📄 মাহফিল অনুষ্ঠানের পর
আমার এক পরিচিত বন্ধু কথা প্রসংঙ্গে আমাকে এক ঘটনা শোনায় যে, একবার আমার জনৈক বন্ধুর মসজিদে কুরআনখানি হয়। আমি মজলিশে যোগদান করার উদ্দেশ্যে গমন করি। তখন সতর্কতা বশতঃ আমরা জুতা মসজিদের ভিতরে রেখে দিয়ে বসে পড়ি। অবশেষে দু'আ এবং সামান্য খাবারের আয়োজন করা হয়। আমি প্রথম লোকমা নিয়ে হাত মুখের কাছে নিতেই তীব্র এক দুর্গন্ধ অনুভব করি। তখন খাবারের প্রতি লক্ষ্য করে দেখি যে, লোকজন তা অতি মনোযোগের সাথে খাচ্ছে। এতে সহসাই আমার ব্যাকুলতা সীমা ছেড়ে যায়। কারণ, আমার ডান হাতে ময়লা লেগে আছে। ফলে এ দুর্গন্ধ আসছে। আমি তাৎক্ষণাৎ জুতার প্রতি দৃষ্টিপাত করি। তা উঠাতে দুর্গন্ধ পাই। তখন আমার স্বভাবে বিরক্তি ও বমি বমি দেখা দেয়। কালবিলম্ব না করে এসে মসজিদের অযুখানায় গিয়ে হাত ধুয়ে আসি। তারপরও আমার বমি হয়। তাতে নাড়ীভূড়ীর সব খাবার বের হয়ে যায়। দুইদিন যাবৎ আমার বমি বমি ভাব লেগে থাকে। ঐ দিন থেকে আমি ডান হাতে জুতা ধরা সম্পূর্ণরূপে ত্যাগ করেছি। আর খাবারের পূর্বে হাত ধোয়া অত্যাবশ্যক করে নিয়েছি। আমি অকপটে স্বীকার করি যে, রাসূল এর প্রতিটি সুন্নাত দুনিয়া ও আখিরাতে ইজ্জত সম্মান ও পবিত্রতা এবং ব্যাধি নিরাময়কারী।
📄 বাড়ীঘর পরিষ্কার করা ও রাসূলুল্লাহ ﷺ এর আদর্শ
ইবনে সাদ এবং মুহাদ্দিস তিরমিযী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর শমায়েলে নিম্নোক্ত গুণটিকে বুনিয়াদী বৈশিষ্ট স্থির করেছেন অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হুজরা সমূহের বিছানা এতো বেশী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হত যে, তাতে কোথাও বিন্দুমাত্র ধূলিকণা পরিলক্ষিত হত না। তাছাড়া যে বারান্দাটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হুজরা ও মসজিদে নববী এর মাঝে ছিল, তাও এত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ছিল যে, ওখানে হযরত সাহাবায়ে কিরাম রাযি. কোনো বিছানা না বিছিয়ে শয়ন করতে নৈসর্গিক স্বাদ অনুভব করতেন।
বর্তমানে সারা বিশ্ব বিশেষ করে ইউরোপ ও আমেরিকার সভ্যতা চতুর্দিকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিপ্লব ঘোষণা করে চলেছে। ইউরোপের বাহ্যিক অবস্থা বাস্তবিকই অত্যন্ত পরিষ্কারও পরিচ্ছন্ন। তা অনুসরণীয় ও অনুকরণীয়ও বটে। তাদের চালচলন, তাদের হাট বাজার, অলিগলি, ঘর-দুয়ার আঙ্গিনা, এমনকি তাদের নালা-নর্দমাগুলোও অতি পরিষ্কার দেখা যায়। কিন্তু তাদের এ বৈশিষ্ট্য ও সুকুমার্য তাদের নিজের নয়। এর সবই তারা ইসলামের শ্বাশ্বত শিক্ষা থেকে গ্রহণ করেছে। এ সংক্রান্ত কতিপয় প্রত্যক্ষ ঘটনার প্রতি দৃষ্টি নিবন্ধ করছি। যা এক ইউরোপিয়ান পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ১৭০৪ খ্রিস্টাব্দের গবেষণার পর নিম্নোক্ত ভাষায় লিপিবদ্ধ করেছেন।
📄 গ্যালোয়ডিলটের অভিজ্ঞতা
