📄 যাদুময় কথা বলে অর্থোপার্জন
রাসূলুল্লাহ ইরশাদ করেছেন, ঐ পর্যন্ত কিয়ামত সংঘঠিত হবে না, যাবত না এ শ্রেণীর মানুষ বিদ্যমান হবে, যারা নিজেদের মুখ দ্বারা উদর পূর্ণ করে।
📄 ব্যবসার কৌশল ও কৌশলী ব্যবসায়ী
অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণে এ কথার সত্যতা প্রমাণ হয়েছে যে, প্রায় ব্যবসায়ীই নিজ পণ্য ও আত্ম প্রশংসায় ব্যতি ব্যস্ত। সব দিক সম্পর্কে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা, ক্রেতার মনোযোগ তার প্রতি আকৃষ্ট করা ইত্যাদির খেয়াল রাখা হলে এরূপ ব্যবসায়ী কখনো ব্যর্থ হতে পারে না। আমাদের দেশের প্রচলিত নিয়ম হল, ক্রেতাকে পণ্য দেখানো সময় তার সাথে সামনে কথা কম বলে তিক্ত একটা দাম ছুড়ে তাকে বোকা বানিয়ে দেওয়া হয়। কখনো এরূপ করা যাবে না। আপনার কর্তব্য হল, ক্রেতাকে আকৃষ্ট করা। তাকে মনযোগী করা। তার সামনে নিজ পণ্যের গুণাবলী তুলে ধরা।
আপনার কি ইতিহাস স্মরণে আছে অথবা এই ধরনের দৃষ্টান্ত যে, ইতোপূর্বে কোন ক্রেতা আপনার কথা অমান্য করেছে। আর তাতে আপনার ক্ষতি হয়েছে। থাকলে, এ ধরনের উদাহরণ ও ঘটনাবলী ক্রেতা ও গ্রাহকদের অবশ্যই জানিয়ে দিন। তাতে আপনার পণ্যের মূল্যায়ণ বেড়ে যাবে। আপনার কথারও মূল্যায়ণ হবে। দৃষ্টান্ত দ্বারা কথা দ্রুত বুঝা যায়। তাছাড়া আপনি কি ক্রেতার উৎসাহ-আগ্রহ ও পছন্দের প্রতি লক্ষ্য রাখেন? তাহলে অবশ্যই ক্রেতার পছন্দ-অপছন্দকে প্রাধান্য দেওয়ার চেষ্টা করুন। যাতে আপনার সুন্দর কথায় ক্রেতাকে আপনার প্রতি আকৃষ্ট করতে পারেন।
সুধী পাঠক সমাজ, উল্লেখিত অভিমত দ্বারা স্পষ্টভাবে প্রমাণ হয়েছে যে, নিত্যনতুন রীতি নীতি ও অভিন্ন মাধুর্য্যপূর্ণ পন্থাও ভাষায় মানুষকে আকৃষ্ট করাই ব্যবসার মূলনীতি। এটা যেহেতু ভুল হয়েছে, তখন আপনাকে অবশ্যই সত্য বিষয়টি প্রকাশ করতে হবে। ক্রেতাকে শুধু বিক্রিত পণ্যের গুণাবলী সংক্ষেপে জানিয়ে দিন।
📄 সুদের ব্যাপকতা ও হালাল-হারামের তোয়াক্কা করা হবে না
• রাসূলুল্লাহ ইরশাদ করেছেন, মানুষের মধ্যে এমন এক সময় আসবে, যখন মানুষ ভাববে না যে, সে হালাল উপার্জন করছে, না হারাম। (বুখারী)
📄 কুদরতুল্লাহ শিহাবের বিস্ময়কর অভিমত
কুদরতুল্লাহ শিহাব এক বিস্ময়কর কথা বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমি একবার হল্যান্ড সফরে যাই। সেখানে গিয়ে আমার এক বিস্ময়কর অভিজ্ঞতা লাভ হয়েছে। তা হল আমি অনূভব করলাম, এখানে হালাল-হারামের জ্ঞান তো দূরের কথা বরং সে অনুভূতি পর্যন্ত মানুষের অন্তর থেকে মুছে গেছে। শূকর, কুকুর, সাপ, ব্যাংঙ প্রভৃতি নাপাক ও হারাম বস্তু অহরহ ব্যবহার করা হচ্ছে।
সমাজে সূদের প্রভাব এতোধিক যে, সূদ ব্যতীত এখানে কোন কাজ কারবার চালানো অসম্ভব। জন্ম থেকে শুরু করে কবর পর্যন্ত অর্থাৎ দাফন-কাফনের কাজ সুদ ব্যতিরেকে করা অসম্ভব। এ বিষয় আমার এক অর্থনীতিবিদের সাথে আলাপ হয়েছে। সে আমাকে এক রহস্য বলেছে, অচিরেই এমন এক সময় আসবে, যখন হালাল-হারামের পার্থক্য অনুভূত না হওয়ার কারণে আমাদের জীবন ব্যবস্থা ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাবে। ঐ ব্যক্তির কথায় মনে হয়েছে, ইসলামের জীবন ব্যবস্থার ভিত্তি এতো সুদৃঢ় ও মজবুত যে, তা কখনো বিনষ্ট বা ধ্বংস হবে না।