📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 বৃটেনের ধনাঢ্য নবযুবক

📄 বৃটেনের ধনাঢ্য নবযুবক


পরিশ্রম ও ভাগ্যের দ্বারা তারা নিজ দুনিয়া গঠন করে নিয়েছে। যৌবনে অর্থ-সম্পদের প্রাচুর্য্যতা আর এর মাধ্যমে জীবনে আরামআয়েশে পরিপূর্ণ স্বাদ উপভোগ করার মজাই আলাদা। আজকের সম্পদশালী এক যুবক কাল যখন নতুন প্রজন্মকে নিজের সম্পদ স্থানান্তর করে দেবে, তখন এর মধ্যে লম্বা চওড়া জমিদারী ও গগনচুম্বি প্রাসাদ থাকবে না বরং অগণিত অসংখ্য নিত্য নিতুন আধুনিক প্রযুক্তির ব্যাপক উদ্ভাবন হবে। বর্তমানে বৃটেনের ধনাঢ্য নব যুবকদের এক পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়, সে তালিকায় প্রকাশিত যুবকদের অধিকাংশই জমিদার খান্দানের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়। বরং ইন্টারনেট, সফ্টওয়ার, টেলিকম সরঞ্জম, কম্পিউটারাইড্ টেলিকম, কম্পিউটার গেম্স, শো-বিজনেস, মডেলিং সংক্রান্ত ব্যবসা ও এ ধরনের অন্যান্য পেশার সাথে জড়িত। ঐ সব নবযুবকদের সকলের বয়স ২৩ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। আর তারা সকলে স্বস্ব পেশায় অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে। জিস্যান ডারমুন্ড ২৯ বছর বয়সে বিজনেস ইন্টারনেট সরঞ্জামের সূচনা করে। ডারমুন্ড বাল্যকালে তার মাতাপিতাকে প্রায় সময় বলত 'আমি দোকানদার হব। কিন্তু ভাগ্য তাকে কোন দোকানের কাউন্টারের পেছনে বসার স্থলে ইন্টারনেটের এক ব্যাপক কারবারের মালিক বানিয়ে দেয়। বর্তমানে তার বিনিয়োগকৃত সম্পদের পরিমাণ ২৪ মিলিয়ন পাউন্ড।

তার কোম্পানী ওরলিড ওয়াডিবের শীর্ষস্থানীয় বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান। আর সে নিজ জনপ্রিয়তার কারণে কপিরাইটের অধিকার সংরক্ষণের জন্য অশেষ সংগ্রাম করতে হয়েছে। ডরনিজাড বর্তমানে নিউইয়র্কে নিজ দফতর প্রতিষ্ঠা করেছে। অতি তাড়াতাড়ি ব্যবসা প্রসার লাভ করার কারণে তার সম্পদও দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি লাভ করেছে। ডরইজাড ১৫ বছর বয়সে ব্যবসার জগতে আবির্ভূত হয়'। প্রথমে গেম্স, সফ্টওয়ার ক্রয় করে। তারপর স্থানীয় এজেন্সীর মাধ্যমে তা বিক্রয় করার কারণে সে নিজ ব্যবসায় উন্নতি লাভ করে। ডরইজান্ডের শিক্ষা অসমাপ্ত থাকার জন্য কোন আক্ষেপ নাই। তার দুঃখ হলো, ব্যবসার কারণে তার সামাজিক জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটছে।

ইন্টারনেট সফটওয়্যার ডেভেলপার হিসেবে এডাম টুইস ও ডিম্যাইন রির্ডজ ব্যাপক খ্যাতিও বিপুল অর্থ সঞ্চয় করেছে। বৃটেনের ধনাঢ্য তনয়দের মধ্যে তার স্থান দ্বিতীয়। আর সম্পত্তি ও মালপত্রের পরিমাণ আনুমানিক ১৩মিলিয়ন পাউন্ড।

২৩ ও ২৫ বছর বয়স্ক ক্যমব্রিজগর ইজুনিন্ট নবযুবকদের কোম্পানী "ZEUS" বর্তমানে আমেরিকার বিরাট সফটওয়্যার সংস্থাসমূহের মধ্যে অন্যতম। তাদের মতে সফটওয়্যার ব্যবসা সারাবিশ্বে অতি দ্রুতগতিতে বিস্তার লাভ করেছে। এখন আমরা "ওয়েব সোরের মার্কেটে" নিজ নাম প্রতিষ্ঠা করতে ইচ্ছুক। এখন পর্যন্ত ঐ বিষয়ের অতি নগন্য বিষয় আমরা অভিজ্ঞতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি।

