📄 বন্ধুত্বের স্বরূপ
আমি কখনো নিশ্চিত এরূপ বন্ধুত্বকে পছন্দ করি না, যে বন্ধুত্বের অন্তরালে এরূপ লোভ-লালসা থাকবে, যা আমাকে নিঃস্বার্থ বন্ধুত্ব ও সহমর্মীতা থেকে দূরে সরিয়ে দেবে। বন্ধু হবে সে, যার অন্তর মুক্তার মত নিষ্কলুষ ও স্বচ্ছ। আর পানির মত আকারহীন। আমি কোয়েল পাখিকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তুমি গান গাও কেন? সে আমাকে বলল, আমার অন্তর নিষ্কলুষ-স্বচ্ছ। তাই আমি গান গাই। "আমি হৃদ্যতা ও আন্তরিকতাপূর্ণ বন্ধত্ব পছন্দ করি। আমি শত্রুতাও পছন্দ করি কিন্তু নিষ্ঠরতা ও আন্তরিকতাহীন।"
মহব্বতের গভীরতা
গ্যাট নামের এক ব্যক্তি আমার বাল্যবন্ধু ছিল। সে আমার মহব্বতে নিঃশ্বাস ফেলত। সর্বদা আমার কথা স্মরণ করত। আমার পিতা ছিল পুলিশ কর্মকর্তা। আর গ্যাটের পিতা ছিলো কাঠমিস্ত্রি। আমাদের বন্ধুত্ব সর্বদা আদর্শের স্বাক্ষর রাখত। এ ভাবেই আমাদের বন্ধত্ব চলতে থাকে। আমরা উভয়ে একত্রেই বিদ্যালয়ে যেতাম। অবশেষে আমরা উভয়ে মেট্রিক পাশ করে কলেজে ভর্তি হই। আমাদের বন্ধুত্বের আদর্শ তখনও বহাল থাকে। এমতাবস্থায় আমার পিতা অসুস্থ হয়ে পড়েন। আমার কলেজের কোন কোন ক্লাশ বাদ পড়তে শুরু হয়। চিকিৎসা করানো সত্ত্বেও আমার পিতার অবস্থার উন্নতি লাভ করেনি। হঠাৎ একদিন তিনি ইহজগত ত্যাগ করেন। তার মৃত্যু পর্যন্ত গ্যাটের সাথে আমার বন্ধুত্ব অটুট ছিল। তার পর সহসাই তার মধ্যে পরিবর্তন দেখা দেয়।
তার মন মেজাজ সম্পূর্ণরূপে পরিবর্তিত হয়ে যায়। তার চলার গতিস্থিতি ও মহব্বতে পরিবর্তন এসে যায়। সে আমার থেকে দূরে সরে যেতে শুরু করে। আমি এই ভেবে হতবাক হয়ে যাই। যে, কে এমন হল? কিন্তু আমি ঘটনার গভীরে প্রবেশ করতে পারি নি। অবশ্য আমি কিছুদিন পরই এর সমাধান পেয়ে যাই। আসলে গ্যাট ও আমারা মধ্যে বন্ধুত্ব ছিল না। মূলতঃ আমার পিতার পদবীর কারণে সে আমার বন্ধু হয়েছে। তার ভয় ছিল, না জানি আমার দ্বারা তার কোন ক্ষতি হয়ে যায়। অথবা কোন সময় আমার মাধ্যমে আমার পিতার দ্বারা কোন স্বার্থ উদ্ধারের প্রয়োজন হতে পারে। এ পর্যন্তই ব্যাস।
📄 আবেগ ও মনস্তত্ত্ব বিশেষজ্ঞ
জার্মানীর বারসেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ প্যারাসাইকোলোজিষ্টগণ গবেষণার পর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন যে, এমন ধরনের প্রেম-প্রীতি যাতে প্রেমিক ও প্রেমিকাদের অন্তরে কোন প্রকার ভয়-ভীতি, সন্দেহ-সংশয় বা লোভ-লালসা থাকবে, সে মহব্বত নিশ্চিত কখনো উপকারী হতে পারে না। একবার বিশেষজ্ঞদের একটি প্রকল্পে ষাট ষাট ব্যক্তির দুটি পৃথক দল গঠন করা হয়। তার পর একদলকে এক রকম অনুশীলন দেওয়া হয়। বলা হয়, ভালবাসা শুধু নিঃস্বার্থ ও উদ্দেশ্যহীন হতে হবে। তাতে ব্যক্তিগত কোন স্বার্থ থাকতে পারবে না। আর দ্বিতীয় দলকে শুধু ভালবাসার জন্য উৎসাহ দেওয়া হতো। চল্লিশ দিন পর ঐ দল যাদেরকে শুধু মাত্র নিঃস্বার্থ ভালবাসার জন্য উৎসাহ দেওয়া হয়েছে, তাদের হতাশা দুঃশ্চিন্তা অনেক লাঘব হয়ে গেছে। তাদের মানসিক অবস্থায় বিরাট পরিবর্তন দেখা যায়। পক্ষান্তরে যে সব লোককে শুধু ভালাবাসার জন্য উৎসাহ দেওয়া হয়েছে, তারা পূর্বের মত দুর্বল ও চিন্তিত রয়ে গেছে।
