📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয় অসহনীয়

📄 জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয় অসহনীয়


এই অধ্যায়ে কোনো কন্টেন্ট এখনো যোগ করা হয়নি।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 গণভাব রাসূলুল্লাহ ﷺ এর শিক্ষা

📄 গণভাব রাসূলুল্লাহ ﷺ এর শিক্ষা


বিশ্ব মানবতার মুক্তির দূত সারওয়ারে কায়েনাত খাতামুল আম্বিয়া জনাব মুহাম্মদ মুস্তফা ﷺ-এর পবিত্র ব্যক্তি সত্ত্বা সুদীর্ঘ চৌদ্দশ' বছর থেকে ঐতিহাসিক গবেষক, জ্ঞানী-গুণী, কবি সাহিত্যিক সকলের প্রিয়। রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর প্রসংশীত সীরাত এমন বিষয়, যার প্রতি শত্রুমিত্র, বিরোধীপক্ষ ও আনুগত্যকারী সকলে একাধিক কারণে এমন আকর্ষণ অনুভব করছে, যার নযীর অন্য কোন সত্ত্বায় নেই। ইংরেজ প্রাচ্য বিশারদ ডি.এইচ. মারগোলিউথও রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর পবিত্র সীরাত সম্পর্কে লিপিবদ্ধ করেছেন। তার রচিত গ্রন্থের ভূমিকার সূচনা এক অনন্য উপমেয় ও শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার। তিনি তার গ্রন্থের সূচনায় লিখেছেন-

"The biographers of the Prophet Mohammad form a long series which it is impossible to end but in which it would be honourable to find a place."

হযরত মুহম্মদ ﷺ-এর সীরাত রচিয়তাগণের তালিকা অতিদীর্ঘ। যা গণনা করে চূড়ান্ত করা অসম্ভব। কিন্তু তাতে স্থান পাওয়া অতি সৌভাগ্যের বিষয়। সহনশীলতা ও চারিত্রিক বিধানাবলী সম্পর্কে মাওলানা আবুল কালাম আজাদ লিখেছেন-

"চারিত্রিক বিধানাবলী যথাসম্ভব শিক্ষার সাথে সম্পৃক্ত। এটা এমন কোন অপ্রতুল ও দুর্লভ বস্তু নয়। তা পেশ করা ইসলামের জন্য গৌরবের বিষয়। চারিত্রিক বিধানাবলী প্রতিজ্ঞা প্রতিশ্রুতি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, মুসাবী কানুন ও ঈসায়ী শর্তাবলীতে এরূপ বলা হয়নি যে, প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হও এবং তা ভেঙ্গে ফেলো। এমনকি আর্য বংশধরদের ঐ রূহানী দর্শন, যা ভারতবর্ষ ও ইরানে প্রচার হয়েছে, তার অতি নিম্নস্তরের শাখায় চারিত্রিক বিধানাবলীর শিক্ষা ওতোপ্রোতভাবে জড়িত ছিল। আসল বিষয় শিক্ষা নয় বরং শিক্ষার প্রতিফলন ও এর কার্যকারীতাই দেখার বিষয়। কুরআন মজিদে যা কিছু বর্ণনা করা হয়েছে, তা কার্যকারীতার দিক থেকে কি আকার আকৃতি ধারণ করেছে? কুরআন মজীদে ইরশাদ করা হয়েছে,

لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أَسْوَةٌ حَسَنَةٌ

অর্থাৎ যুদ্ধ ও শান্তি পারস্পরিক দু'টি সংঘাতময় মুহূর্তে মানুষের স্বভাব-চরিত্র তাৎক্ষণিকভাবে পরিবর্তিত হয়ে যায়। এক ব্যক্তি স্বভাবগতভাবে অতি দয়ালু। কিন্তু যুদ্ধের ময়দানে পৌছে অতি নিষ্ঠুর ও নির্মম হয়ে যায়। আরেক ব্যক্তি এক্ষেত্রে অতি নমনীয় ও সহনশীল, কিন্তু কোন সৈন্য দলে যোগদান করে ভীষণ রুক্ষ ও ক্রোধান্বিত স্বভাবের হয়ে যায়। এক ব্যক্তি স্বাভাবিক ও নিরাপদ অবস্থায় অতি সৎ ও প্রতিশ্রুতি রক্ষায় বদ্ধপরিকর। কিন্তু যুদ্ধের সময় সে প্রতারক ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী হয়ে যায়। একদল, এক গোত্র, এক দেশ শান্তি ও নিরাপত্তার সময় মানবতার উত্তম থেকে উত্তম আদর্শ হয়। কিন্তু সংঘাতময় পরিস্থিতিতে চাতুর্যতা ও ধ্বংসাত্মক বিষয়ে সে চতুষ্পদ জন্তু থেকেও আরো বেশী রক্ত পিপাসু হয়ে যায়। অথচ বিশ্বের মধ্যে শুধু ইসলাম এক জীবন্ত প্রাণবন্ত সত্ত্বা, যা নিজ বাহু ও অন্তর এক অস্বাভাবিক সহনশীলতার শক্তি ধারণ করে আছে। এর উপর বাহ্যিক অনাকাঙ্খিত কোন বিষয় প্রভাব বিস্তার করতে পারে না। প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য, ব্যক্তিগত-সমষ্টিগত, যুদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ সর্বাবস্থা তার জন্য এক সমান। তার চারিত্রিক বুনিয়াদ হল, যে কোন উপায়ে হোক না কেন শান্তি ও নিরাপত্তা বহাল রাখা। এ সহনশীলতা ও দৃঢ়তার সাথে যুদ্ধের স্রোতে, অগ্নিসংযোগ, বন্যা প্রবাহের সময় সুদৃঢ় ও সহনশীল প্রমাণ হয়।"

মানুষের চারিত্রিক রত্নভাণ্ডারে সবচেয়ে বেশী সফলকাম দূর্লভ বস্তু হল, শত্রুর প্রতি দয়া ও অনুগ্রহ করা। তাদের প্রতি করুণা ও ক্ষমা প্রদর্শন করা। কিন্তু বিশ্বশান্তির পয়গম্বর মানবতার মুক্তির দূত রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর পবিত্র সত্ত্বা এর মহা ভাণ্ডার। স্বীয় শত্রু থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করা হল মানুষের স্বভাব ধর্ম। কিন্তু এ সৃষ্টিগত স্বভাব ও অভ্যাস বিশ্বের শান্তির দূত রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর মহিমান্বিত ও প্রসংশীত চরিত্রে সম্পূর্ণ অদৃশ্য ও বিলুপ্ত ছিল। রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর জঘন্যতম শত্রুর সাথে যে অপূর্ব সদাচরণ, ক্ষমা ও করুণার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তিনি পৃথিবীর ইতিহাসে যে যুগান্তকারী নমুনা পেশ করেছেন, সত্যই তা অকল্পনীয়, তাতে প্রমাণ হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে উভয় জগতের শান্তির দূত বানিয়ে প্রেরণ করা হয়েছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00