২৯ বছর বয়স্ক রবার্ট জন হেনরী বুনাইজের ব্যবসা টেলিকম সারাসাজের সাথে জড়িত। সে "ScooT" নামে টেলিফোন ফ্রি পিচার প্রকাশ করছে। এ সময় টেলিকম সারসাজ প্রনয়নকারী একক প্রতিষ্ঠান হিসেবে তার মূলধন ও সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১১মিলিয়ন পাউন্ড। রবাটজন হেনরী বর্তমানে তার ব্যবসার ব্যাপক প্রসারে দৃঢ় পদক্ষেপ নিয়েছে। আর্মাষ্টাডাম ষ্টক মার্কেটে ১৪বছর বয়স থেকে কার্যকরী জীবনের সূচনা কারী রবাট জন হেনরীর সম্পর্কে শিল্পপতিদের ধারনা হল যে, সে ভবিষ্যতে এ্যলপোজিদের জগতে সবচেয়ে বেশী সুখ্যাতির অধিকারী হবে। মাত্র ত্রিশ বছরের জীবনে রবার্ট ডুডানি যে সফলতা ও সুখ্যাতি অর্জন করেছে, শিল্প ও বাণিজ্যের জগতে উল্লেখ যোগ্য স্বাক্ষর রেখেছে। রবার্টের অর্থ-সম্পদের পরিমাণ ১০ মিলিয়ন পাউন্ড। ১৯৯৬খ্রিঃ সে কম্পিউটার এজেন্সি এইচ ই এক্স গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করে। যা জুন ১৯৯৮ পর্যন্ত সফরতার নয়া রেকর্ড প্রতিষ্ঠা করে। লন্ডন থেকে সেকেন্ড হ্যান্ড কম্পিউটার গেম্স কারবার দ্বারা ব্যবসায় জীবনের সূচনা করে। রবার্ট ডুডনীর অভিমত হল, আমি প্রথম মিলিয়ন লাভ করা স্বত্ত্বেও পরিশ্রম ও চেষ্টা পরিত্যাগ করিনি বরং আমার মূলধন ও পুঁজির ব্যাপক ব্যবহার করি। বর্তমানে ডুডনি অনলাইন ষ্টোর প্রতিষ্ঠা করতে ইচ্ছুক।

ইউনিত কোরসাহিনী ও শুধু ২৮বছর বয়স্ক কম্পিউটার রি-টাইলর। সে এমন পরিবারে বিবাহ করে, যারা কম্পিউটার যন্ত্রাংশের হোল সেল ব্যবসায় নিয়োজিত ছিল। ইউনিত ফোর ও ভি আই পি তিন কম্পিউটার কেন্দ্রের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করত। আর অপর ডাইরেক্টরেট তার স্বামী জিতেন্দ্র ও শ্বশুর করতার দায়িত্ব পালন করত। ১৯৯৫খ্রিঃ করতার ব্যবসা থেকে বিদায় নেয়। এর পর ইউনিতকোর ও জিতেন্দ্র ব্যবসার দায়িত্বভার গ্রহণ করে। আর অতি দ্রুত উন্নতির উচ্চ শিখরে আরোহন করে। ঐ সময় এ কোম্পানীর সম্পদের পরিমান ছিল ৫মিলিয়ন পাউন্ড। ধারাবাহিকভাবে তাদের ব্যবসায় উন্নতি হতে থাকে।

চলচিত্র প্রযোজক ও পরিচালক সিথয়ান ও গ্যরিচির বয়স যথাক্রমে ২৮ ও ৩০ বছর। সম্পদের পরিমান ৯.৯০ মিলিয়ন পাউন্ড। ৩.৩ কোটি ডলারের বৃটেনের চলচিত্র শিল্পে তাদের উভয়ের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। মাত্র দু'বছর পূর্বে তারা উভয় সিগারেট ও অন্যান্য ব্যবসার সাথে জড়িত ছিল। তারা উভয়ে ১৯৯৮খ্রিঃ "LOCK SIOCK" ও"Two Smokin Boorels" নামে দুই সফল চলচিত্র প্রযোজনা করে। ১৯৯৯খ্রিঃ তাদেরকে শ্রেষ্ঠ চলচিত্র ঘোষণা করা হয়। তাদের মধ্যে সিথিয়ান প্রযোজক ও রিচি পরিচালক ছিল। তাদের অভিমত আমরা একে অপরের কাজের প্রতি অত্যন্ত মনযোগী ছিলাম। তাদের উভয়ের যৌথ কাজের ফলে বৃটেনের চলচিত্র শিল্পে অল্প পুঁজি বিনিয়োগে গঠনমূলক চলচিত্র তৈরী করা হয়। যাদের মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে বৃটেনে সফ্টওয়ার সরবরাহ বিস্তার লাভ করে। তন্মধ্যে ২২বছর বয়স্কা জন ব্যানেটের নাম অতি অল্পদিনের মধ্যে প্রথম সারিতে স্থান পায়।