📄 স্বীয় অভিমতকে সঠিক বলবে
• রাসূলুল্লাহ ইরশাদ করেছেন, তোমরা সৎ কাজের দাওয়াত দাও, অসৎ কাজের বাঁধা প্রদান কর। যখন মানুষের অবস্থা এরূপ হয়ে যাবে যে, মানুষ কপনের আনুগত্য করতে শুরু করবে এবং স্বীয় প্রবৃতির কামনা-বাসনার অনুগত হয়ে যাবে। তারা দুনিয়াকে প্রাধান্য দিতে শুরু করবে, তখন প্রত্যেক লোক স্বস্ব অভিমতকে সঠিক বলবে। আর তুমি নিছক আত্মরক্ষাকেই জরুরী মনে করবে। ভাববে, সমাজে বসবাস করে তাদের মত ভ্রষ্টতায় পতিত হয়ে যাবে। সুতরাং তুমি শুধু তোমার নিজের প্রবৃত্তিকে সামলে নেবে। আর সমাজের লোকদের ব্যাপারে তাদের উপর ছেড়ে দেবে।
ব্যার ম্যলিজ ছিলেন বৃটেনের সে মহান আইন প্রণেতা, যিনি আইন ও ইনসাফের ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করেছেন। বর্তমানেও তার রচিত গ্রন্থকে আইনের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের মানদণ্ড সাব্যস্ত করা হয়। তিনি তার যুগের রচিত প্রসিদ্ধ গ্রন্থ "লামাইন্ড ক্যাসরিক্ট" তা লণ্ডন ইন্ডার্স পাবলিশার্স থেকে মুদ্রিত। তাতে লিখেছেন-
আমার জীবনের দীর্ঘ অনুশীলন ও অভিজ্ঞতার আলোকে এ কথা স্পষ্টভাবে বলছি যে, মানুষ ও জীবজন্তুর মত নিজে নিজে আধুনিক হয়ে যাচ্ছে। কেননা মানুষের মন মস্তিষ্কে এটা বদ্ধমূল হয়ে গেছে যে, তার অভিমত গুরুত্বপূর্ণ, বাকী সব অপ্রয়োজনীয় ও অর্থহীন।
বরটর জজের সামনে আমার মামলা চলছিল। যার সুখ্যাতি নানা মিডিয়ায় প্রচার হয়েছিল। আমি যখন তার মামলা পরিচালনা কালে দেখলাম, আমার মোয়াক্কেল আমাকে অতিক্রম করে কথা বলছে। আমি মামলা পুরোপুরি পরিচালনার চেষ্টা করি। কিন্তু সে আমাকে এক কদম সামনে অগ্রসর হতে দেয় নি, তদোপুরি সে এমন এমন মন্তব্য করতে শুরু করে, যা আমার নিজের ধ্যান-ধারনার উর্ধ্বে ছিল।
আমার মনে হয়, মূলতঃ তার মতিভ্রম হয়েছে। সে যা বলছে, সবই সত্য বলছে। তবে তার ধারনা ছিল, আমি ছাড়া আর কেউই ব্যাপারটি বুঝতে পারছে না, ফলশ্রুতিতে আমি সম্পূণ ব্যর্থ হয়ে যাই। আমাকে অধিকাংশ সময় এ ধরনের সমস্যার সম্মুক্ষীন হতে হয়েছে। আর এটা আমার অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেছে। ইতোপূর্বে অবস্থা কিন্তু এরূপ ছিল না।
📄 ফলের মধ্যে ঘাটতি দেখা দেবে
রাসূলুল্লাহ ইরশাদ করেছেন, সময় অতি নিকটবর্তী হয়ে যাবে। ফলমূলে ঘাটতি দেখা দেবে। (তাবারানী)
এটা মূলতঃ কিয়ামতের নিকটবর্তী আলামত সমূহের একটি আলামত। হাদীস সমূহের আলোকে এর ব্যাখ্যা করা হয়েছে যে, ফলদার বৃক্ষে ফলের ঘাটতি দেখা দেবে, বাস্তবে হয়েছেও তাই। একসময় গাছে ফল বেশী হত, আর কাঁটা কম হত। কিন্তু বর্তমান অবস্থা সম্পূর্ণ বিপরীত। গাছে ফল কম, কাঁটা বেশী হচ্ছে। এ সম্পর্কে বিশেষজ্ঞগণ কি বলছেন? একটি চিত্তাকর্ষক ঘটনা শুনুন।