ইউরোপের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে যতদূর জানা যায়, বড়ছোট সকলেই এর সাথে সমানভাবে সম্পর্কিত। স্বয়ং আমার স্ত্রী, যদি তার উপর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়, তাহলে সে আমাকে মারার জন্য তেড়ে আসে। অধিকাংশ সময়ে খাবার খেয়ে তার উচ্ছিষ্টাংশ ছুঁড়ে ফেলে। এর খোসায় পচন ধরে দুর্গন্ধ ছড়ায়। নর্দমায় সঠিকভাবে পানি প্রবাহিত হতে পারে না। ফলে ময়লা নর্দমার উপর উপছে উঠে। এমনকি তা আটকে নর্দমার মুখ বন্ধ হয় যায়। ফলে অতিরিক্ত ময়লা জমা হয়। আমাদের কাপড় কাঁচা, পানাহারের পরিবেশ সম্পর্কে তো অবগত হয়েছেন। কিন্তু পরিষ্কার বা পরিচ্ছন্নতা নামের কোন বস্তুই ছিলনা। পূর্ববর্তী সময় আমি সম্রাটকে আমার লেখায় কতিপয় বিষয় মনোযোগী করে তুলি। তাতে এ বিষয় বিশেষ অনুযোগ করি যে, পুরো সমাজ ব্যবস্থায় এমন এক জাগরণ সৃষ্টি করতে হবে, যার ফলে পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশের পবিত্রতার বিষয়টি মানুষের অন্তরে বদ্ধমূল হয়ে যাবে। বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করি যে, যদি আমরা পরিষ্কার-পরিচ্ছতার প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দান না করি, তাহলে আমরা কস্মিনকালেও রোগ-ব্যাধি থেকে মুক্তি লাভ করতে পারব না বরং তা আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। তখন আমাদেরকে আরো অনেক হাসপাতাল তৈরি করতে হবে। যা আমাদের জীবনের অর্থনৈতিক গতিকে রূদ্ধ করে দেবে। আমি সরকারকে আরও লিখি যে, সেকেণ্ড পাদ্রী ঘোষণা করেছেন, ইসলাম এক পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন ধর্ম। এখনো আমার কানে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে তার কথা গুলো। তিনি আরও বলেছিলেন, গীর্জা সমূহের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা সম্পূর্ণরূপে বেখেয়াল হয়ে আছে। অথচ এর বিপরীতে মুসলমান তাদের মসজিদ সমূহে নিজেরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না হওয়া ব্যতিরেকে কম্মিন কালেও প্রবেশ করে না।
উল্লেখিত প্রবন্ধে প্রমাণ হয়েছে যে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা মূলতঃ ইসলামী রীতিনীতি ও আদর্শ থেকে ধার নেওয়া হয়েছে। যখন কোনো ব্যক্তি চায় সে মুসলমান হোক বা কাফির হোক ইসলামী রীতি-নীতির অনুসরণ করণে সর্বদা সহজ সরল ও ইজ্জত ও সম্মানের জীবন যাপন করতে পারবে।
📄 রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সৈন্যবাহিনী ও সরকারী জরুরী চিকিৎসা
মুহাদ্দিসগণের মতে রাসূলুল্লাহ এর ওফাত লাভের সময় নিয়মত্রান্ত্রিক ইসলামী সৈন্য সংখ্যা ছিল প্রায় ত্রিশ হাজার। আর ঐ ত্রিশ হাজার সৈন্যের চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা ও আঘাতের ব্যাণ্ডেজ বাঁধার জন্য যেসব চিকিৎসক ও সেবক নির্ধারণ করা হয়েছিল, তারাও সংখ্যায় যথেষ্ট ছিল।
নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, আমরা ঐ সব চিকিৎসক ও সেবকদের সংখ্যা গণনা করিনি। তবে তাদেরকে জখমে ব্যান্ডেজ বাঁধতে দেখেছি। এমন কি জনৈকা ইয়াহুদী মহিলার বিষ মিশানো খাদ্য খাওয়ার পরও রাসূলুল্লাহ রীতিমত অসুস্থ হয়ে যান।