব

📄 হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে জাতীয় আন্তর্জাতিক অসহিষ্ণুতার মনোভাব


ভারতবর্ষে আর্য ও অনার্য্যদের যুদ্ধ হয়েছে। আর্য্যরা স্বভাবগতভাবে অনার্য্যদের নিম্নজাত ও অশূচী মনে করত। বেদ-পুরানের মন্ত্র দ্বারা প্রমাণ হয়েছে যে, আর্য্যদের অন্তরে দুশমনদের প্রতি কঠোর নির্যাতন করার প্রচেষ্টা সচল ছিলো। জীবিত ব্যক্তির চামড়া খুলে ফেলা হত। এমনকি তার দেহের রগ কেটে ফেলা, আগুনে নিক্ষেপ করা, দেহ বিকৃত করে দেওয়া, হিংস্র প্রাণীর সামনে ফেলে দেওয়া, জীবিত অবস্থায় পশুর চামড়া মধ্যে ঢুকিয়ে সেলাই করে দেওয়া, তার পরিবার পরিজনকে ন্যাস্তনাবুদ করা সহ নানা ভাবে প্রতিপক্ষ লোকদের এ নিষ্ঠুর শান্তি দেওয়ার প্রচলন ছিল। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ধর্মগ্রন্থ অসহিষ্ণুতা ও হত্যা নির্যাতন, লুণ্ঠন ইত্যাদিতে পরিপূর্ণ। জুজুর বেদে লিখিত আছে, হে অগ্নি! নির্মম, নিষ্ঠুর নির্যাতনের যুদ্ধে গনিমতের মাল নিয়ে এসো। হে অগ্নি। আমাদের বিরোধীদের পরাজিত করে দাও। আমাতের শত্রুদের তাড়িয়ে দাও। হে অর্জুন! দেবতাদের অমান্যকারী শত্রুদের ধ্বংস করে দাও। তাদের পূজারীদেরকে ইজ্জত ও সম্মানের অধিকারী করে দাও। রিগবেদে লিখিত আছে, সকল শ্রেণীর মন্দ লোকদের হত্যা করে ফেল। আর যারা গোপনে আমাদেরকে ক্ষতিগ্রস্থ করতে চায়, তাদেরকে ধ্বংস করে দাও। দুশমন তাদের শক্তিবলে ভ্রান্ত ধ্যান-ধারনায় সজীব হচ্ছে। তাদের সমূলে ধ্বংস করে দাও। হে মনু। (ক্রোধের দেবতা) আমাদের বিরুদ্ধবাদীদের উপর জয়যুক্ত হয়ে যাও। তাদের মস্তক চূর্ণ করে দাও। তাদের ধ্বংস করে দাও। দুশমনদের নির্মূল করে দাও। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের আন্তর্জাতিক অসহিষ্ণুতার সাথে সাথে স্বজাতির অসহিষ্ণুতার আলোচনা করলে আরো মারাত্মক করুন চিত্র ভেসে উঠবে। ব্রাম্মন ব্যতীত বাকী সকল হিন্দুধর্মাবলম্বী অচ্যুত অস্পর্শা, তারা ইজ্জত সম্মানের অযোগ্য ইত্যাদি কথা ধর্মশাস্ত্রে লিখিত আছে। এ পৃথিবীতে যা কিছু আছে তার সবই ব্রাম্মনের জন্য। কেননা তারা সৃষ্টি জীবের মধ্যে ইজ্জত ও সম্মানের পাত্র। সুতরাং পৃথিবীর সব জিনিস তাদেরই হয়ে গেল। যদি ব্রাহ্মণ কোন নীচু জাত বা অচ্যুত (মুসলসমান, শিখ, বৌদ্ধ বরং পৃথিবীর সব মানুষ) কে হত্যা করে ফেলে, তাহলে এর জন্য তাকে কোন ক্ষতিপূরণ দিতে হবে না। একমাত্র এ কারণে হিন্দু ধর্মাবলম্বীগণ তাদের স্বজাতি স্বমতবাদে বিশ্বাসীদের সাথে অসহিষ্ণুতার পন্থা অবলম্বন করেছে। নিম্নে এর একটিমাত্র উদাহরণ উল্লেখ করা হচ্ছে। পণ্ডিত দয়ান্দ তার রচিত "সতীর্থ প্রকাশ" নামক গ্রন্থে উল্লেখ করেছে, স্বামী শংকর আচার্য্য দীর্ঘ দশ বছর সব আর্য্য এলাকা ভ্রমণ করে জৈনদের ধর্মমত খণ্ডন করে বৈদিক ধর্মের মুণ্ডপাত করে দেন। শংকর আচার্য্যের যুগের জৈনদের প্রতিমাগুলো ধ্বংস করে ফেলা হয়। স্বয়ং জৈনরা নিজেদের প্রতিমাসমূহ রক্ষাকল্পে তা জমিনে পুঁতে ফেলে। যা এখনো প্রত্নতত্ত্ব খননে মানুষের সমানে আসছে।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 ইয়াহুদীদের জাতীয় আন্তর্জাতিক অসহিষ্ণুতা