জন ব্যানেট এক সোল্পমিডিয়া নব যুবতী। আর ঐ সময় তার সম্পদের পরিমাণ ছিল ৬মিলিয়ন পাউন্ড। ঐ সময় বার মুংগয়ে অবস্থিত তার সফ্টওয়ার হাউজ বৃটেনের হাতে গোনা কতিপয় খ্যাতনামা কোম্পানীর মধ্যে সবচেয়ে বড় সফ্টওয়ার ও পি.সি. সরবরাহের অন্যতম একক প্রতিষ্ঠান ছিল। ১৬ বছর বয়সে সফ্টওয়ারের ব্যবসায় জড়িত জন জ্যানেটের পিতা তার কোম্পানীর ম্যানেজার ও তার মা কোম্পানীর বকেয়া আদায়ের ইনচার্জের দায়িত্বে নিয়োজিত হয়। আগামী কয়েক বছরের সফ্টওয়ার হাউজ কোম্পানীকে বৃটেনের চূড়ান্ত সীমায় উন্নীতকারী কোম্পানী সমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ঘোষণা দেওয়া হবে।

বৃটেনের দশম ধনাঢ্য নবযুবক ইন্ডিইউফোরডের বয়স ২৭বছর। আর সফ্টওয়ার ডেভেলপার হিসেবে তার সংস্থা দ্রুত উন্নতির শিখরে আরোহন করছে। ১৭বছর বয়সে ব্যবসার জগতের প্রবেশকারী ইন্ডোরিডের এক ইন্টার স্কু কোম্পানী বর্তমানে মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপসের সফ্টওয়ার তৈরী করছে। তখন ইন্ডিরিউয়ের সম্পদের পরিমাণ ছিল ৫.৬ মিলিয়ন পাউন্ড।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 অবৈধ কালো টাকার ছড়াছড়ি

📄 অবৈধ কালো টাকার ছড়াছড়ি


চার অক্ষরের সম্পদ শব্দ এতো আকর্ষণীয় ও চিত্তাকর্ষক, যে তাকে দেখবে, সে এর নেশায় উন্মাদ। আর এর জন্য নিজের দ্বীন ঈমান ও ন্যায় নীতিকে সগৌরবে বিসর্জন দিয়ে যাচ্ছে। পুঁজিপতি ও জমিদাররা নিজেদের পুঁজি ও জমিদারী বৃদ্ধির কাজে অহর্নিশি পরিশ্রমে মরিয়া হয়ে লেগেছে। এ জন্য যে কোন প্রকার বৈধ-অবৈধ পন্থা ব্যবহার করছে। স্বীয় অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার লক্ষ্যে তারা সরকারী দফতর সমূহ ও রাজনৈতিক নেতাদেরকে ব্যবহার করছে। তাদের অবৈধ পন্থায় উপার্জিত সম্পদ গোপন করার ও আয়কর ফাঁকি দেওয়ার জন্য তাদের বুরোকেসি ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের দ্বারস্থ হতে হয়।

