📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 এক নাস্তা এক খাবার

📄 এক নাস্তা এক খাবার


বর্তমান উন্নতির যুগেও প্রত্যেক লোক কম-বেশী খাদ্যের গুরুত্ব অনুধাবন করতে শুরু করেন। সকলেই চান দৈনিক খাবারের এমন এক তালিকা তৈরি করি, যাতে স্বাস্থ্য ঠিক থাকবে, আবার শরীরের রূপ-লাবণ্যও বহাল থাকবে। কিন্তু কতিপয় ব্যক্তি প্রয়োজনের অতিরিক্ত আয়ু ও আভিজাত্যের গোলক ধাঁধাঁয় আক্রান্ত হয়ে পড়ে। তা একান্ত ভ্রান্ত। খাবারের মধ্যে আভিজাত্যের সঠিক পরিসংখ্যাণ জানার পরিবর্তে দেখতে হবে, দৈনিক কি ধরনের খাদ্য ব্যবহার করতে হবে। যাতে স্বাস্থ্য ঠিক থাকে। সে মতে পাঁচটি খাদ্য প্রকল্পের তথ্য পেশ করা গেল। এ প্রকল্পে সকল প্রকার খাদ্যকে পাঁচ ভাগে ভাগ করতে হবে। এটা এক সহজ সরল প্রকল্প। বিভিন্ন খাদ্য যে পদ্ধতিতে মানব দেহে বিশেষ প্রতিক্রিয়া করে, শুধু সে বিষয়ে খেয়ালে রাখা হয়েছে।

সর্বপ্রথম তৈরী খাবার। যথা পনিরের প্রোটিন। এ দিয়ে দুর্বল পাকস্থলী মেরামত করা হয়। দ্বিতীয় দেহে তাপ পৌঁছানোর খাদ্য সামগ্রী। যথা রুটি, এটা দেহকে ইন্দন মুক্ত করে দেয়। অনুরূপ ভাবে হজমশক্তি অর্থাৎ জীবনী শক্তি, যথা টমেটোর রস। তারপর উত্তেজনাকর খাদ্য সামগ্রী। যার কারণে দেহ কোষ হৃষ্টপুষ্ট থাকে। আসুন; এখন আপনাকে বিভিন্ন প্রকার খাদ্য সম্পর্কে ধারনা দেওয়া হবে। যাতে আপনি তা দৈনিক খাদ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন।

তৈরি খাবার
জনৈক চিকিৎসকের বলেন, খাদ্য সামগ্রীর উপমা সম্পূর্ণ আদায় কারীদের মত। আর আমি অর্থাৎ আমার পাকস্থলী, ফুসফুস ও অন্তর হল শ্রোতা। বিশুদ্ধ খাবার এ উত্তম বক্তার মত, যাকে শ্রোতাগণ অতিব পছন্দ করে। আর বাজে খাদ্যসমূহ খারাপ বক্তাদের মত। তাদেরকে শ্রোতাগণ বিব্রত করে দেয়। এ ধরনের তৈরী খাবারে আছে প্রোটিন। যথা গোস্ত, মাছ, ডিম ও পনির ইত্যাদি। এছাড়াও তরি-তরকারিতেও প্রোটিন রয়েছে। যথা, মটরশুটি, ডাল, সিম, প্রভৃতি। এ সব খাবার তৈরীর একাধিক নিয়মনীতি রয়েছে। এগুলোর পরিমাণ আপনার খাবারের এক তৃতীয়াংশ হতে হবে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে এসব খাদ্যের পরিমাণ কমিয়ে দিতে হবে।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 তাপযুক্ত খাবার

