📄 প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার অনুভূতি
ইউরোপীয়রা এতো বেশি মানসিক বিকারের শিকার যে, বাথরুমে যাওয়ার মুহূর্তেও তারা এ নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন থাকে সেখানে কেমন অবস্থা হবে? কত সময় বসে থাকতে হবে? ইত্যাদি। তারা যে বস্তুবাদী জীবনের উন্নতির জন্য পরিশ্রম করে নিজেদের মর্যাদা খাটো করেছে, সেই জড় পদার্থ যখন শরীর থেকে বেরিয়ে যায় তখন তাদের আনন্দ দেখে কে? এমনকি আনন্দের আতিশয্যে বলে উঠে 'O, What I relax' আহ! কি শান্তি।
মোটকথা আল্লাহ পাক তাদের জীবনকে সংকীর্ণ করে দিয়েছেন। ফলে শান্তির একটু ছায়া দেখলেও তারা সেটাকে পরম শান্তির নীড় মনে করে তার কোলে আশ্রয় নিতে চায়। বস্তুত এ অবস্থা তখনই হয় যখন সীমাহীন অশান্তি ও অস্থিরতার আগুনে অবিরত দগ্ধ জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠে। তাদের অবস্থা পানিতে হাবুডুবু খাওয়া ব্যক্তির ন্যায় যে একটি খড়কুটো পেলেও পরম আনন্দে আঁকড়ে ধরে।
📄 যেমন ঘোড়ার খেদমত তেমন গাড়ির খেদমত
আমি ধর্মীয় পুস্তক পাঠ করে জানতে পেরেছি যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সাহাবায়ে কেরাম ও অলি-আল্লাহগণের অভ্যাস ছিল, ঘোড়ার শরীর পরিষ্কার রাখা এবং ঘোড়ার কপালে প্রহার করা। যখন গন্তব্যস্থলের নিকটে আসতেন, তখন ধীরে ধীরে ঘোড়ার গতি মন্থর করতেন যেন সহজে শ্বাস নিতে পারে, শরীরের উষ্ণতা স্বাভাবিক থাকে ও ধুলোবালি না উড়ে। আবার কোন কোন স্থানে পড়েছি, গন্তব্যস্থলে আসার পর বৃত্তাকারে কয়েকবার প্রদক্ষিণ করে তারপর ঘোড়া থামাতেন।
ঠিক এমনই আচরণ করে ইউরোপীয়রা তাদের মোটর গাড়ির সঙ্গে। তারা গাড়ির সম্মুখ ভাগ খুব ভালোভাবে পরিষ্কার করে। গাড়ি চালানোর পূর্বে বাইরে নিয়ে গাড়ি ভালোভাবে পরিষ্কার করে। গন্তব্যস্থলে পৌঁছার পূর্বক্ষণে খুব ধীরে ধীরে গতি নিয়ন্ত্রণ করে যেন ধুলা বালি না উড়ে এবং ইঞ্জিন হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে গাড়ির ক্ষতি না হয়।
📄 ইউরোপে ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করার পদ্ধতি
ইউরোপে টয়লেট পেপার তৈরিতে ফসফরাস যুক্ত উপাদান ব্যবহার করা হয়। এর ফলে জীবাণু মারা যায়। পক্ষান্তরে ইসলাম ধর্মে পানি ও ঢিলা ব্যবহারের নির্দেশ রয়েছে। ঢিলার মধ্যে ফসফরাস থাকে। অনুরূপভাবে ইউরোপে ডাস্টবিনেও ফসফরাস থাকে। এতে করে আবর্জনায় জন্ম নেওয়া জীবাণু ধ্বংস হয়। পক্ষান্তরে ইসলাম নির্দেশ দিয়েছে খড়-কুটা মাটিতে পুঁতে রাখার। বলা বাহুল্য, মাটিতে ফসফরাস রয়েছে।
📄 গোবলর এর মন্তব্য
একবার এক মামলায় আমার উকিল নিয়োগ করার প্রয়োজন হয়। তাঁর নাম ছিল গোবলর। তার সঙ্গে কথা-বার্তায় এক পর্যায়ে ইসলামের প্রসঙ্গ উঠে। তখন সে বললো, 'আমাদের প্রায় সব আইন-কানুন ইসলামী মূলনীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে আমাদের সমাজে ব্যক্তি পূজার মনোভাব প্রবল। আমাদের আইনে পিতৃহীন, অসহায় ও বিধবাদের প্রতি অনেক সহানুভূতি প্রদর্শন করা হয়েছে। সুতরাং আমাদের সামাজিক অবস্থার যদি সংশোধন হয়, তাহলে আমাদের সব বিধান অবিকল ইসলামী বিধানের অনুরূপ হবে।
আমি এক কমিটির সদস্য। উক্ত কমিটি দেশের আইন ও বিধান প্রণয়ন করে। আমরা সর্বপ্রথম খ্রিষ্টানদের গ্রন্থ অধ্যয়ন করি, তারপর ইহুদীদের গ্রন্থ ও সর্বশেষ ইসলামী গ্রন্থমালা অধ্যয়ন করি। এতে আমাদের নিকট এ বিষয়টি দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট হয়েছে যে, ইহুদী ও খ্রিষ্টানদের সব জ্ঞান-বিজ্ঞানের উৎস হলো ইসলামী জ্ঞান। সব ধর্মালম্বীগণ ইসলাম থেকেই তাদের জ্ঞান আহরণ করেছে।'