সম্প্রতী চালিত এক জরিপের রিপোর্ট মোতাবেক সুইজারল্যাণ্ডের খ্যাতনামা বড় পাঁচ ব্যাংকের সম্পদের পরিমাণ হল ১২০০ কোটি ডলার। তন্মধ্যে ইউ,পি,এস, ব্যাংকে ৫৮০ কোটি ডলার। ক্রেডিটসুইজ ব্যাংকে ২৯০ কোটি ডলার। সিটি ব্যাংক, সিরিজ ব্যাংক ও মিল ব্যাংকের মধ্যে প্রত্যেকের একাউন্টে প্রায় সোয়া কোটি ডলার জমা রয়েছে। তারা উক্ত একাউন্টের মালিকদের রক্ষার সর্বাত্মক চেষ্টা করছে। তাদের একাউন্ট পর্যন্ত কাউকে পৌঁছতে দেয় না। সুইজারল্যান্ডের অর্থনৈতিক বুনিয়াদ এ ব্যাংক ইন্ডাস্ট্রিজের উপর নির্ভরশীল। এ কারণে ওখানের একাউন্ট হোল্ডারগণ প্রত্যেকে সর্বাত্মক নিরাপত্তা বোধ করছে। যদি আপনার নিকট অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থ যথা চোরাচালান, সরকারী সুদের কমিশন বা কর্ক ব্যকস ঘুষ, মজুতদারীর মাধ্যমে অর্জিত এক কোটি ডলার থাকে। তাহলে আপনি ঐ ব্যাংক সমূহের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। আর এই ব্যাংক আপনার ঐ অর্থকে নিরাপদ করার এমন পন্থা বলে দেবে যে, অন্য কোন সংস্থা ঐ একাউন্টস সমূহ বাতি লাগিয়েও এর কোন সন্ধান পাবে না। আপনার এক কোটি ডলারকে দুনিয়ার দৃষ্টির অন্তরালে গোপন করার এ কাজ তারা এতো দক্ষতা ও নিরাপত্তার সাথে সমাধান করবে যে, ঐ পর্যন্ত পৌছা জিন-পরীর পক্ষেও অসম্ভব।

আমেরিকান কংগ্রেসের জেনারেল একাউন্ট দফতরে দীর্ঘ আট মাসের ধারাবাহিক পরীক্ষা নিরীক্ষার পর যে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়, তাতে সত্যিই বিস্ময়কর তথ্য ও তত্ত্ব প্রকাশ পেয়েছে। কংগ্রেসের পর্যবেক্ষক প্রতিনিধিদল মেক্সিকোর সাবেক প্রধানের ভ্রাত রাউন্ড মালিয়ানাসডিগোর ট্যারির অবৈধ উপায়ে অর্জিত সম্পদকে মেক্সিকো থেকে গ্যামেন আইল্যান্ডের অব্যবহৃত কোম্পানী সমূহতে রূপান্তরের প্রচেষ্টা করে। তার এ অগাধ অর্থকে আমেরিকার সিটি ব্যাংকের মাধ্যমে প্রেরণ করে। পৃথিবীতে যার হাজারো শাখা রয়েছে।

রাউন্ড চালনিসকে বর্তমানে অবৈধ অর্থ উপার্জন, হত্যা ও সন্ত্রাসের দায়ে গ্রেফতার করে মেক্সিকোর কারাগাকে রাখা হয়েছে। গত অক্টোবরে মেক্সিকো সরকার একশ' চৌদ্দ মিলিয়ন ডলার বায়েজাপ্ত করার ঘোষণা জারী করে। এ অর্থ চালনিস ড্রাগ মাফিয়াকে রক্ষা করার মাধ্যমে উপার্জন করেছে। কিন্তু সুইজ সরকার মেক্সিকো সরকারের প্রস্তাব অস্বীকার করে। জেনারেল একাউন্ট অফিসের উক্ত প্রতিবেদনে সিটি ব্যাংককে এর জন্য সরাসরি দোষি সাব্যস্ত করা হয় যে, সে চালনিসের একাউন্ট খোলার সময় আদৌ জানার চেষ্টা করেনি- সে এতো বিপুল অর্থ কিভাবে উপার্জন করেছে বরং ব্যাংকারা তাকে সে ভুয়া কোম্পানী ও একাউন্ট খুলে নিজের অবৈধ পুঁজি নিরাপদ করতে কি ভাবে সক্ষম হবে সে পথও দেখিয়ে দিয়েছে।

সিটি ব্যাংকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ এসংক্রান্ত প্রশ্নের জবাব দিতে অপারগতা প্রকাশ করে। এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে তা তুলে ধরা হয়েছে। তারা অভিমত প্রকাশ করে যে, উক্ত প্রতিবেদনে গরমিল ও ভুল তথ্য রয়েছে। আর ব্যাংক যথাসম্ভব চালনিসের অর্থ উপার্জনের বিষয় অবগত হয়েছে। তাদের ধারনা অনুযায়ী তার একাউন্ট সম্পর্কে অভিযোগ উত্থাপন করে বলার মত কিছু ছিল না।

