📄 গ্যালোয়ডিলটের অভিজ্ঞতা
ইউরোপের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে যতদূর জানা যায়, বড়ছোট সকলেই এর সাথে সমানভাবে সম্পর্কিত। স্বয়ং আমার স্ত্রী, যদি তার উপর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়, তাহলে সে আমাকে মারার জন্য তেড়ে আসে। অধিকাংশ সময়ে খাবার খেয়ে তার উচ্ছিষ্টাংশ ছুঁড়ে ফেলে। এর খোসায় পচন ধরে দুর্গন্ধ ছড়ায়। নর্দমায় সঠিকভাবে পানি প্রবাহিত হতে পারে না। ফলে ময়লা নর্দমার উপর উপছে উঠে। এমনকি তা আটকে নর্দমার মুখ বন্ধ হয় যায়। ফলে অতিরিক্ত ময়লা জমা হয়। আমাদের কাপড় কাঁচা, পানাহারের পরিবেশ সম্পর্কে তো অবগত হয়েছেন। কিন্তু পরিষ্কার বা পরিচ্ছন্নতা নামের কোন বস্তুই ছিলনা। পূর্ববর্তী সময় আমি সম্রাটকে আমার লেখায় কতিপয় বিষয় মনোযোগী করে তুলি। তাতে এ বিষয় বিশেষ অনুযোগ করি যে, পুরো সমাজ ব্যবস্থায় এমন এক জাগরণ সৃষ্টি করতে হবে, যার ফলে পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশের পবিত্রতার বিষয়টি মানুষের অন্তরে বদ্ধমূল হয়ে যাবে। বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করি যে, যদি আমরা পরিষ্কার-পরিচ্ছতার প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দান না করি, তাহলে আমরা কস্মিনকালেও রোগ-ব্যাধি থেকে মুক্তি লাভ করতে পারব না বরং তা আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। তখন আমাদেরকে আরো অনেক হাসপাতাল তৈরি করতে হবে। যা আমাদের জীবনের অর্থনৈতিক গতিকে রূদ্ধ করে দেবে। আমি সরকারকে আরও লিখি যে, সেকেণ্ড পাদ্রী ঘোষণা করেছেন, ইসলাম এক পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন ধর্ম। এখনো আমার কানে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে তার কথা গুলো। তিনি আরও বলেছিলেন, গীর্জা সমূহের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা সম্পূর্ণরূপে বেখেয়াল হয়ে আছে। অথচ এর বিপরীতে মুসলমান তাদের মসজিদ সমূহে নিজেরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না হওয়া ব্যতিরেকে কম্মিন কালেও প্রবেশ করে না।
উল্লেখিত প্রবন্ধে প্রমাণ হয়েছে যে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা মূলতঃ ইসলামী রীতিনীতি ও আদর্শ থেকে ধার নেওয়া হয়েছে। যখন কোনো ব্যক্তি চায় সে মুসলমান হোক বা কাফির হোক ইসলামী রীতি-নীতির অনুসরণ করণে সর্বদা সহজ সরল ও ইজ্জত ও সম্মানের জীবন যাপন করতে পারবে।
📄 রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সৈন্যবাহিনী ও সরকারী জরুরী চিকিৎসা