📄 ইয়াহুদীদের জাতীয় আন্তর্জাতিক অসহিষ্ণুতা


ইয়াহুদীদের কঠোরতা ও অসহিষ্ণুতার পরিমাণ এভাবে অনুমান করা যায় যে, কুরআন মজিদের বহু স্থানে বর্ণনা করা হয়েছে, তারা আল্লাহ তা'আলার নিদর্শনাবলীকে অস্বীকার করেছে, প্রতিজ্ঞা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। তাদের সবচেয়ে মারাত্মক অপরাধ সম্পর্কে বলা হয়েছে- يَقْتُلُونَ الْأَنيّاءَ বিনান্যাভাবে হযরত আম্বিয়ায়ে কিরামকে হত্যা করত। আমাদের সামনে ইয়াহুদীদের স্বীকৃত ও গ্রহণযোগ্য কোন গ্রন্থ বিদ্যমান নেই বরং ডক্টর হামিদুল্লাহ খানের মতে কতিপয় যুগের যুদ্ধবাজ লোকদে যুদ্ধের কারণে কতিপয় লেখকদের কাহিনী সময়ের আবর্তনে মূলগ্রন্থ ধরা পৃষ্ঠ থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। কিন্তু তাওরাত ইয়াহুদী ধর্মাবলম্বীদের একক গ্রন্থ। এর উপর ইয়াহুদী ধর্মাবলম্বীরা ঐক্যমতে উপনীত হয়েছে। যদিও বর্তমানে তা বিকৃত অবস্থায় বিদ্যমান রয়েছে। তা থেকেও অসহিষ্ণুতার শিক্ষা পাওয়া যায়। যেমন, বলা হয়েছে- আমরা চতুস্পদ জন্তু ব্যতীত কাউকে ছাড়িনি, আমরা তা গনিমত মনে করে পাকড়াও করেছি। আর যেসব মাল আমরা দেশ দখলের মাধ্যমে ছিনিয়ে নিয়েছি। দেশ দখলের ব্যপারে বলা হয়েছে, যখন তোমরা উর্দুন থেকে পবিত্র হয়ে কিনানে প্রবেশ করবে, তখন তোমরা সম্মুখ থেকে জমিনের অধিবাসীদেরকে সরিয়ে দেবে, তাদের প্রতিমাসমূহ ধ্বংস করে দেবে, তাদের গণচুম্বি অট্রালিকাগুলো ধ্বংস করবে। সেখানকার স্থানীয় অধিবাসীদের জোরপূর্বক তাড়িয়ে দিয়ে স্বয়ং তোমরা সেখানে বসতি স্থাপন করবে। কেননা আমি ঐ জমি তোমাদেরকে দান করেছি। সুতরাং তোমরা ঐ জমির মালিক। খ্যাতনামা ঐতিহাসিক আরবিসি পুরাতন তাওরাতের বরাতে লিখেছে, তাতে লেখা রয়েছে, তোমরা যখন যুদ্ধের উদ্দেশ্যে কোন দেশে পৌছবে, তখন প্রথমে স্থানীয় অধিবাসীদের সন্ধির প্রস্তাব দেবে। তোমাদের এ প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে তারা শহরের ফটক তোমাদের জন্য উন্মুক্ত করে দেবে। ওখানের অধিবাসীরা তোমাদের অনুগত হয়ে সেবক হয়ে যাবে। কিন্তু যদি তারা তোমাদের প্রস্তাবে সাড়া না দিয়ে তোমাদের সাথে যুদ্ধের জন্য তৈরী হয়, তখন তোমরা তাদেরকে অবরুদ্ধ করে ফেলবে। আর যখন তোমাদের প্রভু তাদেরকে তোমাদের নিয়ন্ত্রণে এনে দেবে, তখন তোমরা ঐ এলাকার পুরুষদেরকে তরবারী দ্বারা হত্যা করে ফেলবে। আর নারী, শিশু, চতুস্পদ জন্তু ও শহরের সব মালামাল লুণ্ঠন করে নিজের অধিকারে নিয়ে নেবে। ইয়াহুদীরা তাদের স্বজাতি স্বধর্মাবলম্বীদের উপর ভীষণ বাড়াবাড়ী করেছে। হযরত ঈসা (আ.) কে মথি ইঞ্জিলের বর্ণনা অনুযায়ী ক্রুশবিদ্ধ করেছে। পেট চিরে নাড়ীভূড়ী বের করে নিয়েছে। পবিত্র কুরআন মজিদে বলা হয়েছে, না তাকে ক্রুশবিদ্ধ করা হয়েছে, আর না তাকে হত্যা করা হয়েছে। খোদ ইয়াহুদীদের সাথে খ্রিস্টানরাও অসহিষ্ণুতার মনোভাব প্রকাশ করেছে। সম্রাট বুখতে নছর তাদেরকে গণহারে হত্যা করেছে। বাইতুল মুকদ্দাসে অগ্নিসংযোগ করেছে। তাদের ধর্মীয় গ্রন্থাবলী জ্বালিয়ে ভষ্ম করে দিয়েছে। তখন ঘটনাচক্রে দু'জন ইয়াহুদী নিহত হয়েছিল। তাই হোমিয়ারী শাসক জুননোয়াস খ্রিস্টানদের গণহারে হত্যা করেছে।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 রোমান খ্রিস্টান ও ইরানের অগ্নি উপাসকদের অসহিষ্ণুতা