যতদূর সম্ভব চালনিসের সিটি ব্যাংকের একাউন্ট প্রচলিত ব্যাংক আইন অনুযায়ী সঠিক ছিল। যার মাধ্যমে সে তার প্রাইভেট ব্যাংকার এ্যামিএলিট সম্পদ ক্রয়-বিক্রয় ও স্টক মার্কেট পুঁজি বিনিয়োগের ব্যবসার দীর্ঘদিন থেকে চালিয়ে আসছে। কিন্তু যেভাবে চালনিসের পুঁজি এক দেশ থেকে অন্য দেশে অতিদ্রুত স্থানান্তর করা ইত্যাদি নগন্য ও অতি সাধারণ ব্যাপার ছিল, সিটি ব্যাংকের দৃষ্টিতে এ অভিমত অতি গুরুত্বহীন বিষয়। তাদের ধারনা মতে এটা হল বর্তমান ব্যবসার রীতি নীতি।

জেনারেল একাউন্টিং অফিসের এই রিপোর্ট মোতাবেক এ সিআই ট্রেড যে পদ্ধতি গ্রহণ করেছে, তা হল, চালনিসের স্ত্রী পাওলিনাকাস্টানো মেক্সিকোর সিটি ব্যাংকের নগর শাখায় মেক্সিকোর বিভিন্ন ব্যাংকের বিপুল পরিমাণ অংকের চেক নিয়ে আসে এবং এক নকল নামে ঐ চেকের টাকা সিটি ব্যাংক নিউইয়র্ক শাখায় স্থতানান্তর করে নেয়। চালনিসের মেক্সিকোর সিটি ব্যংকের নগর শাখায় কোন একাউন্ট ছিল না। আর এ কারণে তার পাঠানো অর্থের সাথে তার কোন সংশ্লিষ্টতা প্রমাণ হয়নি। নিউইয়র্কের সিটি ব্যাংকে এ অর্থ এক ছদ্ম নামে কিছু দিনের জন্য জমা রাখা হয়। কিন্তু কোন প্রকার দলীল প্রমাণ দ্বারা এ অর্থের সাথে চালনিসের সংশিষ্টতা প্রমাণ করা যায়নি।

এখান থেকে চালনিসের নাম আরো বেশী করে গোপন করার নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। এমিএলিটের সাহায্যে চালনিস টোরকাকের নামে কিম্যান আইল্যান্ডে বেনামী এক কোম্পানী প্রতিষ্ঠা করা হয়। টেরি কাকের সাথে আরো তিনটি প্রতিষ্ঠান ছিল, যা ঐ কোম্পানীর নামে তালিকাভূক্ত ছিল, আর ঐ কোম্পানী সমূহ কিম্যান আইল্যান্ডের আইন মোতাবেক ছিল। এছাড়াও ঐ চার কোম্পানীর সবচেয়ে বড় অংশীদার অপর এক কোম্পানী ছিল, যার আভ্যন্তরীন লেনদেনে কিম্যান আইল্যান্ডের কঠোরতম আর্থ আইনের নিয়ন্ত্রণ ছিল। যার কারণে তার আর্থিক কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণরূপে গোপন থেকে যায়।

