📄 ইসলাম নাম মাত্র বাকী থাকবে
• হযরত আলী রাযি. বর্ণনা করেছেন। রাসূলুল্লাহ ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, অচিরেই তোমাদের মধ্যে এমন এক সময় আসবে, যখন ইসলাম শুধু নামমাত্র বাকী থাকবে। আর কুরআন শুধু প্রচলিত রীতি অনুযায়ী বহাল থাকবে। তাদের মসজিদ সমূহ (সাজ-সজ্জা ও অলংকরণ, টাইলস ও বৈদ্যুতিক বাতি ও পাখা দ্বারা) সুসজ্জিত করা হবে। কিন্তু তা হিদায়াত লাভের দিক থেকে শূন্য হবে। তাদের ওলামাগণ আসমানের নিচে বসবাসকারীদের মধ্যে সর্বনিকৃষ্ট হবে। ঐ ওলামাদের নিকট থেকে ফেতনা বিপর্যয় দেখা দেবে। আর তারাই এর পরিণতি ভোগ করবে। (বায়হাকী)
📄 সি.পি. ব্রাউন (আব্দুল গাফফারের অভিমত)
তিনি ছিলেন প্রসিদ্ধ নওমুসলিম। বর্তমান নাম আব্দুল গাফফার। ইসলামের রীতি নীতি সম্পর্কে তার যুগান্তকারী অভিমত নিম্নে প্রদত্ত হল।
(সি.পি. ব্রাউন) আব্দুল গাফফারের অভিমত
আমি মনে করি, ইসলাম বিশ্বজনীন ধর্ম। সত্য সঠিক মনে করেই আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি। কিন্তু ইসলাম গ্রহণের পর এখন দেখি যে, মুসলমানদের জীবন যাপন সম্পূর্ণ এর বিপরীত। যদি আমি মুসলমানদের জীবন যাপন দেখে ইসলাম গ্রহণ করতাম, তাহলে আমি কখনো ইসলামের কাছেই আসতাম না। বরং কুফর অবস্থায় আমার মরণ হত। যদি আমি মুসলমানদের বড়দের অর্থাৎ ওলামায়ে কিরামের জীবন যাপনকে দেখি, তাহলে মনে হয়, তাদের দ্বীন শুধু তাদের মুখে আছে, অন্তর ও দেহের উপর দ্বীনের কোন চিহ্নই নেই। (কিন্তু এরূপ কিছু কিছু উলামায়ে কিরাম রয়েছেন, যাদের বরকতে দ্বীন বিদ্যমান রয়েছে।) আমি নামায পড়ায় তখন স্বাদ উপভোগ করি, যখন সাদাসিধা ও সুন্নাতে রাসূলুল্লাহ এর অতিউপযোগী মসজিদে নামায আদায় করি। উম্মাতের মতবিরোধ, বিশেষ করে একদল ওলামায়ে কিরামের অপর দলকে খারাপ বলা আমার নিকট ভীষণ কষ্টকর।
📄 পুঁজিপতিদের নিকট গমন করা
ইবনে মাজা শরীফের এক বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ ইরশাদ করেছেন, আমার উম্মাতের মধ্যে এমন এক সময় আসবে, যখন তারা দ্বীন ও কুরআন শিক্ষা করবে তারপর পুঁজিপতিদের নিকট গমন করে বলবে আমরা পুঁজিপতিদের নিকট গমন করে তাদের নিকট থেকে দুনিয়া লাভ করি এবং নিজের দ্বীনকে বাঁচিয়ে চলে আসি। অথচ তা কখনো সম্ভব হতে পারে না যে, কাঁটাযুক্ত গাছের নিকট যাবে আর কাঁটার আঘাত পাবে না। মূলতঃ কাঁটা যুক্ত বৃক্ষ থেকে কাঁটার আঘাত ছাড়া কিছুই পাবে না। অনুরূপভাবে পুঁজিপতিদের নিকট থেকে গুনাহ ব্যতীত কিছুই লাভ করতে পারবে না। -মেশকাত
📄 পুঁজিপতিদের সালাম
উপরিউক্ত হাদীস সম্পর্কে আমার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা হয়েছে। এক কারখানার মালিকের সাথে আমার সাক্ষাতের কথা হয়। আমরা তার বিশেষকক্ষে বসে আলাপ করছিলাম। এ অবস্থায় জনৈক মৌলভী সাহেব আসেন। তার দিকে ঐ পুঁজি প্রতি অতি তাচ্ছিল্যের সাথে তাকায় এবং কথা বলে সাথে অপমানজনক ভঙ্গীতে তাকে কিছু উপদেশ দিয়ে বিদায় করে দেয়। পরে আমি খোঁজ নিয়ে জানতে পারি যে, মৌলভী সাহেব কারাখানার মসজিদের ইমাম। তিনি যখন মিলের ইমাম নিযুক্ত হন, তখন মিলের শ্রমিক সংগঠন সমূহ মিলে ধর্মঘট চালাচ্ছিল। মালিক ভীষণ পেরেশান ছিল। তিনি মৌলভী সাহেবের নিকট উদ্ভুত সংকট সমাধানের উপায় জানতে চান। মৌলভী সাহেব উক্ত সংকট নিরসনের সমাধান হিসেবে বলে, শ্রমিক নেতাদের কিছু মিথ্যা আশ্বাস ও কাল্পনিক হাদীস শুনিয়ে দিতে হবে। এতে সাময়িক ভাবে সংকট নিরসন হয়ে যায়। তাতে তিনি উত্তম খাসা নগদ পুরস্কার ও সুযোগ সুবিধা লাভ করেন। কিন্তু সে দিন থেকে মৌলভী সাহেবের আত্মসম্মান বিলুপ্ত হয়ে যায়।