📄 তাপযুক্ত খাবার


আপনি লক্ষ্য করেছেন কি, নাশতা আপনার খাদ্যে কিরূপ গুরুত্ব বহন করে? কেউ কেউ এ সম্পর্কে অনিয়মের অভিযোগ করেন? কেননা সঠিকভাবে তার ব্যবহার করা যায় না। সবজী, আলু, ফল, মধু, ডুমুর ও খেজুরের উপকারীতাকে অস্বীকার করবে কে? এসব বস্তু যার কারণে আমাদের দেহ তাপ মাত্রার পরিবর্তনেকে সহ্য করছে, দেহে তাপ পৌছানোর জন্য এগুলো উত্তম খাদ্য। কিন্তু যখন এ তৈরি খাবারে কার্বোহাইড্রেড বেশী পরিমাণে ব্যবহার করা হয়, যথা কেক, মিষ্টি প্রভৃতি। তখন তা ক্ষতিকর হবে। কারণ, এ সব জিনিসে জীবন ও পাকস্থলীর নিরাপত্তার উপকরণ নেই, যা ফল ও শাকসব্জিতে থাকে। দ্বিতীয়তঃ এসব বস্তু একজন সাধারণ মানুষের প্রয়োজনের অতিরিক্ত শক্তি বাড়িয়ে দেয়। সুতরাং দেহে তাপ বর্ধক খাদ্য সামগ্রী আমাদের প্রভূ না হয়ে গোলাম হওয়া উচিত। অন্য শব্দে আমাদেরকে এসব খাদ্য ব্যবহারে বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়ে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। স্থল দেহী লোকদের এসব খাদ্য কম ব্যবহার করা উচিত। কিন্তু যাদের দেহ হালকাপাতলা ও দুর্বল, তারা বেশী পরিমানে ব্যবহার করতে পারবেন। যারা মোটা নয়, হালকা পাতলা এবং দুর্বলও নয়, তাদের কর্তব্য হল, স্বীয় কাজের ধরণ বুঝে এ সবের ব্যবহার করা। যদি বেশী পরিশ্রমের কাজ হয়, তবে শক্তি বর্ধক খাদ্য সামগ্রীর পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে হবে। আর যে ব্যক্তি বসে থাকে অর্থাৎ বেশী পরিশ্রম ও মেহনত না করে, তবে তাকে বলবর্ধক খাদ্য কম ব্যবহার করতে হবে। নতুবা তার দেহ বেশী মোটা হয়ে যাবে। স্মরণ রাখতে হবে, শীতের মৌসুমে দেহে তাপ বর্ধক খাদ্য বেশী পরিমাণে ব্যবহার করতে হবে।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 নিরাপত্তা দানকারী খাদ্য সামগ্রী

📄 নিরাপত্তা দানকারী খাদ্য সামগ্রী


কুদরত আমাদেরকে নিরাপত্তা দানকারী খাদ্য সামগ্রী দ্বারা পরিতুষ্ট করে রেখেছে। যদি আমরা এসব জিনিস চিন্তা-ভাবনা করে ব্যবহার করি, তাহলে আমরা অনেক রোগ-ব্যাধি থেকে মুক্ত থাকতে পারব। এ নিরাপত্তা দানকারী খাদ্য হল, ফলফলাদি, শাকসবজি। তবে এগুলো কাচা খাওয়া বেশী উপকারী। সকালের নাশতায় ফলের রস ব্যবহার করুন। রাতের খাবারে সবজী ব্যবহার করুন। লঘুপাক খাদ্য পাকস্থলীর কাজ সতেজ করে এবং সেখান থেকে অপকারী দ্রব্যাদি বের করে দেয়।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 ঔষধী খাবার

📄 ঔষধী খাবার


বর্তমানে খাবার সম্পর্কে অধিকাংশ মানুষ চিন্তাভাবনা করতে শুরু করেছে। কারণ, তারা বিভিন্ন ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে। তবে তাতে নিরাশ হওয়ার যাবে না। কুদরত বিরাট অনুগ্রহ করে এরূপ খাদ্য সামগ্রী সহজলভ্য করে দিয়েছে। যদি আমরা এসব খাদ্য সামগ্রী সঠিকভাবে ব্যবহার করি, তাহলে আমাদের দেহে নতুন করে শক্তি সঞ্চার হয়। ফল-ফলাদি, তরি-তরকারি, মধু ও শাকসবজি প্রভৃতি এমন খাবার যা দেহ বৃদ্ধির কাজে সহায়তা করে। এর দ্বারা দেহের আভ্যন্তরীন ভাগ পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন হয়। নতুন করে শক্তি লাভ করে। কিন্তু একটি বিষয় বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে যে, কখনো তাড়াতাড়ি করবে না, বিলম্বে কাজে আসবে। কিন্তু ইনশাআল্লাহ অবশ্যই তাতে উপকার হবে। ব্যাধিগ্রস্ত ও দুর্বল লোকদের জন্য ফল ও তরি-তরকারি বেশী উপকারী। গাজরের রস, পুদিনা পাতার রস, বাঁধা কপির রস পৃথক করে বা একত্রিত করে ব্যবহার করবে। এ গুলো ঔষধী খাবার। দৈনিক যদি টমেটো পাওয়া যায়, তাহলে তার সাথে আনারসের রস মিশিয়ে দু'তিন বার ব্যবহার করবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00