টোরকা নিজ অর্থের মাধ্যমে সিটি ব্যাংকের জাকুরছ ও লন্ডনের শাখা সমূহের মাধ্যমে অর্থ আদান প্রদান করেছিল। এ আর্থিক লেনদেন অন্য এক ব্যংক একাউন্টের মাধ্যমে করা হত। যা নিশ্চিত ঐ নামে খোলা হয়েছিল। ঐ একাউন্টের মাধ্যমে ষ্টক ও বন্ড সংরক্ষণ করা হয়েছে। এসি এলিট এ সব ধাপ অতিক্রম করার পর তার ঐ এক কোটি ডলারকে পৃথিবীর দৃষ্টি থেকে গোপন করাতে সফলতা লাভ করে। তার মালিকের সাথে সে নামমাত্র অবগত ছিল। আর মালিকের সাথে কখনো তার মুখোমুখি সাক্ষাত হয়নি। জেনারেল একাউন্টিং অফিসের প্রতিবেদন মোতাবেক সিটি ব্যাংকের পক্ষ থেকে অভিমত প্রকাশ করা হয় যে, চালনিসের একাউন্টে জমাকৃত অর্থ এক বিরাট নির্মান কোম্পানী বিক্রয়ের মাধ্যমে লাভ হয়েছে। অথচ ব্যাংকের ঐ নির্মান কোম্পানী সম্পর্কে কিছুই জানা ছিল না। তাদের এ বিষয়ও অজানা ছিল যে, ঐ নির্মান কোম্পানীর নাম কি অথবা ঐ কোম্পানীকে কে কত টাকার বিনিময়ে ক্রয় করেছে। আর চালনিস সেটি বিক্রয়ের মাধ্যমে কত টাকা আয় করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে এটা সম্ভবতঃ এ সংক্রান্ত বিষয়ে ব্যাংকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা ছিল না। কেননা এ অভিযোগ প্রমাণ করার এর কথায় গ্রহণ যোগ্যতা প্রমাণ করার জন্য জরুরী ছিল যে, চালনিস এক সন্ত্রাসী ছিল। আর এটাও জরুরী ছিল যে, তার একাউন্ট খোলার সময় ব্যাংক তার সম্পদের বিষয় পুরোপুরি অবগতি ছিল যে, তারা একজন অপরাধীকে ব্যাংকিং সুবিধা দিয়েছে। অতীতেও ব্যাংকের বিরূদ্ধে আনিত এ সব অভিযোগ প্রমাণ করা যায়নি। এর আরো এক শক্তিশালী কারণ হতে পারে যে, ব্যাংকের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ প্রমাণ করার অর্থ ঐ ব্যাংকের লাইসেন্স নিশ্চিত বাতিল করা। আর সম্ভবতঃ পৃথিবীর অধিকাংশ দেশ আমেরিকার বড় ব্যাংক সমূহের বিরুদ্ধে এ ধরনের ব্যবস্থা নিতে চায় না।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 তথ্য সন্ত্রাসের মাধ্যমে ধনাঢ্য হওয়া নব যুবক

📄 তথ্য সন্ত্রাসের মাধ্যমে ধনাঢ্য হওয়া নব যুবক


বৃটেনের ধনাঢ্য যুবকদের সারীতে আসা উদ্যমী ও পরিশ্রমি যুবক অন্তর্ভূক্ত হয়েছে। তাদের সারীতে তথ্য ও প্রবন্ধ হাইজ্যাককারী ওলিমক্যারলিসের নামও রয়েছে। ওলিম এ সময় কারাগারে বন্দী। আর তার তথ্য সন্ত্রাসের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ৪ মিলিয়ন পাউন্ড। সে নিজের কোম্পানীকে তথ্য চোরা চালানীদের জন্য বন্ধুর মত ব্যবহার করে। ওলিম কারসী চোরাচালানীর মাধ্যমে বিপুল পরিমান অর্থ উপার্জন শুরু করে। পুলিশ এ বছর জানুয়ারী মাসে তাকে গ্রেফতার করে। তার নিকট থেকে চেরাচালানীর কোন তথ্য বের করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু সে চোরাচালানীর সাথে তার জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। যার কারণে তাকে ১১বছরের জেল দেওয়া হয়।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 পঞ্চম মূল্যায়ন

📄 পঞ্চম মূল্যায়ন


পূর্বে বলা হত, এ পৃথিবী তিন প্রকার পরিমাপে তথা দৈর্ঘ প্রস্ত ও উচ্চতার জগত। অর্থাৎ যা কিছু সংঘটিত হয়, তা সংঘটিত হওয়ার স্থান নির্ধারণ করার জন্য দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা পরিমাপ করার প্রয়োজন হত। পরে সময়কে চতুর্থ পরিমাপের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। বলা হয়, প্রত্যেক ঘটনা শুধু একস্থানে সংঘটিত হতে পারে। কিন্তু পঞ্চম এক পরিমাপও রয়েছে, যা অভিজ্ঞ বিজ্ঞানীগণ পর্যবেক্ষণ করেছেন। আর তা হল সর্বভৌম একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী আল্লাহ তা'আলার ইচ্ছা। মহান আল্লাহ তা'আলার মর্জি ব্যতীত পৃথিবীতে কোন কিছুই সংঘটিত হতে পারে না।

وَمَا تَشَاؤُنُ إِلَّا أَنْ يَشَاءَ اللَّهُ
অর্থাৎ- আল্লাহ পাকের ইচ্চা ছাড়া তোমরা কোন কিছুই কর না। (সূরা আত্ তাকবীর ও সূরা আদ্‌দাহর)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00