📄 দেহ বিশেষজ্ঞ ওয়াটুরিসোলের অভিজ্ঞতা
তিনি বলেন, আমার চিকিৎসা জীবনে বহু হাসি-খুশি ও মনমরা ব্যাধিগ্রস্থদের সাথে আমার অনবরত সাক্ষাত হয়েছে। তারা নিজেদের অবস্থা বর্ণনা করার পর তাদের সেসব দুশ্চিন্তা অনেক কমে যেত। এরূপ এক ব্যাধিগ্রস্থ ব্যক্তির বিবরণ পেশ করছি। তাকে অনেক চিকিৎসা করানোর পর চিকিৎসার অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। তার এই দুশ্চিন্তার সূচনা হল, সে কোন এক স্থানে মেহমান হয়ে যায়। মেজবান তার অন্যান্য মেহমানদেরকে গৃহের দরজা থেকে স্বাগতম জানিয়ে নিয়ে যায়, কিন্তু এ ব্যক্তির সাথে দায়সারা গোছের সাক্ষাত করে। আর যখন মাহফিল শেষ হয়ে যায়, তখন এ ব্যক্তি নিজেকে বিষণ্ণ ও অপমানিত বোধ করতে শুরু করে। কথায় কথায় বিরক্তি ও অসন্তুষ্টি বোধ করতে শুরু করে। অথচ এর পূর্বে তার মন-মেজাযে গাম্ভির্যতা ও স্থিরতা ছিল। কিন্তু বর্তমানে তার অবস্থা এমন যে, তার এবং তার পরিবারের লোকদের সুস্থ্য জীবন-যাপন হারাম হয়ে গেছে।
প্রথমে তারা এমন ধরনের চিকিৎসা করায়, যাতে নিয়মতান্ত্রিক ঔষধ ব্যাবহার করানো হয়। পরবর্তীতে তারা অভিজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়। কিন্তু তার ব্যাধিপূর্বে যেমন ছিল, তেমনই থেকে যায়। এমনকি কয়েক জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পরিবর্তন করার পর কোন ফল হয় নি। কিন্তু আমি তার চিকিৎসার পূর্বে তার অতীত ইতিহাস শুনতে শরু করি। প্রতিটি সমস্যার পর্যবেক্ষণের পর আমি এক বিশেষ কারণ চিহ্নিত করি। সেটি হল, তার অনুভূতি শক্তি পরিমাণের চেয়ে অনেক বেশী ছিল। আর এ কারণে এই অবস্থার সূচনা হয়েছে। বর্তমানে এটাকে সামনে রেখে তার ভবিষ্যত সম্পর্কে চিন্তা করতে শুরু করি। ইসলাম কি রূপ মহা মাযহাব, যার প্রতিটি আদেশ ও কাজে অসংখ্য রহস্য ও উপকারীতা রয়েছে। শুধু এরূপ একটি কাজ, যা করার কারণে তার মনুষ্যত্ব আরাম-আয়েশ, শান্তি, স্বস্তি ও দূর হয়ে গেছে।
📄 এক জেনারেলের অভিজ্ঞতা
পাকিস্তানের এক সিনিয়র জেনারেল আমাকে বলেছেন, চীনের সাথে পাকিস্তানের ব্যাংক আমদানীর এক চুক্তি হয়েছিল, ঐ চুক্তির বিষয় আলোচনার উদ্দেশ্যে আমাকে এক সৈনিক প্রতিনিধি দলের প্রধান মনোনীত করা হয়। আমি প্রতিনিধিদলের সাথে চীনে পৌঁছালে আমাদের সাথে এক জেনারেলের সাক্ষাতের কথা হয়। মূলত: এ সাক্ষাত হবে আমাদের চীফ জেনারেলের। আমি ইসলামী রীতি অনুযায়ী ঐ জেনারেলকে দরজার সামনে স্বাগতম জানিয়ে অতি মহব্বতের সাথে নিয়ে আসি। আমার এ আচরণে সে এতো বেশী মুগ্ধ হয় যে, আমাদের পুরো প্রতিনিধি দলকে চীফের নিকট নিয়ে যায়। অধিকন্তু আমাদেরকে আলোচনায় এমনভাবে সাহায্য করে, যাতে আমরা ভীষণ আশ্চর্য্যান্বিত হয়ে যাই। তার সহযোগীতায় আমাদের কষ্ট অনেক কম হয়। আমার মনে হয়, রাসূলুল্লাহ এর এক আমলের বরকতে আমরা এভাবে উপকৃত হয়েছি।
📄 সুরখাবের গোশত
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আযাদকৃত ক্রীতদাস হযরত সাফিনা রাযি. বর্ণনা করেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে সুরখাবের গোশত খেয়েছি। (তিরমিযি) সুরখাব ঐ সব পাখীদের বলা হয়, যারা অনেক উপরে উড়ে। খুবই সুন্দর কোমল দেহ ও মোহনীয় সূরের অধিকারী। এটা অতি দুর্লভ পাখী। বর্তমানে এটা বিলুপ্ত প্রায় পাখী। এখন তা নিছক এক রূপকথা। এ সম্পর্কে জুলকারনাইনের এক ঘটনা উল্লেখ করা হচ্ছে।
📄 জুলকারনাইনের ঘটনা
ইতিহাসে দেখা যায় যে, সুরখাব কোহে কাফের জংগলের খোলা মাঠে বাসা তৈরী করত। রক্তখেকো প্রাণীদের হাত থেকে নিজের বাচ্চাদের বাঁচিয়ে রাখত। বর্ণনাকারী বলেন, এ পাখী বৃদ্ধ হয়ে গেলে জংগল থেকে বিশেষ এক প্রকার গাছ সংগ্রহ করে নিজেকে ঐ গাছ দিয়ে আবৃত করে নেয়। এরপর অতি মোহনীয় রাগ-রাগিনীর সূরে গান গাইতে থাকে। ফলে বনের সব পাখি একত্রিত হয়ে যায়। এমন কি সেখানে বনের হিংস্র প্রাণীদের ভীড় জমে যায়। তার রাগের সূর এতো বেশী বেড়ে যায় যে, তার চার পাশের কাঠে আগুন ধরে যায়। তখন সে ঐ আগুনে জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। কিছু দিন পর বৃষ্টি হলে ঐ ছাই থেকে এক সুরখাব পয়দা হয়। ঐ সুরখাব নব জীবন লাভ করে। এভাবেই আদি কাল থেকে এক সুরখাব থেকে অপর সুরখাব পয়দা হয়। উল্লেখিত ঘটনা হয়ত কিংবদন্তি না হয় বাস্তব। কিন্তু মূখ্য উদ্দেশ্য হল, সুরখাবের উপকারীতা ও সৌন্দর্য বর্ণনা করা।