📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 অসহিষ্ণুতার ক্ষতি

📄 অসহিষ্ণুতার ক্ষতি


সহিষ্ণুতার বিপরীত হল ক্রোধ। আর মানুষ ক্রোধে পড়ে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়। জান-মাল, ইজ্জত-সম্মানের প্রতি ধাবিত হয়। এই দিকে মণযোগ আকর্ণণ করে বিদায় হজ্জের ভাষণে রাসূলুল্লাহ ইরশাদ করেছেন, তোমাদের এক মুসলমানের ধন-সম্পদ ইজ্জত-সম্মান, অপর মুসলমানের জন্য চিরকালের তরে হারাম করা হল। অসহিষ্ণুতার ক্ষতিকর প্রভাবের প্রতি আলোকপাত করে, হযরত উমর রাযি. ইরশাদ করেছেন, ريما غضب المؤمن غضبته تفحه অর্থাৎ কখনো কখনো মানুষ ক্রোধান্বিত হয়ে যায়। আর তার এ ক্রোধও অসহিষ্ণুতা তার জন্য বড় বড় গুনাহের কারণ হয়ে যায়। অসহিষ্ণুতা খুন খারাবি, রক্তপাত, শত্রুতা, নিরাপত্তাহীনতা, অশান্তি ও অসংখ্য বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এ কারণে সহিষ্ণুতার শক্তি পয়দা করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা দেওয়া হয়েছে যে, সহিষ্ণুতাই হল উত্তম আখলাক।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 সহিষ্ণুতার শক্তি পয়দা করার পদ্ধতি

📄 সহিষ্ণুতার শক্তি পয়দা করার পদ্ধতি


ইসলাম বিধানাবলী শিক্ষা দান করে এর দর্শনও মাসায়ালা বর্ণনা করার সাথে এর সমাধানও বলে দিয়েছে। যাতে এর উপর আমল করা সহজ হয়। মুসনাদে আহমদে বর্ণিত এক হাদীসে বলা হয়েছে, أَذَا غَضِبَ أَحَدُكُمْ فَلْيَسْكُنْ যখন রাগান্বিত হবে তখন নীরবতা অবলম্বন করবে। কারণ, এমতাবস্থায় মুখ দিয়ে অজান্তেই ভ্রান্ত কথা বের হয়ে যেতে পারে। অথচ তা আরো বেশী ক্ষতির কারণ হতে পারে। সুনানে আবু দাউদের এক বর্ণনায় আছে, اذا غَضِبَ أَحَدُكُمْ وَهُوَ قَائِمٌ فَلْيَجْلِسُ যখন ক্রোধ-উত্তেজনা আসবে, এর দ্বিতীয় প্রতিষেধক হল, যদি দাঁড়ানো থাকো তাহলে বসে যাবে আর যদি বসা থাক, তাহলে শুয়ে যাবে। এভাবে সহিষ্ণুতার শক্তি পয়দা করার প্রতিষেধক বলে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ দৈহিক অবস্থার পরিবর্তনের কারণে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সমূহের উত্তেজনা প্রশমিত হয়ে যায় এবং ক্রোধ নিয়ন্ত্রণে আসে। রাসূলুল্লাহ এর মাঝে এ মহিমান্বিত গুণাবলী পূর্ণাঙ্গরূপে বিদ্যমান ছিল, যার কারণে তিনি বিশ্ববাসীর সামনে বিশ্বজনীন আমলী আদর্শ নমুনা পেশ করেছেন, বিশেষজ্ঞগণ এটাকে অকপটে স্বীকার করেছে।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 বিশেষজ্ঞদের অঙ্গীকার

📄 বিশেষজ্ঞদের অঙ্গীকার


এনসাইক্লোপিডিয়া অফ বৃটানিকার বর্ণনা হল, রাসূলুল্লাহ এর মহিমান্বিত ও প্রশংসিত সীরাতে সবচেয়ে উল্লেখ্যযোগ্য ও গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বয়কর প্রতিক্রিয়াশীল ভূমিকা হল, বিরাট বিরাট বিজয় গৌরব অর্জন করা সত্ত্বেও তার মাঝে মহানুববতা ও মানবতা বিকাশে কোন প্রকার ঘাটতি দেখা দেয়নি বরং তা দিনদিন বৃদ্ধি লাভ করেছে। এমনকি তিনি কখনো নিজের প্রাণের শত্রু থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করেননি। খ্রিস্টান জগত যে মহান সত্ত্বা সম্পর্কে সবচেয়ে বেশী ঘৃণা প্রকাশ করেছে এবং অন্ধকারের শাহযাদা উপাদিতে ভূষিত করেছে (নাউযুবিল্লাহ)। মূলতঃ সেই মহান সত্ত্বাই পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশী সম্মান ও শ্রদ্ধাযোগ্য। খ্যাতনামা দার্শনিক অধ্যাপক ফ্যাংগের অভিমত হল, যদি পৃথিবীতে ইসলামের আবির্ভাব না হত, তাহলে সম্ভবতঃ পৃথিবী দীর্ঘদিন মানবতা, সভ্যতার আলোকে উদ্ভাসিত হত না। এটা বাস্তব সত্য যে, আজ পৃথিবীতে সাম্য, পারস্পরিক জ্ঞান বিজ্ঞানের প্রতিযোগিতা আর বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠির সাথে সহমর্মিতার যে আন্দোলন চলছে, তার সবই ইসলাম থেকে ধার করে নেওয়া হয়েছে। ইসলাম পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়ে রাষ্ট্র ও সরকারের কাঠামোতে আমূল পরিবর্তন সাধন করেছে। পৃথিবীর সামাজিক অবস্থায় যুগান্তকারী বিপ্লব সৃষ্টি করেছে। ইসলাম এমন এক যুগান্তকারী পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছে, যা শুধু মুসলমানদের জন্যই নয় বরং সারা বিশ্ববাসীর জন্য কল্যাণকর প্রমাণ হয়েছে। এটা এমন এক আদর্শ যার নমুনা শুধু আমাদের জন্য নয় বরং যে কোন ইনসাফপ্রিয় মানুষ এর সামনে স্বেচ্ছায় মস্তক অবনত করতে বাধ্য।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 রাসূলুল্লাহ ﷺ এর পূর্বে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অসহিষ্ণুতার স্বরূপ

📄 রাসূলুল্লাহ ﷺ এর পূর্বে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অসহিষ্ণুতার স্বরূপ


রাসূলুল্লাহ এর মহিমান্বিত শিক্ষা অনুশীলন করার পূর্বে এ সম্পর্কে কার্যকরীভাবে পরিসংখ্যান করা উচিত কাজেই ইসলামের আবির্ভাবের পূর্বে বিভিন্ন জাতি ও মিল্লাতের মধ্যে বিদ্যমান অসহিষ্ণুতার সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান পেশ করা হচ্ছে। তাতে বুঝা যাবে, ইসলামের আবির্ভাবের পূর্বে মানুষ কিরকম হিংসা-বিদ্বেষ ও শত্রুতাপূর্ণ জীবন যাপন করেছে। এমনকি বর্তমানেও তার কার্যকরী রূপ প্রকাশ হচ্ছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00