📄 আমানত উঠে যাবে
• হযরত খাদীজা রাযি. থেকে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ আমাকে দুটি বিষয় শিখিয়েছেন। তন্মধ্যে আমি এক বিষয় দেখেছি, আর দ্বিতীয় বিষয়ের অপেক্ষায় আছি। একটি হল, নিশ্চিত লোকদের অন্তরের গভীরে আমানত গচ্ছিত রাখা হয়েছে। তার পর মানুষ এর বিস্তারিত বিবরণ কুরআন ও রাসূলুল্লাহ এর মাধ্যমে শিক্ষা লাভ করেছে। দ্বিতীয়তঃ রাসূলুল্লাহ আমাকে আমানত উঠে যাওয়ার সম্পর্কে বলেছেন। ইরশাদ করেছেন, মানুষ একবার শয়ন করবে, তখন তার অন্তর থেকে আমানত উঠিয়ে নেওয়া হবে। আমানের বিন্দুমাত্র আমানতও বাকি থাকবে। দ্বিতীয় বার শয়ন করবে। তখন বাকী আমানতও উঠিয়ে নেওয়া হবে। তখন তার চিহ্নও বাকী থাকবে না বরং ফোঁসকার মত দাগ পড়ে যাবে। যা উপর থেকে ফোলা দেখা যাবে, ভেতরে কিছুই থাকবে না।
অতঃপর ইরশাদ করেন, মানুষের পারস্পরিক লেনদেনে কাউকে আমানতদার পাবে না। সর্বত্র আলোচনা হতে থাকবে যে, অমুক গোত্রে অমুক ব্যক্তি আমানতদার ছিল। চমৎকার ভাষায় মানুষের প্রশংসা করে বলা হবে, অমুক ভীষণ বুদ্ধিমান, ভদ্র ও শক্তিশালী। অথচ তার অন্তরে সরিষা পরিমাণও ঈমান থাকবে না। (বুখারী)
📄 আমানতদার ও ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি হ্রাস পাবে
পূর্ববর্তী সময়ে পরীক্ষা নিরীক্ষার নীতি ছিল, যখন কোন ব্যক্তিকে মনোনীত করা হত, তার একাধিক বৈশিষ্ট্য অবশ্যই দেখা হত। যেমন, ১. প্রস্তাবিত ব্যক্তি কি তার দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন? ২. সে কি নিজে ইনসাফ প্রার্থী, তাহলে সে নিজে ন্যায় পরায়ণ হবে। ৩.সে কি আমানতদার? পরিবারের লোকদের মধ্যে বিশ্বস্ততা আদান-প্রদানেও বিশ্বস্ত। কর্মস্থল ও কারখানায়ও বিশ্বস্ত হবে। কিন্তু বর্তমানে এরূপ লোকের সংখ্যা অনেক কমে গেছে।
📄 আমানতদার ব্যক্তি ও MBA এর নিসাব
আমার অভিজ্ঞতায় একটি বিষয় অতি গভীর মনে হয় যে, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও পাঠ্যসূচী বিশেজ্ঞগণ বারবার জোর দিয়ে বলেছেন, আপনি যদি নিজের ব্যবসায় উন্নতি ও সফলতা চান, তাহলে আমানতদারীকে আপনার লক্ষ্য স্থির করুন। কেননা সাধারণ জনগন বর্তমানে বিশ্বাস যোগ্যতা হারিয়ে ফেলেছে। তারা সকলের নিকট বিশ্বস্ততা চায় এবং বিশ্বস্ততাকে পছন্দ করে। আপনি যদি নিজ ব্যবসায় বিশ্বস্ততার স্বাক্ষর রাখতে পারেন, তাহলে সুখ-সমৃদ্ধি, সফলতা ও সুখ্যাতি আপনার পদচুম্বন করবে।
📄 গগনচুম্বি অট্টালিকা নিয়ে গর্ব করা হবে
রাসূলুল্লাহ এর দরবারে এক ব্যক্তি এসে আরয করে, কিয়ামত কখন আসবে? তিনি ইরশাদ করলেন, আমি এবং আপনি এ সম্পর্কে এক সমান। আগন্তুক বলল, এর কিছু নিদেশনাবলী বলে দিন। তিনি ইরশাদ করেন, এর একটি নিদর্শন হল, স্ত্রীলোক এরূপ সন্তান প্রসব করবে, যে সন্তান তার মায়ের উপর কর্তৃত্ব চালাবে। আর তোমরা দেখতে পাবে খালি পা, উলঙ্গ দেহ ও নিচু স্তরের ও পশুপালের রাখাল গগনচুম্বি অট্টালিকার মালিক হয়ে গর্ব করছে। হযরত আবু হুরাইরা রাযি. থেকে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ ইরশাদ করেছেন, যখন তোমরা দেখবে খালি পা, উলঙ্গ দেহ বধির ও বাকশক্তিহীন ব্যক্তি সমাজের শাসক হবে, তখন তোমরা মনে করবে কিয়ামত অত্যাসন্ন। (বুখারী, মুসলিম)