📄 ১৯৩৫ খ্রিঃ ইউরোপ
• দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পূর্বেও সেখানে লজ্জা-শরম ছিল না। কিন্তু লজ্জা-শরমের অনুভূতি অবশ্যই ছিল।
• সেখানে নষ্টামি ছিল কিন্তু প্রকাশ্যে ছিল না।
• নারীরা পুরুষের প্রতি কম আকৃষ্ট হত।
• তাদের পোশাক-পরিচ্ছেদ রুচি ও শালিনতা বোধ ছিল।
• আমি অনেক নারীকে উলঙ্গ পাকে বাইরে ঢাকতে দেখেছি।
• আমার বান্ধবী মেরীর পোশাকও পূর্ণাঙ্গ ছিল। সে অত্যন্ত লজ্জাশীলা নারী ছিল।
📄 ১৯৫২ খ্রিঃ ইউরোপ
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর লজ্জা-শরম, ভদ্রতা ও রুচিবোধ, শালীন জীবন-যাপন ইউরোপ থেকে সম্পূর্ণরূপে বিদায় হয়ে গেছে। না এখানে লজ্জা-শরমের অনুভূতি রয়েছে, আর না ধ্যানধারনা রয়েছে।
• এখানে নষ্টামী প্রকাশ্য ও উন্মুক্ত হয়ে গেছে।
• নারীরা সর্বদা পুরুষকে আকৃষ্ট করায় ব্যতিব্যস্ত।
• তাদের পোশাক সম্পূর্ণরূপে নির্লজ্জ ও উলঙ্গ প্রায় হয়ে গেছে, যা দেখে পুরুষরা তাদের দেহের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ইউরোপের নারী সমাজ বিশেষতঃ যুবতী নারীরা সর্বদা নিজ দেহকে অনাবৃত রাখাতে অভ্যস্ত। অবশেষে আমি এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যে, ইউরোপ এখন সম্পূর্ণ উলঙ্গ হয়ে গেছে।
📄 প্রকাশ্যে বন্ধুত্ব গোপনে শত্রুর জন্ম নেবে
• রাসূলুল্লাহ ইরশাদ করেছেন, শেষযুগে এমন লোক জন্ম নিবে, যারা প্রকাশ্যে বন্ধু হবে, আর গোপনে শত্রু হবে। আরয করা হল, হে রাসূলুল্লাহ তা কিভাবে হবে? ইরশাদ হল, কেউ কেউ লোভ-লালসার শিকার হবে। আবার কেউ কেউ কোন বিষয়ে ভয় করবে। এ কারণে প্রকাশ্যে বন্ধু হবে। আর গোপনে শত্রু হবে।
📄 বন্ধুত্বের স্বরূপ
আমি কখনো নিশ্চিত এরূপ বন্ধুত্বকে পছন্দ করি না, যে বন্ধুত্বের অন্তরালে এরূপ লোভ-লালসা থাকবে, যা আমাকে নিঃস্বার্থ বন্ধুত্ব ও সহমর্মীতা থেকে দূরে সরিয়ে দেবে। বন্ধু হবে সে, যার অন্তর মুক্তার মত নিষ্কলুষ ও স্বচ্ছ। আর পানির মত আকারহীন। আমি কোয়েল পাখিকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তুমি গান গাও কেন? সে আমাকে বলল, আমার অন্তর নিষ্কলুষ-স্বচ্ছ। তাই আমি গান গাই। "আমি হৃদ্যতা ও আন্তরিকতাপূর্ণ বন্ধত্ব পছন্দ করি। আমি শত্রুতাও পছন্দ করি কিন্তু নিষ্ঠরতা ও আন্তরিকতাহীন।"
মহব্বতের গভীরতা
গ্যাট নামের এক ব্যক্তি আমার বাল্যবন্ধু ছিল। সে আমার মহব্বতে নিঃশ্বাস ফেলত। সর্বদা আমার কথা স্মরণ করত। আমার পিতা ছিল পুলিশ কর্মকর্তা। আর গ্যাটের পিতা ছিলো কাঠমিস্ত্রি। আমাদের বন্ধুত্ব সর্বদা আদর্শের স্বাক্ষর রাখত। এ ভাবেই আমাদের বন্ধত্ব চলতে থাকে। আমরা উভয়ে একত্রেই বিদ্যালয়ে যেতাম। অবশেষে আমরা উভয়ে মেট্রিক পাশ করে কলেজে ভর্তি হই। আমাদের বন্ধুত্বের আদর্শ তখনও বহাল থাকে। এমতাবস্থায় আমার পিতা অসুস্থ হয়ে পড়েন। আমার কলেজের কোন কোন ক্লাশ বাদ পড়তে শুরু হয়। চিকিৎসা করানো সত্ত্বেও আমার পিতার অবস্থার উন্নতি লাভ করেনি। হঠাৎ একদিন তিনি ইহজগত ত্যাগ করেন। তার মৃত্যু পর্যন্ত গ্যাটের সাথে আমার বন্ধুত্ব অটুট ছিল। তার পর সহসাই তার মধ্যে পরিবর্তন দেখা দেয়।
তার মন মেজাজ সম্পূর্ণরূপে পরিবর্তিত হয়ে যায়। তার চলার গতিস্থিতি ও মহব্বতে পরিবর্তন এসে যায়। সে আমার থেকে দূরে সরে যেতে শুরু করে। আমি এই ভেবে হতবাক হয়ে যাই। যে, কে এমন হল? কিন্তু আমি ঘটনার গভীরে প্রবেশ করতে পারি নি। অবশ্য আমি কিছুদিন পরই এর সমাধান পেয়ে যাই। আসলে গ্যাট ও আমারা মধ্যে বন্ধুত্ব ছিল না। মূলতঃ আমার পিতার পদবীর কারণে সে আমার বন্ধু হয়েছে। তার ভয় ছিল, না জানি আমার দ্বারা তার কোন ক্ষতি হয়ে যায়। অথবা কোন সময় আমার মাধ্যমে আমার পিতার দ্বারা কোন স্বার্থ উদ্ধারের প্রয়োজন হতে পারে। এ পর্যন্তই ব্যাস।