📄 রিচার্ড নীটের অভিজ্ঞতা
খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ রিচার্ড নীট অতি আশ্চর্যজনক কথা লিখেছেন। তাতে প্রকারন্তরে ইসলাম ও মুসলমানদের উন্নতির বিষয়কেই সমর্থন করা হয়েছে। বাণিজ্যিক আদর্শ নীতিসমূহের মধ্যে একটি নীতি হল, ব্যবসায়ীকে পণ্য বিক্রয়ের বা ক্রয়ের সময় অতিরিক্ত প্রশংসা করবে না। কেননা আমার অভিজ্ঞতায় প্রমাণ হয়েছে যে, মনোস্তত্ত্ব বিশেষজ্ঞগণ কোনো বস্তুর অতিরিক্ত প্রশংসা করা বা নির্ধারিত মেয়াদ লংঘন কে অত্যাধিক ঘৃণা করেন। কারণ, এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া ক্রেতার উপর এতো বেশী প্রভাব বিস্তার করে যে, সে সর্বদা আপনার ক্রেতা বন্ধু হওয়ার স্থলে দুশমন হয়ে যায়। আর তা ক্রমেই লোকদের মাঝে প্রতিদিন বৃদ্ধি পেতে থাকে।
📄 ক্রেতার নিকট পণ্যের দোষ গোপন করা
একদিন এক গমের মালিকের নিকট দিয়ে রাসূলুল্লাহ তাশরীফ নিয়ে যাচ্ছেন। রাসূলুল্লাহ তার গমের স্তূপে পবিত্র অনুসন্ধানী হাত ঢুকিয়ে দেখেন যে, গমগুলো ভিজা। তিনি ইরশাদ করেন, এ কি? সে আরয করল, ভেজা গম। তিনি ইরশাদ করলেন, এটা বের করে ফেললে না কেন? অনন্তর আরও যে প্রতারণা করবে, সে আমার দলভুক্ত নয়। রাসূলুল্লাহ থেকে শুনেছি, কেউ পণ্য বিক্রয় করবে আর কার দোষ গোপন করবে। আবার কেউ জানার পরও প্রচার করবে না বা মানুষকে জানাবে না -এ কাজ কারও জন্য বৈধ নয়। (কিমিয়ায়ে সা'দত)
ইসলামের সবচেয়ে অন্যতম আদর্শ হল, মুসলমান না কারো দ্বারা প্রতারিত হয়, আর না কারো সাথে প্রতারণা করে।
• হযরত ইমাম আযম আবু হানীফা রহ. এর একটি প্রসিদ্ধ ঘটনা। তিনি কাপড়ের ব্যবসা করতেন। একবার এক থান কাপড়ে ত্রুটি ছিল। ক্রেতাকে ঐ কাপড়ের দোষ জানাতে পারেন নি। তা বিক্রয় করে ফেলা হয়। ইমাম সাহেব যখন ঐ ঘটনা অবগত হন। তখন ক্রেতাকে খুঁজে বের করেন এবং ক্রেতার নিকট কাপড়ের দোষ বর্ণনা করেন।
মুসলমন ব্যবসায়ীদের মাঝে এ মহৎ বৈশিষ্ট্য ছিল। যার কারণে তারা পবিত্র হিজাজ থেকে পৃথিবীর যে প্রান্তে পৌঁছেছে, সেখানেই ইসলাম অতি দ্রুত বিস্তার লাভ করেছে। বরং দুনিয়ার শেষ প্রান্তর পর্যন্ত যেখানেই আজ মুসলমান বসবাস করছে বা ইসলামের তালিকাভূক্ত হয়েছে বা যে সব দেশে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে ইসলামকে বক্ষে জড়িয়ে আছে, এর মূলে হল ঐ মুসলমান বনিকগণ। তন্মধ্যে ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইন প্রভৃতি।
📄 আরকোডিষ্ট এণ্ড ইকোনোমি
রিচার্ড নিটওরাডিট খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ ছিলেন। তার জন্ম ১৯০১ খ্রিস্টাব্দে হয় আর মৃত্যু হয় ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে। তিনি স্বরচিত "আরকোডিষ্ট এণ্ড ইকোনোমিকস" নামক বিখ্যাত গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, জীবন উপকরণের বাহু ও এর কদম ততক্ষণ মজবুত থাকে, যতক্ষণ এর মধ্যে সততা বিদ্যমান থাকে। বিক্রেতা ও ক্রেতার মধ্যে সততা ও সত্যবাদিতা হল সেতু বন্ধন। এতে তাদের পারস্পরিক আত্মবিশ্বাস বহাল থাকে। সফল ব্যবসায়ীদের নীতি ছিল, যখনই তারা দ্রুত উন্নতির সোপান অতিক্রম করেছে বা যেসব লোক তাদের উন্নতির এই সোপান অতিক্রম করায় সাহায্য সহায়তা করেছে, তাদের মাঝে একটি বিষয়ে খুব মিল ছিল অর্থাৎ, তাদের প্রত্যেকের লেনদেনে সততা, বিশ্বস্ততা ছিল। তারা পণ্যের দোষ-ত্রুটি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দিত। আমি আমার শিক্ষকতার সুদীর্ঘ ৩৬ বছরে শ্রেণীকক্ষে এ বিষয়ে লেকচার দিয়েছি। আমার সামনে একটি নয়, হাজারো উদাহরণ বিদ্যমান রয়েছে। যখনই আমি কোন ব্যবসায়ীকে উন্নতির উচ্চ শিখরে করতে দেখেছি, তার এ উন্নতির পেছনে সেসব বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান পেয়েছি।
📄 পরিমাপের হুকুম
কুরআন মজীদে বর্ণিত আছে, দূর্ভোগ সে লোকদের জন্য, যারা ওজনে কম দেয়। আর যখন নিজে নেয় তখন বেশী নেয়।