📄 রোমান খ্রিস্টান ও ইরানের অগ্নি উপাসকদের অসহিষ্ণুতা


পৃথিবীর এ সভ্য জাতি নিজেদের বর্বরতায় সব জাতিকে ছাড়িয়ে গেছে। তাদের এখানে ইয়াহুদী ও ভারতবর্ষের উল্লেখিত অত্যাচার-নির্যাতন ছাড়াও তারা ফসলের মাঠ ও ফলের বাগান সমূহ জ্বালিয়ে দিয়েছে। তারা জনবসতিতে অগ্নিসংযোগ করে ধ্বংস স্তূপে পরিণত করে দেওয়াকে বিজয় গৌরব মনে করত। সিকান্দার আযম শামের প্রাচীন বাণিজ্যিক শহর সুর দীর্ঘ সময় কঠোর অবরোধের পর দখল করে। দখলের পর আট হাজার নিরাপরাধ লোককে হত্যা করে। ত্রিশ হাজার মানুষকে ক্রিতদাসে পরিণত করে। ঐ সময় বিজয়ীদের জন্য দু'টি রাস্তা ছিল, হয়ত ব্যাপক হারে মানুষ হত্যা করা অথবা ক্রিতদাস বানিয়ে নেওয়া। ৭০ খ্রিস্টাব্দে তাইতাস রোমী বাইতুল মুকাদ্দাস নগরী জয় করার পর শহরের সব সুন্দরী যুবতী মেয়েদের বিজয়ীদের মধ্যে বণ্টন করে দেয়। যুবকদেরকে বন্দী করে মিশরের খনি শ্রমিক বানানোর জন্য অথবা রোমের আগ্নেয়গিরির জ্বলন্ত লাভায় নিক্ষেপ করার জন্য অথবা ওখানে খ্রিস্টমাস উৎসবে জন্তুর মুখে নিক্ষেপ করার জন্য পাঠানো হত। তারা ওখানে ৯৭ হাজার লোককে বন্দী করে। তন্মধ্যে ১১হাজার লোক ক্ষুত পিপাসায় মারা যায়। এভাবে প্রায় এক লাখ ত্রিশ হাজার লোক নিহত হয়। ৫৪০ খ্রিস্টাব্দে নওশেরোয়া এনতাকিয়া নগরী লুণ্ঠন করার পর তাতে অগ্নিসংযোগ করে। আর ৫৬৭ খ্রিস্টাব্দে ক্যাসপোডিসিয়া ও মালাইনটাইন নগরী অগ্নিসংযোগ করে ধ্বংস করে দেয়। ৬৪৫ খ্রিস্টাব্দে খসরু পারভেজ বাইতুল মুকাদ্দাস নগরী দখল করার পর নব্বই হাজার লোক হত্যা করে। উপাসনালয় সমূহ জ্বালিয়ে দেয়। এর জবাবে হিয়াক্লিয়াস যখন ইরান আক্রমণ করে তখন সে আর্মোনেয়া রাষ্ট্রকেই নিশ্চিহ্ন করে দেয়। আর জাস্টিনীস আফ্রিকা আক্রমণ কালে সেখানকার পাঁচ লাখ অধিবাসীদের অস্তিত্বকে পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত করে সবুজ শ্যামল দেশকে বদ্ধভূমিতে পরিণত করে। মূলতঃ রোমান শাসকরা অরোমান শাসকদের আইনগত অস্তিত্বকেই সমর্থন করত না। ইরানী শাসকদেরও একই অবস্থা ছিল। তাদের মতে যে কোন অ-ইরানী হিংস্র ও বিদ্রোহী। কারণ, এ শাসকবর্গের প্রত্যেকে যুদ্ধে চারিত্রিক গুণাবলীকে পদদলিত করত। আর একে অপরের প্রতি অসহিষ্ণুতা প্রকাশ করত। ৭০ খ্রিস্টাব্দে আবিসিনিয়ার বাদশাহ আবরাহা পবিত্র কা'বা গৃহ আক্রমণ করে। কিন্তু মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ তা'আলা ক্ষুদ্র আবাবিল পাখি দ্বারা তার পুরো বাহিনীকে কয়েক মুহূর্তের মধ্যে নিশ্চিহ্ন করে দেন। এ ঘটনা তাফসীরে ইবনে কাসীরে সূরা ফীলের অধীনে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। তার এ আক্রমণের কারণ ছিল সানার গীর্জায় অপমানের প্রতিশোধ নেওয়া। অথবা ঐতিহাসিকদের মতে ওয়ারসিল জর্জের নিকট প্রাচ্যের কাবা বাণিজ্যের কেন্দ্রে বিন্দু হিসেবে বহাল থাকুক, এ ছিল অসহনীয় ব্যাপার।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00