📄 প্যারিসের বিরাট ঘটনা
আমি একবার প্যারিস ভ্রমণে ছিলাম। এর আগে আমি পূরোপুরিভাবে পালাবরত' পর্বতসমূহ ভ্রমণ করছি। এ পর্বতগুলো ছিল সবুজ শ্যামল হত। তার শ্যামলতা চির অম্লান। যুগ-যুগান্তর থেকে মানুষ এ দৃশ্য অবলোকন করে আসছে। আমার অভিজ্ঞতা হল, যে ব্যক্তি একবার ঐ দৃশ্য অবলোকন করেছে, সে এর পর সম্ভবতঃ অন্য কোন দৃশ্য পছন্দ করবে না।
আমি প্যারিস সফরে থাকাকালে এক স্থানে আমার আশ্চর্যজনক অভিজ্ঞতা হয়। আমি এক বন্ধুর ঠিকানা খুঁজে খুঁজে অবশেষে তার গৃহে গিয়ে পৌছি। আমি কলিংবেল চাপ দিতেই ভিতর থেকে আওয়াজ আসে, কে? বললাম, "আমি"। কিন্তু দরজা খোলা হয়নি, কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর আমি পুনরায় কলিং বেল চাপলাম। পুনরায় আওয়াজ আসে, কে? তখন বললাম, "আমি"। কিন্তু এবারও নীরবতা নেমে আসে। দরজা খোলা হয়নি। অপেক্ষা করার পর পুনরায় কলিং বেল চাপলাম, তারপর আওয়াজ আসে, কে? আমি তখন নিজের পূর্ণ নাম ও ঠিকানা বলতে শুরু করি। তারপর তাৎক্ষণাৎ দরজা খোলা হয়। আমার বন্ধুর মুচকি হাসি মাখা চেহারা দেখে আমি অভিযোগের সুরে বললাম, দরজা খুলতে এতো বিলম্ব হল কেন? তখন সে বলল, মূলতঃ আমাদের এখানের নিয়ম হল যখন কোন আগন্তুক নিজের নাম না বলবে, তার জন্য দরজা খোলা হবে না। কেননা নামের দ্বারা মানুষের পরিচয় জানা যায়। উপরন্তু ঘরের লোকজন ব্যাপক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পায়। নতুবা মারাত্মক ডাকাতিসহ অনেক ধরনের বিপদ হতে পারে।
📄 নমনীয় আলোচনা শোরগোল ও বিশেষজ্ঞদের অভিমত
এক হাদীসে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ মুনাফিকের আলামত প্রসঙ্গে বর্ণনা করেছেন, সে দিনে চিৎকার করে কথা বলা ও শোরগোল করতে অভ্যস্থ হয়। (মুসনাদে আহমদ)
ওয়াশিংটন বিশ্ব বিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডঃ মার্কস ডিউল মানবীয় কুপ্রবৃত্তি সম্পর্কে ব্যাপক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। নিম্নে তার গবেষণার প্রতিবেদন অধ্যায়ণ করুন। বর্তমান আধুনিক যান্ত্রিক ও প্রযুক্তির যুগে প্রত্যেক লোকই দুশ্চিন্তা ও অতি ব্যস্ততায় মানসিক ব্যাধিতে আক্রান্ত। এ ধরনের রোগীদেরকে কখনো বাড়তি যন্ত্রণা দেওয়া যাবে না।
স্মরণ রাখুন, পেরেশান ও কর্মব্যস্ত লোককে কখনো শোরগোল বা উচ্চ আওয়াজে ব্যতিব্যস্ত ও উত্যক্ত করবে না। আপনাকে মানবীয় সভ্যতা ও চরিত্র ভালভাবে জানতে হবে। সব চেয়ে উত্তম সভ্যতা হলো মানবিক সভ্যতা। আর ঐ আদবের বিষয়বস্তু হল, ধীরে সুস্থে কথা বলা। হুলস্থুল না করা। মানসিক উত্তেজনা মানুষকে মূলতঃ ধৈর্য্যহীন করে দেয়। এরূপ ধৈর্য্যহীন অবস্থায়ও এমন সময় আসে তখন মানুষ মরা ও মারার জন্য উদ্যত হয়। সুতরাং বর্তমান সময়ে যথাসম্ভব ক্ষীণ আওয়াজে কথা বলা, কোন প্রকার শোরগোল বা হৈ-হল্লা না করা, দৈহিক বা মানসিক কোন প্রকার চাপ প্রয়োগ না করা অতী জরুরী।
📄 অর্থহীন আলোচনা
রাসূলুল্লাহ ইরশাদ করেছেন, মানুষের ইসলামের সৌন্দর্য্য হচ্ছে, অনর্থক কথা বলা সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাগ করা। (তিরমিযী)
📄 উপালেয় পরামর্শ
ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডঃ ম্যাকসডিউলের গবেষণার প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সফলকাম ব্যক্তিদের আদর্শ হল, তাদের এরূপ অনর্থক আলাপ আলোচনা থেকে বিরত থাকা, যা তাদের মূল্যবান সময় নষ্টের কারণ হয়। আসলে আলোচনা যত সংক্ষিপ্ত করা যায়, ততই মঙ্গলজনক হয়। কেননা সংক্ষিপ্ত আলোচনা মানুষকে এরূপ নিগুড় তত্ত্বের প্রতি উদ্বুদ্ধ করে, যার গভীরতায় সাধারণ মানুষের পৌঁছা অসম্ভব। যে ব্যক্তি কথা কম বলে, সে চিন্তা করে বেশী। মূলতঃ আসল বিষয় হল, মানবীয় চিন্তা-ভাবনা। মানুষের চিন্তা-চেতনা যত বৃদ্ধি লাভ করবে, মানুষ ততই উন্নতি ও সাফল্যের উচ্চ শিখরে আরোহন করতে সক্ষম হবে। কেননা মানুষের উন্নতি ও সফলতার জন্য সুদৃঢ় অবলম্বন প্রয়োজন। আর এ অবলম্বন হল, একমাত্র সুচিন্তা-ভাবনা। অতিরিক্ত, উদ্দেশ্য ও অর্থহীন বাক্যালাপ মানুষকে সমাজ থেকে বিচ্যুত করে দেয়।