📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 সহনশীলতা

📄 সহনশীলতা


চারিত্রিক আচার আচরণের দিক থেকে সহনশীলতা বিরাট গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। বিশেষ করে রাজনৈতিক নেতা ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্যের মাধ্যমে এ কারণে বিভিন্ন জাতী ও মিল্লাতের অনুসারীগণ বিশেষ এক লক্ষ্যে ঐক্যমতে উপনীত হওয়া, আসল ও নকলের দিক থেকে সম্ভব। সহনশীলতার বৈশিষ্ট্য অনুশীলন করার পূর্বে অভিধানিক দিক থেকে এর ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। মাখজানুল মুহাওয়াতের বর্ণনা মোতাবেক এটা ফার্সী স্ত্রীবাচক শব্দ। এর অর্থ হল ধৈর্য বিনয়, গাম্ভীর্য্য, সহনশীলতা, উত্থিত করা, সুন্দর। আরবীতে এর বিপরীত শব্দ হল حل বা নমনীয়তা, বিনয়। আর ইংরেজীতে এটাকে to leramey বলা হয়। আর উর্দু থিয়ারছ মোতাবেক ফার্সী ও উর্দু ভাষায় এর একাধিক বিপরীত শব্দ ব্যবহার করা হয়। উদারতা ও সহিষ্ণুতা। কিন্তু শিরোনামে যদি উদারতা শব্দ করা হত তাহলে তা অতি উত্তম হত। এই কারণে এ বিষয় বস্তু আদায় করার মোকাবিলায় সহনশীলতা অতি বেশী সমষ্টিবাচক ও বহুল ব্যবহৃত। ইসলামের দৃষ্টিতে قوم বা জাতি এক মাযহাব অনুসারীদের জন্য ব্যবহার করা হয়। মুসলমান এক জাতি। সে পৃথিবীর যে কোন দেশের অধিবাসীই হোক না কেন। ভারত বিভাগের সময় এর উপর ভীষন গুরুত্বারোপ করা হয়। কিন্তু বর্তমানে পৃথিবীতে কাওম বা জাতি বলতে যে কোন দেশের অধিবাসীদের বুঝানো হয়। চাই ঐ দেশে যত মাযহাবের লোকই বসবাস করুক না কেন। সম্ভবতঃ এ দৃষ্টিকোণ থেকে بین الاقوامی শব্দের ব্যবহার, নতুবা بین المللی ও بین المللك হওয়া উচিত ছিল।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 রাসূলুল্লাহ ﷺ এর মূল্যবান শিক্ষা

📄 রাসূলুল্লাহ ﷺ এর মূল্যবান শিক্ষা


তালিমাত শব্দ ইংগিতে ব্যবহার করা হয়। এর উদ্দেশ্য হল, ঐ সব কাজ যা রাসূলুল্লাহ এর সামনে কেউ করেছেন (কথা কাজ অনুমোদন)। এ সবই তাঁর শিক্ষার অন্তর্ভূক্ত হয়েছে। হযরত আয়েশা রাযি. এর সমীপে রাসূলুল্লাহ এর মহিমান্বিত আখলাক সম্পর্কে জিজ্ঞসা করা হলে, তিনি বললেন - كان خلقه القرآن অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ এর মহিমান্বিত আখলাখের শিক্ষা কুরআনে বর্ণিত হয়েছে।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 সহনশীলতার গুরুত্ব ও উপকারীতা

📄 সহনশীলতার গুরুত্ব ও উপকারীতা


উদারতা, সহিষ্ণুতা, অনুগ্রহ, ক্ষমা ইত্যাদি মানব জীবনের অতিব গুরুত্বপূর্ণ এক দিক। তাছাড়া জীবনের স্থায়ীত্ব ও সুদৃঢ় ঐক্য কখনো সম্ভব নয়। অনুগ্রহ ও ক্ষমা মূলতঃ মনুষ্যত্বের ব্যাপকতা আর তা মনুষ্যত্বের পরিধির ব্যাপকতা, মনুষ্যত্বের বিকাশ। অনুগ্রহ ও ক্ষমা না হলে তো মানবতার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে ধ্বংস হয়ে যায়। আর চর্তুদিক খুনখারাবি ও পৈশাচিকতার রমরমা অবস্থা হয়ে যায়। অনুগ্রহ ও ক্ষমা হল মমতা ও করুনার বহিঃপ্রকাশ। এর দ্বারা মানবতার পরিচয় পাওয়া যায়। মানুষের এ চারিত্রিক মর্যাদার ভিত্তি।