মুহাদ্দিসগণের মতে রাসূলুল্লাহ এর ওফাত লাভের সময় নিয়মত্রান্ত্রিক ইসলামী সৈন্য সংখ্যা ছিল প্রায় ত্রিশ হাজার। আর ঐ ত্রিশ হাজার সৈন্যের চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা ও আঘাতের ব্যাণ্ডেজ বাঁধার জন্য যেসব চিকিৎসক ও সেবক নির্ধারণ করা হয়েছিল, তারাও সংখ্যায় যথেষ্ট ছিল।
নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, আমরা ঐ সব চিকিৎসক ও সেবকদের সংখ্যা গণনা করিনি। তবে তাদেরকে জখমে ব্যান্ডেজ বাঁধতে দেখেছি। এমন কি জনৈকা ইয়াহুদী মহিলার বিষ মিশানো খাদ্য খাওয়ার পরও রাসূলুল্লাহ রীতিমত অসুস্থ হয়ে যান।
📄 ইউরোপের উপর ইসলামের অবদান
জাবির বিন হাইয়্যান খ্যাতনামা রসায়নবিদ ও বিজ্ঞানী ছিলেন। তিনি হযরত মু'আবিয়া রাযি. রাজত্বের পর স্বীয় প্রকল্প ও গবেষণায় মনোনিবেশ করেন। এরপর থেকে মুসলিম বিজ্ঞানীগণ সার্জারীতে খ্যাতি অর্জন করে। আর বর্তমানে ইউরোপে সার্জারীর যে বিধান প্রবর্তীত হয়েছে, যে সব উপকরণের সাহায্যে ইউরোপে আসাধারণ ও বিস্ময়কর অপারেশন করা হচ্ছে, সবই মুসলমানদের গবেষণার ফসল। ঠিক তদ্রুপ বর্তমান যুগে যুদ্ধক্ষেত্রে পৃথক এক ইমার্জেন্সি মেডিকেল স্কোয়ার্ড গঠন করা হয়, যারা আহতদের সেবা সশ্রুষায় সার্বক্ষণিক সতর্ক দৃষ্টি রাখে বরং সেনাবাহিনীর নীতি অনুযায়ী চিকিৎসক সর্বদা প্রস্তুত থাকে। তারা যুদ্ধের সময় ছাড়াও অন্যান্য সময় সৈন্যবাহিনীর চিকিৎসার প্রয়োজন পূর্ণ করে।
📄 শিয়ালকোটের এক ব্যবসায়ীর ঘটনা
আমার এক বন্ধুর শিয়ালকোটে সার্জারী যন্ত্রপাতি তৈরীর এক কারখানা ছিল। শিয়ালকোট সার্জারী যন্ত্রপাতি তৈরিতে পৃথিবীর হাতে গোনা প্রসিদ্ধ শহর সমূহের একটি। সার্জারীর যন্ত্রপাতি, দেহের ভাংগা অংশ জোড়া লাগানোর যন্ত্রপাতি ও চামড়া শিল্পের পণ্যের জন্য শিয়ালকোট পৃথিবী বিখ্যাত। ফলে গোটা পৃথিবীর লোকের আগমন ঘটে শিয়ালকোটে। বিলিয়ন বিলিয়ন টাকার ব্যবসায়িক লেনদেন শিয়ালকোটের মাধ্যমে হয়। আমার বন্ধু আমাকে বলল, সেখানে ব্যবসার উদ্দেশ্যে ইউরোপের খ্যাতনামা অনেক চিকিৎসকের আগমন ঘটে। আমি অনেকবার তাদের মুখে শুনেছি, সার্জারীর সূচনা থেকে বর্তমানে প্রচলিত যন্ত্রপাতিগুলোর ধরণ মূলতঃ আমরা ইসলাম ও মুসলমানদের নিকট থেকে গ্রহণ করেছি। একবার আমি এক ইউরোপিয়ানের ইংরেজী ভাষায় লিখিত এক বই দেখেছি। ঐ বইয়ের এক দিকে মুসলমান বিজ্ঞানীদের নাম ও অন্য দিকে তারা সার্জারীতে যে খ্যাতি অর্জন করেছেন, তা লিখিত আছে। তাতে সার্জারীর যন্ত্রপাতি তৈরীর চিত্রও অংকিত আছে।
অনুরূপ বর্তমানে প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতি ইসলামী মূলনীতির উপর নির্ভরশীল। রাসূলুল্লাহ এর সোনালী যুগ থেকে এর সূচনা হয়েছে। তারপর কালের আবর্তণে আকার-আকৃতি পরিবর্তন হয়ে যুগের চাহিদা অনুযায়ী এর মাঝে নতুনত্ব এসেছে। তাতে প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হয়েছে।