উৎস খোদায়ী বৈশিষ্ট্য
মহান আল্লাহ তা'আলা তার অনাদী অসীম ইলম ও একচ্ছত্র সার্বভৌম ক্ষমতা বলে সৃষ্টিজীবের ঔদ্ধত্য-বিদ্রোহের জন্য শাস্তি দান করেন। আবার সহ্যও করেন। অনুগ্রহ ও ক্ষমার মাধ্যমে কাজ করেন। কখনো অবকাশ দান করেন। তাঁর অনুগ্রহ ও ক্ষমা জীবনকে প্রশস্ত করে। জীবনের উৎসকে প্রাচুর্যতা দান করে। যদি তাঁর অনুগ্রহ ও ক্ষমা না হত, তাহলে মানুষ স্বীয় গুনাহ ও অবাধ্যতার দহনে জ্বলে পুড়ে ভস্ম হয়ে যেত। বিপদ, মসিবত ও অলসতার শাস্তি ভোগ করত। এটা হল তাঁর অনুগ্রহ ও ক্ষমা। অপরাধী ও বিদ্রোহীদেরকে তাৎক্ষণিকভাবে পাকড়াও করেন না তিনি। গুনাহগার অপরাধী স্বীয় অনুশোচনা ও অনুতাপের কারণে ক্ষমা পেয়ে যায়। আল্লাহ তা'আলার ক্ষমার বিষয়টি পবিত্র কুরআন মজিদে একাধিক স্থানে বর্ণনা করা হয়েছে। আল্লাহ তা'আলার সিফতী নাম হল عفو আফু। এ শব্দ কুরআন মজিদে একাধিক স্থানে বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ তা'আলার সিফাত عفو বা ক্ষমার এক বহিঃপ্রকাশ তাঁর "আসমায়ে হুসনা" বা সুন্দরতম নাম সমূহ। عفو - غافر ও غفار এর অর্থ মার্জনা কারী, ক্ষমাকারী। এসব মহিমান্বিত নামও কুরআন মজিদে ধারাবাহিকভাবে বর্ণিত হয়েছে। মহান আল্লাহ তা'আলা মুসলমানদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা প্রসঙ্গে ইরশাদ করেছেন- وَالْكَاظِمِينَ الْغَيْظَ وَالْعَافِينَ عَنِ النَّاسِ তারা ক্রোধ স্বরণকারী ও ক্ষমাকারী। ادفع بالكتي هِيَ أَحْسَنُ অসদ্ব্যবহারের বদলায় সদ্ব্যবহার কর। ফলে দুশমনও বন্ধু হয়ে যাবে। আর যে এরূপ করে সে বিরাট সাহসিকতার কাজ করে। এ কারণে মন্দের বিনিময় মন্দ করা বা গোস্বার বিনিময়ে গোস্বা করা সহজ। কিন্তু প্রবৃত্তির উপর জয় লাভ করে, তাকে নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত কঠিন। এজন্যই রাসূলুল্লাহ ইরশাদ করেছেন- لَيْسَ الشَّدِيدُ بِالصُّرْعَةِ إِنَّمَا الشَّدِيدُ الَّذِي يَمْلِكُ نَفْسَهُ عِندَ الغَضَبِ কুস্তিতে অপরকে পরাস্ত করা বীরত্ব নয় বরং বাহাদুর হল ঐ ব্যক্তি, যে ক্রোধের সময় নিজের প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করে। রাসূলুল্লাহ আবদে কায়েস গোত্রের জনৈক ব্যক্তির উদ্দেশ্যে ইরশাদ করেছেন, তোমাদের মধ্যে আল্লাহ তা'আলার পছন্দনীয় দুটি অভ্যাস আছে। 11 الحلم والأناة অর্থৎ সহনশীলতা ও উদারতা প্রদর্শন। আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুবান্ধবের সাথে সদাচরণ করার আদেশ দান করে ইরশাদ করেছেন, وَصِلُّرٌ أَرْحَامَكُمْ এ হাদীসই একাধিক শব্দে বর্ণিত হয়েছে। জনৈক সাহাবী রাসূলুল্লাহ এর দরবারে এসে আরয করল, আমাকে এমন আমল শিখিয়ে দিন, আমি এর উপর আমল করব, যাতে আমাকে পরে কম বেশী করতে না হয় এবং সরাসরি জান্নাতে পৌছে যেতে পারি। রাসূলুল্লাহ ইরশাদ করলেন, لا تغضب -গোস্বা করো না। অর্থাৎ সহনশীলতার ভীত তৈরী করো। পুনরায় তিনি এ আবেদন করলেন, রাসূলুল্লাহ ঐ জবাব প্রদান করেন। আলোচ্য হাদীস মূলতঃ কুরআন মজিদের ঐ আয়াতের তাফসীর, যাতে মহান আল্লাহ তা'আলা মুসলমানদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করে ইরশাদ করেছেন- وَالْكَاظِمِينَ الْغَيْظَ وَالْعَافِينَ عَنِ النَّاسِ

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 অসহিষ্ণুতার ক্ষতি

📄 অসহিষ্ণুতার ক্ষতি


সহিষ্ণুতার বিপরীত হল ক্রোধ। আর মানুষ ক্রোধে পড়ে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়। জান-মাল, ইজ্জত-সম্মানের প্রতি ধাবিত হয়। এই দিকে মণযোগ আকর্ণণ করে বিদায় হজ্জের ভাষণে রাসূলুল্লাহ ইরশাদ করেছেন, তোমাদের এক মুসলমানের ধন-সম্পদ ইজ্জত-সম্মান, অপর মুসলমানের জন্য চিরকালের তরে হারাম করা হল। অসহিষ্ণুতার ক্ষতিকর প্রভাবের প্রতি আলোকপাত করে, হযরত উমর রাযি. ইরশাদ করেছেন, ريما غضب المؤمن غضبته تفحه অর্থাৎ কখনো কখনো মানুষ ক্রোধান্বিত হয়ে যায়। আর তার এ ক্রোধও অসহিষ্ণুতা তার জন্য বড় বড় গুনাহের কারণ হয়ে যায়। অসহিষ্ণুতা খুন খারাবি, রক্তপাত, শত্রুতা, নিরাপত্তাহীনতা, অশান্তি ও অসংখ্য বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এ কারণে সহিষ্ণুতার শক্তি পয়দা করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা দেওয়া হয়েছে যে, সহিষ্ণুতাই হল উত্তম আখলাক।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00